‘হল না খুলে পরীক্ষা গ্রহণযোগ্য নয়’

‘হল না খুলে পরীক্ষা গ্রহণযোগ্য নয়’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হল। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ বলেন, ‘হল না খুলে পরীক্ষা নেয়া হলে অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হবে। অধিক শিক্ষার্থীকে বঞ্চিত করে অনুল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিশ্চিত করার পক্ষে আমি নই। নাগরিক সমাজের কাছেও এটি গ্রহণযোগ্য হবে না।’

আবাসিক হল বন্ধ রেখে সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ। তিনি বলেন, হল না খুলে পরীক্ষা নেয়া হলে অনেক ছেলে-মেয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে না। তারা পিছিয়ে পড়বে। এটি গ্রহণযোগ্য হবে না।

করোনার কারণে স্থগিত পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিষদের (অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল) নেয়া সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে নিউজবাংলাকে এ সব কথা বলেন তিনি।

আবাসিক হল বন্ধ রেখে ১ জুলাই থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের চূড়ান্ত পরীক্ষা সশরীরে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি হলে একই তারিখ থেকে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সামাদ বলেন, ‘হল না খুলে পরীক্ষা নেয়া হলে অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হবে। অধিক শিক্ষার্থীকে বঞ্চিত করে অনুল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিশ্চিত করার পক্ষে আমি নই। নাগরিক সমাজের কাছেও এটি গ্রহণযোগ্য হবে না।’

‘হল না খুলে পরীক্ষা গ্রহণযোগ্য নয়’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ

অনলাইন পরীক্ষারও সমালোচনা করেন মুহাম্মদ সামাদ। বলেন, ‘অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার মতো সামর্থ্য কোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই। মোবাইলে অনলাইন পরীক্ষা দেয়া এবং গুগল ক্লাস রুম বোঝা শিক্ষার্থীদের পক্ষে সম্ভব না। এগুলোর জন্য কম্পিউটার দরকার। আমিও গরিব ঘরের ছেলে। আমার মতো অনেক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। তাদের এই মুহূর্তে ডাটা বা কম্পিউটার কেনার সামর্থ্য নেই। তাদের মা-বাবা এই সাপোর্ট দিতে পারবে না।’

উপ উপাচার্য সামাদের মতে, অনলাইন পরীক্ষা প্রতারণার শামিল। অনেক বয়স্ক শিক্ষকের প্রযুক্তি জ্ঞানও খুব বেশি নেই। তাদের অনেকেই এসব কার্যক্রম বুঝবে না। এগুলোর জন্য শিক্ষকদেরও অরিয়েন্টেশন দরকার। এটি দীর্ঘ মেয়াদে করতে হবে৷

শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় এনে হল খোলার পরই পরীক্ষা নেয়া উচিত উল্লেখ করে সামাদ বলেন, ‘টিকার আওতায় এনে হল খুলতে প্রধানমন্ত্রীর যে সিদ্ধান্ত সেটিকে আমি স্বাগত জানাই। শিক্ষার্থীদের দুই ডোজ টিকার আওতায় এনে হল খুলে তারপর পরীক্ষা নেয়া উচিত। সকল শিক্ষার্থীর জন্য এটিই মঙ্গল হবে।’

আরও পড়ুন:
১ জুলাই থেকে ঢাবিতে সশরীরে পরীক্ষা
সশরীরে পরীক্ষা নিতে ঢাবি উপাচার্যকে স্মারকলিপি
ঢাবি প্রযুক্তি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা ২০ আগস্ট
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আন্দোলনে সংহতি ঢাবি শিক্ষকদের 
শিক্ষার্থীরা চাইলে সশরীরে পরীক্ষা: ঢাবি উপাচার্য

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এনআইডি ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্মনিবন্ধন চেয়েছে জবি

এনআইডি ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্মনিবন্ধন চেয়েছে জবি

যেসব শিক্ষার্থীর এনআইডি নেই তাদের জন্মনিবন্ধন নম্বর দিতে বলা হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিজদের স্টুডেন্ট পোর্টালে লগইন করে নির্ধারিত ফিল্ডে তথ্য ইনপুট দিতে হবে।  

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেয়া সাপেক্ষে শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, এমন শিক্ষার্থীদের করোনা টিকা দিতে জন্মনিবন্ধন নম্বর দিতে বলা হয়েছে।

এজন্য ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিজদের স্টুডেন্ট পোর্টালে লগইন করে নির্ধারিত ফিল্ডে তথ্য ইনপুট দিতে হবে।

শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান।

এতে বলা হয়েছে, পরে শিক্ষার্থীদের জন্ম নিবন্ধনের তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে www.surokkha.gov.bd ওয়েবসাইটে যুক্ত করে তাদেরকে একই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টিকা নেয়ার জন্য নিবন্ধন করতে হবে।

এছাড়া যেসব শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র আছে তাদের সরাসরি www.surokkha.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে টিকা নিতে নিবন্ধন করে করোনাভাইরাস টিকা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস টিকা নেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

৩ জুন প্রথম ধাপে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এবং এমফিল ও পিএইচডি গবেষকদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনতে প্রজ্ঞাপন জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ১০ জুন পর্যন্ত চলা এ রেজিস্ট্রেশনে মোট ৯ হাজার ৪৫৪ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। দ্রুত টিকা প্রাপ্তির লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের এ তালিকা ইউজিসি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ১৮ আগস্ট থেকে ২৩ আগস্টের মধ্যে শিক্ষার্থীদের এনআইডির তথ্য চায় বিশ্ববিদ্যালয়। তবে তখন সুরক্ষা ওয়েবসাইটে ১৮ বা তদূর্ধ্ব শিক্ষার্থীদের টিকার আবেদন শুরু হওয়ায় এ রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়ার আর প্রয়োজন পড়েনি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন বিভিন্ন অনুষদ, ইনস্টিটিউট, এম. ফিল. ও পিএইচডি শিক্ষার্থীর সংখ্যা মোট ১৪ হাজার ৫৬৫ জন।

আরও পড়ুন:
১ জুলাই থেকে ঢাবিতে সশরীরে পরীক্ষা
সশরীরে পরীক্ষা নিতে ঢাবি উপাচার্যকে স্মারকলিপি
ঢাবি প্রযুক্তি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা ২০ আগস্ট
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আন্দোলনে সংহতি ঢাবি শিক্ষকদের 
শিক্ষার্থীরা চাইলে সশরীরে পরীক্ষা: ঢাবি উপাচার্য

শেয়ার করুন

ঢাবি সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে পেছাচ্ছে সশরীরে ক্লাস

ঢাবি সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে পেছাচ্ছে সশরীরে ক্লাস

স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার পর শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে হলে সব শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া থাকতে হবে-এমন নয়। কেবল নিবন্ধন করাই যথেষ্ট। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সবাইকে টিকা দিয়ে পরে ক্লাস শুরু করবে তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে সহসাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা উবে যাচ্ছে।

সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সব শিক্ষার্থীর টিকা নেয়া শেষ হলেই কেবল তারা সশরীরে ক্লাস নেবে।

এমন সিদ্ধান্ত সরকারের আগেই ছিল। কিন্তু সবাইকে টিকা কবে দেয়া যাবে, এ নিয়ে প্রশ্নের মধ্যে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, সবাইকে টিকা দিয়ে পরে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা জরুরি নয়। টিকার জন্য সবার নিবন্ধন শেষেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই টিকাকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

করোনার প্রাদুর্ভাবে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বন্ধ হয়ে যাওয়া শিক্ষাঙ্গনে প্রাণ ফিরতে শুরু করে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে। সেদিন স্কুল ও কলেজে সশরীকে ক্লাস শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবি আরও আগে থেকে জানিয়ে আসছিল শিক্ষার্থীরা। স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার পর সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও সচল হয়ে উঠার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

এরই মধ্যে চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য হল খুলে দেয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ৫ অক্টোবর থেকেই খুলবে ছাত্রবাসের বন্ধ দুয়ার।

তবে হলে উঠতে হলে শিক্ষার্থীদের সবাইকে অন্তত প্রথম ডোজের টিকা নিশ্চিত করতে হবে।

শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সিন্ডিকেটের জরুরি এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।

তবে এই সভাতেই অন্য একটি সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর সময় পিছিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সিদ্ধান্তটি হলো, ‘শতভাগ শিক্ষার্থী টিকা কার্যক্রমের আওতায় আসার পরই সশরীরে শ্রেণি কার্যক্রমের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।’

ঢাবি সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে পেছাচ্ছে সশরীরে ক্লাস

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে টিকার আওতায় আনতে আলাদা নিবন্ধন করা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের উদ্যোগে। তবে কত শতাংশকে টিকার আওতায় আনা গেছে, সে বিষয়ে কোনো সুষ্পষ্ট ধারণা নেই। তবে নিবন্ধন করার এক থেকে দেড় মাসেও টিকার এসএমএস আসছে না। তাই টিকা দেয়া হবে শেষ হবে, সেটি নিশ্চিত করে বলা খুবই কঠিন।

আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের নানাপ্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকেন। সব জায়গায় যে টিকা কার্যক্রম চলছে এমনটিও না।

শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার বিপরীতে গিয়ে সবাইকে টিকা দিয়ে কেন ক্লাস শুরুর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন- এমন প্রশ্নে সিন্ডিকেট সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যই টিকার কথা আমরা বলেছি। এই টিকা দেয়ার জন্য আমাদের মেডিক্যাল সেন্টারে টিকার বুথ বসানো হবে।

‘আমাদের যেসব শিক্ষার্থী টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করার পরও এসএমএস পাচ্ছে না, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বুথে রেজিস্ট্রেশন করে টিকা গ্রহণ করতে পারবে। আর যেসব শিক্ষার্থীদের এনআইডি নেই তাদের জন্য তো বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশন একটা অ্যাপস তৈরি করেছেই। আশা করি এই টিকা কার্যক্রম দ্রুত হয়ে যাবে। ফলে সকল শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনা, সকলের জন্য হল খোলা এবং সশরীরে ক্লাস শুরু বিলম্ব হবে না।’

উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান জরুরি এই সিন্ডিকেট সভায় সভাপতিত্ব করেন। প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি ও একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী নানা সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বৈঠকে।

এতে নেয়া অন্য একটি সিদ্ধান্ত হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার এবং বিভাগ ও ইনিস্টিউটের সেমিনার লাইব্রেরিগুলো ২৬ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হবে।

ঢাবি সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে পেছাচ্ছে সশরীরে ক্লাস
ক্যাম্পাস ও হল খুলে দেয়ার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: নিউজবাংলা

সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অনার্স চতুর্থ বর্ষ এবং মাস্টার্স-এর যেসকল শিক্ষার্থী অন্তত ‘কোভিড-১৯'-এর প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছে, তারা স্বাস্থ্যবিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রণিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর অনুসরণ করে টিকা গ্রহণের কার্ড বা সনদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ পরিচয়পত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেখিয়ে গ্রন্থাগার ব্যবহার ও নিজ নিজ হলে উঠতে পারবে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, বিজ্ঞান গ্রন্থাগার ও বিভাগীয় এবং ইনস্টিটিউটের সেমিনার লাইব্রেরিসমূহ ব্যবহার করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট আবাসিক শিক্ষার্থীরা ৫ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে নিজ নিজ হলে উঠতে পারবে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদেরও টিকা গ্রহণের সনদ বা প্রমাণপত্র সঙ্গে রাখতে হবে।’

সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবনের দৃশ্যমান জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের নির্দেশিকা সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুনও থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘টিকা গ্রহণ সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে অনার্স ১ম, ২য় ও ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য নিজ নিজ আবাসিক হল খুলে দেয়া হবে। আবাসিক হলগুলোতে আগের মতো ঠাসাঠাসি করে বসবাস করা এবং কথিত কোন ‘গণরুম' রাখা যাবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধুমাত্র নিয়মিত আবাসিক শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান করবে।’

এতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিক্যাল সেন্টারে টিকা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী এখনও টিকার নিবন্ধন করেনি, তাদেরকে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়ে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন করে টিকা নিতে জন্য বলা হয়েছে।

সভায় হল ও ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করা হয়।

আরও পড়ুন:
১ জুলাই থেকে ঢাবিতে সশরীরে পরীক্ষা
সশরীরে পরীক্ষা নিতে ঢাবি উপাচার্যকে স্মারকলিপি
ঢাবি প্রযুক্তি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা ২০ আগস্ট
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আন্দোলনে সংহতি ঢাবি শিক্ষকদের 
শিক্ষার্থীরা চাইলে সশরীরে পরীক্ষা: ঢাবি উপাচার্য

শেয়ার করুন

বাসার খোঁজে মরিয়া জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা

বাসার খোঁজে মরিয়া জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা

ক্যাম্পাসজুড়ে বাসা ভাড়ার অসংখ্য লিফলেট দেখা গেলেও বাসা খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

৭ অক্টোবর থেকে বিভিন্ন বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। ঘোষণার পরপরই শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন। কিন্তু একটি যুতসই বাসা খুঁজে পাওয়া এখন তাদের নতুন চ্যালেঞ্জ।

ছেলেদের কোনো হল না থাকায় এবং মেয়েদের একমাত্র হলটি চালু না হওয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন বিপদে। পরীক্ষার জন্য ঢাকায় এসে ক্যাম্পাসের আশপাশে হন্যে হয়ে বাসা খুঁজে বেড়াচ্ছেন সবাই।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখে। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই ঢাকার মেস ছেড়ে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, সাধারণত প্রতি বছর নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির পর পুরান ঢাকায় বাসা ভাড়ার একটা চাপ পড়ে। তবে এবার সব বর্ষের শিক্ষার্থী হন্যে হয়ে বাসা খোঁজায় সেই চাপ কয়েক গুন বেড়েছে। সুযোগ বুঝে বেশি টাকা ভাড়া দাবি করছেন বাড়িওয়ালারাও। এ ছাড়া মানসম্মত বাসা, পড়ার পরিবেশ আছে এমন বাসা খুঁজে পেতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বাসা খুঁজে বেড়ানো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আবু রায়হান বলেন, ‘করোনার সময় বাসা ছেড়েছিলাম। ভেবেছিলাম ক্যাম্পাস খুললে এসে বাসা নেব। কিন্তু এখন এসে কোনো বাসায়ই সিট পাচ্ছি না। সব পূরণ হয়ে গেছে। বাসা খুঁজতে খুঁজতে আমি ক্লান্ত। সামনে আবার পরীক্ষা!’

গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর বলেন, ‘সবাই একসঙ্গে ঢাকায় আসায় বাড়িওয়ালারা আগের তুলনায় বেশি ভাড়া চাইছে। জামানতও বেশি দাবি করছে৷ করোনায় আমাদের আর্থিক অবস্থাও খারাপ। তাই কোনো কিছুই হিসাবে মিলছেনা।’

গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রী ফারজানা বলেন, ‘মেয়েদের বাসা খুঁজে পাওয়া অনেকটাই মুশকিল হয়ে গেছে। এই কঠিন সময়েও হলটি খুলে দিচ্ছে না। হল খুলে দিলে আমাদের আবাসন সঙ্কট অনেকটাই কেটে যেত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী তিথি। পরীক্ষার রুটিন পেয়ে গাইবান্ধা থেকে সম্প্রতি ঢাকায় এসেছেন। টানা পাঁচ দিন পুরান ঢাকার অলি গলি ঘুরেও কোনো বাসা না পেয়ে বাধ্য হয়ে ফার্মগেটের একটি মেসে সিট নিয়েছেন।

তামজিদ ইমরান অর্নব নামে এক জবি শিক্ষার্থী মনে করেন, ছাত্রী হল চালু হলে ৮০-১০০টি বাসা ফাঁকা হয়ে যাবে। তখন বাসার চাহিদা কমে গেলে বাজেট অনুযায়ী ভাল একটা বাসা পেতে সুবিধা হবে ছেলেদের।

বাসা খুঁজে হয়রান শিক্ষার্থীরা বাসা খুঁজে বেড়াচ্ছেন অনলাইনেও। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি গ্রুপে অনেকেই সমাধান খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

এদিকে, ক্যাম্পাস খুলবে এই আশায় বাসা ছাড়েনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রুকাইয়া মিমি। তাই করোনার সময় বাড়িতে থেকেও প্রতি মাসে ১৭০০ টাকা করে ভাড়া গুনতে হয়েছে তাকে। এ ছাড়া মাসে মাসে ভাড়া পরিশোধ করেও ফিরে এসে নিজেদের জিনিসপত্র খুঁজে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন কিছু শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি প্রক্টর স্যারের সাথে আগামীকাল বসবো। আমরা আলোচনা করে দেখি বাড়িওয়ালাদের সাথে কথা বলে বাড়তি ভাড়া আর এডভান্সের ব্যাপারটার সমাধান করা যায় কিনা। এর আগেও প্রক্টর স্যার এমন সমস্যার সমাধান করেছিলেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা বাড়িওয়ালাদের অনুরোধ করবো যেন ভাড়াটা পূর্বে যেরকম ছিলো সেইরকমই রাখে। আর অ্যাডভান্স শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যেন বেশি না নেয়।’

এ ছাড়াও বাসাভাড়া নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা ছাত্রকল্যাণ পরিচালককে জানাতে বলেন তিনি।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে জানিয়েছিলেন, শিক্ষার্থীদের যেনো মেস বাসা খুঁজতে সমস্যা না হয়, সেজন্য পরীক্ষার আগে চার সপ্তাহ সময় দেয়া হবে। সে অনুযায়ীই গত ৭ সেপ্টেম্বর আগামী ৭ অক্টোবর থেকে সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
১ জুলাই থেকে ঢাবিতে সশরীরে পরীক্ষা
সশরীরে পরীক্ষা নিতে ঢাবি উপাচার্যকে স্মারকলিপি
ঢাবি প্রযুক্তি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা ২০ আগস্ট
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আন্দোলনে সংহতি ঢাবি শিক্ষকদের 
শিক্ষার্থীরা চাইলে সশরীরে পরীক্ষা: ঢাবি উপাচার্য

শেয়ার করুন

শিক্ষা দিবস: শহীদদের দাবি আজও অধরা

শিক্ষা দিবস: শহীদদের দাবি আজও অধরা

শিক্ষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রগতিশীল ৮টি ছাত্র সংগঠন আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন ছাত্রনেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডোপ টেস্টের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে কতজন দালাল আছে সে পরীক্ষাও চালানো হোক। ইতোমধ্যে সরকার খবর পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় খুললে আন্দোলন-সংগ্রামে হতে পারে। আমরা বলতে চাই বিশ্ববিদ্যালয় খুললেও আন্দোলন চলবে, বন্ধ থাকলেও চলবে। যতদিন গণতান্ত্রিক ও সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা পাবে না, তত দিন আন্দোলন চলবে।’

১৯৬২ সালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যেসব ছাত্ররা শহীদ হয়েছিলেন তাদের দাবি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা।

শুক্রবার শিক্ষা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। প্রগতিশীল ৮টি ছাত্র সংগঠন এ ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করেন।

গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ও সার্বজনীন শিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা রক্ত দিলেও আজও আমরা সেই অধিকার পাইনি। মহান শিক্ষা দিবসের শহীদরা চেয়েছিলেন এমন শিক্ষা পদ্ধতি, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মানবিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে মানুষ হয়ে ওঠবে। কিন্তু আমাদের বর্তমান শিক্ষানীতি তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেয়া শরীফ কমিশনের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে ১৯৬২ সালের এই দিনে অনেক শিক্ষার্থী মারা যান। এরপর থেকেই এই দিনকে শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।

এই শরীফ কমিশনের প্রতিবেদনে উচ্চশিক্ষা ধনিক শ্রেণির জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসনের পরিবর্তে পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রস্তাব রাখা হয়। এমনকি কমিশন বাংলা বর্ণমালা সংস্কারেরও প্রস্তাব করে। শিক্ষার্থীরা এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেন।

শিক্ষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডোপ টেস্টের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে কতজন দালাল আছে সে পরীক্ষাও চালানো হোক। ঢাকা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দালালের কারখানা তৈরি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তরা সরকারের পা চেটে দায়িত্ব পেয়েছেন।’

এই ছাত্রনেতা আরও বলেন, ইতোমধ্যে সরকার খবর পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় খুললে আন্দোলন-সংগ্রামে হতে পারে। আমরা বলতে চাই বিশ্ববিদ্যালয় খুললেও আন্দোলন চলবে, বন্ধ থাকলেও চলবে। যতদিন গণতান্ত্রিক ও সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা পাবে না, তত দিন আন্দোলন চলবে।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদ) কেন্দ্রীয় সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কী হবে সেটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে এমন কথা ছিল। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে কী হবে তা নির্ধারণ করে দিচ্ছে সরকার ও শিক্ষামন্ত্রী। অথচ এই সরকার করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো দায়িত্বই নেয়নি, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো গবেষণা বা বরাদ্দ রাখেনি।’

মাসুদ রানা বলেন, জনগণের অজ্ঞতাই শাসকের শক্তি, এটা তারা জানে। তারা জানে জনগণ শিক্ষিত হলে প্রশ্ন করবে। আর তাই প্রশ্নহীন-আনুগত্যশীল একটি জাতি নতুন এই শিক্ষানীতির মাধ্যমে এই সরকার তৈরি করতে চায়।

গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি আরিফ মঈন উদ্দিন বলেন, শিক্ষা আন্দোলনের শহীদরা যে দাবিতে আন্দোলন করে গেছে সে দাবি আমরা আজও প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। আমরা দাবি করতে চাই সেপ্টেম্বরের মধ্যেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেয়া হোক এবং সেই লক্ষে পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

ছাত্র ইউনিয়নের বিদ্রোহী অংশের সহ-সভাপতি অনিক রায় বলেন, ‘শিক্ষা আন্দোলনের এতো বছর পরেও শিক্ষাকে বাণিজ্যকরণ অব্যহত রয়েছে। আর তাই সেই শিক্ষা আন্দোলনের মিছিল চলমান। যতদিন সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত না হচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণাগারে পরিণত না হচ্ছে, ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে।

সমাবেশে থেকে সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা পাঁচ দফা দাবিও উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো করোনাকালে সকল বেতন ফি মওকুফ, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার, এই বছর থেকেই পিএসি-জেএসসি বাতিল, করোনাকালে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ারোধে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা এবং শিক্ষার বাণিজ্যকরণ-বেসরকারিকরণ বন্ধ করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ ছাত্র কাউন্সিলের সহসভাপতি সায়েদুল হক নিশানের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সুবাশিষ চাকমা, বিল্পবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সভাপতি আতিফ অনিক, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায়।

আরও পড়ুন:
১ জুলাই থেকে ঢাবিতে সশরীরে পরীক্ষা
সশরীরে পরীক্ষা নিতে ঢাবি উপাচার্যকে স্মারকলিপি
ঢাবি প্রযুক্তি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা ২০ আগস্ট
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আন্দোলনে সংহতি ঢাবি শিক্ষকদের 
শিক্ষার্থীরা চাইলে সশরীরে পরীক্ষা: ঢাবি উপাচার্য

শেয়ার করুন

কলেজশিক্ষার্থীরা টিকা পাচ্ছে শিগগিরই

কলেজশিক্ষার্থীরা টিকা পাচ্ছে শিগগিরই

বরিশাল সরকারি কলেজে শুক্রবার রাতে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক। ছবি: নিউজবাংলা

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তবে আবারও যদি করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়, তবে অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা মূল্যায়ন করা হবে। আমরা কলেজশিক্ষার্থীদের করোনা টিকা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

শিগগিরই উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের করোনার টিকার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক।

বরিশাল সরকারি কলেজ মিলনায়তনে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি এবং অ্যাসাইনমেন্টবিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তবে আবারও যদি করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়, তবে অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা মূল্যায়ন করা হবে। আমরা কলেজশিক্ষার্থীদের করোনা টিকা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশাল অঞ্চল এ সভার আয়োজন করে। সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশালের পরিচালক প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন।

সভায় জেলা শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসেনসহ বরিশালের সব সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজাররা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
১ জুলাই থেকে ঢাবিতে সশরীরে পরীক্ষা
সশরীরে পরীক্ষা নিতে ঢাবি উপাচার্যকে স্মারকলিপি
ঢাবি প্রযুক্তি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা ২০ আগস্ট
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আন্দোলনে সংহতি ঢাবি শিক্ষকদের 
শিক্ষার্থীরা চাইলে সশরীরে পরীক্ষা: ঢাবি উপাচার্য

শেয়ার করুন

হলগুলো অছাত্রদের জন্য নয়: কাদের

হলগুলো অছাত্রদের জন্য নয়: কাদের

ওবায়দুল কাদের

শিক্ষা দিবস উপলক্ষে এক সেমিনারে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ নিয়ে কে খুশি হলো, কে অখুশি হলো তাতে কিছু যায়-আসে না।’

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে অছাত্রদের থাকা বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তার মতে, অছাত্রদের পুনর্বাসনের জন্যই হলগুলোতে পলিটিক্যাল রুমের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।

শুক্রবার শিক্ষা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক উপকমিটির সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ মাসের শেষেই বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে। হলগুলোতে জীবনযাত্রা কেমন তা দেখতে হবে। অছাত্রদের পুনর্বাসনের জন্য হল-হোস্টেলগুলোতে এই যে পলিটিক্যাল রুম থাকার একটা নিয়ম, তা বন্ধ করতে হবে। তাদের লিখিতভাবে হলে থাকা বন্ধ করতে হবে। এ নিয়ে কে খুশি হলো, কে অখুশি হলো তাতে কিছু যায়-আসে না।

‘অছাত্রদের অনেকে ভর্তির ব্যাপারে সমস্যা করেন, অনেকে বাণিজ্য করেন। শিক্ষাকে গুণগত গভীরতায় আনতে এসব চিরতরে বন্ধ করতে হবে।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘শিক্ষা: ২০৪১ সালে লক্ষমাত্রা অর্জনের বাস্তবিক কৌশল’ শীর্ষক সেমিনারে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘পরীক্ষার্থী নয়, চাই শিক্ষার্থী। জীবিকা নয়, জীবনের জন্যই শিক্ষা প্রয়োজন এ বাস্তবতা সবার আগে উপলব্ধি করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে অতটা ভাবেন না, যতটা তিনি ভাবেন আগামী প্রজন্ম নিয়ে। আর এটাই হওয়া উচিত। পরবর্তী প্রজন্মের কথা মাথায় আছে বলেই তিনি আজ রাষ্ট্রনায়ক।’

শিক্ষা দিবস নিয়ে ছাত্র সংগঠনের কোনো কর্মসূচি না থাকায় দুঃখ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আজকের দিবসটা ছাত্র সমাজের জন্য অপরিহার্য। ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন নিয়ে আজ কয়জনে জানে?’

মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘আমরা কারিগরি শিক্ষার ওপর খুব জোর দিচ্ছি। আমরা বলেছি বিভাগ থাকবে না। মানবিক, বিজ্ঞান, ব্যবসা এইগুলো থাকবে না। কিন্তু প্রত্যেক শিক্ষার্থী অন্তত পক্ষে একটি ট্রেইডে যোগ্যতা অর্জন করবে। দশম শ্রেণির পর যদি তার পড়াশোনা করার সুযোগ না হয়, তারপরও তার কর্মসংস্থানে কোনো অসুবিধা হবে না।’

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর মুনাজ আহমেদ নূর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর এ এস এম মাকসুদ কামাল, সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সাবেক সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান। উপস্থাপনা করেন শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক উপকমিটির সদস্যসচিব শামসুন্নাহার চাঁপা।

আরও পড়ুন:
১ জুলাই থেকে ঢাবিতে সশরীরে পরীক্ষা
সশরীরে পরীক্ষা নিতে ঢাবি উপাচার্যকে স্মারকলিপি
ঢাবি প্রযুক্তি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা ২০ আগস্ট
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আন্দোলনে সংহতি ঢাবি শিক্ষকদের 
শিক্ষার্থীরা চাইলে সশরীরে পরীক্ষা: ঢাবি উপাচার্য

শেয়ার করুন

বকেয়া ফি বেশি হলে ধাপে ধাপে নিন: শিক্ষামন্ত্রী

বকেয়া ফি বেশি হলে ধাপে ধাপে নিন: শিক্ষামন্ত্রী

মন্ত্রী বলেন, অ্যাসাইনমেন্ট জমার সঙ্গে টাকাপয়সার সম্পর্ক থাকার কথা না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পরে খুলেছে, অনেক শিক্ষার্থী হয়তো ফি দেয়নি। সেই ফি যদি কোথাও অনেক বেশি হয়ে যায়, তা পরিশোধে ইনস্টলমেন্ট বা অন্য কোনো ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে কোনো ফি লাগবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর ফি যদি বকেয়া পড়ে এবং সেটির পরিমাণ যদি বেশি হয়, তাবে তা ধাপে ধাপে নেয়া যেতে পারে।

চাঁদপুর সার্কিট হাউসে শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, অ্যাসাইনমেন্ট জমার সঙ্গে টাকাপয়সার সম্পর্ক থাকার কথা না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পরে খুলেছে, অনেক শিক্ষার্থী হয়তো ফি দেয়নি। সেই ফি যদি কোথাও অনেক বেশি হয়ে যায়, তা পরিশোধে ইনস্টলমেন্ট বা অন্য কোনো ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

দীপু মনি বলেন, যাদের সামর্থ্য আছে তারা তো অবশ্যই ফি পরিশোধ করে দেবেন। ফির সঙ্গে অ্যাসাইনমেন্ট মিলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। অ্যাসাইনমেন্টের জন্য কোনো ফি নেই।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে সবার সহযোগিতা চেয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু কিংবা কোভিড পরিস্থিতির জন্য, একটা সুন্দর জীবনের জন্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে সব জায়গায় পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।

সার্কিট হাউসে চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল আমিন রুহুল, জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমানসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
১ জুলাই থেকে ঢাবিতে সশরীরে পরীক্ষা
সশরীরে পরীক্ষা নিতে ঢাবি উপাচার্যকে স্মারকলিপি
ঢাবি প্রযুক্তি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা ২০ আগস্ট
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আন্দোলনে সংহতি ঢাবি শিক্ষকদের 
শিক্ষার্থীরা চাইলে সশরীরে পরীক্ষা: ঢাবি উপাচার্য

শেয়ার করুন