বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে করের প্রস্তাবে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে করের প্রস্তাবে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বলছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলে ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে, যা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত। তাই সেখানে কর আরোপ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের কথা বলা হয়েছে। এর ফলে উচ্চশিক্ষায় ব্যয় বাড়বে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। কারণ বাড়তি করের বোঝা শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদেরই বহন করতে হবে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এ ধরনের কর আরোপ উচ্চশিক্ষার ব্যয়ই শুধু বাড়াবে না, উচ্চশিক্ষার সুযোগকেও সংকুচিত করবে। ফলে সবার পক্ষে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ অসম্ভব হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা তো আইন মোতাবেক সরকার করতে পারে না। কারণ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলে ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে, যা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত। ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে যে প্রতিষ্ঠানগুলো চলে, সেখানে কর আরোপ করা যায় না। তাই এটি বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের কর আরোপের ফল হবে বহুমুখী। এতে শুধু শিক্ষার্থীরা নন, শিক্ষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বলা যায়, এর প্রভাব গোটা বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়বে, যা খুবই বাজে নজির সৃষ্টি করবে। আমি সরকারকে বলব, অবিলম্বে এ ধরনের কর আরোপ থেকে বিরত থাকতে।’

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আরও বলেন, এ ধরনের কর আরোপের ফলে দুঃখজনকভাবে ড্রপ আউট বাড়বে, যা উচ্চশিক্ষার পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে করের প্রস্তাবে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দা তাহমিনা আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, শিক্ষায় এ ধরনের কর আরোপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষা কোনো পণ্য নয়। তাই অবিলম্বে এ ধরনের কর আরোপের চিন্তা পরিহার করা উচিত।

শিক্ষার্থীরা কী বলছেন?

প্রাইম ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষা কি কোনো পণ্য? তাহলে কেন বাজেটে বেসরকারি শিক্ষায় কর আরোপের প্রস্তাব করা হলো? এর ফলে আমরা যারা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, তারা তো উচ্চশিক্ষা গ্রহণই করতে পারব না।’

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মেহেদী তালুকদার বলেন, ‘এর আগেও সরকার একবার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা সফল হয়নি। আমার ভাবতে অবাক লাগে সরকার কেন বারবার শিক্ষাকে পণ্য ভাবে?’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে করের প্রস্তাবে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

নো ভ্যাট অন এডুকেশন

বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের ওপর কর আরোপের প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গত ৪ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ‘নো ভ্যাট অন এডুকেশন’ ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। এ ছাড়া গত মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে তারা একই দাবিতে মানববন্ধনও করেন।

মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিলও করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ‘শিক্ষা কোনো পণ্য নয়, শিক্ষা আমার অধিকার’, ‘শিক্ষা ও বাণিজ্য, একসাথে চলে না’র মতো স্লোগান দেন।

এ বিষয়ে ‘নো ভ্যাট অন এডুকেশন’-এর সংগঠক মুক্ত রোজোয়ান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার যে ১৫ শতাংশ কর বসানোর চেষ্টা করছে, তা হলো শিক্ষাকে পণ্য বানানোর চক্রান্ত মাত্র। এ চক্রান্ত আমরা ২০১৫ সালে যেভাবে রুখে দিয়েছিলাম, এবারও সেভাবেই রুখে দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১০ জুনের মধ্যে যদি আমাদের দাবি মেনে নেয়া না হয়, তাহলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’

বন্ধের শঙ্কায় অনেক বিশ্ববিদ্যালয়

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে ১৫ শতাংশ আয়কর আরোপ করা হলে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি)।

সম্প্রতি এপিইউবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ অনুযায়ী ট্রাস্টের অধীন পরিচালিত অলাভজনক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে আয়কর আরোপ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আর্থিক সংকটে পড়বে। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যয় বাড়ার কারণে উচ্চশিক্ষা অর্জন বাধাগ্রস্ত হবে এবং শিক্ষিত জাতি গঠনের মাধ্যমে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প-২০৪১ অর্জনের লক্ষ্য ব্যাহত হবে।’

এ বিষয়ে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল বেনজীর আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হয় ট্রাস্ট অ্যাক্ট দিয়ে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে। আমরা দেশের উচ্চশিক্ষার সহায়ক হিসেবে কাজ করি।

‘ছাত্র-ছাত্রীদের টিউশনির ওপরই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলে। আর উদ্বৃত্ত ফান্ড থাকলে সেটা উন্নয়নকাজে ব্যয় হয়। ট্রাস্টিরা এখান থেকে কোনো লভ্যাংশ নেন না। কোনো কর আরোপ করা হলে এটা আলটিমেটলি শিক্ষার্থীদের ওপরই বর্তাবে অথবা উন্নয়নকাজ ব্যাহত হবে।’

বাজেট প্রস্তাবে কী আছে

প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ১০ বছর আগে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সময়ে এই কর আরোপের প্রস্তাব করা হলেও মামলা ও আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এ কর আদায় সম্ভব হয়নি।

বাজেট বক্তৃতায় মুস্তফা কামাল বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রযোজ্য সাধারণ করহার হ্রাস করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ, বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ, বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বা কেবল তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষাদানে নিয়োজিত বেসরকারি কলেজ থেকে উদ্ভূত আয়ের ১৫ শতাংশ হারে কর নির্ধারণ করা হয়েছিল। মহান এ সংসদে আমি এ কর হার অর্থ আইনের মাধ্যমে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।’

আন্দোলনের মুখে ভ্যাট প্রত্যাহার

২০১৫-১৬ অর্থবছরের খসড়া বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার ওপর ১০ শতাংশ হারে কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়। সমালোচনার মুখে সরকার পরে তা কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করে। পরে সম্পূর্ণভাবে তা প্রত্যাহার করা হয়।

সে সময় বাজেট ঘোষণার পরের দিন আন্দোলনে নামেন বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ২০১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আফতাবনগরের ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ভ্যাট মওকুফের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসেন।

পুলিশ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি চালায়। এতে প্রায় ২৩ শিক্ষার্থী আহত হন। ওই ঘটনার পর সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন।

আন্দোলনের মুখে ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভ্যাট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। ওই দিনই অর্থ মন্ত্রণালয় একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভ্যাট প্রত্যাহারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়।

আরও পড়ুন:
‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কি অপরাধ’
বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কর প্রত্যাহার দাবি
‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর আরোপ আইন পরিপন্থি’
এবারও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে শেখ কবির
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা সাত শর্তে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দাখিল-আলিম পরীক্ষাও হবে ৩ বিষয়ে

দাখিল-আলিম পরীক্ষাও হবে ৩ বিষয়ে

২০২১ সালের সাধারণ বিভাগের দাখিল পরীক্ষার্থীদের কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ, হাদিস শরিফ, ইসলামের ইতিহাস বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা হবে হাদিস শরিফ, পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে।

চলতি বছরের দাখিল ও আলিম পরীক্ষাও শুধু তিন বিষয়ে হবে। চতুর্থ বিষয় ও অন্যান্য আবশ্যিক বিষয়ের পরীক্ষা না নিয়ে সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ফল দেয়া হবে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে মঙ্গলবার রাতে জারি করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

যেসব বিষয়ে পরীক্ষা হবে

২০২১ সালের সাধারণ বিভাগের দাখিল পরীক্ষার্থীদের কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ, হাদিস শরিফ, ইসলামের ইতিহাস বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।

বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা হবে হাদিস শরিফ, পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে।

মুজাব্বিদ বিভাগের পরীক্ষার্থীদের দিতে হবে কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ, হাদিস শরিফ, তাজভিদ নসর ও নজম বিষয়ের পরীক্ষা দিতে হবে। আর হিফজুল কোরআন বিভাগের পরীক্ষার্থীদের কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ, হাদিস শরিফ ও তাজভিদ বিষয়ের পরীক্ষা দিতে হবে।

২০২১ সালের সাধারণ বিভাগের শিক্ষার্থীদের কোরআন মাজিদ, হাদিস ও উসুলুল হাদিস, আল ফিকহ প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, ইসলামের ইতিহাস, বালাগাত ও মানতিক বিষয়ের পরীক্ষা হবে।

বিজ্ঞান বিভাগের আলিম পরীক্ষার্থীদের কোরআন মাজিদ, হাদিস ও উসুলুল হাদিস, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, রসায়ন প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা দিতে হবে। আর মুজাব্বিদ মাহির বিভাগের শিক্ষার্থীদের কোরআন মাজিদ, হাদিস ও উসুলুল হাদিস, আল ফিকহ প্রথম পত্র, আরবি সাহিত্য, তাজভিদ প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা দিতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২১ সালের দাখিল ও আলিম পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ডে চতুর্থ বিষয় পরিবর্তন বা সংশোধনের সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন:
‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কি অপরাধ’
বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কর প্রত্যাহার দাবি
‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর আরোপ আইন পরিপন্থি’
এবারও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে শেখ কবির
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা সাত শর্তে

শেয়ার করুন

ভিকারুননিসায় ‘ব্যয় মানেই অনিয়ম’

ভিকারুননিসায় ‘ব্যয় মানেই অনিয়ম’

ছোট ছোট ব্যয় হলেও সবই নিয়মের বাইরে। খরচ হলেও নথিপত্র নেই। মালামাল কেনার দাবি করা হলেও আদৌ পণ্য এসেছে কি না, তার নিশ্চয়তা নেই। ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত রাজধানীর স্বনামধন্য স্কুলটিতে কী কী অনিয়ম হয়েছে, তা উঠে এসেছে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে।

ফেসবুকে ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপকে কেন্দ্রকে ফের আলোচনায় রাজধানীর নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এর মধ্যে নিউজবাংলার হাতে এলো নানা কাজের অজুহাতে প্রতিষ্ঠানটির যাচ্ছেতাই অর্থ খরচের নথি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির খরচের ৫ কোটি টাকা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

অনিয়মগুলো একেকটি টাকার অঙ্কে খুব বেশি নয়। তবে ছোট ছোট বেশ কিছু অনিয়ম এক হয়ে টাকার পরিমাণ বেশ বড় হয়ে দাঁড়ায়।

অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে দেখা যায়, আসবাবপত্র না পেয়েই বিল পরিশোধ, দরপত্রের বাইরে বিল পরিশোধ, বিল ভাউচার ছাড়াই টাকা খরচ, সরকারি কোষাগারে করের টাকা জমা না দেয়াসহ নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে স্কুলটিতে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত পাঁচ বছরে ভিকারুননিসার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, অধ্যক্ষ ও শিক্ষক-কর্মচারীরা আয়কর বাবদ ২ কোটি ১৮ লাখ টাকা পরিশোধ করেননি।

এ অনিয়মগুলো যখন হয়েছে, তখন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বেশ কয়েকজন। তারা হলেন ফেরদৌসী বেগম, কেকা রায় চৌধুরী, নাজনীন ফেরদৌস, হাসিনা বেগম, সুফিয়া বেগম ও ফৌজিয়া রেজওয়ান।

এদের মধ্যে কয়েকজন দুই থেকে ৬ মাস আর সবচেয়ে বেশি সোয়া এক বছর দায়িত্ব পালন করেছেন ফৌজিয়া। তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত।

অডিট আপত্তিতে উঠে আসা অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে ফৌজিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাকে অফিশিয়ালি বিষয়টি জানানো হয়নি। যদি জানানো হয়, তাহলে আমি জবাব দেব।’

অন্য দুই সাবেক অধ্যক্ষ ফেরদৌসী বেগম ও কেকা রায় চৌধুরীও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ফেরদৌসী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি দায়িত্ব ছেড়েছি অনেক আগে। এসব বিষয়ে কথা বলতে চাই না।’

কেকা বলেন, ‘এখন এসব বিষয়ে কথা বলার সময় না।’

বর্তমান অধ্যক্ষ যা বলছেন

বর্তমান অধ্যক্ষ কামরুন নাহার জানালেন, এসব অনিয়মগুলো তার জানা আছে। তিনি বলেন, এগুলো হয়েছে তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণের আগে। আর তিনি এগুলোর সমাধান চান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমাদের স্কুলের গভর্নিং বডির (পরিচালনা পর্ষদ) সভাপতির হাতে তারা প্রতিবেদনটি দিয়েছেন। আমি এখনও প্রতিবেদনটি দেখিনি। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নিয়ম-নীতি মেনে কাজ করার জন্য চেষ্টা করছি।

‘প্রতিবেদনটি দেখে খুব সহসাই এর জবাব দেয়া হবে এবং নিয়ম অনুযায়ী আপত্তিগুলো নিষ্পত্তি করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে যত টাকার আপত্তি জানানো হয়েছে, তার সবগুলো সে সময়ের দায়িত্বে থাকা কর্তাব্যক্তিদের কাছ থেকে আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ কামরুন নাহার বলেন, ‘সরকারের যদি পাওনা থাকে, অবশ্যই তা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’

কবে নিরীক্ষা

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর গত ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ভিকারুননিসার আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে নিরীক্ষা চালায়। দলটি ২০১৫-২০১৬ অর্থবছর থেকে ২০১৯-২০২০ অর্থবছর পর্যন্ত ৫ বছরের আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করে।

তাদের প্রতিবেদন গত মাসের শেষে জমা দেয়া হয় পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে। এর একটি কপি স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিকেও দেয়া হয়েছে।

নিরীক্ষা দলের এক সদস্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভিকারুননিসায় গত পাঁচ বছরের আর্থিক লেনদেন নিরীক্ষা করে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম পাওয়া গেছে, যা আমাদের অডিট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এই প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। স্কুলের গভর্নিং বডিকেও দিয়েছি জবাব দেয়ার জন্য।’

ভিকারুননিসায় ‘ব্যয় মানেই অনিয়ম’

প্রতিবেদনটি জমা দেয়া হয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডেও। এখন কী ব্যবস্থা নেয়া হবে জানতে চাইলে বোর্ডের চেয়ারম্যান নেহাল আহমেদ কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

তিনি বলেন, ‘অডিট আপত্তির বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ জবাব দেবে।’

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে যত আপত্তি

ভ্যাট জমা না দেয়া

২০১৫-২০১৬ অর্থবছর থেকে ২০১৯-২০২০ অর্থবছর পর্যন্ত ভ্যাট বাবদ মোট ১ কোটি ৩৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৬২ টাকা আদায় করে ভিকারুননিসা স্কুল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয় ১ কোটি ৭১ হাজার ৬১৫ টাকা। আর বাকি ৩৯ লাখ ২২ হাজার ৫৪৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে চালানের কপি মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সম্পত্তি থেকে ভাড়া বাবদ প্রাপ্ত আয়ের ওপর ৪৫ লাখ ২৮ হাজার ৩০০ টাকার ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা পড়েনি। এ অর্থ ফেরত দেয়ার দিতে নির্দেশ দেয়া হয় প্রতিবেদনে।

আয়কর ফাঁকি

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত পাঁচ অর্থবছরে ভিকারুননিসার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, অধ্যক্ষ ও শিক্ষক-কর্মচারীরা মোট ২১ কোটি ৮৭ লাখ ৩৮ হাজার ২৩২ টাকা সম্মানি বাবদ নিয়েছেন। এর বিপরীতে আয়কর বাবদ ২ কোটি ১৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮২২ টাকা পরিশোধ করা হয়নি।

প্রতিবেদনে এটি রাজস্ব ফাঁকি হিসেবে উল্লেখ করে তা শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে আদায় করতে বলা হয়।

দরপত্র ছাড়াই নির্মাণকাজ

ভিকারুননিসার বসুন্ধরা শাখার সিভিল, স্যানিটারি, বৈদ্যুতিক কাজের ১ কোটি ৫৯ লাখ ১১ হাজার ৬৩৯ টাকার কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনএইচ-কেটিএ (জেভি)। এ কাজ দেয়ার ক্ষেত্রে দরপত্র আহ্বান করার কথা থাকলে তা করা হয়নি।

নিরীক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ কাজের বিল পরিশোধে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্যাডে কোনো বিল পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া পাওয়া যায়নি কাজের গুণগত মানের কোনো সনদ।

আসবাবপত্র না পেয়েও বিল পরিশোধ

আসবাব প্রতিষ্ঠান জুটো ফাইবার গ্লাসকে (তারাবো, নারায়ণগঞ্জ) ১৯০ জোড়া ফাইবার গ্লাস (হাই-লো বেঞ্চ) সরবরাহের জন্য বলা হয়। তবে ১৩০ জোড়া হাই লো বেঞ্চ সরবরাহের চালান পাওয়া যায়। আর বাকি ৬০ জোড়ার কোনো চালান পায়নি নিরীক্ষা দল। অথচ ১৯০ জোড়ার বেঞ্চেরই বিল সররবাহ করা হয়। এতে মোট ৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

জুটো ফাইবার গ্লাসকে বেইলি রোড শাখায় লো বেঞ্চ এবং হাই বেঞ্চ কিনতে ১২ লাখ ৫৮ হাজার এবং বসুন্ধরা কলেজ শাখার জন্য ১১ লাখ ১৬ হাজার টাকা অনিয়মিতভাবে পরিশোধ করা হয়েছে বলেও মনে করে নিরীক্ষা দল।

এসব মালামাল আদৌ কেনা হয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত করা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ টাকা যিনি বা যারা দিয়েছেন, তার বা তাদের কাছ থেকে আদায় করার সুপারিশও করা হয়েছে।

দরপত্রের বাইরেও কাজ, টাকা পরিশোধ নিয়ে আপত্তি

গত বছর বেইলি রোডের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে স্কুল শাখার সীমানা প্রাচীর সংস্কারে ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬৭৮ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজ পায় মেসার্স আদিবা কনস্ট্রাকশন। তবে দরপত্রের বাইরেও তাদের দিয়ে কাজ করানো হয়। আর সেই কাজে অতিরিক্ত বিল দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

ভিকারুননিসায় ‘ব্যয় মানেই অনিয়ম’

ঠিকাদারকে অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয় ১ লাখ ৭১ হাজার ৭২৭ টাকা। কিন্তু বিল পরিশোধের স্বপক্ষে কোনো নথি পায়নি নিরীক্ষা দল।

প্রাচীর নির্মাণের কাজটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৩০ টাকা বর্গমিটার দরে করবে বলে দরপত্র দাখিল করলেও অতিরিক্ত কাজের বিল পরিশোধের সময় ২২৮ টাকা দরে বিল পরিশোধ করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

বিল ছাড়াই টাকা পরিশোধ

প্রতিবেদনে বলা হয়, খেলাধুলার জন্য বিভিন্ন সরঞ্জাম বিভিন্ন দোকান থেকে কেরা হয়েছে। অথচ একটি প্রতিষ্ঠানের নামে চেক ইস্যু করা হয়েছে। এর পরিমাণ ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মনে করছে নিরীক্ষা দল।

পুরস্কারেও অনিয়ম

২০১৯ সালের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় (যা অনুষ্ঠিত হয় ২০২০ সালে) নিয়ম না মেনেই ৪৭ জন শিক্ষককে সাধারণ পুরস্কার হিসেবে ফ্রাইপ্যান দেয়া হয়। সেখানে খরচ করা হয় ৩২ হাজার ৭০০ টাকা, যা প্রতিবেদনে অপচয় হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কি অপরাধ’
বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কর প্রত্যাহার দাবি
‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর আরোপ আইন পরিপন্থি’
এবারও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে শেখ কবির
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা সাত শর্তে

শেয়ার করুন

চবির গবেষণা: মশা নিধনে ভেষজ ওষুধ

চবির গবেষণা: মশা নিধনে ভেষজ ওষুধ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদল পাঁচটি নমুনা ওষুধ থেকে একটি নির্বাচন করে ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। এটি একটি ভেষজ ওষুধ। এক্ষেত্রে ফগিং মেশিন ব্যবহার না করে স্প্রে করার পরামর্শ দেন তারা।

মশা নিধনে ফগিং মেশিনে নয়, স্প্রে করে ভেষজ ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) গবেষকরা।

মঙ্গলবার সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে চবি গবেষকদলের সদস্য সচিব ড. ওমর ফারুক রাসেল গবেষোণার ফল উপস্থাপন করেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ওষুধে মশা কেন মরছে না এবং কার্যকর ওষুধ বিষয়ে পরামর্শ নিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শরণাপন্ন হয়েছিলেন মেয়র রেজাউল করিম।

মশা নিধনে বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করে ছয় সদস্যের গবেষকদল। ২২ জুন থেকে তারা কাজ শুরু করেন।

দুপুরে গবেষোণার ফল উপস্থাপনের সময় মেয়র রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার ও উপউপাচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে উপস্থিতি ছিলেন।

গবেষণায় উঠে আসে, চট্টগ্রাম নগরীর ৫৫টি স্পটের ১৫টিতে শতভাগ এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রায় সব স্পটে কম-বেশি এডিস মশার উপস্থিতি আছে। এর বাইরেও জোবরা ও চবি মিলিয়ে ৬টি স্পটে পাওয়া গেছে ম্যালেরিয়া বহনকারী অ্যানোফিলিস মশা।

গবেষকদল পাঁচটি নমুনা ওষুধ থেকে একটি নির্বাচন করে ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। এটি একটি ভেষজ ওষুধ। এক্ষেত্রে ফগিং মেশিন ব্যবহার না করে স্প্রে করার পরামর্শ দেন তারা।

ছয় সদস্যের গবেষক দলের আহ্বায়ক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া। অন্য সদস্যরা হলেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. তাপসী ঘোষ রায়, ভুগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এইচ এম আব্দুল্লাহ মাসুদ ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী।

সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেল।

গবেষণায় সহায়তা করেন প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ, মাইক্রোবায়োলজি এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে ড. রবিউল হাসান ভূইয়া বলেন, ‘আমরা ৫টি নমুনাকে নমুনা ১-৫ দিয়ে নামকরণ করি। এ ক্ষত্রে দুইটি নমুনার ওষুধ আগে ব্যবহার করা হতো। নতুন করে আরও তিনটি আমাদের দেয়া হয়। পাঁচটি ওষুধ যাচাই করে আমরা একটি ওষুধ পাই, যা প্রাকৃতিক এবং শতভাগ মশা মারতে সক্ষম।’

তিনি বলেন, ‘ওষুধ প্রয়োগের ক্ষত্রে ফগিং মেশিন ব্যবহার না করে স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছি আমরা। ফগিং মেশিন দিয়ে এই ওষুধ ছিটালে কার্যকর হবে না। এছাড়া, মশা মারতে যে কীটনাশক ও কালো তেল ব্যবহার করা হয়, আমরা তা না করার পক্ষে। এতে পরিবেশের ক্ষতি হয়।’

গবেষক দলের সদস্য সচিব ড. ওমর ফারুক রাসেল বলেন, ‘১৫টি স্পটে এডিস মশার লার্ভা আমরা পেয়েছি। স্পটগুলো হলো বাকোলিয়া, কল্পলোক আবাসিক, চকবাজার, সদরঘাট, পশ্চিম মাদারবাড়ি, পাহাড়তলি, সেগুনবাগান, সিডিএ মার্কেট, সাগরিকা, হালিশহর, দক্ষিণ কাট্টলি, চাঁদগাও আবাসিক, ডিসি রোড, চাক্তাই প্রাইমারি স্কুল।

‘যে ছয় স্থানে অ্যানোফিলিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে তা হলো, জোবরা গ্রামের বখতিয়ার রোড, পশ্চিম পাড়া ও ফটিক বাড়ি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২ নম্বর গেট, সরকার কলোনি এবং পুরাতন শামসুর নাহার হল।’

তিনি জানান, রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে বিকল্প হিসেবে জৈব নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। সেগুলো হলো মাছ চাষ করে লার্ভা ধ্বংস, অণুজীব ব্যবহার করে লার্ভা ধ্বংস, উদ্ভিদের নির্যাস ব্যবহার করে মাছ চাষ করে লার্ভা ধ্বংস করা।

আরও পড়ুন:
‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কি অপরাধ’
বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কর প্রত্যাহার দাবি
‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর আরোপ আইন পরিপন্থি’
এবারও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে শেখ কবির
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা সাত শর্তে

শেয়ার করুন

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জুলাই মাসের চেক ছাড়

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জুলাই মাসের চেক ছাড়

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাই মাসের বেতনের সরকারি অংশের চেকগুলো ছাড় করা হয়েছে।’

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল-কলেজ) শিক্ষক-কর্মচারীদের এ বছরের জুলাই মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের আটটি চেক ছাড় করা হয়েছে।

মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাই মাসের বেতনের সরকারি অংশের চেকগুলো ছাড় করা হয়েছে।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনুদান বণ্টন করা অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এবং জনতা ও সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ে এ চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।

শিক্ষক-কর্মচারীরা আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত বেতন-ভাতার সরকারি অংশের টাকা তুলতে পারবেন।

আরও পড়ুন:
‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কি অপরাধ’
বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কর প্রত্যাহার দাবি
‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর আরোপ আইন পরিপন্থি’
এবারও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে শেখ কবির
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা সাত শর্তে

শেয়ার করুন

ঢাবির গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল

ঢাবির গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা পূর্বঘোষিত ৩১ জুলাই তারিখের পরিবর্তে আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

করোনা মহামারির উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তির আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা পূর্বঘোষিত ৩১ জুলাই তারিখের পরিবর্তে আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

এর আগে গত ১ জুন কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের অন্তর্গত গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজগুলোর ১ম বর্ষ সম্মান শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২৭ আগস্ট শুক্রবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে।

ভর্তি পরীক্ষার সময় ১ ঘণ্টা, নম্বর ১০০, পাশ নম্বর ৪০ এবং পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে। এই ইউনিটে শুধু নারী শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। গত ১৫ জুন থেকে শুরু হয় এ ইউনিটে অনলাইনে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া।

২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মাধ্যমিক/সমমান এবং শুধু ২০২০ সালের বাংলাদেশের যে কোন শিক্ষাবোর্ড/উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়/কারিগরি শিক্ষাবোর্ড/মাদ্রাসা বোর্ড/এ-লেভেল বা সমমানের বিদেশি ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। ভর্তির আবেদন ফি ৬৫০ টাকা।

ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় ৪র্থ বিষয়সহ প্রাপ্ত জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৫.৫ হতে হবে। তবে কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ২.৫ এর কম হলে আবেদন করা যাবে না।

আরও পড়ুন:
‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কি অপরাধ’
বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কর প্রত্যাহার দাবি
‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর আরোপ আইন পরিপন্থি’
এবারও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে শেখ কবির
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা সাত শর্তে

শেয়ার করুন

কবে মিলবে শিশুর টিকা, স্কুল খুলবে কবে

কবে মিলবে শিশুর টিকা, স্কুল খুলবে কবে

চীনের সিনোফার্মের টিকা আসার পর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের সেগুলো প্রয়োগ করা হয়। ফাইল ছবি

সারা দেশে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ কোটি ২৫ লাখ। ১৮ বছরের নিচের জনগোষ্ঠীকে টিকা দেয়ার বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালায় পরিষ্কার কিছু উল্লেখ নেই। ফলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শিশুদের টিকা দেয়ার কথা ভাবছে না।

দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে চায় সরকার। এই লক্ষ্যে ১৮ বছরের বেশি বয়সী সবার টিকার নিবন্ধনের সুযোগ মিলছে। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকাদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে ১৮ বছরের নিচে স্কুল শিক্ষার্থীদের টিকার বিষয়ে এখনও কোনো পরিকল্পনা নেই।

সরকার বলছে, শিশুদের টিকা না দিয়ে স্কুল খোলা হবে না। সে ক্ষেত্রে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সম্ভাবনা দেখা দিলেও স্কুল খোলার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

সারা দেশে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ কোটি ২৫ লাখ। টিকা স্বল্পতার পাশাপাশি এবং ১৮ বছরের নিচের জনগোষ্ঠীকে টিকাদানের বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালায় পরিষ্কার কিছু উল্লেখ না থাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শিশুদের টিকা দেয়ার কথা ভাবছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের ৮০ শতাংশ লোককে দেয়ার মতো পর্যাপ্ত টিকা পাইপ লাইনে নেই। দেশে যে চার ধরনের টিকা আসছে, সেগুলো দেয়ার তালিকায় স্কুলশিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার আপাতত পরিকল্পনা নেই।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের ৩৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া প্রক্রিয়া চলছে। পর্যায়ক্রমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া হবে।

এদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার ব্যাপারে তারা আলোচনায় বসবেন শিগগিরই। এর মধ্যে বিভিন্ন উৎস থেকে সরকারের হাতে পর্যাপ্ত টিকা চলে আসবে। দুই অধিদপ্তর বসে তখন হয়তো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা ও টিকা নিশ্চিত করেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সুপারিশ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত চারটি কোম্পানির টিকা পেয়েছি। এগুলো হলো মডার্না, ফাইজার, সিনোফার্ম এবং অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা। এর মধ্যে শুধু ফাইজারের টিকা ১৮ বছরের নিচের বয়সীদের ব্যবহারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন রয়েছে। সরকার চাইলে শিশুদের টিকার আওতায় আনতে পারে।

তিনি আরও বলেন, স্কুল-কলেজ খুলে দিতে শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনার বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে ১৮ বছরের নিচের বয়সীদের যে টিকা দেয়া যায়, তার যোগান বাড়াতে হবে। নতুন কোনো টিকা ১৮ বছরের নিচের বয়সীদের দেয়ার বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদন দেয় কিনা সে বিষয়ে খোঁজ রাখতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক ও ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, ‘টিকা দেয়ার আগে স্কুল-কলেজ খোলা ঠিক হবে না। আমার জানা মতে, এ ধরনোর কোনো টিকা এখনও দেশে আসেনি। তবে যতটুকু খবর পাচ্ছি, আগস্ট নাগাদ ফাইজারে টিকা দেশে আসছে। এই টিকা হাতে পেরে সরকার শিশুদের টিকার প্রয়োগে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।’

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘না আমাদের এখন পর্যন্ত এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। আগে ১৮ বছর এর সবাইকে টিকা দেয়া শেষ হোক। আর বিষয়টি দেখবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।’

গত ৩ জুলাই জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে শনিবার সংসদ নেতার সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের টিকা দিয়েই স্কুল-কলেজ খুলতে চায় সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার দাবি উঠছে। কিন্তু আসল কথা হলো যাদের বাচ্চারা স্কুল-কলেজে যায়, তারাই কিন্তু চাচ্ছেন না এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হোক।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র মো. রোবেদ আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের ৩৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর তালিকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেয়া হয়েছে। এটা ইতোমধ্যে আইসিটি বিভাগে দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দেয়া হবে। তবে স্কুলের টিকা দেয়ার বিষয়ে এখনও কোনো নির্দেশনা পায়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাইজারের টিকা শিশুদের দেয়া যাবে বলে পরামর্শ আছে। তারা বলছেন, আমেরিকা পরীক্ষামূলকভাবে শিশুদের টিকা দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কী ভাবছে এমন প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনও আমাদের সিদ্ধান্ত আসেনি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি মনে করি এ বিষয়ে কথা বলার সময় আমাদের দেশের সার্বিক করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। আর একটি কথা মাথায় রাখতে হবে যে, আমরা টিকা উৎপাদনকারী দেশ নই। তাই আমার পরামর্শ আগে বয়স্ক এবং মায়েদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষজ্ঞরা বলছেন সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৮ বছর ঊর্ধ্বে সবাইকে টিকার আওতায় আনা গেলে দেশে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে। তখন সরকারের পক্ষে স্কুল খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হবে। করোনা সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে নামলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার যে পরিকল্পনা, সেটিই বাস্তবসম্মত বলে আমি মনে করি।’

১৮ বছরের নিচের শিশুদের টিকা

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন দেশে ফাইজারের টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে। ফাইজারের টিকা উৎপাদনকারী সংস্থাটি বলছে, সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৫ থেকে ১১ বছরের শিশুর ওপর টিকা প্রয়োগের ওপর একটি গবেষণা প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফল প্রকাশের পর টিকা নিয়ন্ত্রণ ও অনুমোদন সংস্থার কাছে এ বিষয়ে জরুরি অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হবে। তবে সরকার এখন চাইলে ১২ বছরের উপরে সবাইকে টিকা আওতায় আনতে পারে। কারণ আগস্টে ৬০ লাখ ফাইজার টিকা আসছে। চাইলে এই টিকা শিশুদের দেয়ার সিদ্ধান্ত সরকার নিতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক ও ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, ‘ভারতীয় বায়োটেক কোম্পানি ভারত বায়োটেক দুই বছর বছরের বেশি বয়সীদের ব্যবহারের জন্য একটি টিকার পরীক্ষা চালাচ্ছে। এ পরীক্ষা সফল হলে সারা বিশ্বের স্কুল-কলেজের শিশুদের টিকার আওতায় আনা সহজ হবে। সে ক্ষেত্রে আমরাও উপকৃত হতে পারি।’

আরও পড়ুন:
‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কি অপরাধ’
বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কর প্রত্যাহার দাবি
‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর আরোপ আইন পরিপন্থি’
এবারও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে শেখ কবির
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা সাত শর্তে

শেয়ার করুন

কৌতুক লিখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আসামি ঢাবি শিক্ষক

কৌতুক লিখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আসামি ঢাবি শিক্ষক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন। ছবি: সংগৃহীত

মামলার বিষয়ে অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, ‘ফেসবুক পোস্টটা আমার নিজের না। অন্য জায়গা থেকে শেয়ার করেছি৷ এটি আমার অনিচ্ছাকৃত ভুল। এটির জন্য ইতোমধ্যে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করেছি। সেখানেই বিষয়টা থেমে যাওয়া উচিত ছিল। এরপরও মামলা করা এটি আমাকে হয়রানি এবং অসৎ উদ্দেশ্যের জন্য।’

মদ ও দুধ সম্পর্কিত বহুল প্রচলিত একটি কৌতুক ফেসবুকে শেয়ার করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু যুব পরিষদের এক নেতা।

রোববার শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অমিত ভৌমিক। বিষয়টি তিনি নিজেই নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন। মামলাটি তদন্ত করবেন শাহবাগ থানার এসআই (নিরস্ত্র) আরিফুল ইসলাম অপু।

নিউজবাংলাকে অমিত ভৌমিক বলেন, ‘কার্জন সাহেবের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৮ এবং ৩১ ধারায় মামলা করেছি। শনিবার রাতেই মামলাটি আমরা করি। তবে শাহবাগ থানার ওসি অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে থাকায় মামলাটি রোববার হয়েছে। বিকেলে আমরা মামলার কপি গ্রহণ করি।’

এ বিষয়ে জানতে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুত হালদারকে ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

২৩ জুলাই অধ্যাপক কার্জন নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক টাইমলাইনে মদ ও দুধ-সম্পর্কিত বহুল প্রচলিত একটি কৌতুক শেয়ার করেন। এই পোস্টকেই কেন্দ্র করে মূলত তার বিরুদ্ধে সনাতন ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ আনা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, হাফিজুর রহমান কার্জন সনাতন ধর্মের ভগবানকে হেয়প্রতিপন্ন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন, যা সারা বিশ্বে কোটি কোটি সনাতন ধর্মীয়দের অনুভূতিতে ব্যাপক আঘাতের শামিল।

এতে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট, ধর্মীয় উগ্রবাদ সৃষ্টি, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল এবং সরকারকে বিব্রত করার মানসে স্বজ্ঞানে এবং স্বেচ্ছায় হাফিজুর রহমান কার্জন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতমূলক কুরুচিপূর্ণ এ পোস্ট করেছেন।

এজাহরে কার্জনের শেয়ার করা সেই ফেসবুক পোস্টটিও যুক্ত করা হয়েছে।

মামলার বিষয়ে অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, ‘ফেসবুক পোস্টটা আমার নিজের না। অন্য জায়গা থেকে শেয়ার করেছি৷ এটি আমার অনিচ্ছাকৃত ভুল। এটির জন্য ইতোমধ্যে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করেছি। সেখানেই বিষয়টা থেমে যাওয়া উচিত ছিল। এরপরও মামলা করা এটি আমাকে হয়রানি এবং অসৎ উদ্দেশ্যের জন্য।’

এই অধ্যাপক বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কারও ধর্মে আঘাত দেয়া আমার ব্যক্তিগত নৈতিকতা বিরোধী। তবে আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এখন যেহেতু মামলা হয়েছে, আইন যেভাবে বলবে সেভাবে আমি নির্দেশনা মেনে চলব।’

কার্জন বলেন, ‘তবে আমার একটি মানবিক আবেদন, আমি করোনায় আক্রান্ত। বর্তমানে বাসায় বসে চিকিৎসা নিচ্ছি৷ এ বিবেচনায় আমাকে যেন কোনো হয়রানি না করা হয়।’

হাফিজুর রহমান কার্জনের পোস্টটির পর পরদিন দুপুরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তার পদত্যাগ চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেয় বাংলাদেশ হিন্দু আইনজীবী পরিষদ।

পরে ওই দিন বিকেলেই একই অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন হিন্দু যুব পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অমিত ভৌমিক। তবে পুলিশ এটিকে সাধারণ ডায়েরি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ডিবির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে পাঠিয়েছিল।

আরও পড়ুন:
‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কি অপরাধ’
বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কর প্রত্যাহার দাবি
‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর আরোপ আইন পরিপন্থি’
এবারও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে শেখ কবির
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা সাত শর্তে

শেয়ার করুন