ঢিমে তালে চলছে জাবির টিকা কার্যক্রম

ঢিমে তালে চলছে জাবির টিকা কার্যক্রম

গত মার্চে টিকা দেয়ার লক্ষ্যে দুইদফায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।অনেক শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত উদ্যোগে টিকা গ্রহণ করলেও কোনো তথ্য নেই প্রশাসনের কাছে। ফলে টিকা কার্যক্রমে তৈরি হয়েছে এলোমেলো অবস্থা। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢিলেঢালাভাবে চলছে শিক্ষার্থীদের টিকাদান কার্যক্রম।

গত মার্চে টিকা দেয়ার লক্ষ্যে দুইদফায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

আবার অনেক শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত উদ্যোগে টিকা গ্রহণ করলেও কোনো তথ্য নেই প্রশাসনের কাছে। ফলে টিকা কার্যক্রমে তৈরি হয়েছে এলোমেলো অবস্থা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জানিয়েছে, ‘টিকা দেয়ার লক্ষ্যে তালিকা সংগ্রহ করা হলেও শিক্ষার্থীদের ব্যক্ত উদ্যোগে টিকা গ্রহণের ব্যাপারে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে শিগগিরই এ ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।’

গত ৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার অফিস শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়।

এতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের অনলাইনে নিবন্ধন করে টিকা নিয়ে হলে উঠতে হবে। পরে নিবন্ধনের সময়সীমা দুইবার বাড়ানো হয়।এতে প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা ১২ হাজার ৯২১ জন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) আবু হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘টিকাদান কর্মসূচির নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল শিক্ষা শাখার অধীনে। কিন্তু প্রশাসন পরবর্তীতে তা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিকে দায়িত্ব দেয়। এখন সেই দায়িত্ব আবার শিক্ষা শাখাকে দেয়া হয়েছে। যদিও শিক্ষা শাখা এখন ভর্তি পরীক্ষার কাজ নিয়ে ব্যস্ত। আবার এর মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী ব্যক্তি উদ্যোগে টিকা গ্রহণ করেছে। আইসিটি সেল তাদের টিকা গ্রহণের সার্টিফকেট সংগ্রহ করছে। সব মিলিয়ে টিকাদান কর্মসূচি একটু এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এগুলির সমন্বয় করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রদত্ত তথ্য গত ১১ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে তালিকা আকারে পাঠানো হয়।’

সে তালিকা পাঠানোর পর ‘সুরক্ষা.গভ.বিডি’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগত উদ্যেগে টিকা গ্রহণের আবেদন করতে সক্ষম হয় এবং টিকা গ্রহণ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী জোবায়ের কামাল বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এনআইডি দিয়ে নিবন্ধন করি।পরে ব্যক্তি উদ্যোগে ‘সুরক্ষা ডট কম’-এ টিকার আবেদন করলে সেটা অনুমোদিত হয় এবং দুই ডোজ টিকা নেই। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবগত আছে কি না জানি না।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী ব্যক্তি উদ্যোগে টিকা গ্রহণ করেছে। অফিসিয়ালি প্রশাসন তা জানে না এবং টিকা গ্রহণকারী শিক্ষার্থী সংখ্যা এখনও নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।’

এদিকে গত ২৪ মে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন টিকা সংক্রান্ত আরও একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেসব শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী টিকা গ্রহণ করেছেন তাদের টিকা কার্ড বা সার্টিফিকেটের ফটোকপি জমা দিতে হবে। এবং এ ব্যাপারে যে কোনো সাহায্যের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলে যোগাযোগ করতে হবে।

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইসিটি সেলের নির্বাহী প্রকৌশলী (ইন্টারনেট) নাইমুল হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের টিকা গ্রহণের সংখ্যা আমরা বলতে পারব না। আমরা টিকা কার্ড অনলাইনে প্রদানের ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল সাহায্য করে থাকি। এ ব্যাপারে রেজিস্ট্রার অফিস বলতে পারবে।’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক শোভন রহমান বলেন, ‘আমরা দেখেছি কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শিক্ষার্থীদের টিকা গ্রহণকে অনৈতিক বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু প্রশাসন তথ্য সংগ্রহ করেই ক্ষান্ত। এ বছরেও শিক্ষার্থীরা টিকা পাবে কী না তা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। অথচ প্রশাসন বলেছিল চায়নার টিকা এলেই টিকা কর্মসূচি শুরু হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়োগ, ভর্তি পরীক্ষা, চূড়ান্ত পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত। টিকা প্রদান করে শিক্ষার্থীদের সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুতে কোনো অগ্রাধিকার নেই। এভাবে চলতে থাকলে ক্যাম্পাস খোলার কোন সম্ভাবনা নেই।’

এর আগে ৪ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার একটি গণমাধ্যমে প্রশাসনকে না জানিয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তি উদ্যোগে টিকা গ্রহণের বিষয়টিকে অনৈতিক বলে আখ্যা দেন।

সার্বিক বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ থাকে, আমরা সেগুলো করছি। সেই সঙ্গে টিকা কর্মসূচির প্রথম ধাপের কার্যক্রম শেষ দিকে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কিছু তথ্য পাঠানো হয়েছে। আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি। টিকা পেলেই শিক্ষার্থীদের দেয়া হবে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য