শিক্ষার্থীরা চাইলে সশরীরে পরীক্ষা: ঢাবি উপাচার্য

শিক্ষার্থীরা চাইলে সশরীরে পরীক্ষা: ঢাবি উপাচার্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো আখতারুজ্জামান বলেন, সরকারের নতুন কোনো বিধিনিষেধ না থাকলে বিভাগ, ইনস্টিটিউটগুলো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরীক্ষা নেয়ার নতুন তারিখ নির্ধারণ করবে।

আবাসিক হল না খোলার শর্তে স্বাস্থ্যবিধি এবং শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের সম্মতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ এবং ইনিস্টিউটগুলো স্বশরীরে পরীক্ষা নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো আখতারুজ্জামান।

তবে শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় এনেই আবাসিক হল এবং ক্লাস শুরু হবে। উপাচার্য বলেন, সরকারের নতুন কোনো বিধিনিষেধ না থাকলে বিভাগ, ইনস্টিটিউটগুলো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরীক্ষা নেয়ার নতুন তারিখ নির্ধারণ করবে।

শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সশরীরে ও অনলাইনে নেয়ার অনুমতি সম্বলিত ইউজিসি থেকে পাঠানো এক চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য নিউজবাংলাকে এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, আমরা অনেক আগেই শিক্ষার্থীদের সম্মতিতে স্বশরীরে পরীক্ষা নিচ্ছিলাম। পরে পরীক্ষাগুলো না নিতে সরকারি বিধিনিষেধ আসায় পরীক্ষা নেয়া বন্ধ করে দিই। গত পরশু অনুষ্ঠিত ডিনস কমিটিতে আমাদের ডিনবৃন্দ স্বশরীরে পরীক্ষাগুলো নেয়া দরকার বলে মত দিয়েছেন। মিটিংয়ের কথাগুলো আমি ইউজিসি এবং মন্ত্রণালয়কে বলেছি। এরপরই ইউজিসি স্বশরীরে পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দিয়ে আজকে চিঠি পাঠিয়েছেন।’

তিনি জানান, এই পরিস্থিতিতে বিভাগ এবং ইনিস্টিউটগুলোর ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তারা স্ব শরীরে পরীক্ষা নেয়ার নতুন তারিখ নির্ধারণ করবে। আর সেটি না হলে আগামী এক জুলাই থেকে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত তো আছেই।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সশরীরে ও অনলাইনে নেয়ার অনুমতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়ে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের রেজিস্ট্রারদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের টিকার দুটি ডোজ সব শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের দেয়া সম্পন্ন হলেই আবাসিক হলযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেয়া হবে।

‘আবাসিক শিক্ষার্থীদের করোনা টিকার আওতায় আনার পর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতোমধ্যে কতজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী টিকা পেয়েছে সে তথ্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে চেয়েছি। তবে যাদের বয়স ৪০ এর বেশি, বেশির ভাগই টিকা নিয়েছেন বলে আমরা তথ্য পেয়েছি।’

এর আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২৩ মে থেকে স্কুল-কলেজে খোলার কথা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কথা ছিল ২৪ মে। কিন্তু দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার। আরও এক দফা বাড়ায় ছুটি।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের যাদের বয়স যাদের ৪০ এর কম তাদের বিশেষ বিচেবচনায় টিকা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। নতুন টিকা এলেই তারা অগ্রাধিকার পাবেন। এ ক্ষেত্রে আবাসিক শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন। এ সংখ্যাটা যেহেতু বিশাল নয়, তাই দ্রুত তাদের টিকার আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশে করোনা শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। বন্ধ দফায় দফায় বাড়িয়ে আগামী ১২ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘মুরব্বি’ ভিসির বক্তব্যে ঢাবিতে ক্ষোভ
‘সমস্যার সমাধান হতে পারে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা’
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা পেছাল: শুরু ৩১ জুলাই
গল্প করতে করতে ঢলে পড়লেন ঢাবি শিক্ষক
হিজবুত তাহরীর সন্দেহে আটক ঢাবির দুই শিক্ষার্থী

শেয়ার করুন

মন্তব্য