বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে চার সিদ্ধান্ত

বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে চার সিদ্ধান্ত

ইউজিসি থেকে বলা হয়েছে, শর্ত সাপেক্ষে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে সরাসরি ও অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক কাউন্সিলের পরামর্শে পরীক্ষা গ্রহণ এবং মূল্যায়ন করতে হবে। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে করোনার টিকা দেয়া হবে।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দিতে চারটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আবাসিক শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেয়ার পরই বিশ্বদ্যালয়গুলো খোলা হবে। খোলার আগে অবশ্য শর্ত সাপেক্ষে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে সরাসরি ও অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ারও অনুমতি দেয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সূহ খোলার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও উপাচার্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

সভায় মোট চারটি সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে আমরা মোট চারটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ চার সিদ্ধান্তের আলোকেই আমরা সব সিদ্ধান্ত নেব। সভায় সব পক্ষ উপস্থিত ছিল, বলা যায় বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ে এই চারটি আমাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত।’

ইউজিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শর্ত সাপেক্ষে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে সরাসরি ও অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক কাউন্সিলের পরামর্শে পরীক্ষা গ্রহণ ও মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে করোনার টিকা দেয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেনের সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চেীধুরী, কোভিড ১৯ সংক্রান্ত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যরা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়াসহ আরও অনেকে।

সভার সিদ্ধান্তসমূহ:

০১. মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোভিড-১৯ এর টিকা প্রদানের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এই টিকা প্রদানের কর্মসূচি আবাসিক হলসমূহের শিক্ষার্থীদের দিয়ে শুরু হবে।

০২. শর্তসাপেক্ষে সরাসরি উপস্থিতিতে পরীক্ষা গ্রহণ এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য যে দুইটি নির্দেশনা প্রদান করেছে, তা স্ব-স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদনের মাধ্যমে কার্যকর করে বিষয়বস্তুর ওপর চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণ ও মূল্যায়ন করা হবে।

০৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ এর টিকা প্রদান সম্পন্ন হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহ খুলে দেয়া হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সরাসরি উপস্থিতিতে শিক্ষাকার্যক্রম আগের মতো চালু হবে।

০৪. কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে যে ক্ষতি সাধিত হয়েছে তা পুষিয়ে নেয়ার জন্য প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব সক্ষমতা ও বাস্তবতা অনুযায়ী একটি ‘রিকোভারি প্ল্যান’ প্রস্তুত করে তা বাস্তবায়নে কার্যক্রম গ্রহণ করবে। এই ‘রিকোভারি প্ল্যান’ এর একটি সাধারণ গাইডলাইন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন প্রস্তুত করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হবে।

দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। এ ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। বন্ধ দফায় দফায় বাড়িয়ে আগামী ১২ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

গত বুধবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, করোনাভাইরাসের টিকার দুটি ডোজ সব শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীকে দেয়া সম্পন্ন হলেই আবাসিক হলযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আবাসিক শিক্ষার্থীদের করোনা টিকার আওতায় আনার পর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতোমধ্যে কতজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী টিকা পেয়েছেন, সে তথ্য ইউজিসির কাছে চেয়েছি। যাদের বয়স ৪০ এর বেশি, বেশির ভাগই টিকা নিয়েছেন বলে আমরা তথ্য পেয়েছি।’

‘শিক্ষার্থীদের যাদের বয়স ৪০-এর কম তাদের বিশেষ বিবেচনায় টিকা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। নতুন টিকা এলেই তারা অগ্রাধিকার পাবেন। এ ক্ষেত্রে আবাসিক শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন। এ সংখ্যা যেহেতু বিশাল নয়, তাই দ্রুত তাদের টিকার আওতায় নিয়ে আসতে পারব বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন:
শিক্ষার মান-গবেষণা বৃদ্ধি মূল চ্যালেঞ্জ: জবির নতুন উপাচার্য
মুচলেকা নিয়ে পরীক্ষা নেবে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউরের যোগদান
জগন্নাথে ছাত্রীহলে প্রাধান্য পাবেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পাবিপ্রবির নোটিশে বারবার ‘টাইপিং মিসটেক’

পাবিপ্রবির নোটিশে বারবার ‘টাইপিং মিসটেক’

একজন শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘আর কবে এসব বিষয়ে সচেতন হবে? মানুষ ভুল থেকে শিক্ষা নেয়। আগেরদিনই এএম, পিএম নিয়ে কত বড় নিউজ হয়ে গেল অথচ আবার ভুল। এখন মনে হয় এরা বার বার ভুল করেই মিডিয়ায় আসতে চায়। এগুলো দেখলে এখন সত্যিই খুব খারাপ লাগে।’

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীর রাতে পরীক্ষা নেয়ার নোটিশের পর এক বছর আগের তারিখে ফরম পূরণের নোটিশ দেয়ায় আবারও শুরু হয়েছে সমালোচনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও স্কলারশিপ শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার সুজা উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে রোববার জানানো হয়েছে, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্পেশাল পরীক্ষা ২০১৮-এর ফরম পূরণের তারিখ ১৪-০৬-২০২১ থেকে ২৮-০৬-২০২০।

সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য নিজ বিভাগ থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করে যথাযথভাবে পূরণ করে হল ক্লিয়ারেন্স নিয়ে জমা দেবেন।

পর পর এ ধরনের ভুল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রুপে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন।

একজন শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘আর কবে এসব বিষয়ে সচেতন হবে? মানুষ ভুল থেকে শিক্ষা নেয়। আগেরদিনই এএম, পিএম নিয়ে কত বড় নিউজ হয়ে গেল অথচ আবার ভুল। এখন মনে হয় এরা বার বার ভুল করেই মিডিয়ায় আসতে চায়। এগুলো দেখলে এখন সত্যিই খুব খারাপ লাগে।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘প্রচুর ট্রলের শিকার হচ্ছি ভাই। বিভিন্ন ভার্সিটির বন্ধুরা মেনশন দিয়ে ট্রল করছে।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘২০২০ সাল তো করোনায় চলে গেছে। কীভাবে আমরা ফিরে পাব ওই তারিখ।’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সহকারী রেজিস্ট্রার সুজা উদ্দিনকে কয়েকবার কল দেয়া হলেও তিনি ধরেননি।

তবে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, এটি টাইপিংয়ের ভুল। তবে প্রায়ই এ ধরনের ভুল হচ্ছে যা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কেউ কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় এমন ঘটনা বার বার ঘটছে।

গত ৯ জুন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর রাত ৩টা ২০ মিনিটে ক্লাস নেয়া নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা। এর মাঝেই গত শনিবার পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নোটিশে বলা হয় ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রতিটি পরীক্ষা হবে 10:30pm -1:30pm এ।

পরীক্ষার নোটিশে এ ধরনের বড় ভুল নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা। ঠিক তার পরদিনই আবারও ভুল।

আরও পড়ুন:
শিক্ষার মান-গবেষণা বৃদ্ধি মূল চ্যালেঞ্জ: জবির নতুন উপাচার্য
মুচলেকা নিয়ে পরীক্ষা নেবে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউরের যোগদান
জগন্নাথে ছাত্রীহলে প্রাধান্য পাবেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা

শেয়ার করুন

আবার শুরু হচ্ছে স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্তি

আবার শুরু হচ্ছে স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্তি

নতুন অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দের যে প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়েছে, তাতে নতুন প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির জন্য ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য ২০০ কোটি এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ৫০ কোটি টাকা।

নতুন অর্থবছরে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য আসছে সুখবর। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার প্রক্রিয়া আবার শুরু হচ্ছে। ২০১৯ সালে ২ হাজার ৬২২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভূক্ত করার পর গত বছর আর তা করা হয়নি।

এমপিওভূক্তির প্রক্রিয়া আবার শুরু হচ্ছে বলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন।

নতুন অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দের যে প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়েছে, তাতে নতুন প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির জন্য ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য ২০০ কোটি এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ৫০ কোটি টাকা।

এমপিও হলো মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার বা মাসিক বেতন আদেশ, যার মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করে সরকার।

বেশির ভাগ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয়ে ঘাটতি থাকার কারণে শিক্ষকদের কাছে এমপিওভুক্তি একটি কাঙ্ক্ষিত বিষয়। গত ২৯ মে এমপিওভুক্তির নীতিমালা সংশোধন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

তবে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আলাদাভাবে উল্লেখ করেননি নতুন প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির জন্য অর্থ বরাদ্দের কথা। মন্ত্রণালয় তাদের মোট বরাদ্দ থেকে খাত অনুযায়ী বরাদ্দ ঠিক করবে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, আগামী অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতাধীন নন-এমপিও বেসরকারি স্কুল-কলেজ এমপিওভুক্ত করার জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার চাইলে এ বরাদ্দ বাড়াতেও পারে।

আর কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান নিউজবাংলাকে বলেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরাও শুনেছি প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে বরাদ্দ রেখেছে। বাজেট পাসের পরই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। আমরা চাই মুজিববর্ষেই এমপিওভুক্তির বাইরে থাকা সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত করা হোক।’

সর্বশেষ সরকার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করে ২০১৯ সালে। ওই বছরের ২৩ অক্টোবর ২ হাজার ৭৩০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে চূড়ান্ত বাছাইয়ে ২ হাজার ৬১৫টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ছাড়পত্র পায়। এরপর আবার ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর ছয়টি এবং ১৪ নভেম্বর একটি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়।

দেশে এ পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়েছে এমন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজার। আর এমপিওভুক্ত হয়নি এখনও প্রায় ৭ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিও করার জন্য গত ২৯ মে সংশোধিত এমপিও নীতিমালা প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশোধিত নীতিমালায় এমপিওভুক্তির জন্য তিনটি শর্ত দেয়া হয়েছে।

শর্তগুলো হলো: শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থী সংখ্যা এবং পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার। এই তিন বিষয়ে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ এবং পাসের হারে ৪০ নম্বর রাখা হয়েছে। আগের নীতিমালায় প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির মেয়াদের ওপর ২৫ নম্বর ছিল, যা সংশোধিত নীতিমালায় বাদ দেওয়া হয়েছে।

২০২১ সালের নীতিমালায় কোন ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম কতজন শিক্ষার্থী থাকতে হবে, তা বেঁধে দেয়া হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, নিম্নমাধ্যমিকে শহরে ১২০ ও মফস্বলে ৯০, মাধ্যমিকে শহরে ২০০ ও মফস্বলে ১৫০, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহরে ৪২০ ও মফস্বলে ৩২০, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে শহরে ২৫০ ও মফস্বলে ২২০ এবং ডিগ্রি কলেজে স্নাতকে শহরে ৪৯০ ও মফস্বলে ৪২৫ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। পাসের হার স্তরভেদে ৪৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ করা হয়েছে।

গত ৩ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে যে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন, তাতে শিক্ষা খাতে ৭১ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৬৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে ৫ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
শিক্ষার মান-গবেষণা বৃদ্ধি মূল চ্যালেঞ্জ: জবির নতুন উপাচার্য
মুচলেকা নিয়ে পরীক্ষা নেবে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউরের যোগদান
জগন্নাথে ছাত্রীহলে প্রাধান্য পাবেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা

শেয়ার করুন

সশরীরে পরীক্ষা নেবে চবি

সশরীরে পরীক্ষা নেবে চবি

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এস এম সালামত উল্যা ভূঁইয়া বলেন, 'অনলাইনে পরীক্ষার অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। তাই সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ক্লাসগুলো অনলাইনে হবে।’

সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কর্তৃপক্ষ। এ ক্ষেত্রে স্থগিত পরীক্ষাগুলো আগে নেয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে পরীক্ষার ব্যাপারে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বৈঠকে অনলাইনে নাকি সশরীরে পরীক্ষা হবে এই নিয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল। এর আগে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়া যাবে কি না এই বিষয়ে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একটি কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। কমিটির মধ্যে সব বিভাগের ডিন সদস্য হিসেবে ছিলেন। সবার মতের ভিত্তিতে সশরীরে পরীক্ষার নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এস এম সালামত উল্যা ভূঁইয়া বলেন, 'অনলাইনে পরীক্ষার অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। তাই সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ক্লাসগুলো অনলাইনে হবে।’

তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা যাতে বেশি না হয়, সে জন্য সব ফ্যাকাল্টির ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মিলে সমন্বয় করে পরীক্ষার তারিখ ও রুটিন দেয়া হবে। একদিনে সব বিভাগ পরীক্ষা নিলে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যার আধিক্য হবে। এ ক্ষেত্রে ফ্যাকাল্টিভিত্তিক একদিনে যদি ছয়টি ডিপার্টমেন্ট পরীক্ষা নেয়, অন্যদিন অন্য ছয়টি ডিপার্টমেন্ট পরীক্ষা নেবে। এভাবে সমন্বয় করা হবে।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল খোলার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক এস এম সালামত উল্যা ভূঁইয়া।

আরও পড়ুন:
শিক্ষার মান-গবেষণা বৃদ্ধি মূল চ্যালেঞ্জ: জবির নতুন উপাচার্য
মুচলেকা নিয়ে পরীক্ষা নেবে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউরের যোগদান
জগন্নাথে ছাত্রীহলে প্রাধান্য পাবেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা

শেয়ার করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অটোপাস

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অটোপাস

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, ‘আমরা শর্তসাপেক্ষে প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের অটোপাস দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা সশরীরে পরীক্ষা নেব। তখন অটোপাস পাওয়া শিক্ষার্থীদের সেসব পরীক্ষায় পাস করতে হবে।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অটোপাস দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আরোপ করা হবে। স্নাতক দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের অটোপাস দেয়া হবে কি না সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মৌখিক অথবা অনলাইন পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ করার চিন্তাভাবনা চলছে।

এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, ‘আমরা শর্তসাপেক্ষে প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের অটোপাস দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা সশরীরে পরীক্ষা নেব। তখন অটোপাস পাওয়া শিক্ষার্থীদের সেসব পরীক্ষায় পাস করতে হবে।’

দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে আমরা কয়েকটি বিকল্প পদ্ধতির কথা ভাবছি। এর মধ্যে একটি হলো মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমোশন দেয়া। আরেকটি হলো অনলাইনে পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা এখনো অনার্স প্রথম বর্ষেই রয়েছেন। এই অবস্থায় তাদেরকে শর্তসাপেক্ষে দ্বিতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
শিক্ষার মান-গবেষণা বৃদ্ধি মূল চ্যালেঞ্জ: জবির নতুন উপাচার্য
মুচলেকা নিয়ে পরীক্ষা নেবে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউরের যোগদান
জগন্নাথে ছাত্রীহলে প্রাধান্য পাবেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা

শেয়ার করুন

ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত থাকায় জবির চিকিৎসককে শোকজ

ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত থাকায় জবির চিকিৎসককে শোকজ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের নিচে অবস্থিত আধুনিক মেডিক্যাল সেন্টার। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, ‘ফখরুল ইসলামকে শোকজের নোটিশ আজকে অনুমোদিত হয়েছে। আমরা অফিশিয়ালি চিঠি দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিচ্ছি।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসক মো. ফখরুল ইসলাম ছুটি ছাড়াই অনুপস্থিত থাকায় তাকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘ফখরুল ইসলামকে শোকজের নোটিশ আজকে অনুমোদিত হয়েছে। আমরা অফিশিয়ালি চিঠি দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিচ্ছি।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রতিদিন পালা করে একজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করেন। ১০ জুন ডা. মো. ফখরুল ইসলামের দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। কিন্তু তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাউকে না জানিয়েই ছুটি কাটান। এদিন সেবা নিতে এসে ফিরে গেছেন অনেক শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন: জবির মেডিক্যালে ডাক্তার থেকেও নেই

নিউজবাংলার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে ডিউটিতে আসেননি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারের উপপ্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মিতা শবনম জানান, ওই চিকিৎসক ছুটিতে ছিলেন না।

বিষয়টি নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘আমাদের এখানে থাকতে হলে কাজ করতে হবে। কাজ না করলে চলে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মেডিকেল সেন্টারের বিষয়ে সার্বক্ষণিক খবর রাখছি।’

আরও পড়ুন:
শিক্ষার মান-গবেষণা বৃদ্ধি মূল চ্যালেঞ্জ: জবির নতুন উপাচার্য
মুচলেকা নিয়ে পরীক্ষা নেবে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউরের যোগদান
জগন্নাথে ছাত্রীহলে প্রাধান্য পাবেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা

শেয়ার করুন

‘শিওরক্যাশে’ টাকা জমা দেয়া নিয়ে ভোগান্তিতে জবি শিক্ষার্থীরা

‘শিওরক্যাশে’ টাকা জমা দেয়া নিয়ে ভোগান্তিতে জবি শিক্ষার্থীরা

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইয়াসমিন জীবন বলেন, ‘আমি মহামারির শুরু থেকে গ্রামের বাড়িতে আছি। অথচ সেমিস্টারের ভর্তি ফি দিতে উপজেলা পর্যায়ের অনেক দোকানে ঘুরেও শিওরক্যাশ এজেন্ট পাইনি। ফলে আমার পেমেন্টটি করতে পারিনি।’

অনলাইনে ভর্তি ও পরীক্ষার ফি জমা দেয়ার একমাত্র মাধ্যম রূপালি ব্যাংকের শিওরক্যাশের এজেন্ট খুঁজে না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢাকার বাইরে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরেকটি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নগদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেও তাদের বিল পেমেন্ট অপশনে নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম।

গ্রামাঞ্চলে বিকাশ, রকেট, নগদ এজেন্ট সহজে পাওয়া গেলেও শিওরক্যাশ এজেন্ট না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন একাধিক শিক্ষার্থী। এ ছাড়া অনেক সময় একসঙ্গে একমাত্র মাধ্যম শিওরক্যাশে পেমেন্ট দিতে গিয়ে নানা জটিলতার কথাও বলছেন অনেকে।

১০ আগস্ট থেকে সশরীরে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৯ জুনের মধ্যে অনলাইনে পরের সেমিস্টারের ভর্তি ও পরীক্ষার ফি জমা দেয়ার জন্য নোটিশ দিয়েছে বিভিন্ন বিভাগ।

২০১৭ সালের শেষের দিকে ভর্তি ও পরীক্ষার ফিসহ সকল ফি পরিশোধের জন্য রূপালী ব্যাংকের অনলাইন ব্যাংকিং সেবা শিওরক্যাশের মাধ্যমে টাকা জমা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ বছরের ১ এপ্রিল ডাক বিভাগের মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস নগদের সঙ্গে বেতন ও পরীক্ষা ফিসহ যাবতীয় ফি জমা দেয়ার বিষয়ে চুক্তি করে কর্তৃপক্ষ।

তবে এই সেবাটি এখনও চালু না হওয়ায় ফি দিতে শিওরক্যাশ ছাড়া শিক্ষার্থীদের বিকল্প কোনো উপায় নেই।

দীর্ঘ ছুটি ও করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতিতে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী গ্রামে রয়েছেন। এরই মধ্যে বিভাগ থেকে ফি পরিশোধের নোটিশ দেয়ায় অনলাইনে শিওরক্যাশের মাধ্যমে ভর্তি ও পরীক্ষা ফি দিতে হচ্ছে।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইয়াসমিন জীবন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি মহামারির শুরু থেকে গ্রামের বাড়িতে আছি। অথচ সেমিস্টারের ভর্তি দিতে উপজেলা পর্যায়ের অনেক দোকানে ঘুরেও শিওরক্যাশ এজেন্ট পাইনি। ফলে আমার পেমেন্টটি করতে পারিনি।’

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আবু রায়হান রতন বলেন, ‘আমি অনেক দোকানে গিয়েও পেমেন্ট করতে পারিনি, শেষে ঢাকায় এক বন্ধুকে বিকাশে টাকা পাঠিয়ে পেমেন্ট করে নিয়েছি।’

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী শাওন বলেন, ‘শুনেছি নগদের মাধ্যমে বিল পে করতে পারব, কিন্তু নগদের মাধ্যমে বিল পেমেন্টে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নামই নেই।’

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার বাসা কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে। এখানে বিকাশ, রকেট ছাড়া অন্য কোনো সেবাই পাচ্ছি না।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক ড. কাজী নাসির উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে নগদের চুক্তি হয়ে গেছে। এখন আইটি দপ্তরের কিছু কাজ বাকি আছে, সেগুলো সম্পন্ন হলে নগদের মাধ্যমে বেতন, পরীক্ষার ফিসহ অন্যান্য পরিশোধযোগ্য ফি দেয়া যাবে৷ এখন শিওরক্যাশের মাধ্যমে ফি নেয়া হচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের নেটওয়ার্ক অ্যান্ড আইটি দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার আচার্য্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে কাজ মোটামুটি কমপ্লিট। এখন নগদের কিছু কাজ বাকি আছে, তাদের কাজ শেষ হলে বলতে পারব কবে থেকে শিক্ষার্থীরা ফি দিতে পারবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, ‘যদি কোথাও এজেন্ট খুঁজে না পাওয়া যায়, আামাদের বা বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে জানালে আমরা অবশ্যই বিকল্প ব্যবস্থা নেব।’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদকে ফোন দেয়া হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।

আরও পড়ুন:
শিক্ষার মান-গবেষণা বৃদ্ধি মূল চ্যালেঞ্জ: জবির নতুন উপাচার্য
মুচলেকা নিয়ে পরীক্ষা নেবে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউরের যোগদান
জগন্নাথে ছাত্রীহলে প্রাধান্য পাবেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা

শেয়ার করুন

কওমি মাদ্রাসা খুলে দেয়ার দাবি

কওমি মাদ্রাসা খুলে দেয়ার দাবি

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কওমি মাদরাসা খুলে দেয়ার দাবি জানায় জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ। ছবি: নিউজবাংলা

‘কওমি মাদ্রাসা এবং সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঝে চরিত্রগত মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। তাই বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।প্রতিটি কওমি মাদ্রাসায় এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং রয়েছে। তা সত্ত্বেও কওমি মাদ্রাসা বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে হাজার হাজার এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থী খাদ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। যা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।’

কওমি মাদ্রাসাসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ।

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি মাওলানা নুরুল হুদা ফয়েজী।

সংগঠনটি ৫৬০টি মডেল মসজিদে দক্ষ জনবল নিয়োগ দেয়ারও দাবি জানায়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘সরকার সব এতিমখানা চালু রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। এটা ভালো সিদ্ধান্ত।

‘এর আওতায় সব কওমি মাদ্রাসাও অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত। কারণ প্রতিটি কওমি মাদ্রাসায় এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং রয়েছে। তা সত্ত্বেও কওমি মাদ্রাসা বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে হাজার হাজার এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থী খাদ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। যা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।’

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘কওমি মাদ্রাসা এবং সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঝে চরিত্রগত মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। তাই বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ কওমি মাদ্রাসা সামাজিক নিরাপত্তাবলয় তৈরিতেও অবদান রাখে।’

সংবাদ সম্মেলনে মানবিক ও সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে দেশের সব কওমি মাদ্রাসা খুলে দেয়ার মাধ্যমে লাখ লাখ শিক্ষার্থী, এতিম ও অসহায় মানুষের আবাসন ও খাদ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

মডেল মসজিদ প্রসঙ্গ

নুরুল হুদা ফয়েজী বলেন, ‘সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রজেক্টকে আমরা সাধুবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।

‘তবে মডেল মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য যে বেতনকাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে; তা রীতিমতো অসম্মানজনক ও বৈষম্যমূলক। ইমাম পদের যোগ্যতা হিসেবে হাফেজ, দাওরা/কামিল, মুফতি, মুহাদ্দিস চাওয়া হয়েছে। মাস্টার্স ও উচ্চতর ডিগ্রির বিপরীতে যে বেতনকাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে, তা কিছুতেই সুবিবেচনাপ্রসূত নয়।

তিনি বলেন, ‘মডেল মসজিদের ইমাম-খতিবদের জন্য প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের মর্যাদা ও বেতন-ভাতা, মুয়াজ্জিনদের জন্য দ্য়বিতী শ্রেণি এবং খাদেমদের জন্য তৃতীয় শ্রেণির মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানের দাবি জানাচ্ছি। মসজিদ নির্মাণে ইতোমধ্যেই দুর্নীতির কথা শোনা যাচ্ছে। যা দুঃখজনক।’

কুরবানির চামড়া

নুরুল হুদা ফয়েজী বলেন, ‘বিগত কয়েক বছর ধরে সরকারের ভুল নীতি ও সিদ্ধান্তহীনতায় রপ্তানি আয়ের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থান হারিয়ে চামড়া খাত তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও কওমি মাদ্রাসার ওপরে। অনতিবিলম্বে চামড়া খাতের অব্যবস্থাপনা, সিদ্ধান্তহীনতা দূর করে চামড়াশিল্পকে শক্তিশালী করুন। কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমোদন দিন।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি হেমায়েতুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা কামাল উদ্দিন সিরাজসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
শিক্ষার মান-গবেষণা বৃদ্ধি মূল চ্যালেঞ্জ: জবির নতুন উপাচার্য
মুচলেকা নিয়ে পরীক্ষা নেবে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউরের যোগদান
জগন্নাথে ছাত্রীহলে প্রাধান্য পাবেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা

শেয়ার করুন