স্কুল খোলা নিয়ে চাপ, আছে উদ্বেগও

দীর্ঘ সময় ধরে স্কুল বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাসে শিশুদের এমন উচ্ছ্বাস যেন স্মৃতি হয়ে গেছে। ছবি: নিউজবাংলা

স্কুল খোলা নিয়ে চাপ, আছে উদ্বেগও

‘আমরা ভিকারুননিসা পরিবার’ নামে একটি ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বলা হয়, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ১২ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে ১৫ দিন, ৩০ দিন করে সময় না বাড়িয়ে আপাতত ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো দরকার বলে মনে করি।’ এমন বক্তব্যে সমর্থনের পাশাপাশি অনেক অভিভাবক স্কুল খোলা নিয়ে তির্যক মন্তব্য করেছেন।

করোনাভাইরাস মহামারিতে এক বছরের বেশি সময় বন্ধ রয়েছে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সন্তানের শিক্ষাজীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। স্কুলে যাওয়ার জন্য উদ্‌গ্রীব হয়ে আছে শিক্ষার্থীরাও। বিশেষ করে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের ‘গৃহবন্দি’ শিক্ষার্থীরা। সরকারও সচেষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি করোনার চলমান পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে নাকি বন্ধই থাকবে, এ বিষয়ে দ্বিমুখী চাপের কথা জানিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি আরও জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৩ জুন খুলে দেয়ার চেষ্টা থাকলেও খুলে দেয়ার মেসেজ থেকে বন্ধ রাখার মেসেজ বেশি পাওয়া যাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে নিউজবাংলা কথা বলেছে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে।

মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অধিকাংশ ১৩ জুন স্কুল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে নন। তারা বলছেন, করোনা সংক্রমণের ন্যূনতম ঝুঁকি থাকা অবস্থায় ‘টেস্ট কেস’ হিসেবে স্কুল খোলা সঠিক হবে না। কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার ক্ষতি মেনে নেয়া কষ্টকর। কিন্তু সে ক্ষতি পোষাতে তাদের জীবনের ঝুঁকিতে ফেলা যাবে না।

এদিকে মাসের পর মাস বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে প্রায় সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্ডারগার্টেনের উদ্যোক্তারা পড়েছেন মহাসংকটে। তারা চাইছেন, যত দ্রুত সম্ভব স্কুল খুলে দেয়া হোক। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো পরিস্থিতি হয়নি।

স্কুল খোলা নিয়ে চাপ, আছে উদ্বেগও

রাজধানীর বন্ধ থাকা কদমতলী এলাকার রেঁনেসা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এক শিক্ষার্থী। ছবি: নিউজবাংলা

অভিভাবকরা বলছেন, বেসরকারি স্কুলগুলো আর্থিক সংকটে পড়েছে। তাই তারা দ্রুত স্কুল খোলার পক্ষে। শিশুদের শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা নিচ্ছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু বেশির ভাগের সেদিকে নজর নেই। আর সরকারি বিদ্যালয়ে অনলাইনে শিক্ষার ব্যবস্থা করা যায়নি নানা কারণে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে আর্থিক সংকটে পড়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল। প্রতিষ্ঠানটি গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে একটি বিজ্ঞপ্তি দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে ঈদের ছুটির আগে ১২ তারিখের মধ্যে চলতি মাসের বেতন চাওয়া হয় অভিভাবকদের কাছে। এ নিয়ে তুমুল প্রতিক্রিয়া হয়। ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বেতন দেননি।

১৩ জুন স্কুল খুলতে পারে, এমন খবরে এই স্কুলের অভিভাবক ফোরাম অনলাইনে তীব্র সমালোচনা করেছে।

‘আমরা ভিকারুননিসা পরিবার’ নামে একটি ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বলা হয়, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ১২ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে ১৫ দিন, ৩০ দিন করে সময় না বাড়িয়ে আপাতত ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো দরকার বলে মনে করি।’

স্কুল খোলা নিয়ে চাপ, আছে উদ্বেগও

এমন বক্তব্যে সমর্থনের পাশাপাশি অনেক অভিভাবক স্কুল খোলা নিয়ে তির্যক মন্তব্য করেছেন।

মিজানুর রহমান নামের এক অভিভাবক লিখেন, ‘করোনা মহামারি চলাকালে যেসব অভিভাবক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে সম্মতি দেবেন, তারা মূর্খ, পাগল, বিকৃত মনমানসিকতার পিতা-মাতা।’

মিরপুরের একটি বেসরকারি প্রাথমিক স্কুলের দুই শিক্ষার্থীর বাবা কাওসার চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্কুল বন্ধ থাকায় বাচ্চারা অস্থির হয়ে গেছে। ওদের আর বাসায় আটকে রাখা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। কিন্তু করোনার যে খবর শুনছি, তাতে ওদের স্কুলে পাঠানোর সাহস করছি না। বেঁচে থাকলে পড়ালেখা করতে পারবে। আগে করোনা যাক, তারপর স্কুল খুলুক।’

আরেক অভিভাবক সাজিয়া আফরিন বলেন, ‘বাচ্চাদের জন্য ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্কুলে পাঠাব না। সবকিছু মেনে নিলেও বাচ্চার ক্ষতি মানতে পারব না।’

অভিভাবকদের অনেকে বলছেন, পরিস্থিতি ও প্রয়োজন বিবেচনায় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খোলার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। তবু সেখানে টিকাদানসহ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত আরও দেরিতে নেয়াটাই যুক্তিযুক্ত হবে।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান এম ইকবাল বাহার চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক বছরেরও বেশি সময় আমাদের স্কুলগুলো বন্ধ। সামনে কবে খুলবে আমরা তা-ও জানি না।

‘সারা দেশে ৬০ হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুলের মধ্যে করোনার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। ধার-দেনা করে অনেক দিন চলেছি। কিন্তু এখন কেউ ধার দিতেও রাজি নন। আমরা কীভাবে বেঁচে আছি সেটা বলে বোঝানো যাবে না।’

এম ইকবাল বাহার বলেন, ‘কিছুদিন আগেও সরকার আমাদের স্কুল খুলে দেবে বলে শুনেছিলাম। সে সময় আমরা ধার-দেনা করে স্কুলগুলো সংস্কার করে খোলার প্রস্তুতি নিলাম। কিন্তু স্কুল খুলল না। তখন থেকেই মূলত আমরা শেষ হয়ে গেছি।

‘তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব স্কুলগুলো খোলার ব্যবস্থা করুন। স্কুলে করোনা মোকাবিলায় আমরা সব ধরনের চেষ্টা করব।’

প্রধান শিক্ষক এখন খেলনার দোকানি

মোহাম্মদপুরের আদাবরে অবস্থিত গ্রিন লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল করোনার কারণে বন্ধ রয়েছে। জীবন চালাতে স্কুলের গেটের মুখে শিশুদের প্লাস্টিকের খেলনার দোকান সাজিয়ে বসেছেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক নুর আক্তার ডলি।

কেমন আছেন জানতে চাইলে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘কোনো রকমে বেঁচে আছি ভাই। কিন্তু কত দিন বেঁচে থাকব জানি না। এই খেলনার দোকান থেকে যা আয় করি, সেটা দিয়ে কোনো রকমে পেট চালাই। কিন্তু স্কুল চালাতে পারি না। প্রতি মাসে স্কুলের ভবন ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও পানির বিল দিতে হয়।

‘ধার-দেনা আর গ্রামের সম্পত্তি বেচে এত দিন চালিয়ে এসেছি। এখন আর পারছি না। আর কিছুদিন দেখব। তারপর সব ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই।’

স্কুল খোলা নিয়ে চাপ, আছে উদ্বেগও
স্কুলের গেটের মুখে শিশুদের প্লাস্টিকের খেলনার দোকান সাজিয়ে বসেছেন প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক নুর আক্তার ডলি। ছবি: নিউজবাংলা

করোনার কারণে ডলির মতো অসংখ্য শিক্ষক এখন আছেন অনিশ্চয়তায়।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে প্রায় ৬০ হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুলে প্রায় এক কোটি ছাত্র-ছাত্রী। শিক্ষক আছেন ১০ লাখ, যার মধ্যে ২০ শতাংশ স্থায়ীভাবে অন্য পেশায় চলে গেছেন।

শিক্ষকদের পক্ষ থেকে স্কুল খুলে দেয়ার দাবি জোরালো হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে। তবে প্রাপ্তবয়স্ক ছাত্র-ছাত্রীদের টিকার আওতায় এনে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত খোলা যেতে পারে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য ও করোনাবিষয়ক জাতীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের পর সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে আমরা যে ধারণা করেছি, সেটার ভালো করে ফলোআপ নিয়ে স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তাড়াহুড়া করলে হবে না। শিক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের জীবন বাঁচাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এখন সংক্রমণের হার এবং মৃত্যুর সংখ্যা কম দেখেই কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না। কারণ, শীতকালেও আমাদের সংক্রমণের হার কম ছিল। কিন্তু তখন দেশে লকডাউন ছিল না। এখনও লকডাউন চলছে। আবার সংক্রমণের হারও শীতকালের চেয়ে বেশি।

‘আমরা এখনও বুঝতেই পারছি না কেন আমাদের সংক্রমণের হার ওঠানামা করছে। আমার ধারণা, শীতকালে এমনিতেই আমরা অনেক দেশি ফ্লুতে (জ্বর, সর্দি, কাশি) আক্রান্ত হই। হয়তো এসব ফ্লুর মধ্যে বিদেশি ভাইরাস করোনা আমাদের বেশি আক্রান্ত করতে পারেনি।’

এই ভাইরোলজিস্ট বলেন, ‘তাই আমাদের আগে ভালো করে গবেষণা করতে হবে, কেন আমাদের দেশে করোনা সংক্রমণ কখনো কম, কখনো বেশি হচ্ছে। গবেষণার সেই তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক ডা. বেনজির আহমেদ মনে করেন, প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের টিকা দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া উচিত। তবে কম বয়স্কদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে আরও একটু পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘স্কুল-কলেজ আমাদের আরও অনেক আগেই খুলে দেয়া উচিত ছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং প্রাপ্তবয়স্ক ছাত্র-ছাত্রীদের টিকার আওতায় এনে এটা করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি আমরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতাম তাহলে সংক্রমণ হয়তো বাড়ত না। আবার ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষাজীবনও ব্যাহত হতো না।’

বেনজির আরও বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব প্রাপ্তবয়স্ক ছাত্র-ছাত্রীদের টিকার আওতায় এনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে। তবে কম বয়স্ক ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর একটু পর্যবেক্ষণ করে খোলা উচিত হবে।’

আরও পড়ুন:
স্কুল-কলেজ খুলতে প্রস্তুতির নির্দেশ
৩০ মার্চই খুলছে স্কুল-কলেজ
স্কুলের ছাদ ঢালাইয়ে নিম্নমানের খোয়া, বন্ধ করল জনতা
স্কুল খুলছে কবে, অপেক্ষায় রাখল সরকার
মে মাসে এসএসসি পরীক্ষার ইঙ্গিত মন্ত্রীর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এসএসসির সনদ বিতরণ শুরু ২০ জুন

এসএসসির সনদ বিতরণ শুরু ২০ জুন

নির্দেশনায় বলা হয়, আগামী ২০ জুন থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়ে চলবে ৭ জুলাই পর্যন্ত। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ৪ নং ভবনের ষষ্ঠতলা থেকে সনদ সংগ্রহ করা যাবে।

২০২০ শিক্ষাবর্ষের এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীদের মূল সনদ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

আগামী ২০ জুন থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (সনদ) মো. হেলাল উদ্দিনের সই করা একটি নির্দেশনায় এ কথা জানানো হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, আগামী ২০ জুন থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়ে চলবে ৭ জুলাই পর্যন্ত। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ৪ নং ভবনের ষষ্ঠতলা থেকে সনদ সংগ্রহ করা যাবে।

এ ক্ষেত্রে ঢাকা বোর্ডের অধীনে উল্লিখিত দিনে নির্ধারিত জেলার সনদ প্রদান করা হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ২০ জুন, ফরিদপুর ২১ জুন, মুন্সিগঞ্জ ২২ জুন, রাজবাড়ী ২৩ জুন, গোপালগঞ্জ ২৪ জুন, নরসিংদী ২৭ জুন, মানিকগঞ্জ ২৯ জুন, শরীয়তপুর ২৯ জুন, মাদারীপুর ৩০ জুন, গাজীপুর ১ জুলাই, ঢাকা জেলা ৪ জুলাই, ঢাকা মহানগর ৪ জুলাই, টাঙ্গাইল ৬ জুলাই এবং কিশোরগঞ্জ ৭ জুলাই।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল সনদপত্র গ্রহণ করার জন্য কতজন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে, তার বিরবণসহ প্রধান শিক্ষক অথবা দায়িত্বশীল প্রতিনিধিকে প্রাধিকারপত্র দিয়ে তিনটি নমুনা স্বাক্ষর সত্যায়িতসহ সনদপত্র গ্রহণ করতে হবে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ/প্রধান শিক্ষক নিজের পাঠানো প্রতিনিধির বেলায় অর্থাৎ উভয় ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তের কপিসহ মূল সনদপত্র গ্রহণের জন্য আবেদনের ওপর উভয় স্তরের কমিটির সভাপতি ও চেয়ারম্যান অথবা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিস্বাক্ষর আনতে হবে। অন্যথায় সনদপত্র দেয়া হবে না।

আরও পড়ুন:
স্কুল-কলেজ খুলতে প্রস্তুতির নির্দেশ
৩০ মার্চই খুলছে স্কুল-কলেজ
স্কুলের ছাদ ঢালাইয়ে নিম্নমানের খোয়া, বন্ধ করল জনতা
স্কুল খুলছে কবে, অপেক্ষায় রাখল সরকার
মে মাসে এসএসসি পরীক্ষার ইঙ্গিত মন্ত্রীর

শেয়ার করুন

নোবিপ্রবি ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা

নোবিপ্রবি ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা

নুর হোসেন বাবু (বাঁয়ে) ও সাহরাজ উদ্দীন জিহান।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কমিটিতে নুর হোসেন বাবুকে আহ্বায়ক এবং সাহরাজ উদ্দীন জিহানকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ১৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

বুধবার রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের এই কমিটি গঠন করা হয়।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কমিটিতে নুর হোসেন বাবুকে আহ্বায়ক এবং সাহরাজ উদ্দীন জিহানকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে আছেন মো. আমিনুল ইসলাম, মো. আরমান খান আশিক, মো. ওমর ফারুক সুমন, নূর পাশা সুফিয়ান, মো. রুবেল উদ্দীন।

সদস্যপদ পেয়েছেন গাজী মোহাম্মদ সালেহ উদ্দীন, মো. মাহমুদুল হাসান, নুরল হুদা বাবু, হাসান জামিল, সাইফুল ইসলাম, বেলাল হোসাইন, সাজ্জাদ হোসাইন, মো. জোনায়েদ আহম্মেদ, মো. ইলিয়াস ও আকরাম হোসেন।

নোবিপ্রবি ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক নুর হোসেন বাবু বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি গঠিত হলো। এর আগে আমরা একাধিকবার ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা চেষ্টা করেও নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করতে পারিনি।

‘দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করতে দেয়ায় কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে সহাবস্থান বজায় রেখে রাজনীতি করতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যেকোনো ন্যায্য দাবিতে এবং অধিকার আদায়ে আমরা কাজ করব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনকে সব রকম সহযোগিতা করব। পাশাপাশি সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ ও গতিশীল করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাব।’

আরও পড়ুন:
স্কুল-কলেজ খুলতে প্রস্তুতির নির্দেশ
৩০ মার্চই খুলছে স্কুল-কলেজ
স্কুলের ছাদ ঢালাইয়ে নিম্নমানের খোয়া, বন্ধ করল জনতা
স্কুল খুলছে কবে, অপেক্ষায় রাখল সরকার
মে মাসে এসএসসি পরীক্ষার ইঙ্গিত মন্ত্রীর

শেয়ার করুন

জগন্নাথের শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি

জগন্নাথের শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি

বিজ্ঞপ্তিতে বৃত্তি প্রাপ্তির বিবেচ্য বিষয়াবলির মধ্যে বাবার বার্ষিক আয়, মায়ের বার্ষিক আয়, অভিভাবকের বার্ষিক আয় (বাবার অবর্তমানে), বাবার চাকরি বা পেশার বিবরণ, মায়ের চাকরি বা পেশার বিবরণ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাবা ও মায়ের মৃত্যুসংক্রান্ত তথ্য, সংশ্লিষ্ট ছাত্র/ছাত্রীর মেধা ও উপস্থিতি এবং আচরণ, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট ছাত্র/ছাত্রীর কোনো ভাই-বোন অধ্যয়ন করে কি না এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের কোর্স কো-অর্ডিনেটরের মতামত উল্লেখ রয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেয়ার লক্ষ্যে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ ব্যতীত অন্যান্য শিক্ষাবর্ষের মোট শিক্ষার্থীর ৫ শতাংশের তালিকা পাঠাতে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার উপাচার্যের আদেশক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনা মহামারির কারণে বিশেষ বিবেচনায় বৃত্তি প্রদানের লক্ষ্যে ইনস্টিটিউট/বিভাগ হতে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ ব্যতীত অন্য শিক্ষাবর্ষের মোট শিক্ষার্থীর ৫ শতাংশের তালিকা আগামী ২৩ জুনের মধ্যে রেজিস্ট্রার দপ্তরে হার্ডকপি ও ই-মেইলে ([email protected]) সফট কপি পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বৃত্তি প্রাপ্তির বিবেচ্য বিষয়াবলির মধ্যে বাবার বার্ষিক আয়, মায়ের বার্ষিক আয়, অভিভাবকের বার্ষিক আয় (বাবার অবর্তমানে), বাবার চাকরি বা পেশার বিবরণ, মায়ের চাকরি বা পেশার বিবরণ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাবা ও মায়ের মৃত্যুসংক্রান্ত তথ্য, সংশ্লিষ্ট ছাত্র/ছাত্রীর মেধা ও উপস্থিতি এবং আচরণ, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট ছাত্র/ছাত্রীর কোনো ভাই-বোন অধ্যয়ন করে কি না এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের কোর্স কো-অর্ডিনেটরের মতামত উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়াও ছক আকারে শিক্ষার্থীদের সিরিয়াল নম্বর, ইনস্টিটিউট/বিভাগের নাম, আইডি নম্বর, নাম ও মন্তব্য পাঠানোর জন্য বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
স্কুল-কলেজ খুলতে প্রস্তুতির নির্দেশ
৩০ মার্চই খুলছে স্কুল-কলেজ
স্কুলের ছাদ ঢালাইয়ে নিম্নমানের খোয়া, বন্ধ করল জনতা
স্কুল খুলছে কবে, অপেক্ষায় রাখল সরকার
মে মাসে এসএসসি পরীক্ষার ইঙ্গিত মন্ত্রীর

শেয়ার করুন

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ১০ হাজার কোটি টাকা

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ১০ হাজার কোটি টাকা

২০২১-২২ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব বাজেট পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সবচেয়ে কম বাজেট পেয়েছে সদ্য কার্যক্রম শুরু হওয়া হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

দেশের ৪৯টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২০২১-২২ অর্থবছরে ১০ হাজার ৩২ কোটি ৮১ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

এর মধ্যে ৫ হাজার ৮৭৫ কোটি ৮১ লাখ টাকার রাজস্ব বাজেট এবং ৪ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট।

বৃ্হস্পতিবার ইউজিসির বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এতে বলা হয়, গত অর্থবছরে ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে বাজেটে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৪৮৫ কোটি ১২ লাখ টাকা।

সে হিসেবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এ বছর বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা।

২০২১-২২ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব বাজেট পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সবচেয়ে কম বাজেট পেয়েছে সদ্য কার্যক্রম শুরু হওয়া হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

উচ্চশিক্ষায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার জন্য ২০২১-২২ অর্থবছরে মূল বাজেটে ১০০ কোটি ৭৪ লাখ বরাদ্দ ধরা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ৩৪ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে গবেষণায় মূল বাজেটে ৬৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছিল।

এ ছাড়া কমিশন ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউজিসির জন্য ৬১ কোটি ৩৬ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার জন্য ১৮ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ ধরা হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ৩ কোটি টাকা বেশি।

গবেষণা খাতে অধিক বরাদ্দ বিষয়ে ইউজিসির চেয়ারম্যান বলেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে গুণগত শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃজন করতে হবে। এ লক্ষ্য পূরণে ইউজিসি দেশের পাবলিক বিশ্ববদ্যিালয়ের গবেষণা খাতে উল্লেখযোগ্য হারে বাজেট বাড়িয়েছে।

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৬০তম কমিশন সভায় এ বাজেট অনুমোদিত হয়। সভার কার্যপত্র ও বাজেট উপস্থাপন করেন ইউজিসির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান।

আরও পড়ুন:
স্কুল-কলেজ খুলতে প্রস্তুতির নির্দেশ
৩০ মার্চই খুলছে স্কুল-কলেজ
স্কুলের ছাদ ঢালাইয়ে নিম্নমানের খোয়া, বন্ধ করল জনতা
স্কুল খুলছে কবে, অপেক্ষায় রাখল সরকার
মে মাসে এসএসসি পরীক্ষার ইঙ্গিত মন্ত্রীর

শেয়ার করুন

৭ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা ৪ সেপ্টম্বর

৭ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা ৪ সেপ্টম্বর

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হচ্ছে: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

দেশের সাতটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের (২০২০-২১) গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ সেপ্টম্বর, যা হওয়ার কথা ছিল ৩১ জুলাই।

বুধবার কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গিয়াসউদ্দিন মিয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কৃষিশিক্ষা প্রাধান্য বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ আগামী ৩১ জুলাইয়ের পরিবর্তে ৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ড. মো. গিয়াসউদ্দিন মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

দ্বিতীয়বারের মতো কৃষি বিজ্ঞান বিষয়ে ডিগ্রি প্রদানকারী সাতটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হচ্ছে: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও পড়ুন:
স্কুল-কলেজ খুলতে প্রস্তুতির নির্দেশ
৩০ মার্চই খুলছে স্কুল-কলেজ
স্কুলের ছাদ ঢালাইয়ে নিম্নমানের খোয়া, বন্ধ করল জনতা
স্কুল খুলছে কবে, অপেক্ষায় রাখল সরকার
মে মাসে এসএসসি পরীক্ষার ইঙ্গিত মন্ত্রীর

শেয়ার করুন

পত্রিকায় উপাচার্যের কার্টুন: ঢাবির প্রতিবাদ

পত্রিকায় উপাচার্যের কার্টুন: ঢাবির প্রতিবাদ

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানকে নিয়ে সম্প্রতি ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করে একটি ইংরেজি দৈনিক। ফাইল ছবি

ডেইলি স্টারে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তুলনা করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাকালে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় যখন গবেষণা করছে, তখন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাস্তার ওপর বাঁশ দিয়ে বহিরাগতদের চলাচল সীমিত করতে ব্যস্ত।

সম্প্রতি একটি পত্রিকায় প্রকাশিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের একটি ব্যঙ্গচিত্রকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে মন্তব্য করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গঠনমূলক সমালোচনা সহ্য করার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শ্রদ্ধাশীল।’

‘তবে কেউ যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সমালোচনার রীতিনীতি ও মূল্যবোধ উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মানহানি ঘটায় তাহলে দেশের আইন তার যে প্রতিকার দেয় সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল।’

সম্প্রতি ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারে ‘Oxford of the East: A moniker that couldn't ring hollower’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের একটি ব্যঙ্গচিত্রও আঁকা হয়েছে।

ইংরেজি দৈনিকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তুলনা করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাকালে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় যখন গবেষণা করছে, তখন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাস্তার ওপর বাঁশ দিয়ে বহিরাগতদের চলাচল সীমিত করতে ব্যস্ত।

প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ক্যাফেটরিয়াতে স্বল্প মূল্যে পাওয়া চা, চপ, শিঙাড়া নিয়ে ২০১৯ সালে নবীন শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপাচার্যের দেয়া বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা করা হয়।

এর প্রতিবাদে জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সেদিনের বক্তব্যকে খণ্ডিতভাবে প্রচার করা হয়েছে। যমুনা টেলিভিশনের এক সাংবাদিক উপাচার্যের বক্তব্যের মূল অংশ কাটছাঁট করে ক্যাফেটরিয়ার বিভিন্ন খাবার আইটেমের মূল্যমান-সংক্রান্ত বক্তব্যের অংশবিশেষ নিয়ে ১৫-২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও তৈরি করে। যা ভাইরাল হয়ে যায়।’

‘সেদিন উপাচার্য মূলত নবাগত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাস্যরসে ক্যাফেটরিয়ার সাধারণ, স্বল্পমূল্যের খাবার মেন্যু ও সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধার অবারিত সেবা কার্যক্রমের কথা বলেছিলেন।’

এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি কোনো কোনো দায়িত্বশীল মহল বিভিন্নভাবে বিষয়টি যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করছে, যা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত।

ইংরেজি দৈনিকের প্রতিবেদনে করোনা মহামারির সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা তুলে ধরে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে সাড়া দেয়নি। কোভিড-১৯ টেস্টিং কার্যক্রম শুরু করে বেশ দেরিতে। কিছুদিন পর আবার ল্যাব বন্ধ করে দেয়।

এই বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর দাবি করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোনো বিলম্ব ছাড়াই ১৯ মার্চ ২০২০ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞানী, জিন প্রকৌশলী ও প্রাণরসায়নবিদদের নিয়ে প্রথম "COVID-19 (Pandemic) রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন কমিটি” গঠন করা হয়।

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব উদ্যোগে বায়োসেফটি নিশ্চিত করে তিন সপ্তাহে তৈরি করা হয় কোভিড-১৯ টেস্টিং ল্যাব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন পাওয়ার পর ৫ মে ২০২০ এটির উদ্বোধন করা হয়। সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং কয়েকজন শিক্ষক দ্বারা এটি পরিচালিত হতে থাকে। কোভিড-১৯ টেস্টের জন্য হাসপাতাল বা ডেডিকেটেড ল্যাবের মতো কোনো ল্যাব ও প্রশিক্ষিত জনবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল না। এ পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানিয়ে টেস্টিং কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করা হয়েছিল; ল্যাব বন্ধ করে দেয়া হয়নি। ১০ দিন পর যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে, জনবল সংগ্রহ করে পুনরায় টেস্টিং সেবা কার্যক্রম শুরু হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অস্বীকার করার উপায় নেই, অক্সফোর্ড বা জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মৌলিক গবেষণা পরিচালনা করে টিকা/ঔষধ আবিষ্কার বা টেস্টিং কিট উদ্ভাবন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করতে পারেনি। তবে এর কারণ বোধকরি অনেকেই জানেন।

আরও পড়ুন:
স্কুল-কলেজ খুলতে প্রস্তুতির নির্দেশ
৩০ মার্চই খুলছে স্কুল-কলেজ
স্কুলের ছাদ ঢালাইয়ে নিম্নমানের খোয়া, বন্ধ করল জনতা
স্কুল খুলছে কবে, অপেক্ষায় রাখল সরকার
মে মাসে এসএসসি পরীক্ষার ইঙ্গিত মন্ত্রীর

শেয়ার করুন

শিক্ষা চ্যানেল করার চিন্তা সরকারের

শিক্ষা চ্যানেল করার চিন্তা সরকারের

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, সারা বছরই যাতে শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল ক্লাসে অংশ নিতে পারে তার জন্য একটি ডেডিকেটেড চ্যানেল চালুর বিষয়টি বিবেচনাধীন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এই টিকা কর্মসূচি আবাসিক শিক্ষার্থীদের দিয়ে শুরু হবে। আবাসিক শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার পর হলগুলো খুলে দেয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি ক্লাস শুরু হবে।’

চলমান করোনা পরিস্থিতির আলোকে সারা বছর শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে একটি স্বতন্ত্র টেলিভিশন চ্যানেল চালুর চিন্তা করছে সরকার।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

তিনি বলেন, সারা বছরই যাতে শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল ক্লাসে অংশ নিতে পারে, তার জন্য একটি ডেডিকেটেড চ্যানেল চালুর বিষয়টি বিবেচনাধীন।

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নওগাঁ-২ আসনের এমপি শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

২০২০ সালে দেশে করোনাভাইরাস মহামারির প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক দফা চেষ্টা করেও আর শ্রেণিকক্ষে ক্লাস শুরু করা যায়নি।

সংসদ টিভি ও অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পোষানোর চেষ্টা চলেছে। কিন্তু সে সুবিধা সবাই নিতে পারছে না।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে পরীক্ষাও নেয়া হচ্ছে।

টিকা দেয়ার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পাঠ দেয়া শুরু হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাইকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাসের টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে।’

‘এই টিকা কর্মসূচি আবাসিক শিক্ষার্থীদের দিয়ে শুরু হবে। আবাসিক শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার পর হলগুলো খুলে দেয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি ক্লাস শুরু হবে।’

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পূরণে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সক্ষমতা ও বাস্তবতা অনুযায়ী ‘পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা’ তৈরি এবং তা বাস্তবায়নে কাজ শুরুর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে একটি ‘গাইডলাইন’ করে দেয়া হবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘করোনা মহামারির ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।’

‘২০ হাজার ৪৯৯টি স্কুলের মধ্যে ১৫ হাজার ৬৭৬টি এবং চার হাজার ২৩৮টি কলেজের মধ্যে ৭০০টি কলেজ অনলাইন ক্লাস চালু করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনলাইন ক্লাস নেয়া হচ্ছে।’

সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী ইসলামের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশে ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে। যেসব জেলায় একটিও বিশ্ববিদ্যালয় নেই, সেখানে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে।

সরকারি দলের শহীদুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। নীতিমালার আলোকে যোগ্যতার ভিত্তিতে এমপিওহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করা হয়ে থাকে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত নয়, তাদের এমপিওভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

আরও পড়ুন:
স্কুল-কলেজ খুলতে প্রস্তুতির নির্দেশ
৩০ মার্চই খুলছে স্কুল-কলেজ
স্কুলের ছাদ ঢালাইয়ে নিম্নমানের খোয়া, বন্ধ করল জনতা
স্কুল খুলছে কবে, অপেক্ষায় রাখল সরকার
মে মাসে এসএসসি পরীক্ষার ইঙ্গিত মন্ত্রীর

শেয়ার করুন