কলিমুল্লাহর মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে তিনটায় অনলাইনে ক্লাস নিয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ।

কলিমুল্লাহর মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন

একজন শিক্ষক তো কখনই এ ধরনের (রাত সাড়ে তিনটায় ক্লাস নেয়া) কাজ করতে পারেন না। একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ এটা কীভাবে করেন, তা আমার জানা নেই: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহ।

রাত সাড়ে তিনটায় অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর ক্লাস নেয়ার ঘটনায় তার বোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ।

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিভাবক সংস্থার প্রধান বলেছেন, ‘সব কিছুর একটা সীমা থাকে।’

কলিমুল্লাহ বেগম রোকেয়ায় চার বছর উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করলেও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহ প্রশ্ন তুলেছেন কলিমুল্লাহর মানসিক সুস্থতা নিয়ে।

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে যোগ দেয়ার পর থেকে গত চারটি বছর ধরে কলিমুল্লাহর নানা উদ্ভট কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে বারবার।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যান না, তার মাকে করেছেন নিয়োগ বোর্ডের সদস্য, একের পর এক স্বজনকে বসিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা পদে। আর এর মধ্যে দিনে ২২ ঘণ্টা কাজ করার দাবি, সব শেষ অনিয়মের তদন্ত ঠেকাতে হাইকোর্টে করেছেন রিট।

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, ছাত্রদের একটি বড় অংশ কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ। তার অনুপস্থিতিতে সেখানে প্রশাসনিক কার্যক্রম গত চার বছরে ব্যাহত হয়েছে নানাভাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্যকে নিয়োগ দেয়ার পর কলিমুল্লাহর উপস্থিতি কার্ড নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজনও করা হয়েছে।

কলিমুল্লাহর মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহ বলেছেন, কলিমুল্লাহ যা করেছেন, সেটা কোনো সুস্থ মানুষ করতে পারেন না

উপাচার্য হিসেবে কলিমুল্লাহর মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৩ জুন। তার আগে বৃহস্পতিবার ভোরের আলো ফোটার আগে আগে অনলাইনে তার ক্লাস নেয়ার ঘটনা নিয়ে আলোচনার ঝড়।

কেন এই কাজ করতে গেলেন তিনি, তার কোনো ব্যাখ্যা দেননি। গত দুই দিন ধরে তাকে ফোন করে হয়রান হয়েছে নিউজবাংলা। একাধিক নম্বর থেকে কল করেও তার সাড়া মেলেনি।

অন্যদিকে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলছেন, কলিমুল্লাহর সমস্যা তার ব্যক্তিত্বে।

গত ৯ জুন রাত সাড়ে ৮টায় কলিমুল্লাহ ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের ‘পলিটিক্যাল থট’ কোর্সের ক্লাস নেবেন বলে জানান। এরপর রাত ৩টা ২০ মিনিটে গুগল মিটে ক্লাস শুরু করেন। ক্লাস শেষ হয় ৩টা ৫৫ মিনিটে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী একজন শিক্ষক এত রাতে ক্লাস নিতে পারেন কি না, এমন প্রশ্নে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সবকিছু তো আইনে লেখা থাকে না। এটা তো ম্যাটার অফ প্রপার সেন্স। এ ঘটনা শুনে আমি হেসেছি। সবকিছুরই একটা লিমিট থাকে।’

তিনি বলেন, ‘এত রাতে পড়াশোনা হয় কি না, এটাই প্রশ্ন। আমি তো কখনও শুনিনি এত রাতে কোনো শিক্ষক ক্লাস নেন। আমি মনে করি, এটা তার ব্যক্তিত্বের সমস্যা। এ ধরনের ঘটনা প্রত্যাশিত নয়।'

‘কী এমন ঘটনা ঘটল যে রাত তিনটায় ক্লাস নিতে হবে? ইটস নট এ গুড প্র্যাকটিস’-বলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান।

কলিমুল্লাহর মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ মনে করেন অধ্যাপক কলিমুল্লাহ সব সীমা অতিক্রম করেছেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহ বলেন, ‘একজন শিক্ষক তো কখনই এ ধরনের কাজ করতে পারেন না। একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ এটা কীভাবে করেন, তা আমার জানা নেই।’

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী সংগঠন ‘অধিকার সুরক্ষা পরিষদ’ এর আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মতিউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একজন শিক্ষক হিসেবে নয়, একজন সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ এত রাতে ক্লাস নেবেন, এটা ভাবা যায় না। শিক্ষক হিসেবে আমি লজ্জিত।’

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘এগুলো তো মন্তব্যের বাইরে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের জন্য অশোভন ও দুঃখজনক। এত তো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ভাবমূর্তি নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উপাচার্যরা তো হবেন পথপ্রদর্শক। তারা যদি এমন অশোভন ও হাস্যকর কাজ করেন, তাহলে তো শুধু তারাই ব্যর্থ নন, এতে প্রতিষ্ঠানও হেয় হয়।’

কলিমুল্লাহর মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজকে হেয় করেছেন অধ্যাপক কলিমুল্লাহ

কলিমুল্লাহর আরও যত কাণ্ড

নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ ছিল ক্যাম্পাসে যাননি। অথচ ২০১৮ সাল থেকে প্রতি শিক্ষাবছরে তার নামে বিভিন্ন বিভাগের বেশ কিছু কোর্স বরাদ্দ ছিল। তিনি দুটি অনুষদের ডিন, একটি ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান, দুটি বিভাগের প্রধান ছিলেন।

এখনও তিনি অন্তত ১২টি বিভাগের বিভিন্ন কোর্স পড়ানোর দায়িত্বে আছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, একজন শিক্ষকের জন্য নিয়মিত ১০টি কোর্স নেয়াই কঠিন। কারণ প্রতিটি কোর্সে কমপক্ষে ৪০টি ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, টিউটোরিয়াল, মিডটার্ম পরীক্ষা নেয়াসহ উত্তরপত্র মূল্যায়ন ইত্যাদি করতে হয়। অথচ তিনি উপাচার্য পদে থেকে দিনের পর দিন ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থেকেও এই বিপুলসংখ্যক কোর্স নিচ্ছেন। বিষয়টি অবিশ্বাস্য।

কর্মচারী দিয়ে পরীক্ষা নেন উপাচার্য

তিনি দুই-একটি ক্লাস নিলেও পরীক্ষা নিয়েছেন কর্মকর্তা ও কর্মচারী দিয়ে। কোনো কোনো কোর্সে একটি ক্লাস নিয়ে কোর্স শেষ করেছেন। পরে শিক্ষার্থীদের ৭৫ শতাংশ উপস্থিত দেখিয়ে পরীক্ষা নিয়েছেন।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে লোকপ্রশাসন বিভাগে ভর্তি হওয়া এক শিক্ষার্থী প্রথম বর্ষেই ভর্তি বাতিল করে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে গেছেন। সব সেমিস্টারেই তাকে অনুপস্থিত দেখানো হলেও কলিমুল্লাহর কোর্সে তাকে উপস্থিত দেখানো হয়েছে।

উপস্থিতি, ইনকোর্স, টিউটোরিয়াল ও মিডটার্মে তাকে নম্বরও দেয়া হয়েছে। এমনকি মিডটার্মের লিখিত পরীক্ষায় ২৫-এ পেয়েছেন ২৭।

এ ছাড়া পরপর দুইবার ফেল করা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রকে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে উপাচার্য পরীক্ষার ফরম পূরণ করিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

একটি ক্লাস নিয়েই কোর্স শেষ

লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের ২য় বর্ষের ২য় সেমিস্টারে এমন ঘটনা ঘটেছে। কলিমুল্লাহ নিয়েছেন মাত্র একটি ক্লাস, যা নেয়া হয় প্রশাসন ভবনের সিন্ডিকেট রুমে রাত ১১টায়। তবে একটি ক্লাস নিলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখানো হয়েছে ৭৫ শতাংশ।

আরেকটি কোর্সে নিয়েছেন তিনটি ক্লাস।

দুর্নীতির অভিযোগ

কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতির ৪৫টি অভিযোগ আছে। ইউজিসির তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর দ্বিতীয় তদন্ত চলছে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয় কমিটি।

কলিমুল্লাহর মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন
অধ্যাপক কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউজিসির তদন্ত দল

প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ১০তলা ভবন ও একটি স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। এর জন্য উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওই কমিটির প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে।

ওই কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশে কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে করা হয় আরও একটি কমিটি।

সেই কমিটির তদন্ত ঠেকাতে গত ২৭ মে হাইকোর্টে রিট করেছেন কলিমুল্লাহ।

কলিমুল্লার রুচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও

গত ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা পড়ার পর ৪ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে তিনি শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিকে দোষারোপ করেন।

তার অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রীর আশ্রয়-প্রশ্রয় ও আশকারায় তার বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছে।

সেদিন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে কলিমুল্লাহর বক্তব্য খণ্ডন করে বলেন, ‘মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কলিমুল্লাহ যে বক্তব্য রেখেছেন তা শুধু অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনকই নয়, নিতান্তই রুচিবিবর্জিত।’

আরও পড়ুন:
রাত সাড়ে ৩টায় ক্লাস নিয়ে বিতর্কে কলিমুল্লাহ
তদন্ত স্থগিত চেয়ে ভিসি কলিমুল্লাহর রিট
বেরোবি উপাচার্যের দুর্নীতি: ৩২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ইউজিসির
কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ২৯ অভিযোগের তদন্তে রংপুরে ইউজিসি
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জবিতে ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত রোববার

জবিতে ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত রোববার

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘আগামী রোববার চেয়ারম্যান ও ডিনদের সঙ্গে সার্বিক বিষয়ে সভা হবে। সেখানে ক্লাস-পরীক্ষার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আটকে থাকা ক্লাস-পরীক্ষাগুলো কবে কীভাবে হবে এ বিষয়ে রোববার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শনিবার নিউজবাংলার প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক।

তিনি বলেন, ‘আগামী রোববার চেয়ারম্যান ও ডিনদের সঙ্গে সার্বিক বিষয়ে সভা হবে। সেখানে ক্লাস-পরীক্ষার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. অরণ কুমার গোস্বামী বলেন, ‘পরীক্ষা সশরীরে নেয়া হবে। রিভিউ ক্লাস নেয়া হবে অনলাইনে। তবে ক্লাস-পরীক্ষা কবে থেকে নেয়া হবে এ বিষয়ে রোববার অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সার্বিক বিষয় আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে আমাদের পরীক্ষা হবে। গত মিটিংয়ে আমরা এমন একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিক্ষার আগে প্রত্যেক বিভাগ তাদের প্রস্ততিমূলক ক্লাস শেষ করবে।’

করোনা পরিস্থিতিতে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা সশরীরে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। এর আগে অনলাইনে হবে প্রস্তুতিমূলক রিভিউ ক্লাস।

৮ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাধারণ সভায় জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে পরীক্ষা নেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে করোনা মহামারিতে আটকে থাকা অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষা নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
রাত সাড়ে ৩টায় ক্লাস নিয়ে বিতর্কে কলিমুল্লাহ
তদন্ত স্থগিত চেয়ে ভিসি কলিমুল্লাহর রিট
বেরোবি উপাচার্যের দুর্নীতি: ৩২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ইউজিসির
কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ২৯ অভিযোগের তদন্তে রংপুরে ইউজিসি
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’

শেয়ার করুন

জবির বেঁচে যাওয়া অর্থে শিক্ষাবৃত্তি দেয়ার দাবি

জবির বেঁচে যাওয়া অর্থে শিক্ষাবৃত্তি দেয়ার দাবি

পরিবহন খাতে প্রতি মাসে ভাড়ায় চালিত বিআরটিসির বাস এবং নিজস্ব বাসের তেল, গ্যাস বাবদ প্রায় ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়। তবে করোনা মহামারির কারণে দেড় বছর ধরে এই ব্যয় সংকোচন হয়েছে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন খাত নয়, এমন অনেক সেবা বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ বিল থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় সংকোচন হয়েছে। এসব খাতে বেঁচে যাওয়া অর্থ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয়ের দাবি উঠেছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের পরিবহনসহ নানা খাতে বেঁচে যাওয়া অর্থে শিক্ষাবৃত্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রসংগঠনের নেতাসহ অনেকেই।

পরিবহন খাতে প্রতি মাসে ভাড়ায় চালিত বিআরটিসির বাস এবং নিজস্ব বাসের তেল, গ্যাস বাবদ প্রায় ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়।

তবে করোনা মহামারির কারণে দেড় বছর ধরে এই ব্যয় সংকোচন হয়েছে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন খাত নয়, এমন অনেক সেবা বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ বিল থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় সংকোচন হয়েছে। এসব খাতে বেঁচে যাওয়া অর্থ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয়ের দাবি উঠেছে।

গত ৮ মার্চ দেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর সংক্রমণ রোধে ১৮ মার্চ থেকে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ রয়েছে। চলছে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজকর্ম। তবে জুলাইয়ে বিভিন্ন বর্ষের আটকে থাকা পরীক্ষা সশরীরে হতে পারে। আগামী ১৩ জুন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

জগন্নাথের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী মেসে কিংবা ভাড়া বাসায় থাকেন। করোনাকালে অনেক শিক্ষার্থীই আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা শুরু হলে নতুন করে ঢাকায় এসে মেস ভাড়া নেয়া, পরীক্ষা ফি, সেশন ফি দেয়াসহ নানা ধরনের খরচের মুখে পড়বেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৫-এর ২৭(৫) ধারায় বলা হয়েছে, ‘সরকার বা অন্যান্য বৈধ উৎস হইতে প্রাপ্ত অনুদান বা আয় হইতে প্রয়োজনের নিরিখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি বা ক্ষেত্রমতে উপবৃত্তি প্রদান করিতে পারিবে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ছাত্রনেতারা জানান, বিভিন্ন খাতের বেঁচে যাওয়া অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের কাজে ব্যবহার করলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন।

রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জামির হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতের বেঁচে যাওয়া অর্থ শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও গবেষণা খাতে ব্যয় করা যেতে পারে। করোনার সময়ে শিক্ষার্থীরা গ্রামে চলে যাওয়ায় টিউশনি হারিয়েছে, আর্থিক সংকটে আছে। এখন যতজন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়া হয়, বৃত্তির সংখ্যাটা তার থেকে যদি আরও বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (জবিশিস) সভাপতি অধ্যাপক ড. নূরে আলম আবদুল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ফি মওকুফের জন্য বলা হবে।’

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে ইউজিসি থেকে অনুমোদন নিয়ে এক খাতের অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করতে পারে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ রায় বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সংগঠন যৌথভাবে করোনার শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সম্পূরক বৃত্তির ব্যবস্থা করতে দাবি জানিয়েছিলাম। যা-ই হোক, এখন যেহেতু ক্যাম্পাস খুলবে শিক্ষার্থীরা ঢাকায় আসবে মেস নেবে, আরও খরচ আছে। বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন খাতের বেঁচে যাওয়া অর্থ সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয় করতে পারে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্র অধিকার পরিষদের আবু বকর বলেন, ‘প্রশাসন চাইলেই বিভিন্ন খাতে খরচ না হওয়া অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করতে পারে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো ইমদাদুল হক বলেন, ‘এসব ফান্ড করতে একা কোনো সিদ্ধান্ত তো নেয়া যায় না, সিন্ডিকেট মিটিং কিংবা কাউন্সিল মিটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আর আমি যোগদান করলাম তো বেশি দিন হয়নি। ফান্ডে কত টাকা আছে তাও জানি না।’

আরও পড়ুন:
রাত সাড়ে ৩টায় ক্লাস নিয়ে বিতর্কে কলিমুল্লাহ
তদন্ত স্থগিত চেয়ে ভিসি কলিমুল্লাহর রিট
বেরোবি উপাচার্যের দুর্নীতি: ৩২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ইউজিসির
কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ২৯ অভিযোগের তদন্তে রংপুরে ইউজিসি
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’

শেয়ার করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ল ৩০ জুন পর্যন্ত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ল ৩০ জুন পর্যন্ত

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় এবং দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে আংশিকভাবে কঠোর লকডাউন কার্যকর থাকায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী ও অভিভাবকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তার বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান ছুটি আরও একদফা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় এবং দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে আংশিকভাবে কঠোর লকডাউন কার্যকর থাকায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী ও অভিভাবকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তার বিবেচনায় এবং কোভিড-১৯-সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে পরামর্শক্রমে দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এবতেদায়ি ও কওমি মাদ্রাসাসমূহের চলমান ছুটি আগামী ৩০ জুন ২০২১ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে ১৩ জুন ২০২১ তারিখে দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার কথা জানিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে না আসায় তা সম্ভব হচ্ছে না।

দেশে করোনা শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দফায় দফায় তা বাড়ানো হয়।

চলতি বছরের শুরুর দিকে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে কয়েক দফা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে উঠছে না।

প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে মাধ্যমিক (এসএসসি) ও এপ্রিলে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা শুরু হলেও এ বছর করোনার কারণে এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা এখনও নেয়া সম্ভব হয়নি। গত বছর এসএসসি পরীক্ষা নেয়া গেলেও এইচএসসিতে শিক্ষার্থীদের অটোপাস দেয় সরকার।

এর আগে সময় পিছিয়ে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এসএসসি পরীক্ষা জুনে ও এইচএসসি পরীক্ষা আগস্টে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সে জন্য এসএসসির ৬০ দিন ও এইচএসসির ৮৪ দিন ক্লাস ধরে পরিমার্জিত সংক্ষিপ্ত সিলেবাসও প্রকাশ করেছিল শিক্ষা বোর্ড। হঠাৎ করে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এ ঘোষণার বাস্তবায়নও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

৩০ জুন পর্যন্ত বন্ধ প্রাইমারি-কিন্ডারগার্টেনও

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির কিছুক্ষণ পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও সব ধরনের সরকারি, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের চলমান ছুটি ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ছুটির এই সময়টায় প্রাধনমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কর্তৃক সময়ে সময়ে জারিকৃত নির্দেশনা ও অনুশাসনসমূহ শিক্ষার্থীদের মেনে চলতে হবে। শিক্ষার্থীদের বাসস্থানে অবস্থানের বিষয়টি অভিভাবকরা নিশ্চিত করবেন এবং স্থানীয় প্রশাসন তা নিবিড়ভাবে পরিবীক্ষণ করবে।

সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা তাদের নিজ নিজ শিক্ষার্থীরা যাতে বাসস্থানে অবস্থান করে নিজ নিজ পাঠ্যবই অধ্যয়ন করে, সে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের মাধ্যমে নিশ্চিত করার জন্যও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
রাত সাড়ে ৩টায় ক্লাস নিয়ে বিতর্কে কলিমুল্লাহ
তদন্ত স্থগিত চেয়ে ভিসি কলিমুল্লাহর রিট
বেরোবি উপাচার্যের দুর্নীতি: ৩২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ইউজিসির
কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ২৯ অভিযোগের তদন্তে রংপুরে ইউজিসি
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’

শেয়ার করুন

‘আগামী বছর প্রাথমিকের পাঠ্যতে যুক্ত হবে প্রোগ্রামিং’

‘আগামী বছর প্রাথমিকের পাঠ্যতে যুক্ত হবে প্রোগ্রামিং’

জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার সমাপনীতে বক্তব্য দেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

জাতীয় প্রতিযোগিতায় দেশের সব জেলা ও ৪৪৪ উপজেলা থেকে ১১ হাজার ৬৯৩ শিক্ষার্থী চার ঘণ্টাব্যাপী প্রোগ্রামিং এবং আধা ঘণ্টাব্যাপী কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। যাদের মধ্যে ৩ হাজার ৯৫ জন শিক্ষার্থীই মেয়ে।

মাধ্যমিকে এরই মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক পাঠ্যসূচি থাকলেও এবার প্রাথমিকে প্রোগ্রামিংকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কথা বলেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

ন্যাশনাল হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা- এনএইচএসপিসির জাতীয় পর্বের চলতি বছরের সমাপনী আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন কথা বলেন।

পলক বলেন, ‘আমরা শিশু-কিশোরদের মেধাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের মাটি থেকে স্যাটেলাইট তৈরি ও উৎক্ষেপণ করতে পারব। এমনকি ২০৪১ সালের লক্ষ্য পূরণ করতে পারব।

‘ডিজিটাল বিশ্বে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য আমাদের দেশের তরুণদের তৈরি করতে আবশ্যিকভাবে প্রোগ্রামিং শেখাতে হবে।’

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত আইসিটি বিষয়কে আবশ্যিক করেছে। ফলে আমাদের যে শিক্ষার্থীরা আইসিটি পড়ে এসেছে, তারা আইসিটি বিষয়ে উদ্যোক্তা হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছে।’

পলক বলেন, ‘বুয়েট থেকে ভাষাগুরু নামের ভাষা শেখার সফটওয়্যারে ৯টা ভাষা ব্যবহার করা যায়। কিন্তু শুধু প্রযুক্তির ভাষা শিখলে আমরা সব ভাষায় যোগাযোগ করতে পারব। প্রাইমারি থেকে প্রোগ্রামিং শেখানোর জন্য ২০২২ সালে যে বই শিক্ষার্থীদের দেয়া হবে, সেখানে প্রোগ্রামিংকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে।’

‘জানুক সবাই দেখাও তুমি’ স্লোগানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রোগ্রামিং সংস্কৃতি চালুর লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে অনলাইনেই আয়োজিত হয় এবারের প্রতিযোগিতা।

সারা দেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনলাইন প্রস্তুতি প্রতিযোগিতা, অনলাইন মহড়া প্রতিযোগিতা ও অনলাইন ন্যাশনাল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাতীয় প্রতিযোগিতায় দেশের সব জেলা ও ৪৪৪ উপজেলা থেকে ১১ হাজার ৬৯৩ শিক্ষার্থী চার ঘণ্টাব্যাপী প্রোগ্রামিং এবং আধা ঘণ্টাব্যাপী কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। যাদের মধ্যে ৩ হাজার ৯৫ জন শিক্ষার্থীই মেয়ে।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় এ বছর জুনিয়র ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন দেবজ্যোতি দাশ সৌম্য (জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিলেট)।

প্রথম রানার আপ কাজী নাদিদ হোসেইন (খুলনা জিলা স্কুল) এবং দ্বিতীয় রানার আপ শ্রেয়াস লাবিব অরিয়ন (এসএফএক্স গ্রিনহেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ঢাকা)।

সিনিয়র ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন যারিফ রহমান (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল, রাজশাহী)। প্রথম রানার আপ মামনুন সিয়াম (চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম) এবং দ্বিতীয় রানার আপ নাফিস উল হক সিফাত (হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম)।

এ ছাড়া কুইজ প্রতিযোগিতার জুনিয়র ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয়েছে যথাক্রমে চ্যাম্পিয়ন মাহির তাজওয়ার (সেন্ট যোসেফস উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা )।

প্রথম রানার আপ নিতীশ সরকার সোম (লৌহজং মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মুন্সিগঞ্জ) এবং দ্বিতীয় রানার আপ সামিরা তাসনিম (সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খুলনা)।

সিনিয়র ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয়েছে যথাক্রমে চ্যাম্পিয়ন নাহিয়ান ইয়াজদান রাহমান (সানবিমস, ঢাকা)। প্রথম রানার আপ ধ্রুব মণ্ডল (বরিশাল জেলা স্কুল, বরিশাল) এবং দ্বিতীয় রানার আপ শ্রেয়া চক্রবর্তী (মুমিনুন্নিসা সরকার মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ)।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন) মোহাম্মদ এনামুল কবির, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান।

বিজয়ীদের মধ্য থেকে প্রোগ্রামিংয়ের দুই ক্যাটাগরির সেরা তিনজনকে ল্যাপটপ এবং কুইজে দুই ক্যাটাগরির সেরা তিনজনকে স্মার্টফোন উপহার দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
রাত সাড়ে ৩টায় ক্লাস নিয়ে বিতর্কে কলিমুল্লাহ
তদন্ত স্থগিত চেয়ে ভিসি কলিমুল্লাহর রিট
বেরোবি উপাচার্যের দুর্নীতি: ৩২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ইউজিসির
কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ২৯ অভিযোগের তদন্তে রংপুরে ইউজিসি
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’

শেয়ার করুন

অনলাইনে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

অনলাইনে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

অনলাইনে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন। ছবি: নিউজবাংলা

অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বিভাগীয় সভাপতি তাদের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে অনলাইনে গণনিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছেন।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে অনলাইনে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে নজিরবিহীন ও বিভাগীয় কনভেনশনের লঙ্ঘন উল্লেখ করে এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক। এ সময় তারা অবিলম্বে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবিও জানিয়েছেন।

শুক্রবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অধ্যাপক রায়হান রাইন।

তিনি বলেন, ‘আগামী ১২ জুন দর্শন বিভাগে ছয়জন শিক্ষক নিয়োগের সাক্ষাৎকার অনলাইনে নেয়া হবে বলে আবেদনকারীদের জানানো হয়েছে। যেখানে শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষা অনলাইনে নেয়াকে আমরা যথাযথ মনে করছি না, সেখানে শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ যাচাই-পরীক্ষা অনলাইনে নেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীর নগরের দর্শন বিভাগে ছয়জন প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এই ছয় পদের বিপরীতে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেবেন ৫৭ জন প্রার্থী। শনিবার অনলাইনে তাদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

দর্শন বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বিভাগীয় সভাপতি তাদের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে অনলাইনে গণনিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘নতুন শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে দর্শন বিভাগের শিক্ষা পর্ষদের সভায় কোনো আলোচনা হয়নি। অথচ গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন ছয়জন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে বিভাগের দীর্ঘদিনের কনভেনশন লঙ্ঘন করা হয়েছে। একসঙ্গে এতজন শিক্ষক নিয়োগ বিভাগে অপ্রয়োজনীয় এবং এটি দুরভিসন্ধিমূলক।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, ফরিদ আহমেদ, মো. মঞ্জুর ইলাহী, মো. জাকির হোসেন, সহকারী অধ্যাপক আবদুছ ছাত্তার ও মোহাম্মদ উল্লাহ।

বৃহস্পতিবার দর্শন বিভাগের এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হাইকোর্টে রিট করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান, আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, জাকির হোসেন ও সহকারী অধ্যাপক আবদুছ ছাত্তার।

এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন এবং দর্শন বিভাগের সভাপতিকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান অ্যাডভোকেট ড. সৈয়দা নাসরিন। দর্শন বিভাগের আটজন শিক্ষকের পক্ষে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।

এর আগে বুধবার নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধে ইউজিসির চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করেছিলেন ওই আট শিক্ষক।

আরও পড়ুন:
রাত সাড়ে ৩টায় ক্লাস নিয়ে বিতর্কে কলিমুল্লাহ
তদন্ত স্থগিত চেয়ে ভিসি কলিমুল্লাহর রিট
বেরোবি উপাচার্যের দুর্নীতি: ৩২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ইউজিসির
কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ২৯ অভিযোগের তদন্তে রংপুরে ইউজিসি
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’

শেয়ার করুন

মায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে মার খেলেন দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

মায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে মার খেলেন দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

মাকে হাসপাতালে ভর্তির সময় বাড়তি টাকা দিতে না চাওয়ায় মারধর করা হয় রিয়াদকে। এর প্রতিবাদ করায় মারধরের শিকার হন তার ছোট ভাই রাশেদও।

অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করাতে এসে অতিরিক্ত টাকা দিতে না চাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে।

হামলায় গুরুতর আহত ওই শিক্ষার্থীদের ওই হাসপাতালটিতেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

আহতরা হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল করিম রিয়াদ ও তার ছোটভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাশেদ করিম।

শুক্রবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রিয়াদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘মায়ের চিকিৎসার জন্য ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসি। সেখানে দায়িত্বরতরা ভর্তির ৩০ টাকার জায়গায় ১০০ টাকা অতিরিক্ত দাবি করলে আমি দিতে অস্বীকার করি।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় তারা আমাকে চাপ প্রয়োগ করে। প্রতিবাদ করলে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে সেখানে উপস্থিত মেডিক্যালের কয়েকজন স্টাফ। পরে আমাকে তারা ধাক্কা দেয় এবং মারধর করে। এ সময় আমার ছোট ভাই রাশেদ প্রতিবাদ করলে তাকেও মারধর করে।’

রাশেদ করিম বলেন, ‘আমি মোবাইল দিয়ে তাদের ছবি তোলার চেষ্টা করলে মোবাইল নিয়ে নেয়। চলে যাওয়ার সময় মোবাইল ফেরত দেয় তারা। পরে পুলিশ এসে উদ্ধার করে আমাকে, আমার ভাই ও মাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করায়।’

রংপুর মেডিক্যালে দায়িত্বরত উপপরিদর্শক (এস. আই) আপেল বলেন, ‘আমি বর্তমানে ঐ শিক্ষার্থীর মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। বিষয়টি থানার বড় অফিসারকে জানিয়েছি।’

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানী বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি হাসাতালে যাই। তাদের খোঁজখবর নিই।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা না নিলে আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় যাব।’

এ নিয়ে কথা বলার জন্য হাসপাতালের পরিচালক রেজাউল করিমকে ফোন দিলে তিনি ধরেন নি।

আরও পড়ুন:
রাত সাড়ে ৩টায় ক্লাস নিয়ে বিতর্কে কলিমুল্লাহ
তদন্ত স্থগিত চেয়ে ভিসি কলিমুল্লাহর রিট
বেরোবি উপাচার্যের দুর্নীতি: ৩২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ইউজিসির
কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ২৯ অভিযোগের তদন্তে রংপুরে ইউজিসি
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’

শেয়ার করুন

২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত

২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত

‘আমাদের এখন আবেদন তেমন পড়ছে না। দিনে ২-৩ টা আবেদন পড়ে। এতে আমাদের খরচ হয়। তাই আবেদনের সময়সীমা ২৫ জুন রাত ১১.৫৯ মিনিট পর্যন্ত করা হয়েছে। এর মাঝে শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে হবে।’

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে দেশের ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

নিউজবাংলার প্রতিবেদকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার আয়োজক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন।

শুক্রবার এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ১৯ ও ২৬ জুন এবং আগামী মাসের ৩ তারিখের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

‘আমাদের এখন আবেদন তেমন পড়ছে না। দিনে ২-৩ টা আবেদন পড়ে। এতে আমাদের খরচ হয়। তাই আবেদনের সময়সীমা ২৫ জুন রাত ১১.৫৯ মিনিট পর্যন্ত করা হয়েছে। এর মাঝে শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে হবে।’ আবেদনের ওয়েবসাইট- gstadmission.ac.bd

গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বিত ভর্তি কমিটির সচিব ওহিদুজ্জামান বলেন, করোনার জন্য এমনিতেই আমাদের কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে।

‘শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মুখে ফেলে আমরা কিছু করব না। এই অবস্থায় কবে এই পরীক্ষা হবে তার তারিখও ঘোষণা করা যাচ্ছে না। তাই আজ সভা করে পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষাবিষয়ক টেকনিক্যাল সাব-কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি অনুকূলে না আসায় দেশের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করেছে আয়োজক কমিটি।

‘২৫ তারিখ পর্যন্ত প্রাথমিক আবেদনের সময়সীমা রাখা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি বিচার বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় মেধাক্রমের তালিকা, পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করে জানিয়ে দেয়া হবে।’

এর আগে সমন্বিত ভর্তি কমিটির প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৯ জুন মানবিক বিভাগের, ২৬ জুন বাণিজ্যের ও ৩ জুলাই বিজ্ঞান বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

এ বছর গুচ্ছভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাকা), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (কুষ্টিয়া), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সিলেট), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুলনা), হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (দিনাজপুর), মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (টাঙ্গাইল), পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পটুয়াখালী), নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোয়াখালী), কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুমিল্লা), জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (ত্রিশাল ময়মনসিংহ), যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যশোর), বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (রংপুর), পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবনা), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোপালগঞ্জ), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (বরিশাল), রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাঙ্গামাটি), রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় (সিরাজগঞ্জ), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি (গাজীপুর), শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় (নেত্রকোনা), বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জামালপুর)।

আরও পড়ুন:
রাত সাড়ে ৩টায় ক্লাস নিয়ে বিতর্কে কলিমুল্লাহ
তদন্ত স্থগিত চেয়ে ভিসি কলিমুল্লাহর রিট
বেরোবি উপাচার্যের দুর্নীতি: ৩২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ইউজিসির
কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ২৯ অভিযোগের তদন্তে রংপুরে ইউজিসি
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’

শেয়ার করুন