উপাচার্য পদে ড. আনোয়ারের পুনর্নিয়োগ

অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন

উপাচার্য পদে ড. আনোয়ারের পুনর্নিয়োগ

অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ২০১৭ সালের ২০ মে তারিখে প্রথম মেয়াদে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর প্রথম মেয়াদ শেষ হয় গত ১৯ মে।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য পদে নিয়োগ পেয়েছেন ড. মো. আনোয়ার হোসেন।

মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দপ্তর এ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেয়া হলো।

নিয়োগের শর্তে বলা হয়েছে, ভিসি হিসেবে তার মেয়াদ হবে চার বছর। এই পদে তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন।

অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ২০১৭ সালের ২০ মে তারিখে প্রথম মেয়াদে উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর প্রথম মেয়াদ শেষ হয় গত ১৯ মে।

আরও পড়ুন:
দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ
ইবির নতুন উপাচার্য শেখ আবদুস সালাম
চবির সাবেক উপাচার্য নূরুদ্দীন চৌধুরীর মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শিক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমে বাড়ছে আগ্রহ

শিক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমে বাড়ছে আগ্রহ

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য বলছে, ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তবে ২০১৬ সালে গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বেশির ভাগ ইংরেজি মাধ্যমের ছাত্র ছিলেন, এমন তথ্য আসার পর বেশ কিছু স্কুল বন্ধ হয়ে যায়।

সাড়ে চার বছর বয়সী আরৌশি হোসেনকে স্কুলে ভর্তি করা হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাবা আশিক হোসেন ও মা তামান্না আক্তার ভাবছেন, তাদের মতো সাধারণ শিক্ষা নয়, মেয়েকে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াবেন। সন্তানের ইংরেজি ভাষায় ভিত গড়তেই এই সিদ্ধান্ত তাদের।

কেন মেয়েকে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াবেন, এমন প্রশ্নে মা তামান্না নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলার পাশাপাশি প্রত্যেকের দ্বিতীয় একটি ভাষাজ্ঞান থাকা উচিত। যেহেতু ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা, তাই ইংরেজির আলাদা একটি গুরুত্ব আছে।’

চার বছরের স্বরিৎ ঋতি ভোর এখনও স্কুলে যায়নি। তার মা নাহিদা খানমও ঠিক করে রেখেছেন সন্তানকে ইংরেজি মাধ্যমেই ভর্তি করাবেন।

নাহিদা বলেন, ‘আমাদের মতো মেয়ে যেন ইংরেজিতে দুর্বল না হয়, এ জন্য তাকে ইংরেজিতেই পড়াব। এতে বড় হয়ে কর্মক্ষেত্রে সে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বলে আশা করছি।’

বাংলাদেশে তরুণদের ইংরেজি ভাষায় দুর্বলতা নতুন কোনো তথ্য নয়। কেবল ইংরেজিতে কথোপকথন ভালো, এই বাড়তি যোগ্যতায় ভারত ও শ্রীলঙ্কা থেকে হাজার হাজার কর্মী দেশের পোশাক খাতে কাজ করছে।

আবার বহুজাতিক অনেক কোম্পানি বা উচ্চ বেতনের বেসরকারি কোম্পানিতে হাজারও তরুণ আবেদনই করেন না ইংরেজির দুর্বলতায়।

গৃহবধূ তামান্না আক্তার বলেন, ‘আমাদের বাংলা মাধ্যমের স্কুল খারাপ, তা বলছি না। তবে সেগুলোর চেয়ে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোতে তুলনামূলকভাবে ইংরেজি ভাষায় জোর দেয়া হয়।

‘ছোট থেকে একজন শিক্ষার্থী সেই ভাষাটা রপ্ত করতে পারলে কাজ এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাড়তি সুযোগ পাবে।’

ম্যাপললিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের স্ট্যান্ডার্ড সেভেনে পড়ছে তানহা বিনতে রহমান। সে দেশের বাইরে গিয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে চায়। ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা নিতে তার সমস্যা হচ্ছে না, বরং আগ্রহ বাড়ছে।

অভিভাবকদের আগ্রহ বাড়তে থাকায় বড় শহরগুলোর পাশাপাশি মফস্বল শহরেও এখন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল গড়ে উঠছে। আর শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়ে চলছে। উচ্চবিত্তদের পাশাপাশি মধ্যবিত্তদের মধ্যেও সন্তানদের ইংরেজি মাধ্যমে পাঠানোর প্রবণতা বাড়ছে।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য বলছে, ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তবে ২০১৬ সালে গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বেশির ভাগ ইংরেজি মাধ্যমের ছাত্র ছিলেন, এমন তথ্য আসার পর বেশ কিছু স্কুল বন্ধ হয়ে যায়।

শিক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমে বাড়ছে আগ্রহ

ব্যানবেইসের প্রধান পরিসংখ্যানবিদ শেখ মো. আলমগীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কমলেও শিক্ষার্থী প্রতিনিয়ত বেড়েছে। গত তিন বছরে আমাদের হিসাবে শিক্ষার্থী বেড়ে দেড় গুণ হয়েছে।’

তবে নার্সারি ও কেজি শ্রেণিতে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলো ব্যানবেইসের হিসাবে নেই। ফলে একেবারে শিশু শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কত, সে তথ্য দিতে পারছে না তারা।

ইংরেজি মাধ্যমে আগ্রহ বাড়ছে কেন

বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক কাজী তায়েফ সাহাদাত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক কারিকুলামের কারণে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা বিশ্বব্যাপী। মহামারির সময়টার দিকে তাকালেই আপনি বুঝতে পারবেন কেন অভিভাবকরা ইংরেজি মাধ্যমে পড়াতে বেশি আগ্রহী।

‘কঠিন সময়ে এক দিনের জন্যও ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোর ক্লাস বন্ধ হয়নি। রুটিন অনুযায়ী অনলাইনে ক্লাস চলছে। এর বিপরীতে অন্য মাধ্যমের স্কুলগুলোর দিকে তাকালেই আপনি বাস্তব চিত্র পেয়ে যাবেন।’

শিক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমে বাড়ছে আগ্রহ

ইংলিশ মিডিয়াম সানবিমস স্কুলের শিক্ষক উজ্জ্বল কুমার সরকার বলেন, ‘ইংলিশ মিডিয়ামের কারিকুলামকে সারা বিশ্বেই স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে গণ্য করা হয়। কোনো মা-বাবা যদি তার সন্তানকে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে চান, তাহলে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ালে বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। এ ছাড়া কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরাই এগিয়ে থাকেন।’

শিক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমে বাড়ছে আগ্রহ

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইংরেজি মাধ্যমে যারা পড়ছে, তারা তো বাংলা মাধ্যম থেকে অবশ্যই ভালোই শিখছে। আর এখন তো পৃথিবীটা ইংরেজির ওপরই চলছে। এটাই তো বাস্তবতা।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানোটা আমাদের সমাজের একটা আভিজাত্যের অংশ বলে মনে করা হয়। ইংরেজি ভাষা শিখলে ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার পথ সুগম হয়। এখন এ কারণে অনেক অভিভাবক চান তার সন্তান যেন ইংরেজি মাধ্যমে পড়ে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক ও ইতিহাসবিদ সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘উচ্চশিক্ষায়, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে লেখাপড়ার মাধ্যম ইংরেজি। আর শুদ্ধ করে ইংরেজি বলতে ও লিখতে পারার পারদর্শিতা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ।

‘আবার ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামের সঙ্গে উন্নত বিশ্বের কারিকুলামের মিল থাকায় এখানকার শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক বেশি।’

শিক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমে বাড়ছে আগ্রহ

ইংরেজি মাধ্যমেও দুই ভাগ

ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজ ও ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন বা এডেক্সেল—এই দুটি বোর্ডের অধীনে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোর পরীক্ষা হয়।

এডেক্সেলের সেশন শুরু হয় মে-জুন আর ক্যামব্রিজের সেশন শুরু হয় অক্টোবর-নভেম্বর ও মে-জুন মাসে। বাংলাদেশে ইংরেজি মাধ্যমের সব পরীক্ষা ও ফলাফল তৈরি করে ব্রিটিশ কাউন্সিল।

ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোতে ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল পর্যন্ত পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। এখানে পড়াশোনার পুরোটাই হয় ইংরেজি ভাষায়।

ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সংখ্যা কত

ব্যানবেইসের তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে দেশে ১৫৯টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের নিবন্ধন ছিল। এতে শিক্ষার্থী ছিল ৫৪ হাজার ৫০৭ জন। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ও লেভেলের ৬৪টি, এ লেভেলের ৫৪টি এবং জুনিয়র লেভেলের ৪১টি ছিল।

২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১৪৫টিতে। তবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৭ হাজার ৮০৯ জন।

১৪৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ‘ও লেভেলের ৩৪টি, ‘এ’ লেভেলের ১৩টি এবং জুনিয়র লেভেলের ১৮টি।

২০২০ সালেও বন্ধ হয়ে যায় তিনটি স্কুল। তবে বাড়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা। ওই বছর ১৪২টি স্কুলে পড়ত ৭৮ হাজার ২০১ জন। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘ও’ লেভেলের ৩১টি, ‘এ’ লেভেলের ১৫টি এবং জুনিয়র লেভেলের ১৬টি।

তবে এ পরিসংখ্যানের সঙ্গে একমত নয় বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অ্যাসোসিয়েশন। তারা জানায়, সারা দেশে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলের সংখ্যা প্রায় ৩৫০ (কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো এ হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়)। সেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় তিন লাখ।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইংরেজি মাধ্যমের কিন্ডারগার্টেন স্কুল আছে, যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দুই লাখ।

আরও পড়ুন:
দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ
ইবির নতুন উপাচার্য শেখ আবদুস সালাম
চবির সাবেক উপাচার্য নূরুদ্দীন চৌধুরীর মৃত্যু

শেয়ার করুন

৪৩তম বিসিএস: নতুন আবেদনের সুযোগ ৫৬ পরীক্ষার্থীর

৪৩তম বিসিএস: নতুন আবেদনের সুযোগ ৫৬ পরীক্ষার্থীর

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘৪৩তম বিসিএস পরীক্ষায় ৫৬ জন পরীক্ষার্থী ভুল তথ্য দিয়ে পূরণকৃত আবেদনপত্র বাতিলপূর্বক পুনরায় অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ চেয়ে কমিশন বরাবর দরখাস্ত করেছেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন ৫৬ জন পরীক্ষার্থীর আবেদনপত্র বাতিল করে পুনরায় আবেদনপত্র জমাদানের বিষয়ে অনুমতি দিয়েছে।’

৪৩তম বিসিএস পরীক্ষায় নতুন করে আবেদনের সুযোগ পেয়েছেন ৫৬ পরীক্ষার্থী। তারা ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করায় আগেরটি বাতিল করে নতুন করে সুযোগ পেয়েছেন।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের বৃহস্পতিবারের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘৪৩তম বিসিএস পরীক্ষায় ৫৬ জন পরীক্ষার্থী ভুল তথ্য দিয়ে পূরণকৃত আবেদনপত্র বাতিলপূর্বক পুনরায় অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ চেয়ে কমিশন বরাবর দরখাস্ত করেছেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন ৫৬ জন পরীক্ষার্থীর আবেদনপত্র বাতিল করে পুনরায় আবেদনপত্র জমাদানের বিষয়ে অনুমতি দিয়েছে।’

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ৩০ জুন সন্ধ্যা ৬টার পর আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর ৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। ৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া আবেদনের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ জুন।

৪৩ তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বিসিএসে বিভিন্ন ক্যাডারে এক হাজার ৮১৪ জন কর্মকর্তা নেয়া হবে।

প্রশাসন ক্যাডারে ৩০০, পুলিশ ক্যাডারে ১০০, পররাষ্ট্র ক্যাডারে ২৫, শিক্ষা ক্যাডারে ৮৪৩, অডিটে ৩৫, তথ্যে ২২, ট্যাক্সে ১৯, কাস্টমসে ১৪ ও সমবায়ে ১৯ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ
ইবির নতুন উপাচার্য শেখ আবদুস সালাম
চবির সাবেক উপাচার্য নূরুদ্দীন চৌধুরীর মৃত্যু

শেয়ার করুন

পার্বত্য জেলার ১৪২ প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের সুপারিশ

পার্বত্য জেলার ১৪২ প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের সুপারিশ

বৈঠকে পার্বত্য এলাকায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষার মাধ্যমে জ্ঞানার্জনের জন্য স্থানীয় ভাষা সংরক্ষণ, শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ ‍সৃষ্টিতে দ্রুত আঞ্চলিক ভাষায় দক্ষ শিক্ষকদের পদ সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়।

তিন পার্বত্য জেলায় প্রতিষ্ঠিত ১৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে বিশেষ বিবেচনায় জাতীয়করণের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

এছাড়া কমিটি তিন পার্বত্য জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার সুপারিশ করেছে কমিটি।

বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।

এদিন সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিৎ করা হয়েছে।

বৈঠকে পার্বত্য এলাকায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষার মাধ্যমে জ্ঞানার্জনের জন্য স্থানীয় ভাষা সংরক্ষণ, শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ ‍সৃষ্টিতে দ্রুত আঞ্চলিক ভাষায় দক্ষ শিক্ষকদের পদ সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়।

এছাড়াও বৈঠকে পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটনসহ কোনো স্থাপনা নির্মাণে সেখানকার প্রতিবেশ ব্যবস্থার যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেই বিষয়ে দৃষ্টি দিতে বলেছে সংসদীয় কমিটি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে পার্বত্য এলাকায় পর্যটনসহ যে কোনো স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে যেন পরিবেশ এবং প্রতিবেশের কোনো প্রকার ক্ষতি না হয় এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ, জীবন-জীবিকায় বাধার সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি দবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়কমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, দীপংকর তালুকদার, এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও মীর মোস্তাক আহমেদ রবি অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ
ইবির নতুন উপাচার্য শেখ আবদুস সালাম
চবির সাবেক উপাচার্য নূরুদ্দীন চৌধুরীর মৃত্যু

শেয়ার করুন

প্রাথমিকের শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগের সুপারিশ

প্রাথমিকের শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগের সুপারিশ

আগের বৈঠকেই শূন্য পদে নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে শূন্য পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল। এরপর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পদের বিপরীতে জনবল নিয়োগবিধি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে। নিয়োগবিধি প্রণয়ন চূড়ান্ত হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া গতিশীল হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত করার সুপারিশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

বুধবার রাজধানীর মিরপুরে নবনির্মিত পিটিআই ভবনে ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান।

বৈঠকে কমিটির সদস্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন, মেহের আফরোজ চুমকি, নজরুল ইসলাম বাবু, শিরীন আখতার, ফেরদৌসী ইসলাম এবং মোশারফ হোসেন অংশ নেন।

বৈঠকে নিয়োগ কার্যক্রম শুরুর জন্য নিয়োগবিধি দ্রুত চূড়ান্ত করার তাগিদও দেয়া হয়।

আগের বৈঠকেই শূন্য পদে নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে শূন্য পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল।

এরপর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পদের বিপরীতে জনবল নিয়োগবিধি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে। নিয়োগবিধি প্রণয়ন চূড়ান্ত হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া গতিশীল হবে।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী শিক্ষক ও জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে নিয়োগবিধি দ্রুত চূড়ান্ত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

বৈঠকে ঢাকা মহানগরীর ১২টি থানার নির্বাচিত ১৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে যেসব বিদ্যালয় স্থাপনে জটিলতা নেই, সেসব বিদ্যালয় দৃষ্টিনন্দনভাবে নির্মাণের কাজ শুরুর সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরবরাহের জন্য ল্যাপটপ ও কম্পিউটার সামগ্রী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে কেনা ও সরবরাহের জন্য বলা হয়।

আরও পড়ুন:
দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ
ইবির নতুন উপাচার্য শেখ আবদুস সালাম
চবির সাবেক উপাচার্য নূরুদ্দীন চৌধুরীর মৃত্যু

শেয়ার করুন

সাড়ে ১৪ লাখ টাকার ভাতা পরিশোধের দাবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন

সাড়ে ১৪ লাখ টাকার ভাতা পরিশোধের দাবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন

বকেয়া পরিশোধের দাবিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষক রাহুল দাশ বলেন, ‘আমরা সবাই নতুন চাকরি পেয়েছি। আমাদের বেতন মাত্র সাড়ে ১৮ হাজার টাকা। এই বেতনে পরিবার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে ডিপিএড প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে আমাদের প্রচুর টাকা খরচ করতে হয়েছে।’

প্রশিক্ষণের মেয়াদ শেষ হলেও ভাতার টাকা না পাওয়ায় মানববন্ধন করেছেন হবিগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকরা।

বুধবার দুপুরে হবিগঞ্জ পিটিআইয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে কয়েকশ শিক্ষক অংশ নেন।

তাদের দাবি, প্রশিক্ষণ চলার সময় প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেয়ার নিয়ম রয়েছে। প্রথম ছয় মাসের ভাতা বাবদ প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে ১৮ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও দেয়া হয়নি পরের এক বছরের কোনো টাকা।

এতে ছয় মাসের মোট বকেয়া পড়েছে প্রায় ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এক বছরের ভাতা বাবদ প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর বকেয়া পড়েছে ৩৬ হাজার টাকা।

হবিগঞ্জ পিটিআই জানা জানিয়েছে, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এর তত্ত্বাবধানে রয়েছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)।

প্রশিক্ষণে জেলার নয়টি উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৪০০ শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। প্রথম অবস্থায় ক্লাসে প্রশিক্ষণ দেয়া হলেও করোনা মহামারি শুরু হলে অনলাইনে ক্লাস নেয়ার উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। এ প্রশিক্ষণ চলে জুন মাস পর্যন্ত। ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণার্থীদের লিখিত পরীক্ষাও শেষ হয়েছে। ২৪ জুন থেকে তাদের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হবে।

ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থী চুনারুঘাট উপজেলার কালিশিরি সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অপূর্ব পাল বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারির প্রকোপ শুরু হলে অনলাইনে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় অনেক প্রশিক্ষণার্থীর হাতে ভালো মোবাইল-ল্যাপটপ না থাকায় বিপাকে পড়েন। অনেকে ধারদেনা ও ঋণ করে এসব উপকরণ কিনেছেন।’

ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থী শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মঞ্জুর আহমেদ বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। করোনার কারণে সবকিছু বন্ধ থাকলেও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে আমরা হলে বসে পরীক্ষা দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘২৫ জুন থেকে আমাদের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হবে। এরপর আমরা আর ডিপিএডের কেউ না। অথচ আমাদের এক বছরের ভাতার টাকা এখনও দেয়া হয়নি। আমাদের আগের প্রশিক্ষণার্থীরা যদি এ টাকা পান তাহলে আমরা কেন পাব না?’

নবীগঞ্জ উপজেলার বাংলাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সাদিক মিয়া বলেন, ‘আমাদেরকে ভাতা থেকে বঞ্চিত করার চক্রান্ত চলছে। কিন্তু আমরা সেটা বুঝতে পেরেও কোনো ধরনের আন্দোলন করছি না। আমাদের প্রাপ্য ভাতাটুকু বুঝিয়ে দেয়া হোক। অন্যথায় বাধ্য হয়ে আন্দোলনের ডাক দিতে হবে।’

সদর উপজেলার গদাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক খন্দকার সোহেল আহমেদ বলেন, ‘অনলাইনে প্রশিক্ষণ নেয়া কতটা কষ্ট আর ব্যয়বহুল সেটা কেবল আমরাই জানি। একটি ক্লাস করতে এক গিগাবাইট ডাটা খরচ হয়েছে। প্রতিদিন চারটি করে ক্লাস করতে হয়েছে। এছাড়া মোবাইল কম্পিউটারের সামনে সারাদিন বসে থাকতে গিয়ে চোখের কতটা ক্ষতি হয়েছে সেটা কেবল আমরাই জানি। কিন্তু এরপরও যদি আমাদের ন্যায্য টাকাটা না পাই তাহলে কষ্টের কথা কাকে বলব?’

শিক্ষক রাহুল দাশ বলেন, ‘আমরা সবাই নতুন চাকরি পেয়েছি। আমাদের বেতন মাত্র সাড়ে ১৮ হাজার টাকা। এই বেতনে পরিবার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে ডিপিএড প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে আমাদের প্রচুর টাকা খরচ করতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মোবাইল ল্যাপটপ কিনতে হয়েছে। অনেকের গ্রামের ভালো নেটওয়ার্ক না থাকার কারণে শহরে বাসা ভাড়া করে প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। যে কারণে অনেক শিক্ষক এখনও ঋণগ্রস্থ।’

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) সুপারিনটেনডেন্ট রওশনারা খাতুন বলেন, ‘ডিপিএডের প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ চলার সময় একটা ভাতা পান। এ বছর মন্ত্রণালয় থেকে ভাতা দেয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে তারা আমার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি সম্পর্কে আমার কিছু করার নেই।

তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বলেছিলাম সরাসরি মন্ত্রণালয়ে অথবা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়ার জন্য। কারণ এ বিষয়ে আমার কোনো ক্ষমতা নেই।’

আরও পড়ুন:
দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ
ইবির নতুন উপাচার্য শেখ আবদুস সালাম
চবির সাবেক উপাচার্য নূরুদ্দীন চৌধুরীর মৃত্যু

শেয়ার করুন

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশের উপবৃত্তির অর্থ ছাড়

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশের উপবৃত্তির অর্থ ছাড়

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক নিউজবাংলাকে বলেন, নিয়মমাফিক ভাবেই এই অর্থ ছাড় করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

এ উপবৃত্তির আওতায় ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের কিস্তিতে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাবে ১ হাজার ২০০ টাকা। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাবে দেড় হাজার টাকা। নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাবে ১ হাজার ৮০০ টাকা। দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাবে ৩ হাজার ৯০০ টাকা। অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাবে ৩ হাজার ৬০০ টাকা।

সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় ষষ্ঠ থেকে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কিস্তি এবং ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জুলাই থেকে ডিসেম্বর কিস্তির টাকা ছাড় করা হয়েছে।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় এ অর্থ ছাড় করা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক নিউজবাংলাকে বলেন, নিয়মমাফিকভাবেই এই অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

জানা যায়, এ উপবৃত্তির আওতায় ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের কিস্তিতে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাবে ১ হাজার ২০০ টাকা। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাবে দেড় হাজার টাকা। নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাবে ১ হাজার ৮০০ টাকা। দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাবে ৩ হাজার ৯০০ টাকা। অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাবে ৩ হাজার ৬০০ টাকা।

২০২০ সালের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাবে ৩ হাজার ৯০০ টাকা। অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাবে ৩ হাজার ৪০০ টাকা।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের অ্যাকাউন্টে উপবৃত্তির অর্থ দেয়া হয়েছে। উপবৃত্তির অর্থ তোলার জন্য শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের আলাদা কোনো ফি দিতে হবে না। এ ক্ষেত্রে কেউ ফি দাবি করলে [email protected]এ মেইলে লিখিত অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ
ইবির নতুন উপাচার্য শেখ আবদুস সালাম
চবির সাবেক উপাচার্য নূরুদ্দীন চৌধুরীর মৃত্যু

শেয়ার করুন

উপাচার্যের বাসার সামনে রাবির ‘অবৈধ’ নিয়োগপ্রাপ্তদের অবস্থান

উপাচার্যের বাসার সামনে রাবির ‘অবৈধ’ নিয়োগপ্রাপ্তদের অবস্থান

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলেন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক তারেক নূর ও প্রক্টর লিয়াকত আলী। ছবি: নিউজবাংলা

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনে সিন্ডিকেট হওয়ার কথা থাকলেও আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে সভা স্থগিত করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপরও তারা সারারাত জেগে সেখানেই অবস্থান করেন। ঘোষণা দেন, পদায়ন না করা পর্যন্ত তারা এখানেই অবস্থান করবেন।

চাকরিতে যোগ দেয়ার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে অবস্থান নিয়েছেন বিতর্কিত নিয়োগপ্রাপ্তরা। উপাচার্যের বাসভবনের সামনেই তারা রাত কাটান। বুধবার বেলা ১২টার সময়ও তাদের সেখানে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

সদ্য বিদায়ী উপাচার্য আবদুস সোবহানের মেয়াদের শেষ দিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩৭ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেন তিনি। সে দিনই নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন- ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য আবদুস সোবহানের নিয়োগ ও দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করে সত্যতা পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের নিয়োগ বন্ধ রাখার আদেশ দেয়। সে আদেশকেও তোয়াক্কা না করেই শেষ দিনে নিয়োগ দেন আবদুস সোবহান।

নিয়োগ পেলেও তাদের কাউকে যোগদান করতে দেয়া হয়নি। এরপর থেকেই বিভিন্ন সময় যোগদানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন, উপাচার্য বাসবভবন, প্রশাসন ভবনে তালাসহ নানা কর্মসূচি করছেন তারা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনে সিন্ডিকেট হওয়ার কথা ছিল। সে জন্য সেখানে অবস্থান নেন বিতর্কিত নিয়োগপ্রাপ্তরা।

আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে সভা স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে নিয়োগপ্রাপ্তরা সারারাত জেগে সেখানেই অবস্থান করেন। তারা ঘোষণা দেন, পদায়ন না করা পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থান করবেন।

এর আগে কর্মস্থলে পদায়নের দাবিতে গত শনিবার থেকে প্রশাসন ভবন ও উপচার্যের বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করে আসছিলেন তারা। ফলে শনিবার ফাইনান্স কমিটির সভা স্থগিত হয়ে যায়।

গত রোববার রাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের হস্তক্ষেপে তালা খুলে দেন। তবে সিন্ডিকেট ঠেকাতে নিয়োগ পাওয়া ৩০-৩৫ জন মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন।

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলেন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক তারেক নূর ও প্রক্টর লিয়াকত আলী। তবে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিতে অনড় থাকে।

পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সাংবাদিকদের জানান, নিয়োগপ্রাপ্তদের বাধার মুখে তিনি সিন্ডিকেট স্থগিত করেছেন।

ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘চাকরিপ্রাপ্তদের সঙ্গে সোমবার আমাদের একটি মিটিং হয়েছে। ওই মিটিং এ তারা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা সিন্ডিকেট সভাতে বাধা দেবে না, তবে এফসি করতে দিবে না।

‘তাদের আশ্বাসে আজকে সন্ধ্যা ৭টার পর সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়। কিন্তু সিন্ডিকেট করতে গেলে তারা বাধা দেয়। আর প্রক্টরসহ সিন্ডিকেট সদস্যদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিও হয়। তাই সিন্ডিকেট সভা স্থগিত করেছি।’

ভিসি আরও বলেন, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ত্রুতি আছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয় দেখছে। এ অবস্থায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছাড়া তাদের যোগদান করানোর ক্ষমতা আমার নেই।

নিয়োগ পাওয়া রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, গত ৬ মে আমাদেরকে সদ্য বিদায়ী উপাচার্য এম আবদুস সোবহান নিয়োগ দিয়ে গেছেন। এখনও আমাদেরকে কর্মস্থলে যোগদান করানো হয়নি। এ বিষয়ে একটা সমাধানের জন্য তখন থেকে আমরা দাবি জানিয়ে আসছি, আন্দোলন করছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের বিষয়ে চারভাগের একভাগ কাজও করিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।'

তিনি আরও বলেন, ‘সোমবার আমাদের সঙ্গে প্রশাসনের মিটিং হয়েছে। মিটিং এ আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছে যে আমাদের বিষয়ে শিগগির সমাধান হবে। কিন্তু এরপরেই প্রশাসন থেকে আমাদের পদায়নের বিরোধিতা করা হয়েছে।

‘আমরা জানতে পারি যে, এই সিন্ডিকেটে আমাদের নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে বাতিলের বিষয়ে কথা বলা হবে। তাই আমরা ভিসি ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ
ইবির নতুন উপাচার্য শেখ আবদুস সালাম
চবির সাবেক উপাচার্য নূরুদ্দীন চৌধুরীর মৃত্যু

শেয়ার করুন