মায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে মার খেলেন দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

মায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে মার খেলেন দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

মাকে হাসপাতালে ভর্তির সময় বাড়তি টাকা দিতে না চাওয়ায় মারধর করা হয় রিয়াদকে। এর প্রতিবাদ করায় মারধরের শিকার হন তার ছোট ভাই রাশেদও।

অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করাতে এসে অতিরিক্ত টাকা দিতে না চাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে।

হামলায় গুরুতর আহত ওই শিক্ষার্থীদের ওই হাসপাতালটিতেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

আহতরা হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল করিম রিয়াদ ও তার ছোটভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাশেদ করিম।

শুক্রবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রিয়াদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘মায়ের চিকিৎসার জন্য ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসি। সেখানে দায়িত্বরতরা ভর্তির ৩০ টাকার জায়গায় ১০০ টাকা অতিরিক্ত দাবি করলে আমি দিতে অস্বীকার করি।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় তারা আমাকে চাপ প্রয়োগ করে। প্রতিবাদ করলে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে সেখানে উপস্থিত মেডিক্যালের কয়েকজন স্টাফ। পরে আমাকে তারা ধাক্কা দেয় এবং মারধর করে। এ সময় আমার ছোট ভাই রাশেদ প্রতিবাদ করলে তাকেও মারধর করে।’

রাশেদ করিম বলেন, ‘আমি মোবাইল দিয়ে তাদের ছবি তোলার চেষ্টা করলে মোবাইল নিয়ে নেয়। চলে যাওয়ার সময় মোবাইল ফেরত দেয় তারা। পরে পুলিশ এসে উদ্ধার করে আমাকে, আমার ভাই ও মাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করায়।’

রংপুর মেডিক্যালে দায়িত্বরত উপপরিদর্শক (এস. আই) আপেল বলেন, ‘আমি বর্তমানে ঐ শিক্ষার্থীর মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। বিষয়টি থানার বড় অফিসারকে জানিয়েছি।’

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানী বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি হাসাতালে যাই। তাদের খোঁজখবর নিই।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা না নিলে আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় যাব।’

এ নিয়ে কথা বলার জন্য হাসপাতালের পরিচালক রেজাউল করিমকে ফোন দিলে তিনি ধরেন নি।

আরও পড়ুন:
অনলাইনে পরীক্ষা চান না রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
বেরোবি প্রশাসনের অদ্ভুত নির্দেশনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
আট ঘণ্টা পর মুক্ত বেরোবি প্রো-ভিসি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের দুই ডিপ্লোমা পরীক্ষা স্থগিত

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের দুই ডিপ্লোমা পরীক্ষা স্থগিত

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৬ জুন থেকে ঘোষিত ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডিপ্লোমা ইন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট শিক্ষাক্রমের পরীক্ষা অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হলো। স্থগিত পরীক্ষার তারিখ পরে জানানো হবে।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডিপ্লোমা ইন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি শিক্ষাক্রমের আগামীকাল অনুষ্ঠেয় পরীক্ষাগুলো স্থগিত করা হয়েছে।

এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি শুক্রবার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৬ জুন থেকে ঘোষিত ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডিপ্লোমা ইন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট শিক্ষাক্রমের পরীক্ষা অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হলো। স্থগিত পরীক্ষার তারিখ পরে জানানো হবে।

গত মার্চ মাসে এসব পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়।

আরও পড়ুন:
অনলাইনে পরীক্ষা চান না রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
বেরোবি প্রশাসনের অদ্ভুত নির্দেশনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
আট ঘণ্টা পর মুক্ত বেরোবি প্রো-ভিসি

শেয়ার করুন

এইচএসসির ফরম পূরণ শুরু রোববার

এইচএসসির ফরম পূরণ শুরু রোববার

ফরম পূরণের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান শাখার জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার জন্য ১ হাজার ৯৪০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষার জন্য অনলাইনে ফরম পূরণ শুরু হচ্ছে ২৭ জুন, রোববার। শেষ হবে আগামী ৭ জুলাই।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ শুক্রবার নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এবারের এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে কোনো নির্বাচনি পরীক্ষা হবে না। তাই এ-সংক্রান্ত কোনো ফি-ও নেয়া যাবে না।

ফরম পূরণের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান শাখার জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার জন্য ১ হাজার ৯৪০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারিতে গত বছর এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার ফলের গড়ের ওপর এইচএসসির ফল ঘোষণা করা হয়। তবে এ বছর ৮৪ দিনের পাঠ পরিকল্পনার ভিত্তিতে পরীক্ষা নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

১৩ জুন জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছিলেন, ‘চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগটা অনেক বেশি। আমরা চেষ্টা করছি সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে তাদের পরীক্ষা নেয়ার। যদি সেটা সম্ভব না হয় তবে তাদের জন্য বিকল্প চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।’

দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দফায় দফায় বন্ধ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩০ জুন পর্যন্ত।

আরও পড়ুন:
অনলাইনে পরীক্ষা চান না রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
বেরোবি প্রশাসনের অদ্ভুত নির্দেশনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
আট ঘণ্টা পর মুক্ত বেরোবি প্রো-ভিসি

শেয়ার করুন

কওমি মাদ্রাসাকে নিবন্ধন দিতে চায় সরকার

কওমি মাদ্রাসাকে নিবন্ধন দিতে চায় সরকার

কওমি মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে একটি সমন্বিত নীতিমালা করা হবে। এর আওতায় কওমি মাদ্রাসাগুলোকে নিবন্ধন দেয়া হবে। এ ছাড়া কওমির ছয় বোর্ডকে সমন্বয় করে একটি কওমি শিক্ষা বোর্ড গঠনের কথাও ভাবা হচ্ছে।

দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে চায় সরকার। এরই মধ্যে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। এ লক্ষ্যে একটি নীতিমালা তৈরিতে কমিটিও করা হয়েছে।

সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষাবিদরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। এ জন্য একটি সমন্বিত নীতিমালা করা হবে।

‘এর আওতায় কওমি মাদ্রাসাগুলোকে নিবন্ধন দেয়া হবে। এ ছাড়াও কওমির ছয় বোর্ডকে সমন্বয় করে একটি কওমি শিক্ষা বোর্ড গঠনের কথাও ভাবা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগ আরও আগেই নেয়া উচিত ছিল। মাদ্রাসা শিক্ষা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ জন্য সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যুগোপযোগী নীতিমালা করতে হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মাদ্রাসা জেনারেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। বাংলাদেশের সকল কওমি মাদ্রাসাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে তদারকি করা উচিত।

‘এ উদ্যোগটি আগেই নেয়া দরকার ছিল। এতে যেমন শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে, তেমনি শিক্ষার্থীদের কেউ ভুল পথে পরিচালিত করতে পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, এ উদ্যোগের ফলে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারি চাকরিতে তারা সুযোগ পাবে।

২১ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এক অফিস আদেশে এ-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমানকে আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক মো. আব্দুস সেলিমকে করা হয়েছে সদস্যসচিব।

১৫ সদস্যের ওই কমিটিতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, জননিরাপত্তাবিষয়ক বিভাগের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আছেন।

এ ছাড়া কওমি মাদ্রাসার ছয় বোর্ডের চেয়ারম্যানদেরও পদাধিকার বলে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন বেফাক সভাপতি আল্লামা মাহমুদুল হাসান, গওহরডাঙ্গা বোর্ডের মুফতি রুহুল আমীন, আঞ্জুমানে ইত্তিহাদ বোর্ডের মাওলানা আবদুল হালিম বোখারি, সিলেটের আযাদ দ্বীনি বোর্ডের মাওলানা জিয়াউদ্দিন, তানযীমুল মাদারিসের মুফতি আরশাদ রহমানী ও জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ।

আরও পড়ুন:
অনলাইনে পরীক্ষা চান না রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
বেরোবি প্রশাসনের অদ্ভুত নির্দেশনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
আট ঘণ্টা পর মুক্ত বেরোবি প্রো-ভিসি

শেয়ার করুন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতিতে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সব পরীক্ষা, নিয়োগ ও সান্ধ্যকালীন এমবিএ ১ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হল।

ময়মনসিংহের ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ১১টি এলাকায় শুক্রবার থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় এ স্থগিতাদেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতিতে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সব পরীক্ষা, নিয়োগ ও সান্ধ্যকালীন এমবিএ ১ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হল।

তবে এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সার্ভিস চলমান থাকবে। জরুরি সার্ভিসে জড়িতদের জন্য চাহিদা অনুযায়ী গাড়ি চলাচল করবে।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. হুমায়ুন বলেন, আপাতত ১ জুলাই পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাসহ অন্য কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক জানান, ময়মনসিংহে আশঙ্কাজনক হারে করোনা সংক্রমণ বাড়ায় শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ১ জুলাই মধ্যেরাত পর্যন্ত কয়েকটি এলাকায় লকডাউন দেয়া হয়েছে।

লকডাউনের আওতাভুক্ত এলাকাগুলো হলো চরপাড়া, মাসকান্দা, নয়াপাড়া, কৃষ্টপুর, আলিয়া মাদ্রাসা এলাকা, নওমহল, আর.কে. মিশন রোড, বাউন্ডারি রোড, পাটগুদাম, কাঁচিঝুলি ও গাঙ্গিনারপাড়।

এদিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে গত ২৪ ঘন্টায় ৩৭৪ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৮ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। জেলায় আক্রান্তের হার ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
অনলাইনে পরীক্ষা চান না রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
বেরোবি প্রশাসনের অদ্ভুত নির্দেশনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
আট ঘণ্টা পর মুক্ত বেরোবি প্রো-ভিসি

শেয়ার করুন

ঢাবির বাজেটের ৭৪ শতাংশ দিয়ে বেতন-পেনশন

ঢাবির বাজেটের ৭৪ শতাংশ দিয়ে বেতন-পেনশন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন। ছবি: নিউজবাংলা

এ বছর শিক্ষার্থীদের থেকে ফি বাবদ আয়ের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ভর্তি ফর্ম বিক্রি থেকে আয়ের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৭ লাখ টাকা, বেতন ভাতাদি থেকে কর্তনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা, সম্পত্তি থেকে আয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা, এবং বিবিধ থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ অর্থ বছরের বাজেট সিনেট অধিবেশনে উত্থাপন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দীন আহমেদ।

উত্থাপিত বাজেটে দেখা যায়, ৮৩১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বাজেট থেকে ৬১১ কোটি ৮৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয় হবে শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও পেনশন খাতে। যা মোট ব্যায়ের ৭৩.৫৭ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী সিনেট ভবনে বার্ষিক অধিবেশন শুরু হয়। শেষ হয় সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টায়। অধিবেশনে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট পাশ হয়। উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।

কোষাধ্যক্ষ উত্থাপিত বাজেটে দেখা যায়, এবারের মূল বাজেট ৮৩১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে বেতন-ভাতা এবং পেনশন বাবদ ব্যায় হবে ৬১১ কোটি ৮৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, গবেষণা মঞ্জুরী খাতে ১১ কোটি টাকা, অন্যান্য অনুদান বাবদ ১৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা, পণ্য ও সেবা খাতে ১৬৮ কোটি ৮ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং মূলধন খাতে ব্যায় হবে ২১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

৮৩১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন দিবে ৬৯৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা আর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৬৫ কোটি টাকা। যা শিক্ষার্থীদের থেকে ফি, ভর্তি ফর্ম বিক্রি, বেতন ভাতাদি থেকে কর্তন, সম্পত্তি এবং বিবিধ থেকে আয় হবে। সে হিসেবে বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৭০ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

এ বছর শিক্ষার্থীদের থেকে ফি বাবদ আয়ের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ভর্তি ফর্ম বিক্রি থেকে আয়ের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৭ লাখ টাকা, বেতন ভাতাদি থেকে কর্তনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা, সম্পত্তি থেকে আয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা, এবং বিবিধ থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

বাজেটে ঘাটতির বিষয়ে কোষাধ্যক্ষ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠান নয়। কাজেই নিজস্ব তহবিল থেকে ঘাটতি মেটানো সম্ভব হবে না। প্রতি বছর এভাবে তহবিলের ঘাটতি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন কষ্টসাধ্য হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয়ের নতুন নতুন খাত খুঁজে বের করতে হবে অথবা সরকারের কাছ থেকে বিশেষ অনুদান চাওয়া যেতে পারে।

ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও একাডেমিক ভবন মেরামত ও সংস্কারের জন্য বিমককে একটি বিশেষ তহবিল প্রদান করেছেন যেখান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। কোষাধ্যক্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।

অধিবেশনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, সহ উপাচার্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ সামাদ, ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নুরুল হক নুর, সাদ্দাম হোসেন, সনজিত চন্দ্র দাশ এবং তিলোত্তমা শিকদার। এছাড়া পাঁচজন সংসদ সদস্যও অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন, ওবায়দুল মোকতাদির, দীপঙ্কর তালুকদার, গোলাম আবদুস সোবহান, মেহের আফরোজ চুমকি ও মঞ্জুরুল হাসান।

অধিবেশনের শুরুতে করোনাকালে মারা যাওয়া স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ, ফিলিস্তিনের ওপর ইজরায়েলের হামলার নিন্দা এবং নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর উপাচার্যের অভিভাষণের মাধ্যমে শুরু হয় বার্ষিক অধিবেশনের মূল কর্মসূচি। উপাচার্যের অভিভাষণের পর কোষাধ্যক্ষ বাজেট উপস্থাপন করেন।

আরও পড়ুন:
অনলাইনে পরীক্ষা চান না রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
বেরোবি প্রশাসনের অদ্ভুত নির্দেশনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
আট ঘণ্টা পর মুক্ত বেরোবি প্রো-ভিসি

শেয়ার করুন

অ্যাসাইনমেন্টের বিস্তারিত তথ্য চায় মাউশি

অ্যাসাইনমেন্টের বিস্তারিত তথ্য চায় মাউশি

অফিস আদেশে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি এবং ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রমে কতজন শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্ট গ্রহণ করেছে, কতজন জমা দিয়েছে এবং কতজন দেয়নি তা সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে বলা হয়েছে আঞ্চলিক পরিচালক, উপপরিচালক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের।

করোনা মহামারির সময়ে শুরু হওয়া অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

অফিস আদেশে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি এবং ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রমে কতজন শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্ট গ্রহণ করেছে, কতজন জমা দিয়েছে এবং কতজন দেয়নি তা সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে বলা হয়েছে আঞ্চলিক পরিচালক, উপপরিচালক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের।

আগামী ২৮ জুনের মধ্যে এসব তথ্য সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে পাঠাতে বলা হয়েছে।

সেই আদেশে নির্দিষ্ট ছকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন, ঠিকানা, ইমেইল, টেলিফোন নম্বর উল্লেখ করে, ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা, প্রতি সপ্তাহে কতজন শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্ট গ্রহণ করছে, কতজন জমা দিচ্ছে এবং কতজন জমা দিচ্ছে না—তা উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।

গত বছর করোনা মহামারি দেখা দেয়ার পর ষষ্ঠ থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রমে যুক্ত থাকতে দেয়া হচ্ছে অ্যাসাইনমেন্ট। করোনাকালে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মধ্যে রাখাই এই অ্যাসাইনমেন্টের উদ্দেশ্য। এর ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নও করা হবে। তবে ২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা এ অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রমের বাইরে থাকবে। এ কার্যক্রম চলছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে।

অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করার পর মোট চার ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করবেন শিক্ষকরা। ক্যাটাগরিগুলো হলো ‘অতি উত্তম’, ‘উত্তম’, ‘ভালো’ ও ‘অগ্রগতি প্রয়োজন’। যে সব শিক্ষার্থী ২০ নম্বরের মধ্যে ১৬ পাবে, তাদের অতিউত্তম, ১১-১৫ পেলে উত্তম, ৬-১০ পেলে ভালো এবং ৫ বা ৫-এর কম পেলে অগ্রগতি প্রয়োজন বলে মূল্যায়ন করবেন শিক্ষকরা।

চলতি বছরের ২০ মার্চ থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হয়। এরপর লকডাউনের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে গত ২৩ মে অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম আবার শুরু করে মাউশি। ইতিমধ্যে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ষষ্ঠ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে। আর ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রথম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্টও দেয়া হয়েছে।

দেশে করোনা শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ভাইরাসের বিস্তার রোধে ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দফায় দফায় তা ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
অনলাইনে পরীক্ষা চান না রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
বেরোবি প্রশাসনের অদ্ভুত নির্দেশনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
আট ঘণ্টা পর মুক্ত বেরোবি প্রো-ভিসি

শেয়ার করুন

হল ও পরিবহন ফি মওকুফের দাবি ঢাবি সিনেটে

হল ও পরিবহন ফি মওকুফের দাবি ঢাবি সিনেটে

করোনায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের আনা নেয়ার বাসগুলো চলছে না। কিন্তু পরিবহন ফি দিতেই হচ্ছে।

‘ভর্তি হতে এসে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের পরিবহন ফি এবং আবাসিক ফি নেয়া হচ্ছে ৷ এটি নিয়ে কিন্তু আমাদের চিন্তা করতে হবে ৷ শিক্ষার্থীরা দেড় বছর হলে থাকেনি এই অবস্থায় অনেক কিছু খরচ হয়নি। হয়ত কিছুটা খরচ হয়েছে। সে হিসেবে আমরা যদি এক বছরের ফি মওকুফ করে দিতে পারি সেটি বিবেচনায় আনা উচিত।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে শিক্ষার্থীদের পরিবহণ ফি এবং আবাসিক ফি মওকুফের বিষয়টি বিবেচনার দাবি উঠেছে।

ছাত্রদের পক্ষ থেকে ডাকসুর সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনও এই দাবি জানান। আর এর আগে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম এ বিষয়ে জোরাল বক্তব্য রাখেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে বিষয়টি উঠে আসে। অধিবেশনের সভাপতিত্ব করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। এই অধিবেশনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দীন আহমেদ।

দেড় বছর ধরে বন্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল। সচল হয়নি পরিবহন ব্যবস্থা। তবুও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে পরিবহন ফি। এমনকি বন্ধ হলের ‘সিট ভাড়া’ হিসেবে দুই বছরের ফি জমা দিতেও বলা হয়েছে। আবাসিক হলে না থেকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনে না চড়লেও হল এবং পরিবহন ফি নেয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

এক জন শিক্ষার্থী বলছেন, ‘আমাদের সঙ্গে অন্যায্য ও বৈষম্যমূলক আচরণ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসব দেখার কেউ নেই। শিক্ষার্থীরা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জিম্মি।’

অধিবেশনে সাদেকা হালিম বলেন, ‘ভর্তি হতে এসে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের পরিবহন ফি এবং আবাসিক ফি নেয়া হচ্ছে ৷ এটি নিয়ে কিন্তু আমাদের চিন্তা করতে হবে ৷ শিক্ষার্থীরা দেড় বছর হলে থাকেনি এই অবস্থায় অনেক কিছু খরচ হয়নি। হয়ত কিছুটা খরচ হয়েছে। সে হিসেবে আমরা যদি এক বছরের ফি মওকুফ করে দিতে পারি সেটি বিবেচনায় আনা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘এই কোভিড সময়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্ত্বশাসনের একটা বিষয় খুব প্রকটভাবে ধরা পড়েছে। যেটি গণমাধ্যম বারবার তুলে ধরেছে। সেটি হলো, আমরা কীভাবে পরীক্ষা নেব, অনলাইনে নাকি অফলাইনে। এ জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বারবার নির্দেশনা দিয়ে আমাদের কনফিউজড করে দিচ্ছে। এই বছরের মে মাসে যখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি অনলাইনে পরীক্ষা নেব, তখন বলা হচ্ছে আপনারা অফলাইনে পরীক্ষা নেবেন।

‘কিন্তু এখন আমাদের ঠিকই অনলাইনে ফিরে যেতে হচ্ছে। কারণ, করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। ৪১টি জেলা ঝুঁকির মধ্যে আছে৷ অফলাইনে নিলে এই শিক্ষার্থীরা কীভাবে আসবে? সুতরাং আবারও আমরা অনলাইনে চলে গিয়েছি। শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে এই দুই মাস নষ্ট হয়ে গেছে।’

সিনেট অধিবেশনে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ডাকসুর সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনও শিক্ষার্থীদের হল এবং পরিবহন ফি প্রত্যাহারের দাবি জানান।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা হলে না থেকেও তাদের কাছ থেকে আবাসিক এবং পরিবহন ফি গ্রহণ করা হচ্ছে। আমাদের উপাচার্য সবসময় অন্তভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বলেন। সে হিসেবে দুই বছরের জন্য যেন এসব ফি প্রত্যাহার করা হয় সে বিষয়ে মাননীয় উপাচার্যের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি৷’

এর আগে এই দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে সমাবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। সেখানেও ছাত্রলীগ নেতারা এসব ফি প্রত্যাহারের দাবি জানান।

আরও পড়ুন:
অনলাইনে পরীক্ষা চান না রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
বেরোবি প্রশাসনের অদ্ভুত নির্দেশনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
আট ঘণ্টা পর মুক্ত বেরোবি প্রো-ভিসি

শেয়ার করুন