× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

শিক্ষা
দুর্নীতি জঙ্গিবাদের কবল থেকে নর্থ সাউথকে রক্ষার দাবি
hear-news
player
print-icon

‘দুর্নীতি-জঙ্গিবাদের কবল’ থেকে নর্থ সাউথকে রক্ষার দাবি

দুর্নীতি-জঙ্গিবাদের-কবল-থেকে-নর্থ-সাউথকে-রক্ষার-দাবি
ড. সাগর সামস্ বলেন, দুই ট্রাস্ট্রি আজিম উদ্দিন ও এম এ কাশেম শুধু লাগামহীন দুর্নীতি করেই থেমে থাকেননি; নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকেও জঙ্গি তৈরির কারখানায় পরিণত করেছেন। রাষ্ট্রের স্বার্থেই তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের কবল থেকে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথকে রক্ষার দাবি জানিয়েছে প্রটেকশন ফর লিগ্যাল হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনটির উপদেষ্টা ড. সুফী সাগর সামস্।

এর আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য এম এ কাশেমের নানা অনিয়মের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেন। এরপর এই সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ২৮ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব পুনঃনিরীক্ষা করে প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানান প্রটেকশন ফর লিগ্যাল হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা।

তার দাবি, মূলত রাষ্ট্রীয় স্বার্থে স্বপ্রণোদিত হয়েই মানবাধিকারকর্মী কর্মী হিসেবে গণমাধ্যমের কাছে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেছেন।

ড. সুফী সাগর সামস্ জানান, সুনির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করা অভিযোগ সম্পর্কিত প্রতিবেদন এরই মধ্যে মধ্যে দুদকে জমা দেয়া হয়েছে। শিগগিরই এই চিঠিটির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই), প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর, বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হবে।

লিখিত বক্তব্যের পাশাপাশি সাগর সামস্ এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে পত্র-পত্রিকায় ছাপা হওয়া সংবাদের কপিও সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নর্থ সাউথে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদ সম্পৃক্ততা সংক্রান্ত বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

লিখিত বক্তব্যে সুফী সাগর দাবি করেন, ১৯৯২ সালে যাত্রা শুরু করা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হলেও পরিচালনা পর্ষদে কয়েকজন ব্যক্তির কারণে ডুবতে বসেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তার ভাষ্য, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা হয় একটি ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে। এই ট্রাস্টি বোর্ড একটি মানবহিতৈষী, দানশীল, জনহিতকর, অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও অবাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

কিন্তু এই মানবহিতৈষী ও অবাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য এম এ কাশেম বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে শত শত কোটি টাকা বাণিজ্য করছেন এবং সেই টাকা উভয়ে যোগসাজশ করে আত্মসাৎ করেছেন, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

‘দুর্নীতি-জঙ্গিবাদের কবল’ থেকে নর্থ সাউথকে রক্ষার দাবি
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ট্রাস্টি আজিম উদ্দীন ও এম এ কাশেমের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয় মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে। ছবি: নিউজবাংলা

ড. সাগর সামস্ বলেন, দুই ট্রাস্ট্রি আজিম উদ্দিন ও এম এ কাশেম শুধু লাগামহীন দুর্নীতি করেই থেমে থাকেননি; নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকেও জঙ্গি তৈরির কারখানায় পরিণত করেছেন। রাষ্ট্রের স্বার্থেই তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

ওই সময় সাগর এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণও করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আশালয় হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে জমি কিনে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুই ট্রাস্টি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদনের বাইরে ১০টি সেকশন চালু ও অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করে বিশাল অঙ্কের টাকা বাণিজ্য করেন এবং এই টাকা বিভিন্নভাবে আত্মসাৎ করেন তারা।

এ ছাড়াও ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহানসহ আজিম-কাশেম পরস্পর যোগসাজশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ তহবিল থেকে ১১৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়।

আজিম উদ্দিন ও এমএ কাশেমের বিরুদ্ধে আরও বলা হয়, তারা পরিবারের সদস্যসহ বিদেশ ভ্রমণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় কোটি টাকা অপব্যয়, সিটিং অ্যালাউন্স বাবদ ৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গাড়িচালক ও জ্বালানি বাবদ ৪৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। পাশাপাশি ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে শিক্ষার্থীদের দেয়া টিউশন ফির অর্থ থেকে ভাতা বাবদ প্রায় ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নর্থ সাউথেরর জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার তথ্য উপস্থাপন করে এমএ কাশেম ও আজিম উদ্দিনকে দায়ী করা হয়। দেশে ঘটে যাওয়া নানা জঙ্গি হামলার ঘটনায় নর্থ সাউথের সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদের জড়িত থাকার প্রমাণ তুলে ধরা হয়।

এ সময় দুই ট্রাস্টির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব তদন্ত করে দেখার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি তদন্ত চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড থেকে তাদের অব্যাহতি দিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ সাজানোর দাবি জানানো হয়।

দুই ট্রাস্টির বক্তব্য

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত এসব অভিযোগ সম্পর্কে মন্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ট্রাস্টি আজিম উদ্দিন আহমেদ ও এম এ কাশেমের সঙ্গে।

‘দুর্নীতি-জঙ্গিবাদের কবল’ থেকে নর্থ সাউথকে রক্ষার দাবি

তারা প্রায় অভিন্নভাবে বলেছেন, এসব সব কেচ্ছা-কাহিনি অনেক পুরোনো। এসব পুরোনো কাসুন্দি আর কত ঘাটবে। দুষ্ট লোকেরা তাদের বিরুদ্ধে এসব করছে, যার কোনো ভিত্তি নেই।

তাদের দাবি, রাষ্ট্র, সরকার ও সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাদের কোটি কোটি আর্থিক সহযোগিতা, দান ও অনুদান রয়েছে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
There was no case of attack on RAB

র‌্যাবের উপর হামলায় হয়নি মামলা

র‌্যাবের উপর হামলায় হয়নি মামলা বারৈয়ার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
র‌্যাবের ফেনী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের ইমরান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের সদস্যদের উপর ডাকাত বলে হামলা করেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ডাকাত আখ্যা দিয়ে সাদা পোশাকে থাকা র‌্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।

বারৈয়ার পৌরসভার হাট বাজার এলাকায় বুধবার সন্ধ্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার থমথমে পরিস্থিতি দেখা গেছে। পুলিশ-র‌্যাব সদস্য এমনকি স্থানীয়রা কেউ এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে নারাজ।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর হোসেন মামুন বলেন, ‘র‌্যাবের উপর হামলার ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না জানি না। তবে র‌্যাব নিজস্ব গতিতে অভিযান চালাচ্ছে। এখনও মামলা হয়নি।’

বৃহস্পতিবার সকালে সাড়ে ৯টার দিকে বারৈয়ার বাজারে দেখা যায়, র‌্যাব-পুলিশের অন্তত বিশটি গাড়ি সেখানে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। ছোট ছোট কিছু দোকান বাদে বেশিরভাগই বন্ধ। এ সময় দোকানদারদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, বুধবারের ঘটনা কি ঘটেছে সেটি তারা জানেন না।

ঘটনাস্থলে কথা হয় পুলিশের মিরসরাই সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার লাবিব আব্দুল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এখানে রয়েছি। পরিস্থিতি যাতে অন্য দিকে মোড় না নেয় সেজন্যই আমরা এখানে আছি।’

তবে উপস্থিত র‌্যাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা এ বিষয়ে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।

এর আগে বুধবার মাগরিবের নামাজের পর চিহ্নিত দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে র‌্যাব সদস্য শামীম কাউসার, সিপাহি মোখলেসুর রহমান ও সোর্স মো. পারভেজ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

র‍্যাব-৭ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আহতদের প্রথমে বারইয়ারহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে পাঠানো হয় ফেনী জেনারেল হাসপাতালে। গুরুতর আহত দুইজনকে রাতেই হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় পাঠানো হয়।

র‌্যাবের উপর হামলায় হয়নি মামলা
ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. পারভেজ। হামলায় র‍্যাব সদস্যদের সঙ্গে তিনিও আহত হন। ছবি: নিউজবাংলা

হামলার বিষয়ে র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এমএ ইউসুফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুইজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে আমাদের অভিযানের পরিকল্পনা ছিল। র‍্যাবের এই অভিযানের তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। মাদক ব্যবসায়ীরা জানতো যে র‍্যাব সদস্যরা রেকি করতে আসবে।

‘তারা আগে থেকেই হামলার পরিকল্পনা করে রেখেছিল, কারন শুধু জনগন পেটালে খালি হাতেই মারতো। তাদের মাঝখান থেকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছি।’

তবে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানান র‍্যাব কর্মকর্তা।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা র‌্যাবের সহযোগী পারভেজ জানান, তাদের কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এ হামলা চালায় একটি মহল। হামলার নেতৃত্বে তানভীর নামের একজনের কথা জানান তিনি।

তবে র‌্যাবের ফেনী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের ইমরান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের সদস্যদের ডাকাত বলে হামলা করেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

আরও পড়ুন:
ঢাবিতে ছাত্রদলের ওপর ‘ছাত্রলীগের’ হামলা, আহত ৩০
‘অসংখ্য কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার উদ্দেশ্য ছিল শ্বেতাঙ্গ যুবকের’
নিউ ইয়র্কে ‘বর্ণবিদ্বেষী’ হামলায় নিহত ১০, শ্বেতাঙ্গ আটক
জাফলংয়ে ফি আদায়ের আইনি বিধান জানতে চান মন্ত্রী
জাফলংয়ে পর্যটকদের মারধর, আটক ৫

মন্তব্য

শিক্ষা
There are 160 prisoners in Libya

লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ১৬০ জন

লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ১৬০ জন লিবিয়ার বন্দিশালায় আটক ছিলেন দেশে ফেরা ১৬০ বাংলাদেশি। ছবি: সংগৃহীত
লিবিয়ার বন্দিশালায় আটকদের মধ্য থেকে এই ১৬০ বাংলাদেশি দেশে এসেছেন আইওএমের সহায়তায়। তাদের বাংলাদেশে পৌঁছে দিতে লিবিয়ার বুরাক এয়ারের ফ্লাইটটি ভাড়া করেছিল আইওএম।

লিবিয়ার বন্দিশালায় আটক ১৬০ বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন।

তাদের বহনকারী বুরাক এয়ারলাইনসের একটি বিমান বৃহস্পতিবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জিয়াউল হক।

তিনি বলেন, ‘সকাল ৭টার দিকে লিবিয়া থেকে ১৬০ জন বাংলাদেশি নাগরিকদের বহন করা বুরাক এয়ারের ফ্লাইট ইউজেড-২২২ ঢাকায় অবতরণ করেছে।’

লিবিয়ার বন্দিশালায় আটকদের মধ্য থেকে এই ১৬০ বাংলাদেশি দেশে এসেছেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায়। তাদের বাংলাদেশে পৌঁছে দিতে লিবিয়ার বুরাক এয়ারের ফ্লাইটটি ভাড়া করেছিল আইওএম।

স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল পৌনে ৪টায় লিবিয়ার মেতিগা বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে।

এর আগে লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল এস এম শামিম উজ জামান মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকারীদের সঙ্গে দেখা করে তাদের বিদায় জানান।

আরও পড়ুন:
লিবিয়ায় আটকদের ফেরত আনা হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
লিবিয়ায় জিম্মি মাদারীপুরের ৯ যুবক
লিবিয়ায় জেল খেটে ফিরলেন ১১৪ বাংলাদেশি
লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে বন্দুকধারীর হামলা
দালালের ফাঁদে পড়ে বন্দি লিবিয়ায়

মন্তব্য

শিক্ষা
Arrest of fraud showing greed for government job

সরকারি চাকরির লোভ দেখিয়ে ‘প্রতারণা’, গ্রেপ্তার ২

সরকারি চাকরির লোভ দেখিয়ে ‘প্রতারণা’, গ্রেপ্তার ২
ডিবির ওসি মাহাব্বুর বলেন, ‘শান্ত আগে বিজিবির বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন। সরকারি চাকরি দেয়ার নামে তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালিক হয়েছেন।’

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরির লোভ দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার মুক্তিপাড়া ও ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বুধবার রাত ১টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই দুই যুবক হলেন আলমডাঙ্গা উপজেলার গড়চাপড়া গ্রামের ৩৫ বছর বয়সী রাশেদুজ্জামান শান্ত ও সদর উপজেলার পিরোজখালী গ্রামের ৩০ বছর বয়সী বিল্লাল হোসেন।

ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাব্বুর রহমান নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, শান্ত দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে এনএসআইয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল পরিচয় দিতেন। এই পরিচয়ে তিনি চাকরি দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ করতেন।

সম্প্রতি এনএসআইয়ের জুনিয়র ফিল্ড অফিসার ও এরিয়া অফিসার পদে চাকরি দেয়ার কথা বলে শান্ত কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করেন।

এরপর আলমডাঙ্গা উপজেলার কাবিলনগর গ্রামের আব্দুল লতিফ বুধবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় শান্ত ও বিল্লালসহ দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মামলা করেন।

পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুক্তিপাড়ায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে শান্তকে গ্রেপ্তার করে। তার ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় ১৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা। পরে ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তার সহযোগী কাঠমিস্ত্রি বিল্লালকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি মাহাব্বুর বলেন, ‘শান্ত আব্দুল লতিফের ছেলে আব্দুর সবুরকে চাকরি দেয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর শান্ত ও বিল্লালের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

‘শান্ত আগে বিজিবির বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন। সরকারি চাকরি দেয়ার নামে তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে তোলা হবে।’

আরও পড়ুন:
নকল স্বর্ণের মূর্তি দিয়ে ‘প্রতারণা’, গ্রেপ্তার ২
বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা: দুজন কারাগারে
পুরুষ সেজে প্রেমের ফাঁদ, তরুণীকে গ্রেপ্তার
বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা: দুজন রিমান্ডে
পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ স্ত্রীর

মন্তব্য

শিক্ষা
Due to lack of space the truck terminal will be the bus terminal

জায়গা স্বল্পতায় ট্রাক টার্মিনাল হবে বাস টার্মিনাল

জায়গা স্বল্পতায় ট্রাক টার্মিনাল হবে বাস টার্মিনাল বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। ছবি: নিউজবাংলা
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, ‘বর্তমানে যেখানে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল রয়েছে সেখানে বাস রাখার জন্য জায়গার স্বল্পতা রয়েছে। তাই মেয়র মহোদয় ট্রাক টার্মিনালে বাস টার্মিনাল স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অস্থায়ীভাবে সেখান থেকেই বাস চলাচল করবে।’

জায়গা স্বল্পতার সমস্যা মেটাতে অস্থায়ীভাবে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিটি করপোরেশন।

আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বাস টার্মিনালটি শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ট্রাক টার্মিনালে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সিটি সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। বুধবার সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে তিনি বিষয়টি জানান।

জেলা বাস মালিক গ্রুপের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় পাঁচ বছর আগেও অভ্যন্তরীণ রুটে ৯০টি বাস ছিল। বর্তমানে সেই বাসের সংখ্যা ১৯০টি এবং দূরপাল্লার রুট মিলিয়ে এই টার্মিনালে বাস আছে তিন শতাধিক। তবে এত বাস রাখার জন্য যথেষ্ট জায়গা নেই এই কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে।

জায়গা না পেয়ে বাস রাখা হয় টার্মিনাল সংলগ্ন বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ও বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের সামনের সড়কে। এতে সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে সড়ক। বিঘ্নিত হচ্ছে যান চলাচল।

পাশাপাশি বাস মালিক ও শ্রমিকরা রয়েছেন চুরির আতঙ্কে। খোলা জায়গায় বাস রাখায় বিভিন্ন সময় ব্যাটারিসহ নানা যন্ত্রাংশ চুরির মতো ঘটনা ঘটছে অহরহ।

সাদি পরিবহনের চালক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাস টার্মিনালের যে বর্তমান অবস্থা, তাতে বাস রাখা অনেক কষ্টের। বাস একবার টার্মিনালের মধ্যে ঢুকালে বের করতে জান-পরান বের হয়ে যায়। জরুরি ট্রিপ থাকলে তো ভোগান্তির শেষ নাই। তাই বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর বাস রাখতে হয়। টার্মিনালে যে জায়গা রয়েছে, তার থেকে দ্বিগুণ জায়গা প্রয়োজন। তাহলে ভোগান্তি কমে যাবে।’

তুফান মেল পরিবহনের চালক সুমন বলেন, ‘রাস্তার ওপরে গাড়ি রাখলে নানা সমস্যা হয়। অনেক বাসের ব্যাটারি চুরি হইছে। বাইরে বাস রাখাটা রিস্ক। শুনছি ট্রাক টার্মিনালের জন্য যে জায়গা করছিল ওই জায়গায় বাস স্ট্যান্ড নেবে। বাস স্ট্যান্ডের চাইতে ট্রাক টার্মিনালের জায়গা বড়। সব বাস রাখাও সম্ভব হবে। এইটা হইলে ভোগান্তি মনে হয় কমবে।’

জায়গা স্বল্পতায় ট্রাক টার্মিনাল হবে বাস টার্মিনাল

বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে বলেন, ‘দিন দিন কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বাসের সংখ্যা বাড়ছেই। পদ্মা সেতু চালু হলে নতুন অনেক কোম্পানির বাস এই টার্মিনালে থাকবে। এখন যে বাস রয়েছে সেই বাসগুলোকেই জায়গা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। টার্মিনালের সামনে যানজটও অনেক বেড়েছে।

‘জনগণের ভোগান্তি তো হচ্ছেই, বাস মালিকরাও ভোগান্তিতে রয়েছে। এমন অবস্থায় মেয়র সেরনিয়াবাত জনভোগান্তির কথা বিবেচনা করে কাশিপুরে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ট্রাক টার্মিনালে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

কিশোর জানান, যন্ত্রাংশের দোকানগুলোও সেখানে স্থানান্তর করা হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই বাস টার্মিনাল ট্রাক টার্মিনালে স্থানান্তর হবে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, ‘বর্তমানে যেখানে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল রয়েছে সেখানে বাস রাখার জন্য জায়গার স্বল্পতা রয়েছে। মেয়র মহোদয় ট্রাক টার্মিনালে বাস টার্মিনাল স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অস্থায়ীভাবে সেখান থেকেই বাস চলাচল করবে। বাসগুলো আর ঝুঁকি নিয়ে বাইরে কোথাও রাখতে হবে না। সব বাসই ট্রাক টার্মিনালে রাখা সম্ভব।

‘তা ছাড়া সিটি করপোরেশনের প্ল্যান অনুযায়ী বর্তমানে যেখানে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল রয়েছে সেখানে নগর ভবন এবং গড়িয়ারপারে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নির্মাণের কথা রয়েছে। গড়িয়ারপারে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল স্থায়ীভাবে স্থানান্তর হলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।’

আরও পড়ুন:
বাইপোলার ডিজঅর্ডার কতটা প্রভাব ফেলে যৌনতায়
ঈদের পরও রেমিট্যান্সে সুবাতাস
লাইসেন্সের দাবিতে ইজিবাইক চালক‌দের বি‌ক্ষোভ
বিয়ের দাবিতে কুয়েত প্রবাসীর বাড়িতে জর্ডান প্রবাসী নারী
দেশে নার্স সংকট সোয়া দুই লাখ

মন্তব্য

শিক্ষা
My village my city sure dream ambulance

‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ নিশ্চিতে ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স

‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ নিশ্চিতে ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্মীপুরে মানুষকে সেবা দিতে প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জে যাচ্ছে স্বপ্নযাত্রা নামের অ্যাম্বুলেন্স। ছবি: নিউজবাংলা
জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোছাইন আকন্দ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন আমরা পূরণ করতে চাই। আমরা শহরের সুবিধা গ্রামেরও পৌঁছাতে চাই। সে লক্ষেই এই উদ্যোগ। আমরা এতে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। সারা দেশে এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে পারলে গ্রামীণ জনপদে মৃত্যুর হার অনেক কমে আসবে।’

সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ও জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন। অসহায়, দুস্থ, প্রতিবন্ধীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সেবা দিতে প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জে যাচ্ছে ‘স্বপ্নযাত্রা’ নামের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস।

এতে সাধারণ মানুষ সহজে সেবা নিতে পারবে। কমবে দুর্ভোগসহ নানা হয়রানি। প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে লক্ষ্মীপুরে গ্রামীণপর্যায়ে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে শুরু হওয়া কার্যক্রমটি এখন পরিচালিত হচ্ছে ১০টি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে। এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো জেলার ৫৮টি ইউনিয়ন পর্যায়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে কেনা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্সগুলো। ২৪ ঘণ্টায় সদরসহ জেলার ৫টি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাচ্ছে ‘স্বপ্নযাত্রা’।

‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ নিশ্চিতে ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স

সহজেই মানুষ অ্যাপের মাধ্যমে এই সার্ভিস ব্যবহারও করতে পারছেন। সে জন্য গুগল প্লে স্টোরে দেয়া হয়েছে স্বপ্নযাত্রা নামের একটি অ্যাপ, যা ডাউনলোড করে সেবার বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

সদর উপজেলার হামছাদীর আয়েশা বেগমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, হঠাৎ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নিতে বিভিন্ন স্থানে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজে না পেয়ে ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সেবা কার্যক্রমে কল দেন স্বজনরা। স্বল্প খরচে অল্প সময়ে বাড়িতে পৌঁছে যায় অ্যাম্বুলেন্স। স্বল্প সময়েই পৌঁছান হাসপাতালে। কয়েক দিন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন তিনি।

উত্তর হামছাদীর নাজমুল করিম টিপু বলেন, ‘প্রতি কিলোমিটার রোগীদের কাছ থেকে এসি গাড়ি ২০ টাকা হারে নেয়া হচ্ছে। যেখানে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স করে ভাড়া দিতে হয় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। সেখানে এ সার্ভিসের মাধ্যমে নেয়া হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা।’

এমন সেবায় খুশি তারা। তাদের ভাষ্য, তারা সহজে যেমন সার্ভিস পাওয়া যাচ্ছে, তেমনি স্বল্প খরচে সবাই সেবাও নিতে পারছেন।

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সালাউদ্দিন টিপু বলেন, ‘কম খরচে ও সঠিক সময়ে এ সেবা পেয়ে খুশি সাধারণ মানুষ। এ সেবা কার্যক্রম জেলাজুড়ে ব্যাপক সাড়া মিলেছে।’

প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনিও। তার দাবি, এ ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মাধ্যমে সমাজের খেটে খাওয়া মানুষগুলো স্বাস্থ্যসেবা নিতে সহজ হবে। ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার দাবি জানান তিনি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, 'আমার গ্রাম, আমার শহর’ প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে লক্ষ্মীপুরে গ্রামীণপর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা হয়েছে। সরকারি অনুদানে নয়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নিজস্ব অর্থায়নে চলছে এ কার্যক্রম।’

জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোছাইন আকন্দ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন আমরা পূরণ করতে চাই। আমরা শহরের সুবিধা গ্রামেও পৌঁছাতে চাই। সে লক্ষেই এই উদ্যোগ। আমরা এতে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। সারা দেশে এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে পারলে গ্রামীণ জনপদে মৃত্যুর হার অনেক কমে আসবে।’

এটি অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি এ কার্যক্রমে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
ভারতের উপহারের আরও ৪০ অ্যাম্বুলেন্স বেনাপোলে
মোদির উপহারের ৪০ অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা আসছে বৃহস্পতিবার
বেনাপোল ছেড়েছে ভারতের উপহারের ৩০ অ্যাম্বুলেন্স
ভারতের উপহারের ৩০ অ্যাম্বুলেন্স বেনাপোলে
চট্টগ্রামে বিনা মূল্যে মিলবে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স

মন্তব্য

শিক্ষা
The BNP will continue to raise questions about the Padma Bridge

পদ্মা সেতু নিয়ে প্রশ্ন তুলেই যাবে বিএনপি

পদ্মা সেতু নিয়ে প্রশ্ন তুলেই যাবে বিএনপি পদ্মা সেতুর পরিকল্পনা নেয়ার সময় থেকে নানা দিক নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করতে থাকে বিএনপি। ছবি: নিউজবাংলা
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সমালোচনা করেছি এই সেতু নিয়ে যে দুর্নীতি হয়েছে, সেই দুর্নীতির বিষয়ে। আমাদের তো এখনও কনসার্ন যে, এই যে সেতুটা হলো, তার জন্য সামনে আরও কত টাকা গুনতে হবে এই দেশের জনগণকে।’

কানাডার আদালতে মামলা খারিজ হওয়ার পরও দেশের সবচেয়ে বড় সেতু প্রকল্পটির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই থাকবে বিএনপি।

সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ না থাকলেও দলটির নেতারা দাবি করে আসছেন, এই সেতু নির্মাণে দুর্নীতি হয়েছে। যত টাকা ব্যয় হয়েছে, তার চেয়ে কম টাকায় করা সম্ভব ছিল।

এই ধারণার পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য-উপাত্ত না দিলেও সেতু নির্মাণের প্রাথমিক বরাদ্দ ১০ হাজার ১৬২ কোটি টাকা ধরা হয়েছিল, সেটিই বিএনপির বক্তব্যের প্রধান উপজীব্য। শেষ পর্যন্ত সেতুটি নির্মিত হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকার আশপাশে।

যখন নির্মাণ ব্যয় ১০ হাজার কোটি টাকা রেখে প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়, তখন চার লেনের একটি সড়ক সেতু করার সিদ্ধান্ত হয়। পরে সিদ্ধান্ত পাল্টে স্টিলের দ্বিতল সেতু করা হয়, যাতে সড়ক সেতুর নিচ দিয়ে রেল চলাচলের ব্যবস্থা করা যায়।

জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের নীতিমালাও পাল্টানো হয়। জমির বাজারদরের তিন গুণ ক্ষতিপূরণ দেয়া হয় ক্ষতিগ্রস্তদের। নদীশাসনেও ধারণার চেয়ে বেশি খরচ করতে হয়।

‘পদ্মা সেতু কি কারও পৈতৃক সম্পত্তি? কারও নিজের জমিদারি? এটা তো জনগণের ট্যাক্সের টাকায় হয়েছে। তাহলে এই সেতুতে উঠবেন কি না এমন কথা আসছে কেন?’

শেষ পর্যন্ত নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সমালোচনা করেছি এই সেতু নিয়ে যে দুর্নীতি হয়েছে, সেই দুর্নীতির বিষয়ে। আমাদের তো এখনও কনসার্ন যে, এই যে সেতুটা হলো, তার জন্য সামনে আরও কত টাকা গুনতে হবে এই দেশের জনগণকে।’

পদ্মা সেতু নিয়ে প্রশ্ন তুলেই যাবে বিএনপি

পদ্মা সেতু ইস্যুতে বেগম খালেদা জিয়া ও ড. ইউনূসকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখার পরদিন বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে তার জবাব দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

সরকারি দলের নেতাদের নানা বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘পদ্মা সেতু কি কারও পৈতৃক সম্পত্তি? কারও নিজের জমিদারি? এটা তো জনগণের ট্যাক্সের টাকায় হয়েছে। তাহলে এই সেতুতে উঠবেন কি না এমন কথা আসছে কেন?’

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সেতু কি আপনার পারসোনাল অ্যাসেট? আপনি জিজ্ঞাসা করার কে? বলতে যদি হয়, এটা বলেন যে এই সেতু নির্মাণে কত টাকা পকেটে ঢুকিয়েছেন?’

সেতু উদ্বোধনের দিন বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানানোর কথাও জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তবে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কোনো ইচ্ছা যে দলটির নেই, সেটি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের বক্তব্যেই স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই নিশ্চয় জানেন, আগামী ২৬ মে আমরা ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি রেখেছি। আমাদের চেয়ারপারসনকে নিয়ে যে হুমকি দেয়া হয়েছে, সেটার প্রতিবাদেই এই বিক্ষোভ সমাবেশ। আমার মনে হয়, এই বিক্ষোভের ঘটনাতেই বিএনপির মনোভাব স্পষ্টতর।’

পদ্মা সেতু নিয়ে প্রশ্ন তুলেই যাবে বিএনপি

বিএনপির আক্রমণ ছিল শুরু থেকেই

এই সেতুর পরিকল্পনা নেয়ার সময় থেকেই নানা দিক থেকে সরকারের সমালোচনা করতে থাকে বিএনপি। বিশ্বব্যাংক সেতুর পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতিচেষ্টার অভিযোগ আনার পর দলটি সরকারের পদত্যাগ দাবি করে।

২০১৩ সালে বিশ্বব্যাংক যখন এই সেতু থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে ফেলে, তখন বিএনপির বক্তব্য ছিল, সরকার দুর্নীতি করতে গিয়ে দেশের সম্মান ডুবিয়েছে।

বিশ্বব্যাংক সরে যাওয়ার পর সরকার যখন নিজ অর্থে সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়, তখন বিএনপির পক্ষ থেকে বক্তব্য আসে এমন যে, দুর্নীতি করতে পারবে না বলে বিদেশি অর্থায়ন নিতে চায় না সরকার। আর এত বড় প্রকল্প নিজ অর্থে করলে অন্য উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ কমে যাবে।

নানা জটিলতায় সেতু নির্মাণে পরিকল্পনার চেয়ে যখন বেশি সময় লাগছিল, তখন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার করা একটি উক্তি নিয়ে সম্প্রতি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

খালেদা জিয়া বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ পদ্মা সেতু করতে পারবে না। আর জোড়াতালি দিয়ে যদি একটি সেতু বানায়ও, তাহলেও সেই সেতু ভেঙে পড়বে। দলীয় নেতা-কর্মীদের তিনি সেতুতে না ওঠার পরামর্শও দেন।

বিএনপিকে ঘিরে আওয়ামী লীগের আক্রমণ এখন এই বিষয়টি নিয়েই। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলছেন, বিএনপির ধারণা ছিল না নিজের টাকায় সেতু করা সম্ভব নয়, এটা সরকার মিথ্যা প্রমাণ করেছে। আর কানাডার আদালতের রায়েই প্রমাণ হয়েছে, এই সেতু নিয়ে তোলা অভিযোগের পেছনে ছিল ষড়যন্ত্র।

বিশ্বব্যাংক যে অভিযোগটি তোলে, তখনও পদ্মা সেতুর কোনো অর্থ ছাড় করা হয়নি। কানাডীয় কোম্পানি এসএনসি লাভালিন এই কাজ পেতে আগ্রহী ছিল। একটি উড়োচিঠির ওপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যাংক দাবি করে, এই কাজ পাওয়ার পেছনে ঘুষ লেনদেনের পরিকল্পনা ছিল। এমনকি একটি কথিত ডায়েরি পাওয়ার কথা জানানো হয়, তাতে কাকে কত টাকা দেয়া হবে, তা উল্লেখ ছিল।

বিশ্বব্যাংকের দাবি ছিল সে সময়ের যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি জানিয়ে রাজি হয়নি দুর্নীতি দমন কমিশন।

পরে বিশ্বব্যাংক কানাডার আদালতে এসএনসি লাভালিনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে, যে মামলার রায় প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালে।

অভিযোগের পক্ষে কানাডার আদালতে বিশ্বব্যাংক কোনো তথ্যপ্রমাণ দিতে না পারার পর বিচারক আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাটির প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করে এই অভিযোগকে ‘গালগপ্প’ আখ্যা দেয়।

এর পরও পেরিয়ে গেছে আরও পাঁচটি বছর। সেতুর সব কাজ শেষে ঠিক এক মাস পর উদ্বোধনের তারিখ যখন ঘোষণা হয়েছে, তখন আওয়ামী লীগের আক্রমণের মুখে বিএনপি।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহ্‌মুদ এমনও বলেছেন, বিএনপি ক্ষমা চেয়ে এই সেতুতে উঠতে পারবে।

পদ্মা সেতু নিয়ে প্রশ্ন তুলেই যাবে বিএনপি

প্রধানমন্ত্রী যা বলেছিলেন

গত ১৮ মে রাজধানীতে আওয়ামী লীগের দলীয় এক আলোচনায় শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংক যেন সরে যায়, সে জন্য ড. ইউনূস, ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক নানা সক্রিয় চেষ্টা চালিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু বানাচ্ছে, এই সেতু ভেঙে পড়ে যাবে- এই ধরনের বক্তব্য রাখায় খালেদা জিয়ার প্রতিও ক্ষোভ জানান শেখ হাসিনা।

নানা বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি পদ্মা সেতুবিরোধীদের সেতুতে নিয়ে চোবানোর কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার উক্তি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বলেছে, স্প্যানগুলো যে বসাচ্ছে, সেটা ছিল তার কাছে জোড়াতালি দেয়া। পদ্মা সেতু বানাচ্ছে, তাতে চড়া যাবে না, চড়লে সেটা ভেঙে যাবে। তার সঙ্গে ছিল তার কিছু দোসররা। তাদের কী করা উচিত? পদ্মা সেতুতে নিয়ে গিয়ে ওখান থেকে পদ্মা নদীতে টুস করে ফেলে দেয়া উচিত।’

ড. ইউনূসের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যিনি (ড. ইউনূস) এমডি পদের জন্য পদ্মা সেতুর মতো টাকা বন্ধ করেছেন, তাকেও আবার পদ্মা নদীতে নিয়ে দুটি চুবানি দিয়ে উঠিয়ে নেয়া উচিত, মরে যাতে না যায়। পদ্মা নদীতে দুটি চুবানি দিয়ে সেতুতে উঠিয়া নেয়া উচিত। তাহলে যদি এদের শিক্ষা হয়।’

পদ্মা সেতু থেকে বিশ্বব্যাংকের সরে যাওয়ার পেছনে ড. ইউনূস ছাড়াও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের ভূমিকা ছিল বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘প্রতিহিংসা নেয় ড. ইউনূস এবং যেটা আমরা শুনেছি মাহফুজ আনাম। তারা আমেরিকায় চলে যায়, স্টেট ডিপার্টমেন্টে যায়। হিলারির কাছে ই-মেইল পাঠায়। বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মিস্টার জোয়েলিক তার শেষ কর্মদিবসে কোনো বোর্ডসভায় না, পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দেন।’

পরদিন মাহফুজ আনাম তার পত্রিকা দ্য ডেইলি স্টারে এক ব্যাখ্যায় বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, আমি এ ধরনের উদ্দেশ্য নিয়ে কখনও যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাইনি, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাইনি, কখনও হিলারি ক্লিনটনকে কোনো ই-মেইল পাঠাইনি, ওয়াশিংটনে বা বিশ্বের অন্য কোনো জায়গায় বা শহরে পদ্মা সেতুর অর্থায়নের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কোনো বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈঠক বা যোগাযোগ করিনি।

‘বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, আমার বিষয়ে করা মন্তব্য তথ্যভিত্তিক নয়।’

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতুতে আলো জ্বলবে জুনের শুরুতে
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের অর্থ খালেদার মৃত্যু কামনা নয়: কাদের
আমার বিষয়ে করা মন্তব্য তথ্যভিত্তিক নয়: মাহফুজ আনাম
সেতুর নাম ‘পদ্মা সেতু’ই

মন্তব্য

শিক্ষা
Who was here thousands of years ago

হাজার বছর আগে কারা ছিল এখানে

হাজার বছর আগে কারা ছিল এখানে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটির নাম দেয়া হয়েছে ‘কপিলমুনি ঢিবি’। ছবি: নিউজবাংলা
খুলনা শহর থেকে সড়কপথে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের ওই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটিতে গিয়ে দেখা গেছে, ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৮০ মিটার প্রস্থজুড়ে খননকাজ হয়েছে। সমতল থেকে মাটির প্রায় ৭ ফুট গভীরে খনন করা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাটি ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে।

টেরাকোটা, মূর্তি, মাটির তৈরি বড় কড়াইয়ের আংটা, কড়ি, চাল, ইটের মতো আরও অসংখ্য নিদর্শন একে একে বেরিয়ে এসেছে। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের রেজাকপুর গ্রামে প্রত্নতাত্তিক খননের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসে হাজার বছরের পুরোনো এসব নিদর্শন।

গত ১২ মার্চ থেকে শুরু করে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত এই খননকাজ চলে। খননে বেরিয়ে আসা প্রত্নতাত্ত্বিক ওই স্থানটির নাম দেয়া হয়েছে ‘কপিলমুনি ঢিবি’।

খননকাজে নিয়োজিত দলটির নেতৃত্বে ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা ও বরিশাল বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা।

তিনি বলেন, ‘রেজাকপুর গ্রামে আমরা যে নিদর্শনগুলো পেয়েছি, ধারণা করা হচ্ছে তা এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ বছরের পুরোনো।’

হাজার বছর আগে কারা ছিল এখানে

তিনি জানান, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা অঞ্চলে আগেও অনেক নিদর্শন পাওয়া গেছে। সেসব নিদর্শনের সঙ্গে কপিলমুনি ঢিবির নিদর্শনের অনেক মিলও রয়েছে। বিশেষ করে যশোর জেলার কেশবপুরের ভরতভায়নার নিদর্শনের সঙ্গে অনেক মিল। সেখানকার ইটগুলোর সঙ্গে কপিলমুনিতে পাওয়া ইটগুলোর খুবই সাদৃশ্য রয়েছে।

খুলনা শহর থেকে সড়কপথে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের ওই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটিতে গিয়ে দেখা গেছে, ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৮০ মিটার প্রস্থজুড়ে খননকাজ হয়েছে। সমতল থেকে মাটির প্রায় ৭ ফুট গভীরে খনন করা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাটি ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে।

ওই ঢিবিতে একটি বর্গাকার স্থাপত্যকাঠামো আবিষ্কৃত হয়েছে। বর্গাকার এই স্থাপনার চারপাশে দেয়ালঘেরা একটি প্রদক্ষিণ পথও রয়েছে।

এখানে পাওয়া বিভিন্ন মাটির পাত্র ও পাত্রের ভাঙা অংশের মধ্যে হাঁড়ি, কলস, বাটি, থালা, বদনা, কড়াই, প্রদীপ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও পোড়ামাটির ফলকের ভাঙা অংশ, পোড়ামাটির প্রতিমার ভগ্নাংশ, অলঙ্কৃত ইট, কড়িসহ বিভিন্ন ধরনের প্রত্নতাত্ত্বিক উপকরণও পাওয়া গেছে।

বর্গাকার স্থাপত্যকাঠামোর উত্তর-পশ্চিম কোণ ও উত্তর-পূর্ব কোণের প্রদক্ষিণ পথের বাইরের দেয়ালসংলগ্ন মাটিতে মিশ্রিত অবস্থায় এক ধরনের কালো রঙের চাল পাওয়া গেছে। একে পোড়া চাল বলছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

এই চাল নিয়ে গবেষণা করলে এখানকার প্রাচীন আমলের ধানের প্রজাতিসহ প্রকৃতি-প্রতিবেশ সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে বলে তাদের ধারণা।

হাজার বছর আগে কারা ছিল এখানে

এই ঢিবি এলাকা এখন ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি। বহুকাল ধরেই স্থানীয়রা এখানকার টালিসদৃশ বিশেষ ইট নিজেদের কাজে ব্যবহার করেছেন।

কপিলমুনি ও সংলগ্ন সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার একাধিক জায়গায় এমন আরও ঢিবি রয়েছে। এ থেকে অনুমান করা হচ্ছে, এখানে আরও অনেক নিদর্শন পাওয়া যেতে পারে।

তবে হাজার বছর আগে এই অঞ্চলটিতে কারা বসবাস করেছিল, সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আফরোজা খান মিতা বলেন, ‘এখনও নিশ্চিত না হওয়া গেলেও যেসব স্থাপনা ও নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে- সেখানে এমন কোনো জনগোষ্ঠী ছিল যাদের সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মের নিবিড় সংযোগ ছিল।’

সুন্দরবনসংলগ্ন এই অঞ্চলে বহুদিন আগে থেকেই মানুষের বসতি বলে ধারণা করা হয়। মহাকাব্য রামায়ণে কপিলেশ্বর মুনি ও বিশাল জলাভূমি বনের উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া সতীশচন্দ্র মিত্রের শত বছরের পুরোনো গ্রন্থ ‘যশোহর-খুলনার ইতিহাস’-এ কপিলমুনিতে বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও স্থানের উল্লেখ রয়েছে। এই এলাকায় একাধিক ঢিবি থাকার কথাও অনেকে জানিয়েছেন।

অতীতে একটি পুকুর খননের সময় এই অঞ্চলে একটি বুদ্ধ প্রতিমা পাওয়া গিয়েছিল। আর কপিলমুনি বাজারের মন্দিরে থাকা বিষ্ণু মূর্তিটিও ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ বছরের পুরোনো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কপিলমুনি ঢিবিতে খনন শুরুর পর থেকে এখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, গবেষকসহ বিদেশি প্রতিনিধিদলও ঘুরে গেছেন।

স্থানীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে অনুসন্ধিৎসু পাঠক, আইনজীবী বিপ্লব কান্তি মণ্ডলও কিছুদিন পর পর ওই খননস্থলটিতে ঘুরতে যান। তিনি বলেন, ‘অনেক পরে হলেও রেজাকপুরে খননকাজ করে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ একটি যথাযথ কাজ করেছে। তবে এই খননকাজটি আরও অনেক বিস্তৃত হওয়া উচিত। এত দিনে অনেক নিদর্শন হারিয়ে গেছে। যা আছে, তা রক্ষা করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
খানজাহানের ভিটা খননে সুলতানি আমলের নিদর্শন
মোগল আমলের মসজিদে লতাগুল্মের রাজত্ব
৫০০ কেজির বেলে পাথর জব্দ, গ্রেপ্তার ২
উঠান খুঁড়তে উঠে এল ১৪০০ বছর আগের নিদর্শন

মন্তব্য

p
উপরে