স্ক্রিনশট

মধ্যরাতে গুগল মিটে শিক্ষার্থীদের ক্লাসের স্ক্রিনশট। ছবি: নিউজবাংলা

রাত সাড়ে ৩টায় ক্লাস নিয়ে বিতর্কে কলিমুল্লাহ

বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় তিনি ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের পলিটিক্যাল থট কোর্সের ক্লাস নেবেন বলে জানান। এরপর রাত ৩টা ২০ মিনিটে গুগল মিটে ক্লাস শুরু করেন। ক্লাস শেষ হয় ৩টা ৫৫ মিনিটে।

বিতর্ক থেকে যেন সরতেই পারেন না রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ।

এবার তিনি বিতর্ক তৈরি করেছেন রাত সাড়ে তিনটায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় তিনি ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের পলিটিক্যাল থট কোর্সের ক্লাস নেবেন বলে জানান।

এরপর রাত ৩টা ২০ মিনিটে গুগল মিটে ক্লাস শুরু করেন। ক্লাস শেষ হয় ৩টা ৫৫ মিনিটে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষার্থীরা জানান, শুরুতে ক্লাসে ২৮ জন শিক্ষার্থী জয়েন করলেও শেষ পর্যন্ত ১২ জন ছিলেন। গভীর রাতে ক্লাস হওয়ায় অনেকেই থাকতে পারেননি।

এ ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে ও বাইরে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।

গভীর রাতে ক্লাস নেয়ার বিষয়ে অধিকার সুরক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মতিউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মধ্যরাতে ক্লাস নেয়া কোনো সুস্থ মানুষের কাজ হতে পারে না। এটা নিয়ে ভাবতেও লজ্জা লাগে।’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কলিমউল্লাহর মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

১২ বিভাগের কোর্স পড়াতেন উপাচার্য:

নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি কখনো ক্যাম্পাসে যাননি। অথচ ২০১৮ সাল থেকে প্রতি শিক্ষাবছরে তার নামে বিভিন্ন বিভাগের বেশ কিছু কোর্স বরাদ্দ ছিল। তিনি দুইটি অনুষদের ডিন, একটি ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান, দুটি বিভাগের প্রধান ছিলেন।

এখনও তিনি অন্তত ১২টি বিভাগের বিভিন্ন কোর্স পড়ানোর দায়িত্বে আছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, একজন শিক্ষকের জন্য নিয়মিত ১০টি কোর্স নেয়াই কঠিন। কারণ প্রতিটি কোর্সে কমপক্ষে ৪০টি ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, টিউটোরিয়াল ও মিডটার্ম পরীক্ষা নেয়াসহ উত্তরপত্র মূল্যায়ন ইত্যাদি করতে হয়। অথচ তিনি উপাচার্য পদে থেকে দিনের পর দিন ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থেকেও এই বিপুল সংখ্যক কোর্স নিচ্ছেন। বিষয়টি অবিশ্বাস্য।

কর্মচারী দিয়ে পরীক্ষা নেন উপাচার্য:

কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগের যেন শেষ নেই। তিনি দুই-একটি ক্লাস নিলেও পরীক্ষা নিয়েছেন কর্মকর্তা ও কর্মচারী দিয়ে। কোনো কোনো কোর্সে একটি ক্লাস নিয়ে কোর্স শেষ করেছেন। পরে শিক্ষার্থীদের ৭৫ শতাংশ উপস্থিত দেখিয়ে পরীক্ষা নিয়েছেন।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে লোকপ্রশাসন বিভাগে ভর্তি হওয়া এক শিক্ষার্থী প্রথম বর্ষেই ভর্তি বাতিল করে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে গেছেন। সব সেমিস্টারেই তাকে অনুপস্থিত দেখানো হলেও কলিমুল্লাহর কোর্সে তাকে উপস্থিত দেখানো হয়েছে।

উপস্থিতি, ইনকোর্স, টিউটোরিয়াল ও মিডটার্মে তাকে নম্বরও দেয়া হয়েছে। এমনকি মিডটার্মের লিখিত পরীক্ষায় ২৫ এ পেয়েছেন ২৭।

এ ছাড়া পরপর দুইবার ফেল করা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রকে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে উপাচার্য পরীক্ষার ফরম পূরণ করিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিয়েছেন যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

একটি ক্লাস নিয়েই কোর্স শেষ করেছেন উপাচার্য:

লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৫-২০১৬ সেশনের ২য় বর্ষের ২য় সেমিস্টারে এমন ঘটনা ঘটেছে। কলিমুল্লাহ নিয়েছেন মাত্র একটি ক্লাস যা নেয়ে হয় প্রশাসন ভবনের সিন্ডিকেট রুমে রাত ১১টায়। তবে একটি ক্লাস নিলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখানো হয়েছে ৭৫ শতাংশ।

আরেকটি কোর্সে নিয়েছেন তিনটি ক্লাস।

রাষ্ট্রপতির নিয়োগাদেশ অনুযায়ী কলিমউল্লাহর উপাচার্য পদের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৩১ মে। যদিও তার দাবি, তিনি যোগ দিয়েছেন ২০১৭ সালের ১৪ জুন। তাই তার মেয়াদ শেষ হবে ২০২১ সালের ১৩ জুন।

তবে বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশিদকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তার নিয়োগ কার্যকর হবে আগামী ১৪ জুন থেকে।

আরও পড়ুন:
তদন্ত স্থগিত চেয়ে ভিসি কলিমুল্লাহর রিট
বেরোবি উপাচার্যের দুর্নীতি: ৩২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ইউজিসির
কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ২৯ অভিযোগের তদন্তে রংপুরে ইউজিসি
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত

করোনা পরিস্থিতিতে দুইবার সশরীরে পরীক্ষা নেয়া শুরু করলেও পরে তা স্থগিত করতে বাধ্য হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

‘পরীক্ষা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সকল পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে একাডেমিক কাউন্সিল। এ ছাড়া ট্রেজারার স্যারের তত্ত্বাবধানে প্রক্টরিয়াল বডি ও প্রভোস্ট বডির সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের বাড়ি পৌঁছে দিতে সকল বিভাগীয় শহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস যাবে।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে একাডেমিক কাউন্সিলের ভার্চুয়াল সভা শেষে সশরীরে পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আবু তাহের।

লকডাউনে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের বাড়ি পৌঁছে দিতে সভায় সব বিভাগীয় শহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রেজিস্ট্রার বলেন, ‘পরীক্ষা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সকল পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে একাডেমিক কাউন্সিল। এ ছাড়া ট্রেজারার স্যারের তত্ত্বাবধানে প্রক্টরিয়াল বডি ও প্রভোস্ট বডির সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের বাড়ি পৌঁছে দিতে সকল বিভাগীয় শহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস যাবে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে পরীক্ষা কমিটির সভায় সশরীরে চলমান সব পরীক্ষা স্থগিত করার সুপারিশ করা হয়।

দেশে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বছরের ১৭ মার্চ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর ২৩ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে এবং গত ১৩ জুন দ্বিতীয় ধাপে সশরীরে পরীক্ষা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

তবে দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতির কারণে কোনোবারই পরীক্ষা নেয়া শেষ করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও পড়ুন:
তদন্ত স্থগিত চেয়ে ভিসি কলিমুল্লাহর রিট
বেরোবি উপাচার্যের দুর্নীতি: ৩২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ইউজিসির
কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ২৯ অভিযোগের তদন্তে রংপুরে ইউজিসি
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ

শেয়ার করুন

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের দুই ডিপ্লোমা পরীক্ষা স্থগিত

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের দুই ডিপ্লোমা পরীক্ষা স্থগিত

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৬ জুন থেকে ঘোষিত ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডিপ্লোমা ইন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট শিক্ষাক্রমের পরীক্ষা অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হলো। স্থগিত পরীক্ষার তারিখ পরে জানানো হবে।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডিপ্লোমা ইন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি শিক্ষাক্রমের আগামীকাল অনুষ্ঠেয় পরীক্ষাগুলো স্থগিত করা হয়েছে।

এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি শুক্রবার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৬ জুন থেকে ঘোষিত ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডিপ্লোমা ইন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট শিক্ষাক্রমের পরীক্ষা অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হলো। স্থগিত পরীক্ষার তারিখ পরে জানানো হবে।

গত মার্চ মাসে এসব পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়।

আরও পড়ুন:
তদন্ত স্থগিত চেয়ে ভিসি কলিমুল্লাহর রিট
বেরোবি উপাচার্যের দুর্নীতি: ৩২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ইউজিসির
কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ২৯ অভিযোগের তদন্তে রংপুরে ইউজিসি
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ

শেয়ার করুন

এইচএসসির ফরম পূরণ শুরু ২৯ জুন

এইচএসসির ফরম পূরণ শুরু ২৯ জুন

ফরম পূরণের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান শাখার জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার জন্য ১ হাজার ৯৪০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষার জন্য অনলাইনে ফরম পূরণ শুরু হচ্ছে ২৯ জুন। শেষ হবে আগামী ১১ জুলাই।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ শুক্রবার নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এবারের এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে কোনো নির্বাচনি পরীক্ষা হবে না। তাই এ-সংক্রান্ত কোনো ফি-ও নেয়া যাবে না।

ফরম পূরণের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান শাখার জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার জন্য ১ হাজার ৯৪০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারিতে গত বছর এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার ফলের গড়ের ওপর এইচএসসির ফল ঘোষণা করা হয়। তবে এ বছর ৮৪ দিনের পাঠ পরিকল্পনার ভিত্তিতে পরীক্ষা নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

১৩ জুন জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছিলেন, ‘চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগটা অনেক বেশি। আমরা চেষ্টা করছি সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে তাদের পরীক্ষা নেয়ার। যদি সেটা সম্ভব না হয় তবে তাদের জন্য বিকল্প চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।’

দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দফায় দফায় বন্ধ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩০ জুন পর্যন্ত।

আরও পড়ুন:
তদন্ত স্থগিত চেয়ে ভিসি কলিমুল্লাহর রিট
বেরোবি উপাচার্যের দুর্নীতি: ৩২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ইউজিসির
কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ২৯ অভিযোগের তদন্তে রংপুরে ইউজিসি
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ

শেয়ার করুন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতিতে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সব পরীক্ষা, নিয়োগ ও সান্ধ্যকালীন এমবিএ ১ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হল।

ময়মনসিংহের ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ১১টি এলাকায় শুক্রবার থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় এ স্থগিতাদেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতিতে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সব পরীক্ষা, নিয়োগ ও সান্ধ্যকালীন এমবিএ ১ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হল।

তবে এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সার্ভিস চলমান থাকবে। জরুরি সার্ভিসে জড়িতদের জন্য চাহিদা অনুযায়ী গাড়ি চলাচল করবে।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. হুমায়ুন বলেন, আপাতত ১ জুলাই পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাসহ অন্য কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক জানান, ময়মনসিংহে আশঙ্কাজনক হারে করোনা সংক্রমণ বাড়ায় শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ১ জুলাই মধ্যেরাত পর্যন্ত কয়েকটি এলাকায় লকডাউন দেয়া হয়েছে।

লকডাউনের আওতাভুক্ত এলাকাগুলো হলো চরপাড়া, মাসকান্দা, নয়াপাড়া, কৃষ্টপুর, আলিয়া মাদ্রাসা এলাকা, নওমহল, আর.কে. মিশন রোড, বাউন্ডারি রোড, পাটগুদাম, কাঁচিঝুলি ও গাঙ্গিনারপাড়।

এদিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে গত ২৪ ঘন্টায় ৩৭৪ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৮ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। জেলায় আক্রান্তের হার ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
তদন্ত স্থগিত চেয়ে ভিসি কলিমুল্লাহর রিট
বেরোবি উপাচার্যের দুর্নীতি: ৩২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ইউজিসির
কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ২৯ অভিযোগের তদন্তে রংপুরে ইউজিসি
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ

শেয়ার করুন

কওমি মাদ্রাসাকে নিবন্ধন দিতে চায় সরকার

কওমি মাদ্রাসাকে নিবন্ধন দিতে চায় সরকার

কওমি মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে একটি সমন্বিত নীতিমালা করা হবে। এর আওতায় কওমি মাদ্রাসাগুলোকে নিবন্ধন দেয়া হবে। এ ছাড়া কওমির ছয় বোর্ডকে সমন্বয় করে একটি কওমি শিক্ষা বোর্ড গঠনের কথাও ভাবা হচ্ছে।

দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে চায় সরকার। এরই মধ্যে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। এ লক্ষ্যে একটি নীতিমালা তৈরিতে কমিটিও করা হয়েছে।

সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষাবিদরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। এ জন্য একটি সমন্বিত নীতিমালা করা হবে।

‘এর আওতায় কওমি মাদ্রাসাগুলোকে নিবন্ধন দেয়া হবে। এ ছাড়াও কওমির ছয় বোর্ডকে সমন্বয় করে একটি কওমি শিক্ষা বোর্ড গঠনের কথাও ভাবা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগ আরও আগেই নেয়া উচিত ছিল। মাদ্রাসা শিক্ষা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ জন্য সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যুগোপযোগী নীতিমালা করতে হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মাদ্রাসা জেনারেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। বাংলাদেশের সকল কওমি মাদ্রাসাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে তদারকি করা উচিত।

‘এ উদ্যোগটি আগেই নেয়া দরকার ছিল। এতে যেমন শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে, তেমনি শিক্ষার্থীদের কেউ ভুল পথে পরিচালিত করতে পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, এ উদ্যোগের ফলে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারি চাকরিতে তারা সুযোগ পাবে।

২১ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এক অফিস আদেশে এ-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমানকে আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক মো. আব্দুস সেলিমকে করা হয়েছে সদস্যসচিব।

১৫ সদস্যের ওই কমিটিতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, জননিরাপত্তাবিষয়ক বিভাগের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আছেন।

এ ছাড়া কওমি মাদ্রাসার ছয় বোর্ডের চেয়ারম্যানদেরও পদাধিকার বলে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন বেফাক সভাপতি আল্লামা মাহমুদুল হাসান, গওহরডাঙ্গা বোর্ডের মুফতি রুহুল আমীন, আঞ্জুমানে ইত্তিহাদ বোর্ডের মাওলানা আবদুল হালিম বোখারি, সিলেটের আযাদ দ্বীনি বোর্ডের মাওলানা জিয়াউদ্দিন, তানযীমুল মাদারিসের মুফতি আরশাদ রহমানী ও জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ।

আরও পড়ুন:
তদন্ত স্থগিত চেয়ে ভিসি কলিমুল্লাহর রিট
বেরোবি উপাচার্যের দুর্নীতি: ৩২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ইউজিসির
কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ২৯ অভিযোগের তদন্তে রংপুরে ইউজিসি
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ

শেয়ার করুন

ঢাবি: বাজেট প্রত্যাখান ছাত্র ইউনিয়নের

ঢাবি: বাজেট প্রত্যাখান ছাত্র ইউনিয়নের

নেতারা বলছেন, পুরো দেশ যখন করোনায় বিপর্যস্ত তখন বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা খাতে মনোযোগ না দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়বে, দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে এটা লজ্জাজনক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ অর্থবছরের পাস হওয়া বাজেট শিক্ষার্থীবান্ধব নয় দাবি করে প্রত্যাখান করেছে ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।

নেতারা বলছেন, পুরো দেশ যখন করোনায় বিপর্যস্ত তখন বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা খাতে মনোযোগ না দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়বে, দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে এটা লজ্জাজনক।

শুক্রবার দুপুরে ঢাবি সংসদের দপ্তর সম্পাদক আদনান আজিজ চৌধুরীর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব উল্লেখ করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের বার্ষিক সভায় চলতি অর্থবছরের বাজেট অনুমোদিত হয়। এ বছরের বাজেট ৮৩১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যা গত বছরের বাজেটের তুলনায় ১০ শতাংশ কম।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি সাখাওয়াত ফাহাদ ও সাধারণ সম্পাদক রাগীব নাইম বলেন, ৮৩১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার বাজেটের মধ্যে শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ সর্বোচ্চ ৬১১ কোটি ৮৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। আর অন্য দিকে গবেষণা বাবদ ধরা হয়েছে মাত্র ১১ কোটি ১২ লাখ টাকা। এটি কোনভাবেই শিক্ষার্থী বান্ধব বাজেট নয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের আধুনিকায়ন, আইসোলেশন সেন্টার, অক্সিজেনের জন্যও আলাদা বরাদ্দ দেয়া হয়নি। অনলাইন পরীক্ষার কথা বললেও বরাদ্দ রাখা হয়নি আর্থিকভাবে দুর্বল শিক্ষার্থীদের ডিভাইস সরবরাহের জন্য। গত অর্থবছরে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণে বেঁচে যাওয়া টাকা কেনো হল সংস্করণ ও মেডিক্যাল সেন্টার আধুনিকায়নে ব্যবহার না করে ফেরত দেয়া হয়েছে তাও বোধগম্য নয়।

বাজেট প্রত্যাখান করে গবেষণা ও শিক্ষার্থীবান্ধব খাতে বাজেট বরাদ্দের দাবি জানান সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।

আরও পড়ুন:
তদন্ত স্থগিত চেয়ে ভিসি কলিমুল্লাহর রিট
বেরোবি উপাচার্যের দুর্নীতি: ৩২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ইউজিসির
কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ২৯ অভিযোগের তদন্তে রংপুরে ইউজিসি
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ

শেয়ার করুন

ঢাবির বাজেটের ৭৪ শতাংশ দিয়ে বেতন-পেনশন

ঢাবির বাজেটের ৭৪ শতাংশ দিয়ে বেতন-পেনশন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন। ছবি: নিউজবাংলা

এ বছর শিক্ষার্থীদের থেকে ফি বাবদ আয়ের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ভর্তি ফর্ম বিক্রি থেকে আয়ের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৭ লাখ টাকা, বেতন ভাতাদি থেকে কর্তনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা, সম্পত্তি থেকে আয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা, এবং বিবিধ থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ অর্থ বছরের বাজেট সিনেট অধিবেশনে উত্থাপন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দীন আহমেদ।

উত্থাপিত বাজেটে দেখা যায়, ৮৩১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বাজেট থেকে ৬১১ কোটি ৮৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয় হবে শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও পেনশন খাতে। যা মোট ব্যায়ের ৭৩.৫৭ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী সিনেট ভবনে বার্ষিক অধিবেশন শুরু হয়। শেষ হয় সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টায়। অধিবেশনে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট পাশ হয়। উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।

কোষাধ্যক্ষ উত্থাপিত বাজেটে দেখা যায়, এবারের মূল বাজেট ৮৩১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে বেতন-ভাতা এবং পেনশন বাবদ ব্যায় হবে ৬১১ কোটি ৮৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, গবেষণা মঞ্জুরী খাতে ১১ কোটি টাকা, অন্যান্য অনুদান বাবদ ১৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা, পণ্য ও সেবা খাতে ১৬৮ কোটি ৮ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং মূলধন খাতে ব্যায় হবে ২১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

৮৩১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন দিবে ৬৯৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা আর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৬৫ কোটি টাকা। যা শিক্ষার্থীদের থেকে ফি, ভর্তি ফর্ম বিক্রি, বেতন ভাতাদি থেকে কর্তন, সম্পত্তি এবং বিবিধ থেকে আয় হবে। সে হিসেবে বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৭০ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

এ বছর শিক্ষার্থীদের থেকে ফি বাবদ আয়ের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ভর্তি ফর্ম বিক্রি থেকে আয়ের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৭ লাখ টাকা, বেতন ভাতাদি থেকে কর্তনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা, সম্পত্তি থেকে আয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা, এবং বিবিধ থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

বাজেটে ঘাটতির বিষয়ে কোষাধ্যক্ষ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠান নয়। কাজেই নিজস্ব তহবিল থেকে ঘাটতি মেটানো সম্ভব হবে না। প্রতি বছর এভাবে তহবিলের ঘাটতি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন কষ্টসাধ্য হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয়ের নতুন নতুন খাত খুঁজে বের করতে হবে অথবা সরকারের কাছ থেকে বিশেষ অনুদান চাওয়া যেতে পারে।

ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও একাডেমিক ভবন মেরামত ও সংস্কারের জন্য বিমককে একটি বিশেষ তহবিল প্রদান করেছেন যেখান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। কোষাধ্যক্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।

অধিবেশনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, সহ উপাচার্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ সামাদ, ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নুরুল হক নুর, সাদ্দাম হোসেন, সনজিত চন্দ্র দাশ এবং তিলোত্তমা শিকদার। এছাড়া পাঁচজন সংসদ সদস্যও অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন, ওবায়দুল মোকতাদির, দীপঙ্কর তালুকদার, গোলাম আবদুস সোবহান, মেহের আফরোজ চুমকি ও মঞ্জুরুল হাসান।

অধিবেশনের শুরুতে করোনাকালে মারা যাওয়া স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ, ফিলিস্তিনের ওপর ইজরায়েলের হামলার নিন্দা এবং নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর উপাচার্যের অভিভাষণের মাধ্যমে শুরু হয় বার্ষিক অধিবেশনের মূল কর্মসূচি। উপাচার্যের অভিভাষণের পর কোষাধ্যক্ষ বাজেট উপস্থাপন করেন।

আরও পড়ুন:
তদন্ত স্থগিত চেয়ে ভিসি কলিমুল্লাহর রিট
বেরোবি উপাচার্যের দুর্নীতি: ৩২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ইউজিসির
কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ২৯ অভিযোগের তদন্তে রংপুরে ইউজিসি
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ

শেয়ার করুন