× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
Stipends for 50000 students stopped
hear-news
player
print-icon

৫০ হাজার শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি বন্ধ

৫০-হাজার-শিক্ষার্থীর-উপবৃত্তি-বন্ধ-
কারিগরি শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ছবি: সংগৃহীত
ব্যাংক-মোবাইল ব্যাংক হিসাবে সমস্যা এবং অ্যাকাউন্টধারীর নাম ভুল, ডুপ্লিকেট অ্যাকাউন্ট, ইনভ্যালিড অ্যাকাউন্ট ইত্যাদি কারণে উপবৃত্তির অর্থ বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির অর্থ বিতরণ বন্ধ রয়েছে।

ব্যাংক-মোবাইল ব্যাংক হিসাবে সমস্যা এবং অ্যাকাউন্টধারীর নাম ভুল, ডুপ্লিকেট অ্যাকাউন্ট, ইনভ্যালিড অ্যাকাউন্ট ইত্যাদি কারণে উপবৃত্তির অর্থ বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

মঙ্গলবার কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মনজুরুল কাদেরের সই করা অফিস আদেশে বিষয়গুলো সংশোধনের জন্য বলা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘কিছু সমস্যার কারণে কিছু উপবৃদ্ধি বিতরণ করা যায়নি, এজন্য এগুলো সংশোধন করতে বলা হয়েছে।’

অফিস আদেশে বলা হয়, ব্যাংক/মোবাইল ব্যাংক হিসাবে সমস্যা থাকায় ২৯ হাজার ৮টি অ্যাকাউন্টে ইএফটি করা সম্ভব হয়নি তাই আইবাস সফটওয়্যার হতে টাকা ফেরত এসেছে। এ ছাড়াও ব্যাংক/মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের অ্যাকাউন্টধারীর নাম ভুল, ডুপ্লিকেট অ্যাকাউন্ট, ইনভ্যালিড অ্যাকাউন্ট ইত্যাদি কারণে ২০ হাজার ৬৩১টি অ্যাকাউন্ট ব্লকড হওয়ায় টাকা পাঠানোর জন্য বিবেচনা করা হয়নি।

আরও বলা হয়, ‘ব্লকড ও বাউন্সড ব্যাককৃত ৪৯ হাজার ৬৩৯টি অ্যাকাউন্ট নির্দেশনা মোতাবেক আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে সংশোধন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হল।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
In what way is the Pakistan era better Fakhrulke Mozammel

পাকিস্তান আমল কোনদিক দিয়ে ভালো: ফখরুলকে মোজাম্মেল

পাকিস্তান আমল কোনদিক দিয়ে ভালো: ফখরুলকে মোজাম্মেল শরীয়তপুরে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। ছবি: নিউজবাংলা
গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিএনপি মহাসচিব ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘পাকিস্তান সরকার থেকে বর্তমান সরকার আরও নিকৃষ্ট। আমরা পাকিস্তান আমলে আর্থিক ও জীবনযাত্রার দিক থেকে এর থেকে ভালো ছিলাম। তার পরও পাকিস্তান সরকার যেহেতু আমার অধিকার ও সম্পদ হরণ করত, সে কারণে আমরা যুদ্ধ করেছি। কিন্তু এখন তার থেকেও খারাপ অবস্থায় আমরা আছি।’

পাকিস্তান আমলে কোন দিক দিয়ে এখনকার চেয়ে ভালো ছিলেন-বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে জানতে চেয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেছেন, মুক্তিযেদ্ধারা বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র জমা দিয়েছেন, কিন্তু প্রশিক্ষণ ও চেতনা জমা দেননি। প্রয়োজনে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আবার যুদ্ধের নেতৃত্ব দেবে তারা।

সোমবার শরীয়তপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের উদ্বোধন শেষে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিএনপি মহাসচিব ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘পাকিস্তান সরকার থেকে বর্তমান সরকার আরও নিকৃষ্ট। আমরা পাকিস্তান আমলে আর্থিক ও জীবনযাত্রার দিক থেকে এর থেকে ভালো ছিলাম। তার পরও পাকিস্তান সরকার যেহেতু আমার অধিকার ও সম্পদ হরণ করত, সে কারণে আমরা যুদ্ধ করেছি। কিন্তু এখন তার থেকেও খারাপ অবস্থায় আমরা আছি।’

এর জবাবে মির্জা ফখরুলকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘কোন মানদণ্ডে পাকিস্তান ভালো ছিল তা আপনি সুস্পষ্ট করুন।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে থেকে যারা বলে পাকিস্তান ভালো ছিল তাদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে, বিষদাঁত উপড়ে ফেলতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ২৭৮ ডলার, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৬ সালে তা নেমে আসে ১২৩ ডলারে।’

৭৫ এর হাতিয়ার আবার গর্জে উঠার বিষয়ে বিএনপির সমাবেশ থেকে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছে, সেটি নিয়েও প্রশ্ন রাখেন মন্ত্রী। বলেন, ‘এ কথা দিয়ে কী বোঝাতে চাইছেন? বঙ্গবন্ধুর রক্তের ছিটেফোঁটা যা আছে, আজকের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কি তারা হত্যা করতে চান? যারা বলেন তাদের উদ্দেশ্য কী? তা জাতির সামনে পরিষ্কার করতে হবে।’

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ সুবিধা বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান মোজাম্মেল হক। জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নির্মিত প্রত্যেকটি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে ক্যাপসুল লিফট বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মাণাধীন বন্ধ থাকা ঘরগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণ করা হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘রাজাকারদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগির তা প্রকাশ করা হবে।

বেলা ১১ টার দিকে জেলা শহরের পালং স্কুল সড়কে সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, পুলিশ সুপার সাইফুল হক।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এরপর মন্ত্রী যান জাজিরা উপজেলায়। সেখানে নির্মিত উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনও উদ্বোধন করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
ফখরুল পাকিস্তানের চর: আমু
পাকিস্তান নিয়ে বক্তব্য: ফখরুলকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান হানিফের
ফখরুলের পাকিস্তান আমলের প্রশংসা নির্লজ্জ দালালি: কাদের
পাকিস্তান আমলে আরও ভালো ছিলাম: ফখরুল

মন্তব্য

শিক্ষা
Maulvi died in the conflict between his wife and mother in law

বউ-শাশুড়ির দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল মৌলভীর

বউ-শাশুড়ির দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল মৌলভীর
মদন থানার ওসি ফেরদৌস আলম বলেন, ‘নিহত শফিকুল ইসলামের মরদেহ সোমবার ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় পুত্রবধূ ও শাশুড়ির দ্বন্দ্বের জেরে হামলার ঘটনায় শফিকুল ইসলাম নামে প্রতিবেশী এক মৌলভী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নারী ও শিশুসহ আরও সাতজন।

রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের রুদ্রশ্রী গ্রামে ওই হামলা ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে স্বরূপা আক্তার নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে।

নিহত শফিকুল ইসলাম রুদ্রশী গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে। আর আহতরা হচ্ছেন- একই গ্রামের ইব্রাহীম, মোবারক হোসেন, মাসুম মিয়া, মিনারা, জুনাঈদ, রিনা আক্তার ও কাদির মিয়া।

আহতদের মধ্যে প্রথম তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং বাকিদের মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

মদন থানার ওসি ফেরদৌস আলম নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি জানান, রুদ্রশ্রী গ্রামের এলাল উদ্দিনের ছেলে মোবারক হোসেন কয়েক বছর আগে ফতেপুর মড়লপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে মুন্না আক্তারকে বিয়ে করেন।

রোববার সন্ধ্যায় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে শাশুড়ি রিনা আক্তারের সঙ্গে মুন্না আক্তারের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে রাগ করে বাবার বাড়িতে চলে যান মুন্না।

এ অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে মুন্না আক্তারের বাবা আব্দুল মান্নান লোকজন নিয়ে ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার জামাতা মোবারক হোসেনের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান। এ সময় প্রতিবেশী মৌলভী শফিকুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এ ছাড়া জামাতা মোবারক হোসেনসহ আরও সাতজন গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শফিকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।

মদন থানার ওসি ফেরদৌস আলম বলেন, ‘নিহত শফিকুল ইসলামের মরদেহ সোমবার ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

এ ছাড়া সোমবার দুপুরে আব্দুল মান্নানের স্ত্রী স্বরূপা আক্তারকে আটক করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলা হয়নি।

আরও পড়ুন:
‘একঘরে’ নয়, সামাজিক অনুষ্ঠানে ‘বয়কট’
নারিকেল নিয়ে দ্বন্দ্বের বলি নারী
ভাবির বিরুদ্ধে ননদের শরীর ঝলসে দেয়ার অভিযোগ
‘মাছ মেরেছি, এরপর মারব মানুষ’

মন্তব্য

শিক্ষা
Maryam Mannan in Dhaka with Khulna unsafe mother

খুলনা ‘অনিরাপদ’, মাকে নিয়ে ঢাকায় মরিয়ম মান্নান

খুলনা ‘অনিরাপদ’, মাকে নিয়ে ঢাকায় মরিয়ম মান্নান উদ্ধারের পর পিবিআই কার্যালয়ে মেয়েদের জড়িয়ে ধরেন রহিমা বেগম। ছবি: নিউজবাংলা
নিউজবাংলাকে মরিয়ম বলেন, ‘আদালত থেকে মুক্তি পেয়ে মাকে নিয়ে প্রথমে খুলনার বয়রার বাসায় গেছিলাম। আমরা মায়ের জন্য খুলনাকে নিরাপদ মনে করিনি।’

মা রহিমা বেগমকে নিয়ে ঢাকায় এসেছেন খুলনার আলোচিত তরুণী মরিয়ম মান্নান। আদালতের মাধ্যমে নিজেদের জিম্মায় পাওয়ার পর রোববার রাতেই ছোট বোন আদুরী ও মা রহিমাকে নিয়ে তিনি ঢাকায় চলে আসেন।

ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তাদের নিয়ে উঠেছেন তিনি। জানালেন, সোমবার সকালে মাকে ডাক্তার দেখাতে নিয়েছিলেন।

নিউজবাংলাকে মরিয়ম বলেন, ‘আদালত থেকে মুক্তি পেয়ে মাকে নিয়ে প্রথমে খুলনার বয়রার বাসায় গেছিলাম। আমরা মায়ের জন্য খুলনাকে নিরাপদ মনে করিনি। তাই রাতেই খুলনা ত্যাগ করেছি। সঙ্গে আমাদের এক দুলাভাইও ছিলেন। চারজন ঢাকা এসেছি।’

গত ২৭ আগস্ট রাতে দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশার বণিকপাড়ার বাড়ি থেকে রহিমা নিখোঁজ হন বলে অভিযোগ করেন মরিয়ম ও তার ভাই-বোনেরা। সে রাতে দৌলতপুর থানায় অপহরণের অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রহিমার ছেলে মিরাজ আল সাদী।

সেই জিডি থেকে জানা যায়, নিখোঁজের সময় রহিমার দ্বিতীয় স্বামী বিল্লাল হাওলাদার বাড়িতে ছিলেন। পানি আনতে বাসা থেকে নিচে নেমেছিলেন রহিমা। দীর্ঘ সময় পরও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

মাকে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে গত ২৮ আগস্টে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন রহিমার মেয়ে আদুরী। আসামী করা হয় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে।

রহিমা নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সোচ্চার হন মরিয়ম মান্নান। তার কান্না আর মায়ের খোঁজ পাওয়ার আকুতি ছুঁয়ে যায় সবাইকে।

গত ১ সেপ্টেম্বর খুলনায় সংবাদ সম্মেলন করেন মরিয়ম মান্নান। মায়ের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে জমি নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের ঘটনাকে সামনে আনেন।

এরপর আদুরীর করা মামলায় প্রতিবেশি মঈন উদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া, রফিকুল ইসলাম পলাশ, মোহাম্মাদ জুয়েল, হেলাল শরীফসহ রহিমা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী বেল্লাল হাওলাদার কারাগারে রয়েছেন।

গত ২২ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে ১২ দিন আগে উদ্ধার হওয়া এক নারীর মরদেহকে রহিমা বেগমের দেহ বলে দাবি করেন মরিয়ম। তিনি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বলেন, ‘আমার মায়ের লাশ পেয়েছি আমি এইমাত্র।’

২৩ সেপ্টেম্বর সকালে রহিমার মেয়ে মরিয়ম মান্নান, মাহফুজা আক্তার ও আদুরী আক্তার ফুলপুর থানায় পৌঁছান।

ওই সময় পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় ওই নারীর ছবিসহ পরনে থাকা আলামতগুলো মেয়েদের দেখান। মরিয়ম মান্নান ছবিসহ সালোয়ার-কামিজ দেখে দাবি করেন, এটিই তার মায়ের মরদেহ। যা দেশব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি করে।

মরিয়ম মান্নান সে সময় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘২৭ দিন ধরে আমার মা নিখোঁজ। আমরা প্রতিনিয়ত মাকে খুঁজছি। এরই মধ্যে গত ১০ সেপ্টেম্বর ফুলপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে আমরা এখানে এসেছি। সালোয়ার-কামিজ ছাড়াও ছবিতে আমার মায়ের শরীর, কপাল ও হাত দেখে মনে হয়েছে, এটাই আমার মা।’

তবে গেল শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুরে বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের একটি ঘর থেকে রহিমা বেগমকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পর দিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে নিজেকে অপহরণের শিকার বলে দাবি করেন রহিমা। এরপর তাকে মেয়ে আদুরী জিম্মায় ছেড়ে দেয় আদালত।

আরও পড়ুন:
বস্তাবন্দি সেই নারীর পরিচয় নিয়ে এবার ধন্দে পুলিশ
মাত্র ১ হাজার টাকায় ১৩ দিনে ৪ জেলায় মরিয়মের মা!
রহিমার ফরিদপুরে অবস্থানের তথ্য শুক্রবারই জানানো হয় মরিয়মদের
মরিয়ম মান্নানের ডাকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন মা
দালাল সাংবাদিকরা যে যা লিখে দিল: মরিয়ম

মন্তব্য

শিক্ষা
Journalists have to take risks to establish democracy Kamal

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের ঝুঁকি নিতে হবে: কামাল

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের ঝুঁকি নিতে হবে: কামাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক আতাউস সামাদ স্মরণসভায় বক্তব্য দেন ড. কামাল হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা
মানিক মিয়া ও আতাউস সামাদের পথ অনুসরণ করে সাংবাদিকরা আজও উজ্জীবিত মন্তব্য করে ড. কামাল বলেন, ‘আমরা সারাজীবন দেখেছি তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লিখেছেন। সেই ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে হবে নৈতিকতা দেখিয়ে। জনগণকে সচেতন রাখতে হবে। ঝুঁকি নেয়ার বিষয়টি তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে।’

দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের ঝুঁকি নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘সত্য প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকরা যুগে যুগে নানামুখী ঝুঁকি নিয়েছেন। আতাউস সামাদের মতো আজও সাংবাদিকরা ঝুঁকি নিচ্ছেন। দেশে বর্তমান অবস্থায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাদেরকে ঝুঁকি নিতে হবে। সাংবাদিকদের জনগণের মাঝে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’

বরেণ্য সাংবাদিক আতাউস সামাদের দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আতাউস সামাদ স্মৃতি পরিষদ।

জনগণকে উদ্দেশ করে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কোনো সময় আমরা দেখিনি ঝুঁকি নেয়া ছাড়া গণতন্ত্র রক্ষা করা গেছে।’

মানিক মিয়া ও আতাউস সামাদের পথ অনুসরণ করে সাংবাদিকরা আজও উজ্জীবিত মন্তব্য করে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা সারাজীবন দেখেছি তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লিখেছেন। সেই ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে হবে নৈতিকতা দেখিয়ে। জনগণকে সচেতন রাখতে হবে।

‘ঝুঁকি নেয়ার বিষয়টি জনগণকে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে। তারা যেন মনে না করে যে আমরা কিছু না করেও ঐক্য ও নিজেদের অধিকার ধরে রাখতে পারব। যারা স্বৈরাচার এবং যা ইচ্ছে তা করতে চায় তাদেরকে তা করতে দেব না আমরা।’

আজকের পত্রিকা সম্পাদক গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে ও জাতীয় প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসান হাফিজের সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, বিএফইউজের সভাপতি এম আবদুল্লাহ, কাদের গনি চৌধুরী, শামীমা চৌধুরী, সৈয়দ দিদার বক্স প্রমুখ।

মন্তব্য

শিক্ষা
IGP wants CCTV cameras in all pavilions

সব মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা চান আইজিপি

সব মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা চান আইজিপি প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে রওনা হন মণ্ডপের দিকে। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেয়া ছবি।
গত বছর কুমিল্লায় একটি মণ্ডপে মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন শরিফ রেখে আসার পর সেখানকার এবং চাঁদপুর, নোয়াখালী ও রংপুরে হিন্দুদের বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চলে। পুলিশের গুলিতে নিহত হয় বেশ কয়েকজন আক্রমণকারীও। সেই মণ্ডপে কোনো ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা না থাকলেও কোরআন রেখে আসার ঘটনাটি ধরা পড়ে পাশের কয়েকটি বাড়িতে স্থাপন করা ক্যামেরার ফুটেজে।

দুর্গাপূজা ঘিরে কেউ যেন অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড করতে না পারে, সে জন্য বিশেষভাবে সতর্ক থাকার তাগিদ দিয়েছেন পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ। সব মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

পূজা সামনে রেখে সোমবার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে নিরাপত্তাসংক্রান্ত এক সভায় তিনি এসব নির্দেশ দেন।

বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে আগামী ১ অক্টোবর থেকে। বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হবে ৫ অক্টোবর।
গত বছর কুমিল্লায় একটি মণ্ডপে মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন শরিফ রেখে আসার পর সেখানেকার এবং চাঁদপুর, নোয়াখালী ও রংপুরে হিন্দুদের বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চলে। পুলিশের গুলিতে নিহত হয় বেশ কয়েকজন আক্রমণকারীও।

পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে একটি দরগা থেকে কোরআন শরিফ এনে রাখা হয় কুমিল্লার সেই মণ্ডপে। এরপর ফেসবুকে লাইভ করে তা ছড়িয়ে দেয়া হয়। এর পরই শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।

সেই মণ্ডপে কোনো ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা না থাকলেও কোরআন রেখে আসার ঘটনাটি ধরা পড়ে পাশের কয়েকটি বাড়িতে স্থাপন করা ক্যামেরার ফুটেজে।

পুলিশের সভায় এবার সব মণ্ডপে ক্যামেরা স্থাপন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে হ্যান্ডহেল্ড মেটাল ডিটেকটর ও আর্চওয়ে গেট স্থাপন, মণ্ডপে সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা প্রবেশ ও প্রস্থান পথের ব্যবস্থা করা, মণ্ডপ ও বিসর্জন স্থানে পর্যাপ্ত আলো, স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর/চার্জার লাইটের ব্যবস্থা করা, আজান ও নামাজের সময় উচ্চশব্দে মাইক ব্যবহার না করার জন্য পূজা উদযাপন কমিটির প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

কমিউনিটি পুলিশের সদস্য এবং বিট পুলিশ কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে পূজার নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকার অনুরোধ জানান আইজিপি।

সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারাও অংশ নেন। তারা এবার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সভায় জানানো হয়, দুর্গাপূজা নিরাপদে উদযাপনে পুলিশ প্রাক-পূজা, পূজা চলাকালীন ও পূজাপরবর্তী তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯-এ কল করার পরামর্শও দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
আইজিপি ও জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানের বৈঠক
আমেরিকার প্রতি অভিযোগ নেই, নিষেধাজ্ঞার পেছনে সেই গোষ্ঠী: বেনজীর
নানা শর্তে আইজিপিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা
জাতীয় শোক দিবসে নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ আইজিপির
পুলিশ-র‍্যাব বেতনের জন্য কাজ করে না: আইজিপি

মন্তব্য

শিক্ষা
3 policemen were dismissed in the case of rape and video recording

ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণে চুরির মামলা নিয়ে বরখাস্ত ৩ পুলিশ

ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণে চুরির মামলা নিয়ে বরখাস্ত ৩ পুলিশ বাঙ্গরা বাজার থানা। ছবি: সংগৃহীত
বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, ‘গর্ভবতী গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ ও ধর্ষণের ঘটনায় গাফিলতির কারণে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে তিন পুলিশ সদস্যক ক্লোজড করা হয়েছে।’

অভিযোগ ছিল, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার চাপিতলা গ্রামে এক গর্ভবতী গৃহবধূকে ধর্ষণ ও এর ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। অথচ এ ঘটনাটিকে একটি চুরির মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ।

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মুরাদনগর উপজলার বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি ইকবাল হোসেন।

সাময়িক বরখাস্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাঙ্গরা বাজার থানার এসআই ওমর ফারুক, এএসআই আতাউর রহমান এবং কনস্টেবল মামুন।

নির্যাতিতার স্বজনদের অভিযোগ, উপজেলার চাপিতলা গ্রামে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে গৃহবধূর মা ও ছোট সন্তানকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে মুখে স্কচটেপ লাগিয় দেয় ৮-১০ জনের একটি দল। পরে ওই গৃহবধূকে পাশের কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে তারা।

এ সময় বিবস্ত্র অবস্থায় ভুক্তভোগীর ভিডিওচিত্রও ধারণ করে দলটি। শুধু তা-ই নয়, দুর্বৃত্তরা ওই গৃহবধূর গর্ভে থাকা সন্তানকে নষ্ট করতে পেটে লাথিও মারে।

এ ঘটনার পরদিন গত ১৬ সেপ্টেম্বর থানায় অভিযোগ করতে গেলে আসল ঘটনাকে আড়াল করে সাধারণ চুরির মামলা নিয়ে সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযাগ ওঠে ওই তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় রোববার বিকেলে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ওই পুলিশ সদস্যদর বাঙ্গরা বাজার থানা থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

আরও পড়ুন:
মুন্সীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত যুবদল কর্মীর মৃত্যু
সাফজয়ী আঁখির বাড়িতে পুলিশ: এসআই-কনস্টেবল প্রত্যাহার
পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত অর্ধশত
বিচারকের মামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তার জামিন
বিজিবি-রেল পুলিশের হাতাহাতির ঘটনা তদন্তে কমিটি

মন্তব্য

শিক্ষা
Bangladesh wants the use of atoms in food security and medicine

খাদ্য নিরাপত্তা-চিকিৎসায় পরমাণুর ব্যবহার চায় বাংলাদেশ

খাদ্য নিরাপত্তা-চিকিৎসায় পরমাণুর ব্যবহার চায় বাংলাদেশ অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সম্মেলনে বাংলােদশের স্টল। ছবি: নিউজবাংলা
অস্ট্রিয়ার ভিয়েনার ভিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে আইএইএর ৬৬তম স্থানীয় সময় সোমবার সকালে সাধারণ সভাটি শুরু হয়। সংস্থাটির ১৭৫টি সদস্য রাষ্ট্র এতে অংশ নিচ্ছে। আছে বিশ্ব পরমাণু ক্লাবের ৩৩তম সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশ।

করোনাভাইরাস মহামারির অভিঘাত ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জের ধরে বৈশ্বিক সংকটের সময় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরমাণুর ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্র তৈরির প্রত্যাশা নিয়ে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনার ভিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে আইএইএর ৬৬তম স্থানীয় সময় সোমবার সকালে সাধারণ সভাটি শুরু হয়। সংস্থাটির ১৭৫টি সদস্য রাষ্ট্র এতে অংশ নিচ্ছে। আছে বিশ্ব পরমাণু ক্লাবের ৩৩তম সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসামনের নেতৃত্বে এই সম্মেলনে আরও যোগ দিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জিয়াউল হাসান, নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক শৌকত আকবর।

এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের এই আণবিক সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশ আরও নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তুলতে চায় বলে জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনের প্রধান চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স রাহাত বিন জামান।

খাদ্য নিরাপত্তা-চিকিৎসায় পরমাণুর ব্যবহার চায় বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। ছবি: নিউজবাংলা

আইএইএর কারিগরি সহযোগিতাবিষয়ক কর্মসূচির আওতায় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত, শিক্ষা নিয়ে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ।

রাহাত বিন জামান বলেন, ‘কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা, চিকিৎসা, ক্যানসারসহ নানা চিকিৎসাসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টে আইএইএ আমাদের সঙ্গে কাজ করে। জনবলকে প্রশিক্ষণ দেয়, নানা ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করে থাকে। আমরা সেই জায়গাটিকে আরও জোরদার করতে চাই।’

বিশ্বজুড়ে পরমাণুর শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতেও আইএইএর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানালেন ভিয়েনায় ভারপ্রাপ্ত এই রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, ‘রূপপুরে আমরা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট করছি। যেটির কাজ সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই প্রকল্পের সেফটি, সিকিউরিটি ইস্যুতে আইএইএর সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তারা আমাদেরর কারিগরি পরামর্শক হিসেবে সহযোগিতা করছে।’

এ ছাড়া প্রয়োজনীয় জনবলকে প্রশিক্ষণও দিচ্ছে বলে জানান ভিয়েনায় বাংলাদেশের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স।

রাহাত বিন জামান বলেন, ‘এই সহযোগিতা আরও বাড়িয়ে নিতে চাই। এবং প্ল্যান্টের কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এই প্ল্যান্ট থেকে যখন বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে তখনও আমরা চাই এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকুক।’

আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর। পাঁচ দিনের এই সম্মেলনে পরমাণুর শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরই জোর দিচ্ছেন সব রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা।

রাশিয়া-ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ বিষয়টিকে আরও বেশি ভাবিয়ে তুলছে। তাই বিশ্বজোড়া শান্তি প্রতিষ্ঠায় পরমাণুর শান্তিপূর্ণ ব্যবহারকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানছেন সম্মেলনে যোগ দিতে আসা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা।

খাদ্য নিরাপত্তা-চিকিৎসায় পরমাণুর ব্যবহার চায় বাংলাদেশ
ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। ছবি: নিউজবাংলা

তবে ক্যানসারের মতো দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় পরমাণুকে কীভাবে ব্যবহার করা যায় সে বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে উঠে এসেছে এই সম্মেলনে। পরমাণুর ব্যবহারের মধ্য দিয়ে ক্যানসার চিকিৎসায় ‘আশার আলো’ বা ‘রেইস অফ হোপ’ দেখতে চান পরমাণু বিজ্ঞানীরা। এবারের সাধারণ সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা।

ভিয়েনায় এক টুকরো রূপপুর

নিজ নিজ দেশে পরমাণুর ব্যবহার নিয়ে ভিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে পরমাণু শক্তিধর দেশগুলো। রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সের পাশাপাশি আছে বাংলাদেশও।

বাংলাদেশের স্টলটিতে প্রতিনিধিত্ব করছেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভাগীয় প্রধান (অর্থ ও প্রশাসন) অলক চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘এর উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশকে তুলে ধরা, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা, বাংলাদেশের পতাকাকে তুলে ধরা।’

এই স্টলের মধ্য দিয়ে পরমাণুর শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে বাংলাদেশের অবস্থানও তুলে ধরা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

অলক চক্রবর্তী বলেন, ‘অতি অল্প সময়েরে মধ্যে তেল-গ্যাসসহ অন্যান্য জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানি ও ১৯৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের যে স্বপ্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন এ বিষয়টি সারা পৃথিবীর কাছে তুলে ধরার প্রয়াস এই স্টল।’

দেখা গেছে, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ভিড় করছেন এক টুকরো বাংলাদেশে। তারা জানতে চান বাংলাদেশের পরমাণুর ব্যবহার নিয়ে, কেউ আবার খোঁজ রাখছেন বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি নিয়ে। আন্তরিকভাবেই দর্শনার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন স্টলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা।

দর্শনার্থীদের জন্য শুভেচ্ছা উপহারও রেখেছে বাংলাদেশে। ‘সোনালি আঁশ’খ্যাত পাটের তৈরি ব্যাগ, কোর্টপিন, কলম, মাস্ক, চাবির রিং, চকোলেটসহ নানা সামগ্রীও শোভা পাচ্ছে স্টলটিতে।

থ্রিডি অ্যানিমেশনে রাশিয়া তুলে ধরেছে তুর্কিয়েতে তাদের নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আদ্যোপান্ত। সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে চারটি পারমাণবিক চুল্লি থাকবে নির্মিতব্য কেন্দ্রটিতে। প্রতিটি ইউনিট থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
ইরানের পরমাণু চুক্তিতে ‘অভিযান’ বন্ধ হবে না: মোসাদ
রাশিয়া-আমেরিকা পরমাণু যুদ্ধে না খেয়ে মরবে ৫০০ কোটি
পরমাণু যুদ্ধ থেকে এক সুতা দূরে বিশ্ব
পরমাণু বোমা হামলা নিয়ে চিন্তিত ৭০ শতাংশ আমেরিকান
আরেকটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়াকে চায় বাংলাদেশ

মন্তব্য

p
উপরে