× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ৩ লাখ ৬১ হাজার আবেদন
hear-news
player
print-icon

২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ৩ লাখ ৬১ হাজার আবেদন

২০-বিশ্ববিদ্যালয়ের-গুচ্ছ-ভর্তি-পরীক্ষায়-৩-লাখ-৬১-হাজার-আবেদন
বিজ্ঞান বিভাগ অর্থাৎ ‘এ’ ইউনিটে ভর্তি হতে ইচ্ছুক ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪১ জন, মানবিক অর্থাৎ ‘বি’ ইউনিটে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৩৩ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে অর্থাৎ বাণিজ্য বিভাগে আবেদন পড়েছে ৫৭ হাজার ৬৩২টি।

দেশের ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় মোট আবেদন করেছে ৩ লাখ ৬১ হাজার ৪০৬ জন শিক্ষার্থী।

আবেদনের সময় গতকাল রাতেই শেষ হয়েছে।

শনিবার নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা বিষয়ক টেকনিক্যাল সাব-কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মুনাজ আহমেদ নূর।

তিনি জানান, যারা আবেদন করেছেন, তাদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ অর্থাৎ ‘এ’ ইউনিটে ভর্তি হতে ইচ্ছুক ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪১ জন, মানবিক অর্থাৎ ‘বি’ ইউনিটে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৩৩ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে অর্থাৎ বাণিজ্য বিভাগে আবেদন পড়েছে ৫৭ হাজার ৬৩২টি।

আবেদনের সময়সীমা আর বাড়ানোর হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার আয়োজক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন জানান, ১৯ ও ২৬ জুন এবং আগামী মাসের ৩ তারিখের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণেই গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম অনেকটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তাহলে পরীক্ষা কখন হবে- এই প্রশ্নে সমন্বিত ভর্তি কমিটির সচিব ওহিদুজ্জামান বলেন, ‘খুব দ্রুতই আমরা একটা মিটিং করব, খুব সম্ভবত চলতি মাসেই। মিটিং এ কবে নাগাদ প্রাথমিক আবেদনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা যেতে পারে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পরীক্ষার ব্যাপারে পরিস্থিতি অনুযায়ী আলোচনার ভিত্তিতে তারিখ নির্ধারণ করা হবে।’

প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য মোট তিনটি পরীক্ষা হবে।

এর মধ্যে একটি পরীক্ষা হবে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য, আরেকটি মানবিকের জন্য এবং অন্যটি ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থীদের জন্য।

প্রতিটি বিভাগে সর্বোচ্চ দেড় লাখ ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নেয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
Concerned about setting up universities without preparation UGC is making policies

প্রস্তুতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন নিয়ে উদ্বিগ্ন ইউজিসি করছে নীতিমালা

প্রস্তুতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন নিয়ে উদ্বিগ্ন ইউজিসি করছে নীতিমালা নীতিমালা তৈরি করতে ইউজিসির কমিটির ভার্চুয়াল সভা হয় সোমবার। ছবি: সংগৃহীত
নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির সভায় ইউজিসি সদস্য মে. আলমগীর বলেন, ‘অবকাঠামো ও কারিকুলাম চূড়ান্ত না করে নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও উচ্চশিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়টি সমাধানের জন্য নীতিমালা করা অত্যন্ত জরুরি।’

অবকাঠামো ও শিক্ষাক্রম চূড়ান্ত না করেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কারণে উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তার সুরাহা চাইছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-ইউজিসি। তারা একটি নীতিমালা করে দিতে চাইছে, যেখানে নতুন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে হলে এর অবকাঠামোকে কী থাকতে হবে, শিক্ষাক্রমে কী কী অন্তর্ভুক্ত হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হবে।

পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই একের পর বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন নিয়ে ওঠা প্রশ্নের মধ্যে সম্প্রতি ইউজিসি সদস্য মুহাম্মদ আলমগীরকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদ্যস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। নীতিমালা তৈরি করতে এই কমিটির প্রথম সভা হয় সোমবার।

এক বিজ্ঞপ্তিতে নীতিমালা করার কারণ ব্যাখ্যা করে ইউজিসি বলছে, ‘অধিকাংশ নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হওয়ার পর কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

‘এ ছাড়া ভাড়াকৃত ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমেও ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষার মান ঠিক রাখা যাচ্ছে না।’

এ জন্য নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হওয়ার পর অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি বলে মনে করছে সংস্থাটি।

নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির সভায় ইউজিসি সদস্য মো. আলমগীর বলেন, ‘অবকাঠামো ও কারিকুলাম চূড়ান্ত না করে নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও উচ্চশিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়টি সমাধানের জন্য নীতিমালা করা অত্যন্ত জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে শুরু করবে, সে বিষয়ে একটি নীতিমালা করা হলে দেশে গুণগত উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত হবে এবং মানসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট তৈরি হবে।’

সভায় কমিটির সদস্যরা জানান, নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের সংকট রয়েছে এবং জুনিয়র শিক্ষকদের দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন:
পাঠ্যক্রমে নৈতিক শিক্ষার যোগ চায় ইউজিসি
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সেবার তালিকা দৃশ্যমান করার নির্দেশ
এপিএতে সই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউজিসির
প্রতিবন্ধীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতে নীতিমালা করছে ইউজিসি
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় সহায়তা করতে চায় এলসেভিয়ার

মন্তব্য

শিক্ষা
Controversial Name for Best Education Officer

শ্রেষ্ঠ শিক্ষা কর্মকর্তা পদক তালিকায় বিতর্কিত নাম

শ্রেষ্ঠ শিক্ষা কর্মকর্তা পদক তালিকায় বিতর্কিত নাম আবদুল আমিন। ছবি সংগৃহীত
সিদ্দিক মোহাম্মদ ইউসুফ রেজা বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নিয়ে আবদুল আমিনের বিরুদ্ধে কোনো শিক্ষক জেলা প্রশাসককে অভিযোগ করার বিষয়টি আমি অবগত নই। কেউ এমন অভিযোগ করে থাকলে সেটি ক্ষতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নওগাঁয় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২২ তালিকায় বিতর্কিত কর্মকর্তার নাম সুপারিশের অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির বিরুদ্ধে।

বিতর্কিত ওই কর্মকর্তা আবদুল আমিন সদরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজিসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এরপরই তার নাম সুপারিশ করায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশ পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই কমিটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যোগ্যজনই যেন পুরস্কার পান সে দাবি করেছেন জেলার সুধীজনরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতি বছর প্রায় ২০ ক্যাটাগরিতে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক দেয়া হয়। একটি নীতিমালার আলোকে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক, বিদ্যালয়, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিশেষ অবদান রাখায় সম্মানিত করা হয়।

২০১৩ সালে পদক নীতিমালা হওয়ার পর ২০১৭, ২০১৯ ও ২০২১ সালে সংশোধন করা হয়। দেশের প্রতি জেলায় শ্রেষ্ঠ নির্বাচিতদের প্রতি বছর শিক্ষা পদক দিয়ে আসছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের আব্দুল আমিন ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে নওগাঁ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। তার আগেও তিনি বিভিন্ন উপজেলায় একই পদে কর্মরত ছিলেন।

সদর উপজেলায় যোগ দেয়ার পর থেকেই তিনি নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ খাত থেকে উৎকোচ নিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

গত ২৪ এপ্রিল আমিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন সদর উপজেলার মঙ্গলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরিফুর রহমান। তাৎক্ষণিক অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনও করেন জেলা প্রশাসক।

তবে অভিযোগের ৫ মাস পেরোলেও অজানা কারণে তদন্ত প্রতিবেদন এখনও জমা দেয়া হয়নি। শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্য থাকায় আমিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত পিছিয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই।

এরইমধ্যে চলতি বছর জেলায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক দিতে শ্রেষ্ঠ তালিকায় উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি আব্দুল আমিনের নাম সুপারিশ করে। বিষয়টি প্রকাশ পেলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা প্রতিবাদ জানান।

মঙ্গলপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরিফুর রহমান বলেন, ‘আব্দুল আমিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করার পর থেকেই আমাকে শোকজসহ স্কুলে এসে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে সখ্যতার সুবাদে তিনি সব স্কুল থেকে প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি করেন। প্রতিটা স্কুল থেকে প্রতি বছর কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা করে চাঁদা নেন। এ ছাড়া তিনি বদলি ব্যবসা করেন। এই ধরনের বিতর্কিত কর্মকর্তা কোনভাবেই পদকে ভূষিত হতে পারেন না।’

সুপারিশের তালিকা থেকে বিতর্কিত এই কর্মকর্তার নাম বাদ দেয়ার পাশাপাশি তার অনিয়ম ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ চান এই শিক্ষক।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আব্দুল আমিন বলেন, ‘শ্রেষ্ঠ পদকের তালিকায় আমার নাম আছে এমন কথা আমিও শুনেছি। তবে বিষয়টি অফিস থেকে এখনো আমাকে জানানো হয়নি। কর্তৃপক্ষ আমার যোগ্যতা দেখেই আমাকে পদক দেবেন। বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে চাঁদা আদায়সহ অন্য যেসব অভিযোগ, সেগুলো সঠিক নয়।’

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক নওগাঁ সদরের যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ও সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইতিয়ারা পারভিন বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আব্দুল আমিনের চলতি বছরের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিল বলেই তার নাম সুপারিশ করে কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে এমন বিষয় আমার জানা ছিল না।’

কমিটির আরেক সদস্য সচিব ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিক মোহাম্মদ ইউসুফ রেজা বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নিয়ে আবদুল আমিনের বিরুদ্ধে কোনো শিক্ষক জেলা প্রশাসককে অভিযোগ করার বিষয়টি আমি অবগত নই। কেউ এমন অভিযোগ করে থাকলে সেটি ক্ষতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে নামটি আমাদের কাছে এসেছে। এখনো কাউকে চূড়ান্ত করা হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষায় যারা বিশেষ অবদান রেখেছেন এমন যোগ্যদেরকে মূল্যায়ন করেই পদক দেয়া হবে। শীঘ্রই তালিকাটি প্রকাশ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
যেখানেই যান, সেখানেই ‘ঘুষ-অনিয়মে’ সালাম

মন্তব্য

শিক্ষা
Committee of Eden Chhatra League suspended expulsion 16

ইডেন ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত, বহিষ্কার ১৬

ইডেন ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত, বহিষ্কার ১৬ ইডেন মহিলা কলেজে রোববার সন্ধ্যায় সৃষ্ট সংঘর্ষে আহত ছাত্রলীগ সভাপতি রিভাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা
স্থায়ী বহিষ্কার হওয়াদের মধ্যে ১০ জন বর্তমান কমিটির সহসভাপতি, একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক আর চারজন কর্মী। তারা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ করে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন।

দুই পক্ষের হামলা-পাল্টাহামলার ঘটনায় রাজধানীর ইডেন কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠন থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে ১৬ জনকে।

রোববার মধ্যরাতে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্থায়ী বহিষ্কার হওয়াদের মধ্যে ১০ জন বর্তমান কমিটির সহসভাপতি, একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক আর চারজন কর্মী।

তারা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ করে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার অপরাধে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। আর এটির প্রাথমিক প্রমাণও পাওয়া গেছে।

কমিটি স্থগিতের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইডেন মহিলা কলেজ শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হলো।

এতে আরও বলা হয়, অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে এই বিশৃঙ্খলার সঙ্গে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের যারা জড়িত রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থায়ী বহিষ্কার হওয়া ছাত্রীরা হলেন ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি সোনালি আক্তার, সুস্মিতা বাড়ৈ, জেবুন্নাহার শিলা, কল্পনা বেগম, জান্নাতুল ফেরদৌস, আফরোজা রশ্মি, মারজানা ঊর্মি, সানজিদা পারভীন চৌধুরী, এস এম মিলি ও সাদিয়া জাহান সাথী। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা খানম বিন্তি, সাংগঠনিক সম্পাদক সামিয়া আক্তার বৈশাখি এবং কর্মী রাফিয়া নীলা, নোশিন শার্মিলী, জান্নাতুল লিমা ও সূচনা আক্তার।

কীসের ভিত্তিতে বহিষ্কার করা হলো- এমন প্রশ্নে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা একটা তদন্ত কমিটি করেছিলাম, তারা তাতে আস্থা রাখতে পারছে না। তাই আমরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ একটি বডি মিলে এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত করেছি। আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এ ঘটনায় আরও তদন্ত চলবে বলে জানান লেখক ভট্টাচার্য।

রোববার ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের নেত্রীরা অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের ফোন ধরেন না, যার ফলে তারা কোনো অভিযোগ জানাতে পারেন না।

এ বিষয়ে লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘তারা আমাদের কোনো ফোনই দেয়নি। সব কিছু নিয়ে মিথ্যাচার করছে। তারা যে সিট বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির কথা বলছে, এটার কোনো প্রমাণ তো দিতে পারছে না তারা। কমিটি দেওয়ার পর থেকেই একটি অংশ বারবার কমিটিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল।’

শনিবার রাতে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের এক সহসভাপতিকে মারধর করেন কলেজ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। এর প্রতিবাদে রাতেই বিক্ষোভ করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

রোববার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে ওই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের ৪৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির ২৫ জন। সন্ধ্যায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ। বাকিরা এর প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষে আবারও সংঘর্ষ হয়।

আরও পড়ুন:
ইডেনের সংঘর্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে আ. লীগ
ইডেনের ক্যাম্পাসছাড়া রিভা-রাজিয়া
ছাত্র পেটানো তিলোত্তমার নেতৃত্বে কমিটি মানেন না ইডেনের কর্মীরা

মন্তব্য

শিক্ষা
10 injured including Riva in BCL clash in Eden

ইডেনের ক্যাম্পাসছাড়া রিভা-রাজিয়া

ইডেনের ক্যাম্পাসছাড়া রিভা-রাজিয়া ইডেন মহিলা কলেজে রোববার সন্ধ্যায় সৃষ্ট সংঘর্ষে আহত ছাত্রলীগ সভাপতি রিভাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা
ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা কলেজ অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলন করতে এলে বিরোধীপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হন। পরে আহত রিভাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। আর পুলিশ পাহারায় রাজিয়াকে ক্যাম্পাসের বাইরে সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ।

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভাসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। রোববার সন্ধ্যা ৬টায় ইডেন কলেজ অডিটোরিয়ামের সামনে এই সংঘর্ষ ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে দুজনকে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন ইডেন কলেজের শিক্ষক নার্গিস আক্তার। তারা হলেন ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও যুগ্ম সম্পাদক রিতু আক্তার।

এদিকে পুলিশ পাহারায় ক্যাম্পাস থেকে কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানাকে সরিয়ে নিয়েছে কলেজ প্রশাসন। রোববার রাত ৮টা ২০ মিনিটে তাকে কলেজের ৩ নম্বর গেট দিয়ে বের করে নেয়া হয়।

ইডেনের ক্যাম্পাসছাড়া রিভা-রাজিয়া
ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানাকে রোববার রাতে পুলিশ পাহারায় ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

রাজিয়া সুলতানাকে ক্যাম্পাস থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উল্লাস প্রকাশ করেছে বিরোধীপক্ষ। তারা বলছে, এর মধ্য দিয়ে কলেজ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।

এর আগে সন্ধ্যায় হওয়া হামলার পর পুলিশ প্রটোকলে সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

শিক্ষক নার্গিস আক্তার বলেন, ‘আহত যে দুজনকে এখানে নিয়ে এসেছি তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। চেয়ার ও লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা ছাড়াও চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে তাদের নির্যাতন করা হয়েছে। ওই ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হলেও তাদের ঢাকা মেডিক্যালে আনা সম্ভব হয়নি।’

শনি থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত সংঘটিত ঘটনা নিয়ে ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা সংবাদ সম্মেলন করতে আসেন। কলেজ অডিটোরিয়ামে এই সংবাদ সম্মেলন শুরুর পর ছাত্রলীগের দুই পক্ষে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হামলা-পাল্টা হামলায় গড়ায়। দুই পক্ষ পরস্পরের দিকে চেয়ার ছুড়ে মারতে থাকে। এ সময় অন্তত ১০ জন আহত হন।

এ বিষয়ে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা পারভিন চৌধুরী বলেন, ‘রিভা ও রাজিয়া সংবাদ সম্মেলন করতে এসেছেন। কিন্তু তাদের সেই সংবাদ সম্মেলনে হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগীদের কেউ ছিল না। পরে আমরা সেই সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের বসাতে গেলে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের তিনজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন শেখ সানজিদা, সুষ্মিতা ও স্বর্ণালি।’

সানজিদা বলেন, ‘ছাত্রলীগের এই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আমরা ক্যাম্পাসে চাই না। রিভা চলে গেছেন। রাজিয়া এখনও আছেন। আমরা চাই তিনিও সসম্মানে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে যাবেন।’

এক প্রশ্নের উত্তরে সানজিদা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে এখনও কেউ যোগাযোগ করেননি। আমরা এই তদন্ত কমিটি মানি না।’

রিভা-রাজিয়া পক্ষের কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।

এর আগে হামলার শিকার হয়ে তামান্না জেসমিন রিভা বলেন, ‘আমরা নেতৃত্বে আসার পর থেকে নিয়মিত চেষ্টা করছি ভালো কিছু করার জন্য। কিন্তু কমিটি থেকে সেন্ট্রালে পদ পাওয়া কয়েকজনের ইন্ধনে এসব করা হচ্ছে।’

ইডেনের ক্যাম্পাসছাড়া রিভা-রাজিয়া
কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের বিরোধীপক্ষের নেত্রীরা রোববার রাতে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ছবি: নিউজবাংলা

বিরোধীপক্ষের নেত্রীরা যা বললেন

হামলা-সংঘর্ষে আহত হয়ে পুলিশ পাহারায় ক্যাম্পাস থেকে কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি রিভাকে নেয়া হয়েছে হাসপাতালে। আর সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানাকেও পুলিশের সহায়তায় ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে গেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

রিভা ও রাজিয়া ক্যাম্পাসছাড়া হওয়ার পর রাতে কলেজ ছাত্রলীগের বিরোধীপক্ষের নেত্রীরা উল্লাস প্রকাশ করেন। তাদের পক্ষে কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি জেবুন্নাহার শীলা বলেন, ‘আজ থেকে ইডেন কলেজ কলঙ্কমুক্ত। ছাত্রী নির্যাতনকারী ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ক্যাম্পাসছাড়া হওয়ায় আমরা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছি। কারণ এ রকম অন্যায়কারী চাঁদাবাজ সভাপতি-সেক্রেটারি আমরা কখনই চাই না।’

আরেক সহসভাপতি সুষ্মিতা বাড়ৈ বলেন, ‘এই ইডেন কলেজ রিভা-রাজিয়ার ঘাঁটি নয়। এটা শেখ হাসিনার ঘাঁটি। এখানে রিভা-রাজিয়ার স্থান হবে না।

‘আজ দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে আমাদের যে আট দাবি ছিল সেগুলোর ব্যাপারে রিভা ও রাজিয়াকে জবাব দিতে হবে। তারপর বিচার-বিশ্লেষণ করে বলতে পারব যে তাদের আমরা ক্যাম্পাসে আনব কি আনব না।’

এরপর কলেজ ক্যাম্পাসে উল্লাস প্রকাশ করে স্লোগান দেন বিরোধীপক্ষের ছাত্রলীগ নেত্রীরা। এ সময় তারা রিভা ও রাজিয়ার বিরুদ্ধেও নানা স্লোগান দেন।

আরও পড়ুন:
ফের বিতর্কে ছাত্রলীগ নেত্রী রিভা
অডিও ফাঁস: ক্ষমা চাইলেন ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি
ট্রাম্পকে পুড়িয়ে ছেলেসহ অবকাশে বাইডেন
ফের করোনা পজিটিভ বাইডেন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন করোনায় আক্রান্ত

মন্তব্য

শিক্ষা
The workers of Eden did not accept the committee led by student Petano Tilottma

ছাত্র পেটানো তিলোত্তমার নেতৃত্বে কমিটি মানেন না ইডেনের কর্মীরা

ছাত্র পেটানো তিলোত্তমার নেতৃত্বে কমিটি মানেন না ইডেনের কর্মীরা ইডেন কলেজ প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন কলেজ ছাত্রলীগের নেত্রীরা। ছবি: নিউজবাংলা
‘তদন্ত কমিটিতে রাখা হয়েছে নিশি ও তিলোত্তমাকে। এর আগে যখন রিভার অডিও ফাঁস হয়েছে সেটিরও তদন্ত করতে দেয়া হয় নিশি-তিলোত্তমাকে। তারা সেই তদন্তের কোনো রিপোর্ট আমাদের জানায়নি। নিশি আর তিলোত্তমার তদন্ত কমিটি আমরা মানব না।’

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসকে মারধরের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি মানেন না বলে জানিয়েছেন তার অনুসারীরা। তারা বলছেন, তদন্ত কমিটিতে রাখা হয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি তিলোত্তমা শিকদার এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজির হোসেন নিশিকে। এর আগেও বিভিন্ন ঘটনায় তাদের সদস্য করে কমিটি গঠন করা হলেও তারা শেষ পর্যন্ত কোনো রিপোর্ট জমা দেননি।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানাকে বহিষ্কার না করা হলে গণপদত্যাগেরও ঘোষণা দিয়েছেন ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের ২৫ নেত্রী।

এরা সবাই কলেজ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির পদধারী।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় ইডেন কলেজ প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয়া হয়।

এ সময় তারা এই দাবি মেনে নিতে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা ২৫ নেত্রী বর্তমান কলেজ ছাত্রলীগ কমিটির সহসভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদধারী।

জান্নাতুলের অনুসারীরা শনিবারের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি মানেন না জানিয়ে তারা বলেন, ‘তদন্ত কমিটিতে রাখা হয়েছে নিশি ও তিলোত্তমাকে। এর আগে যখন রিভার অডিও ফাঁস হয়েছে সেটিরও তদন্ত করতে দেয়া হয় নিশি-তিলোত্তমাকে। তারা সেই তদন্তের কোনো রিপোর্ট আমাদের জানায়নি। নিশি আর তিলোত্তমার তদন্ত কমিটি আমরা মানব না।’

উপস্থিত নেত্রীরা বলেন, ‘বারবার অপরাধ করেও কেন্দ্র থেকে ইডেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এবার যদি কোনো ব্যবস্থা নেয়া না হয় তাহলে আমরা এখানে উপস্থিত ২৫ জনই গণহারে পদত্যাগ করব।’

গত ১৯ আগস্ট ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রিভার একটি অডিও সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে না যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের হুমকির অডিও ছড়িয়ে যাওয়ার পর তা নিজের বলে গণমাধ্যমের কাছে স্বীকারও করেন তামান্না।

এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি তিলোত্তমা শিকদার নানা কারণে বারবার আলোচনায় এসেছেন।

এর আগে গত ২৬ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সংঘর্ষের ঘটনায় তিলোত্তমার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় হাতে লাঠি ও হেলমেট পরা অবস্থায় দেখা যায় তাকে। এ ঘটনায় তিলোত্তমা শিকদারসহ ৩২ নেতার বিরুদ্ধে মামলাও হয়।

ইডেন কলেজের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে কথা বলায় নিজ অনুসারীদের দিয়ে কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার রাতে হওয়া এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং গভীর রাতেই রিভা-রাজিয়া বিরোধীপক্ষের অনুসারী শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে তারা রিভা ও রাজিয়ার শাস্তি দাবি করেন। এ সময় তারা রাজিয়া ও রিভাকে হল থেকে বের করে দেয়ারও দাবি জানান।

রোববারের সংবাদ সম্মেলন থেকে আট দাবি জানানো হয়।

দাবিগুলো হলো- জান্নাতুল ফেরদৌসের ওপর হওয়া হামলার সাংগঠনিক জবাব চাই, সাধারণ শিক্ষার্থীদের হেনস্তার সুষ্ঠু বিচার চাই, ক্যাম্পাসের সব সিসিটিভি ফুটেজ লুকানোর চেষ্টা করা যাবে না, মাতৃতুল্য অধ্যক্ষকে নিয়ে কটাক্ষ করার জবাব চাই, একচেটিয়া রাজনীতি এবং চাঁদাবাজির রাজনীতি বন্ধ করতে হবে, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রায় শতাধিক রুম দখলের হিসাব দিতে হবে এবং জান্নাতুল ফেরদৌসের যেসব ছবি তোলা হয়েছে তা সব নেতাদের সামনে ডিলিট করতে হবে এবং তার সব জিনিস ফেরত দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সামিয়া আক্তার বৈশাখী।

তিনি বলেন, ‘গতকাল জান্নাতুল ফেরদৌসের ওপর হওয়া হামলায় জড়িতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম আমরা জানতে পেরেছি। তারা হলেন ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি নুজহাত ফারিয়া রোকসানা, আয়েশা সিদ্দিকা মিম, আর্ণিকা তাবাসসুম স্বর্ণা, শিরিনা আক্তার, সোমা মল্লিক পপি, জিনাত হাসনাইন, লিমা ফেরদৌস, আশরাফ লুবনা বিজলী আক্তার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঋতু আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুন্নাহার জ্যোতি এবং ফারজানা ইয়াসমিন নীলা।’

বৈশাখী বলেন, ‘তবে মারধরের ঘণ্টাখানেক আগে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা জান্নাতুলের রুমে হামলা চালায়। এ সময় তার রুমে থাকা ল্যাপটপ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে যায়।

‘পরে হামলার সময় সহসভাপতি আয়েশা সিদ্দিকা মিম এবং রোকসানা জান্নাতুল ফেরদৌস এবং তার সঙ্গে থাকা ছোট বোনের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে সভাপতির হাতে তুলে দেন তারা।’

এ সময় রিভা-রাজিয়ার অনুসারীরা জান্নাতুলের গলার স্বর্ণের চেন, ব্যাগে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং ছোট বোনের হাতে থাকা আংটিও কেড়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন বৈশাখী।

মন্তব্য

শিক্ষা
That Tilottma will investigate the Eden Chhatra League incident

সেই তিলোত্তমা তদন্ত করবেন ইডেন ছাত্রলীগকাণ্ড

সেই তিলোত্তমা তদন্ত করবেন ইডেন ছাত্রলীগকাণ্ড ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সংঘর্ষে তিলোত্তমার লাঠি হাতে নেয়া ছবিটি ভাইরাল হয়। ছবি: সংগৃহীত
ইডেনের ঘটনায় তিলোত্তমা ও নিশিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে জমা দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের কোন্দলে শনিবার রাতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এ ঘটনা তদন্ত করবেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি তিলোত্তমা শিকদার এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজির হোসেন নিশি।

রোববার বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি তিলোত্তমা শিকদার নানা কারণে বারবার আলোচনায় এসেছেন।

এর আগে গত ২৬ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সংঘর্ষের ঘটনায় তিলোত্তমার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় হাতে লাঠি ও হেলমেট পরা অবস্থায় দেখা যায় তাকে। এ ঘটনায় তিলোত্তমা শিকদারসহ ৩২ নেতার বিরুদ্ধে মামলাও হয়।

ইডেনের ঘটনায় তিলোত্তমা ও নিশিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে জমা দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

ইডেন কলেজের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে কথা বলায় নিজ অনুসারীদের দিয়ে কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার রাতে হওয়া এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং গভীর রাতেই রিভা-রাজিয়া বিরোধীপক্ষের অনুসারী শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে তারা রিভা ও রাজিয়ার শাস্তি দাবি করেন। এ সময় তারা রাজিয়া ও রিভাকে হল থেকে বের করে দেয়ারও দাবি জানান।

জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘রিভা আর রাজিয়া আপুর সঙ্গে আমার কোনোভাবে মিল ছিল না। কিছু পলিটিক্যাল রুম নিয়ে ঝামেলার শুরু। এসব ঝামেলার কথা আমরা জয় (ছাত্রলীগ সভাপতি) ভাই আর লেখক (ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক) দাদাকে বলতে পারি না। কারণ তারা ফোনই রিসিভ করে না। তাই আমরা কয়েক জায়গায় জানিয়েছিলাম।’

তিনি বলেন, 'কিছুদিন আগে আমি একটা লাইভ দিয়েছিলাম। এরপর শনিবার রাজিয়া আপুর অনুসারীরা আমার রুমে ঝামেলা করে। তখন আমি হলের বাইরে ছিলাম। পরে আমার রুমের মেয়েরা আমাকে ফোন দেয়। আমি হলে এসে কয়েকজন মেয়ের সঙ্গে কথা বলি। হলে আসা মাত্র আমাকে ১০ থেকে ১৫ জন মারধর করে। তারা সবাই রিভা আর রাজিয়া আপুর অনুসারী। তারা আমার ফোন এবং আমার সঙ্গে থাকা দুই ছোট বোনকেও মারধর করে তাদের ফোনও কেড়ে নেয়'।

জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘কালকের মধ্যে এটির বিচার না হলে আমি সুইসাইড করব।’

জান্নাতুল ফেরদৌসের এক অনুসারী বলেন, ‘জান্নাতুল আপু যে রুমে থাকেন রিভা আর রাজিয়া আপুর দাবি সেটা যেন তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু জান্নাতুল আপুর দাবি হস্তান্তর করতে হলে তিনি সেটা হল প্রশাসনের কাছে করবেন।’

রিভা ও রাজিয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতন, কলেজ ক্যান্টিন থেকে চাঁদা তোলা, রুম দখলের অভিযোগ তোলেন জান্নাতুলের অনুসারীরা।

আরও পড়ুন:
আধিপত্য নিয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, আহত ৯
ছুরিকাঘাতে নিহত: সাবেক ছাত্রলীগ নেতার নামে মামলা
‘মালির ঘাড়ে পড়ে’ ১৪ শিকের ভেতর ছাত্রলীগ কর্মী
‘চিটার সর্দার’ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা
প্রীতমকে জেলে পাঠানো ছাত্রলীগের অবমাননা: মুনতাসীর মামুন

মন্তব্য

শিক্ষা
What Litu sir did to me is Mastani

‘লিটু স্যার আমার সঙ্গে যেটা করলেন তা মাস্তানি’

‘লিটু স্যার আমার সঙ্গে যেটা করলেন তা মাস্তানি’ রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থী আরমানুল হক।
শিক্ষার্থী আরমানুল হক বলেন, ‘সহকারী প্রক্টর মাহবুবুর রহমান লিটু স্যার আমার সঙ্গে যে আচরণ করেছেন তা শুধু আমার সঙ্গে হলো তা নয়, প্রতিদিন কোনো না কোনো শিক্ষার্থী এ রকম শিক্ষকদের দ্বারা হুমকির শিকার হচ্ছেন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ‘স্যার’ সম্বোধন না করায় এক শিক্ষার্থীকে তুই-তুকারি করা এবং তার দিকে তেড়ে যাওয়ার ঘটনায় সেই সহকারী প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

শুক্রবার রাজু ভাস্কর্যে একাই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আরমানুল হক।

আরমান বলেন, ‘প্রক্টরদের দায়িত্ব ক্যাম্পাসের মধ্যে প্রতিটি জীবের নিরাপত্তা দেয়া। কিন্তু সহকারী প্রক্টর মাহবুবুর রহমান লিটু স্যার যেটা করলেন তা স্রেফ মাস্তানি ছাড়া কিছুই নয়।’

আরও পড়ুন: উপাচার্যকে ‘স্যার’ সম্বোধন না করায়…

এ সময় তিনি ‘লাঞ্ছনাকারী শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের সহকারী প্রক্টর পদ থেকে অপসারণ চাই’ লেখাসংবলিত প্ল্যাকার্ডও প্রদর্শন করেন।

আরমান বলেন, ‘প্রক্টরদের দায়িত্ব আমাদের নিরাপত্তা দেয়া। কিন্তু আমাদের প্রক্টরিয়াল টিম, প্রক্টরিয়াল বডিকে আমাদের নিরাপত্তায় না পেলেও কখনও কোনো শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলমান থাকে, তখন তারা অতি সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

‘সহকারী প্রক্টর মাহবুবুর রহমান লিটু স্যার আমার সঙ্গে যে আচরণ করেছেন তা শুধু আমার সঙ্গে হলো তা নয়, প্রতিদিন কোনো না কোনো শিক্ষার্থী এ রকম শিক্ষকদের দ্বারা হুমকির শিকার হচ্ছেন।’

‘লিটু স্যার আমার সঙ্গে যেটা করলেন তা মাস্তানি’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বুধবার শিক্ষার্থী আরমানুল হককে শাসাচ্ছেন সহকারী প্রক্টর ড. মো. মাহাবুবুল রহমান। ছবি: নিউজবাংলা

আরমান বলেন, ‘আমার হাতে থাপ্পড় দেয়া, তুই-তুকারি করার প্রতিবাদ না করলে এসব শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করেই যাবে। তাই এসবের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে।’

আরমান হোসেন আরও বলেন, প্রক্টরিয়াল টিম আমার গায়ে যখন হাত দিল, তখন পা কাঁপছিল লজ্জায়, ক্ষোভে। এই ক্যাম্পাসে ভারী যানবাহনের যাতায়াত, নারী নিপীড়ন, ছিনতাই, চুরি, মাদকাসক্তদের আড্ডাসহ কোনো অপরাধই তারা থামাতে পারে না, শুধু একটা কাজই পারে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলন শক্ত হাতে দমন করতে।’

তিনি সহকারী প্রক্টর মাহবুবুর রহমান লিটুকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

আরও পড়ুন:
উপাচার্যকে ‘স্যার’ সম্বোধন না করায়…

মন্তব্য

p
উপরে