রাজিশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে উপ-উপাচার্য সুলতান

উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে উপ-উপাচার্য সুলতান

ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহার মেয়াদ শেষ হওয়ায় পরবর্তী উপাচার্য নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে অধ্যাপক সুলতানকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরবর্তী উপাচার্য নিয়োগ না দেয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে রুটিন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলামকে।

রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের পাঠান একটি চিঠির মাধ্যমে অধ্যাপক সুলতানকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়।

ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহার মেয়াদ শেষ হওয়ায় পরবর্তী উপাচার্য নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে অধ্যাপক সুলতানকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী উপাচার্য নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক প্রয়োজনে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলামকে নিজ দায়িত্বের বাইরে অতিরিক্ত উপাচার্যের দৈনন্দিন রুটিন দায়িত্ব প্রদান করা হলো।’

এর আগে, গত ১৩ জুলাই অধ্যাপক সুলতানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

অধ্যাপক সুলতান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছেন।

আরও পড়ুন:
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত
তিন রুটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সেবা
রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম
বিধিনিষেধ শিথিলের খবরে স্থগিত রাবির পরিবহন সেবা
বাদ পড়া সেই শিক্ষার্থীদের পরিবহন সেবা দেয়ার সিদ্ধান্ত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির নতুন ট্রেজারার সিরাজুল হক

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির নতুন ট্রেজারার সিরাজুল হক

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের নতুন ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক এএসএম সিরাজুল হক। ছবি: সংগৃহীত

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেয়ার আগে সিরাজুল হক বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপক, উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষ সরকারি ধামরাই কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর নেন। প্রায় ৩৬ বছরের শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা আছে তার।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে অধ্যাপক এএসএম সিরাজুল হককে।

রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য মো. আব্দুল হামিদ এ নিয়োগ দেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়য়ের ২১ সেপ্টেম্বরের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সিরাজুল হক ২৫ সেপ্টেম্বর কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেন।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার আগে সিরাজুল হক বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপক, উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষ সরকারি ধামরাই কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর নেন। প্রায় ৩৬ বছরের শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা আছে তার।

২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিরাজুল। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সদস্য ছিলেন তিনি।

বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি পরিচালিত এনসাইক্লোপিডিয়া অফ বাংলাদেশের লিবারেশন ওয়ার অংশে ধামরাই উপজেলার ওপর গবেষণা করেন সিরাজুল হক।

১৯৮৪ সালে গোপালগঞ্জের সরকারি এস কে কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এ শিক্ষক। ১৯৯৪ সালে সহকারী অধ্যাপক ও ২০০২ সালে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি।

২০০৮ সালে সিরাজুল সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে ফরিদপুর সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজে যোগ দেন। পরে একই কলেজে উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১০ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে উপাধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন সিরাজুল। পরে তিনি সরকারি ধামরাই কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়ে অতিরিক্ত ২ বছর সরকারি ধামরাই কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিরাজুল।

১৯৮০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৮১ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত
তিন রুটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সেবা
রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম
বিধিনিষেধ শিথিলের খবরে স্থগিত রাবির পরিবহন সেবা
বাদ পড়া সেই শিক্ষার্থীদের পরিবহন সেবা দেয়ার সিদ্ধান্ত

শেয়ার করুন

শুরু হচ্ছে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা

শুরু হচ্ছে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা

ফাইল ছবি

গুচ্ছ পদ্ধতিতে দেশের মোট ২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে ‘এ’ ইউনিটে আবেদন করেছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন শিক্ষার্থী। ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা হবে দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত।

দেশের গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে রোববার। ‘এ’ ইউনিটে ভর্তি হতে আবেদন করেছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন শিক্ষার্থী।

গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মুনাজ আহমেদ নূর বলেন, ‘রোববার ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা হবে। ‘বি’ ইউনিট ২৪ অক্টোবর আর ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা হবে ১ নভেম্বর।

‘দেশের মোট ২৬টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা হবে। পরীক্ষার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষা হবে দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত।

কোন ইউনিটে আবেদন কত
দেশের ২০টি সাধারণ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবারই প্রথম গুচ্ছভুক্ত হয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে। এতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ মিলিয়ে আসন রয়েছে ২২ হাজার ১৩টি। এর বিপরীতে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৩২ হাজার ৪৫৫ জন শিক্ষার্থী।
এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন, ‘বি’ ইউনিটে ৬৭ হাজার ১১৭ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে ৩৩ হাজার ৪৩৭ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।

যেসব কেন্দ্রে পরীক্ষা
দেশের মোট ২৬টি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা হবে। কেন্দ্রগুলো হলো শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

পরীক্ষার মানবণ্টন
গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটি জানিয়েছে, সব বিভাগেই ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হবে। মানবিক বিভাগের ক্ষেত্রে বাংলায় ৪০, ইংরেজিতে ৩৫ ও আইসিটিতে ২৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে।

বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে বাংলায় ১০, ইংরেজিতে ১০, রসায়নে ২০ ও পদার্থবিজ্ঞানে থাকবে ২০ নম্বর। বাকি ৪০ নম্বর আইসিটিতে।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের হিসাববিজ্ঞানে ২৫, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনায় ২৫, বাংলায় ১৩, ইংরেজিতে ১২ ও আইসিটিতে ২৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে।

সব ইউনিটে ভুল উত্তরের জন্য কাটা হবে নম্বর। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ কাটা যাবে।

বিভাগ পরিবর্তন যেভাবে
বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আলাদাভাবে কোনো পরীক্ষা নেয়া হবে না। একজন শিক্ষার্থী কেবল একটি পরীক্ষায়ই অংশ নেবেন। বিভাগ পরিবর্তন করতে চাইলে সেই পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুসারে মাইগ্রেশন করে ভর্তি হতে পারবেন।

এসএসসি ও এইচএসসির ফল

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলও হিসাবে আনা হয়। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এসএসসি, এইচএসসিতে পাওয়া জিপিএর ভিত্তিতে তাদের নিজস্ব শর্তে ভর্তির সুযোগ দেবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শর্ত ভিন্ন ভিন্নও হতে পারে।

২০১৯ ও ২০২০ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ফার্স্ট টাইম ও সেকেন্ড টাইম নির্ধারণ করে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নেবে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও পড়ুন:
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত
তিন রুটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সেবা
রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম
বিধিনিষেধ শিথিলের খবরে স্থগিত রাবির পরিবহন সেবা
বাদ পড়া সেই শিক্ষার্থীদের পরিবহন সেবা দেয়ার সিদ্ধান্ত

শেয়ার করুন

স্কুলশিক্ষার্থীদের গণটিকা শুরু ৩০ অক্টোবর

স্কুলশিক্ষার্থীদের গণটিকা শুরু ৩০ অক্টোবর

মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন টিকা দেয়া হবে। আশা করছি, এ কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে।’

পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব শিক্ষার্থীর মাঝে গণটিকা প্রয়োগ শুরু হবে ৩০ অক্টোবর।

স্কুলশিক্ষার্থীদের মাঝে এরই মধ্যে পরীক্ষামূলক করোনা প্রতিরোধী টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জে ১০০ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়।

এবার ব্যাপক পরিসরে স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনতে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হবে। আর এ কার্যক্রম শুরু হতে পারে আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে।

নিউজবাংলাকে শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক। তিনি বলেন, ‘১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন টিকা দেয়া হবে। আশা করছি, এ কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে।’

মাউশি মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীর স্কুল ও কলেজ মিলিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ৭৮৩টি। এখানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৬ লাখ ১৫ হাজার। আমরা এদের প্রথম ধাপে টিকার আওতায় আনব। এ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। যেখানে শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার জন্য ২০০টি বুথ থাকবে।’

কোন প্রক্রিয়ায় স্কুলশিক্ষার্থীদের মাঝে টিকা কার্যক্রম শুরু হবে- এমন প্রশ্নে গোলাম ফারুক বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা চূড়ান্তের পর তারা যেন সুরক্ষা অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করতে পারে, সে বিষয়ে মাউশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এরপর আমরা স্কুল অনুযায়ী তারিখ নির্ধারণ করে দেব যেন সুশৃঙ্খলভাবে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।’

দেশের ২১টি পয়েন্টে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা আছে জানিয়ে গোলাম ফারুক বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীর টিকাদান কার্যক্রম শেষ হলে পরবর্তী সময়ে দেশের ২১টি পয়েন্টে এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দেয়া হবে।’

চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসির শিক্ষার্থীরা টিকা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সব শিক্ষার্থীকে সমান গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আশা করছি, টিকার প্রাপ্যতা নিয়ে সংকট হবে না।’

বেশির ভাগ শিক্ষার্থী টিকার আওতায় এলেই জানুয়ারি থেকে স্কুল-কলেজে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান মাউশি মহাপরিচালক।

স্কুলশিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাউশি

গত ১৫ অক্টোবর ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দিতে রাজধানীর স্কুল-কলেজগুলোর কাছে তথ্য চেয়ে অফিস আদেশ জারি করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

রাজধানীর স্কুল-কলেজগুলোকে ১৯ অক্টোবরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের তথ্য ই-মেইলে পাঠাতে বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন ঢাকা মহানগরীর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ টিকা দেয়ার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের তথ্য নির্ধারিত ছক অনুসারে এক্সেল শিটে আগামী ১৯ অক্টোবরের মধ্যে ই-মেইলে ([email protected]) পাঠাতে অনুরোধ করা হলো।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের তথ্যগুলো অবশ্যই ইংরেজিতে এবং সংযুক্ত এক্সেল ফাইলে পূরণ করে পাঠাতে হবে।

শিক্ষার্থীদের ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর, নাম, লৈঙ্গিক পরিচয়, প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন, প্রতিষ্ঠানের নাম, জন্মতারিখ এবং অভিভাবকের ফোন নম্বর দিয়ে ইংরেজিতে এক্সেল শিট পূরণ করে ই-মেইলে তথ্য পাঠাতে হবে।

স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া শুরু

গত ১৪ অক্টোবর মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১০০ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষামূলকভাবে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের দেশে এক কোটির বেশি ছেলে-মেয়ে আছে, যাদের আমরা টিকা দেব। প্রথম পর্যায়ে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে টিকা দেব এবং পর্যায়ক্রমে বাকিদের টিকা দেয়া হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফাইজারের টিকা ভালো ও নিরাপদ। এই টিকা আমেরিকা, ইউরোপসহ অন্য দেশে দেয়া হচ্ছে। এ কারণে এই টিকা আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের দিচ্ছি। আমরা চাই আমাদের শিশুরা নিরাপদে থাকুক।

‘আজকে মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে টিকা দেয়া হচ্ছে। এর পরে সারা দেশে ২১টি জায়গায় এই টিকা দেয়া হবে এবং ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়ে যাবে।’

১২ থেকে ১৭ বছর বয়সের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কত

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে জানা যায়, ঢাকা মহানগরীর ৭৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ লাখ ১৫ হাজার। আর সারা দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী আছে ১ কোটি ২৫ লাখ ২ হাজার ১২৬ জন।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। এর প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু হয়। তবে প্রতিদিন সব শ্রেণিতে ক্লাস হচ্ছে না।

শুধু চলতি বছরের ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস নেয়া হচ্ছে। আর অন্যান্য শ্রেণির মধ্যে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম, নবম শ্রেণিতে দুই দিন এবং অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক দিন ক্লাসে আসতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত
তিন রুটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সেবা
রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম
বিধিনিষেধ শিথিলের খবরে স্থগিত রাবির পরিবহন সেবা
বাদ পড়া সেই শিক্ষার্থীদের পরিবহন সেবা দেয়ার সিদ্ধান্ত

শেয়ার করুন

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শুরু রোববার, প্রস্তুত জগন্নাথ

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শুরু রোববার, প্রস্তুত জগন্নাথ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার আসন বিন্যাস। ছবি: নিউজবাংলা

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, ‘গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এ-ইউনিটভুক্ত ১০ হাজার ৯১৫ জন শিক্ষার্থীর আসন নিশ্চিত করা হয়েছে। সকল শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরীক্ষা দিতে পারবে, সেই প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’ ভর্তি পরীক্ষার দিন সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল।

প্রথম দিন ‘এ’ ইউনিটে মোট এক লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) এই ইউনিটে পরীক্ষা দেবেন মোট ১০ হাজার ৯১৫ জন পরীক্ষার্থী। দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভর্তি পরীক্ষায় গ্রহণের জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা যাতে সহজেই নিজেদের আসন খুঁজে পায় সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে ডিজিটাল ব্যানারে রোল নম্বর, কেন্দ্র এবং ভবন নির্দেশক বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সহায়তা দেয়ার জন্য সব ভবনের প্রবেশমুখে বিএনসিসি, রোভার স্কাউটসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকরা থাকবেন। তারা শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করবেন বলে জানানো হয়েছে।

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এ-ইউনিটভুক্ত ১০ হাজার ৯১৫ জন শিক্ষার্থীর আসন নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে কোনো আসন বিন্যাস আমরা করবো না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর অধীনস্থ পোগোজ স্কুলে আমরা আসন বিন্যাস করবো। সকল শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরীক্ষা দিতে পারবে, সেই প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’

ভর্তি পরীক্ষার দিন সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমরা ডিএমপির কমিশনার বরাবর চিঠি দিয়েছি, এছাড়াও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে চিঠি দেয়া হয়েছে। ডিসি ওয়ারি, ডিসি লালবাগ, পুলিশের ডিসি ওয়ারি, ডিসি লালবাগ, এনএসআই সবার সঙ্গে যোগাযোগ করছি যেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে হয়। আর ট্রাফিকের সঙ্গে আলোচনা করছি যেন পরীক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে আসা যাওয়া করতে পারে।’

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শুরু রোববার, প্রস্তুত জগন্নাথ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

নিউজবাংলাকে ড. মোস্তফা কামাল আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি গেট এবং পোগোজের একটি গেট মোট পাঁচটি গেট দিয়েই শিক্ষার্থীরা প্রবেশ এবং বের হতে পারবেন এবং এসব গেটে পুলিশ পাহারায় থাকবে। যে যেই গেট দিয়ে প্রবেশ করতে সুবিধা পাবে সে সেই গেট দিয়েই প্রবেশ করতে পারবে এবং বের হতে পারবে।’

পরীক্ষার উপকরণ ছাড়া অন্য কোনো ডিভাইস যেমন ঘড়ি, ক্যালকুলেটর, মোবাইল বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস, এটিএম কার্ড নিয়ে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে ঢুকতে পারবেনা বলেও জানিয়েছেন প্রক্টর।

মেয়েদের প্রতি অনুরোধ করে তিনি বলেন, যেসব মেয়েরা হিজাব পড়ে, তারা অন্তত পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে যেন কান বের করে রাখে।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে নানাবিধ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মন্ডল। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, যেহেতু আমরা একটা মহামারির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি সেজন্য শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। মূল ফটক থেকে শুরু করে ডিপার্টমেন্ট ভিত্তিকভাবেও মাস্ক, স্যানিটাইজার দেয়া হবে। শিক্ষার্থীরা সেগুলো ব্যবহার করবে। প্রতিটি বেঞ্চে একজন করে পরীক্ষার্থী বসানো হবে। পরীক্ষার্থীদের যেনো কোন ভোগান্তি না হয় সেজন্য আমরা সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।

এর আগে জিএসটিভুক্ত সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৭ অক্টোবর ‘এ’ ইউনিটে বিজ্ঞান, ২৪ অক্টোবর ‘বি’ ইউনিটে মানবিক এবং ১ নভেম্বর ‘সি’ ইউনিটে বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে শিক্ষার্থীদের এ সংক্রান্ত অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগেই সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পৌঁছানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন হবে উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে। এতে মোট ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হবে। পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা যাবে শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর। তবে বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আলাদা কোনো পরীক্ষা নেয়া হবে না।

দেশের মোট ২৬টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। আসন রয়েছে মোট ২২ হাজার ১৩টি। এর বিপরীতে আবেদন করেছিলেন দুই লাখ ৩২ হাজার ৪৫৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে এক লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন, ‘বি’ ইউনিটে ৬৭ হাজার ১১৭ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে ৩৩ হাজার ৪৩৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

গুচ্ছভুক্ত ২০ টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও পড়ুন:
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত
তিন রুটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সেবা
রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম
বিধিনিষেধ শিথিলের খবরে স্থগিত রাবির পরিবহন সেবা
বাদ পড়া সেই শিক্ষার্থীদের পরিবহন সেবা দেয়ার সিদ্ধান্ত

শেয়ার করুন

ইরাবের নতুন সভাপতি নিজাম, সাধারণ সম্পাদক সুমন

ইরাবের নতুন সভাপতি নিজাম, সাধারণ সম্পাদক সুমন

ইরাবের নব নির্বাচিত সভাপতি নিজামুল হক নিজাম ও সাধারণ সম্পাদক শরীফুল আলম সুমন।

শুক্রবার গাজীপুরের একটি রিসোর্টে নির্বাচন শেষে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনের জন্যও ছিল তিন সদস্যের কমিশন।

শিক্ষাবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ‘এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ইরাব) ২০২১-২২ সালের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নিজামুল হক নিজাম। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুল আলম সুমন।

শুক্রবার গাজীপুরের এক রিসোর্টে নির্বাচন শেষে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নিজামুল হক নিজাম দৈনিক ইত্তেফাকে ও শরীফুল আলম সুমন দৈনিক কালের কণ্ঠে কর্মরত রয়েছেন।

কমিটিতে সেলিনা শিউলী (বাসস) সহসভাপতি, এম এম জসিম (বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, এম এইচ রবিন (দৈনিক আমাদের সময়) কোষাধ্যক্ষ, সাইফ সুজন (বণিক বার্তা) সাংগঠনিক সম্পাদক, সোলাইমান সালমান (ডেইলি সান) দপ্তর সম্পাদক, রশীদ আল রুহানী (শিক্ষা বার্তা) প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক , আবু বকর ইয়ামিন (রাইজিংবিডি) প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক এবং পিয়াস সরকার (মানবজমিন) আইসিটিবিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়া নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সাব্বির নেওয়াজ (দৈনিক সমকাল), ফারুক হোসাইন (দৈনিক ইনকিলাব) ও রকিবুল হক (আলোকিত বাংলাদেশ) ।

তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন এ ফল ঘোষণা করেন।

নির্বাচন কমিশনার ছিলেন যায় যায় দিনের সিনিয়র রিপোর্টার আমানুর রহমান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী ও জাগো নিউজের স্টাফ রিপোর্টার মুরাদ হুসাইন।

এর আগে ইরাবের বিদায়ী কমিটির সভাপতি সাব্বির নেওয়াজের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শরীফুল আলম সুমনের সঞ্চালনায় বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন:
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত
তিন রুটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সেবা
রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম
বিধিনিষেধ শিথিলের খবরে স্থগিত রাবির পরিবহন সেবা
বাদ পড়া সেই শিক্ষার্থীদের পরিবহন সেবা দেয়ার সিদ্ধান্ত

শেয়ার করুন

জবিসহ ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

জবিসহ ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

৩ জুন একটি বিক্ষোভ মিছিলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মেয়াদ শেষ হওয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ ও তেজগাঁও কলেজের বর্তমান কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

মেয়াদ শেষ হওয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ও পাঁচটি কলেজে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহদপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক সোহেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, মেয়াদ শেষ হওয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ ও তেজগাঁও কলেজের বর্তমান কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ছাত্রদলের প্রতিটি ইউনিটকে সুশৃঙ্খল, সুসংগঠিত ও গতিশীল করে গড়ে তুলতে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে নতুন আহ্বায়ক কমিটি করা হবে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল শুক্রবার এক সাংগঠনিক সভায় এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত
তিন রুটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সেবা
রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম
বিধিনিষেধ শিথিলের খবরে স্থগিত রাবির পরিবহন সেবা
বাদ পড়া সেই শিক্ষার্থীদের পরিবহন সেবা দেয়ার সিদ্ধান্ত

শেয়ার করুন

ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম মোস্তাকিমের লড়াই অভাবের সঙ্গে

ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম মোস্তাকিমের লড়াই অভাবের সঙ্গে

বাবা শামায়ুন আলীর সঙ্গে রাবি ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম মোস্তাকিম আলী। ছবি: নিউজবাংলা

মোস্তাকিম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই বাবার সঙ্গে কাঠমিস্ত্রির কাজ করে আসছি। দিনে কাজ করলেও রাতে পড়াশোনা করেছি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার ১৫ দিন আগে কাজে বিরতি দিয়েছি। যেমনটা চেয়েছিলাম তার চেয়ে বেশি ভালো ফল পেয়েছি।’

বাবা পেশায় কাঠমিস্ত্রি। পরিবারে অভাবের সঙ্গে লড়াই প্রতিদিন। এ কারণে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই বাবার সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন মোস্তাকিম। সব বাধা পেরিয়ে এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় একটি ইউনিটে প্রথম হয়েছেন তিনি।

মোস্তাকিম আলীর বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাঁধাইড় মিশনপাড়া গ্রামে। রাবির এবারের ভর্তি পরীক্ষায় ‘বি’ ইউনিটের তৃতীয় শিফটে ৮০ দশমিক ৩০ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পরেও মোস্তাকিম কাঠমিস্ত্রির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির জন্য ভর্তি পরীক্ষার ১৫ দিন আগে কাজে বিরতি দেন।

১১ অক্টোবর মধ্যরাতে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। এরপর থেকেই আনন্দের বন্যা বইছে তার পরিবারে। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সবাই অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাকে।

মোস্তাকিমের বাবা শামায়ুন আলী পেশায় কাঠমিস্ত্রি। মা জোসনা বেগম গৃহিণী। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। অভাবের সংসারে মেজ ভাই আজিজুল হককে পড়াতে পারেননি বাবা। বাল্যকাল থেকেই তিনি বাবার সঙ্গে কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। ছোট বোন ফাহিমা খাতুন মুণ্ডুমালা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তবু অনেক কষ্টে দুই ছেলে-মেয়েকে পড়াচ্ছেন শামায়ুন আলী।

২০১৭ সালে মুণ্ডুমালা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৪ দশমিক ৫৫ পেয়ে পাস করেন মোস্তাকিম।

২০২০ সালে তানোরের ফজর আলী মোল্লা ডিগ্রি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৪ দশমিক ৮৩ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন তিনি।

পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদিনা ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজে ইংরেজিতে অনার্সে ভর্তি হন মোস্তাকিম। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আশা ছাড়েননি তিনি। এইচএসসিতে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দিয়ে বসেন রাবির ভর্তি পরীক্ষায়।

মোস্তাকিম বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষার জন্য কোনো প্রকার কোচিং বা স্পেশাল প্রাইভেট পড়িনি। তবে স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। অনলাইনে কিছু ভর্তি প্রস্তুতির লেকচার পেয়েছি। সেগুলো অনুশীলন করে নিজেকে তৈরি করেছি।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই বাবার সঙ্গে কাঠমিস্ত্রির কাজ করে আসছি। দিনে কাজ করলেও রাতে পড়াশোনা করেছি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার ১৫ দিন আগে কাজে বিরতি দিয়েছি। যেমনটা চেয়েছিলাম তার চেয়ে বেশি ভালো ফল পেয়েছি।’

মোস্তাকিম বলেন, ‘এখন নিজেকে করপোরেট চাকরির উপযোগী করে গড়ে তুলতে চাই। পরিবার, সমাজ এমনকি রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই।’

ছেলের সফলতায় উচ্ছ্বসিত শামায়ুন আলী।

তিনি বলেন, ‘পড়ালেখার প্রতি ছোটবেলা থেকেই মোস্তাকিমের প্রখর আগ্রহ ছিল। কষ্ট হলেও সে পড়ালেখা বন্ধ করেনি। সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে নিজেকে এগিয়ে নিতে। স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরাও তার প্রতি বেশ আন্তরিক ছিল। তাদের সঠিক নির্দেশনায় লেখাপড়া করায় এমন সাফল্য পেয়েছে মোস্তাকিম। তার সাফল্যে আমি গর্বিত।’

আরও পড়ুন:
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত
তিন রুটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সেবা
রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম
বিধিনিষেধ শিথিলের খবরে স্থগিত রাবির পরিবহন সেবা
বাদ পড়া সেই শিক্ষার্থীদের পরিবহন সেবা দেয়ার সিদ্ধান্ত

শেয়ার করুন