‘টেক-হোম পদ্ধতিতে’ পরীক্ষা নিতে ঢাবি উপাচার্যকে স্মারকলিপি

‘টেক-হোম পদ্ধতিতে’ পরীক্ষা নিতে ঢাবি উপাচার্যকে স্মারকলিপি

ধাপে ধাপে আবাসিক হল খুলে দিয়ে পরীক্ষা নেয়ার দাবি জানিয়েছে হল-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার তারা সংবাদ সম্মেলন করে। ছবি: নিউজবাংলা।

‘শিক্ষকরা অনলাইনে প্রশ্ন দিবে আর শিক্ষার্থীরা অফলাইনে উত্তর লিখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তরপত্র জমা দিবে’—এই পদ্ধিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা নিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ছাত্ররা।

‘শিক্ষকরা অনলাইনে প্রশ্ন দিবে আর শিক্ষার্থীরা অফলাইনে উত্তর লিখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তরপত্র জমা দিবে’—এই পদ্ধিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা নিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একাংশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপাচার্যের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তাকে এ স্মারকলিপি দেয়া হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, হল খুলে পরীক্ষা নেয়া সবার মতো আমাদেরও দাবি। কিন্তু এই মূহূর্তে সেটি সম্ভব হচ্ছে না বলেই আমরা ‘টেক হোম’ পরীক্ষার দাবি জানিয়েছি।

উপাচার্যের কাছে দেয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, হল না খুলে পরীক্ষা নেয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কারণ হবে।

হল খুলে পরীক্ষা নেয়ার দাবি সার্বজনীন হলেও, এখন হল খুলে দেয়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে টেক-হোম এক্সামের মাধ্যমে পরীক্ষা নেয়াটাই সবচেয়ে ভাল বাস্তবসম্মত সমাধান।

নিরবিচ্ছিন ইন্টারনেট সংযোগের অপ্রতুলতা, পর্যাপ্ত ডিভাইসের স্বল্পতা, আর্থ-সামাজিক অবস্থার দরুন অনলাইন লাইভ পরীক্ষার বিড়ম্বনার কথা আমরা সবাই জানি।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, টেক-হোম এক্সামের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগ মিড বা ইনকোর্স নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের মতামত অনুযায়ী, এটি ছিল লাইভ এক্সামের চেয়ে কম জটিলতাপূর্ণ। এই পদ্ধতিতে শতভাগ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে।

যারা সরাসরি লাইভ এক্সাম দিয়েছে, বিড়ম্বনা এড়ানোর জন্য তাদের মতামতও ‘টেক-হোম’ এক্সামের মাধ্যমে ফাইনাল নেয়া। ইন্টারনেট বিছিন্ন হওয়ার বিষয় এখানে নেই, পাশাপাশি এতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব।

সংক্ষিপ্ততম সময়ে পরীক্ষা নেয়ার জন্য এটাই এখন বাস্তবসম্মত সমাধান। তাই টেক-হোম এক্সামের মাধ্যমে ফাইনাল এক্সাম নেয়ার ব্যবস্থা করা উচিত যাতে করে নিরাপদে থেকে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান থাকে এবং অন্যান্য পাবলিক ভার্সিটির মতো আমরাও অন্তত পরীক্ষা দিয়ে এগিয়ে যেতে পারি।”

এ বিষয়ে ফিন্যান্স বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত বলেন, অনলাইন পরীক্ষায় নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে লাইভে থেকে পরীক্ষা দেয়া সম্ভব না। আর তাই হল খুলে সশরীরে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হলে ‘টেক হোম’ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিতে হবে। ‘টেক হোম পদ্ধতিতে’ ফাইনাল এক্সাম নেয়ার কোনো বিকল্প এই পরিস্থিতিতে নেই।

স্মারকলিপির বিষয়ে উপাচার্য কী বলেছেন জানতে চাইলে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তিনি আমাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। উপাচার্য বলেছেন, ইনকোর্স পরীক্ষাসমূহ তোমাদের দাবি অনুযায়ী হতে পারে ৷ তবে চূড়ান্ত পরীক্ষা আবাসিক হল না খুলে সশরীরে নেয়াতেই প্রাধান্য দেয়া হবে৷

এদিকে ধাপে ধাপে পরীক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হল খুলে দিয়ে পরীক্ষা নেয়ার দাবি জানিয়েছে হল-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিতে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান তারা। ‘টেক হোম এক্সাম’ নেয়ার দাবিতে স্মারকলিপি দেয়া শিক্ষার্থীরাও একাত্মতা পোষণ করে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছেন ৷

সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাষ্কর্যে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। ধাপে ধাপে পরীক্ষার্থীদের জন্য হল খুলে পরীক্ষা নেয়া এবং অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের টিকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেয়ার দাবিতেই এ বিক্ষোভ বলে জানিয়েছেন হল খোলার দাবিতে আন্দলোনরত ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদ।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ওয়াহিদুজ্জামান, ফিন্যান্স বিভাগের ইয়াসিন আরাফাত এবং ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ ৷

আরও পড়ুন:
‘হল না খুলে পরীক্ষা গ্রহণযোগ্য নয়’

শেয়ার করুন

মন্তব্য