ফ্রি ফায়ার-পাবজি গেমসে বখে যাচ্ছে শিশুরা

ফায়ার ও পাবজি গেমস

কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আসক্ত হয়ে পড়েছে ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেমসে। ছবি: নিউজবাংলা

সিরাজগঞ্জ বিএনএসপি চক্ষু হাসপাতালের কনসালট্যান্ট নাজমুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে এসব গেম খেলা হয়। এতে চোখের কিছুটা হলেও ক্ষতি হয়। ইদানিং অনেক শিক্ষার্থীকে চোখের রোগ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসতে দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন না দিলে তারা চোখসহ নানা রোগ থেকে অনেকটাই রেহাই পাবে।’

মার! মার! ধর! ধর! গুলি কর! গুলি কর! গ্রেনেড মার! তাড়াতাড়ি গুলি কর! মাইরা ফালা! মোবাইল ফোনের গেমসের এসব কথা এখন সিরাজগঞ্জ শহর পেরিয়ে গ্রামের বাজার, ফাঁকা জায়গা, রাস্তা ও অলিগলিতে।

করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এই সুযোগে দলবেঁধে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আসক্ত হয়ে পড়েছে ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেমসে।

তারা মোবাইলে ভিডিও গেমসের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীরা।

আজমির হোসেন নামের নবম শ্রেণির ছাত্র নিউজবাংলাকে বলে, ‘গেমস সম্পর্কে কিছু জানতাম না। এখন নিয়মিত ফ্রি ফায়ার গেমস খেলার নেশা হয়ে গেছে। মাঝেমধ্যে নেট সমস্যায় এ গেমস খেলতে না পারলে মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলার ইচ্ছা হয়। ফ্রি ফায়ার গেমস যে একবার খেলবে, সে আর ছাড়তে পারবে না।’

শিক্ষার্থীরা জানায়, ফ্রি ফায়ার গেম খেলতে ডায়মন্ড কিনতে হয়। ১০০ ডায়মন্ডের দাম ৮০ টাকা। ১০৬০ ডায়মন্ডের দাম ৭৯০ টাকা। মেম্বারশিপ সপ্তাহে ১৭০ টাকা, মাসিক ৫১০ টাকা। এ ছাড়া প্রতিটা ইভেন্টে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ না করলে কিছুই হয় না।

তারা জাানায়, গেমটিতে প্রথমে কোনো খরচ ছিল না, কিন্তু পুরোপুরি মনোযোগী হলে এমন কিছু জিনিস আছে, যা না কিনলেই নয়। যেমন, অলকের দাম ৪০০ টাকা, একজন খেলোয়াড়ের জার্সি ৩০০ টাকা, নতুন ইভেন্ট এলেই ২০০০ এর নিচে যাওয়া যায় না। সম্পূর্ণ ড্রেস কিনতে লাগে ১২০০ টাকা আর রেগুলার ইভেন্টের কথা তো বলাই বাহুল্য।

ফ্রি ফায়ার গেমকে যেকোনো নেশার চেয়ে ভয়ংকর বলে উল্লেখ করেছে সিরাজগঞ্জ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল অধিকারি বলেন, ‘এই সমস্যা থেকে সন্তান, ভাই-বোনদের বাঁচাতে হলে অভিভাবকদের পাশাপাশি সমাজের সচেতন মহল, শিক্ষক, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

তরুণ কবি-সংগঠক হাদিউল হৃদয় বলেন, ‘তাড়াশসহ বিভিন্ন উপজেলায় শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা না থাকায় শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোনে গেমস খেলার প্রবণতা মহামারি আকার ধারণ করেছে।

‘পাঠাগার থাকা সত্ত্বেও বই পড়া ছেড়ে অনেক শিক্ষার্থীই খেলছে মোবাইল গেমস। এতে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে পারে। অন্যদিকে বিভিন্ন গ্রামে খেলার মাঠ না থাকায় খেলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা। শিক্ষার্থীদের মা-বাবাসহ সমাজের সবারই খেয়াল রাখতে হবে, যেন তারা মোবাইল ফোন অতিরিক্ত ব্যবহার না করতে পারে।’

সিরাজগঞ্জ বিএনএসপি চক্ষু হাসপাতালের কনসালট্যান্ট নাজমুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে এসব গেম খেলা হয়। এতে চোখের কিছুটা হলেও ক্ষতি হয়। ইদানীং অনেক শিক্ষার্থীকে চোখের রোগ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসতে দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন না দিলে তারা চোখসহ নানা রোগ থেকে অনেকটাই রেহাই পাবে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শিক্ষক সমিতির পদত্যাগ চায় জবি নীলদল

শিক্ষক সমিতির পদত্যাগ চায় জবি নীলদল

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে এই কমিটির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের আইনি এবং নৈতিক কোনো অধিকার নেই। মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষক সমিতিকে কোনো ধরনের স্বীকৃতি না দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক সমিতির মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির পদত্যাগ দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীলদলের একাংশ। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষক সমিতিকে কোনো ধরনের স্বীকৃতি না দিতেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নীলদলের সভাপতি ড. মো. আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, শিক্ষক সমিতির ২০২০ সালের কমিটির নেতারা শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার বদলে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে তৎপর। শিক্ষক সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে তাদের দায়িত্ব ছিল নির্বাচন কমিশন গঠন করা। কিন্তু এই সমিতি শিক্ষকদের প্রতি দায়বদ্ধতাকে পাশ কাটিয়ে এবং সমিতির গঠনতন্ত্রকে অবমাননা করে অবৈধভাবে দুই বছর পদ আঁকড়ে ধরে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে ব্যস্ত। যথাসময়ে নির্বাচন কমিশন গঠন না করে তারা শিক্ষক সমিতির গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে এই কমিটির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের আইনি এবং নৈতিক কোনো অধিকার নেই। মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষক সমিতিকে কোনো ধরনের স্বীকৃতি না দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নীল দলের সভাপতি ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘মেয়াদ শেষ হলেও সাধারণ শিক্ষকদের মতামত উপেক্ষা করে এ সমিতি প্রায় দুই বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছে। এটি সমিতির গঠনতন্ত্রবিরোধী। সমিতির গঠনতন্ত্রকে ঠিক রেখে সাধারণ শিক্ষকদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখতে আমি পদত্যাগ করেছি।’

ড. মো. আবুল হোসেন জবি শিক্ষক সমিতির ২০২০ সালের কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি জবি নীলদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

শিক্ষক সমিতির পদত্যাগ চায় জবি নীলদল
মেয়াদ উত্তীর্ণ শিক্ষক সমিতির পদত্যাগ চেয়ে জবি নীলদলের বিজ্ঞপ্তি

বুধবার রাতে তিনি শিক্ষক সমিতি থেকে পদত্যাগের পরই নীলদলের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

ড. মো. আবুল হোসেনের পদত্যাগ ও জবি নীলদলের পক্ষ থেকে শিক্ষক সমিতির পদত্যাগের দাবি জানানোর পরপরই শিক্ষক সমিতির নির্বাচন কমিশন গঠনের খবর আসে।

৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী পরিষদের ২৩তম সভার সিদ্ধান্ত ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২২ আয়োজনের লক্ষ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মনোনীত করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।

৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন ২৫ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার বিষয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এটি ১০ অক্টোবর শিক্ষক সমিতির প্যাডে প্রকাশ করা হয়।

ক্যাম্পাস খোলার পরই বর্তমান নেতারা শিক্ষক সমিতির ব্যানার ও পদ পরিচয়ে নিজেরা প্রোগ্রাম করেন ও অন্য প্রোগ্রামেও অংশ নেন। এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে জবি নীল দল।

শিক্ষক সমিতির বর্তমান কমিটির সভাপতি নূ‌রে আলম আব্দুল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাধারণ সভার মাধ্যমে দায়িত্ব হস্তান্তর না করা পর্যন্ত শিক্ষক সমিতি বহাল থাকবে। তবে এসময় সমিতি সীমিত আকারে তাদের কার্যাবলি পরিচালনা করবে।

‘দায়িত্ব হস্তান্তর ছাড়া কোনো সাধারণ সভা করা যাবে না। ড. আবুল হোসেন যখন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, তখন শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচিত হওয়ার পরেও পিকনিকের আয়োজন করেছিলেন। গত শিক্ষক সমিতিও ইলেকশন কমিশন গঠনের পরে পিকনিকের আয়োজন করেছিল।’

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. সুরঞ্জন কুমার দাস বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালিত হবে। তফসিল ঘোষণার কাজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির গঠনতন্ত্রের ধারা ৫ এর ৩ উপধারায় কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদের বিষয়ে লেখা রয়েছে, ‘কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদ হবে বছরের ১ জানুয়ারী থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ দায়িত্ব নেয়ার আগে পর্যন্ত বর্তমান পরিষদ দায়িত্ব পালন করবে।’

এর আগে ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর শিক্ষক সমিতির বর্তমান কমিটির দ্বিতীয় সাধারণ সভার ৫ নম্বর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেয়ার এক মাসের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ সময় পর্যন্ত বর্তমান শিক্ষক সমিতি দায়িত্ব পালন করবে।

করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পর একটি সাধারণ সভা আয়োজন করে সভার মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে কার্যনির্বাহী পরিষদ দ্বারা নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় জবিশিস।

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের চুল কর্তন: ফারহানার বক্তব্য ছাড়াই তদন্ত প্রতিবেদন

শিক্ষার্থীদের চুল কর্তন: ফারহানার বক্তব্য ছাড়াই তদন্ত প্রতিবেদন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন। ছবি: সংগৃহীত

রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও তদন্ত কমিটির প্রধান লায়লা ফেরদৌস হিমেল বলেন, ‘আমরা শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের জন্য বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও তিনি আসেননি এবং কোনো যোগাযোগ করেননি। ইতোপূর্বে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অন্যদের সঙ্গে কথা বলে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা প্রতিবেদন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দিয়েছি।’

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বক্তব্য ছাড়াই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে তদন্ত কমিটির কাছে নিজের বক্তব্য জানানোর কথা থাকলেও আসেননি শিক্ষক ফারহানা। বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তিনি না আসায় বিকেল ৫টার দিকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. সোহরাব আলীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও তদন্ত কমিটির প্রধান লায়লা ফেরদৌস হিমেল।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের জন্য বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও তিনি আসেননি এবং কোনো যোগাযোগ করেননি। ইতোপূর্বে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অন্যদের সঙ্গে কথা বলে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা প্রতিবেদন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দিয়েছি।’

এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও সেটি এখনও খোলা হয়নি। আগামীকাল (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় সবার সামনে এটা খোলা হবে এবং উপস্থিত সিন্ডিকেট সদস্যদের আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে তার (ফারহানা) বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে তিন দফায় তদন্ত কমিটি ডাকার পরও না এসে তিনি সময় চেয়ে বসেন। প্রথমে তাকে আর সময় দেয়ার সিদ্ধান্ত না থাকলেও তিনি বার বার ইমেইলে সময়ের আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি তাকে দুই সপ্তাহ সময় দিয়ে আজ (বৃহিস্পতিবার) দুপুর ১টায় উপস্থিত হয়ে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য নতুন সময় বেঁধে দিয়েছিল। তবুও তিনি আসেননি।

‘প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময়ের বাধ্যবাধকতা থাকায় আমরা আজ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজ তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আগামীকাল (শুক্রবার) সিন্ডিকেট সভায় সবার সামনে সেটি উন্মোচন করা হবে। প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ হলে ওই সভাতেই তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

রাজধানীর ধানমন্ডিতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ভবনে শুক্রবার বিকেলে সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান আব্দুল লতিফ।

এ বিষয়ে শিক্ষক ফারহানাকে কয়েকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার হলে ঢোকার সময় বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন দরজায় কাঁচি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শিক্ষার্থীরা হলে ঢোকার সময় যাদের মাথার চুল হাতের মুঠোর মধ্যে ধরা যায়, তাদের সামনের অংশের বেশ খানিকটা কেটে দেন তিনি। এভাবে ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন ওই শিক্ষক।

ওই ঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে পোস্ট দিলে বিষয়টি ভাইরাল হয়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ফারহানা ইয়াসমিন শিক্ষার্থীদের গালিগালাজ করে পরীক্ষার হলে যেতে বাধ্য করেন। এর প্রতিবাদ করলে নাজমুল হাসান তুহিন নামের ১ম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে গালিগালাজ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের হুমকি দেন।

ওই ঘটনার পর ‘অপমান সইতে না পেরে’ তুহিন রাতে দ্বারিয়াপুরের শাহমুখদুম ছাত্রাবাসের নিজ কক্ষে দরজা আটকে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সহপাঠীরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

২৮ সেপ্টেম্বর রাতে শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন তার বিভাগের চেয়ারম্যান পদ, সহকারী প্রক্টর পদ ও প্রক্টরিয়াল বোর্ডের সদস্য পদ থেকে লিখিতভাবে পদত্যাগ করেন।

ঘটনার তদন্তে পরে রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেলকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

শেয়ার করুন

এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন যাবে ফয়েল প্যাকেটে

এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন যাবে ফয়েল প্যাকেটে

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ফয়েল পেপারে মোড়ানো প্যাকেটে কেন্দ্রে কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকরা যেন অযথা ভিড় না করেন, সে জন্য কেন্দ্রসচিবের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করতে বলা হয়েছে। পরীক্ষার দিন কেন্দ্রের ২০০ গজ পর্যন্ত এলাকায় অভিভাবক ও সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নেয়া হচ্ছে নানা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। এর অংশ হিসেবে ফয়েল পেপারে মোড়ানো প্যাকেটে প্রশ্নপত্র পাঠানো হবে কেন্দ্রে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবার পরীক্ষার প্রস্তুতি সভায় এ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে বৈঠকে জানতে চাওয়া হয়েছে, আমরা বিস্তারিত জানিয়েছি। ইতোমধ্যে প্রশ্নপত্র সরকারি ট্রেজারে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা বোর্ডের অধীনে ১৩টি জেলার মধ্যে ৮টিতে ওএমআর শিট, উত্তরপত্র ও অতিরিক্ত উত্তরপত্র পাঠানো হয়েছে, বাকি ৫ জেলায় আগামী সপ্তাহের মধ্যে পাঠানো হবে। সেসব বিষয় আজ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরীক্ষা কেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা পরে জানানো হবে।’

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, সভায় শুরুতে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রধানদের কাছে জানতে চাওয়া হয়। পরীক্ষা কেন্দ্রে কীভাবে কঠোর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

তিনি আরও জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ফয়েল পেপারে মোড়ানো প্যাকেটে কেন্দ্রে কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকরা যেন অযথা ভিড় না করেন, সে জন্য কেন্দ্রসচিবের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করতে বলা হয়েছে।
পরীক্ষার দিন কেন্দ্রের ২০০ গজ পর্যন্ত এলাকায় অভিভাবক ও সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে।

সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা।

চলতি বছরে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ১৪ নভেম্বর। তা চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত। এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে শুধু নৈর্বাচনিক বিষয়ে। অন্যান্য আবশ্যিক বিষয়ে আগের পাবলিক পরীক্ষার সাবজেক্ট ম্যাপিং করে মূল্যায়নের মাধ্যমে নম্বর দেয়া হবে। এবার চতুর্থ বিষয়েরও পরীক্ষা নেয়া হবে না।

নির্ধারিত সূচিতে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা ৩০ মিনিট এবং বেলা ২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা হবে।

কবে কোন পরীক্ষা
১৪ নভেম্বর পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়), ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ও হিসাববিজ্ঞান এবং ১৬ নভেম্বর রসায়ন (তত্ত্বীয়), ১৮ নভেম্বর শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া (তত্ত্বীয়), ২১ নভেম্বর ভূগোল ও পরিবেশ ও ফিন্যান্স ও ব্যাকিং, ২২ নভেম্বর উচ্চতর গণিত (তত্ত্বীয়) ও জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) এবং ২৩ নভেম্বর পৌরনীতি ও নাগরিকতা, অর্থনীতি ও ব্যবসায় উদ্যোগ পরীক্ষা হবে।

পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনা
করোনা মহামারির কারণে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কাছ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয়েছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় চলছে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তুতি।

শেয়ার করুন

সামিয়া-মারজানের প্রবন্ধ মানহীন, দুর্বল: ট্রাইব্যুনাল

সামিয়া-মারজানের প্রবন্ধ মানহীন, দুর্বল: ট্রাইব্যুনাল

সামিয়া রহমান ও মাহফুজুল হক মারজানের বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির প্রমাণ না পেলেও তাদের যৌথ প্রবন্ধটি গবেষণা প্রবন্ধ হিসেবে বিবেচনা না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নাল থেকে বাতিলের সুপারিশ করেছে ট্রাইব্যুনাল। ফাইল ছবি

সামিয়া রহমান ও মাহফুজুল হক মারজানের প্রবন্ধকে দুর্বল ও মানহীন উল্লেখ করে গবেষণা জালিয়াতি নিয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবন্ধটি জমা দেয়া থেকে শুরু করে রিভিউ, চূড়ান্তভাবে গ্রহণ ও ছাপানোর প্রক্রিয়াতে অসচ্ছতা ও অদক্ষতা রয়েছে বলে প্রত্যক্ষভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমান ও ক্রিমিনোলজি বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের যৌথভাবে লেখা ‘এ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার: এ কেস স্ট্যাডি অব দ্য কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ শিরোনামে লেখা প্রবন্ধটি মানহীন ও দুর্বল বলে উল্লেখ করেছে ট্রাইব্যুনাল।

তাদের বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির প্রমাণ না পেলেও তাদের প্রবন্ধটি গবেষণা প্রবন্ধ হিসেবে বিবেচনা না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নাল সোশ্যাল সাইন্স রিভিউ থেকে বাতিলের সুপারিশ করেছে ট্রাইব্যুনাল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত চার সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এমনটি বলেছে।

সামিয়া রহমানের গবেষণা জালিয়াতি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট, গঠিত ট্রাইব্যুনালের নথিসহ সব কাগজপত্র ৩ সপ্তাহের মধ্যে আদালতে জমা দিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর আদেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। ওই আদেশের পর সব নথি বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে এসে পৌঁছে। যার একটি প্রতিবেদন নিউজবাংলার কাছে আসে।

এ বিষয়ে আগামী রোববার হাইকোর্টে শুনানি হতে পারে।

সামিয়াদের প্রবন্ধকে একটি দুর্বল ও মানহীন উল্লেখ করে গবেষণা জালিয়াতি নিয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবন্ধটি জমা দেয়া থেকে শুরু করে রিভিউ, চূড়ান্তভাবে গ্রহণ ও ছাপানোর প্রক্রিয়াতে অসচ্ছতা ও অদক্ষতা রয়েছে বলে প্রত্যক্ষভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে সামিয়া রহমান ও মারজানের যৌথভাবে লেখা ‘এ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার: এ কেস স্ট্যাডি অব দ্য কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ শিরোনামের আট পৃষ্ঠার একটি গবেষণা প্রবন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সোশ্যাল সায়েন্স রিভিউ’ জার্নালে প্রকাশিত হয়।

প্রবন্ধটি নিয়ে অভিযোগ উঠলে প্রথমে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। এই ট্রাইব্যুনালের সদস্য করা হয় ঢাবির সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. শরীফ উল্লাহ মজুমদার (অভিযুক্ত সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের মনোনীত প্রতিনিধি) ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী (অভিযুক্ত মিসেস সামিয়া রহমানের মনোনীতি প্রতিনিধি)।

ট্রাইব্যুনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, (১) অভিযুক্ত প্রবন্ধটিতে ৬০টি অনুচ্ছেদের মধ্যে প্রায় ৪৮টি অনুচ্ছেদ কপি করা হয়েছে। তন্মধ্যে কমিউনালিজম টু কালচারাল ইম্পেরিয়ালিজম: এডওয়ার্ড সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৮৭-৯১) অংশে এডওয়ার্ড সাঈদ রচিত কালচার অ্যান্ড ইম্পেরিয়ালিজম বইয়ের বিভিন্ন অংশ থেকে প্রবন্ধটিতে ২৭ শতাংশ কপি করা হয়েছে। এছাড়াও ফরাসী দার্শনিক মিশেল ফুকোর দ্য সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার প্রবন্ধ থেকেও আনুমানিক পাঁচ পৃষ্ঠা (৩০ শতাংশ) কপি করা হয়েছে।

এমনকি, ফুকো-কে নিয়ে রায়ান জেকবসের লেখা থেকেও কোন রেফারেন্স ছাড়াই নিজেদের লেখায় (৫ শতাংশ) কপি করা হয়েছে। টিউমোটিন পদ্ধতির মাধ্যমে দেখা যায় এই প্রবন্ধটিতে বিভিন্ন সোর্স থেকে আনীত প্রায় ৭০ শতাংশ টেক্সটের মিল আছে।

২. এই দুই লেখক এডওয়ার্ড সাঈদ ও মিশেল ফুকোর লেখাকে সরাসরি নিজেদের বলে দাবী করেননি সত্য। তবে, সাইটেশনের নিয়মানুযায়ী সরাসরি উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে শব্দসীমা থাকে, কিন্তু তারা সেটা অনুসরণ করেননি। যদিও লেখকরা তাদের লিখিত বক্তব্যে বলছেন, প্রবন্ধটি মিশেল ফুকো এবং এডওয়ার্ড সাঈদের তাত্ত্বিক কাজের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ, প্রবন্ধটির কোথাও সাঈদ বা ফুকোর বক্তব্যকে নিজেদের বক্তব্য বলে দাবি করেননি।

প্রবন্ধটির শেষের দিকে সাঈদ ও ফুকোর রেফারেন্সও দেয়া হয়েছে। আর্টিকেলটিতে সাইটেশনের ভুল আছে, তবে সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং সাইটেশন ত্রুটি বলে বিবেচনা করা যায়। অভিযুক্ত আর্টিকেলটি ২০১৬ সালে সাবমিট করা হয়। সেই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টারনিটিন সফটওয়্যারের সুবিধা ছিলো না। যদি থাকতো তাহলে এই অনিচ্ছাকৃত ভুলগুলো ধরা পড়ত।

এমন একটি দুর্বল ও মানহীন প্রবন্ধ কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালে ছাপা হলো তা ট্রাইব্যুনালের কাছে বোধগম্য নয়। রিভিউয়ার ও এডিটরিয়াল বোর্ড অবশ্যই তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং এজন্য তারা দায় এড়াতে পাবেন না। এধরনের ভুলের জন্য এডিটর ও এডিটোরিয়াল বোর্ডকে অভিযুক্ত করা উচিত ছিল বলে ট্রাইব্যুনাল মনে করে।

শেয়ার করুন

সংক্রমণের হার কমলে বাড়বে ক্লাসের সংখ্যা: শিক্ষামন্ত্রী

সংক্রমণের হার কমলে বাড়বে ক্লাসের সংখ্যা: শিক্ষামন্ত্রী

কেক কেটে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ছবি: নিউজবাংলা

দীপু মনি বলেন, ‘সামনে আমাদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা আছে। কাজেই আমরা স্কুল-কলেজে ক্লাসের সংখ্যা এখন বাড়াতে পারছি না। অতিমারি এখনও চলছে, তবে সংক্রমণের হার কম। এটা আমাদের ধরে রাখতে হবে।’

করোনার সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেলে আগামী জানুয়ারি থেকে স্কুল-কলেজে ক্লাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মন্ত্রী।

দীপু মনি বলেন, ‘নতুন বছরে সংক্রমণের হার আরও কমে গেলে স্কুল-কলেজে ক্লাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সামনে আমাদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা আছে। কাজেই আমরা স্কুল-কলেজে ক্লাসের সংখ্যা এখন বাড়াতে পারছি না। অতিমারি এখনও চলছে, তবে সংক্রমণের হার কম। এটা আমাদের ধরে রাখতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বাল্যবিয়ের হার বেশি হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, বিয়ে হওয়া মেয়েদের আবার ক্লাসে ফিরিয়ে আনতে। তারা অনেকেই স্থানান্তরিত হয়ে গেছে। তারা যেখানে আছে সেখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাসে যেন অংশগ্রহণ করতে পারে, সেই চেষ্টা করছি।’

এর আগে অ্যাকাডেমিক ভবনে কেক কেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান।

শেয়ার করুন

চলতি মাসেই স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা

চলতি মাসেই স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা

১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেশে দেড় কোটি।

শিক্ষার্থীদের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজারের টিকা দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই টিকার ৬০ লাখ ডোজ সরকারের হাতে রয়েছে। এখান থেকে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে দুই ডোজ টিকা দেয়ার কাজ সম্পন্ন হবে।

করোনার সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিতে এ মাসের মধ্যে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানের একটি হোটেলে জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলক টিকা দেয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজারের টিকা দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই টিকার ৬০ লাখ ডোজ সরকারের হাতে রয়েছে। এখান থেকে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে দুই ডোজ টিকা দেয়ার কাজ সম্পন্ন হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের তালিকা আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। তালিকা পেলে চলতি মাসেই তাদের টিকা দেয়া শুরু হবে।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের স্কুলশিক্ষার্থীর সংখ্যা দেড় কোটির মতো। তাদের টিকা দেয়ার প্রস্তুতি আমাদের আছে। আমাদের হাতে ফাইজারের টিকাও আছে। নতুন করে ৭২ ও ৯০ লাখ টিকার দুটি চালান শিগগিরই আসবে।’

জাহিদ মালেক জানান, দেশের মানুষকে করোনার সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে ইতোমধ্যেই ২১ কোটি ডোজ টিকা কেনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সব মিলিয়ে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এ মাসে প্রায় তিন কোটি টিকা দিতে পারব। টিকাদান কর্মসূচি চলমান থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ শতাংশ মানুষ টিকার আওতায় আসবে।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘কিছুদিন আগেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা বলেছে, আমরা টিকা কর্মসূচিতে ভালো করছি। আমরা বলেছিলাম আমাদের টিকা বাড়িয়ে দেয়ার জন্য। তারাও সম্মতি দিয়েছে।’

শেয়ার করুন

জবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যায় শিক্ষককে দুষছেন স্বজনরা

জবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যায় শিক্ষককে দুষছেন স্বজনরা

সুমাইয়া মেহজাবিন স্বর্ণা

এ বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান খ্রিস্টিন রিচার্ডসন বলেন, ‘শিক্ষকের হয়রানির বিষয়ে আমাকে তো কেউ অভিযোগ করেনি। এমন কিছু হওয়ার কথাও না। আমার জানা মতে, বিভাগের সব শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে ভালো ব্যবহার করেন।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া মেহজাবিন স্বর্ণার আত্মহত্যায় বিভাগের এক শিক্ষককে দায়ী করছেন নিহতের বোন ও সহপাঠিরা।

গত বুধবার সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পলাশপোল মধুমাল্লার ডাঙ্গী গ্রামে নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন স্বর্ণা।

এ ঘটনায় নিহতের বোন সাদিয়া মেহজাবিন সাথী আক্তার ও একাধিক সহপাঠি এক শিক্ষককে দায়ী করে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন।

নিহত স্বর্ণার বোন সাথী বলেন, ‘আমার বোন খুবই ভালো ছিল। পড়াশুনায়ও ভালো ছিল। কিন্তু বিভাগের এক শিক্ষক ওকে ভালো নাম্বার দিতেন না। তা ছাড়া বুধবার রাতেই ওর ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সে যেতে চাচ্ছিল না, ফলাফল আবারও খারাপ হবে এই ভয়ে।’

সাথী আরও বলেন, ‘আমার বোন একটি বিষয়ে ২ মাস আগে এসাইনমেন্ট দিয়েছিল বিভাগের শিক্ষক আয়শা সালেহকে। কিন্তু তিনি সেটি হারিয়ে ফেলেন। ২ মাস পরে তিনি আবারও ওই এসাইনমেন্ট চান মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে। ততদিনে স্বর্ণাও এটা হারিয়ে ফেলেছিল। সেই শিক্ষকের কোর্সে সে ২০ নম্বরের মধ্যে মাত্র ৬ পেয়েছিল। এতেই তার ডিপ্রেশন বেড়ে যায়।’

সাথী জানান, স্বর্ণার এসাইনমেন্ট নিয়ে বন্ধুরা ভালো ফলাফল করলেও তার নম্বর সবসময়ই কম থাকে। বিভাগের শিক্ষকদের কয়েকজন তার পোশাক নিয়েও কথা বলতেন।

নিহতের একাধিক সহপাঠী জানান, বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যে ‘দেখে নেয়ার প্রবণতা’ ছিল অনেক বেশি। এজন্য অজানা কারণে স্বর্ণার ফলাফল খারাপ হতো।

সহপাঠীরা দাবি করেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে ক্রিয়েটিভ ছিল স্বর্ণা। কিন্তু তার ফলাফল সবসময়ই খারাপ হতো। এজন্য তিনি ডিপ্রেশনে ছিলেন। বিশেষ করে ‘ফিসক্যাল ল’ বিষয়ে বরাবরই কম নম্বর পেতেন তিনি। এ জন্যই স্বর্ণা আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা তাদের।

এসব বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান খ্রিস্টিন রিচার্ডসন বলেন, ‘শিক্ষকের এমন হয়রানির বিষয়ে আমাকে তো কেউ অভিযোগ করেনি। এমন কিছু হওয়ার কথাও না। আমার জানা মতে, বিভাগের সব শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে ভালো ব্যবহার করেন।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আয়েশা সালেহ বলেন, ‘আমার কোর্সে সে ২০-এর মধ্যে ৮ পেয়েছে। সে অন্যান্য শিক্ষকের পরীক্ষাতেও খারাপ করেছে। তার সঙ্গে আমার কোনো খারাপ সম্পর্ক ছিল না। তা ছাড়া তার পোশাক নিয়েও আমি কোনো কথা বলিনি। যারা এসব কথা বলছেন তারা আবেগে বলছেন।’

আয়েশা সালেহ জানান, ‘ফিসক্যাল ল’ বেশ কঠিন একটি বিষয়। এটায় অঙ্ক আছে। তাই অনেকে খারাপ করেন।

স্বর্ণার মৃত্যুর বিষয়ে সাতক্ষীরা থানার উপ-পরিদর্শক শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘সদর হাসপাতাল থেকে বেলা দুইটার দিকে আমাদের স্লিপ দেয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে আমরা গিয়েছি। পরিবার থেকে আমাদের জানিয়েছে, গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমাদের তারা আর কিছু জানায়নি। ময়নাতদন্তের পর এখন দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।’

শেয়ার করুন