ঢাবির বাজেটের ৭৪ শতাংশ দিয়ে বেতন-পেনশন

ঢাবির বাজেটের ৭৪ শতাংশ দিয়ে বেতন-পেনশন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন। ছবি: নিউজবাংলা

এ বছর শিক্ষার্থীদের থেকে ফি বাবদ আয়ের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ভর্তি ফর্ম বিক্রি থেকে আয়ের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৭ লাখ টাকা, বেতন ভাতাদি থেকে কর্তনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা, সম্পত্তি থেকে আয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা, এবং বিবিধ থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ অর্থ বছরের বাজেট সিনেট অধিবেশনে উত্থাপন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দীন আহমেদ।

উত্থাপিত বাজেটে দেখা যায়, ৮৩১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বাজেট থেকে ৬১১ কোটি ৮৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয় হবে শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও পেনশন খাতে। যা মোট ব্যায়ের ৭৩.৫৭ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী সিনেট ভবনে বার্ষিক অধিবেশন শুরু হয়। শেষ হয় সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টায়। অধিবেশনে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট পাশ হয়। উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।

কোষাধ্যক্ষ উত্থাপিত বাজেটে দেখা যায়, এবারের মূল বাজেট ৮৩১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে বেতন-ভাতা এবং পেনশন বাবদ ব্যায় হবে ৬১১ কোটি ৮৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, গবেষণা মঞ্জুরী খাতে ১১ কোটি টাকা, অন্যান্য অনুদান বাবদ ১৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা, পণ্য ও সেবা খাতে ১৬৮ কোটি ৮ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং মূলধন খাতে ব্যায় হবে ২১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

৮৩১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন দিবে ৬৯৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা আর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৬৫ কোটি টাকা। যা শিক্ষার্থীদের থেকে ফি, ভর্তি ফর্ম বিক্রি, বেতন ভাতাদি থেকে কর্তন, সম্পত্তি এবং বিবিধ থেকে আয় হবে। সে হিসেবে বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৭০ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

এ বছর শিক্ষার্থীদের থেকে ফি বাবদ আয়ের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ভর্তি ফর্ম বিক্রি থেকে আয়ের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৭ লাখ টাকা, বেতন ভাতাদি থেকে কর্তনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা, সম্পত্তি থেকে আয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা, এবং বিবিধ থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

বাজেটে ঘাটতির বিষয়ে কোষাধ্যক্ষ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠান নয়। কাজেই নিজস্ব তহবিল থেকে ঘাটতি মেটানো সম্ভব হবে না। প্রতি বছর এভাবে তহবিলের ঘাটতি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন কষ্টসাধ্য হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয়ের নতুন নতুন খাত খুঁজে বের করতে হবে অথবা সরকারের কাছ থেকে বিশেষ অনুদান চাওয়া যেতে পারে।

ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও একাডেমিক ভবন মেরামত ও সংস্কারের জন্য বিমককে একটি বিশেষ তহবিল প্রদান করেছেন যেখান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। কোষাধ্যক্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।

অধিবেশনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, সহ উপাচার্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ সামাদ, ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নুরুল হক নুর, সাদ্দাম হোসেন, সনজিত চন্দ্র দাশ এবং তিলোত্তমা শিকদার। এছাড়া পাঁচজন সংসদ সদস্যও অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন, ওবায়দুল মোকতাদির, দীপঙ্কর তালুকদার, গোলাম আবদুস সোবহান, মেহের আফরোজ চুমকি ও মঞ্জুরুল হাসান।

অধিবেশনের শুরুতে করোনাকালে মারা যাওয়া স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ, ফিলিস্তিনের ওপর ইজরায়েলের হামলার নিন্দা এবং নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর উপাচার্যের অভিভাষণের মাধ্যমে শুরু হয় বার্ষিক অধিবেশনের মূল কর্মসূচি। উপাচার্যের অভিভাষণের পর কোষাধ্যক্ষ বাজেট উপস্থাপন করেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য