দক্ষতানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় ইউজিসি

দক্ষতানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় ইউজিসি

ওবিই টেমপ্লেট বাস্তবায়ন হলে সিলেবাস নিয়মিত পরিমার্জনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দক্ষতা ও আউটকামনির্ভর শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ তৈরি হবে।

দক্ষতানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ জন্য এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। ইউজিসি মনে করে আউটকাম বেইজড এডুকেশন (ওবিই) বাস্তবায়নের মাধ্যমে গুণগত ও দক্ষতানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

মঙ্গলবার ওবিই টেমপ্লেট বিষয়ক এক প্রশিক্ষণের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম তত্ত্বাবধানকারী এ সংস্থাটি।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘আউটকাম বেইজড এডুকেশনের (ওবিই) ধারণা বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও বিশ্বের অনেক দেশে অনেক আগে থেকে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আউটকাম বেইজড এডুকেশন (ওবিই) টেমপ্লেট বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবী।’

কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপ্রধান ছিলেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ।

ইউজিসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ আশা প্রকাশ করেন আউটকাম বেইজড এডুকেশন (ওবিই) টেমপ্লেট বাস্তবায়ন সম্ভব হলে কারিকুলাম ও সিলেবাস নিয়মিত পরিমার্জনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দক্ষতা ও আউটকামনির্ভর শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ তৈরি হবে। ফলে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যায়গুলো ভালো অবস্থান অর্জন করতে সক্ষম হবে।

প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ সভাপ্রধানের বক্তব্যে বলেন, ওবিই টেমপ্লেট বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষককে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

ইউজিসির এসপিকিউএ বিভাগের পরিচালক ড. ফখরুল ইসলাম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। এসপিকিউএ বিভাগের উপপরিচালক বিষ্ণু মল্লিকের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের পরিচালক মো. ওমর ফারুখ ও এসপিকিউএ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক জেসমিন পারভীন।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ইউজিসির ১৫৭তম পূর্ণ কমিশন সভায় আউটকাম বেইজড এডুকেশন (ওবিই) টেমপ্লেট অনুমোদন করা হয়। টেমপ্লেটটি আরও পরিমার্জন এবং এর মূল্যায়ন অংশকে অধিক কার্যকর করার লক্ষ্যে পরামর্শ প্রদানের জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। বিশেষজ্ঞ কমিটি গত ৪ মার্চ এক সভায় ওবিই টেমপ্লেটের সংশোধিত সংস্করণ ও মূল্যায়ন অংশ চূড়ান্ত করে।

আরও পড়ুন:
গবেষণায় চুরি রোধে সফটওয়্যার কিনছে ইউজিসি
অনিয়ম তদন্তে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি
রাজধানীতে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া স্টাডি সেন্টার
বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পেশাদারত্ব বজায় রাখার আহ্বান ইউজিসির

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে মাস্টার্স পরীক্ষা শুরু

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে মাস্টার্স পরীক্ষা শুরু

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস জানান, মাস্টার্সের চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা ছাড়াও স্নাতক চতুর্থ বর্ষের স্পেশাল টার্মের পরীক্ষা গ্রহণেরও অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে মাস্টার্স চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। গত মার্চে স্থগিত পরীক্ষাও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন ও রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস জানান, মাস্টার্সের চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা ছাড়াও স্নাতক চতুর্থ বর্ষের স্পেশাল টার্মের পরীক্ষা গ্রহণেরও অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেই স্নাতক চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা নেয়ার বিষয়টি সর্বোচ্চ বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সশরীরে পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব না হলে অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণের প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরও জানান, কর্তৃপক্ষের গঠন করা একটি সাধারণ ও একটি টেকনিক্যাল কমিটি এ লক্ষ্যে কাজ করছে। পরীক্ষা গ্রহণের পদ্ধতিসহ খুঁটিনাটি বিষয়ে কমিটির সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে এসব পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন ২৫ মে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গত ৩০ মে অ্যাকাডেমিক প্রধানদের সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির নির্দেশনার আলোকে সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্টার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. নাসিফ আহসান জানান, সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের সব ডিসিপ্লিনের মাস্টার্স চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে ১ জুলাই শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

চারুকলা স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মনিরুল ইসলাম জানান, চারুকলার তিনটি ডিসিপ্লিনের স্থগিত মাস্টার্স পরীক্ষা শুরুর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। যেকোনো দিন তারিখ জানানো হবে।

আরও পড়ুন:
গবেষণায় চুরি রোধে সফটওয়্যার কিনছে ইউজিসি
অনিয়ম তদন্তে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি
রাজধানীতে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া স্টাডি সেন্টার
বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পেশাদারত্ব বজায় রাখার আহ্বান ইউজিসির

শেয়ার করুন

সিরাজগঞ্জে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া শুরু

সিরাজগঞ্জে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া শুরু

শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ আমিরুল জানান, সিরাজগঞ্জের তিনটি মেডিক্যাল কলেজের ৮৬৮ শিক্ষার্থীকে পর্যায়ক্রমে করোনা প্রতিরোধী টিকা দেয়া হবে। প্রথমদিনেই তিন মেডিক্যালের ১৯২ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেয়া শুরু হয়েছে।

সদর উপজেলার শিয়ালকোলস্থ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বর্হিবিভাগে শনিবার দুপুরে এই কর্মসূচির উদ্বোধন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক হাবিবে মিল্লাত মুন্না।

এ কার্যক্রম আগামী ১৯, ২২, ২৬, ২৯ জুন ও ১ জুলাই চলবে।

শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ আমিরুল হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক কৃষ্ণ কুমার পাল, পরিচালক আবুল কাশেম, সিভিল সার্জন রামপদ পাল, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম হীরা।

আরও উপস্থিত ছিলেন প্রভাষক আব্দুল্লাহেল কাফী, টিকাদান কেন্দ্রের ভোকালপারসন সহকারী অধ্যাপক লায়লা রাজ্জাক, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ উদ্দিন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক।

এ সময় সাংসদ হাবিবে মিল্লাত মুন্না বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে টিকা নেয়ার পরও সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সুরক্ষা নীতি মেনে মাস্ক ব্যবহার ও হাত পরিষ্কার করুন। পাশাপাশি নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন ও অন্যকেও সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দিন।’

মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের মধ্যে টিকাদান কার্যক্রমে প্রথম টিকা নেন শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থী তানভীরুল ইসলাম। প্রথম দিনে ১৯২ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়।

এর মধ্যে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ৫৩ জন, নর্থ বেঙ্গল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ৫৬ জন ও খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ৮৩ জন টিকা পান।

শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ আমিরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সিরাজগঞ্জের তিনটি মেডিক্যাল কলেজের ৮৬৮ শিক্ষার্থীকে পর্যায়ক্রমে এই টিকা দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
গবেষণায় চুরি রোধে সফটওয়্যার কিনছে ইউজিসি
অনিয়ম তদন্তে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি
রাজধানীতে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া স্টাডি সেন্টার
বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পেশাদারত্ব বজায় রাখার আহ্বান ইউজিসির

শেয়ার করুন

বিতর্কিত নিয়োগ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, উপাচার্য ভবনে তালা

বিতর্কিত নিয়োগ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, উপাচার্য ভবনে তালা

ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘আজকে তালা লাগানোর ঘটনাটি আমি শুনেছি। এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে তা কয়েক দিন থেকেই আমি শুনছিলাম। সে কারণে প্রক্টরের মাধ্যমে নগরীর মতিহার থানায় মৌখিক ও লিখিতভাবে আমরা বিষয়টি জানিয়েছি।’

মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মেয়াদের শেষ দিনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দেয়া ১৩৭ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগ বাতিল ঠেকাতে প্রশাসন, উপাচার্য ভবনসহ কয়েকটি ভবনে তালা দিয়েছেন বিতর্কিত নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স কমিটি ও সিন্ডিকেট সভা পণ্ড করতেই এই তালা দেয়া হয়েছে। সিন্ডিকেট সভায় ওই ১৩৭ জনের নিয়োগ বাতিল করা হতে পারে বলে তারা তালা দিয়েছেন।

সদ্য বিদায়ি উপাচার্য আবদুস সোবহানের মেয়াদের শেষ দিনে ১৩৭ জনকে নিয়োগ দিয়েছিলেন তিনি। ওই নিয়োগপ্রক্রিয়া অবৈধ ঘোষণা দিয়ে তাদের যোগদান স্থগিত করে মন্ত্রণালয়। এরপর আর তারা যোগদান করতে পারেননি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বাসভবনে ফিন্যান্স কমিটির একটি সভা হওয়ার কথা আছে শনিবার। আগামী মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার তারিখ রয়েছে। তবে এই সভা দুটি যাতে অনুষ্ঠিত হতে না পারে, সে কারণেই ভবনগুলোত তালা লাগিয়েছেন তারা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবাহান তার বিদায়বেলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৩৭ জনের নিয়োগ দেন। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সেই ১৩৭ জনের যোগদান স্থগিত রেখেছেন বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা।

এ বিষয়ে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত আতিকুর রহমান সুমন বলেন, ‘আজ ফাইন্যান্স কমিটি ও আগামী ২২ তারিখে সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আজ যদি ফাইন্যান্স কমিটির মিটিং হয়, তাহলে আগামী ২২ তারিখে সিন্ডিকেট হবে।

‘আমরা শুনেছি, ওই সিন্ডিকেট সভায় আমাদের নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে বাতিলের জন্য সুপারিশ করা হবে। সে কারণে আমরা সিন্ডিকেট ও ফাইন্যান্স কমিটির মিটিং যাতে না হয়, সে জন্য ভবনগুলোতে তালা লাগিয়েছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘আজকে তালা লাগানোর ঘটনাটি আমি শুনেছি। এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে তা কয়েক দিন থেকেই আমি শুনছিলাম। সে কারণে প্রক্টরের মাধ্যমে নগরীর মতিহার থানায় মৌখিক ও লিখিতভাবে আমরা বিষয়টি জানিয়েছি।’

এ ছাড়া রাজশাহীর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা বিষয়টি অবগত রয়েছেন। আমি প্রশাসনের সবার সঙ্গে আবার কথা বলব, তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন:
গবেষণায় চুরি রোধে সফটওয়্যার কিনছে ইউজিসি
অনিয়ম তদন্তে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি
রাজধানীতে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া স্টাডি সেন্টার
বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পেশাদারত্ব বজায় রাখার আহ্বান ইউজিসির

শেয়ার করুন

জবির মাঠে মার্কেট নির্মাণে শিক্ষকদের প্রতিবাদ

জবির মাঠে মার্কেট নির্মাণে শিক্ষকদের প্রতিবাদ

শুক্রবার রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নূরে আলম আব্দুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. শামীমা বেগম স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবাদলিপি প্রকাশের মাধ্যমে এ নিন্দা জানানো হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মার্কেট নির্মাণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক সমিতি (জবিশিস)।

শুক্রবার রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নূরে আলম আব্দুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. শামীমা বেগম স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবাদলিপি প্রকাশের মাধ্যমে এ নিন্দা জানানো হয়।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, গত ১৬ জুন ২০২১ তারিখে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে মার্কেট নির্মাণ করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন” শীর্ষক সংবাদটিতে আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে। এটি ধূপখোলায় অবস্থিত তিনটি মাঠের একটি এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাধুলা ও শরীরচর্চার একমাত্র স্থান যা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ব্যবহার করে আসছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এ ধরনের উদ্যোগের ফলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবাদলিপিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সিটি করপোরেশনের এ ধরনের উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং যথাথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১০ জুন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুজ্জোহা ও সিটি করপোরেশনর সাব অ্যসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হরিদাস মল্লিক মাঠের ভেতর ম্যাপ অনুযায়ী চার কোণায় খুঁটি বসান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে না জানিয়ে মাঠের মধ্যে মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনায় বিষয়টি নজরে আসার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
গবেষণায় চুরি রোধে সফটওয়্যার কিনছে ইউজিসি
অনিয়ম তদন্তে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি
রাজধানীতে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া স্টাডি সেন্টার
বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পেশাদারত্ব বজায় রাখার আহ্বান ইউজিসির

শেয়ার করুন

আবরার স্মরণে ‘এক মুঠো ভাত’

আবরার স্মরণে ‘এক মুঠো ভাত’

আবরার ফাহাদ হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করে বুয়েট ক্যাম্পাসে ‘এক মুঠো ভাত’ কর্মসূচি পালন করেছে অঙ্কুর ফাউন্ডেশন। ছবি: নিউজবাংলা

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করে বুয়েট ক্যাম্পাসে ‘এক মুঠো ভাত’ কর্মসূচি পালন করেছে অঙ্কুর ফাউন্ডেশন। এ কর্মসূচির আওতায় শুক্রবার দুপুরে ক্যাম্পাসে ১০০ জনের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করে বুয়েট ক্যাম্পাসে ‘এক মুঠো ভাত’ কর্মসূচি পালন করেছে অঙ্কুর ফাউন্ডেশন।

এ কর্মসূচির আওতায় শুক্রবার দুপুরে ক্যাম্পাসে ১০০ জনের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।

রাজধানীরসহ দেশের ৬৪টি জেলা শহরে শুক্রবার এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন সংগঠনটির সিনিয়র স্বেচ্ছাসেবক জুবায়ের।

জুবায়ের জানান, আবরারের নিজ জেলা কুষ্টিয়াতে আয়োজিত কর্মসূচিতে আবরার ফাহাদের বাবা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ‘অঙ্কুর ফাউন্ডেশন’ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এই ফাউন্ডেশনের বেশ কয়েকটি প্রজেক্টের মধ্যে ‘এক মুঠো ভাত’ অন্যতম।

কর্মসূচির বিষয়ে সংগঠনটির মিডিয়া সমন্বয়ক মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘আবরার হত্যার পর আসামীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক বছর ৯ মাস পার হয়ে গেলেও বিচার কাজে তেমন অগ্রগতি হয়নি।’

আবরার স্মরণে ‘এক মুঠো ভাত’
আবরার হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করে বুয়েট ক্যাম্পাসে অঙ্কুর ফাউন্ডেশন বিশেষ কর্মসূচী পালন করে। ছবি: নিউজবাংলা

‘সম্প্রতি আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বুয়েট থেকে আজীবন বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম বিটু ক্লাসে ফিরেছেন। আবার হত্যার বিচারের দীর্ঘসূত্রতা ও সাম্প্রতিক ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন।’

আলাউদ্দিন বলেন, সংগঠনের অবস্থান প্রশাসন বা সরকারের বিরুদ্ধে নয়। বরং আমরা সরকারের কাছে অভিনব এই প্রক্রিয়ায় আবরার ফাহাদের জন্য দ্রুত ন্যায় বিচার দাবি করছি।

আবরার স্মরণে ‘এক মুঠো ভাত’
নিহত আবরার ফাহাদ। ফাইল ছবি

আরও পড়ুন:
গবেষণায় চুরি রোধে সফটওয়্যার কিনছে ইউজিসি
অনিয়ম তদন্তে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি
রাজধানীতে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া স্টাডি সেন্টার
বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পেশাদারত্ব বজায় রাখার আহ্বান ইউজিসির

শেয়ার করুন

চা-চপ-সিঙ্গারা: বিধিনিষেধ নিয়ে সমালোচনার ঝড়

চা-চপ-সিঙ্গারা: বিধিনিষেধ নিয়ে সমালোচনার ঝড়

দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত যে প্রতিবেদন ও কার্টুনকে ঘিরে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের একটি পুরনো মন্তব্যকে ঘিরে সংবাদপত্রে কার্টুন এবং সেই কার্টুনের জেরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞপ্তি জারির পর এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মূলত বিদ্রুপ থামাতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদক্ষেপ নতুন বিদ্রুপের জন্ম দিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের সমালোচনা করা যাবে না মর্মে সাবধান করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তির পর এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত কার্টুন থেকে যে নিষেধাজ্ঞার সূত্রপাত, সেই নিষেধাজ্ঞাই হাস্যরসাত্মক ট্রোল ও মিমের নতুন উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। এসব ট্রোলের বেশিরভাগই করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও ব্র্যাক মাইগ্রেশন বিভাগের প্রধান শরিফুল হাসান তার ফেসবুক টাইমলাইনে লেখেন:

‘এই তো আর সপ্তাহ দুয়েক পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি। এমন মহেন্দ্রক্ষণে আরো একটি রেকর্ড করেছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়। শত বছরের ইতিহাসে এই প্রথম বোধ হয় কোনো উপাচার্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠালেন যে, সমালোচনা বা ব্যঙ্গ করলে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি পড়ে আমার ভীষণ হাসি পেয়েছে। …

পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে এমন সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়েছে কি না আমার জানা নেই। আমার তো মনে হয়, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিই যথেষ্ট। খুব দক্ষতার সাথে কাজটি করায় শতবর্ষের অভিনন্দন মাননীয় উপাচার্যকে। আমার মনে হয় সবাই এবার ছা-ছপ সিঙ্গারা খাওয়ার দাওয়াত পেতে পারেন।’

চা-চপ-সিঙ্গারা: বিধিনিষেধ নিয়ে সমালোচনার ঝড়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও কবি ইমতিয়াজ মাহমুদ তার ফেসবুক টাইমলাইনে একটি গল্পের ছলে সমালোচনা করে বলেন:

‘স্কুলে আমাদের এক বন্ধু ছিলো। তার নাম মারুফ (নামটা কাল্পনিক দিলাম)। কিন্তু ক্লাসের সবাই তারে ডাকতো "বলদা মারুফ" নামে।

এই সম্বোধনে ত্যাক্ত-বিরক্ত হয়ে একদিন সে আমাদের ক্লাস টিচারের কাছে গিয়ে সবার নামে নালিশ করলো। স্যার তখন আমাদের বললেন, তোরা কেউ এখন থেকে আর ওরে 'বলদা মারুফ' ডাকবি না, এখন থেকে ওরে সবাই 'ইন্টেলিজেন্ট মারুফ'' ডাকবি।

অচিরেই সবাই তারে নতুন এই নামেই ডাকা শুরু করলো। তারপর ধীরে ধীরে এক সময়ে তার নামের মূল অংশটাও বাদ পড়লো। শুধু ইন্টেলিজেন্ট নামটা টিকে থাকলো।

কিন্ত সুন্দর এই নামটা উচ্চারণ করার সময় সবার মুখেই মুচকি একটা হাসি থাকতো...।

পুনশ্চ: খবরে দেখলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিছে তাদের চা, চপ, সিঙারারে ব্যাঙ্গ করলে তারা ব্যবস্থা নেবে। আমার ধারণা তাদের এই ব্যবস্থার ভয়ে এখন থেকে কেউ আর তাদের চা, চপ, সিঙারারে বিদ্রুপ করবে না।

তবে আশঙ্কা আছে কর্তৃপক্ষ এমন ব্যবস্থা নিতে থাকলে একসময় "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়" নামটা উচ্চারণ করার সময়ও সবার মুখে মুচকি একটা হাসি থাকবে...।’

চা-চপ-সিঙ্গারা: বিধিনিষেধ নিয়ে সমালোচনার ঝড়

দৈনিক দেশ রূপান্তর-এর যুগ্ম সম্পাদক গাজী নাসিরুদ্দিন আহমেদ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন:

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এত ব্যাডাগিরি দেখায় কেন? এক্স স্টুডেন্টদের গ্রুপ দেখলেই তো বোঝা যায় কি জাতের গ্র্যাজুয়েট উনারা পয়দা করেন। আইনি পদক্ষেপের হুমকি দেন! ছা-ছপ বললে বাংলাদেশের কোন আইনটার লঙ্ঘন হয়? হাইকোর্ট দেখানোর গেরাইম্যা কালচার। রাবিশ!’

চা-চপ-সিঙ্গারা: বিধিনিষেধ নিয়ে সমালোচনার ঝড়

অনেকে স্ট্যাটাস না দিলেও বিভিন্ন ব্যাক্তিদের কমেন্ট বক্সে এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।

শরিফুল হাসানের পোস্টে কমেন্ট করেছেন রওশন হক। তিনি লিখেছেন: ‘ছা চপ সিংড়ায় সম্মান ধরে রাখতেই এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন।’

শাহাদাত হাসান নামে একজন কমেন্টে বলেছেন: “ঢাবির না, বরং তার নিজের ভাবমূর্তি 'রক্ষা'র বিজ্ঞপ্তি ছিল সেটি।”

মো হারুন উর রশিদ কমেন্টে লিখেছেন: ‘মাননীয় উপাচার্য কি তাকে নিয়ে কৃত ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ দেখেও বুঝেন না যে তিনি বিগত কবছর ধরে কেমন কর্মদক্ষতা দেখিয়ে যাচ্ছেন! যদি না বুঝে থাকেন, তাহলে বিশ্বাস করুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে আমি সত্যিই লজ্জিত!’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী ও সাংবাদিক শাহানা হুদা তার ওয়ালে লেখেন: “‘সম্মানিত’ কাউর ইজ্জত লই ‘চুদুর বুদুর’ চইলতোনো - প্রেস বিজ্ঞপ্তি।”

সমালোচনা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক বা বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যেও।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী সেজান মাহমুদ এই বিষয় নিয়ে একটি কবিতা লিখে তা তার ওয়ালে প্রকাশ করেন,

#খবর_থেকে_ছড়া ১১

বললেন কী বললেন কী

চা-ছপের এই ভিসি!

ছি ছি!

কেউ করিলে মানের হানি

টানতে হবে জেলের ঘানি

মান কি অতো সোজা?

পাবলিকে দেয় ট্যাক্সো-মানি

সঙ্গে কিছু খোঁচাও, জানি

যায় না বুঝি বোঝা?

তাই বলে কি মামলার ভয়,

রক্তচক্ষু ভালো?

প্রাচ্যের এই অক্সফোর্ডে আজ

‘ইনটলারেন্স’ কালো!

ছি ছি ছি ছি!

বললেন কী বললেন কী

চা-ছপের এই ভিসি!

ক্ষ্যামা দিলাম লিখতে ছড়া

একশ ঘায়ের ভয়ে

ফ্রিডম-ট্রিডম শিকেয় তুলি

সস্তা ছপের জয়ে!

চা-চপ-সিঙ্গারা: বিধিনিষেধ নিয়ে সমালোচনার ঝড়

ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা দ্য ডেইলি স্টার-এ ১৫ জুন প্রকাশিত এক প্রতিবেদন ও কার্টুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ক্যাফেটরিয়াতে স্বল্প মূল্যে পাওয়া চা, চপ, শিঙাড়া নিয়ে ২০১৯ সালে নবীন শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপাচার্যের দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়।

এর প্রতিবাদে জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সেদিনের বক্তব্যকে খণ্ডিতভাবে প্রচার করা হয়েছে। যমুনা টেলিভিশনের এক সাংবাদিক উপাচার্যের বক্তব্যের মূল অংশ কাটছাঁট করে ক্যাফেটরিয়ার বিভিন্ন খাবার আইটেমের মূল্যমান-সংক্রান্ত বক্তব্যের অংশবিশেষ নিয়ে ১৫-২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও তৈরি করে। যা ভাইরাল হয়ে যায়।

‘সেদিন উপাচার্য মূলত নবাগত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাস্যরসে ক্যাফেটরিয়ার সাধারণ, স্বল্পমূল্যের খাবার মেন্যু ও সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধার অবারিত সেবা কার্যক্রমের কথা বলেছিলেন।’

এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘সম্প্রতি কোনো কোনো দায়িত্বশীল মহল বিভিন্নভাবে বিষয়টি যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করছে, যা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ব্লগার আরিফ জেবতিক তার স্ট্যাটাসে ছড়ার মতো করে লিখেছেন:

‘ভানুমতীর খেল! ছা-ছপ-ছিঙারা কইলে হবে জেল!’

ছড়াকার রোমেন রায়হান তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ছড়া লিখেছেন:

‘ভিসিত্র অক্সফোর্ড

রোমেন রায়হান

অক্সফোর্ড আছে যেটা প্রাচ্যে

‘ছা-ছপ-সিঙ্গারা’ খাচ্ছে

সেটা নিয়ে বলো যদি কিচ্ছু

পিছু নেবে ‘ভিসিত্র’ বিচ্ছু

জেলে ভরে দেখা যাবে নাচছে!

অক্সফোর্ড আছে যেটা প্রাচ্যে…’

রোমেন রায়হানের এই ছড়ার পোস্টের নিচে নাফিস রহমান লিখেছেন: ‘আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে কি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, নাকি খাদ্য নিরাপত্তা আইনের আওতায়?’

জনপ্রিয় অনলাইন ফান পেজ ‘ইয়ার্কি ডট কম’ একটি পোস্টে লিখেছে:

‘যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখানোর কথা মুক্ত মত আর মুক্তচিন্তার চর্চা, সেখানে তারাই মানুষের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে। কেউ সমালোচনার উর্ধ্বে নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ মানুষের সেই বিচারশক্তি ও উপলব্ধি জাগ্রত করা। আর আমাদের প্রাচ্যের অক্সফোর্ড শিক্ষার্থীর স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারের কবর খুড়ছে। হ্যাঁ, এটাই দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ, সুলভে ছা-ছপ-সিঙ্গারার প্রাপ্তিস্থান।’

আরও পড়ুন:
গবেষণায় চুরি রোধে সফটওয়্যার কিনছে ইউজিসি
অনিয়ম তদন্তে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি
রাজধানীতে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া স্টাডি সেন্টার
বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পেশাদারত্ব বজায় রাখার আহ্বান ইউজিসির

শেয়ার করুন

ঢাবি: সশরীরে পরীক্ষা না চাইলে জানানোর পরামর্শ

ঢাবি: সশরীরে পরীক্ষা না চাইলে জানানোর পরামর্শ

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হার বাড়ছে। কয়েকটি জেলায় লকডাউনও চলছে। সর্বশেষ গত একদিনে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে যা গত দেড় মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু বিভাগ-ইনস্টিটিউট আগেই অফলাইন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করছে।

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সশরীরে পরীক্ষা দিতে অনাগ্রহী হলে সেটি নিজ নিজ বিভাগের চেয়ারম্যান বা ইনস্টিটিউট পরিচালককে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহউপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল।

করোনা সংক্রমণ বাড়ায় শিক্ষার্থীদের সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে জানতে শনিবার সন্ধ্যায় ফোন দেয়া হলে তিনি এ পরামর্শ দেন।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হার বাড়ছে। কয়েকটি জেলায় লকডাউনও চলছে। সর্বশেষ গত একদিনে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে যা গত দেড় মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু বিভাগ-ইনস্টিটিউট আগেই অফলাইন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করছে।

এমন পরিস্থিতিতে সেগুলো নিয়ে কী ভাবা হচ্ছে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহউপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলছেন, ‘শিক্ষার্থীদের মত নিয়েই এসব তারিখ দেয়া হয়েছে। কোনো বিভাগই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা না করে তারিখ দেয়নি। যেসব বিভাগে ছাত্ররা অনলাইনে দিতে চেয়েছে সেখানে অনলাইনে নেয়া হচ্ছে। যেখানে শিক্ষার্থীরা সশরীরে চেয়েছে সেখানে সশরীরে পরীক্ষা তারিখ দেয়া হয়েছে।

মাকসুদ কামাল বলেন, ‘আমরা বলেছি যদি করোনা সংক্রমণ বাড়ে এবং পরিস্থিতির উন্নতি না হয় তাহলে অনলাইনে পরীক্ষা নিবে। সেটা আমরা আগেই বলেছি। সে সুযোগ আছে। শিক্ষার্থীরা সশরীরে পরীক্ষা না চাইলে সেটি বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের জানাতে বল।’

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, ‘বিভাগ এবং ইনস্টিটিউটগুলো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরীক্ষার তারিখ দেয়। সেভাবেই নির্দেশনা দেয়া আছে। চাপিয়ে দেয়ার কিছু নেই। প্যানডেমিকের মধ্যে খুব সাবধানে, ঢাকাতে যাদের একোমোডেশন হবে, ছেলে মেয়েদের নিরাপত্তা দিয়ে, পরীক্ষা হলের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে এগুলো করবে।’

আরও পড়ুন:
গবেষণায় চুরি রোধে সফটওয়্যার কিনছে ইউজিসি
অনিয়ম তদন্তে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি
রাজধানীতে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া স্টাডি সেন্টার
বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পেশাদারত্ব বজায় রাখার আহ্বান ইউজিসির

শেয়ার করুন