আগামী সপ্তাহে শুরু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকাদান

player
আগামী সপ্তাহে শুরু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকাদান

প্রতীকী ছবি।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সচিব ফেরদৌস জামান বলেন, আগামী সপ্তাহের শুরু থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেয়ার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

আগামী সপ্তাহ থেকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন হলের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকা দেয়ার কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।

টিকা কার্যক্রম শেষ হলেই খুলে দেয়া হবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সচিব ফেরদৌস জামান।

তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহের শুরু থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেয়ার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

সোমবার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও উপাচার্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় চারটি সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

সভার সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোভিড-১৯-এর টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে। এই টিকাদান কর্মসূচি আবাসিক হলগুলোর শিক্ষার্থীদের দিয়ে শুরু হবে।

শর্তসাপেক্ষে সশরীরে উপস্থিতিতে পরীক্ষা গ্রহণ এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য যে দুটি নির্দেশনা প্রদান করেছে, তা নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদনের মাধ্যমে কার্যকর করে বিষয়বস্তুর ওপর চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণ ও মূল্যায়ন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯-এর টিকা প্রদান সম্পন্ন হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো খুলে দেয়া হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সশরীরে উপস্থিতিতে শিক্ষাকার্যক্রম আগের মতো চালু হবে।

কোভিড-১৯ মহামারির কারণে এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নেয়ার জন্য প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব সক্ষমতা ও বাস্তবতা অনুযায়ী একটি ‘রিকভারি প্ল্যান’ প্রস্তুত করে তা বাস্তবায়নে কার্যক্রম গ্রহণ করবে। এই ‘রিকভারি প্ল্যান’ -এর একটি সাধারণ গাইডলাইন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাবে।

দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। এ ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। বন্ধ দফায় দফায় বাড়িয়ে আগামী ১২ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, করোনাভাইরাসের টিকার দুটি ডোজ সব শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীকে দেয়া সম্পন্ন হলেই আবাসিক হলযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আবাসিক শিক্ষার্থীদের করোনা টিকার আওতায় আনার পর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতিমধ্যে কতজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী টিকা পেয়েছেন, সে তথ্য ইউজিসির কাছে চেয়েছি। যাদের বয়স ৪০-এর বেশি, বেশির ভাগই টিকা নিয়েছেন বলে আমরা তথ্য পেয়েছি।’

‘শিক্ষার্থীদের যাদের বয়স ৪০-এর কম, তাদের বিশেষ বিবেচনায় টিকা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। নতুন টিকা এলেই তারা অগ্রাধিকার পাবেন। এ ক্ষেত্রে আবাসিক শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন। এ সংখ্যা যেহেতু বিশাল নয়, তাই দ্রুত তাদের টিকার আওতায় নিয়ে আসতে পারব বলে আশা করছি।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দুর্নীতিতে বাংলাদেশ ১৩তম

দুর্নীতিতে বাংলাদেশ ১৩তম

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশ করা দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান।

বার্লিনভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশ করা দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই)-এ এই তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এক ধাপ উন্নতি হয়েছে। তবে স্কোর আগের মতোই, ২৬।

বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত’ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল। বার্লিনভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির প্রকাশ করা দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই)’-এ এই তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এ তথ্য জানায়।

বিশ্বের ১৮০টি দেশের ২০২১ সালের দুর্নীতি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা এই সূচকে ভালো অবস্থানে থাকা বা উপরের দিক থেকে ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের স্থান ১৪৭তম। ২০২০ সালে এই অবস্থান ছিল ১৪৬তম।

নিচের দিক থেকে এবার অবস্থান ১৩তম। ২০২০ সালের পরিস্থিতি বিবেচনায় এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২তম। আর ১০০ নম্বরের মধ্যে গত তিন বছরের মতো এবারও বাংলাদেশের স্কোর ২৬।

দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে সপ্তম স্থানে। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে আছে আফগানিস্তান। আর সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে ভুটান। আর এশিয়ার মধ্যেও বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা ভালোও করিনি, খারাপও করিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে যাদের হাতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব, তাদের একটি বড় অংশ সরাসরি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক আর প্রশাসনিক দায়িত্বে যারা আছেন, তারা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের ব্যক্তিগত ফায়দা আদায়ের জন্য ব্যবহার করেন। জনকল্যাণে কেউ কাজ করেন না।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, দুর্নীতির ধারণা সূচকের গবেষণায় পৃথিবীর কোনো দেশই ১০০-তে ১০০ স্কোর পায়নি। অর্থাৎ কম-বেশি পৃথিবীর সব দেশেই দুর্নীতি আছে। পৃথিবীর সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ডেনমার্ক। আর সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ দক্ষিণ সুদান।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আটটি জরিপের ফলাফল থেকে সূচকটি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান ইফতেখারুজ্জামান।

২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা ৫ বছর বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে টিআই প্রতিবেদনে তালিকাভুক্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। পরে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। তবে গত চার বছর ধরে স্কোরে উন্নতি হচ্ছে না।

শেয়ার করুন

অস্ত্র-মাদক ও চোরাচালান পণ্য উদ্ধারে পুলিশে পুরস্কৃতরা

অস্ত্র-মাদক ও চোরাচালান পণ্য উদ্ধারে পুলিশে পুরস্কৃতরা

সোমবার পুলিশ সপ্তাহ-২০২২-এর দ্বিতীয় দিনে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে পুরস্কার তুলে দেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ।

২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও চোরাই পণ্য উদ্ধারের জন্য পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলাকে পুরস্কৃত করা হয়।

গত দুই বছরে বিভিন্ন অভিযানে অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানের পণ্য উদ্ধারে বাংলাদেশ পুলিশের সেরাদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার পুলিশ সপ্তাহ-২০২২-এর দ্বিতীয় দিনে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের পুরস্কার দেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও চোরাই পণ্য উদ্ধারের জন্য তারা পুরস্কৃত হন।

আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযানে ২০২০ সালে ‘ক’ গ্রুপে প্রথম চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, দ্বিতীয় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও তৃতীয় পাবনা জেলা পুলিশ।

আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযানে ২০১৯ সালে ‘খ’ গ্রুপে প্রথম হয়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ, দ্বিতীয় যশোর জেলা পুলিশ ও তৃতীয় নোয়াখালী জেলা পুলিশ। ‘গ’ গ্রুপে এপিবিএন প্রথম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও রাজবাড়ী জেলা পুলিশ তৃতীয়।

‘ঘ’ গ্রুপে র‍্যাব-৭ চট্টগ্রাম প্রথম, র‍্যাব-৫ রাজশাহী দ্বিতীয় ও র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার তৃতীয়।

‘ঙ’ গ্রুপে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগ প্রথম, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর বিভাগ দ্বিতীয় ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগ তৃতীয়।

আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে ২০২১ সালে ‘ক’ গ্রুপে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রথম, পাবনা জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ তৃতীয়। ‘খ’ গ্রুপে প্রথম কক্সবাজার জেলা পুলিশ, দ্বিতীয় নরসিংদী জেলা পুলিশ ও তৃতীয় নোয়াখালী জেলা পুলিশ। ‘গ’ গ্রুপে এপিবিএন প্রথম, গাজীপুর জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও রাজবাড়ী জেলা পুলিশ তৃতীয়। ‘ঘ’ গ্রুপে র‍্যাব-৭ চট্টগ্রাম প্রথম, র‍্যাব-৫ রাজশাহী দ্বিতীয়, র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার তৃতীয়।

‘ঙ’ গ্রুপে প্রথম ডিবি, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম দ্বিতীয় এবং যৌথভাবে তৃতীয় হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ ও ওয়ারী বিভাগ।

মাদকদ্রব্য উদ্ধার: ২০২০ সালে পুরস্কৃতরা

‘ক’ গ্রুপে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রথম, কুমিল্লা জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ তৃতীয়। ‘খ’ গ্রুপে কক্সবাজার জেলা পুলিশ প্রথম, যশোর জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও ঢাকা জেলা পুলিশ তৃতীয়। ‘গ’ গ্রুপে প্রথম জয়পুরহাট জেলা পুলিশ, দ্বিতীয় লালমনিরহাট জেলা পুলিশ ও তৃতীয় চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ। ‘ঘ’ গ্রুপে প্রথম র‍্যাব-৫ রাজশাহী, দ্বিতীয় র‍্যাব-৪ মিরপুর ও তৃতীয় র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার। ‘ঙ’ গ্রুপে প্রথম ডিবি, দ্বিতীয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ রমনা বিভাগ ও তৃতীয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ মিরপুর বিভাগ এবং ‘চ’ গ্রুপে প্রথম হাইওয়ে পুলিশ, দ্বিতীয় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও তৃতীয় রেলওয়ে পুলিশ।

২০২১ সালে মাদক উদ্ধারে বিজয়ীরা

‘ক’ গ্রুপে প্রথম কুমিল্লা জেলা পুলিশ, দ্বিতীয় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও তৃতীয় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। ‘খ’ গ্রুপে প্রথম কক্সবাজার জেলা পুলিশ, দ্বিতীয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ ও তৃতীয় যশোর জেলা পুলিশ। ‘গ’ গ্রুপে প্রথম জয়পুরহাট জেলা পুলিশ, দ্বিতীয় লালমনিরহাট জেলা পুলিশ ও তৃতীয় গাজীপুর জেলা পুলিশ। ‘ঘ’ গ্রুপে র‍্যাব-৭ প্রথম, র‍্যাব-১৫ দ্বিতীয় ও র‍্যাব-১১ তৃতীয়।

‘ঙ’ গ্রুপে ডিবি প্রথম, ডিএমপি দ্বিতীয় ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর বিভাগ তৃতীয়। ‘চ’ গ্রুপে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন প্রথম, হাইওয়ে পুলিশ দ্বিতীয় ও রেলওয়ে পুলিশ তৃতীয়।

চোরাচালান পণ্য উদ্ধারে ২০২০ সালে বিজয়ীরা

‘ক’ গ্রুপে প্রথম চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ, দ্বিতীয় কুমিল্লা জেলা পুলিশ ও তৃতীয় টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ। ‘খ’ গ্রুপে খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ প্রথম, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ দ্বিতীয় ও বান্দরবান জেলা পুলিশ তৃতীয়। ‘গ’ গ্রুপে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রথম, লালমনিরহাট জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও পঞ্চগড় জেলা পুলিশ তৃতীয়। ‘ঘ’ গ্রুপে র‍্যাব-৩ প্রথম, র‍্যাব-১০ দ্বিতীয় ও র‍্যাব-৭ তৃতীয়।‘

‘ঙ গ্রুপে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ মিরপুর বিভাগ প্রথম, ডিবি দ্বিতীয় ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ তৃতীয়। ‘চ’ গ্রুপে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন প্রথম, রেলওয়ে পুলিশ দ্বিতীয় ও হাইওয়ে পুলিশ তৃতীয়।

২০২১ সালে চোরাচালান মালামাল উদ্ধারের যারা বিজয়ী

‘ক’ গ্রুপে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রথম, কুমিল্লা জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও সিলেট জেলা পুলিশ তৃতীয়। ‘খ’ গ্রুপে প্রথম ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ, দ্বিতীয় বাগেরহাট জেলা পুলিশ ও তৃতীয় হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ। ‘গ’ গ্রুপে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ প্রথম, পঞ্চগড় জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও লালমনিরহাট জেলা পুলিশ তৃতীয়। ‘ঘ’ গ্রুপে র‍্যাব-১০ প্রথম, র‍্যাব-৭ দ্বিতীয় ও র‍্যাব-১৪ ময়মনসিংহ তৃতীয়। ‘ঙ’ গ্রুপে প্রথম ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগ, দ্বিতীয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর বিভাগ ও তৃতীয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের লালবাগ বিভাগ। ‘চ’ গ্রুপে প্রথম হয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, দ্বিতীয় রেলওয়ে পুলিশ ও তৃতীয় হাইওয়ে পুলিশ।

শেয়ার করুন

আঞ্চলিক বাণিজ্য: নেতৃত্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

আঞ্চলিক বাণিজ্য: নেতৃত্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

আঞ্চলিক উদ্যোগগুলোতে সফল হতে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য সম্পর্কিত ইস্যুতে সমন্বয় ও নেতৃত্ব দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে ‘লিড মিনিস্ট্রি’ নির্বাচন করেছে সরকার। বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক ট্রানজিট/কানেক্টিভিটি পর্যালোচনা সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আঞ্চলিক বাণিজ্য উন্নয়নে বাংলাদেশের নজর কয়েক দশক ধরেই। এ উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক ট্রানজিটে ভেড়ার লক্ষ্যে প্রতিবেশী ভারত, ভুটান, নেপালকে নিয়ে বিবিআইএন উদ্যোগে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু সফলতা আসেনি। এরপর ভুটানকে বাদ দিয়ে ভারত ও নেপালের সঙ্গে নতুন উদ্যোগ (বিআইএন) নেয় সরকার।

বিআইএন উদ্যোগটি চলমান থাকলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। তারও আগে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম), সাউথ এশিয়ান সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (এসএএসইসি), রিজিওনাল ইন্টিগ্রেশন, এশিয়ান হাইওয়েজ, সিল্ক রোড, ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড উদ্যোগে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। কোনো উদ্যোগই ফল দেয়নি। মুক্ত বাণিজ্যের এই সময়েও জুঁজুর ভয়ে বাংলাদেশ আঞ্চলিক বাণিজ্য উন্নয়নের সুযোগ থেকে অনেকটা বঞ্চিত, একইসঙ্গে বিচ্ছিন্নও।

এদিকে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চূড়ান্ত পথে বাংলাদেশ। ২০২৯ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষেত্রে পাওয়া সব শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা হারাবে দেশ। উল্টো বিশ্বকে ডেকে আনতে হবে বাংলাদেশের আঙ্গিনায়। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে করতে হবে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ)। সেখানে সবচেয়ে সহজ উদ্যোগ আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তিও (আরটিএ) এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে কার্যকর করতে পারেনি বাংলাদেশ। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে সরকারকে।

উদ্ভূত বাস্তবতায় ভবিষ্যতে আঞ্চলিক উদ্যোগগুলোতে সফল হতে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য সম্পর্কিত ইস্যুতে সমন্বয় ও নেতৃত্ব দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে লিড মিনিস্ট্রি নির্বাচন করেছে সরকার।

ট্রানজিট ও কানেক্টিভিটি ইস্যুটি বাণিজ্য সম্পর্কিত হলেও সেখানে মতামত দেয়ার ক্ষেত্রে সবাই নিজেকে ‘লিড মিনিস্ট্রি’ মনে করে। ফলে নীতিনির্ধারণী বৈঠকে আঞ্চলিক বাণিজ্য উন্নয়নে গুরুত্ব হারাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। এছাড়া দায়িত্বশীল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দরকষাকষিতে অদূরদর্শিতাও আছে।

বিজনেস অ্যালোকেশন অনুসারে এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেয়ার এখতিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের থাকলেও বাস্তবে এতোদিন সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ বিচ্ছিন্নভাবে নিজেদের মতো করে কাজ করেছে। সে কারণে এসব কার্যক্রমে সামগ্রিক সমন্বয়ের অভাব ছিল। এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর সম্মতিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ‘লিড মিনিস্ট্রি’ নির্বাচিত হওয়ায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকারের অন্যান্য বিভাগও।

সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক ট্রানজিট/কানেক্টিভিটি পর্যালোচনা সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অংশ নেয় পররাষ্ট্র, নৌ, সড়ক, রেল মন্ত্রণালয় এবং এনবিআর, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন অংশীজন।

আঞ্চলিক বাণিজ্য উদ্যোগে ব্যর্থতা কোথায়

বৈঠকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নীতিনির্ধারণী অংশীজনরা তাদের পারস্পরিক মতামত রাখেন। তারা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ট্রানজিট ও কানেক্টিভিটি সংক্রান্ত ১৫টি উদ্যোগের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেন। সেগুলোয় সাফল্য না পাওয়ার পেছনে সম্ভাব্য কারণও চিহ্নিত করেছেন তারা।

সার্বিক বিষয় বিশ্লেষণে এসবের মোটাদাগে অজানা জুঁজুর ভয় এবং সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, একক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের হাতে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার থাকছে না। এখানে ভিন্ন ভিন্ন বিভাগ জড়িয়ে পড়ছে এবং তারা কাজের ক্ষেত্র ও দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানের মতামত দিচ্ছে। যদিও অংশীজনদের সবাই সরকারেরই অংশ এবং সবার অভীষ্ট লক্ষ্য এক হওয়া সত্বেও বাস্তবে কোনোভাবেই অভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া যাচ্ছে না। এ কারণে কোনো উদ্যোগেই সাফল্য মিলছে না।

অন্যদিকে ট্রানজিট ও কানেক্টিভিটি ইস্যুটি বাণিজ্য সম্পর্কিত হলেও সেখানে মতামত দেয়ার ক্ষেত্রে সবাই নিজেকে ‘লিড মিনিস্ট্রি’ মনে করে। ফলে নীতিনির্ধারণী বৈঠকে আঞ্চলিক বাণিজ্য উন্নয়নে গুরুত্ব হারাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। এছাড়া দায়িত্বশীল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দরকষাকষিতে অদূরদর্শিতাও আছে। সর্বোপরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারে অনাগ্রহ তো রয়েছেই।

‘লিড মিনিস্ট্রি’ কেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া ওই বৈঠকের একটি কার্যপত্র নিউজবাংলার হাতে এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ তথা কানেক্টিভিটি ও ট্রানজিট ইস্যুতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম/প্রকল্প নেয়া হয়। তবে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বেশি লাভবান হওয়ার বিষয়টি সব সময় জড়িত থাকে। তাই কোনো চুক্তি বা প্রতিশ্রুতিতে যাওয়ার আগে তা দেশীয় বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করাও জরুরি। এক্ষেত্রে বিভিন্ন উদ্যোগে মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয়ের দরকার হয়।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (শুল্ক, আন্তঃবাণিজ্য ও আধুনিকায়ন) জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘নেতৃত্বদানকারী মন্ত্রণালয় হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ কাজে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় ও আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া) রকিবুল হক বলেন, ‘কোনো দেশের পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক অবস্থান ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুক্ত বাণিজ্যের বর্তমান সময়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকার সুযোগ নেই। তাই প্রতিবেশী দেশগুলোকে ট্রানজিট দেয়ার ক্ষেত্রে সবার আগে অজানা ভয় থেকে মুক্ত হওয়া দরকার। সে সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

‘বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী দেশ ভারত বিপুল জনসংখ্যার কারণে আমাদের জন্য একটি সম্ভাব্য বাণিজ্য ক্ষেত্র হতে পারে। তবে ট্রানজিট/কানেক্টিভিটির বিষয়টি যথাযথভাবে সমন্বয়ের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করাটা জরুরি। সেটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও হতে পারে।’

‘আঞ্চলিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য করণীয় সব কার্যক্রম অ্যালোকেশন অফ বিজনেস অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সমন্বয় করা হলে তা দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য বিকাশে সহায়ক হবে। একইসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা/বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) মাহবুবুল হক বলেন, ‘বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে অ্যালোকেশন অফ বিজনেস-এর তফসিল ১, ১৯৯৬ (এপ্রিল ২০১৭) পর্যন্ত সংশোধিত এর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত অংশের ১৬ নং অনুচ্ছেদে ‘বাংলাদেশের মাধ্যমে ট্রানজিট বাণিজ্য’ শিরোনামে বাণিজ্যিক ট্রানজিট বিষয়ক কার্যক্রম বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা আছে। কিন্তু এসব উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ কর্তৃক বিচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। এজন্য এসব কার্যক্রম ফলপ্রসূ করার ক্ষেত্রে সামগ্রিক সমন্বয়ের প্ৰয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।’

মাহবুবুল হক দাবি করেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য করণীয় সব কার্যক্রম অ্যালোকেশন অফ বিজনেস অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সমন্বয় করা হলে তা দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য বিকাশে সহায়ক হবে। একইসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা/বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

একইভাবে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরাও তাদের মতামত দেন। পরে সবার মতামতের ভিত্তিতে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলেন, ২০২৬ সালে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে আমাদের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এ আলোকে আঞ্চলিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে হবে। বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মাথায় রেখে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত দেয়া দরকার। তাই বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পণ্য পরিবহন ও আঞ্চলিক যোগাযোগ সমন্বয়ের বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ই সম্পন্ন করবে। এক্ষেত্রে সামগ্রিক কার্যক্রমের বিষয়ে কোনো অসামঞ্জস্য থাকলে তার সমাধানে সিদ্ধান্ত দেবে বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত ‘ন্যাশনাল ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন কমিটি’। এর আলোকে দ্রুত আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্পর্কে পা রাখতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন

হাসপাতাল ছাড়লেন সেই মা

হাসপাতাল ছাড়লেন সেই মা

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে এক সন্তান কোলে আয়েশা বেগম। ছবি: নিউজবাংলা

শ্যামলীর আমার বাংলাদেশ হাসপাতালের ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা বিল শোধ করতে না পারায় ৬ জানুয়ারি তাদের বের করে দেয়া হয়। তখন দুই শিশুসহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন আয়েশা। তবে সেখানে পৌঁছার আগেই এক শিশুর মৃত্যু হয়।

যমজ সন্তানের একটিকে চিকিৎসকের অবহেলায় হারানোর পর আরেক সন্তানকে নিয়ে ১৮ দিন পর বাসায় ফিরেছেন সাভারের গৃহবধূ আয়েশা বেগম। র‍্যাবের সহযোগিতায় ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তির পর শিশুর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে সোমবার তিনি বাসায় ফিরে যান।

স্বজনরা জানান, ছয় মাস বয়সী আব্দুল্লাহ ও আহমেদুল্লা নামে যমজ শিশুর ঠান্ডাজনিত সমস্যার চিকিৎসা নিতে গত ৩১ ডিসেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আসেন সাভার রেডিও কলোনির বাসিন্দা আয়েশা বেগম। সেখান থেকে দালালের খপ্পরে পড়ে তিনি সন্তানদের ভর্তি করেন শ্যামলীর আমার বাংলাদেশ হাসপাতালে। এ হাসপাতালে ছয় দিন ভর্তি দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা বিল দাবি করে। কয়েক দফায় ৫০ হাজার ৫০০ টাকা দিলেও পুরো বিল পরিশোধ করতে পারেননি আয়েশা। ৬ জানুয়ারি হাসপাতাল থেকে তাদের বের করে দেয়া হয়। তখন দুই শিশুসহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন আয়েশা। তবে সেখানে পৌঁছার আগেই এক শিশুর মৃত্যু হয়।

বিল দিতে না পারায় হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া ও শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। অপর শিশুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়।

স্বজনরা জানান, যমজ শিশুর বাবা মোহাম্মদ জামাল সৌদিপ্রবাসী। সেখানে তিনি মরুভূমিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তাদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়।

অমানবিক এ ঘটনা জেনে র‍্যাবের টিম হাসপাতালের মালিক মোহাম্মদ গোলাম সারোয়ারকে আটক করে। পরে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়।

ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি শিশু ও তার মায়ের নিয়মিত খোঁজ রাখেন র‍্যাব কর্মকর্তারা। সন্তান হারানোর বেদনাদায়ক স্মৃতি নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় যখন হাসপাতাল ত্যাগ করেন আয়েশা তখন র‍্যাব-৩ কর্মকর্তারা তাকে দেন বেশ কিছু উপহার। বাসায় ফেরার অ্যাম্বুলেন্সটিও ঠিক করে দেয় র‍্যাব।

র‌্যাব-৩ টিকাটুলী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. রাহাত হারুন খান এ সময় হাসপাতাল গেটে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘শিশুসন্তানকে নিয়ে তার মাকে বাসায় ফেরার অনুমতি দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের বাসায় ফেরার সময় কিছু উপহার দিয়েছি, যেন সমস্যায় না পড়ে। ৩০ দিন পর শিশুকে চেকআপ করার জন্য আনতে হবে। মানবিক কর্ম হিসেবে র‍্যাব তাদের খোঁজ রাখছে।'

র‌্যাবের পক্ষ থেকে শিশু ও তার মাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

বাসায় যাবার আগে আয়েশা বেগম কৃতজ্ঞতা জানান র‌্যাব কর্মকর্তা, চিকিৎসকসহ যারা বিপদের দিনে পাশে ছিলেন তাদের সবার প্রতি।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার আহমেদুল্লাকে ওরা মেরে ফেলছে। ওদের লোভে আমার ছেলে মারা গেল। দুজনকে নিয়ে এসেছিলাম, ফিরতেছি একজনকে নিয়ে।’

শেয়ার করুন

এবার করোনায় স্বাদ-গন্ধ স্বাভাবিক, কেন?

এবার করোনায় স্বাদ-গন্ধ স্বাভাবিক, কেন?

ফাইল ছবি

চিকিৎসকরা বলছেন, এটি করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণে হয়ে থাকতে পারে। কারণ বর্তমানে করোনা আক্রান্তদের শারীরিক সমস্যার সঙ্গে আগে আক্রান্তদের সমস্যার বেশ কিছু পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে নতুন কিছু বৈশিষ্ট্যও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে রোগীদের মধ্যে এমন পার্থক্য ওমিক্রনের কারণেই কি না সুনির্দিষ্টভাবে তা জানতে গবেষণা প্রয়োজন।

গণমাধ্যমকর্মী মুস্তাফিজ রহমান ছয় মাসের ব্যবধানে দু’বার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। প্রথমবার করোনা আক্রান্ত হলে অন্যান্য উপসর্গের মতো মুখে স্বাদ ও গন্ধ পাচ্ছিলেন না তিনি। সুস্থ হওয়ার চার মাস পর আবার করোনা আক্রান্ত হন তিনি। অন্যান্য উপসর্গ থাকলেও এবার মুখের স্বাদ ও গন্ধ চলে যায়নি। স্বাভাবিক সময়ের মতোই তিনি খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন।

মুস্তাফিজের সঙ্গে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তার স্ত্রী। একই অবস্থা তারও- অন্যান্য জটিলতা থাকলেও স্বাদ-গন্ধ অটুট আছে।

চলমান তৃতীয় ঢেউয়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন আরেক গণমাধ্যমকর্মী ইয়াসমিন। করোনা শনাক্ত হওয়ার তিন দিনের মাথায় কোমর ও পায়ের পাতায় ব্যথা অনুভব করছেন তিনি। এ ছাড়া তেমন কোনো জটিলতা নেই। স্বাদ-গন্ধও আছে স্বাভাবিক সময়ের মতোই।

বিষয়ে নিয়ে করোনা আক্রান্ত একাধিক রোগীর সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা। তাদের বড় একটি অংশেরই বক্তব্য- শারীরিক অন্যান্য জটিলতা থাকলেও মুখের স্বাদ ও গন্ধ চলে যায়নি।

চিকিৎসকরা বলছেন, এটি করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণে হয়ে থাকতে পারে। কারণ বর্তমানে করোনা আক্রান্তদের শারীরিক সমস্যার সঙ্গে আগে আক্রান্তদের সমস্যার বেশ কিছু পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে নতুন কিছু বৈশিষ্ট্যও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে রোগীদের মধ্যে এমন পার্থক্য ওমিক্রনের কারণেই কি না সুনির্দিষ্টভাবে তা জানতে গবেষণা প্রয়োজন।

আইসিডিডিআর,বি-র এক গবেষণায় দেখা গেছে, জানুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহে তাদের ল্যাবরেটরিতে এক হাজার ৩৭৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তার মধ্যে ২৮ শতাংশই ছিল করোনায় আক্রান্ত। আর আক্রান্তদের মধ্যে ওমিক্রন ছিল ৬৯ শতাংশের দেহে।

গবেষণা সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশে ৬ ডিসেম্বর ওমিক্রন প্রথম শনাক্ত করা হয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে ১১ ডিসেম্বর। ওই মাসেই আইসিডিডিআর,বির ল্যাবে পরীক্ষা করা ঢাকা শহরের ৭৭ জন করোনা রোগীর মধ্যে পাঁচটিতে ওমিক্রন শনাক্ত হয়। অন্যগুলো ছিল ডেল্টা ধরন।

রোববার সকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত যত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে তার ৩২ দশমিক ৩৭ শতাংশে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। গত বছর দেশের ইতিহাসে পরীক্ষার বিপরীতে সর্বোচ্চ সংক্রমণ শনাক্ত হয় শাটডাউন চলাকালে, ২৪ জুলাই। শনাক্তের ওই হার ছিল ৩২ দশমিক ৫৫।

করোনা আক্রান্তদের মুখে স্বাদ ও গন্ধ না থাকলেও ওমিক্রন আক্রান্তদের স্বাদ ও গন্ধ থাকছে বলে জানিয়েছেন বিদেশি সংক্রামক বিশেষজ্ঞ ড. ক্যাথারিন পোহলিং। তিনি বিদেশি গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরনে রোগীরা গন্ধ ও খাবারের স্বাদ হারালেও ওমিক্রনের ক্ষেত্রে এমনটা হচ্ছে না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, করোনার নতুন ধরন সংক্রমণে নতুন কোনো উপসর্গ যুক্ত হয়েছে কি না সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। দেশে এ ধরনের কোনো গবেষণাও হয়নি। দেশে এ পর্যন্ত ওমিক্রন ধরনে কতজন আক্রান্ত হয়েছে সে বিষয়ে কোনো গবেষণাও নেই। অনেকেই নিজেদের মতো করে অনুমান করে ওমিক্রনের বিস্তার নিয়ে তথ্য দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থার (সিডিসি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যে আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া পাঁচজন নতুন করে ওমিক্রনে আক্রান্ত হন। তাদের মাঝে চারজন প্রথমবার আক্রান্ত হওয়ার পর মুখের স্বাদ ও গন্ধ হারিয়েছিলেন। কিন্তু ওমিক্রন আক্রান্ত হয়ে তারা গন্ধ ও স্বাদ হারাননি।

এদিকে নরওয়ের এক ক্রিসমাস পার্টি থেকে ৮১ জন ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়। তাদের সবারই পূর্ণ ডোজ প্রতিষেধক টিকা দেয়া ছিল। আক্রান্তদের মধ্যে ১২ শতাংশ গন্ধ নেয়ার অনূভুতি কমে যায়। ৩২ শতাংশের স্বাদের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে ওমিক্রনে আক্রান্তরা মুখের স্বাদ-গন্ধ হারান না অটুক থাকে তা নিয়ে বাংলাদেশে তেমন কোনো গবেষণা হয়নি।

দেশসেরা ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের একজন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নজরুল ইসলাম। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, করোনার নতুন ধরন সংক্রমণে নতুন কোনো উপসর্গ যুক্ত হয়েছে কি না সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। দেশে এ ধরনের কোনো গবেষণাও হয়নি। দেশে এ পর্যন্ত ওমিক্রন ধরনে কতজন আক্রান্ত হয়েছে সে বিষয়ে কোনো গবেষণাও নেই। অনেকেই নিজেদের মতো করে অনুমান করে ওমিক্রনের বিস্তার নিয়ে তথ্য দিচ্ছে।’

এই বিশেষজ্ঞ গবেষক বলছেন, ‘করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে সরকারের উদ্যোগে একটি ল্যাব স্থাপন করে করোনার ধরন, উপসর্গ ও আক্রান্তের অবস্থা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন গবেষণার দরকার ছিল। তাহলে করোনাদের শারীরিক নানা সমস্যা ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে একটি ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব হতো। কেন এবার স্বাদ-গন্ধ অটুট থাকছে তার কারণটাও বলা যেত। ডেল্টা থেকে কম শক্তিশালী ওমিক্রন- এমনটা অনেকেই বলছে। তবে এ বিষয়ে তেমন কোনো গবেষণা নেই।’

‘আপনি যে তথ্যের উল্লেখ করেছেন তা সঠিকভাবে জানতে হলে গবেষণায় বসতে হবে। বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া করোনা আক্রান্তদের উপসর্গ নিয়ে একটি গবেষণা করা গেলে বোঝা যেত কী কারণে বর্তমানে আক্রান্তদের অন্যান্য শারীরিক জটিলতা থাকলেও মুখের স্বাদ ও গন্ধ অটুট থাকছে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফজলে রাব্বী। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় ঢেউয়ের তুলনায় এবার করোনা আক্রান্ত রোগীদের অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ার প্রবণতা কম দেখা যাচ্ছে। অনেকে আক্রান্ত হওয়ার ৮-১০ দিনের মধ্যেই হাসাপাতালে আসছে। অক্সিজেনও কম প্রয়োজন হচ্ছে। তবে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। আর এসব রোগীর মধ্যে প্রধানত জ্বর, শুষ্ক কাশি, শরীর ব্যথার উপসর্গ বেশি দেখা যাচ্ছে।’

শেয়ার করুন

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

শাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে করা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেছে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। শাবি উপাচার্যের নির্দেশে এই ন্যক্কারজনক হামলা হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি ও উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে অনড় অবস্থানে থাকেন আন্দোলনকারীরা। অন্যদিকে, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে সেখানে ইন্ধন দিচ্ছে তৃতীয় পক্ষ।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে সোমবারও বিক্ষোভ হয়েছে দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ব্যানারে এতে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। শাবি উপাচার্যের নির্দেশে এই ন্যক্কারজনক হামলা হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি ও উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে অনড় অবস্থানে থাকেন আন্দোলনকারীরা।

অন্যদিকে, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে সেখানে ইন্ধন দিচ্ছে তৃতীয় পক্ষ।

নিজ বাসায় অবরুদ্ধ উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের জন্য সোমবার খাবার নিয়ে হাজির হন প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবীর।

ঢাবিতে মশাল মিছিল

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে করা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেছে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন।

সোমবার সন্ধ্যায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে এ মশাল মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি শাহবাগ, কাঁটাবন, নীলক্ষেত, রাজু ভাস্কর্য হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এসে শেষ হয়।

এর আগে বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন কয়েকটি ছাত্র সংগঠন নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক রেজোয়ানুল হক মুক্ত বলেন, শাবিপ্রবিতে বীরত্বপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে আমাদের সমর্থন আছে, শুধু সমর্থনই নয় সিলেটের আন্দোলন সারা দেশের ক্যাম্পাসগুলোতে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মুক্ত বলেন, আমরা মনে করি ছাত্ররা ভিসির পদত্যাগের দাবিতে যে আন্দোলন করছে তা ইতোমধ্যে নৈতিকভাবে সফল হয়েছে। কিন্তু মেরুদণ্ডহীন ভিসি এখনো পদত্যাগ করছেন না। তাই আমরা অবিলম্বে এই মেরুদণ্ডহীন ভিসিকে অপসারণ করার দাবি জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ তাদের প্রতি সমর্থন ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছে; তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করছে। কিন্তু এ দাবি বাস্তবায়নের কাজে যারা নিয়োজিত তারা হাসি তামাশা করছেন। ছাত্রদের এই ন্যায়সংগত দাবি কীভাবে ভূলুণ্ঠিত করা যায়, সেটা নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন তারা।

তিনি বলেন, ‘শাবিপ্রবির দুর্নীতি ও হামলাবাজ উপাচার্যের এখনই পদত্যাগ দাবি করছি। যারা উপাচার্যের পক্ষে কথা বলবে তারা তার দালাল, ফ্যাসিবাদের দালাল, অগণতান্ত্রিকতার দালাল।’

ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন, ‘একটা স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ঢুকার কথা না থাকলেও কিন্তু শাবিতে পুলিশ প্রবেশ করেছে। এর আগেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের আন্দোলন হয়েছে; উপাচার্যরা তালাবদ্ধ হয়েছেন কিন্তু পুলিশ আসেনি, লাঠিচার্জ হয়নি। কিন্তু এবার তা হয়েছে। আমরা এই হামলাবাজ উপাচার্যের পদত্যাগ চাই।’

তিনি বলেন, ‘শাবিপ্রবির ছাত্রদের সমর্থনে আমাদের ধারাবাহিক আন্দোলন যেমন চলছে সামনের দিনেও ছাত্রদের যে কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রগতিশীল সংগঠন তাদের পাশে থাকবে।’

রাফিকুজ্জামান ফরিদের সঞ্চালনায় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সুনয়ন চাকমা বিক্ষোভ সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক দীপক রায়, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সহ সভাপতি জহরলাল রায়, বাংলাদেশ ছাত্র কাউন্সিল এর সহসভাপতি সায়েদুল হক নিশান,সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুহায়েল আহমেদ শুভ ও বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সোহবত শোভন।

রাষ্ট্রপতির কাছে খোলা চিঠি

উপাচার্য পদে থাকার জন্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের নৈতিক অধিকার নেই উল্লেখ করে খোলা চিঠিতে বলা হয়, ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে এহেন বর্বর হামলায় মদদ দেয়ার পর অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের উপাচার্য হিসেবে থাকার আর কোন নৈতিক অধিকার নেই বলে আমরা মনে করি।’

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট।

সোমবার দুপুরে খোলা চিঠি জমা দিতে জোটের তিন প্রতিনিধি রাষ্ট্রপতির সরকারী বাসভবনে যান।

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

এই প্রতিনিধিরা হলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সোহাইল আহমেদ শুভ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আরফাত সাদ এবং ছাত্র ইউনিয়নের সহসাধারণ সম্পাদক মাহির শাহরিয়ার রেজা।

এর আগে জোটের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে তাদের বিক্ষোভ শুরু হয়।

বিক্ষোভ শেষে জোটের সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের প্রতীকী অনশন কর্মসূচি চলাকালীন এ খোলা চিঠি পাঠ করেন।

চিঠিতে শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুত্রপাত এবং আন্দোলনের বর্তমান অবস্থার সার্বিক দিক তুলে ধরা হয়।

রাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্ত্বরে দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। এসময় তারা, শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরে, প্রশাসন চুপ কেনো, শাবিপ্রবি নির্লজ্জ ভিসির অপসারন চাই, শিক্ষার্থীরা এক হও, অধিকার আদায় করো- সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাব্বত হোসেন মিলনের সঞ্চালনায় শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ জীবন্ত লাশ হয়ে বেঁচে আছে। ক্যম্পাসের স্বৈরাচারী কাঠামো ভাঙতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন নারী বিদ্বেষী, দালাল, স্বজনপ্রীতি, রক্ত পিপাসু হামলাকারী ভিসিকে শিক্ষার্থীরা আর চায় না। এমন ভিসির ক্যাম্পাসে জায়গা হবে না। শুধু পদত্যাগ নয়, এমন নজির রাখতে হবে যেনো সারাজীবন এটি শিক্ষনীয় হয়ে থাকে।’

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সমন্বয়ক আব্দুর মজিদ অন্তর বলেন, ‘আজ প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে তাকালে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত অবহেলার শিকার হচ্ছে, নির্যাতিত হচ্ছে, শিক্ষকদের দ্বারা লাঞ্চিত হচ্ছে, প্রশাসন কর্তৃক মারধরের শিকার হচ্ছে, মামলা হামলার শিকার হচ্ছে। যে শিক্ষার্থীদেরকে কেন্দ্র করে জাতি গঠনের স্বপ্ন দেখা হয়, আজকে সেই শিক্ষার্থীদেরকে মেরুদ-হীন করার জন্য একের পর নির্যাতন চালানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ওপর।

‘শিক্ষার্থী সমাজের বিরুদ্ধে লেগে জাতি কখনোই ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারেনি। শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে সকল সমস্যার সমাধান করুন। নির্লজ্জ বেহায়া ভিসিকে অপসারণ করুন।’

এসময় অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দাবি তোলেন।

দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে শাবিপ্রবির স্বৈরাচারী ভিসিকে অপসারণ করতে হবে, তিনি যেভাবে নির্লজ্জভাবে হামলা চালিয়েছে শিক্ষার্থীদের ওপর এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা বানোয়াট মামলা দেয়া হয়েছে সে মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, একই সঙ্গে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র প্রতিনিধি নিশ্চিত করার জন্য ছাত্র সংসদ চালু করতে হবে, পূর্নাঙ্গভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সকল প্রতিনিধি নিশ্চিত করে সিনেট কার্যকর করতে হবে। যদি এর কোন সুরাহা না করা হয়, তাহলে আরো কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন অবস্থানরত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচি আরও বক্তব্য দেন আমানউল্লাহ আমান, নাঈম, রাকিব, সাকলাইন গৌরব ও মেহেদী হাসান মুন্না।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মশাল মিছিল

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত‌্যাগের দাবিতে বরিশালে মশাল মিছিল করেছে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সোমবার সন্ধ‌্যার পর নগরীতে এই মিছিল করা হয়।

নাজির মহল্লা এলাকা থেকে মশাল মিছিলটি শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ইউনিয়ন বিএম কলেজ শাখার সভাপতি কিশোর কুমার বালা, ছাত্র ফেডারেশনের জেলা সভাপতি মো. জাবের, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল জেলা সংগঠক হুজাইফা রহমান, রাকিব মাহামুদ, বরিশাল বিশ্ববিদ‌্যালয় শাখার আহবায়ক সুজয় শুভ, কবি ছোটন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ও সুমাইয়া আরেফিন।

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

মশাল মিছিলে শাবিপ্রবি ভিসি বিরোধী নানা শ্লোগান দেয় নেতাকর্মীরা।

মিছিল শেষে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল বরিশাল বিশ্ববিদ‌্যালয় শাখার আহ্বায়ক সুজয় শুভ বলেন, ‘শাবিপ্রবির ভিসিকে অবিলম্বে পদত‌্যাগ করতে হবে এবং নারীদের নিয়ে উনি যে উক্তি করেছেন সে কারণে তাকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা রেখে আমরাও কঠোর আন্দোলনে যাবো প্রয়োজন হলে।’

শাবিতে তৃতীয় পক্ষের ফায়দা হাসিলের চেষ্টা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বলছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বাইরে তৃতীয় একটি পক্ষ শাবির আন্দোলনে ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে যে ধরনের তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপিত হয়েছে, তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বাইরে তৃতীয় একটি পক্ষ এই আন্দোলনে ফায়দা হাসিল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে সেখানে ইন্ধন দিচ্ছে তৃতীয় পক্ষ।

সমিতি বলছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বাইরে তৃতীয় একটি পক্ষ এই আন্দোলনে ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

একটি বিশেষ মহল এই আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপান্তরের অপচেষ্টা করছে বলেও প্রতীয়মান হয়েছে দাবি শিক্ষক সমিতির।

সোমবার বিকেলে ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমতউল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৩ জানুয়ারি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের বিভিন্ন ইস্যুতে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রীরা আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলন চলাকালে পুলিশের বলপ্রয়োগের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ওই হলের প্রভোস্ট পদত্যাগ করেন। আন্দোলনকে পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের মূল দাবি পূরণ হওয়া সত্ত্বেও উপাচার্যের পদত্যাগের আন্দোলনে রূপ নেয়।

আন্দোলনের এই রূপান্তরের বিষয়টি অত্যন্ত অনভিপ্রেত এবং উদ্বেগের দাবি করে এটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করে শিক্ষক সমিতি।

উপাচার্যের বাসার পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা অমানবিক উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল আন্দোলনকারীরা হঠাৎ করেই উপাচার্যের বাসার পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে, যা অমানবিক এবং শিক্ষাঙ্গনের আন্দোলনে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত মাত্রা যুক্ত করেছে।

শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেকোনো সমস্যা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই বাঞ্ছনীয়।

প্রেক্ষাপট

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার আন্দোলনের চতুর্থ দিনে এসে তা সহিংসতায় রূপ নেয়।

এদিন বিকেলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করলে সন্ধ্যায় অ্যাকশনে যায় পুলিশ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ক্যাম্পাস। লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছুড়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সন্ধ্যার পর থেকে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে অবস্থা নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের অভিযোগ, ভিসির নির্দেশেই পুলিশ হামলা ও গুলি চালিয়েছে।

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

এই বিক্ষোভের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও হল ছাড়ার নির্দেশনা আসে। এরপর উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে রোববার রাত থেকেই আন্দোলন শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।

এ সময় বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরাও এসে যোগ দেন এই বিক্ষোভে। তারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

বিকল্প বিদ্যুতে রাত পার শাবি উপাচার্যের

আন্দোলনের একপর্যায়ে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বাসভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও খুব বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে। বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থায় রোববার রাত পার করেছেন তিনি।

তবে ১৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও উপাচার্য ভবনে কারো যাতায়াত লক্ষ করা যায়নি। বিদ্যুৎ-পানির সমস্যার কথা জানিয়ে উপাচার্যের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়াও আসেনি।

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

বিদ্যুৎ-পানিবিহীন রাত কেমন কেটেছে তা জানতে সোমবার সকালে উপাচার্যের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি।

শেয়ার করুন

প্রযুক্তির সবুজ রূপান্তরে টেলিনরের ৫ পূর্বাভাস

প্রযুক্তির সবুজ রূপান্তরে টেলিনরের ৫ পূর্বাভাস

রাজধানীর বারিধারায় জিপি হাউজে সোমবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলোচক ও অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা

টেলিনর বলছে- দ্রুতই গ্রিন ক্লাউডের ব্যাপক প্রসার ঘটবে, জলবায়ু বিষয়ে মাইক্রো ডিগ্রির চাহিদা বাড়বে, সবকিছুর অপটিমাইজেশন বা সর্বোত্তম ব্যবহার গুরুত্ব পাবে, সবুজায়ন বিষয়ে আন্দোলন বা গ্রিন-ইনফ্লুয়েন্সার কর্মকাণ্ড বাড়বে এবং ‘লস্ট জেনারেশন’ বা পরবর্তী প্রজন্মের উপযোগী অফিস ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে। আর কোম্পানিগুলো এই খাতে বড় অংকের বিনিয়োগ করবে।

প্রযুক্তি ও ডিজিটালাইজেশনে গ্রিন ট্রান্সফরমেশনকে (সবুজ রূপান্তর) সক্ষম করে তুলতে পাঁচটি ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির পূর্বাভাস দিয়েছে টেলিনর। আগামী দিনের প্রযুক্তি খাতে পরিবর্তন নিয়ে টেলিনরের ‘টেক ট্রেন্ডস ২০২২’ প্রতিবেদনে এসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

রাজধানীর বারিধারায় জিপি হাউজে সোমবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে টেলিনরের গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফল প্রকাশ করে গ্রামীণফোন। টেলিনর গ্রুপের সায়েন্টিফিক রিসার্চ ইউনিট ‘টেলিনর রিসার্চ’ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণালব্ধ এসব পূর্বাভাস দিয়েছে।

টেলিনর বলছে- দ্রুতই গ্রিন ক্লাউডের ব্যাপক প্রসার ঘটবে, জলবায়ু বিষয়ে মাইক্রো ডিগ্রির চাহিদা বাড়বে, সবকিছুর অপটিমাইজেশন বা সর্বোত্তম ব্যবহার গুরুত্ব পাবে, সবুজায়ন বিষয়ে আন্দোলন বা গ্রিন-ইনফ্লুয়েন্সার কর্মকাণ্ড বাড়বে এবং ‘লস্ট জেনারেশন’ বা পরবর্তী প্রজন্মের উপযোগী অফিস ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে। আর কোম্পানিগুলো এই খাতে বড় অংকের বিনিয়োগ করবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী ইয়াসির আজমান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মহাপরিচালক (সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ; বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর, বেলা’র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

টেলিনরের পূর্বাভাস তুলে ধরে টেলিনর রিসার্চের প্রধান বিওন তালে স্যান্ডবার্গ ভার্চুয়ালি মূল বক্তব্য দেন। তিনি বলেন- নতুন যুগের উন্নত কানেক্টিভিটি, জলবায়ু-বান্ধব শক্তি-সাশ্রয়ী আধুনিক হার্ডওয়্যার, এজ ক্লাউড ও ফাইভ-জি প্রযুক্তি আরো পরিবেশ-বান্ধব হবে। তা প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রিন জব স্কিলসের চাহিদা এবং ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্মগুলোর ক্লাইমেট মাইক্রো ডিগ্রি দেয়ার বিষয়গুলোকে বাড়িয়ে তুলবে।

একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শক্তি-সাশ্রয়ী ও পরিবেশ-বান্ধব ডিভাইস তৈরির প্রবণতা ও প্রতিযোগিতা বাড়বে। তরুণদের মাঝে সামাজিক মাধ্যমে জলবায়ু সচেতন ইনফ্লুয়েন্সারের সংখ্যা ও জনপ্রিয়তা বাড়বে। কারণ, সম্ভাব্য ঝুঁকি প্রশমনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও জলবায়ু বিষয়ক সচেতন ব্যক্তিদের প্রত্যাশা পূরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ।

আগামী প্রজন্মের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে ‘গ্রেট রেসিগনেশন’-এর সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানো এবং বৈশ্বিক মহামারি শেষে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে এ ঝুঁকি এড়িয়ে যেতে পারবে, তা নিয়ে প্রতিবেদনে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

‘সার্ভার ও অ্যাপ্লিকেশন ভিত্তিক কোনো কিছুর ডিজাইন করার সময় সবুজায়নের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। একইসঙ্গে ব্যবহারকারীরা তাদের দৈনন্দিন জীবনে কিভাবে এগুলোর প্রয়োগ ঘটাতে পারে তা নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ বিষয়গুলোকে মূল পাঠ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প-বিপ্লবের প্রযুক্তি অনুসারে আমরা সারা দেশে আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ল্যাব এবং ডিজিটাল লিডারশিপ অ্যাকাডেমিসহ অনেক ডিজিটাল অবকাঠামো ও সেবা চালু করেছি। এছাড়াও তরুণদের জন্য, বিশেষ করে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি নির্মাণ করা হচ্ছে।’

ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো নানামুখী ক্ষতির মুখে পড়ছে। পরিবেশ-বান্ধব পদক্ষেপের মাধ্যমে এ পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। জলবায়ু পরিবর্তনে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ট্রেনিং সেন্টারকে ক্লাইমেট মাইক্রো ডিগ্রি ও কোর্সের ব্যাপারে নজর দিতে হবে। কীভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে জলবায়ু সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে কাজ করা যায় কোর্সগুলোর মাধ্যমে মানুষ তা শিখতে পারবে।’

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ তার বক্তব্যে চারটি বিষয়ে আলোকপাত করেন। বিষয়গুলো হলো- জ্বালানি সাশ্রয়, সাইট লেভেল ইনোভেশন, আরএএন (রেডিও অ্যাকসেস নেটওয়ার্ক) ও নেটওয়ার্ক ইক্যুইপমেন্ট ইনোভেশন এবং উন্নত নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা ও অপটিমাইজেশন।

তিনি বলেন, ‘টেক ট্রেন্ডস থেকে প্রাপ্ত ফল নিয়ে কাজ করতে কিংবা এগুলোর বিকাশে কীভাবে একসঙ্গে কাজ করা যায় তা নিয়ে কৌশল খুঁজে বের করতে হবে। আমরা ফাইভ-জি নীতিমালা নিয়ে কাজ করছি। অপারেটরদের পরামর্শও নিচ্ছি।’

কামাল কাদীর বলেন, ‘সার্ভার ও অ্যাপ্লিকেশন ভিত্তিক কোনো কিছুর ডিজাইন করার সময় সবুজায়নের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। একইসঙ্গে ব্যবহারকারীরা তাদের দৈনন্দিন জীবনে কিভাবে এগুলোর প্রয়োগ ঘটাতে পারে তা নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ বিষয়গুলোকে মূল পাঠ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘ই-বর্জ্য পরিবেশের ক্ষতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ঝুঁকি ও করণীয় সম্পর্কে মানুষ সঠিকভাবে জানে না। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন ডিজাইন বাজারে আনার চেয়ে পরিবেশ রক্ষায় পণ্যের স্থায়িত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। নেটওয়ার্ক টাওয়ারের বিকিরণ যাতে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ না হয় সে ব্যাপারে টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচেতন হতে হবে।’

ইয়াসির আজমান বলেন, ‘চরম জলবায়ুজনিত বিভিন্ন সমস্যা আমাদের টেকসই অর্থনীতির লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত করছে। এখন আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, জলবায়ু-বান্ধব কৌশল গ্রহণ করা, যা সবুজে রূপান্তরের মাধ্যমে ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত রাখবে।

‘এ বছর প্রযুক্তি সংক্রান্ত অনুমান দেখিয়েছে, কিভাবে প্রযুক্তি ও ডিজিটালাইজেশন ডেটা স্থানান্তরকে আরো দক্ষ, সহজ এবং ডিভাইসগুলোকে আরও পরিবেশবান্ধব ও অপটিমাইজ করে তুলবে। একইসঙ্গে ডিজিটাল মাইক্রো ডিগ্রি ও গ্রিন ইনফ্লুয়েন্সারগুলোর মাধ্যমে জলবায়ুতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। ভাল নেতৃত্বের অনুশীলনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে পরবর্তী প্রজন্মের কর্মীরা তাদের কর্মক্ষেত্রে উন্নতি লাভ করতে পারে।’

শেয়ার করুন