মুচলেকা নিয়ে পরীক্ষা নেবে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়

মুচলেকা নিয়ে পরীক্ষা নেবে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন, এবার অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। পরীক্ষা চলাকালীন হল বন্ধ থাকবে। শিক্ষার্থীদের নিজ উদ্যোগে মেসে কিংবা বাসায় থেকে স্বশরীরে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। তবে পরীক্ষা দেয়ার আগে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে মুচলেকা জমা দিতে হবে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী ১০ জুন থেকে স্বশরীরে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেবে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের মুচলেকা দিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের ডিনদের সভায় সোমবার এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. ফজলুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আগামী ১০ জুন থেকে যেকোনো অনুষদ কিংবা বিভাগ চাইলে পরীক্ষা নিতে পারবে। তবে ১০ জুনের আগে কোনো পরীক্ষা নেয়া হবে না।

তিনি বলেন, এবার অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। পরীক্ষা চলাকালীন হল বন্ধ থাকবে। শিক্ষার্থীদের নিজ উদ্যোগে মেসে কিংবা বাসায় থেকে স্বশরীরে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। তবে পরীক্ষা দেয়ার আগে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে মুচলেকা জমা দিতে হবে।

তিনি আরও জানান, বিদেশি শিক্ষার্থীরা যেন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন সেজন্য সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন বা চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক ড. ইমরান পারভেজ জানান, পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষার্থীরা যেন নিরবিচ্ছিন্নভাবে চিকিৎসা সেবা পায় সে লক্ষ্যে মেডিকেল টিম গঠন করা হবে।

আরও পড়ুন:
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউরের যোগদান
জগন্নাথে ছাত্রীহলে প্রাধান্য পাবেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা
‘ভাড়াটিয়া’ উপাচার্য চান না জবি শিক্ষার্থীরা
১৬ বছরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ: ফলের অসংগতি দূর করার দাবি

৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ: ফলের অসংগতি দূর করার দাবি

ফলাফলের অসঙ্গতি দূর করার দাবি করেছে নিয়োগ প্রতাশীরা। ফাইল ছবি

এনটিআরসিএর গণবিজ্ঞপ্তিতে পরে যেন ৩৫ বছর বয়সী প্রার্থীদের প্রাধান্য দেয়া হয়, সে বিষয়টিতে নজর রাখার কথা বলা হয়।

৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রকাশিত তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তির ফলাফলে যেসব অসংগতি বা অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো আমলে নিয়ে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছে গণবিজ্ঞাপ্তিপ্রত্যাশী শিক্ষক ফোরাম।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার এ দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন ও চূড়ান্ত সুপারিশ দ্রুত শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। পরে নিয়োগ কার্যক্ৰমে যেন সংরক্ষিত পদ ও ইনডেক্সমুক্ত হয়, সে বিষয়টি খেয়াল রাখার জন্য এনটিআরসিএর কাছে দাবি জানানো হয়।

পরের গণবিজ্ঞপ্তিতে ৩৫ বছর বয়সী প্রার্থীদের যেন প্রাধান্য দেয়া হয়, সে বিষয়টিতে নজর রাখার কথাও বলা হয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ফল গত ১৫ জুলাই রাতে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে এনটিআরসিএ।

৫১ হাজার ৭৬১টি পদে সুপারিশ করার কথা থাকলেও সুপারিশ করা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৮৬ জন প্রার্থীকে। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩৪ হাজার ৬১০ জনকে এবং নন-এমপিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৬৭৬ জনকে সুপারিশ করা হয়।

আর ৮ হাজার ৪৪৮টি পদে কোনো আবেদন না পাওয়ায় এবং ৬ হাজার ৭৭৭টি মহিলা কোটা পদে মহিলা প্রার্থী না পাওয়ায় ১৫ হাজার ৩২৫টি পদে ফল দেয়া সম্ভব হয়নি।

এর আগে ১৫ জুলাই এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়োগ নিয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তিনি জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৪ হাজার শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ দিতে আবেদন-প্রক্রিয়া শেষ করা হলেও আদালতে মামলার কারণে আবেদনকারীদের ফলাফল এতদিন প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষক নিবন্ধনের ১ থেকে ১২তম পর্যন্ত পাস করেও চাকরি না পাওয়া ২ হাজার ৫০০ জনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে এনটিআরসিএকে সুপারিশ করে রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট। সে রায় ২৮ জুন বাতিল করে দেয় আপিল বিভাগ।

চলতি বছরের ৩০ মার্চ তৃতীয় ধাপে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫৪ হাজার ৩০৪ শিক্ষক নিয়োগে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ।

গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৫৪ হাজার ৩০৪টি শূন্যপদের মধ্যে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ৩১ হাজার ১০১টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত পদ ২৬ হাজার ৮৩৮টি। মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদ ২০ হাজার ৯৯৬টি। এর মধ্যে ১৯ হাজার ১৫৪টি এমপিওভুক্ত। আর ২ হাজার ২০৭টি এমপিও পদে রিট মামলায় অংশগ্রহণদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়।

আরও পড়ুন:
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউরের যোগদান
জগন্নাথে ছাত্রীহলে প্রাধান্য পাবেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা
‘ভাড়াটিয়া’ উপাচার্য চান না জবি শিক্ষার্থীরা
১৬ বছরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন

ডেঙ্গু বিস্তার রোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৪ নির্দেশনা

ডেঙ্গু বিস্তার রোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৪ নির্দেশনা

ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশা। ছবি: কবিরুল বাশার

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায়, শিক্ষা অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন, খোলা জায়গা, মাঠ, ফুলের টব, পানির পাম্প বা পানি জমে এমন পাত্র, ফ্রিজ বা এসির পানি জমার ট্রে, পানির ট্যাপের আশেপাশের জায়গা, বাথরুম, বাথরুমের কমোড, গ্যারেজ, নির্মাণাধীন ভবন, লিফট, সিঁড়ি, পরিত্যাক্ত বস্তু যেসবে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল হতে পারে বা দুই দিনের বেশি পানি জমতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা অফিস ও এর আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার করাসহ চার নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের নির্দেশও দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ জন্য ৪ দফা নির্দেশনা আদেশ জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনাগুলো হলো:

১. মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন ও আশেপাশের খোলা জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

২. শিক্ষা অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন, খোলা জায়গা, মাঠ, ফুলের টব, পানির পাম্প বা পানি জমে এমন পাত্র, ফ্রিজ বা এসির পানি জমার ট্রে, পানির ট্যাপের আশেপাশের জায়গা, বাথরুম, বাথরুমের কমোড, গ্যারেজ, নির্মাণাধীন ভবন, লিফট, সিঁড়ি, পরিত্যাক্ত বস্তু যেসবে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল হতে পারে বা দুই দিনের বেশি পানি জমতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. শিক্ষকদের অনলাইন ও ভার্চুয়াল ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের করোনা ও ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের অনুরোধ জানাতে হবে।

৪. শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে স্থানীয় প্রশাসন. স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় সরকর প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে।

চলতি বছর করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই দেশে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে।

এখন প্রতিদিনই ঢাকায় অন্তত ২০০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

জুলাইয়ে দুই হাজার ২৮৬ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। জুন মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৭২। উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতাল সুনির্দিষ্ট করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু সন্দেহে চারজনের মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে।

২০১৯ সালে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তারে আক্রান্ত হয় ১ লাখের বেশি মানুষ। যাদের মধ্যে মারা যায় ১৭৯ জন। গত বছর সংক্রমণের মাত্রা অনেকটা কম থাকলেও এ বছর পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে।

করোনার মধ্যে ডেঙ্গুর এই বিস্তার নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে সরকার। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র এডিস মশা নির্মূলে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। নগরীর বিভিন্ন ভবনে অভিযান চালিয়ে এডিস বিস্তারের পরিবেশ থাকায় জরিমানা করা হয়েছে। সচেতনতা বাড়াতে চলছে প্রচারণা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়ায় মশার মাধ্যমে। আর অন্য মশার সঙ্গে ডেঙ্গুর ভাইরাসবাহী এডিস মশার পার্থক্য আছে। মূলত এই মশাগুলোর জন্ম হয় আবদ্ধ পরিবেশে। ফলে নাগরিকরা সচেতন না হলে এই রোগ প্রতিরোধ করা কঠিন।

২০১৯ সালে ডেঙ্গু রোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পর গত বছর সতর্ক অবস্থানে ছিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। তারপরও ২০২০ সালে সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ১ হাজার ৪০৫ জন, যাদের মধ্যে ৬ জন মারা যান।

আরও পড়ুন:
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউরের যোগদান
জগন্নাথে ছাত্রীহলে প্রাধান্য পাবেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা
‘ভাড়াটিয়া’ উপাচার্য চান না জবি শিক্ষার্থীরা
১৬ বছরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন

দাখিল-আলিম পরীক্ষাও হবে ৩ বিষয়ে

দাখিল-আলিম পরীক্ষাও হবে ৩ বিষয়ে

২০২১ সালের সাধারণ বিভাগের দাখিল পরীক্ষার্থীদের কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ, হাদিস শরিফ, ইসলামের ইতিহাস বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা হবে হাদিস শরিফ, পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে।

চলতি বছরের দাখিল ও আলিম পরীক্ষাও শুধু তিন বিষয়ে হবে। চতুর্থ বিষয় ও অন্যান্য আবশ্যিক বিষয়ের পরীক্ষা না নিয়ে সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ফল দেয়া হবে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে মঙ্গলবার রাতে জারি করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

যেসব বিষয়ে পরীক্ষা হবে

২০২১ সালের সাধারণ বিভাগের দাখিল পরীক্ষার্থীদের কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ, হাদিস শরিফ, ইসলামের ইতিহাস বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।

বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা হবে হাদিস শরিফ, পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে।

মুজাব্বিদ বিভাগের পরীক্ষার্থীদের দিতে হবে কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ, হাদিস শরিফ, তাজভিদ নসর ও নজম বিষয়ের পরীক্ষা দিতে হবে। আর হিফজুল কোরআন বিভাগের পরীক্ষার্থীদের কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ, হাদিস শরিফ ও তাজভিদ বিষয়ের পরীক্ষা দিতে হবে।

২০২১ সালের সাধারণ বিভাগের শিক্ষার্থীদের কোরআন মাজিদ, হাদিস ও উসুলুল হাদিস, আল ফিকহ প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, ইসলামের ইতিহাস, বালাগাত ও মানতিক বিষয়ের পরীক্ষা হবে।

বিজ্ঞান বিভাগের আলিম পরীক্ষার্থীদের কোরআন মাজিদ, হাদিস ও উসুলুল হাদিস, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, রসায়ন প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা দিতে হবে। আর মুজাব্বিদ মাহির বিভাগের শিক্ষার্থীদের কোরআন মাজিদ, হাদিস ও উসুলুল হাদিস, আল ফিকহ প্রথম পত্র, আরবি সাহিত্য, তাজভিদ প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা দিতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২১ সালের দাখিল ও আলিম পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ডে চতুর্থ বিষয় পরিবর্তন বা সংশোধনের সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন:
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউরের যোগদান
জগন্নাথে ছাত্রীহলে প্রাধান্য পাবেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা
‘ভাড়াটিয়া’ উপাচার্য চান না জবি শিক্ষার্থীরা
১৬ বছরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে অনলাইন পরীক্ষার নিয়ম বদলাল বুয়েট

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে অনলাইন পরীক্ষার নিয়ম বদলাল বুয়েট

যেসব শিক্ষার্থীর দুইটা ডিভাইস নেই তাদের নতুন ডিভাইস কিনতে বিনা সুদে ৩০ হাজার টাকার ঋণ দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে অনলাইনে টার্ম ফাইনাল পরীক্ষার নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।

গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ৪৬৯তম জরুরি সভায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, টার্ম ফাইনাল পরীক্ষার মোট সময় দুই ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে আড়াই ঘণ্টা এবং অনলাইনে উত্তরপত্র জমা দেয়ার সময় ১৫ মিনিট থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩০ মিনিট।

এ ছাড়া এর আগের নীতিমালায় কোভিড ১৯ আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো নির্দেশনা না থাকলেও এবার যোগ করা হয়েছে সে নির্দেশনাও। এছাড়া পরীক্ষা প্রস্তুতির সময় ১০ দিন বাড়ানো হয়েছে।

বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ (ডিএসডব্লিউ) পরিচালক ড. মো. মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পরীক্ষা প্রস্তুতির সময়ের বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন, আগের নীতিমালায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা প্রস্ততির জন্য সময় ছিল তিন সপ্তাহ। এখন সেটি আরও ১০ দিন বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ আগে যে বিভাগের যেদিন পরীক্ষার তারিখ ছিল, এখন সে তারিখের ১০দিন পর পরীক্ষা হবে।

কোভিড ১৯ নিয়ে নির্দেশনার বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন, পরীক্ষার সময়ে কেউ যদি কোভিডে আক্রান্ত হয় পরীক্ষা শেষে সে যে পরীক্ষাটা মিস করেছে সেটি দেয়ার সুযোগ পাবে। এরকম সর্বোচ্চ তিনটা পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ থাকবে৷ এর বেশি মিস করলে সেগুলো অন্য আরেকটা টার্মে সম্পন্ন করতে হবে।

মিজানুর রহমান আরও বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন কেউ কিছু সময়ের জন্য ডিভাইসের সামনে উপস্থিত না থাকলে তার কোনো নম্বর কাটা হবে না। তবে এটির জন্য তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

এর আগে গত ৩০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের একডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনলাইন টার্ম ফাইনাল পরীক্ষার নীতিমালা প্রকাশ করা হয়। সে নীতিমালার একটি নিয়ম ছিল, পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার খাতা ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ দৃশ্যমান রেখে পরীক্ষার্থীকে সবসময় পরীক্ষায় ব্যবহৃত একটি ডিভাইসের (ডেস্কটপ/ল্যাপটপ/আইপ্যাড/স্মার্ট মোবাইল ফোন) ক্যামেরা চালু রেখে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি পরীক্ষা চলাকালীন প্রশ্নপত্র দেখা বা স্ক্যান করা অথবা উত্তরপত্র আপলোড করার জন্য প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে একটি অতিরিক্ত ডিভাইস (ডেস্কটপ/ল্যাপটপ/আইপ্যাড/স্মার্ট মোবাইল ফোন) সবসময় সঙ্গে রাখতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবারের জরুরি সভায় এ নিয়মে কোন সংশোধন আনা হয়নি। তবে যাদের দুইটা ডিভাইস নেই তাদের নতুন ডিভাইস কিনতে বিনা সুদে ৩০ হাজার টাকার ঋণ দেয়া হবে বলে জানানো হয়।

এ নিয়ে ছাত্র কল্যাণ দপ্তর থেকে বুধবার একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনলাইন টার্ম ফাইনাল পরীক্ষার সময়ে শিক্ষার্থীদেরকে সার্বক্ষণিকভাবে দুইটি ডিভাইস (ডেস্কটপ/ল্যাপটপ/আইপ্যাড/স্মার্ট মোবাইল ফোন) সঙ্গে রাখতে হবে। যে সব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা সংশ্লিষ্টে অতিরিক্ত ডিভাইস প্রয়োজন, তাদেরকে স্ব স্ব হল থেকে বিনা সুদে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন সুবিধা প্রাপ্তির জন্য স্ব স্ব হলের প্রভোস্ট বরাবরে আবেদন করার জন্য পরামর্শ দেয়া হলো।

আরও পড়ুন:
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউরের যোগদান
জগন্নাথে ছাত্রীহলে প্রাধান্য পাবেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা
‘ভাড়াটিয়া’ উপাচার্য চান না জবি শিক্ষার্থীরা
১৬ বছরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন

ভিকারুননিসায় ‘ব্যয় মানেই অনিয়ম’

ভিকারুননিসায় ‘ব্যয় মানেই অনিয়ম’

ছোট ছোট ব্যয় হলেও সবই নিয়মের বাইরে। খরচ হলেও নথিপত্র নেই। মালামাল কেনার দাবি করা হলেও আদৌ পণ্য এসেছে কি না, তার নিশ্চয়তা নেই। ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত রাজধানীর স্বনামধন্য স্কুলটিতে কী কী অনিয়ম হয়েছে, তা উঠে এসেছে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে।

ফেসবুকে ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপকে কেন্দ্রকে ফের আলোচনায় রাজধানীর নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এর মধ্যে নিউজবাংলার হাতে এলো নানা কাজের অজুহাতে প্রতিষ্ঠানটির যাচ্ছেতাই অর্থ খরচের নথি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির খরচের ৫ কোটি টাকা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

অনিয়মগুলো একেকটি টাকার অঙ্কে খুব বেশি নয়। তবে ছোট ছোট বেশ কিছু অনিয়ম এক হয়ে টাকার পরিমাণ বেশ বড় হয়ে দাঁড়ায়।

অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে দেখা যায়, আসবাবপত্র না পেয়েই বিল পরিশোধ, দরপত্রের বাইরে বিল পরিশোধ, বিল ভাউচার ছাড়াই টাকা খরচ, সরকারি কোষাগারে করের টাকা জমা না দেয়াসহ নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে স্কুলটিতে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত পাঁচ বছরে ভিকারুননিসার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, অধ্যক্ষ ও শিক্ষক-কর্মচারীরা আয়কর বাবদ ২ কোটি ১৮ লাখ টাকা পরিশোধ করেননি।

এ অনিয়মগুলো যখন হয়েছে, তখন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বেশ কয়েকজন। তারা হলেন ফেরদৌসী বেগম, কেকা রায় চৌধুরী, নাজনীন ফেরদৌস, হাসিনা বেগম, সুফিয়া বেগম ও ফৌজিয়া রেজওয়ান।

এদের মধ্যে কয়েকজন দুই থেকে ৬ মাস আর সবচেয়ে বেশি সোয়া এক বছর দায়িত্ব পালন করেছেন ফৌজিয়া। তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত।

অডিট আপত্তিতে উঠে আসা অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে ফৌজিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাকে অফিশিয়ালি বিষয়টি জানানো হয়নি। যদি জানানো হয়, তাহলে আমি জবাব দেব।’

অন্য দুই সাবেক অধ্যক্ষ ফেরদৌসী বেগম ও কেকা রায় চৌধুরীও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ফেরদৌসী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি দায়িত্ব ছেড়েছি অনেক আগে। এসব বিষয়ে কথা বলতে চাই না।’

কেকা বলেন, ‘এখন এসব বিষয়ে কথা বলার সময় না।’

বর্তমান অধ্যক্ষ যা বলছেন

বর্তমান অধ্যক্ষ কামরুন নাহার জানালেন, এসব অনিয়মগুলো তার জানা আছে। তিনি বলেন, এগুলো হয়েছে তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণের আগে। আর তিনি এগুলোর সমাধান চান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমাদের স্কুলের গভর্নিং বডির (পরিচালনা পর্ষদ) সভাপতির হাতে তারা প্রতিবেদনটি দিয়েছেন। আমি এখনও প্রতিবেদনটি দেখিনি। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নিয়ম-নীতি মেনে কাজ করার জন্য চেষ্টা করছি।

‘প্রতিবেদনটি দেখে খুব সহসাই এর জবাব দেয়া হবে এবং নিয়ম অনুযায়ী আপত্তিগুলো নিষ্পত্তি করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে যত টাকার আপত্তি জানানো হয়েছে, তার সবগুলো সে সময়ের দায়িত্বে থাকা কর্তাব্যক্তিদের কাছ থেকে আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ কামরুন নাহার বলেন, ‘সরকারের যদি পাওনা থাকে, অবশ্যই তা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’

কবে নিরীক্ষা

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর গত ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ভিকারুননিসার আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে নিরীক্ষা চালায়। দলটি ২০১৫-২০১৬ অর্থবছর থেকে ২০১৯-২০২০ অর্থবছর পর্যন্ত ৫ বছরের আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করে।

তাদের প্রতিবেদন গত মাসের শেষে জমা দেয়া হয় পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে। এর একটি কপি স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিকেও দেয়া হয়েছে।

নিরীক্ষা দলের এক সদস্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভিকারুননিসায় গত পাঁচ বছরের আর্থিক লেনদেন নিরীক্ষা করে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম পাওয়া গেছে, যা আমাদের অডিট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এই প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। স্কুলের গভর্নিং বডিকেও দিয়েছি জবাব দেয়ার জন্য।’

ভিকারুননিসায় ‘ব্যয় মানেই অনিয়ম’

প্রতিবেদনটি জমা দেয়া হয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডেও। এখন কী ব্যবস্থা নেয়া হবে জানতে চাইলে বোর্ডের চেয়ারম্যান নেহাল আহমেদ কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

তিনি বলেন, ‘অডিট আপত্তির বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ জবাব দেবে।’

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে যত আপত্তি

ভ্যাট জমা না দেয়া

২০১৫-২০১৬ অর্থবছর থেকে ২০১৯-২০২০ অর্থবছর পর্যন্ত ভ্যাট বাবদ মোট ১ কোটি ৩৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৬২ টাকা আদায় করে ভিকারুননিসা স্কুল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয় ১ কোটি ৭১ হাজার ৬১৫ টাকা। আর বাকি ৩৯ লাখ ২২ হাজার ৫৪৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে চালানের কপি মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সম্পত্তি থেকে ভাড়া বাবদ প্রাপ্ত আয়ের ওপর ৪৫ লাখ ২৮ হাজার ৩০০ টাকার ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা পড়েনি। এ অর্থ ফেরত দেয়ার দিতে নির্দেশ দেয়া হয় প্রতিবেদনে।

আয়কর ফাঁকি

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত পাঁচ অর্থবছরে ভিকারুননিসার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, অধ্যক্ষ ও শিক্ষক-কর্মচারীরা মোট ২১ কোটি ৮৭ লাখ ৩৮ হাজার ২৩২ টাকা সম্মানি বাবদ নিয়েছেন। এর বিপরীতে আয়কর বাবদ ২ কোটি ১৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮২২ টাকা পরিশোধ করা হয়নি।

প্রতিবেদনে এটি রাজস্ব ফাঁকি হিসেবে উল্লেখ করে তা শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে আদায় করতে বলা হয়।

দরপত্র ছাড়াই নির্মাণকাজ

ভিকারুননিসার বসুন্ধরা শাখার সিভিল, স্যানিটারি, বৈদ্যুতিক কাজের ১ কোটি ৫৯ লাখ ১১ হাজার ৬৩৯ টাকার কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনএইচ-কেটিএ (জেভি)। এ কাজ দেয়ার ক্ষেত্রে দরপত্র আহ্বান করার কথা থাকলে তা করা হয়নি।

নিরীক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ কাজের বিল পরিশোধে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্যাডে কোনো বিল পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া পাওয়া যায়নি কাজের গুণগত মানের কোনো সনদ।

আসবাবপত্র না পেয়েও বিল পরিশোধ

আসবাব প্রতিষ্ঠান জুটো ফাইবার গ্লাসকে (তারাবো, নারায়ণগঞ্জ) ১৯০ জোড়া ফাইবার গ্লাস (হাই-লো বেঞ্চ) সরবরাহের জন্য বলা হয়। তবে ১৩০ জোড়া হাই লো বেঞ্চ সরবরাহের চালান পাওয়া যায়। আর বাকি ৬০ জোড়ার কোনো চালান পায়নি নিরীক্ষা দল। অথচ ১৯০ জোড়ার বেঞ্চেরই বিল সররবাহ করা হয়। এতে মোট ৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

জুটো ফাইবার গ্লাসকে বেইলি রোড শাখায় লো বেঞ্চ এবং হাই বেঞ্চ কিনতে ১২ লাখ ৫৮ হাজার এবং বসুন্ধরা কলেজ শাখার জন্য ১১ লাখ ১৬ হাজার টাকা অনিয়মিতভাবে পরিশোধ করা হয়েছে বলেও মনে করে নিরীক্ষা দল।

এসব মালামাল আদৌ কেনা হয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত করা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ টাকা যিনি বা যারা দিয়েছেন, তার বা তাদের কাছ থেকে আদায় করার সুপারিশও করা হয়েছে।

দরপত্রের বাইরেও কাজ, টাকা পরিশোধ নিয়ে আপত্তি

গত বছর বেইলি রোডের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে স্কুল শাখার সীমানা প্রাচীর সংস্কারে ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬৭৮ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজ পায় মেসার্স আদিবা কনস্ট্রাকশন। তবে দরপত্রের বাইরেও তাদের দিয়ে কাজ করানো হয়। আর সেই কাজে অতিরিক্ত বিল দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

ভিকারুননিসায় ‘ব্যয় মানেই অনিয়ম’

ঠিকাদারকে অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয় ১ লাখ ৭১ হাজার ৭২৭ টাকা। কিন্তু বিল পরিশোধের স্বপক্ষে কোনো নথি পায়নি নিরীক্ষা দল।

প্রাচীর নির্মাণের কাজটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৩০ টাকা বর্গমিটার দরে করবে বলে দরপত্র দাখিল করলেও অতিরিক্ত কাজের বিল পরিশোধের সময় ২২৮ টাকা দরে বিল পরিশোধ করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

বিল ছাড়াই টাকা পরিশোধ

প্রতিবেদনে বলা হয়, খেলাধুলার জন্য বিভিন্ন সরঞ্জাম বিভিন্ন দোকান থেকে কেরা হয়েছে। অথচ একটি প্রতিষ্ঠানের নামে চেক ইস্যু করা হয়েছে। এর পরিমাণ ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মনে করছে নিরীক্ষা দল।

পুরস্কারেও অনিয়ম

২০১৯ সালের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় (যা অনুষ্ঠিত হয় ২০২০ সালে) নিয়ম না মেনেই ৪৭ জন শিক্ষককে সাধারণ পুরস্কার হিসেবে ফ্রাইপ্যান দেয়া হয়। সেখানে খরচ করা হয় ৩২ হাজার ৭০০ টাকা, যা প্রতিবেদনে অপচয় হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউরের যোগদান
জগন্নাথে ছাত্রীহলে প্রাধান্য পাবেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা
‘ভাড়াটিয়া’ উপাচার্য চান না জবি শিক্ষার্থীরা
১৬ বছরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন

চবির গবেষণা: মশা নিধনে ভেষজ ওষুধ

চবির গবেষণা: মশা নিধনে ভেষজ ওষুধ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদল পাঁচটি নমুনা ওষুধ থেকে একটি নির্বাচন করে ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। এটি একটি ভেষজ ওষুধ। এক্ষেত্রে ফগিং মেশিন ব্যবহার না করে স্প্রে করার পরামর্শ দেন তারা।

মশা নিধনে ফগিং মেশিনে নয়, স্প্রে করে ভেষজ ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) গবেষকরা।

মঙ্গলবার সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে চবি গবেষকদলের সদস্য সচিব ড. ওমর ফারুক রাসেল গবেষোণার ফল উপস্থাপন করেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ওষুধে মশা কেন মরছে না এবং কার্যকর ওষুধ বিষয়ে পরামর্শ নিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শরণাপন্ন হয়েছিলেন মেয়র রেজাউল করিম।

মশা নিধনে বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করে ছয় সদস্যের গবেষকদল। ২২ জুন থেকে তারা কাজ শুরু করেন।

দুপুরে গবেষোণার ফল উপস্থাপনের সময় মেয়র রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার ও উপউপাচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে উপস্থিতি ছিলেন।

গবেষণায় উঠে আসে, চট্টগ্রাম নগরীর ৫৫টি স্পটের ১৫টিতে শতভাগ এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রায় সব স্পটে কম-বেশি এডিস মশার উপস্থিতি আছে। এর বাইরেও জোবরা ও চবি মিলিয়ে ৬টি স্পটে পাওয়া গেছে ম্যালেরিয়া বহনকারী অ্যানোফিলিস মশা।

গবেষকদল পাঁচটি নমুনা ওষুধ থেকে একটি নির্বাচন করে ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। এটি একটি ভেষজ ওষুধ। এক্ষেত্রে ফগিং মেশিন ব্যবহার না করে স্প্রে করার পরামর্শ দেন তারা।

ছয় সদস্যের গবেষক দলের আহ্বায়ক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া। অন্য সদস্যরা হলেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. তাপসী ঘোষ রায়, ভুগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এইচ এম আব্দুল্লাহ মাসুদ ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী।

সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেল।

গবেষণায় সহায়তা করেন প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ, মাইক্রোবায়োলজি এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে ড. রবিউল হাসান ভূইয়া বলেন, ‘আমরা ৫টি নমুনাকে নমুনা ১-৫ দিয়ে নামকরণ করি। এ ক্ষত্রে দুইটি নমুনার ওষুধ আগে ব্যবহার করা হতো। নতুন করে আরও তিনটি আমাদের দেয়া হয়। পাঁচটি ওষুধ যাচাই করে আমরা একটি ওষুধ পাই, যা প্রাকৃতিক এবং শতভাগ মশা মারতে সক্ষম।’

তিনি বলেন, ‘ওষুধ প্রয়োগের ক্ষত্রে ফগিং মেশিন ব্যবহার না করে স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছি আমরা। ফগিং মেশিন দিয়ে এই ওষুধ ছিটালে কার্যকর হবে না। এছাড়া, মশা মারতে যে কীটনাশক ও কালো তেল ব্যবহার করা হয়, আমরা তা না করার পক্ষে। এতে পরিবেশের ক্ষতি হয়।’

গবেষক দলের সদস্য সচিব ড. ওমর ফারুক রাসেল বলেন, ‘১৫টি স্পটে এডিস মশার লার্ভা আমরা পেয়েছি। স্পটগুলো হলো বাকোলিয়া, কল্পলোক আবাসিক, চকবাজার, সদরঘাট, পশ্চিম মাদারবাড়ি, পাহাড়তলি, সেগুনবাগান, সিডিএ মার্কেট, সাগরিকা, হালিশহর, দক্ষিণ কাট্টলি, চাঁদগাও আবাসিক, ডিসি রোড, চাক্তাই প্রাইমারি স্কুল।

‘যে ছয় স্থানে অ্যানোফিলিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে তা হলো, জোবরা গ্রামের বখতিয়ার রোড, পশ্চিম পাড়া ও ফটিক বাড়ি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২ নম্বর গেট, সরকার কলোনি এবং পুরাতন শামসুর নাহার হল।’

তিনি জানান, রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে বিকল্প হিসেবে জৈব নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। সেগুলো হলো মাছ চাষ করে লার্ভা ধ্বংস, অণুজীব ব্যবহার করে লার্ভা ধ্বংস, উদ্ভিদের নির্যাস ব্যবহার করে মাছ চাষ করে লার্ভা ধ্বংস করা।

আরও পড়ুন:
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউরের যোগদান
জগন্নাথে ছাত্রীহলে প্রাধান্য পাবেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা
‘ভাড়াটিয়া’ উপাচার্য চান না জবি শিক্ষার্থীরা
১৬ বছরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জুলাই মাসের চেক ছাড়

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জুলাই মাসের চেক ছাড়

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাই মাসের বেতনের সরকারি অংশের চেকগুলো ছাড় করা হয়েছে।’

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল-কলেজ) শিক্ষক-কর্মচারীদের এ বছরের জুলাই মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের আটটি চেক ছাড় করা হয়েছে।

মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাই মাসের বেতনের সরকারি অংশের চেকগুলো ছাড় করা হয়েছে।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনুদান বণ্টন করা অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এবং জনতা ও সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ে এ চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।

শিক্ষক-কর্মচারীরা আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত বেতন-ভাতার সরকারি অংশের টাকা তুলতে পারবেন।

আরও পড়ুন:
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউরের যোগদান
জগন্নাথে ছাত্রীহলে প্রাধান্য পাবেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা
‘ভাড়াটিয়া’ উপাচার্য চান না জবি শিক্ষার্থীরা
১৬ বছরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন