এসএসসি-এইচএসসি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৪ প্রস্তাব

এসএসসি-এইচএসসি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৪ প্রস্তাব

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হলে বিকল্প পদ্ধতিতে পাস করানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে একাধিক প্রস্তাব তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে।’

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে। অবস্থা বেগতিক দেখে পাবলিক পরীক্ষা দুটির বিকল্প ভাবতে শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে চারটি প্রস্তাব।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এসএসসি ও এইচএসসি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চারটি প্রস্তাব হলো:

০১. রচনামূলক বা সৃজনশীল প্রশ্ন বাদ দিয়ে কেবল বহু নির্বাচনি প্রশ্নে (এমসিকিউ) পরীক্ষা নেয়া।

০২. বিষয় ও পূর্ণমান (পরীক্ষার মোট নম্বর) কমিয়ে পরীক্ষা নেয়া। এ ক্ষেত্রে প্রতি বিষয়ের দুই পত্র একীভূত করা এবং ২০০ নম্বরের বদলে ১০০ নম্বরে পরীক্ষা নেয়া চিন্তাও রয়েছে।

০৩. তা-ও সম্ভব না হলে এসএসসির ক্ষেত্রে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার ফলের ৫০ শতাংশ এবং অ্যাসাইনমেন্ট ও ক্লাস অ্যাকটিভিটিসের ওপর ৫০ শতাংশ ফলাফল নিয়ে ফল প্রস্তুত করা হতে পারে।

০৪. এইচএসসির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর এসএসসির ফলের ৫০ শতাংশ, জেএসসির ২৫ শতাংশ এবং অ্যাসাইনমেন্টের ফলের ২৫ শতাংশ সমন্বয় করে ফল প্রকাশ করা হতে পারে।

এসএসসি ও এইচএসসি নিয়ে শিগগিরই প্রস্তাবগুলো তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসতে পারেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হলে বিকল্প পদ্ধতিতে পাস করানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে একাধিক প্রস্তাব তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে।’

ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. নেহাল আহমেদ বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা আটকে আছে। সেটি নেয়া সম্ভব হবে কি না বা বিকল্প পদ্ধতিতে পাস করানো হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। শিক্ষামন্ত্রী যেদিক নির্দেশনা দেবেন তার ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের বলেন, ‘এ বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে কবে সেটি হবে অনুষ্ঠিত হবে তা এখনও নির্ধারণ হয়নি। আশা করছি চলতি সপ্তাহে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হতে পারে।’

এর আগে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ৬০ দিন এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ৮৪ দিনের একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস দিয়ে পরীক্ষা নেয়ার পরিকল্পনা করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। করোনা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে একাধিক বক্তব্যে বিকল্প পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাও নিতে পারেনি সরকার। পরীক্ষা না নিয়ে ফল প্রকাশে আইন সংশোধনের পর গত ৩০ জানুয়ারি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। যাতে পৌনে ১৪ লাখ শিক্ষার্থীর সবাইকে পাস দেয়া হয়।

দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দফায় দফায় তা বাড়িয়ে সময়সীমা আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত শিগগিরই 
এসএসসি ফরম পূরণের সময় বাড়ল
প্রাইভেটে এইচএসসি: ঢাকা বোর্ডে আবেদন শেষ ১০ জুন
এসএসসি, এইচএসসির সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ
এসএসসি ও এইচএসসির সংশোধিত সিলেবাস প্রকাশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জোর করে ঢাবির বিজ্ঞান লাইব্রেরিতে চাকরি প্রত্যাশীরা

জোর করে ঢাবির বিজ্ঞান লাইব্রেরিতে চাকরি প্রত্যাশীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে প্রবেশ করা অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের বেরিয়ে যেতে অনুরোধ করেন প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানী। ছবি: নিউজবাংলা

গ্রন্থাগারের দরজা খোলার পর শুরুতে শৃঙ্খলা দেখা গেলেও মুহূর্তেই বিশৃঙ্খল পরিবেশ দেখা যায়। নিয়মের তোলাক্কা না করে লাইব্রেরিতে ঢুকতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। এ সুযোগে চাকরি প্রত্যাশারাও ঢুকে পড়েন। এসময় দায়িত্বে নিয়োজিত লাইব্রেরির কয়েকজন কর্মচারীকে ধাক্কা এবং ঘুষি দিয়ে ফেলেও দেন তারা।

দেড় বছর পর শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের দরজা। অনার্স চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রন্থাগার খোলা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান গ্রন্থাগারে জোর করে ঢুকে পড়েছেন চাকরি প্রত্যাশীরা।

এসময় তাদের রোখার চেষ্টা করে আঘাত পেয়েছেন গ্রন্থাগারের কয়েকজন কর্মচারী।

রোববার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান গ্রন্থাগারে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরিতে বরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সম্বলিত মাস্ক নিয়ে তারা গ্রন্থাগারের গেইটের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। মাপা হয় শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা। এরপর তাদের হাতে সেনিটাইজার দিয়ে এবং করোনা সনদ যাছাই করে ঢুকতে দেয়া হয় গ্রন্থাগারে।

শুরুতে কিছুটা শৃঙ্খলা দেখা গেলেও খানিক পরই নিয়মের তোয়াক্কা না করে জোর করে গ্রন্থাগারে ঢুকে যায় অনেক শিক্ষার্থী। এ সুযোগে চাকরি প্রত্যাশীরাও ঢুকে পড়েন। এসময় দায়িত্বে নিয়োজিত কয়েকজন কর্মচারীকে ধাক্কা এবং ঘুষি দিয়ে ফেলে দেন তারা।

বাইরের কোনো বই নিয়ে লাইব্রেরিতে প্রবেশ করা যাবে না, এমন নিয়ম থাকলেও তাও মানেননি শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন বিসিএস পরীক্ষার বই হাতে নিয়ে ঢুকে পড়েন তারা।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল বিজ্ঞান লাইব্রেরিতে প্রবেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানী। সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক নাসির উদ্দীন মুন্সি।

তারা চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের বের হয়ে যেতে বললে কিছু শিক্ষার্থী প্রক্টরের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করে তাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রক্টর গোলাম রাব্বানী।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমাদের সহযোগিতা করে কী আমরা ভুল করেছি। তোমরা আমাদের এমন স্মৃতি দিও না যে স্মৃতি আমদের কষ্ট দেয়। তোমাদের প্রতি আমাদের যে মমত্ববোধ সেটি কী আমরা এই দেড় বছরে প্রমাণ করিনি! তোমরা যারা নিয়মিত শিক্ষার্থী আছে তার পড়ো। আর যারা নিয়মিত শিক্ষার্থী না তোমরা আমাদের সহযোগিতা করো। তোমাদের বিষয়ে আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।’

লাইব্রেরিয়ান নাসির উদ্দীন মুন্সি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা শিক্ষকরাও তোমাদের কাছ থেকে শিখব। তোমরা এমন কোনো আচরণ করে সেটি নষ্ট করে দিও না।’

কথা শেষ করেই শিক্ষার্থীদের সেখানে রেখেই বের হয়ে যান প্রক্টর এবং গ্রন্থাগারের দায়িত্বে নিয়োজিত শিক্ষকবৃন্দ।

পরে শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের কাছে লাইব্রেরি সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানান।

শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে প্রক্টর বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা পড়তে চায়, এটি ইতিবাচক দিক। এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করব।’

গ্রন্থাগারিক নাসির উদ্দীন মুন্সি বলেন, ‘আমাদের সকল আয়োজন থাকার পরও শিক্ষার্থীরা জোর করে ঢুকে পড়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই চাকরি প্রত্যাশী। যেহেতু ঢুকে পড়েছে তাই আমরা আজ বের করে দেয়নি। সামনের দিনে এটি নজরে রাখা হবে।’

বিজ্ঞান গ্রন্থাগারে চাকরি প্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের জোর করে প্রবেশের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের সচেতনতার জায়গাটি খুবই প্রখর। এটি আমাদের শক্তি। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থীদের যথেষ্ঠ সচেতনতা ছিল। আশা করি, এই ধরনের ভূমিকা সবাই পালন করবেন। আমরা শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে শ্রদ্ধাশীল। প্রত্যেকেই যদি আমরা দায়িত্বশীল আচরণ করি তাহলে কিন্তু একটি শিক্ষা অনুকূল পরিবেশ আমরা নিশ্চিত করতে পারব।’

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত শিগগিরই 
এসএসসি ফরম পূরণের সময় বাড়ল
প্রাইভেটে এইচএসসি: ঢাকা বোর্ডে আবেদন শেষ ১০ জুন
এসএসসি, এইচএসসির সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ
এসএসসি ও এইচএসসির সংশোধিত সিলেবাস প্রকাশ

শেয়ার করুন

থাকার কথা কলেজে, হাজিরা স্কুলে

থাকার কথা কলেজে, হাজিরা স্কুলে

এসএসসি পরীক্ষার্থী ফাহমিদা খাতুন বলে, ‘আমার বোন কলেজে এখন দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে। ও যখন কলেজে যায় তখন আমার স্কুলের পোশাক পরে আসতে হচ্ছে। অথচ আমরা দুইবোন এক বছরের ছোট-বড়। শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে আমাদের মাঝে প্রায় দুই বছরের ব্যবধান করে দিয়েছে। যা মন থেকে মেনে নিতে পারছি না।’

স্কুলের পোশাক পরে বিষণ্ণ মুখে বিদ্যালয়ের সামনে বসে আছে রিমন। আটসাট জামাটি বলে দিচ্ছে এটি বেশ পুরোনো।

রিমনের এখন থাকার কথা কলেজে। এবার এসএসসি পরীক্ষা না হওয়ায় সে আর কলেজে উঠতে পারেনি। করোনার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ায় তাকে আসতে হয়েছে স্কুলে।

মাগুরা শিবরামপুর স্কুলের রিমনের মতো প্রায় সব হাইস্কুল পর্যায়ে এই চিত্র উঠে এসেছে। করোনার কারণে এসএসসি পিছিয়ে যাওয়ায় বিমর্ষ পরীক্ষার্থীরা।

রিমন বিশ্বাস বলে, ‘আমার আগের ব্যাচ অটোপাসে এখন কলেজের সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছে। কদিন পর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাবে। অথচ আমরা অটোপাস পাইনি, আবার এসএসসি পরীক্ষাটাও সময়মতো পেলাম না। স্কুল খোলার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এখানে আসতে হলো হাজিরা দিতে। আমরা প্রস্তুতি ক্লাস পাচ্ছি। তবু মনের ভেতরে কলেজের ওঠার ইচ্ছা ভর করে আছে।’

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন, সব ঠিক থাকলে চলতি বছরের মধ্য নভেম্বরে এসএসসি ও ডিসেম্বরের শুরুতে এইচএসসি পরীক্ষা হবে। আপাতত সেই লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে মাগুরার হাইস্কুল পর্যায়ের বিদ্যালয়গুলো। তবে এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা এই ব্যবধান নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে।

মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী অর্পিতা জানায়, স্কুলে গেলেও পড়ায় মন বসছে না। বছরের শুরুতে পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো ছিল। সেই পরীক্ষাটা বছর শেষের দিকেও না হওয়ায় সে হতাশ।

অর্পিতা বলে, ‘যেখানে এতদিনে আমাদের কলেজে পড়ার করার কথা, নতুন করে ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা করার কথা, সেখানে আমরা স্কুলেই পড়ে আছি। এটা খুবই বিব্রতকর।’

ফাহমিদা খাতুন নামে আরেক এসএসসি পরীক্ষার্থী বলে, ‘আমাদের কলেজে যাওয়ার কথা এখন থেকে তিন মাস আগে। অন্তত শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ী ধরলে এটাই সময়। কলেজে এখন প্রথম বর্ষ নামে কোনো বিভাগ নাই। কারণ আমরাই এই প্রথম বর্ষ।

‘আমার বোন কলেজে এখন দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে। ও যখন কলেজে যায় তখন আমার স্কুলের পোশাক পড়ে আসতে হচ্ছে। অথচ আমরা দুইবোন এক বছরের ছোট-বড়। শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে আমাদের মাঝে প্রায় দুই বছরের ব্যবধান করে দিয়েছে। যা মন থেকে মেনে নিতে পারছি না।’

থাকার কথা কলেজে, হাজিরা স্কুলে


মাগুরা সরকারি মডেল স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী নিরব বলে, ‘এসএসসি পরীক্ষা সময় মতো না নেয়ায় আমাদের বয়সের সময় তো আর থেমে নেই। আমার বন্ধুরা দেখেন সবাই বড় হয়ে গেছে। আমাদের আর স্কুলের মতো আচার-আচরণ নেই। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে আমরা কলেজে যেতে চাই। ঠিক সময় পরীক্ষা এবার না হলে স্কুল ছেড়ে দেব ভাবছি।’

শিক্ষাবর্ষের এই জটে জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে শঙ্কা শিক্ষকদেরও।

মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহাদত হোসেন বলেন, ‘করোনার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় আমাদের শিক্ষার্থীদের বয়স অনুসারে ক্লাসে পড়াশোনা নিয়ে কিছুটা ব্যবধান তৈরি হয়েছে। যেমন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কলেজে যাবার কথা আগেই। হয়তো সামনেই পরীক্ষা। এরপর ফল বের হয়ে কলেজে যেতে সামনের বছর হয়ে যেতে পারে। তখন আবার আর একটি এসএসসি ব্যাচ আমরা পেয়ে যাব। এভাবে কলেজে গিয়েও একটা জটিলতা তৈরি হতে পারে।’

মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার জোর্য়াদ্দার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এবার এসএসসি ব্যাচ নিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবু আমরা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে শক্ত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি।

‘প্রাণঘাতী করোনা থেকে বেঁচে থাকাটাই আসলে আমাদের প্রধান কাজ হয়ে গেছে। সেখানে শিক্ষা জীবনে একটু পরিবির্তন মেনে নিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত শিগগিরই 
এসএসসি ফরম পূরণের সময় বাড়ল
প্রাইভেটে এইচএসসি: ঢাকা বোর্ডে আবেদন শেষ ১০ জুন
এসএসসি, এইচএসসির সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ
এসএসসি ও এইচএসসির সংশোধিত সিলেবাস প্রকাশ

শেয়ার করুন

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে ‘উন্নয়নের ১ যুগ’ চিত্র প্রদর্শনী শুরু

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে ‘উন্নয়নের ১ যুগ’ চিত্র প্রদর্শনী শুরু

শেরাটন ঢাকা হোটেলে ‘বাংলাদেশ: উন্নয়নের এক যুগ’ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এবং বাংলাদেশে কানাডিয়ান হাইকমিশনার বেনেইট প্রিফন্টেইন ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

তিন দিনের এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল, সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডিয়ান হাইকমিশনার বেনেইট প্রিফন্টেইন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উদযাপনে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের উদ্যোগে শুরু হয়েছে তিন দিনের বিশেষ চিত্র প্রদর্শনী।

‘বাংলাদেশ: উন্নয়নের ১ যুগ’ শিরোনামের এ প্রদর্শনীতে রয়েছে সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত এক যুগের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বৈশ্বিক অঙ্গনে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার আলোকচিত্র। শেখ হাসিনার জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তের দুর্লভ ছবিও রয়েছে প্রদর্শনীতে।

রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের শেরাটন ঢাকা হোটেলে রোববার বেলা ১১টায় ফিতা ও কেক কেটে উদ্বোধন করা হয় তিন দিনের এই আয়োজন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এবং সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে কানাডিয়ান হাইকমিশনার বেনেইট প্রিফন্টেইন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মময় সংগ্রামী জীবন নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করায় ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের উৎসব নানাভাবে পালন হচ্ছে, হবে। সারা বাংলাদেশে নানা জায়গায় পালিত হচ্ছে, দেশের বাইরেও হচ্ছে। কিন্তু আমি বলতে চাই, তার ৭৫ বছরের এই জীবনের বিভিন্ন সংগ্রাম, আন্দোলন, কর্মময় জীবনের যে ব্যাপ্তি সেটি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার অনন্য মাধ্যম হচ্ছে এই প্রদর্শনী।’

প্রদর্শনীর আলোকচিত্র সম্পর্কে স্পিকার বলেন, ‘এখানে লক্ষ করে দেখেছি, চিত্রগুলো বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করা যায়। টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম; বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, ভাই-বোনদের মাঝে তার বেড়ে ওঠা; শিক্ষাজীবন; সাংসারিক জীবন; পারিবারিক জীবন; সন্তানদের ছবি এখানে আছে। এরপর তিনি কীভাবে রাজনীতিতে এলেন, কীভাবে বাংলাদেশের হাল ধরলেন, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, চারবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন- তার সব কিছুই চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যারা এখানে আসবেন তারা অনেক নতুন তথ্য পাবেন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জাতীয় সংসদের স্পিকার বলেন, “আমি লক্ষ করেছি, একটা জায়গাতে তার খুব পাওয়ারফুল একটি স্টেটমেন্ট আছে। সম্ভবত ১৯৮৪ সালে তিনি জাতীয় সংসদের সামনে দাঁড়িয়ে এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘এই সংসদ জনতার সংসদ’। এই যে গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস, মানুষের শক্তির প্রতি যে বিশ্বাস, মানুষের সমর্থনের প্রতি যে বিশ্বাস, সেটি তার রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি। তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, তখনও তার বক্তব্যে সেটির সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখেছি।

"আজ তিনি চারবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, তার যে ভিত, সেটা তিনি অনেক কষ্টে রচনা করেছেন। অনেক দুঃসহ পথ পাড়ি দিয়ে এই অবস্থানটি তাকে নিজের জন্য তৈরি করতে হয়েছে এবং বাংলাদেশের জন্য তৈরি করতে হয়েছে।"

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতের ঘটনা এবং এর পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতির কথা তুলে ধরে স্পিকার বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যখন লিখতে হয় বা বলতে হয়- আমি বিশ্বাস করি ১৯৮১ সালের ১৭ মে তারিখটি বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি টার্নিং পয়েন্ট। কারণ সেই দিন প্রধানমন্ত্রী, তখনকার শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে স্বজনহারা বেদনা নিয়ে ফিরে এসেছিলেন। সেদিন ‘ঝড়-বৃষ্টির আঁধার রাতে আমরা আছি তোমার সাথে’ এমন স্লোগানে মুখরিত হয়েছিল বাংলার মাটি।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়নকে যে পর্যায়ে নিয়ে গেছেন সেটি সত্যিই বিস্ময়কর মন্তব্য করে স্পিকার বলেন, ‘বিশ্বনেতারাও সমস্বরে বলছেন, এটি একটি উন্নয়ন বিস্ময়।

‘বিশ্বের মানুষকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে আমাদের পদ্মা সেতু। প্রধানমন্ত্রীর মতো একজন নেতা আছেন বলেই আজকে বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো একটি সেতু নির্মাণ করতে পেরেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যার নেতৃত্বে পেয়েছি একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ; তার কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিয়ে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দর্শন বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের দর্শন।’

স্পিকার তার বক্তব্যের শেষপর্যায়ে রবি ঠাকুরকে উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেন-

‘ভেঙেছ দুয়ার, এসেছ জ্যোতির্ময়, তোমারি হউক জয়।

তিমিরবিদার উদার অভ্যুদয়, তোমারি হউক জয়।’

বিশেষ অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা উন্নয়নের কাণ্ডারি। উন্নত-সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার।

‘প্রধানমন্ত্রীর মেধা, প্রজ্ঞা, মনন ও একাগ্রতায় বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে এসডিজি অর্জনে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করে চলছে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ এখন উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের রোল মডেল।’

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ প্রশংসিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা না থাকলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন সফল হতো না। সারা বিশ্বে তিনি এখন অনুকরণীয় রাষ্ট্রনায়ক ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। শুধু দেশ ও মানুষের অধিকারের সুরক্ষায় নয়, তিনি বিশ্বের মানুষের অধিকারের সুরক্ষায় অবিরাম সংগ্রাম করে চলেছেন।’

অনুষ্ঠানের সম্মানীয় অতিথি কানাডিয়ান হাইকমিশনার বেনেইট প্রিফন্টেইন বলেন, ‘এই আয়োজনে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই প্রদর্শনী থেকে আমি প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছি।‘

বাংলাদেশের সঙ্গে কানাডার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন দেশটির রাষ্ট্রদূত।

অনুষ্ঠানে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, ‘আমাদের প্রজন্ম কেন যেন বুঝে উঠতে পারেনি যে, শেখ হাসিনা আমাদের জন্য কত বড় গিফট। আজ থেকে ১০০ বছর পর যে প্রজন্ম আসবে, তারা যখন পেছনে তাকাবে, তখন আমাদের চেয়ে অনেক বেশি বঙ্গবন্ধুকন্যাকে তারা মূল্যায়ন করতে পারবে।

‘আমি যখন ওয়াশিংটন ডিসিতে যাই তখন আব্রাহাম লিংকনের বিশাল স্ট্যাচুর সামনে দাঁড়াই। আমার কেন যেন মনে হয়, জর্জ ওয়াশিংটন আমেরিকাকে স্বাধীন করেছেন, কিন্তু আমেরিকা যখন ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছিল, আব্রাহাম লিংকন তখন তাকে আটকে ধরে ঠিক করেন। বাংলার রাজনীতিতে শেখ হাসিনা হলেন সেই আব্রাহাম লিংকন।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অনুষ্ঠানের সভাপতি কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

তিনি বলেন, ‘এই আয়োজন করতে আমাদের এক বছর ধরে কাজ করতে হয়েছে। আসলে গত ১২ বছরে দেশে এত উন্নয়ন হয়েছে যে, মানুষ তার (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) সংগ্রামী জীবনের কথা ভুলে গেছেন। আমরা চেষ্টা করেছি, এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে উপস্থাপন করতে।’

চিত্র প্রদর্শনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন ২০০৯ সালে। এরপর আরও দুবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগেই শেখ হাসিনা ঘোষণা করেন রূপকল্প ২০২১। সেই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরের গল্প শুধুই এগিয়ে যাওয়ার। একসময়ে যে বাংলাদেশ পরিচিত ছিল বন্যাকবলিত, দারিদ্র্যপীড়িত দেশ হিসেবে, সেই দেশই এখন সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়নদর্শন তরুণদের সামনে তুলে ধরে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতেই এ আয়োজন বলে জানিয়েছে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।

প্রদর্শনীটি মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক।

প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠান হবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায়। শেরাটন ঢাকা হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বিশেষ অতিথি থাকবেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত শিগগিরই 
এসএসসি ফরম পূরণের সময় বাড়ল
প্রাইভেটে এইচএসসি: ঢাকা বোর্ডে আবেদন শেষ ১০ জুন
এসএসসি, এইচএসসির সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ
এসএসসি ও এইচএসসির সংশোধিত সিলেবাস প্রকাশ

শেয়ার করুন

দেড় বছর পর খুলল ঢাবি গ্রন্থাগারের দরজা

দেড় বছর পর খুলল ঢাবি গ্রন্থাগারের দরজা

দেড় বছর পর শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার। ছবি: নিউজবাংলা

পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লাইব্রেরিতে আপাতত প্রদেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে অনার্স চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের। তবে এসব শিক্ষার্থীদের অন্তত করোনারোধী একডোজ টিকা নেয়ার সনদ থাকতে হবে।

করোনাভাইরাসের কারণে দেড় বছর বন্ধ থাকার পর শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের দরজা। করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়ার সনদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র দেখিয়ে গ্রন্থাগারে প্রবেশ করতে পারছেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার সকাল ১০টায় খুলে দেয়া হয় লাইব্রেরি। আগে থেকেই দরজার সামনে অপেক্ষায় ছিলেন অনেক শিক্ষার্থী। দরজা খুলতেই গ্রন্থাগারের ভেতর প্রবেশে হুমড়ি খেয়ে পড়েন তারা। বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে গ্রন্থাগার।

পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লাইব্রেরিতে আপাতত প্রদেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে অনার্স চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের। তবে এসব শিক্ষার্থীদের অন্তত করোনারোধী একডোজ টিকা নেয়ার সনদ থাকতে হবে।

চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের আগামী ৫ অক্টোবর থেকে হলে তুলতেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর লাইব্রেরি খোলা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে লাইব্রেরিতি প্রবেশ করছেন। শিক্ষার্থীদের আনন্দ দেখে আমাদেরও খুব ভালো লাগছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৫ অক্টোবর শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো খুলে দেয়া হবে।’

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে ২০২০ সালের ১৮ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কার্যক্রমের সঙ্গে বন্ধ করে দেয়া হয় গ্রন্থাগারও। সে হিসেবে ৫৫৬ দিন পর খুলল গ্রন্থাগারের দুয়ার।

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাসরিন সুলতানা বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর লাইব্রেরি খুলেছে। সামনে পরীক্ষা আছে। পড়ার ভালো পরিবেশ পাব। তবে সব বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য লাইব্রেরি খুলে দেয়া উচিত ছিল। এতদিন পর শুধু দুই শিক্ষাবর্ষের জন্য লাইব্রেরি খোলা ভালো হয়নি।’

মাস্টার্সের শিক্ষার্থী নসরুল্লাহ বলেন, ‘লাইব্রেরি খুলছে আজ, আর হল খুলবে আরও ১০দিন পর এটা কোন ধরনের সিদ্ধান্ত আমার মাথায় আসে না। তারপরও খুলেছে এটাই মন্দের ভালো। শিক্ষার্থীদের জন্য এক সেপ্টেম্বর থেকে হলও খুলে দেয়া উচিত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেটি করেনি।’

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত শিগগিরই 
এসএসসি ফরম পূরণের সময় বাড়ল
প্রাইভেটে এইচএসসি: ঢাকা বোর্ডে আবেদন শেষ ১০ জুন
এসএসসি, এইচএসসির সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ
এসএসসি ও এইচএসসির সংশোধিত সিলেবাস প্রকাশ

শেয়ার করুন

পরীক্ষার রুটিনের আশায় আটকে আছে জবির বাস শিডিউল

পরীক্ষার রুটিনের আশায় আটকে আছে জবির বাস শিডিউল

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ‘পরীক্ষার সময়সূচি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বাসের শিডিউল তৈরি করা যাচ্ছে না। সব বিভাগের চেয়ারম্যানদের কাছে রুটিন চাওয়া হয়েছে।’

চলতি বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের আটকে থাকা সেমিস্টার ফাইনাল।

সশরীরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পরীক্ষার দিনগুলোতেই শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বাস চলবে। তবে সব বিভাগের পরীক্ষার সময়সূচি না পাওয়ায় বাসের শিডিউল তৈরিতে সময় লাগছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন প্রশাসনের।

শনিবার নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাসুদ।

তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র পরীক্ষার দিনগুলোতেই পরিবহন চলবে। উদ্দেশ্য যেহেতু পরীক্ষা নেয়া, তাই এ সিদ্ধান্ত।’

বাসের শিডিউল প্রস্তুতির বিষয়ে পরিবহন প্রশাসক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরীক্ষার সময়সূচি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বাসের শিডিউল তৈরি করা যাচ্ছে না। সব বিভাগের চেয়ারম্যানদের কাছে রুটিন চাওয়া হয়েছে। এখন সব বিভাগ থেকে রুটিন না এলে পরে শিডিউল বিপর্যয় হবে। কিছু বিভাগ পরীক্ষার রুটিন পুনরায় সংশোধন করছে। তাই নিশ্চিতভাবে পরীক্ষার রুটিনগুলো পাওয়ার আগে বাসের শিডিউল তৈরি করা যাচ্ছে না।’

৭ সেপ্টেম্বর উপাচার্যের সঙ্গে ডিন ও চেয়ারম্যানদের একটি বৈঠকে বিভিন্ন বর্ষের আটকে থাকা সেমিস্টার পরীক্ষা ৭ অক্টোবর থেকে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যদি সার্বিক পরিস্থিতির কারণে সশরীরে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হয়, তবে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়া হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার পরপরই বিভিন্ন অনুষদের ডিন সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যানদের পরীক্ষা নেয়ার জন্য রুটিন দেয়ার নির্দেশ দেন।

এতে বিভিন্ন বিভাগ সময়সূচি ঘোষণার সঙ্গে রুটিনও প্রকাশ করতে থাকে। তবে পরীক্ষার রুটিন দেয়ার পরপরই দেখা যায়, পূজার ছুটিতেও কিছু বিভাগের পরীক্ষার তারিখ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জানান বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

পরে ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে অনুষ্ঠিত ডিনস কমিটির এক সভায় ৭ অক্টোবরের আগে এবং পূজার সময় ১১-১৬ অক্টোবর কোনো সেমিস্টার পরীক্ষা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার নতুন এ সিদ্ধান্তের পর অনেক বিভাগেরই রুটিন পরিবর্তন করতে হয়েছে। তবে এখনও সব ডিপার্টমেন্ট রুটিন না দেয়ায় এবং বেশ কয়েকটি বিভাগের রুটিন পরিবর্তন না করায় বাস শিডিউল তৈরি করতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে নরসিংদী থেকে নিয়মিত ক্লাস করা তামান্না আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরীক্ষা ৭ তারিখ থেকে শুরু হলে বাস কবে থেকে চালু হবে আর কখন চালু হবে? এখনও না জানালে আমাদের বিকল্প ব্যবস্থা তো নিতে হবে।’

মুন্সিগঞ্জ থেকে এসে ক্লাস করা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী মেহনাজ ফাহিম বলেন, ‘শুনেছি পরীক্ষার সময় বাস চলবে। কিন্তু কবে থেকে আর কখন চলবে প্রশাসন এখনও কিছু জানায়নি। এমনকি কোনো বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেনি। বাস না পেলে পরে যদি পরীক্ষা মিস হয় তাহলে এর দায়ভার কে নিবে?’

এছাড়া ঢাকার মধ্যে বাসগুলো দুই শিফট করারও দাবি জানাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ও বিআরটিসির ভাড়া করা বাসে শিক্ষার্থীরা ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের চারটি জেলায় (নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ ও কুমিল্লা) যাতায়াত করেন।

অভিযোগ রয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে বিআরটিসির পুরোনো ও মেরামত করা বাসগুলো দেয়া হয়। এতে প্রায়ই রাস্তায় বাস নষ্ট হওয়া ও চাকায় আগুন ধরাসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।

বাস শিডিউল প্রকাশের পর জনবল ও গাড়ির সচলতা ইত্যাদি বিষয় তদারকি করে বাস চলবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল।

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত শিগগিরই 
এসএসসি ফরম পূরণের সময় বাড়ল
প্রাইভেটে এইচএসসি: ঢাকা বোর্ডে আবেদন শেষ ১০ জুন
এসএসসি, এইচএসসির সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ
এসএসসি ও এইচএসসির সংশোধিত সিলেবাস প্রকাশ

শেয়ার করুন

ছাত্রলীগের মেশকাতের পাশে ইশা ছাত্র আন্দোলন

ছাত্রলীগের মেশকাতের পাশে ইশা ছাত্র আন্দোলন

ছাত্রলীগ নেতা মেশকাতকে দেখতে বুধবার তার বাড়িতে যান ইশা ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

ইশা ছাত্র আন্দোলনের নেতা কেএম শরীয়াতুল্লাহ বলেন, ‘মেশকাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। ক্যাম্পাসে তিনি আমাদের সবার সঙ্গে মিশতেন, গল্প করতেন। এছাড়া উনি কোরআনের হাফেজ এবং নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, যা ওনার সংগঠনে বিরল। এছাড়া কেউ অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া একটি রাজনৈতিক শিষ্টাচারও। সেজন্যই আমরা ওনাকে দেখতে গিয়েছি।’  

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পরও নিজ সংগঠন থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা না পেয়ে ফেসবুকে ক্ষোভ জানান ছাত্রলীগের উপপ্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মেশকাত হোসেন।

অসুস্থতার খবর পেয়ে শয্যাশায়ী এই ছাত্রলীগ নেতাকে দেখতে গিয়েছিলেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতা।

বুধবার ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কেএম শরীয়াতুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আহসান মারজান ঢাকা থেকে মাদারীপুর পৌঁছান। মেশকাতের বাসায় গিয়ে তার জন্য দোয়ার আয়োজন করেন তারা।

এসময় সংগঠনটির মাদারীপুর জেলা সভাপতি রেজাউল করীম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান ও মাদারীপুর সদর থানা সভাপতি হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

দেখতে যাওয়ার বিষয়ে কেএম শরীয়াতুল্লাহ বলেন, ‘মেশকাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। ক্যাম্পাসে তিনি আমাদের সবার সঙ্গে মিশতেন, গল্প করতেন। এছাড়া উনি কোরআনের হাফেজ এবং নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, যা ওনার সংগঠনে বিরল। এছাড়া কেউ অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া একটি রাজনৈতিক শিষ্টাচারও। সেজন্যই আমরা ওনাকে দেখতে গিয়েছি।’

ইশা ছাত্র আন্দোলনের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আহসান মারজান বলেন, ‘উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমরা জানতে পেরেছি, তার অসুস্থতার খোঁজ নেয়ার কেউ ছিল না। শুধুমাত্র ওনার সেবার জন্য আমরা গিয়েছি। অসুস্থের সেবা নবী (সা.) এর সুন্নত।’

গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর নিজ দলের কেন্দ্রীয় দুই নেতা কোনো খোঁজ না নেয়ায় এবং ফোন না ধরার অভিযোগ তুলে ১৮ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে পোস্টে ক্ষোভ জানান মেশকাত।

অনুরোধ করেন, তার মৃত্যুর পর ছাত্রলীগ থেকে যেন কোনো দোয়ার আয়োজন করা বা প্রেস রিলিজ দেয়া না হয়।

এছাড়া ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যেন তার জানাজায় না আসেন সেই অনুরোধও জানান মেশকাত।

পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘জীবনটা নিভু নিভু, আল্লাহর কাছে স্বাভাবিক মৃত্যু কামনা করছিলাম। গত ১৪ তারিখে আমি খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ি। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বারবার ফোন দিই কিছু একটা করার জন্য, কিন্তু তারা ফোন ধরেননি। এতে বুঝা যায়, আমরা মরলেও তাদের সমস্যা নাই।’

আক্ষেপ করে মেশকাত বলেন, ‘জীবনে যেই পার্টির জন্য এত সময় ব্যয় করলাম, সেই পার্টি আমার অসুস্থতারও খোঁজ নিতে পারে না। তারা খোঁজ নিত যদি তাদের দালালি করতাম। যাই হোক, আমার প্রতিবাদ থেমে গেলেও তৃণমূলের কোনো না কোনো কর্মী প্রতিবাদের কলম হাতে তুলে নেবে আশা রাখি।’

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত শিগগিরই 
এসএসসি ফরম পূরণের সময় বাড়ল
প্রাইভেটে এইচএসসি: ঢাকা বোর্ডে আবেদন শেষ ১০ জুন
এসএসসি, এইচএসসির সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ
এসএসসি ও এইচএসসির সংশোধিত সিলেবাস প্রকাশ

শেয়ার করুন

নতুন দুটি ট্রেন পাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

নতুন দুটি ট্রেন পাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, ‘আমি শুক্রবারও রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, তিনি আমাদের একটি নয়, দুইটি শাটল ট্রেন দেবেন। অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে চালু হবে ট্রেন দুটি।’

পহেলা অক্টোবর থেকে দুটি নতুন ট্রেন পেতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

৩৩তম সিনেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে শনিবার এ কথা বলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। সিনেট সদস্য ড. ওমর ফারুক রাসেলের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

উপাচার্য বলেন, ‘আমি শুক্রবারও রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, তিনি আমাদের একটি নয়, দুইটি শাটল ট্রেন দেবেন। অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে চালু হবে ট্রেন দুটি।’

২০১৯ সালের জুলাই মাসে শাটল ট্রেনে চড়ে ক্যাম্পাসে আসেন রেলমন্ত্রী। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, রেলওয়ের ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রেলমন্ত্রী।

তখন তিনি ঘোষণা দেন, এসি ও ওয়াই-ফাইসহ ১৫-১৬ বগিবিশিষ্ট একটি নতুন ট্রেন দেবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত শিগগিরই 
এসএসসি ফরম পূরণের সময় বাড়ল
প্রাইভেটে এইচএসসি: ঢাকা বোর্ডে আবেদন শেষ ১০ জুন
এসএসসি, এইচএসসির সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ
এসএসসি ও এইচএসসির সংশোধিত সিলেবাস প্রকাশ

শেয়ার করুন