এসএসসি-এইচএসসির প্রশ্নপত্র তৈরি

এসএসসি-এইচএসসির প্রশ্নপত্র তৈরি

করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে নভেম্বরের শুরুতে এসএসসি এবং ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার পরিকল্পনা সরকারের। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, ‘যে প্রশ্নপত্রটি দেয়া হবে সেখানে ১০টা প্রশ্ন আছে। সাধারণত শিক্ষার্থীকে আগে ৭-৮টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হতো। পরীক্ষার সময়ও যেহেতু কমানো হবে, অর্থাৎ ৩ ঘণ্টার পরীক্ষা দেড় ঘণ্টায় নেব, তাই আমরা শিক্ষার্থীদের ২-৩টা প্রশ্নের উত্তর দিতে বলব। এটি বিষয় অনুযায়ী ভেরি করবে। এ বিষয়ে আমাদের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বসবেন। অর্থাৎ উত্তর দেয়ার শিক্ষার্থীদের অপশন অনেক বেশি থাকবে।’

করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেয়ার পরিকল্পনা সরকারের। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নেয়া হতে পারে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পাবলিক পরীক্ষা দুটি নেয়া হবে শুধু গ্রুপভিত্তিক নৈর্বাচনিক তিন বিষয়ে। এরই মধ্যে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও তৈরি করা হয়েছে।

পরীক্ষা কীভাবে নেয়া হবে এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিসহ এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার নানা বিষয়ে নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন আন্তশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ।

নিউজবাংলা: নৈর্বাচনিক বিষয়ে পরীক্ষা নেয়া হবে, আবশ্যিক বিষয়গুলোতে (বাংলা, ইংরেজি, গণিত) কেন পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে না?

নেহাল আহমেদ: আমরা এখন কিন্তু স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে নেই। আমরা করোনাকালীন পরিস্থিতিতে আছি। এই বিষয়টি মাথায় রাখলেই আমাদের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বাংলা, ইংরেজি, আইসিটি-এই বিষয়গুলো আছে। যদি আমরা পরীক্ষা নিই, তাহলে এক দিনে এই বিষয়গুলোতে সব শিক্ষার্থীই অংশ নেবে।

উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি, ঢাকা কলেজে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থীর সিট পড়ে, সেখানে যখন সব শিক্ষার্থী আসবে তাদের সঙ্গে ৫ থেকে ৬ হাজার অভিভাবক আসবেন, তখন ১০-১২ হাজার জনের একটা মব তৈরি হবে। এই পরিস্থিতিতে তখন আমাদের পক্ষে কি স্বাস্থ্যবিধি মানা আদৌ সম্ভব? আমাদের তো বারবার স্বাস্থ্যবিধি এবং করোনাকালের বিষয়টি মাথায় রাখতে হচ্ছে।

আবশ্যিক বিষয়সমূহ যেহেতু প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আছে, তাই আমরা এগুলো বাদ দিয়েছি যেন স্বাস্থ্যবিধিটা যথাযথভাবে মানা যায়। আমাদের এখনকার পরিকল্পনা অনুযায়ী বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার দিন শুধু বিজ্ঞানের পরীক্ষার্থীরা আসবে, মানবিকের দিন মানবিকের শিক্ষার্থীরা, ব্যবসায় শিক্ষার দিন ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থীরা। এতে একটি ব্যাচের সঙ্গে আরেকটি ব্যাচের দেখা হবে না।

এর ফলে যেখানে একটি সেন্টারে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থী আসত, সেখানে এই ব্যবস্থাপনায় তা নেবে আসবে ১ হাজারে। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধিটা মানা সম্ভব হবে। এ কারণেই কিন্তু আমরা আবশ্যিক বিষয়সমূহ বাদ দিয়েছি।

নিউজবাংলা: পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি কেমন হবে?

নেহাল আহমেদ: পরীক্ষার মূল্যায়ন নিয়েও শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। গত বছর আমরা কোনো পরীক্ষা না নিয়েই এইচএসসির সম্পূর্ণ রেজাল্ট দিয়েছি। আমরা যেসব বিষয়ে পরীক্ষা নেব না, সে ক্ষেত্রে আমরা গত বছরের মতো সাবজেক্ট ম্যাপিং করে ফল প্রকাশ করব।

একজন শিক্ষার্থী যখন ফল হাতে পাবে, তখন সে দেখবে তার সব বিষয়ে ফল আছে। এর মধ্যে আমরা শুধু তিনটি বিষয়ে পরীক্ষা নেব। তিন বিষয়ের ফল আসবে পরীক্ষা থেকে আর বাকিগুলো আসবে সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে।

নিউজবাংলা: পরীক্ষার নম্বর বণ্টন কেমন হবে?

নেহাল আহমেদ: ইতোমধ্যে আমাদের প্রশ্ন তৈরি হয়ে গেছে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের ওপর প্রশ্ন করা হয়েছে। ধরুন, যে প্রশ্নপত্রটি দেয়া হবে সেখানে ১০টা প্রশ্ন আছে। সাধারণত শিক্ষার্থীকে আগে ৭-৮টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হতো। পরীক্ষার সময়ও যেহেতু কমানো হবে, অর্থাৎ ৩ ঘণ্টার পরীক্ষা দেড় ঘণ্টায় নেব, তাই আমরা শিক্ষার্থীদের ২-৩টা প্রশ্নের উত্তর দিতে বলব। এটি বিষয় অনুযায়ী ভেরি করবে। এ বিষয়ে আমাদের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বসবেন। অর্থাৎ উত্তর দেয়ার শিক্ষার্থীদের অপশন অনেক বেশি থাকবে।

এসএসসি-এইচএসসির প্রশ্নপত্র তৈরি
আন্তশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ

নিউজবাংলা: চতুর্থ বিষয় নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাই?

নেহাল আহমেদ: বিষয়টি নিয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। বিশেষ করে এটা নিয়ে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা রয়েছে। অনেকেই চতুর্থ বিষয় পরিবর্তন করার জন্য বোর্ডে যোগাযোগ করছেন। এ সুযোগ এখন আর নেই। অনেক অভিভাবক এসে বলছেন, আমার ছেলে বা মেয়ে তো মেডিক্যালে পড়বে, জীববিজ্ঞানে যদি নম্বর না থাকে, তাহলে তো সে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারবে না। ওনাদের উদ্দেশে বলছি, কারও চতুর্থ বিষয় হয়তো জীববিজ্ঞান, কারও গণিত। দুই বিষয়েই কিন্তু তারা নম্বর পাবে। একটা আসবে পরীক্ষা থেকে আর একটা আসবে সাবজেক্ট ম্যাপিং থেকে।

শিক্ষার্থীর হাতে যখন নম্বরপত্রটা পৌঁছাবে, তখন সে দেখবে প্রতিটা বিষয়ে নম্বর পেয়েছে। কারণ আমরা একটা কমপ্লিট নম্বরপত্র তৈরি করে শিক্ষার্থীদের হাতে দেব। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভয়েরও কোনো কারণ নেই। কারণ তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ের নম্বর আসবে পরীক্ষা থেকে আর বাকিগুলো সাবজেক্ট ম্যাপিং থেকে। তাই আমি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আশ্বস্ত করতে চাই, চতুর্থ বিষয় নিয়ে বুয়েট কিংবা মেডিক্যালে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হবে না।

নিউজবাংলা: সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাই।

নেহাল আহমেদ: গত বছর আমরা এইচএসসিতে যে ফলটা দিয়েছিলাম, সেখানে আমরা জেএসসি থেকে ২৫ শতাংশ নম্বর নিয়েছিলাম আর এসএসসি থেকে ৭৫ নম্বর নিয়েছিলাম। তারপর সেটাকে সমন্বয় করে ১০০ নম্বরের মূল্যায়ন করা হয়েছিল। এ বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার জন্য কোন পরীক্ষা থেকে কত শতাংশ নম্বর নেয়া হবে, তা নির্ধারণ করবে বিশেষজ্ঞ কমিটি।

এসএসসির জন্য শুধু জেএসসি পরীক্ষাকেই ব্যবহার করব সাবজেক্ট ম্যাপিং করার ক্ষেত্রে।

নিউজবাংলা: অ্যাসাইনমেন্ট সম্পর্কে জানতে চাই।

নেহাল আহমেদ: আমরা এখন শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট দিচ্ছি। যেগুলো তৈরি করেছে জাতীয় কারিকুলাম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। যেহেতু আমরা ক্লাসগুলো নিতে পারিনি, তাই এই অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতির সুযোগ পাবে।

অ্যাসাইনমেন্টে শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর বোর্ডে জমা থাকবে। আমাদের যদি পরীক্ষা না নেয়ার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়, তাহলে আমরা অ্যাসাইনমেন্ট থেকে কিছু নম্বর নেয়ার চিন্তাভাবনা করতে পারি। অ্যাসাইনমেন্টের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যদি প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সব বিষয়ের সাবজেক্ট ম্যাপিং করে ফল প্রকাশ করব। আর অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে যদি অভিযোগ ওঠে তাহলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমরা নৈর্বাচনিক বিষয়ে পরীক্ষা নেব। অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীরা যেন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারে এবং পড়াশোনার মধ্যে থাকে।

নিউজবাংলা: এসএসসির ক্ষেত্রে কি অবজেকটিভ থাকবে?

নেহাল আহমেদ: আগের মতো সবকিছুই থাকবে। তবে প্র্যাকটিকালের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা যে নোটবুক তৈরি করত, সেখানে আগে ৫ নম্বর ছিল। সেটাকে আমরা ২৫-এ ট্রান্সফার করব। আর এমসিকিউতে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ছিল ২৫ নম্বর। সেখানে সবগুলোই দিতে হতো। এখন আমরা শিক্ষার্থীদের অপশন বাড়িয়ে দেব। যেমন, তারা এখন ২৫টার মধ্যে যেকোনো ১২টার উত্তর দেবে। এটা মানবিক এবং ব্যবসায় শিক্ষার ক্ষেত্রেও করব।

নিউজবাংলা: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

নেহাল আহমেদ: আপনাকেও ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসিতে তিন বিষয়ে পরীক্ষা
এসএসসি-এইচএসসি: শিক্ষামন্ত্রীর প্রস্তাব ‘মন্দের ভালো’
যেভাবে এসএসসি-এইচএসসির মূল্যায়ন
এসএসসি নভেম্বরে, এইচএসসি ডিসেম্বরে
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার দাবি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মঞ্চে ফেরা আনন্দের: আফজাল

মঞ্চে ফেরা আনন্দের: আফজাল

ছোট ও বড় পর্দার তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা আফজাল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

সবশেষ প্রায় ২৪ বছর আগে ‘কেরামত মঙ্গল’ নামে একটি মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন তিনি। ওই নাটকের নির্দেশনাও দিয়েছিলেন বাচ্চু। এরপর পেশাগত ব্যস্ততা ও ভালো গল্পের অভাবে আর মঞ্চ নাটকে অভিনয় করা হয়ে উঠেনি।

নির্মাতা, ছোট ও বড় পর্দার তুমুল জনপ্রিয় মুখ আফজাল হোসেন। প্রায় দুই যুগ পর তিনি ফিরছেন মঞ্চে। পেন্ডুলাম নামের নতুন এক নাটক দিয়ে মঞ্চে ফেরা হচ্ছে তার।

নাটকটির রচয়িতা নাট্যকার মাসুম রেজা। নির্দেশনা দিচ্ছেন খ্যাতিমান নাট্যব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু।

৪৭ বছর আগে ঢাকা থিয়েটারের নাটক ‘বিদায় মোনালিসা’ দিয়ে মঞ্চে যাত্রা শুরু আফজাল হোসেনের। এরপর টানা অভিনয় করেছেন মঞ্চে।

সবশেষ প্রায় ২৪ বছর আগে ‘কেরামত মঙ্গল’ নামে একটি মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন তিনি। ওই নাটকের নির্দেশনাও দিয়েছিলেন বাচ্চু। এরপর পেশাগত ব্যস্ততা ও ভালো গল্পের অভাবে আর মঞ্চ নাটকে অভিনয় করা হয়ে উঠেনি।

দীর্ঘ প্রায় ২৪ পর মঞ্চে ফেরা নিয়ে নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন আফজাল।

তিনি বলেন, ‘একটা সময় নিয়মিত মঞ্চে অভিনয় করতাম। এরপর পেশাগত কারণে আর ওইভাবে সময় দেয়া হতো না; যেতেও না। কারণ মঞ্চে অভিনয়ের জন্য তো প্রচুর সময় লাগে।

‌‘আমার প্রধান দুর্বলতম বিষয় ছিল অভিনয় এবং মঞ্চের জন্য আলাদা একটা টান তো ছিলই। কারণ মঞ্চই তো আমার আলাদা একটা পরিচয় তৈরি করে দিয়েছিল।’

অনেক বছর ধরেই মঞ্চে অভিনয়ের পরিকল্পনা ছিল জানিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, ‘অনেক বছর ধরেই পরিকল্পনা ছিল আবার মঞ্চে অভিনয় করব, কিন্তু প্রোপার ক্রিপ্ট ও সে রকম কোনো কিছু হয়তো মেলে নাই। অনেক দিন পর একটা ভালো স্ক্রিপ্ট ও স্পেশাল কিছুর জন্য নাটকটি করা।

‘স্পেশাল বলতে ঢাকা থিয়েটার এবং দেশ নাটক দুটি দল একসঙ্গে নাটকটি প্রযোজনা করছে। সব মিলিয়ে ইন্টারেস্টিং একটা বিষয়। সেই কারণেই আবার মঞ্চে অভিনয় করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাকে আমরা নাট্যগুরু ভাবি, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, তিনি এই নাটকের ডিরেকশন দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে আমার জন্য আনন্দের বিষয়; ভালো লাগার বিষয়।’

মঞ্চে ফেরা আনন্দের: আফজাল
‘পেন্ডুলাম’ নাটকের মহড়ায় বাঁ থেকে নাজনীন চুমকি, নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু (মাঝে) ও আফজাল হোসেন (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

পেন্ডুলাম নাটকটির গল্প নিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, ‘এটা মূলত আমাদের যে শহরে সোসাইটি...আমরা তো প্রত্যেকেই মফস্বল থেকে আসি। এরপর জীবনে প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা তো বহু কিছু করি। তারপর কী হয়? একটা সময় বহু কিছুতে আমাদের সব পাওয়া পূর্ণ হয় বলে মনে করি। আমরা যখন একদম একটা মানুষ পরিচয়হীন অবস্থায় পরিচয়ের সন্ধানে শহরে আসি, তারপর নানা কিছু করি, একটা পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করি।

‌‘অনেক কিছু করি; এটায় আমার সাফল্য আসবে, ওইটায় আমার সাফল্য আসবে। সব পাওয়া হয়, তারপর শেষমেশ কি মনে হয় সব পাওয়া হলো? এটা এমন কোনো অসাধারণ বিষয় না; যেকোনো মানুষের গল্প। গল্পটা হচ্ছে এই, আমরা যে জীবনটা যাপন করি স্বার্থসিদ্ধির জন্য, ভালোর জন্য, জীবন উপভোগের জন্য, এগুলো একটা সময় যে কী হয়ে ফেরত আসে, সেই চিত্রটা দেখানো হবে।’

মঞ্চে ফেরা আনন্দের: আফজাল
‘পেন্ডুলাম’ নাটকের মহড়ায় আফজাল হোসেন ও নাজনীন চুমকি। ছবি: সংগৃহীত

নাটকটি ডিসেম্বরের শেষে মঞ্চে আসবে বলে জানালেন নাট্যকার মাসুম রেজা।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা নিয়মিত শিল্পকলা একাডেমিতে নাটকটির মহড়া করছি। আগামী ডিসেম্বরে নাটকটি মঞ্চস্থ হবে। তবে হল বুকিংয়ের আগে তারিখ ঘোষণা করতে পারছি এখন।’

নাটকে আরও অভিনয় করছেন নাজনীন চুমকি, কামাল আহমেদসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসিতে তিন বিষয়ে পরীক্ষা
এসএসসি-এইচএসসি: শিক্ষামন্ত্রীর প্রস্তাব ‘মন্দের ভালো’
যেভাবে এসএসসি-এইচএসসির মূল্যায়ন
এসএসসি নভেম্বরে, এইচএসসি ডিসেম্বরে
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার দাবি

শেয়ার করুন

ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিই বেশি: আরফান আলী

ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিই বেশি: আরফান আলী

যেকোনো উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে খেলাপি ঋণ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। নতুন বিনিয়োগ করলে কোনো কারণে ব্যবসা যদি লোকসান করে, তখন তারা খেলাপি হয়ে যায়। তবে আমাদের দেশে ইচ্ছাকৃত খেলাপির সংখ্যা বেশি। কারণ, আমাদের আইনি কাঠামো থেকে শুরু করে ব্যাংকিং কাঠামোতে দেখা যায়, ভালো ঋণগ্রহীতার চেয়ে খেলাপি গ্রাহকের দিকে সবার মনযোগ বেশি থাকে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাহাড়সম যে খেলাপি ঋণ, তার পেছনে উদ্যোক্তাদের টাকা ফেরত না দেয়ার ইচ্ছাকেই দায়ী করেছেন ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরফান আলী। তার মতে, খেলাপি ঋণদাতাদের মধ্যে ইচ্ছাকৃত খেলাপিই বেশি।

তিনি এও মনে করেন যে, করোনাকালে বিনিয়োগের যে খরা তৈরি হয়েছে, সেটি কেটে যাবে সহসাই।

করোনার ধাক্কার পর বিশ্ব অর্থনীতির মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও গভীর সংকটে পড়ে গত বছরের শুরুর দিকে। সেই ধাক্কা সামলে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে সোয়া লাখ কোটি টাকার ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। বর্তমানে সেই প্রণোদনার অঙ্ক বেড়ে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে।

এই প্রণোদনা ঋণের পুরোটাই বিতরণ করছে ব্যাংকগুলো। গত বছর প্রণোদনা ছাড়া ঋণ বিতরণ খুব একটা ছিল না। তবে এখন মহামারির ধকল কমতে শুরু করেছে। মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা কমতির দিকে। ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশের অর্থনীতি। ঋণ বিতরণও বেড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ‘কেমন চলছে ব্যাংক খাত’ এ শিরোনামে নিউজবাংলার ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। সাক্ষাৎকারভিত্তিক এই প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে দেশের ব্যাংকিং খাতের হালচাল নিয়ে কথা বলেছেন ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরফান আলী।

খেলাপি ঋণ দেশের ব্যাংক খাতের এখনও অন্যতম সমস্যা। এ সমস্যা থেকে বের হতে কী করা দরকার?

যেকোনো উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে খেলাপি ঋণ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। নতুন বিনিয়োগ করলে কোনো কারণে ব্যবসায় লোকসান করে, তখন খেলাপি হয়ে যায়। এটা হতেই পারে।

তবে আমাদের দেশে ইচ্ছাকৃত খেলাপির সংখ্যা বেশি। কারণ, আমাদের আইনি কাঠামো থেকে শুরু করে ব্যাংকিং কাঠামোতেও দেখা যায়, ভালো ঋণগ্রহীতার চেয়ে খেলাপি গ্রাহকের দিকে সবার মনযোগ বেশি থাকে।

যারা ভালো ঋণগ্রহীতা তাদের দিকে বেশি খেয়াল রাখা হয় না। যারা নিয়মিত ঋণ শোধ করেন তাদের কিছু সুবিধা দেয়া উচিত। কিন্তু এখানে হয়েছে উল্টো। যারা টাকা-পয়সা আটকে রাখে তাদের এক সময় ডিসকাউন্ট দেয়া হয়, ছাড় দেয়া হয়। কিন্তু তাদের সুযোগ-সুবিধাগুলো কমিয়ে দেয়া উচিত। প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয়া উচিত যে, তারা ঋণ শোধ করছে না।

ঋণ নিয়ে এক হিসেব থেকে অন্য হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ দীর্ঘমেয়াদে দায় দিয়ে ব্যবস্থাপনা করতে হবে। ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল (চলতি মূলধন) দিয়ে অনেকে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে চলে গেছে। ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে।

তাহলে বিষয়টি কি এমন যে, খেলাপিদের প্রশয় দেয়া হয়, ভালো ঋণগ্রহীতাদের বঞ্চিত করা হয়?

অনেকটা সেরকমই। আমার কাছে মনে হয়েছে ভালো ঋণগ্রহীতার চেয়ে খেলাপিদের প্রভাবটা বেশি। অনেক করপোরেট হাউজ আছে যারা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করছেন, ব্যাংকের শর্ত সব পূরণ করছেন। তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ সুবিধা থাকা দরকার। তাদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করা উচিত বলে আমি মনে করি।

করোনার ধাক্কায় যেখানে সবদিক দিয়েই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, সেখানে তথ্য বলছে, ব্যাংকগুলো ভালো পরিচালন মুনাফা করেছে। কীভাবে এটা সম্ভব হয়েছে?

২০২০ সালের ডিসেম্বরে ব্যালেন্স শিটে সব ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা কম ছিল। ঋণের সর্বোচ্চ ৯ শতাংশের সুদহারের সুফল কিন্তু ওই বছর পাওয়া যায়নি।

চলতি বছর আমানতের সুদহার যখন সমন্বয় করতে পারলাম তখন সুদের আয়টা একটু বেশি ছিল। খেলাপি ঋণেরও ছাড় দেয়া হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো সঞ্চিতিতে কিছুটা ছাড় পেয়েছে। এ কারণেও মুনাফা হয়েছে বেশি। চলতি ডিসেম্বরে যখন সুবিধাগুলো আরও কমে যাবে তখন ব্যাংকের প্রকৃত মুনাফা বোঝা যাবে।

বর্তমানে ব্যাংক খাতে আলোচিত বিষয় আমানতের সুদহার। আমানতের সুদ হার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বলেছে, সুদহার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম হতে পারবে না। এতে আপনাদের আপত্তি আছে, যা গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট করেছেন। এই নির্দেশনা পরিপালনে ব্যাংক খাতের চ্যালেঞ্জ কী?

চাহিদা ও যোগানের উপর ভিত্তি করে ব্যাংকিং পরিচালনা করা হয়। এখন ঋণে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কিন্তু সেটা ৯ শতাংশেরও নিচে চলে এসেছে। ৭ থেকে ৮ শতাংশ সুদেও ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। করপোরেট ঋণে কোনো কোনো ঋণে সেটা আরও কম।

ঋণ ও আমানতে সুদহারের যে ব্যবধান (স্প্রেড) থাকে ব্যাংক সেটা দিয়ে ব্যাংক চলে। সুতরাং ঋণে সুদ বাড়ানোর যেহেতু কোনো সুযোগ নেই, ব্যাংক গ্রাহকের সঙ্গে এটা সমন্বয় করে ফেলছে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনার ফলে ব্যক্তি আমানতকারীদের সুবিধা হবে। তাদের টাকার মান যেন নষ্ট না করে, বিনিয়োগ যেন নিরাপদ থাকে এ কারণে মূল্যস্ফীতির কম সুদ না দেয়ার বিষয়ের নির্দেশনা সঠিকভাবে পরিপালন করা হবে। এর ফলে টাকার মান নষ্ট হচ্ছে না। কারণ, সঞ্চয় বিষয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি বিশেষ সঞ্চয় না করলে বড় বড় করপোরেটরা এত টাকা ঋণ পাবে না।

মহামারি করোনাভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বড় ভূমিকা রাখছে ব্যাংক খাত। জরুরি সেবার আওতায় লকডাউনের মধ্যেও বন্ধ থাকেনি এ খাতের সেবা। সেই ব্যাংক খাতের সার্বিক অবস্থা এখন কেমন?

করোনার মধ্যে ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে নিজেদের প্রস্তুত করেছি। কারণ ব্যক্তি থেকে শুরু করে করপোরেট, সবারই আর্থিক খাতের সেবা দরকার পড়ে। আমাদের দেশে অনলাইন ও ডিজিটাল ব্যাংকিং এখনও সেভাবে প্রসার লাভ করেনি। সে কারণে ব্যাংকের শাখা বা এজেন্ট বুথে এসে গ্রাহদের সেবা নেয়ার প্রবণতা এখনও আছে। আমরা করোনার সময়েও সীমিত পরিসরে সব খোলা রেখে গ্রাহকদের সেবা দেয়ার সর্বোত্তম চেষ্টা করেছি।

বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরকারের ভাতাসহ সব ধরনের সেবা দেয়ার জন্য নিজেদের সেভাবে তৈরি রেখেছি।

ক্ষতি পোষাতে বিশাল অংকের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু অভিযোগ আছে বড় বড় ব্যবসায়ীদেরই প্রণোদনার অর্থ দেয়া হচ্ছে, বঞ্চিত হচ্ছে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্প। প্রকৃত চিত্র কী?

ছোটরা বঞ্চিত হচ্ছে বিষয়টি তেমন নয়। কর্মাশিয়াল কোনো ব্যাংকের হেড অফিস কিন্তু গ্রামাঞ্চলে নেই। শহরভিত্তিক কার্যক্রম বেশি করা হয়। ব্যাংকগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরনের সেবার জন্য তেমন প্রস্তুত ছিল না। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কারণে ওইসব জায়গায় সেবা দেয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সব ব্যাংক এখন চেষ্টা করছে।

প্রণোদনার ক্ষুদ্র ঋণ দেরি হয়েছে। কিন্তু এরপরেও অনেকাংশে ঋণ বিতরণ হয়েছে। করপোরেট ঋণগুলো ঢাকা, চট্রগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেটসহ এমন কিছু শহরে ছিল। কিন্তু ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের কাজ তো পুরো দেশজুড়ে ছড়িয়ে আছে। সেজন্য সময় বেশি লেগেছে।

ব্যাংক ঋণের সুদের সর্বোচ্চ হার এখন ৯ শতাংশ। যখন এই সুদ হার কার্যকর হয়, তারপরই হানা দেয় করোনা। সুবিধা দেয়ার পরও দিন দিন কমছে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ। তাহলে কি বিনিয়োগ বাড়ার ক্ষেত্রে কম সুদ কোনো ভূমিকা রাখে না?

ঋণের ক্ষেত্রে ডিমান্ড-সাপ্লাই এর একটা বিষয় আছে। ঋণের সুদ ৯ শতাংশ হলেই যে সব ধরনের ঋণ বিতরণ হবে বিষয়টি তেমন না।

করোনাকালে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার অনেক নিচে। কারণ, উদ্যোক্তারা নতুন বিনেয়াগের ব্যাপারে খুব একটা সাহসী ছিল না। করোনা পরিস্থিতিতে অনেকের জন্য নতুন বিনিয়োগ করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া কস্টকর ছিল। বিনিয়োগে করলে রিটার্ন কেমন পাবে বা পরিস্থিতি কেমন হবে-এসব কারণে তাদের মধ্যে ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ পলিসি কাজ করেছে। সে কারণে নতুন কোনো প্রজেক্ট আমরা তেমন দেখতে পাইনি।

তবে আশার কথা হলো, এখন আবার পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। অনেকে নতুন নতুন প্রকল্প নিয়ে আমাদের সামনে আসছেন। সুতরাং, এতদিন যে স্থবিরতা গেছে, এখন সেটা কেটে যেতে শুরু করেছে। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়বে। বিনিয়োগে স্থবিরতা কেটে যাবে।

করোনাকে সঙ্গে নিয়েই বিশ্ব পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করেছে। সবকিছু স্বাভাবিক হচ্ছে। মহামারির এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যাংক খাত কী ধরনের কর্মপরিকল্পনা নিতে পারে?

যারা ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তা তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তারা আমাদের চালিকাশক্তি। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। করোনার মধ্যে এসব শিল্পে কাজ চলমান ছিল। ব্যাংকারদের এসব উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়াতে হবে। ঋণ প্রবৃদ্ধি যেন বাড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

আগে আমাদের ব্যাংকগুলো শহরভিত্তিক ছিল। কিন্তু এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ব্যংকের সেবা পৌঁছে গেছে। এটা আরও ছড়িয়ে দিতে হবে। করোনার সময়েও অনেক ব্যবসা চালু ছিল। কাজ চালু রাখার কারণে অর্থনীতিতে তেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

করোনা পরবর্তী ব্যাংক খাত আরও ভালো করবে বলে আমি আশা করি। সম্পদের সমৃদ্ধি আরও ভালো হবে। ক্যারিয়ার ব্যাংকিংও ভালো হবে। ব্যাংক খাতে কাজ করার সক্ষমতা আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসিতে তিন বিষয়ে পরীক্ষা
এসএসসি-এইচএসসি: শিক্ষামন্ত্রীর প্রস্তাব ‘মন্দের ভালো’
যেভাবে এসএসসি-এইচএসসির মূল্যায়ন
এসএসসি নভেম্বরে, এইচএসসি ডিসেম্বরে
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার দাবি

শেয়ার করুন

‘শুধু সংখ্যা দিয়ে জোট করলে হবে না’

‘শুধু সংখ্যা দিয়ে জোট করলে হবে না’

নিউজবাংলার সঙ্গে আলাপে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বীরপ্রতীক।

সাম্প্রতিক রাজনীতি নিয়ে নিউজবাংলার মুখোমুখি হয়েছেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক। ২০-দলীয় জোট নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই কোনো দল কিংবা নেতা কী অবদান রাখতে পারবে বা পেরেছে, সেটার ওপর ভিত্তি করে তার ভূমিকা স্থির করতে হবে। শুধু সভায় গেলাম আর বের হলাম, শুধু শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে বসলাম আর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বের হলাম, এটা হয় না। আর যেহেতু দেশনেত্রী (খালেদা জিয়া) নাই, সরকার এখন কোনো প্রকারের বড় জনসমাবেশ অ্যালাও করছে না, সুতরাং তার রাজনৈতিক প্রক্রিয়াটাও ভিন্ন হবে।’

মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান। তার দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের শরিক হলেও সম্প্রতি তার কথাবার্তায় জোট ত্যাগের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে জোট ও সরকারবিরোধী আন্দোলন নিয়ে নিউজবাংলা কথা বলে তার সঙ্গে।

প্রশ্ন: আপনি কি ২০-দলীয় জোট ছেড়ে যাচ্ছেন?

জেনারেল ইবরাহিম: না না, ২০ দল ছেড়ে যাব কেন? সেদিন এমন কোনো কথা বলিনি। আমরা অনেক দিন যাবৎ আবেদন করছি, অনুভূতি প্রকাশ করছি, প্রধান শরিক বিএনপির সঙ্গে চলতে আমরা আনন্দিত। কিন্তু তাদের কাছে আবেদন, আপনারা আত্মসমালোচনামূলক একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০ দলকে পুনর্গঠিত করুন। ২০ দল, ১৮ দল, ১০ দল, ২২ দল করেন, কিন্তু আত্মসমালোচনার প্রক্রিয়া নেয়া প্রয়োজন। কারণ গত আট-নয় বছরে আমরা অনেক ভুল করেছি, ভালো কাজও করেছি, সুতরাং এই আত্মসমালোচনা প্রয়োজন। যদি একান্তই আমাদের প্রধান শরিকের পক্ষে সম্ভব না হয়, তাহলে আমরা নিশ্চয়ই নিজেদের কর্মপন্থা স্থির করব।

প্রশ্ন: বিষয়টি কি এমন যে আপনি বিএনপির কাছে মূল্যায়ন চান? মূল্যায়ন পাচ্ছেন না বলেই কি এমন কথা বলছেন?

জেনারেল ইবরাহিম: অবশ্যই মূল্যায়ন আত্মসমালোচনার একটা অংশ।

প্রশ্ন: কী ধরনের মূল্যায়ন আসলে চান?

জেনারেল ইবরাহিম: আমরা চাই, কোন দল কিংবা নেতা কী অবদান রাখতে পারবে বা পেরেছে, সেটার ওপর ভিত্তি করে তার ভূমিকা স্থির করতে হবে। শুধু সভায় গেলাম আর বের হলাম, শুধু শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে বসলাম আর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বের হলাম, এটা হয় না। আর যেহেতু দেশনেত্রী (খালেদা জিয়া) নাই, সরকার এখন কোনো প্রকারের বড় জনসমাবেশ অ্যালাও করছে না, সুতরাং তার রাজনৈতিক প্রক্রিয়াটাও তো ভিন্ন হবে। এখন থেকে চার-পাঁচ বছর আগে দেশনেত্রী, আমরা রোডমার্চ করেছি, বিভিন্ন জেলায় বিভাগীয় শহরে, বড় শহরে জনসভা হয়েছে। সেটা এখন সম্ভব না, যেহেতু সরকার এখন বৈরী পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তাহলে এ প্রেক্ষাপটে আমাদের করণীয় কী হতে পারে, সেটা আমাদের স্থির করতে হবে, শুধু সংখ্যা দিয়ে তো আর জোট করলে হবে না, সারবস্তু চাই।

এখন আমরা চরম সংকটে আছি। রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এই সংকট সৃষ্টি করেছে সরকার, সরকারবিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য অস্তিত্বের সংকট সৃষ্টি করেছে, কর্মযজ্ঞের সংকট সৃষ্টি করেছে। সমগ্র দেশের রাজনীতিকে সংকটাপন্ন অবস্থায় নিয়ে গেছে, বিরাজনীতিকরণ প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে। সুতরাং এখানে গভীর বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে যে, গণতন্ত্রকে কেমন করে পুনরায় ফেরত আনা যায়।

প্রশ্ন: মূল্যায়নটা পাচ্ছেন না কেন?

জেনারেল ইবরাহিম: আমি তো বলি নাই মূল্যায়ন পাচ্ছি না। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াটাই এমন। আমি একটা কঠিন শব্দ ব্যবহার করতে চাই, আশা করি আপনারা এটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন। সেটা হলো, আমরা শুধু শাসনকারী রাজনৈতিক দলের পরিবর্তন চাই না। শাসনকারী যেই হোক না কেন, কল্যাণ পার্টি অবশ্যই তার মধ্যে গুণগত পরিবর্তন চায়, তার অতীতের কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে আগামীতে তার গুণগত পরিবর্তন চায়। যিনি হবেন হন। কারণ শুধু শাসক পরিবর্তন করলেই তো বাংলাদেশে সমস্যার সমাধান হবে না। দেশের সমস্যাগুলো অনুধাবনে যদি সেই গুণগত পরিবর্তন না থাকে, তাহলে তো হবে না।

প্রশ্ন: ২০-দলীয় জোটের পাশাপাশি আপনারা একটি উপজোটের মতো করেছিলেন ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’। সেটা কেন করেছিলেন? আর সেটা গতিই-বা পেল না কেন?

জেনারেল ইবরাহিম: ওটা আমি করি নাই। সুস্পষ্টভাবে আপনাকে জানাই, ওটা করেছিলেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। তিনি দাওয়াত দিয়েছিলেন মুক্তি মঞ্চের কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে এবং সেখানে দেশনেত্রীর (খালেদা জিয়া) মুক্তিই ছিল প্রধান বক্তব্য। ওনার মুক্তির জন্য যে যা বলুক, আমরা সবখানেই ঝাঁপিয়ে পড়েছি। এখন আহ্বায়ক যিনি, উনিই যদি এটা নিয়ে না আগান, তাহলে তো আমাদের কোনো জায়গা থাকে না। আমি সেটার নীতিনির্ধারক ছিলাম না, নাইও। তবে দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য আপনি আমাকে সবখানে পাবেন।

প্রশ্ন: আমরা তো বিএনপিকে তাদের দলের চেয়ারপারসনের মুক্তি নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে দেখছি না। আপনি যতটুকু বলেন, এটা তো ওনাদের বলতে দেখিনি। আপনি কেন এই দাবি করেন?

জেনারেল ইবরাহিম: আমি ব্যক্তিগতভাবে যেমন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অসীম শ্রদ্ধা করি, তেমনি জিয়াউর রহমানকেও অজস্র শ্রদ্ধা করি। একজন বঙ্গবন্ধু, তিনি তুলনাবিহীন। তার আঙ্গিকে এবং একজন জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি তুলনাবিহীন তার আঙ্গিকে। উভয়ের রাজনৈতিক দল রয়েছে। উভয়ই ভালো কাজ করতে চেষ্টা করেছিলেন। তাদের লক্ষ্য ভালো ছিল। দেশনেত্রী বেগম জিয়া আশির দশকে অনেক পরিশ্রম করেছেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য। এ জন্য তার প্রতি আমার সম্মান ও মায়া রয়ে গেছে। ওনাকে বন্দি করেছে, এটা আমার পছন্দ হচ্ছে না। সে জন্য আমি বলতেই থাকি যে, ওনার মুক্তি চাই, ওনার সুস্থতা যেন আল্লাহ দেন। আমার দাবি, বাংলাদেশ নিয়ে আমরা চিন্তায়-চেতনায় কোনো বিভাজন চাই না। বাংলাদেশের নিরাপত্তা, অগ্রগতি, উন্নতি এসব নিয়ে। রাজনৈতিকভাবে মতবিরোধের জায়গা আমরা কমিয়ে আনতে চাই।

প্রশ্ন: সেটায় কতটুকু সফল হলেন?

জেনারেল ইবরাহিম: আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী নির্বাচনে এটা সুস্পষ্টভাবে দেখা যাবে যে, বঙ্গবন্ধুকে মান্য করেই, জিয়াউর রহমানকে মান্য করেই গণতন্ত্রের চর্চা করা যায়, যুগপৎ দুজনকে মান্য করেই। আজকের তরুণ প্রজন্ম, বিভাজনকে স্বাগত জানায় না।

প্রশ্ন: ২০-দলীয় জোট নিয়ে আপনি বলেছিলেন, জোট আছে এটাও সঠিক, নেই এটাও সঠিক। এরপর কি বিএনপি থেকে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল?

জেনারেল ইবরাহিম: না। আমরা বন্ধুপ্রতিম বড় দল-ছোট দল।

প্রশ্ন: তাহলে আপনার বক্তব্যকে তারা পাত্তাই দিল না, বিষয়টা কি এমন?

জেনারেল ইবরাহিম: এটা আমি কোনোমতেই বলতে পারব না। এটা আমার বুদ্ধিতে-জ্ঞানে আসবে না।

প্রশ্ন: বিএনপি জোটে যদি না থাকেন, তাহলে কী করবেন?

জেনারেল ইবরাহিম: সেটা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত প্রশ্ন। তখন আমরা নিজে নিজে চলতে চেষ্টা করব। আমাদের মতো আরও যদি দল থাকে, তাদের বলব, চলো একসঙ্গে বসব, একসঙ্গে চলব। যদি সম্মত হয় কেউ, তখন আমরা চলব। আমরা তো আর বিএনপিকে বাধ্য করতে পারব না যে আমাদের নিয়ে জোট করেন। সুতরাং আমাদের নিজেদের অবস্থা বের করে নিতে হবে। তবে এটা অগ্রিম বলা খুব কঠিন। আমরা বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছি, আমরা প্রধান শরিককে সম্মান জানাই, আমরা প্রধান শরিকের প্রতি আহ্বান রাখছি, যে প্রধান শরিক যতদিন একটা বাস্তবসম্মত চূড়ান্ত ফয়সালা না দিচ্ছেন, ততদিন আমরা অস্থির হব না।

প্রশ্ন: তাহলে কি বলা যায়, আপনারা বিএনপির বাইরে কোনো অবস্থান তৈরি করতে পারেননি?

জেনারেল ইবরাহিম: তৈরি করতে পেরেছি কি পারি নাই, এটা নিজেরা বলা সমীচীন মোটেই না। এটা পর্যবেক্ষকরা বলবেন।

প্রশ্ন: ইদানীং আপনাকে জোটের বাইরেও অনেক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে দেখা যায়। নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ কি হচ্ছে?

জেনারেল ইবরাহিম: রাজনীতিতে অনেক রকমের পথ নিয়ে মানুষ চলে এবং একটা পর্যায়ে গিয়ে একটা পথ বেছে নেয়। জোটের বাইরেও তো অনেক রাজনৈতিক দল সক্রিয় আছে। যিনি কাজ করতে চান, তিনি তো কাজের জন্যই ছুটবেন। আমি ও আমার দল কাজ করতে চাই। আমি কাজ চাই, তরুণদের নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।

প্রশ্ন: এক-এগারোর প্রেক্ষাপটে যে কিংস পার্টি হয়েছিল, সেখানে আপনার দল ছিল। এ বিষয়ে কী বললেন?

জেনারেল ইবরাহিম: আপনার রাজনৈতিক জ্ঞান অতি সীমিত, দুর্বল। কিংস পার্টি তাকেই বলে যাহা কিং বানায়। প্রতীকী অর্থে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় যারা রাজনৈতিক দল তৈরি করে। ১/১১ এসেছিল ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসের ১১ তারিখ। কিংস পার্টির সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ ছিল না। তবে কল্যাণ পার্টির জন্ম ২০০৭ সালের ডিসেম্বরের ৭ তারিখ। এর সঙ্গে তৎকালীন সরকারি কর্তৃপক্ষ ও গোয়েন্দাদের ন্যূনতম সম্পর্কও নেই। কিন্তু সৌভাগ্য বলেন, আর দুর্ভাগ্য বলেন, ১/১১ নামক যন্ত্রণার যে জন্ম হয়েছিল, সে সময় সেনাবাহিনী ক্ষমতায় ছিল। আর আমি একজন সাবেক সৈনিক। অনেকে দুই আর দুই মিলাইয়া চার করে, জোর করে হোক আর যেভাবেই হোক। আমি অতি বিনয়ের সঙ্গে বলছি, আমাদের সঙ্গে সেই কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নাই।

প্রশ্ন: গত জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আপনাদের বিস্তর অভিযোগ। কিন্তু এমনটা কী করে হলো? আপনাদের ভোটের আগে ক্যাম্পিংয়ে দেখা গেল না, পোস্টারিংও তেমন ছিল না। আপনারা ভোটের পরও কোনো কর্মসূচি দিলেন না। সবই কি সরকারের দোষ?

জেনারেল ইবরাহিম: আমি জোটের কোনো কিছুরই উত্তরও দিতে পারব না। কারণ জোট এ বিষয় নিয়ে সমন্বিত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং নির্বাচনের আগে সরকারের বিরোধী শিবিরে অসমন্বয়টা ছিল প্রকট। সেই ফাঁকে সরকার তার কাজ করে নিয়েছে। আমি বলব, আমরা যারা সরকারের বিরোধী শিবিরে ছিলাম, সম্মিলিতভাবে সচেতন হতে পারিনি। নিজেদের সমন্বয় পাকাপোক্ত করতে পারিনি। যার কারণে সরকার তাদের অভিপ্রায় পূরণ করেছে। আমাদের ফাঁকি দিয়ে। ভোটের পরও আমরা সমন্বিত কোনো পদক্ষেপ নিতে পারিনি। এর কারণ নির্বাচনের আগে একটা হেলুসিনেশনে ভুগছিল সবাই।

প্রশ্ন: আন্দোলন হচ্ছে না কেন? আপনারা বলছেন, সরকার বাধা দিচ্ছে। সব সরকারই তো বাধা দেয়, তারপরও তো আন্দোলন হয়।

জেনারেল ইবরাহিম: আন্দোলন করতে হবে। বাস্তবতার নিরিখে যদি বিবেচনা করি, বিগত কয়েকটা মেজর আন্দোলন অসফল হয়েছে। আর একবার যে আন্দোলনের ডাক দেবেন, কে কার জন্য প্রাণটা হাতে নিয়ে নামবে? আমরা চাই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন হোক। আমি একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দলে বা জোটের পক্ষের কর্মীদের কীভাবে আশ্বস্ত করব যে, আপনার প্রাণ নিরাপদ, বাড়িঘর নিরাপদ কিংবা আপনার নামে মামলা হবে না?

বলা খুব সহজ আন্দোলন করব, আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিন। কিন্তু তার আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো যদি আমরা অ্যাড্রেস না করি, তাহলে তো আন্দোলন গড়ে উঠবে না। লাখ লাখ বিএনপি-জামায়াত ২০-দলীয় জোটের কর্মী মামলার ভারে ভারাক্রান্ত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র আন্দোলন করা যাচ্ছে না। সেখানে রাজপথে আন্দোলন করা মারাত্মক চ্যালেঞ্জের একটা কাজ। এটা ৩০ বছর আগেও ছিল না।

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসিতে তিন বিষয়ে পরীক্ষা
এসএসসি-এইচএসসি: শিক্ষামন্ত্রীর প্রস্তাব ‘মন্দের ভালো’
যেভাবে এসএসসি-এইচএসসির মূল্যায়ন
এসএসসি নভেম্বরে, এইচএসসি ডিসেম্বরে
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার দাবি

শেয়ার করুন

কেউ জামায়াতের, কেউ সরকারের ‘বি টিম’ বলছে

কেউ জামায়াতের, কেউ সরকারের ‘বি টিম’ বলছে

সাক্ষাৎকারে এবি পার্টির সদস্য সচিব মুজিবুর রহমান মঞ্জু।

‘আমাদের একই দিকে দুই ধরনের ব্লেইম শুনতে হচ্ছে: কেউ বলছে আমরা অন্য রাজনৈতিক দলের (জামায়াত) বি টিম। কেউ বলছে আমরা সরকারের বি টিম। ওরা বলছে আমরা সরকারের দালাল আবার সরকারের লোকেরা সন্দেহ করছে আমরা অন্য দলের এজেন্ডা বাস্তনের জন্য নতুন দল খুলেছি কী না।’

২০২০ সালের ২ মে দলটির যাত্রা শুরু হয় ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি নামে, যা সংক্ষেপে ‘এবি পার্টি’ নামে পরিচিতি পায়। দলটির বর্তমান সদস্য সচিব মুজিবুর রহমান মঞ্জু এককালে জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন নিউজবাংলার সঙ্গে।

নিউজবাংলা: জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক কেমন? আপনাদের দলের প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই অনেকের মধ্যে ধারণা ছিল, জামায়াত ভেঙ্গে দলটির সৃষ্টি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, আপনারা মূলধারায় আসতে পারছেন না। কেন?

মুজিবুর রহমান মঞ্জু: জামায়াতের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্কের প্রশ্ন আসে না এ কারণে যে, আমরা একটি নতুন রাজনৈতিক দল করেছি। আমি কিংবা আরও দুই-একজন জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে, যাদের অনেকেই জামায়াত থেকে পদত্যাগ করেছে, আবার কাউকে কাউকে জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত করা হয়েছে। এটা আমাদের জন্য একটা ক্লোজ চ্যাপটার। আমরা যে দল শুরু করেছি, সেটি সম্পূর্ণ নতুন চিন্তা আদর্শ, নতুন কর্মসূচি, দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। এটার সঙ্গে জামায়াতের কোনোই সম্পর্ক নাই। বরং নতুন দল করার পর জামায়াত আমাদের বিরুদ্ধে বলছে যে, আমরা ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে গেছি, আমরা ধর্মকে বাদ দিয়ে দিয়েছি। এ ধরনের অপপ্রচার জামায়াত আমাদের বিরুদ্ধে করছে। সুতরাং আমি মনে করি, আমাদের রাজনৈতিক উদ্যোগ সম্পূর্ণ স্বাধীন, পৃথক। শুধু জামায়াত নয়, কোনো দলের সঙ্গেই আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা সম্পূর্ণ স্বাধীন চিন্তার আলোকে নতুন একটা উদ্যোগ।

দলের প্রতিষ্ঠার শুরুতে আমরা এ ধরনের প্রচার দেখেছি যে, আমাদের উদ্যোগকে অনেকে জামায়াতের ভাঙ্গণ হিসেবে দেখেছেন। আমরা তখন বলেছি যে, এটা একটা ভুল ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং এটা একটা অপপ্রচার।

আমাকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ব্যারিস্টার রাজ্জাক সাহেব ওনার ব্যাখ্যা দিয়ে দল থেকে বের হয়ে গেছেন। আর সোলেমান চৌধুরী সাহেবও জামায়াত থেকে বের হয়েছেন। আমরা যখন জামায়াতে ছিলাম, তখন একটি বিষয় নিয়ে আমরা দলে ফাইট করেছি কেউ কেউ।

আর মূলধারায় আসার বিষয়ে আমি বলব, একটা রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠা তো এক দিনের ব্যাপার না। বাংলাদেশে সত্যিই এখন রাজনীতির একটি বৈরি পরিবেশ যাচ্ছে। তার ওপর চলছে করোনা পরিস্থিতি। সব মিলিয়ে রাজনীতিই তো কঠিন পরিস্থিতিতে আছে। আমরা মনে করি, যারা দেশকে নিয়ে ভাবে, তাদের যে কোনো পরিস্থিতিতে কাজ করতে হয়। এ জন্যই আমরা বৈরি পরিস্থিতিতেও রাজনৈতিক দলের সূচনা করেছি।

নিউজবাংলা: বর্তমান জামায়াতে ইসলামীর নিয়ে কী বলবেন?

মুজিবুর রহমান মঞ্জু: এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

নিউজবাংলা: এখন কীভাবে দলকে সংগঠিত করছেন?

মুজিবুর রহমান মঞ্জু: আমরা ইতিমধ্যে প্রায় ৪০টি জেলায় কমিটি করেছি। প্রায় ৮০টার মতো উপজেলায় আমরা কমিটি করেছি। আমরা আমাদের দলের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছি। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন, পরিস্থিতি সব কিছুর সঙ্গে মিলিয়ে আমাদের দল সময়ের ব্যবধানে এগিয়ে যাবে। আমরা কোনো চমক সৃষ্টি করার জন্য দল তৈরি করিনি। বাংলাদেশের রাজনীতির অতীতের যে ব্যর্থতা, সেটা থেকে উদ্ধার করে নতুন একটা দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য আমরা দল করেছি।

কেউ জামায়াতের, কেউ সরকারের ‘বি টিম’ বলছে
এবি পার্টির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ভার্চুয়ালি সংবাদকর্মীদের সামনে আসেন দলের নেতারা

নিউজবাংলা: অনেকে বলেন, তুরস্কের আধ্যাত্মিক নেতা ও ধর্মপ্রচারক ফেতুল্লা গুলেনের মতাদর্শে আপনারা এবি পার্টি সৃষ্টি করেছেন এবং দলকে সংগঠিত করছেন। কী বলবেন?

মুজিবুর রহমান মঞ্জু: এটাও একটা অপপ্রচার। আমাদের দলের ১০ জন কর্মীকে যদি জিজ্ঞেস করেন, তাহলে দেখবেন ফেতুল্লা গুলেনের নামই শোনেন নি তারা। পৃথিবীতে অনেক রাজনৈতিক দার্শনিকের জন্ম হয়েছে, আমরা সবার রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে পড়াশোনা করছি। তবে ফেতুল্লা গুলেনের কোনো রাজনৈতিক দর্শন-চিন্তা যদি আমাদের রাজনৈতিক কাজে লাগে, তবে আমরা সেটা ব্যবহার করব, অসুবিধা কী? কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির চিন্তাধারায় আমরা প্রভাবিত না। আমি মনে করি, এটা রাজনীতির জন্য ঠিকও না। দেশ ও বিশ্ব রাজনৈতিক বিবেচনায় আমরা আমাদের রাজনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছি। আমরা দলের রাজনীতিতে অধিকারভিত্তিক, কর্মসূচিভিত্তিক দল করতে চাই। আমরা মানুষের সমস্যার সমাধান, সার্ভিস ওরিয়েন্টেড রাজনীতি চালু করতে চাই দেশে। আর দেশের মৌলিক জায়গা ধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধ – এ দুটোকে বিতর্কের উর্ধ্বে রেখে আমরা আমাদের রাজনীতি করতে চাই। এ দুটোর চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের মানুষের ঐক্যের জায়গা আমরা তৈরি করতে চাই।

নিউজবাংলা: আপনি বলছেন, আপনার দল সার্ভিস ওরিয়েন্টেড রাজনীতি করতে চায়। কিন্তু সেটার জন্য তো প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। সেটা কীভাবে সংগ্রহ হচ্ছে?

মুজিবুর রহমান মঞ্জু: রাজনৈতিক দলের তহবিল দলের কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দিয়েই হয়। দল যত বড় হবে, তার অর্থের শক্তিটাও সাথে সাথে বাড়বে। আমি মনে করি, অবশ্যই আমরা সার্ভিস ওরিয়েন্টেড রাজনীতি করতে চাই। আমি আপনাকে ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই: করোনা যখন প্রথম শুরু হয়, যখন লকডাউন শুরু হয়েছিল, প্রাথমিক অবস্থা দেখে আমরা খুব ব্যথিত ছিলাম, যে এই যে মানুষজন, যারা দিন আনে দিন খায়, তাদের কী হবে। তখন আমাদের মধ্যে থেকে একজন প্রস্তাব দিল যে, আমরা ‘ফুড ব্যাংক’ চালু করতে পারি কীনা। মানে যাদের খাদ্য আছে, তারা অতিরিক্ত খাদ্য জমা করবে, আর যাদের নেই, সেই খাদ্য তাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। আমরা এটি নিয়ে কাজ শুরু করলাম। আমরা দেখলাম ২২ হাজার টাকার মতো প্রথম দিনে আমাদের যোগাড় হয়েছে। আমরা সেই টাকায় খাদ্য কিনে দুস্থদের মাঝে দিয়েছি। আমি মনে করি, সার্ভিস ওরিয়েন্টেড রাজনীতির একটা শক্তি হচ্ছে, সেটা প্রতিষ্ঠা হলে মানুষ তার সামর্থ্য নিয়ে পাশে দাঁড়াবে।

নিউজবাংলা: অনেকে বলেন, সরকারের সঙ্গে আপনাদের ভালো সম্পর্কের কারণে আপনারা রাজনীতি করতে পারছেন। এ বিষয়ে কী বলবেন?

মুজিবুর রহমান মঞ্জু: আমাদেরকে অনেকে অনেকভাবে বলছে। রাজনীতির জায়গাটা হলো, আপনাদের নানা ধরনের ব্লেম, নানা ধরনের মানুষের ধারণার ‍ওপর কাজ তো হবেই। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, সেটার বেসিস কী? আপনি শুনলে অবাক হবেন, আমরা যখন প্রথম রাজনৈতিক দল ঘোষণা করলাম, সেদিনই পুলিশ এসে আমাদের বলেছে, আমরা মিটিং করতে পারব না। কারণ আমরা পারমিশন নেইনি। আমরা বলেছি, মিটিং করতে হলে পারমিশন নিতে হবে এটা কোথায় বলা আছে, সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে এটা বলা আছে? আমরা যে কমিটি করছি, সেখানে আমরা গোয়েন্দা সংস্থার লোকদের হয়রানির শিকার হচ্ছি। আমাদের ঘরোয়া মিটিংয়েও পুলিশ বাধা দিয়েছে।

এগুলো হচ্ছে অপপ্রচার। আমরা মনে করি, সরকারের সহযোগিতা নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দল কোনো দিন কোথাও প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। দালালি করে অন্যের স্বার্থ নিয়ে রাজনীতি করে কেউ প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। আমরা এটা করতে চাইব না।

আমাদের একই দিকে দুই ধরনের ব্লেইম শুনতে হচ্ছে। কেউ বলছে, আমরা অন্য রাজনৈতিক দলের (জামায়াত) বি টিম। কেউ বলছে, আমরা সরকারের বি টিম। ওরা বলছে, আমরা সরকারের দালাল, আবার সরকারের লোকেরা সন্দেহ করছে, আমরা অন্য দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নতুন দল খুলেছি কীনা।

কাজেই, আমরা চ্যালেঞ্জ দিতে চাই। কেউ যদি আমাদের চ্যালেঞ্জ দিয়ে প্রমাণ করতে পারে আমরা কারও পক্ষ হয়ে, সুবিধা নিয়ে, সাহায্য নিয়ে দল হিসেবে কাজ করছি, তাহলে আমি সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে রাজি আছি।

নিউজবাংলা: আপনারা কি বিএনপির সঙ্গে সরকারবিরোধী জোটে থাকবেন?

মুজিবুর রহমান মঞ্জু: আমাদের দলের এখনও নিবন্ধন হয় নি। আমরা নিবন্ধনের জন্য চেষ্টা করছি। দলের কমিটিগুলোর নিবন্ধনের জন্য কাজ করছি। আমরা এখন পর্যন্ত রাজপথে কোনো কর্মসূচি নিয়ে নামিনি। আমাদের বেশিরভাগ কাজ হচ্ছে ঘরোয়াভাবে। রাজপথে নামার সুযোগও তৈরি হয় নি। লকডাউনের পর রাজনৈতিক পরিবেশ বেশ বৈরি। আমাদের এখন কাজই হচ্ছে দলটাকে শক্তিশালী জায়গায় নিয়ে যাওয়া। এরপর আমরা জোটবদ্ধ হব কিনা, পরে দেখা যাবে।

নিউজবাংলা: আপনাদের দলের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক দেশে আসছেন না কেন?

মুজিবুর রহমান মঞ্জু: উনি পেশার কারণে প্রথমে ইংল্যান্ড গিয়েছিলেন। যাওয়ার পর দেখা গেল, ওনার বিরুদ্ধে দুটো মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ওনার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে যে, উনি দেশে এলে ওনাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এ ধরনের একটা পরিস্থিতি তখন বিরাজমান ছিল। সে কারণে সে সময় তিনি আর দেশে আসেননি।

দেশে না ফেরার কারণে উনি সেখানেই অবস্থান করছেন। সেখানেই উনি ল প্র্যাকটিস করছেন। মাঝখানে তিনি অসুস্থও হয়েছেন, ওনার ক্যান্সার ধরা পড়েছে। উনি ট্রিটমেন্টে আছেন। সার্বিক বিষয় মিলিয়ে ওনার বিরুদ্ধে এই যে হুমকি, যে উনার মতো একজন বিখ্যাত আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, উনি দেশে এলে ষড়যন্ত্র হতে পারে, এ কারণে উনি দেশে আসছেন না। সব মিলিয়ে একটা সুবিধাজনক পরিস্থিতিতে উনি দেশে ফিরে আসবেন।

নিউজবাংলা: আপনি বলছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দেশের একটি শক্তি। কিন্তু আমরা দেখেছি, যুদ্ধাপরাধীদের প্রসিকিউটর হিসেবে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ছিলেন। তিনিই এখন আপনাদের দলের উপদেষ্টা। কী বলবেন?

মুজিবুর রহমান মঞ্জু: রাজ্জাক সাহেবকে এই প্রশ্ন অনেক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও করেছিল। এটা উনি ক্লিয়ার করেছিলেন। উনি একজন প্রফেশনাল আইনজীবী হিসেবে সেটা করেছেন। তিনি যখন জামায়াত থেকে পদত্যাগ করেছেন, তখন কিন্তু স্পষ্টভাবে ওনার পজিশন ক্লিয়ার করেছেন। সুতরাং উনি যুদ্ধাপরাধের সহায়ক, এটা মিন করে না।

নিউজবাংলা: আফগানিস্তানে বর্তমান যে পরিস্থিতি চলছে, সেটিকে কীভাবে দেখছেন? বাংলাদেশের ওপর এটার প্রভাব কেমন হবে বলে মনে করেন?

মুজিবুর রহমান মঞ্জু: প্রভাব তো অবশ্যই বাংলাদেশের ওপর পড়বে। প্রত্যেক দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন সে দেশের সংস্কৃতি, রাজনীতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। আমি মনে করি, দক্ষিণ এশিয়ার একটা বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বাংলাদেশে একটা প্রভাব আমরা দেখতে পাচ্ছি। একটা পুতুল সরকারের বিরুদ্ধে বিজয়ের বিষয় সামনে আসছে। আর একটা বিষয় আসছে, ওখানে (আফগানিস্তানে) যে একটা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে, এটাও একটা সীমা তৈরি করে যে, পটপরিবর্তন সম্ভব।

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসিতে তিন বিষয়ে পরীক্ষা
এসএসসি-এইচএসসি: শিক্ষামন্ত্রীর প্রস্তাব ‘মন্দের ভালো’
যেভাবে এসএসসি-এইচএসসির মূল্যায়ন
এসএসসি নভেম্বরে, এইচএসসি ডিসেম্বরে
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার দাবি

শেয়ার করুন

বিএনপিতে বিরক্ত জাফরুল্লাহ, বললেন তারা গোঁয়ার

বিএনপিতে বিরক্ত জাফরুল্লাহ, বললেন তারা গোঁয়ার

ছাত্রদল নেতার সঙ্গে বাদানুবাদ নিয়ে বিএনপির আলোচনায় কথা বলার কারণে দলটির ওপর চটেছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি মনে করেন, বিএনপির এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলাই উচিত হয়নি। তার কথা শুনলে দলটির ভালো হতো। কিন্তু তারা সেটা শুনছে না।

শুরুটা ছাত্রদলের এক নেতাকে দিয়ে। ‘বিএনপি লন্ডন থেকে আসা ওহিতে চলে। তারেক রহমানের দুই বছর চুপ করে থাকা উচিত। তার যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করা উচিত’- জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলছিলেন এ কথা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্রদলের এক নেতা তাকে থামিয়ে দিয়ে সতর্ক করেন, তিনি (জাফরুল্লাহ) যেন বিএনপি নেতার সমালোচনা না করেন। আর করলে যদি তার কিছু হয়ে যায়, তবে তারা দায়ী থাকবেন না।

গত ২৬ জুন জাতীয় প্রেস ক্লাবে ছাত্রদলের সহসভাপতি ওমর ফারুক কাউসার ও গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মধ্যে এই আলাপন ঝিমিয়ে পড়া রাজনীতিতে নতুন আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।

গত কয়েক বছরে বিএনপির ‘পরামর্শক’ হয়ে ওঠার চেষ্টা করা চীনপন্থি সাবেক বাম নেতা আওয়ামী লীগ ঘরানায় অজনপ্রিয় হয়েছেন, এটা স্পষ্ট, কিন্তু সেদিনের ঘটনার পর বিএনপির পক্ষ থেকেও তার প্রতি তির্যক মন্তব্য এসেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নাম উল্লেখ না করে জাফরুল্লাহর সমালোচনা করেছেন। প্রশ্ন তুলেছেন, কেন আওয়ামী লীগের বদলে তিনি বিএনপির সমালোচনা করেন। বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে জাফরুল্লাহর সমালোচনা করেছে।

এই পরিস্থিতিতে নিউজবাংলা কথা বলেছে ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ নামে বিএনপির জোট গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখা গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে। তিনি বলেছেন, প্রেস ক্লাবের সেদিনের ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাদের ওপর তার কোনো রাগ নেই। কিন্তু এটা নিয়ে বিএনপির তার বিরুদ্ধে কথা বলার কিছু নেই।

বিএনপিকে নিয়মিত বুদ্ধিপরামর্শ দিয়ে আসা জাফরুল্লাহ যে দলটির ওপর চটেছেন, সেটি উঠে আসে এই আলাপনে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় ছাত্রদলের এক নেতা আপনাকে সাবধান করে দিয়েছেন, যেটি আসলে হুমকি বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। সেদিন আসলে কী হয়েছিল?

তারা দাঁড়িয়ে আমাকে সালাম দিয়েছে। আমি মাত্র বক্তৃতা শুরু করেছি, এমন সময়ে দুইটা ছেলে দাঁড়িয়ে তাদের আমি চিনিও না। তারা আমাকে সালাম দিয়েছে।

বলেছে, আসসালামু আলাইকুম

আমি বলেছি, ওয়ালাইকুম আসসালাম।

বলেছে, আপনি আমাদের কে?

আমি বলেছি, কেউ না। তোমাদের শুভানুধ্যায়ী। বলেছে, আপনি আমাদের নেতা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করবেন না। আপনি সব সময় তাকে ছোট করেন। আমি বলেছি, না তুমি আমার কথা শোনো, বসো শোনো তারপর মন্তব্য করো। বলে যে, না আপনি বলবেন না। আমি বললাম, না সেটা আমার অধিকার আছে, আমি বলব, আমার কণ্ঠস্বর কেউ বন্ধ করতে পারবে না। এটাই তো পটভূমি। এটা শুনে কোনো আলোচনার আমি জায়গাই দেখি না। আমার কাছেও তো তাদের বিরুদ্ধে কোনো ক্ষোভ সৃষ্টি হয়নি। আমার কাছে বরং মনে হয়েছে তাদের ক্ষোভটাকে তারা প্রকাশ করে ভালোই করেছে।

বিএনপিতে বিরক্ত জাফরুল্লাহ, বললেন তারা গোঁয়ার
গত ২৬ জুন জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে ‘সাবধান’ করে কথা বলছেন ছাত্রদল নেতা ওমর ফারুক কাউসার।

আপনি কিছু মনে করেননি। তবে ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে এই নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

কোনো কাজ নাই তাদের। তারা এটা দিতেই পারে। এটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে নাগরিক হিসেবে আমার অবশ্যই সব দল সম্পর্কে কথা বলার অধিকার রয়েছে। তাদের পছন্দ হতে পারে, না-ও হতে পারে। তারা তা সমর্থন করতে পারে, আবার সেটার বিরুদ্ধেও বক্তব্য রাখতে পারে। মূল কাজ তো তারা করে না। তারা আন্দোলন করে না, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করে না। খালি একটা বক্তৃতা দেয়া ছাড়া কিছু করে না। যে এই দেশে নাই, তাদের নেতৃত্বের যে একটা সংকট চলছে, তাদের তৃণমূলের লোকেরা কার সঙ্গে কথা বলবে? -এটা হলো কী! তারা কোনো বক্তব্য খুঁজে পাচ্ছে না। একটা ছোট ঘটনাকে নিয়ে…আমার তো মনে হয়, একমুহুর্তের জন্য এই দুটি ছাত্রের সম্পর্কে খারাপ ধারণা হয়নি। বরং আমার মনে হয়েছে, তারা শুনেছে আমার বক্তৃতা, তা নয়তো প্রতিবাদও করতে পারত না, বক্তব্যও রাখতে পারত না। এটা আসলে কোনো বিষয়ই না আলাপের।

ছাত্রদলের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন আপনার থেকে এমন মন্তব্য তারা আশা করেন না…

কে এই ছাত্র? তার বয়স কত? সে বিয়ে করেছে? তাদের তো ছাত্রই থাকা উচিত না। আমি পাঁচ বছর আগে খালেদা জিয়াকে চিঠি লিখেছিলাম। আমি খালেদা জিয়াকে বলেছিলাম, ২৫ বছরের বেশি বয়স হলে তাদের আর ছাত্রদল করা উচিত না। তারপরে তারা বিয়েশাদি করে বেড়ায়, বাচাকাচ্চা থাকে। তাদের যুবদল করতে হবে। ছাত্রদলকে ২৫-২৬ বা ২৭ বছরের মধ্যে হতে হবে। তাইলে তারা আন্দোলন করবে। দেখেন ছাত্রদলের অতীত কত ভালো ছিল। যখন তারা, আমান (আমানউল্লাহ আমান), খোকন (খায়রুল কবির খোকন), এদের তখন বয়স কম ছিল। তারা আন্দোলন করেছে। এখন ছাত্রদল এত বড় একটা নির্বাচন হলো। তারা হারিয়ে গেছে। তাদের তো লজ্জা লাগা উচিত। দুঃখ পাওয়া উচিত।

তিনি বলেছেন আপনি বরাবর তাদের দল নিয়ে, প্রিয় নেতাদের নিয়ে সমালোচনা করেন…

করি, করি। এটা করি হচ্ছে গিয়ে তাদের শুভানুধ্যায়ী বলে। তাদের ব্যর্থতায় কষ্ট পাই বলে করি। তাদের বরং আমার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত যে আমি তাদের সঠিক পথ দেখানোর চেষ্টা করি। আমার পথ যে সঠিক, তা-ও আমি বলি না। কিন্তু আমি সব সময়…তারা এত বড় একটা দল। এখনও তারা খালেদা জিয়াকে বের করতে পারল না। তাদের ব্যর্থতায় আমি ব্যথিত হই। কিন্তু তারা আমাকে ভুল বুঝছে।

তাদের মধ্যে এহছানুল হক মিলন এই তাদের একটা ইয়াং ভালো…একটা ভালো লেখা লিখেছেন। প্রবন্ধ লিখেছেন। আমি সেটার আলোচক ছিলাম। সুতরাং আলোচনা করতে গেলে সবকিছু আপনার গুণকীর্তন গাইব? আপনার ভুলভ্রান্তি দেখাব না? সুতরাং সহনশীলতা অর্জন করেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও তো প্রেস ক্লাবের প্রসঙ্গটি টেনে সমালোচনা করেছেন। সেটি আপনি শুনেছেন?

ওনাদের কোনো কাজ নেই। এটা একটা ঘটনা হইতে পারে? তারা মূল ইস্যুতে যাচ্ছে না। তাদের বরং বলা উচিত খালেদা জিয়াকে…গয়েশ্বর রায়রা মূল ইস্যু থেকে ছুটকে যাচ্ছে। এটা একটা ঘটনা হলো আলাপের? দুটা ছেলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা এমনকি বেয়াদবিও করেনাই। এমন কিছু করে নাই, যেটা নিয়ে আলোচনার ব্যাপার আছে?

তাদের তো আর খেয়েদেয়ে কাজ নাই গোঁয়ার লোকজন। তারা তো এটা করবেই। এগুলো একদমই অহেতুক। খালেদা জিয়াকে বের করতে পারছে না। যেখানে আলাপ করা দরকার, সেখানে আলাপ করছে না। আর দুইটা বাচ্চা ছেলে কী করল না-করল, সেটা নিয়ে আলাপ করল।

আপনার কি মনে হয় বিএনপি আপনার দেয়া পরামর্শ গ্রহণ করে?

না, তারা এত বড় দল যে, সব পরামর্শ আমার গ্রহণ করবে সেটা আমার কামনা করাও ঠিক না। তবে আমি মনে করি, এটা তারা বিবেচনা করতে পারে। তারা বিবেচনা করলে তারা লাভবান হবে। সবকিছু যে আমার কথায় চলবে, তা তো না। তাদের পার্টি আছে। আমি যখন বলেছি, কয় বছর আগে বলেছি, একটা ইমার্জেন্সি কাউন্সিল করেন আপনারা। করে নতুন নেতৃত্ব আনেন। এখন তাদের স্ট্যান্ডিং কমিটির যারা আছে, সবাই আমার মতো বয়স্ক। দুই-চারজন ছোট হবেন, আর দুই চারজন বয়সে বড় হবেন। এখন আমাদের বয়স বেড়ে গেছে, আমরা দৌড়াতে পারি না। অনেক কিছুতে আমাদের একটা স্থবিরতা চলে আসে। কিন্তু আজকে পরিবর্তন আনতে হলে সাহসী মনোভাব থাকতে হবে। রাস্তায় যেতে হবে, মার খেতে হবে। এটার কোনো বিকল্প নেই।

আজকে আমাকে সত্য কথা বলতে হবে। আজকে যেখানে আমলারা এ দেশ শাসন করছে। তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে হবে। এসব জিনিসগুলোকে… আমি তাদের কী বলেছি, তাদের কী পরামর্শ দিয়েছি- আপনি যদি বিবেচনা করেন। তাদের আমি বলেছি, তাদের বহু লোক ভালোবাসে। আমি দেখেছি গ্রামগঞ্জে লক্ষ কোটি লোকের সমর্থন আছে। তারা আজকে রাস্তায় কেন আসছে না?

কারণ, আপনারা যদি ডাক দিতেন…খালেদা জিয়ার প্রতি যে অন্যায় করেছে তাকে যে জামিনটা দেয় না…আজকে হাইকোর্টে গিয়ে ১০ হাজার লোক যদি সাত দিন বসে থাকেন বিচারপতিদের চৈতন্য হবে। বিচারপতিদের বিবেকের দিকে তাদের সাহস বাড়বে।

আমি তো এটাই বলি, যে আপনারা মিছিল-মিটিং করেন। আপনারা আপনারা সবাইকে নিয়ে বের হোন। আপনারাই বের হোন। রাস্তায় মিছিল মিটিং করেন, কিন্তু গাড়ি ঘোড় ভাইংগেন না। সরকার ও ‘র’ (ভারতীয় গোয়েন্দা) এদের দিকেও খেয়াল রাখবেন। ওরা যেন আপনাদের ঘাড়ে দোষ না চাপাইতে পারে। এখানে বলেছি ইয়াংগার লোককে স্ট্যান্ডিং কমিটিতে আনেন। এটা আমি কোথায় ভুল বলেছি বলেন?

বিএনপিতে বিরক্ত জাফরুল্লাহ, বললেন তারা গোঁয়ার
গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী গত কয়েক বছরে বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন।

আমি বলেছি আজকে যেখানে হাফিজ (এম হাফিজউদ্দিন আহমেদ) শাওকতরা (শওকত মাহমুদ) যেখানে পরিবর্তনের জন্য সজাগ। তাদের কে উলটো শোকজ করে দিয়েছেন। এটা তো আপনাদের স্থবিরতার প্রমাণ, ভুল সিদ্ধান্ত। যদি শোকজ করতেও হয় সেটা গোপনে করেন। সেটা প্রকাশ্যে এটা করা উচিত ছিল না। তাদের ডেকে নিয়ে কী কী করতে চায় সেটা বলা উচিত।

ছাত্রদলের এই ঘটনা নিয়ে আপনাকে বিএনপি থেকে কি ফোন করা হয়েছে?

না, ফোন করেনি। আর এটা তো ফোন করার মতো কোনো ঘটনায় না। কেনই বা করবে?

রাজনৈতিক সংকটের কথা উল্লেখ করে বারবার বিএনপিকে আন্দোলনের তাগিদ দিয়ে আসছেন? এই সংকট কি শুধু আন্দোলনের মাধ্যমের দূর করা সম্ভব?

আজকে ১২ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা দখল করে রেখেছে। তারা নির্বাচিত হন নাই। কিন্তু কথা হলো, তারা (বিএনপি) কিছুই করতে পারছে না। তার কারণ হলো তারা জনগণের …।

আজকে লকডাউন, লকডাউনের মধ্যে তাদের উচিত ছিল জনসাধারণকে, দরিদ্র মানুষকে কী করে খাবার দেয়া যায়, সেই ব্যবস্থা করা। তারপরে মোটরচালিত রিকশা। গরিব মানুষরা আরামে রিকশা চালাতে পারবে না, এটা হলো না। আজকে বিএনপি বলতে পারত, আমরা ক্ষমতায় আসলে যে চালক, সেই হবে মালিক। তাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কথা তাদের চিন্তায় রাখা উচিত।

আর ছাত্রদের যে আন্দোলন ছিল সেখানে বিএনপির অংশগ্রহণ করার দরকার ছিল। যদিও কেউ কেউ ছিল। তবে পুরোপুরিভাবে না।

৯০ সালে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকরা আপনার ফাঁসির দাবি করে পোস্টারিং করেছিলেন। সেটা কেন?

হ্যাঁ। কারণটা হলো, ভালো কাজ যারাই করতে চায়, তারা তখন সেই সুযোগ পায় না। তখন, আমি একটি স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। এই যে আজকে যে গ্রামে ডাক্তার নাই, ডাক্তারের সম্মান নাই …। আজকে তারা সবাই বলে, ওইটা হইলে খুব ভালো হইত। সুতরাং তারা না বুঝে অবুঝের মতো এই ফাঁসির দাবি করেছে। ওরা বিনা বিচারে আমার ফাঁসি চেয়েছে।

সেই পোস্টার তা আমি একটা রেখেছিলাম। তাদের ভুলটা তারা অনেকেই আজকে উপলব্ধি করে। যে ওই স্বাস্থ্যনীতি হলে দেশের মঙ্গল হতো। চিকিৎসকদের সুবিধা হতো। ডাক্তাররা সব সময় তাদের দৃষ্টিতে বড় ছিল।

যখন বিলেতে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস হয়, সেটা বাতিলের জন্য আন্দোলন করেছিল। আজকে তারা মনে করে যে, এটা একটা বিরাট কাজ হয়েছে। যুগে যুগে যারাই পরিবর্তন চেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেই আন্দোলন হয়েছে, এটা নতুন কিছু নয়।

এবার অন্য প্রসঙ্গে আসি, ঐক্যফ্রন্টের এই মুহুর্তে কী অবস্থা?

ঐক্যফ্রন্ট এই মুহুর্তে নেই বলা চলে।

কামাল হোসেনের সঙ্গে কি আপনার আলাপ হয়? উনি আসলে হাল ছেড়ে দিয়েছেন কেন বলে আপনার মনে হয়?

হ্যাঁ, কথা হয়। উনি হাল ছেড়ে দেন নাই। হলো কী, এখানকার মূল পার্টিটা হলো বিএনপি। বিএনপিকে উনি ওনার কোনো কথাতেই রাজি করাইতে পারেন নাই।

আমাদের একটা প্রস্তাব ছিল আমরা ৩০০টা মামলা করব, এই যে ভোট ডাকাতি হলো। এটার কোনো কিছুই করা যায়নি। আমি বারবার বলেছি ৩০০ টা মামলা করে দিতে, ট্রাইব্যুনালে ৩০০ টা মামলা করে আমরা বিষয়টাকে আবার সামনে আনি।

ব্যাপার হলো বিএনপি এই মুহুর্তে ঐক্যফ্রন্টের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন নাই। তারা নিজেরা চলছে…চলুক। কিন্তু আন্দোলন হলেই হলো। তা যে ঐক্যফ্রন্টকে করতে হবে তার কোনো কথা নাই। তারা নিজেরাও নেতৃত্ব নিয়ে করতে পারে।

জুনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর একটি নতুন রাজনৈতিক প্লাটফর্মে আপনাকের সেখানে দেখা গিয়েছে…

এসব কথা আমিও শুনেছি, কিন্তু এমন কিছু দেখছি না।

আপনি সব সময় আন্দোলনের ডাক দেন, প্রতিবাদ জানান। তবে জনগণের কোনো প্রকাশ্য সমর্থন পান না কেন?

আমি তো রাজনৈতিক দলের নেতা না। সুতরাং আমার কাজও না সেটা। জনগণকে আজকে তো আমি সেই ডাক দিই না। সেই ডাক দেয়ার দায়িত্বও আমার না। আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে যেটা জানানো দরকার সবাইকে, সেটাকে নিয়ে আমি আলোচনা সমালোচনার মধ্যেই থাকতে চাই। আমি জনগণকে বুঝাতে চাই কী কী পরিবর্তন দরকার। যেমন আমি বলেছি, বাংলাদেশে আজকে সুশাসনের জন্য কী দরকার! আমি যেভাবে দেখি, সেটাকেই প্রকাশ করেছি। কিন্তু এটা কার্যত এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের।

এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে আসি। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আপনি পাকিস্তানকে ক্ষমা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কোন জায়গা থেকে পাকিস্তানের ঠিক কোন কোন অপরাধ ক্ষমা করার কথা বলেছেন? আর কেন ক্ষমার প্রসংগটি এনেছিলেন?

পাকিস্তানিরা যারা মানবতাবিরোধী অন্যায় করেছিল তারা আজকে জীবিতই নেই। হয়ত দুই একজন জীবিত থাকতে পারে। যেই প্রজন্ম এখন পাকিস্তান শাসন করছে, পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজনীতিতে যুক্ত, তারা কেউ ৭১ সনে সেই অন্যায় আচরণের সঙ্গে পরিচিত নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধে যোগসূত্রও নেই, অনেকে জন্মই হয় নাই তখন।

আর তাছাড়া এই ঘটনার মূল নায়ক দুইজন। জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং ইয়াহিয়া খান। জুলফিকার আলী ভুট্টোই পরবর্তীকালে পাকিস্তান শাসন করেছেন। বঙ্গবন্ধু নিজে তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আমরা কে আর?

উনি (বঙ্গবন্ধু) তাকে (ভুট্টো) দাওয়াত দিয়ে ঢাকায় আনলেন। লক্ষ লক্ষ সমাগম হয়েছিল। ওটাই প্রমাণ করে যে উনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। …… আজকে পাকিস্তানের বিভিন্ন ইতিহাসবিদরা তারা বিভিন্নভাবে প্রকাশ করছে এই ভুল ভ্রান্তি তারা কিন্তু অনেক বেশিই।

আজকে আমাদের এই ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে জাগতে হবে, পাকিস্তানকে আমাদের পাশে দরকার। আজকে এই যে রোহিঙ্গা সমস্যা যেখানে সেটা নিয়ে ভারত কিছুই করল না। ভারত আমাদেরকে যেভাবে নাচিয়ে বেড়াচ্ছে এইসবের প্রেক্ষিতে আমি বলেছি, আজকে বাংলাদেশেরও উচিত হবে পাকিস্তানকে ক্ষমা করে দিয়ে তাদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করা, তাতে লাভবান হবো আমরা।

আমাদের গোয়ার্তুমি করা ভালো না। এটাই আমি বুঝাতে চেয়েছি যে, বঙ্গবন্ধুর একটা বড় গুণ ছিল মহানুভবতা। তো সেই সূত্রেই আমি ক্ষমার কথা বলেছি।

আমি তাই মনে করি যে, এইটাতে তাহলে আমরা লাভবান হবো। ইসলামিক দেশগুলো একত্রিত হতে পারবে, তারা পৃথিবীর অধিকার আদায়ে সমর্থন হবে। এইসব কিছু মিলিয়ে এখন আর আমাদের পুরা ৫০ বছর পুরানো কাহিনি মনে রাখাটা উচিত হবে না।

কিন্তু পাকিস্তানকে কেন ক্ষমা করতে হবে? তারা কী ক্ষমা চেয়েছে?

তারা তো এখন হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এইটা তো ইমরান খান বাড়িয়েছে…তাদের প্রধানমন্ত্রী এই দেশে এসেছেন। শেখ হাসিনা যখন পয়লা বার ছিলেন, তখন তাদের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এসছেন। তার আসাটা মানেই তো তারা তাদের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। সো, আমরা সেই হাতটাকে ধরে আমরা আমাদের সুবিধা আদায় করা।

এই যে যেমন তিস্তার পানি পাই না অথচ এখন বন্যায় প্লাবিত হয়ে গেলাম। প্রতিদিন, প্রত্যেক সপ্তাহে দুই একটা লোক মারছে। আজকে ভারতের থেকে একদিকে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা যেমন দরকার আছে, তেমনি মাতব্বরিটাকেও সহ্য করা যাবে না।

এখানে পাকিস্তানের শাসন চাইছি না আমি। আমাদের পারস্পরিক সুবিধাগুলি এবং আজকে রোহিঙ্গা সমস্যা আমার কাঁধে বসে আছে… ১২ লাখ এটার কিছুই হবে না। এখানে যখন মুসলিম দেশগুলি এগিয়ে এসেছিল, আমরা ভারতের কারণে আমরা সেদিকেও যাইনি। এই প্রেক্ষিতেই আমি বলেছি মাফ করে দিতে।

আপনি কেন উপযাজচ হয়েছেন?

আমি চাই মাফ করতে। তারা যে যুদ্ধ করেছিল আমাদের সঙ্গে, আমাদের অন্যায়ভাবে দখল করে রেখেছিল, সেটা তো আমরা স্বাধীন হয়েই গেছি। বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করেন তাহলে তার প্রতি শ্রদ্ধার কারণেই আমাদের এইসব পুরানো মধ্যযুগীয় মনোভাব থাকা উচিত না। আমার বাপ দাদার সঙ্গে গণ্ডগোল করেছে বলে আমি এখনও গণ্ডগোল করে বেড়াব তা তো হয় না।

পাকিস্তানের পক্ষে যে দূতিয়ালি করছেন, তারা কি আমাদের প্রাপ্য সম্পদ দিয়েছে?

(হেসে) আমি সম্পত্তি পাইনি, পাবও না। তবে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক হলে আমরা অনেক কিছুই পাব। সরকারও পাবে।

কিছুদিন আগে দেখলাম আপনি হঠাৎ ধর্ম শিক্ষায় মনোনিবেশ করবেন। এই সিদ্ধান্ত কেন?

আমি তো এখনও বলি যে আরবি ভাষা শেখা উচিত। শিখলে চাকরি বাকরির সুবিধা হবে। তাছাড়া একটি বৃহত্তর জনগণের ধর্ম…সেটা তারা নিজেরা আরবি পড়তে হইলে সেটা শেখা উচিত। এই যে কোরআন একটি ধর্ম গ্রন্থ। আমি চাই আমি নিজে এটা পড়ে এটার অর্থ বুঝতে। আমরা যারা পড়ি এটার অনুবাদটা পড়ি। অনুবাদ আড় মূলটা, দুইটা তো আলাদা…সেজন্যই। তাছাড়া আমি মনে করি কি, যার যার ধর্ম তার তার কাছে। প্রত্যেকেরই ধর্ম পালনে অধিকার আছে। যারা করে না তাদের বিরুদ্ধেও কারও ক্ষোভ থাকা উচিত না।

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসিতে তিন বিষয়ে পরীক্ষা
এসএসসি-এইচএসসি: শিক্ষামন্ত্রীর প্রস্তাব ‘মন্দের ভালো’
যেভাবে এসএসসি-এইচএসসির মূল্যায়ন
এসএসসি নভেম্বরে, এইচএসসি ডিসেম্বরে
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার দাবি

শেয়ার করুন

‘সব খাত মুভিং, আর পেছনে তাকাতে হবে না’

‘সব খাত মুভিং, আর পেছনে তাকাতে হবে না’

বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

‘আশা করব যে, গর্ভন্যান্স এনশিউর হলেই মানুষ তার সঞ্চয় নিয়ে এই খাতের দিকে এগিয়ে আসবে। তখন আর পেছনে তাকাতে হবে না। এখন কিন্ত শুরু ব্যাংক ইন্স্যুরেন্স না, ফার্মাসিউটিক্যাল, সিরামিকস, টেক্সটাইল, একেক দিন একেকটা বাড়ে। মিউচ্যুয়াল ফান্ডও বাড়ে, কমে। এখন আর কেউ বলতে পারবে না, কোনো নির্দিষ্ট সেক্টর বাড়ছে।’

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম বলেছেন, তাদের কাজ সুশাসন নিশ্চিত করা। আর সেটি করার চেষ্টাই করে যাচ্ছেন।

সুশাসন নিশ্চিত হলে মানুষ তাদের সঞ্চয় নিয়ে পুঁজিবাজারে ছুটে আসবে বলে আশা করছেন তিনি। তার মতে, তখন আর পেছনে তাকাতে হবে না।

পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক প্রবণতা নিয়ে শিবলী বলেছেন, এখন আর কোনো একক খাতের দাম বাড়ছে না। এভাবে পুঁজিবাজারে একটি সুস্থ প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

নিউজবাংলাকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

আপনি যখন পুঁজিবাজারের দায়িত্ব নিয়েছেন তখন একটি টালমাটাল অবস্থা ছিল। এমন একটি অবস্থায় যখন আপনাকে প্রস্তাব দেয়া হলো তখন কী ভেবে দায়িত্ব দিতে আগ্রহী হলেন? তখন কী কী পরিকল্পনা ছিল আপনার।

কোনো পরিকল্পনা ছিল না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন আমাদের কাছে কিছু ডিজায়ার করেন, আমরা তার নেতৃত্বের প্রতি খুবই শ্রদ্ধাশীল এবং উনাকে মানা করার মতো ক্ষমতা আমাদের নাই। আমাদের কিছু বললে, সেটা যত কঠিন কাজই হোক, সেটা আমরা মেনে নিই। এখন আমি যদি খুবই সহজ, আরামের একটি কাজ উনার কাছ থেকে চেয়ে নিই, তাতে তো উনার কোনো লাভ হবে না; বরং কিছু চ্যালেঞ্জের কিছু থাকলে সেটি যদি আমরা কোনোভাবে ভালো করতে পারি সেটাই উনাকে সাহায্য করার হবে। সেটাই ছিল আমার চিন্তাভাবনা।

পুঁজিবাজার একটি টেকনিক্যাল জায়গা। এটি লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর প্রত্যাশার জায়গা। এ বিষয়গুলোকে কীভাবে আয়ত্তে নিয়েছেন। আপনার কী আগে থেকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ছিল, যা সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হয়েছে?

আমার স্ত্রী এটিকে খুব মজা করে বলেন। আমি ফাইন্যান্সেরই ছাত্র; শিক্ষক ছিলাম। কিন্তু নিজে কখনো বিনিয়োগ করতাম না এবং আমার বাবার মৃত্যুর পর আমি উনার কাছ থেকে কিছু শেয়ার, আইসিবির সার্টিফিকেট উত্তরাধিকার সূত্রে পাই। ওটাই ছিল আমার অ্যাকাউন্টে। আমি নিজে কখনোই ডে ট্রেডিং বা কোনো রকম কেনাবেচায় যুক্ত ছিলাম না। জাস্ট সাধারণ, খুব অল্প বিনিয়োগ। এটাই ছিল। এটা নিয়েই স্ত্রী এখন আমাকে বলেন যে, তুমি যে জিনিসটি কখনো করোনি, এখনও ওটাই তোমাকে ভালোভাবে দেখতে হচ্ছে।

‘সব খাত মুভিং, আর পেছনে তাকাতে হবে না’

যেকোনো কিছুকে এগিয়ে নিতে আমরা জানি কিছু না কিছু পরিকল্পনা থাকা উচিত। দীর্ঘ, মধ্য ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা থাকা উচিত। আপনি আসলে কোন ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন?

পরিকল্পনা তো অবশ্যই ছিল। আমার আগে যারা দায়িত্বে ছিল তারা খুবই ভালো একটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও নিয়মনীতি তৈরি করে গেছেন। এখানে তার আাগে কিন্তু তেমন কোনো নিয়ম-নীতিও ছিল না; নীতিমালা ছিল না। আমি ধন্যবাদ দেবো আমার আগের কমিশনকে, যারা সুন্দরভাবে এটি করে দিয়ে গেছেন। আমরা এখন ওটাইকে একটু আপগ্রেড করে গভর্ন্যান্সটাকে (সুশাসন) এনশিউর (নিশ্চিত) করার চেষ্টা করছি।

আশা করব যে, গর্ভন্যান্স এনশিউর হলেই মানুষ তার সঞ্চয় নিয়ে এই খাতের দিকে এগিয়ে আসবে। তখন আর পেছনে তাকাতে হবে না। আর যেহেতু আমাদের সেক্টর এখন সবচেয়ে বেশি রিটার্ন দিচ্ছে এবং এখানে বিনিয়োগ করলে ভালো রিটার্ন পাওয়া যাচ্ছে, তো এখানে দিনে দিনে বিনিয়োগের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বর্তমান কমিশন বন্ড মার্কেট নিয়ে অনেক কাজ করছে। এসব বন্ডে কী সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে পারবে নাকি আলাদা কোনো পরিকল্পনা আছে?

বন্ডে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি বিনিয়োগ করতে পারবে। সব বন্ডেই করা যাবে। তবে আমরা এগুলোকে আরও সহজ করার জন্য এগুলোকে লিস্টিংয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ব্যাংকের পারপিচুয়াল বন্ডের থেকে সব ব্যাংকেই এখন গ্র্যাজুয়ালি লিস্টিং হবে। লিস্টিং হলে সব বিনিয়োগকারী এগুলো কেনাবেচা করতে পারবে।

এটা কেইস টু কেইস বেসিসে ডিফারেন্ট হবে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের, এমন না। এটা হয়তো কোনো কোম্পানির মিনিমাম স্কিপ থাকবে এক লাখ টাকা। কারও হয়তো ১০ হাজার টাকার; কারও হয়তো ৫০ হাজার টাকার। ওই সাইজের ট্রেড করতে হবে।

এতে আমাদের ট্রানজেকশনও বাড়বে অনেক। এতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে। এর ফলে পুঁজিবাজারের সব পক্ষের উইন উইন অবস্থা তৈরি হবে। এতে ইস্যুয়ার এবং ভেনিফিশারি সবাই লাভবান হবে।

বিমা সেক্টর নিয়ে পুঁজিবাজারে গুজব আছে। এর আগে ২০১০ সালে ব্যাংক সেক্টরের এমনভাবে শেয়ারের দর বেড়েছিল। এখনও সেদিকে যাচ্ছে?

আমি যখন প্রথম দায়িত্বে আসি তখন এখানে টার্নওভার ছিল ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা। তখন বড় ক্যাপের ক্যাপিটাল মার্কেটে যেসব প্রোডাক্ট আছে সেগুলোতে বিনিয়োগ হতো। কিন্ত এর রিফ্লেকশনটা বড় স্কেলে দেখা যেত না। ইন্স্যুরেন্সের মার্কেট ক্যাপগুলো ছোট ছোট। তো এগুলো কেউ যদি একটু ভালো করে ট্রেড করে তাহলেই এটি ভিজিবল হয়ে যায়।

ব্যাংকের যেহেতু মার্কেট ক্যাপ বড়, সেহেতু বিমার টাকার ডাবল করেও সেভাবে দেখা যায় না। এখন ট্রেড ভলিউম সাউজ সব বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার মানে আমাদের এখানে যত বেশি লিকুইডিটি ইনভেস্টমেন্ট আসবে ততই এখন বিভিন্ন সেক্টরের গ্রোথ দেখা যাবে।

এখন কিন্ত শুরু ব্যাংক ইন্স্যুরেন্স না, ফার্মাসিউটিক্যাল, সিরামিকস, টেক্সটাইল, একেক দিন একেকটা বাড়ে। মিউচ্যুয়াল ফান্ডও বাড়ে, কমে। এখন আর কেউ বলতে পারবে না, কোনো নির্দিষ্ট সেক্টর বাড়ছে।

এখন তো লেনদেন দুই হাজার কোটি টাকার বেশি। এটা তো কোনো একটি সেক্টর দিয়ে হওয়া সম্ভব না। ফলে বোঝাই যাচ্ছে সব কোম্পানিই মুভিং।

সম্প্রতি মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব এসেছিল, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি ইউনিটপ্রতি দর যখন কম যায়, তখন তারা মার্কেট থেকে নিজেদের ইউনিট বাইব্যাক করতে চায়। এ ক্ষেত্রে আপনাদের কোনো প্রস্তাব আছে কি না?

যাদের মিউচ্যুয়াল ফান্ড তারাই যদি বাইব্যাক করতে চায়, তাহলে সেটি আইনের সঙ্গে অনেকটাই সাংঘর্ষিক হয়ে যায়। আমাদের এখানে এখনও এমন কোনো আবেদন দেখিনি।

কেপিসিএল তাদের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। ওরিয়নেরও এমন কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে, সেগুলোরও মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র বোনাস শেয়ার ইস্যু করছে। এসব কোম্পানির ভবিষ্যৎ কী? বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ রাখার জন্য আপনার কোনো উদ্যোগ আছে?

সরকারের সাথে একটু নেগোসিয়েশন পর্যায়ে আছি। ‘নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট’ এ রকম একটা ব্যবস্থাপনায়। এটা হলে লিস্টেড কোম্পানিগুলো কিছুটা বেনিফিট পাবে। তাদের যতটুকু বিদ্যুৎ সরকার কিনবে ততটুকুর জন্য পেমেন্ট পাবে।

আর নতুন যারা আসছে তাদের অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করেছি, অ্যাসোসিয়েশনকে আমরা বলেছি যে, আপনারা ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দিলে এখন মানুষের এখন আর ইক্যুইটিই ফেরত আসে না। উনাদের সঙ্গে আমাদের যে কথা হয়েছে, তারা মিনিমাম ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেবে এখন থেকে। সেটা দিলে ১০ বছরের একটি পাওয়ার প্ল্যান্ট চললে তার লাভসহ ফেরত আসবে। আপাতত তাই করব।

আর ভবিষ্যতে পাওয়ার প্লান্ট দেয়ার আগে খুব ভালোভাবে অঙ্ক করে নেব, যাতে বিনিয়োগকারীদের কোনো ক্ষতি না হয়।

বহুজাতিক কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার জন্য আপনারা কাজ করছেন। এর ভবিষ্যৎ কী?

এটা নিয়ে কাজ চলছে। আমাদের কনসার্নড বিভাগ কাজ করছে। এখন কাজ শুরু হয়েছে, আগামী বছর এর ফলাফল পাওয়া যাবে।

ওয়ালটনের মতো বড় কোম্পানি পুঁজিবাজারে ১ শতাংশ শেয়ার নিয়ে প্রতিনিধিত্ব করছে। এতে পুঁজিবাজারে ওয়ালটনের শেয়ার নিয়ে কাসরাজি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে কারসাজি হতে পারে। আমাদের আসার আগে হয়ে গেছে সবকিছু। এর শেষ পর্যায়ে এসে আমরা পেয়েছি। ওয়ালটনের সচিব কিছুদিন আগে এসেছিলেন। এ ছাড়া ওয়ালটনের অন্যান্য যারা ওনার্স, তাদেরও বলেছি। পর্যায়ক্রমে তারা শেয়ার অফলোড করে ১০ শতাংশে নিয়ে যায়। তারা একমত হয়েছেন। আস্তে আস্তে তারা করে দেবেন।

বন্ধ কোম্পানি চালু করার ক্ষেত্রে আপনি অনেক উদ্যোগ নিচ্ছেন। যেসব কোম্পানির ইতোমধ্যে বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে, সেগুলোর বর্তমানে কী অবস্থা?

রিং সাইন প্রোডাকশনের চলে আসছে। আরও একটি প্রোডাকশনে চলে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাকিগুলোরও হচ্ছে। আমাদের আসলে ম্যানপাওয়ার কম তো। আমরা এখানে ৮০ জন লোক কাজ করি। এর ফলে এতগুলো কাজ একসঙ্গে করা মুশকিল হয়ে যায়। আমরা একটি করে ধরছি, করছি। নতুন বোর্ড করে দিচ্ছি। তারা প্রোগেস করছে। এখন পর্যন্ত আমরা যে বোর্ড গঠন করে দিয়েছি, তার প্রোগ্রেস রিপোর্ট শিগগিরই চলে আসবে। তখন সব বোঝতে পারব কোথায়, কী হচ্ছে।

ইউনাইটেড এয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আছে। কিন্ত কোম্পানিটির বোর্ড গঠন করা হলেও সেটি লেনদেন হচ্ছে ওটিসি মার্কেটে। এ থেকে উত্তরণের পথ কী?

ওটিসিতে দেয়ার কারণ ছিল, কোনা অ্যাসেট নাই, লায়াবিলিটিতে ভরা। এই কোম্পানি ট্রেড করে যদি শেয়ারের প্রাইস বেড়ে যায় তাহলে পবরর্তীতে একটি নতুন ঝামেলা তৈরি হবে। তো আমরা এখানে ঢুকে দেখলাম, এখানে মহাসমস্যা। তারপরও আমরা আমাদের বোর্ড বিভিন্ন স্ট্র্যাটেজি খুঁজে বের করছি। কীভাবে এটাকে আকাশে উড়ানো যায়।

আমাদের সিভিল এভিয়েশন যদি একটু সহযোগিতা করে, আমাদের মিনিস্ট্রি যদি একটু সহযোগিতা করেন তাহলেই আমরা পারব।

ওটিসি মার্কেট নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কি না? এখানে লেনদেন প্রক্রিয়া কঠিন হওয়ায় ভোগান্তিতে থাকে বিনিয়োগকারীরা। ওটিসি মার্কেটের উন্নয়নে আপনার পরিকল্পনা কী?

ওটিসি মার্কেটে এরই মধ্যে চারটি চলে গেছে মেইন বোর্ডে। ১৫টি চলে যাচ্ছে এসএমই প্ল্যাটফর্মে। ৩০টি যাচ্ছে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি) প্ল্যাটফর্মে। ১৩টি কোম্পানি তালিকাচ্যুতির আবেদন করেছে। এর মধ্যে চারটির তালিকাচ্যুতির কাজ এগিয়ে চলছে। কোর্টে একটির অর্ডার পেন্ডিং আছে। আর দুটিকে আমরা ডেকে দেখছি কী করা যায়।

ওটিসি বলে কিছু রাখা যাবে না। এটা হলে কোম্পানির গভর্ন্যান্স থাকে না। ইচ্ছামতো চালায়, বিক্রি করে দেয়; জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এক্সপ্লোজার লিমিটেড, ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমা সংশোধনের প্রস্তাব ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের। কিন্ত সেটি এখনও বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। আপনাদের কোনো উদ্যোগ আছে কী?

ওটা নিয়ে আমরা কথা বলেছি। টায়ার ওয়ানকে আমরা বলেছি এই লিমিটেডের বাইরে রাখতে। তারা বলেছে সেটি করে দেবে। বাংলাদেশ ব্যাংক খুব সহযোগিতা করছেন।

অবণ্টিত লভ্যাংশ নিয়ে তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এখন সেটি কী অবস্থায় আছে? এ ছাড়া বোনাস লভ্যাংশ লভ্যাংশগুলো কীভাবে বণ্টন করা হবে?

এটা নিয়ে আমাদের নির্ধারিত বিভাগ কাজ করছে। তবে এর অগ্রগতি হচ্ছে, গেজেট প্রকাশের জন্য ইতোমধ্যে বিজি প্রেসে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসিতে তিন বিষয়ে পরীক্ষা
এসএসসি-এইচএসসি: শিক্ষামন্ত্রীর প্রস্তাব ‘মন্দের ভালো’
যেভাবে এসএসসি-এইচএসসির মূল্যায়ন
এসএসসি নভেম্বরে, এইচএসসি ডিসেম্বরে
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার দাবি

শেয়ার করুন