৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ: অপেক্ষা আরও ২ মাস

৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ: অপেক্ষা আরও ২ মাস

এনটিআরসিএ সচিব বলেন, ‘পুলিশ ভেরিফিকেশন যেন সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হয় সে বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের সচিব মহোদয়কে অনুরোধ করা হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ করার জন্য ২ মাসের সময় সীমা নির্ধাারণ করা হয়েছে।’

৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ প্রাপ্তদের চূড়ান্ত নিয়োগ পেতে চাকুরিপ্রার্থীদের অন্তত দুইমাস অপেক্ষা করতে হবে। কারণ পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনটিআরসিএর সচিব এ টি এম মাহবুব-উল করিম নিউজবাংলাকে জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ করে চূড়ান্ত নিয়োগের সুপারিশ পত্র প্রেরণ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ ভেরিফিকেশন যেন সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হয় সে বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের সচিব মহোদয়কে অনুরোধ করা হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ করার জন্য ২ মাসের সময় সীমা নির্ধাারণ করা হয়েছে।’

এনটিআরসিএর সচিব আরও বলেন, ‘প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশনগুলো হাতে পেলে আমরা চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের সুপারিশপত্র দেবো। এরপর এই সুপারিশপত্র নিয়ে প্রার্থীরা নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানে যোগদান করবেন।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ফল গত বৃহস্পতিবার রাতে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে এনটিআরসিএ।

তবে ৫১ হাজার ৭৬১টি পদে সুপারিশ করার কথা থাকলেও সুপারিশ করা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৮৬ জন প্রার্থীকে। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩৪ হাজার ৬১০ জন এবং ননএমপিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৬৭৬ জন। আর ৮ হাজার ৪৪৮টি পদে কোনো আবেদন না পাওয়ায় এবং ৬ হাজার ৭৭৭টি মহিলা কোটা পদে মহিলা প্রার্থী না পাওয়ায় মোট ১৫ হাজার ৩২৫টি পদে ফলাফল দেয়া সম্ভব হয়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়োগ নিয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তিনি জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৪ হাজার শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দিতে আবেদনপ্রক্রিয়া শেষ করা হলেও আদালতে মামলার কারণে আবেদনকারীদের ফলাফল এত দিন প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক ৫১ হাজার ৭৬১টি পদে নিয়োগ দেয়া হবে।

শিক্ষক নিবন্ধনের ১ থেকে ১২তম পর্যন্ত পাস করেও চাকরি না পাওয়া ২ হাজার ৫০০ জনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে এনটিআরসিএকে সুপারিশ করে রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট। সে রায় ২৮ জুন বাতিল করে দেয় আপিল বিভাগ।

চলতি বছরের ৩০ মার্চ তৃতীয় ধাপে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫৪ হাজার ৩০৪ শিক্ষক নিয়োগে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ।

গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৫৪ হাজার ৩০৪টি শূন্যপদের মধ্যে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ৩১ হাজার ১০১টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত পদ ২৬ হাজার ৮৩৮টি। মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে মোট শূন্যপদ ২০ হাজার ৯৯৬টি। এর মধ্যে ১৯ হাজার ১৫৪টি এমপিওভুক্ত। আর ২ হাজার ২০৭টি এমপিও পদে রিট মামলায় অংশগ্রহণদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়।

আরও পড়ুন:
৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ফল আজ
৫৪ হাজার নিয়োগের ফল আদায়ে আন্দোলনের ‘হুমকি’
৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ কবে?
২৫০০ নিবন্ধনধারী শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশের আদেশ চেম্বারে বহাল
এনটিআরসিএর সনদ যাচাই অনলাইনে

শেয়ার করুন

মন্তব্য