৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশের দাবি

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকেই রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডের বোরাক টাওয়ারে অবস্থিত এনটিআরটিসি কার্যালয়ে সামনে জড়ো হয়ে নিয়োগপ্রত্যাশীরা বিক্ষোভ করেন। ছবি: নিউজবাংলা

৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশের দাবি

স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি। এ জন্য নিয়োগপ্রত্যাশীরা হতাশা ও দুশ্চিন্তায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। উচ্চশিক্ষিত বেকারদের কথা চিন্তা করে হলেও দ্রুত প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির ফলাফল ঘোষণা করা উচিত।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) ৫৪ হাজার শিক্ষকের শূন্যপদের বিপরীতে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তির ফলাফল দ্রুত প্রকাশের দাবিতে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন নিয়োগপ্রত্যাশী ১-১৫তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষকরা।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকেই রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডের বোরাক টাওয়ারে অবস্থিত এনটিআরসিএ কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন নিয়োগপ্রত্যাশীরা। এরপর দুপুর ১টায় তারা এনটিআরসিএ কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাশী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হাবিব উল্লাহ রাজু বলেন, ‘গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে ফল প্রকাশ না করাটা হতাশার। করোনার এই সময়ে আমরা চাই এনটিআরসিএ দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করুক।’

তিনি আরও বলেন, আগামী রোববারের মধ্যে ৫৪ হাজার নিয়োগের ফল প্রকাশ করতে হবে। না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি নেয়া হবে।

স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি। এ জন্য নিয়োগপ্রত্যাশীরা হতাশা ও দুশ্চিন্তায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। উচ্চশিক্ষিত বেকারদের কথা চিন্তা করে হলেও দ্রুত প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির ফলাফল ঘোষণা করা উচিত।

স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, ‘প্রিলি, রিটেন ও ভাইভা পাস করাটা কি আমাদের বিশাল অপরাধ? দ্রুত আমাদের মেধা ও পরিশ্রমের মূল্য চাই। দ্রুত ফলাফল চাই।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

গবেষণায় চুরি: ঢাবি শিক্ষক লীনার পিএইচডি বাতিলের দাবি

গবেষণায় চুরি: ঢাবি শিক্ষক লীনার পিএইচডি বাতিলের দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন নায়েমের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ইফফাত আরা নার্গিস। ছবি: নিউজবাংলা

লীনা তাপসীর পিএইচডির উপর রচিত ‘নজরুল-সঙ্গীতে রাগের ব্যবহার’ বইটি বাতিল, ডিগ্রি দেয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি এবং এই ডিগ্রির জন্য প্রাপ্ত নজরুল পদক বাতিলের জন্য কবি নজরুল ইনিস্টিউট এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন নায়েমের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ইফফাত আরা নার্গিস।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মহসিনা আক্তার খানমের (লীনা তাপসী খান নামেই বেশি পরিচিত) বিরুদ্ধে তার পিএইচডির গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ এনে সর্বোচ্চ অ্যাকাডেমিক ডিগ্রিটি বাতিলের দাবি উঠেছে।

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ইফফাত আরা নার্গিস।

এছাড়া লীনা তাপসীর ডিগ্রির উপর রচিত ‘নজরুল-সঙ্গীতে রাগের ব্যবহার’ বইটি বাতিল, ডিগ্রি দেয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি এবং এই ডিগ্রির জন্য প্রাপ্ত নজরুল পদক বাতিলের জন্য কবি নজরুল ইনিস্টিউট এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি৷

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইফফাত আরা আরও বলেন, ‘সঙ্গীতের প্রতি প্রবল আগ্রহের কারণে আমি লীনা তাপসী খানের ‘নজরুল সঙ্গীতে রাগের ব্যবহার’ নামের বইটি সংগ্রহ করি। কিন্তু বইটি পড়ে আমার এর আগে পড়া করা ৩/৪ টি গ্রন্থের সঙ্গে বেশ কিছু অংশের হুবহু মিল খুঁজে পাই, যা পরিষ্কার চৌর্যবৃত্তি।’

তিনি জানান, এবছরের ৪ ফেব্রুয়ারি লীনা তাপসী খানের পিএইচডির অভিসন্দর্ভের (বৃহত্তর গবেষণাপত্র) উপর ভিত্তি করে রচিত বই ‘নজরুল সঙ্গীতে রাগের ব্যবহার’ সম্পর্কে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ তদন্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর আবেদন করেছিলাম। কিন্তু তাতেও কোনো ফল আসেনি।

এর আগে, অ্যাকাডেমিক গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির দায়ে ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিয়া রহমানসহ তিন শিক্ষককে পদাবনতির শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনর্ধারণী এই ফোরাম সামিয়া রহমানকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে নামিয়ে সহকারী অধ্যাপক করেছে।

গবেষণায় চুরি: ঢাবি শিক্ষক লীনার পিএইচডি বাতিলের দাবি
গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির দায়ে ঢাবির সহযোগী অধ্যাপক সামিয়া রহমানসহ তিন শিক্ষককে পদাবনতির শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। ছবি:সংগৃহীত

শাস্তি হিসেবে সামিয়ার গবেষণা প্রবন্ধের সহলেখক অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানকে শিক্ষা ছুটি শেষে চাকরিতে যোগদানের পর দুই বছর একই পদে থাকতে হবে।

একই সিন্ডিকেট সভায় পিএইচডি থিসিসে জালিয়াতির আরেক ঘটনায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক ওমর ফারুকের ডিগ্রি বাতিলের পাশাপাশি তাকে সহকারী অধ্যাপক থেকে প্রভাষক পদে নামিয়ে দেয়া হয়েছে।

গত ২৮ জানুয়ারি উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সিন্ডিকেট সভায় এ সব সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে, বইয়ের ৩৮টি জায়গার উল্লেখ করে চোর্যবৃত্তির অভিযোগ এনেছেন ইফফাত আরা নার্গিস। এর মধ্যে আছে, বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ৪২ লাইন, তৃতীয় অধ্যায়ে ৭ লাইন, চতুর্থ অধ্যায়ে ২৬ লাইন, পঞ্চম অধ্যায়ে ৬ লাইন, ষষ্ঠ অধ্যায়ে ১ লাইন, দশম অধ্যায়ে ১২৬ লাইন, একাদশ অধ্যায়ে ১২২ লাইন, ত্রয়োদশ অধ্যায়ে ৬৫ লাইন এবং চতুর্দশ অধ্যায়ে ৫৩ লাইন। এসব লাইন রবীন্দ্রনাথের ‘গীতিবিতান’ ও ‘নজরুল-গীতিকা, ইদ্রিস আলীর লেখা ‘নজরুল সঙ্গীতের সুর’, স্বরলিপিকার জগত ঘটক ও কাজী অনিরুদ্ধের ‘নবরাগ’, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘নজরুল সৃষ্ট রাগ ও বন্দিশ’ এবং কাকলী সেনের ‘ফৈয়াজী আলোকে নজরুলগীতি’ এসব বই থেকে তথ্য নির্দেশ ছাড়া হুবহু চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এছাড়াও নায়েমের সাবেক এই মহাপরিচালক অভিযোগ করেন, ২৮০ পৃষ্ঠার বইয়ে ৮০ পৃষ্ঠার স্বরলিপি স্ক্যান করে ঢোকানো হয়েছে মূল পাঠ হিসেবে, যা অনৈতিক। দেখা যাচ্ছে যে ২৭৭ পৃষ্ঠার বইয়ের ১৬৯ পৃষ্ঠাই লীনা তাপসী খানের রচনা নয়।

এগুলো অন্যের বই থেকে হুবহু নেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট পৃষ্ঠাগুলোর মধ্যেও চৌর্যবৃত্তি পাওয়া যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ অবস্থায় তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

জানা যায়, ২০১০ সালের মে মাসে লীনা তাপসী এটিকে পিএইচডির গবেষণাপত্র (থিসিস) হিসেবে উপস্থাপন করেন। ২০১১ সালে নজরুল একাডেমি তার ওই থিসিস বই আকারে প্রকাশ করেন।

এতোদিন পর কেন সংবাদ সম্মেলন, জানতে চাওয়া হলে ইফফাত আরা বলেন, ‘এই গবেষণা চৌর্যবৃত্তির বিষয়ে আমি অনেক আগেই অবগত ছিলাম। তবে এরকম একটি কাজে অগ্রসর হইনি। কিন্তু ইদানিং লীনা তাপসী খানের তত্বাবধানে একজন ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করে বেরিয়ে গেছেন এবং আরও কয়েকজন এ প্রক্রিয়ায় মধ্যে রয়েছেন।

‘যার নিজের পিএইচডি ঠিক নেই তিনি অন্যদের কি ডিগ্রি দিচ্ছেন এবং গবেষণার মান কোথায় নামাচ্ছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও সম্মানকে কতটা রসাতলে নিয়ে যাচ্ছেন সেটা সহজেই অনুমেয়।

‘কিন্তু এখন আমার মনে হয়েছে, আমি যদি প্রতিবাদ না করি, তবে একটি বড় অপরাধকে প্রকারান্তরে সমর্থন করার অপরাধে আমিও অপরাধী হয়ে পড়বো। তাই আজ আপনাদের সামনে এসেছি।’

লীনা তাপসী খানের পাল্টা অভিযোগ

এদিকে, নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ দাবি করেছেন লীনা তাপসী খান। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে তার যেসব অভিযোগ তা মিথ্যা, ভুল এবং বানোয়াট। আমার বোর্ড আমাকে যেভাবে তত্ত্বাবধান করেছে, আমার গাইড আমাকে যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে, আমি সেভাবেই করেছি। বারো বছর আগে করা পিএইচডি’র ভুল একজন বারো বছর পরে ধরতে এসেছেন। তিনি কোন শিক্ষাবিদ, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শোধরাতে আসেন। তার নিজের কী কোনো গবেষণা রয়েছে?

গবেষণায় চুরি: ঢাবি শিক্ষক লীনার পিএইচডি বাতিলের দাবি
নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ দাবি করেছেন লীনা তাপসী খান। ছবি:সংগৃহীত

তিনি বলেন, সঙ্গীতে প্রায়োগিক বিষয়ে আমার আগে কেউ কাজ (গবেষণা) করেননি। এই ধরনের গবেষণার পদ্ধতি প্রক্রিয়াও অন্য গবেষণার চেয়ে আলাদা। একটি স্বরলিপি যখন ছাপানো হয়, তখন একটি ‘রেফ’ এর কারণে আকাশ-পাতাল পার্থক্য হয়ে যায়। এতে প্রযুক্তিগত নানা ধরনের বিষয় আছে। সেক্ষেত্রে অনেক সময় হুবহু স্ক্যান না করলে কাজ করা যাবে না। এখন কোথায় ফটোকপি করে দেবো, স্ক্যান করে দিবো, আমার গাইড আমাকে যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, আমি সেভাবেই করেছি।

তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগকে ‘প্রতিশোধমূলক’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি (ইফফাত আরা নার্গিস) আত্মপ্রচারণার জন্য একটা প্রতারণামূলক কাজ করছেন। আমি লিখিতভাবে এটার প্রতিবাদ জানাবো।

শেয়ার করুন

উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি সম্ভব নয়

উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি সম্ভব নয়

রোববার ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত উদ্ভাবন ও সেবা সহজীকরণ বিষয়ে দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য দেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

অধ্যাপক আলমগীর বলেন, করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ইউজিসি শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনলাইনে ক্লাস ও শর্তসাপেক্ষে পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তহীনতার জন্য এ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাস্তবতা মেনে ও ইউজিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাঠদান ও পরীক্ষা গ্রহণ করলে তারা এই সংকটের মাঝেও এগিয়ে যেতে পারত।

নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সহযোগিতা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর।

তিনি বলেন, উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এগিয়ে নিতে হবে। সৃজনশীলতা ছাড়া উদ্ভাবন সম্ভব নয় এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে হলে জীবনকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে।

রোববার ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত উদ্ভাবন ও সেবা সহজীকরণ বিষয়ে দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আলমগীর বলেন, করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ইউজিসি শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনলাইনে ক্লাস ও শর্তসাপেক্ষে পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তহীনতার জন্য এ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাস্তবতা মেনে ও ইউজিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাঠদান ও পরীক্ষা গ্রহণ করলে তারা এই সংকটের মাঝেও এগিয়ে যেতে পারত।

তিনি আরও বলেন, ফ্রন্টিয়ার প্রযুক্তির যুগে বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যুগের চাহিদা পূরণে আমাদের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। এই পরিবর্তন ও চাহিদার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারলে জাতি হিসেবে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি জানান।

ইউজিসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন ইউজিসির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান। ইউজিসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক ও উদ্ভাবনের ফোকাল পয়েন্ট রবিউল ইসলামের সঞ্চালনায় কমিশনের আইএমসিটি বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ও ইনোভেশন অফিসার মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া যুক্ত ছিলেন।

কর্মশালায় ইউজিসির ১৯ জন সিনিয়র সহকারী পরিচালক এবং সমমানের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর আরোপ প্রতাহার চায় ছাত্রদল

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর আরোপ প্রতাহার চায় ছাত্রদল

এতে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩তম অনুচ্ছেদ মতে শিক্ষা দেশের নাগরিকদের সুযোগ নয়; অধিকার। কিন্তু এই অধিকার রক্ষায় বর্তমান সরকার কখনোই আন্তরিক ছিল বলে মনে হয় না।

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

রোববার ছাত্রদল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩তম অনুচ্ছেদ মতে শিক্ষা দেশের নাগরিকদের সুযোগ নয়; অধিকার। কিন্তু এই অধিকার রক্ষায় বর্তমান সরকার কখনোই আন্তরিক ছিল বলে মনে হয় না।

“সরকারের নীতিনির্ধারকেরা নিজেদের যতই শিক্ষা বান্ধব বলে দাবি করেন না কেন, শিক্ষা খাতের দুষ্টচক্র তুল্য ভ্যাটবান্ধব এই বাজেট কিছুতেই তা সাক্ষ্য দেয়না। উপরন্তু এনবিআরের বক্তব্য ‘ভ্যাটের কারণে শিক্ষার্থীদের উপর চাপ বাড়বে না, কারণ এটি শোধ করবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো’ এ বক্তব্য পুরোটাই শুভঙ্করের ফাঁকি বৈ কিছু না!”

শিক্ষাস্বার্থ সংরক্ষণে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত প্রস্তাবিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানানোর পাশাপাশি সরকারের অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় সরকারের ঘাড়েই বর্তাবে বলেও সতর্ক করে ছাত্রদল।

শেয়ার করুন

বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে নিয়োগে ইউজিসির ৫ শর্ত

বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে নিয়োগে ইউজিসির ৫ শর্ত

অনলাইনে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক। ফাইল ছবি

অনলাইনে নিয়োগ পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার নেয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী সিন্ডিকেটের অনুমোদিত একটি নীতিমালা থাকতে হবে।

শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার স্বার্থে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে উপস্থিতির পাশাপাশি অনলাইনেও শর্ত সাপেক্ষে নিয়োগ পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

ইউজিসির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামানের স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি রোববার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে পাঠানো হয়েছে।

ইউজিসি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের চিঠি দেয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমান করোনাভাইরাসের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার স্বার্থে প্রচলিত সশরীর নিয়োগ পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা সম্ভব না হলে নিম্নবর্ণিত শর্তাবলি আবশ্যিকভাবে প্রতিপালন সাপেক্ষে অনলাইন পদ্ধতিতে পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা যেতে পারে।

ইউজিসির দেয়া পাঁচ শর্ত

১. অনলাইনে নিয়োগ পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার গ্রহণের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারবে না।

২. বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, সংবিধি, বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে অনুমোদিত পদের বিপরীতে উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি প্রচারের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

৩. অনলাইনে নিয়োগ পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার নেয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী সিন্ডিকেটের অনুমোদিত একটি নীতিমালা থাকতে হবে।

৪. অনলাইনে নিয়োগ পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারের অডিও-ভিডিও কমপক্ষে দুই বছরের জন্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

৫. নির্বাচিত আবেদনকারীর মূল সনদপত্রগুলো যাচাই করে নিয়োগপত্র দিতে হবে।

সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে অনলাইনে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিষয়টি আলোচনায় আসে। নিয়োগের বিরোধিতা করে অনলাইনে শিক্ষক নিয়োগ-প্রক্রিয়াকে নজিরবিহীন ও বিভাগীয় কনভেনশনের লঙ্ঘন উল্লেখ করে প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক।

অনলাইনে শিক্ষক নিয়োগ-পক্রিয়া বন্ধ করতে ৯ জুন ইউজিসির কাছে আবেদন করেছিলেন ওই শিক্ষকরা।

শেয়ার করুন

জবিতে সশরীরে সেমিস্টার ফাইনাল শুরু ১০ আগস্ট

জবিতে সশরীরে সেমিস্টার ফাইনাল শুরু ১০ আগস্ট

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘আমাদের পরীক্ষা হবে আগস্টের ১০ তারিখ। একটু পর প্রেস রিলিজ দিয়ে জানিয়ে দেয়া হবে। জুলাইয়ের মধ্যে নিজ নিজ বিভাগ অনলাইনে রিভিউ ক্লাস এবং মিড পরীক্ষা নেবে। আর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিভিন্ন বর্ষের আটকে থাকা সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হবে ১০ আগস্ট থেকে। পরীক্ষাগুলো হবে সশরীরে। তবে সেমিস্টার ফাইনালের আগে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করতে হবে দুই সেমিস্টারের সকল অ্যাসেসমেন্ট।

একাডেমিক কাউন্সিলের এক অনলাইন মিটিংয়ে রোববার এসব সিদ্ধান্ত হয় বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘আমাদের পরীক্ষা হবে আগস্টের ১০ তারিখ। একটু পর প্রেস রিলিজ দিয়ে জানিয়ে দেয়া হবে। জুলাইয়ের মধ্যে নিজ নিজ বিভাগ অনলাইনে রিভিউ ক্লাস এবং মিড পরীক্ষা নেবে। আর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।

‘এটা অনেকটাই করোনার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। যদি করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ না করে তাহলে আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অটুট থাকব।’

সিদ্ধান্তটি ‘খুবই সুন্দর’ বলে উল্লেখ করেছেন কোষাধ্যক্ষ কামালউদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, ‘যেহেতু করোনা বেড়ে গেছে, তাই আমরা কোনো শিক্ষার্থীকে ঢাকায় এনে বিপদে ফেলতে চাই না। চূড়ান্ত পরীক্ষাগুলো সব ১০ আগস্ট থেকে শুরু হবে। কিন্তু দুই সেমিস্টারের মিড, অ্যাসাইনমেন্ট যেভাবে শিক্ষার্থীবান্ধব হয় অনলাইনে শিক্ষকরা ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে তা নিয়ে শেষ করবেন। ২৯ জুনের আগে ভর্তি ও পরীক্ষার ফরম ফিলাপ কার্যক্রম শেষ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে নোটিশ দিয়ে দেয়া হবে। আর পরীক্ষা ফি, সেমিস্টার ফি এসব অনলাইনে দিয়ে দেয়া হবে। সেমিস্টার ফাইনাল ব্যতীত সকল কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।’

সশরীরে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দেয়ার জন্য শনিবারই শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর। তিনি বলেন, ‘ঢাকায় এসে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেয়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নেয়া উচিত।… সামনের সপ্তাহেই বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.পারভীন আক্তার জেমি নিউজবাংলাকে বলেন, ঈদের বন্ধের আগে সকল মিড টার্ম পরীক্ষা হবে। এরপর রিভিউ ক্লাস হবে এবং ঈদের পর আগস্টের ১০ তারিখ থেকে ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হবে।

সভায় অন্যদের মধ্যে রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান, সকল অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটসমূহের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে প্রথম সেমিস্টারের মিড, অ্যাসাইনমেন্ট অনলাইনে নেয়া হবে। ১০ আগস্ট থেকে প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা সশরীরে নেয়া হবে। এরপর কমপক্ষে ১৫ দিন, সর্বোচ্চ ৩ সপ্তাহ সময় দিয়ে দ্বিতীয় সেমিস্টারের মিড অ্যাসাইনমেন্ট হবে। তারপর দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষাও সশরীরে নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে পরীক্ষা শুরু

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে পরীক্ষা শুরু

যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশ্ববিদ্যালয়ে রোববার সকাল ১০টা থেকে বিভিন্ন বিভাগের মিডটার্ম ও চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হয়েছে। পরীক্ষার পাশাপাশি সীমিত পরিসরে শুরু হয়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রম।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে চূড়ান্ত পরীক্ষা নেয়া শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশ্ববিদ্যালয়ে রোববার সকাল ১০টা থেকে বিভিন্ন বিভাগের মিডটার্ম ও চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হয়েছে। পরীক্ষার পাশাপাশি সীমিত পরিসরে শুরু হয়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রম।

পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে দুই শিফটে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রথম শিফটে এবং দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দ্বিতীয় শিফটে পরীক্ষা চলবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ৮টি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের ১১টি চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের মিডটার্ম পরীক্ষাও শুরু হয়েছে।

দীর্ঘদিন পর পরীক্ষা দিতে এসে আনন্দিত শিক্ষার্থীরা।

ষষ্ঠ সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরে আনন্দিত আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাসেল মিয়া।

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা পরীক্ষা দিচ্ছি। খুবই ভালো লাগছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমরা।’

নৃবিজ্ঞান বিভাগের ১০ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান অষ্টম সেমিস্টারের পরীক্ষা দিচ্ছেন।

দীর্ঘদিন পর ক্লাসরুমে বসে পরীক্ষা দিতে পেরে ইশরাত বলেন, ‘লেখাপড়ায় ছন্দ ফিরে পেলাম। ক্লাসরুমে বসে এতদিন পর পরীক্ষা দিতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।’

পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক মো. আবু তাহের বলেন, ‘ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের নির্দেশনা অনুযায়ী রোববার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা শুরু করেছি আমরা। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছি। সবাইকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরতে হবে। ক্লাসরুম-ওয়াশরুম সব পরিষ্কার করা হয়েছে। প্রতিটি অনুষদের সামনে সাবান-পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষার হলে স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

শেয়ার করুন

ছাত্রলীগকর্মীর ‘মাথা গরম’, গার্ডকে থাপ্পড়

ছাত্রলীগকর্মীর ‘মাথা গরম’, গার্ডকে থাপ্পড়

ছাত্রলীগকর্মী মনোয়ার হোসেন হিমেল। ছবি: সংগৃহীত

হিমেল বলেন, ‘আমি ক্যাম্পাসে ঢুকতে চেয়েছিলাম, তখন গেটের একটি অংশ খোলা ছিল। গার্ডকে গেটের দুই অংশ খুলে দিতে বলেছিলাম। কিন্তু সে খোলেনি, এতে আমার মাথা গরম হয়ে যায়। তখন গার্ডকে থাপ্পড় দিয়ে ফেলি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের দুই অংশ খুলে না দেয়ায় নিরাপত্তাকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত মনোয়ার হোসেন হিমেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্রলীগকর্মী।

শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আমবাগানসংলগ্ন ফটকে হিমেল নিরাপত্তাকর্মী ফয়সাল কবিরকে মারধর করেন বলে রেজিস্ট্রারকে লিখিতভাবে জানান হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা নিউজবাংলাকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আমবাগান গেট দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন হিমেল। এ সময় ফটকের দুটো অংশ খুলে দিতে নিরাপত্তাকর্মীকে নির্দেশ দিলে গেটের দুই অংশ খোলা যাবে না বলে জানান ফয়সাল কবির। তখন গেট খুলতে বাধ্য করতে নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর শুরু করেন হিমেল। পরে গেট খুলে দেয়া হলেও লোকজন নিয়ে নিরাপত্তাকর্মী ফয়সালকে আবারও মারধর করতে আসেন তিনি। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য ও একাধিক শিক্ষকের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান করে দেয়া হয়।

মারধরের শিকার নিরাপত্তাকর্মী ফয়সাল বলেন, ‘গেটের দুই অংশ খুলে দিতে বলার পর আমি তাকে একটি অংশ খোলা যাবে বলে জানাই। কিন্তু হঠাৎ তিনি গালাগালি দিয়ে মারধর শুরু করেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। এ ছাড়া রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হিমেল বলেন, ‘আমি ক্যাম্পাসে ঢুকতে চেয়েছিলাম, তখন গেটের একটি অংশ খোলা ছিল। গার্ডকে গেটের দুই অংশ খুলে দিতে বলেছিলাম। কিন্তু সে খোলেনি, এতে আমার মাথা গরম হয়ে যায়। তখন গার্ডকে থাপ্পড় দিয়ে ফেলি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার অভিভাবক ছাত্রলীগের মুরাদ ভাই, সবুজ ভাই, সৈকত ভাই এসে সমাধান করে দেন।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (নিরাপত্তা) জেফরুল হাসান চৌধুরী সজল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমবাগানের গেটটা বন্ধ রাখার নির্দেশ আছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে। ওই শিক্ষার্থী এসে গেটের পুরো অংশ খুলে দিতে বললে গার্ড একটা অংশ খুলে দিলে হঠাৎ করেই সে গার্ডের ওপর চড়াও হয়, মারধর করে। আমরা রেজিস্ট্রার, প্রক্টরকে জানিয়েছি। তার যথাযথ শাস্তি দাবি করছি।’

শেয়ার করুন