এসএসসি-এইচএসসি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৪ প্রস্তাব

এসএসসি-এইচএসসি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৪ প্রস্তাব

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হলে বিকল্প পদ্ধতিতে পাস করানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে একাধিক প্রস্তাব তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে।’

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে। অবস্থা বেগতিক দেখে পাবলিক পরীক্ষা দুটির বিকল্প ভাবতে শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে চারটি প্রস্তাব।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এসএসসি ও এইচএসসি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চারটি প্রস্তাব হলো:

০১. রচনামূলক বা সৃজনশীল প্রশ্ন বাদ দিয়ে কেবল বহু নির্বাচনি প্রশ্নে (এমসিকিউ) পরীক্ষা নেয়া।

০২. বিষয় ও পূর্ণমান (পরীক্ষার মোট নম্বর) কমিয়ে পরীক্ষা নেয়া। এ ক্ষেত্রে প্রতি বিষয়ের দুই পত্র একীভূত করা এবং ২০০ নম্বরের বদলে ১০০ নম্বরে পরীক্ষা নেয়া চিন্তাও রয়েছে।

০৩. তা-ও সম্ভব না হলে এসএসসির ক্ষেত্রে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার ফলের ৫০ শতাংশ এবং অ্যাসাইনমেন্ট ও ক্লাস অ্যাকটিভিটিসের ওপর ৫০ শতাংশ ফলাফল নিয়ে ফল প্রস্তুত করা হতে পারে।

০৪. এইচএসসির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর এসএসসির ফলের ৫০ শতাংশ, জেএসসির ২৫ শতাংশ এবং অ্যাসাইনমেন্টের ফলের ২৫ শতাংশ সমন্বয় করে ফল প্রকাশ করা হতে পারে।

এসএসসি ও এইচএসসি নিয়ে শিগগিরই প্রস্তাবগুলো তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসতে পারেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হলে বিকল্প পদ্ধতিতে পাস করানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে একাধিক প্রস্তাব তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে।’

ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. নেহাল আহমেদ বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা আটকে আছে। সেটি নেয়া সম্ভব হবে কি না বা বিকল্প পদ্ধতিতে পাস করানো হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। শিক্ষামন্ত্রী যেদিক নির্দেশনা দেবেন তার ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের বলেন, ‘এ বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে কবে সেটি হবে অনুষ্ঠিত হবে তা এখনও নির্ধারণ হয়নি। আশা করছি চলতি সপ্তাহে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হতে পারে।’

এর আগে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ৬০ দিন এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ৮৪ দিনের একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস দিয়ে পরীক্ষা নেয়ার পরিকল্পনা করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। করোনা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে একাধিক বক্তব্যে বিকল্প পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাও নিতে পারেনি সরকার। পরীক্ষা না নিয়ে ফল প্রকাশে আইন সংশোধনের পর গত ৩০ জানুয়ারি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। যাতে পৌনে ১৪ লাখ শিক্ষার্থীর সবাইকে পাস দেয়া হয়।

দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দফায় দফায় তা বাড়িয়ে সময়সীমা আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত শিগগিরই 
এসএসসি ফরম পূরণের সময় বাড়ল
প্রাইভেটে এইচএসসি: ঢাকা বোর্ডে আবেদন শেষ ১০ জুন
এসএসসি, এইচএসসির সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ
এসএসসি ও এইচএসসির সংশোধিত সিলেবাস প্রকাশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য