শিক্ষার্থীরা চাইলে সশরীরে পরীক্ষা: ঢাবি উপাচার্য

শিক্ষার্থীরা চাইলে সশরীরে পরীক্ষা: ঢাবি উপাচার্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো আখতারুজ্জামান বলেন, সরকারের নতুন কোনো বিধিনিষেধ না থাকলে বিভাগ, ইনস্টিটিউটগুলো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরীক্ষা নেয়ার নতুন তারিখ নির্ধারণ করবে।

আবাসিক হল না খোলার শর্তে স্বাস্থ্যবিধি এবং শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের সম্মতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ এবং ইনিস্টিউটগুলো স্বশরীরে পরীক্ষা নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো আখতারুজ্জামান।

তবে শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় এনেই আবাসিক হল এবং ক্লাস শুরু হবে। উপাচার্য বলেন, সরকারের নতুন কোনো বিধিনিষেধ না থাকলে বিভাগ, ইনস্টিটিউটগুলো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরীক্ষা নেয়ার নতুন তারিখ নির্ধারণ করবে।

শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সশরীরে ও অনলাইনে নেয়ার অনুমতি সম্বলিত ইউজিসি থেকে পাঠানো এক চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য নিউজবাংলাকে এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, আমরা অনেক আগেই শিক্ষার্থীদের সম্মতিতে স্বশরীরে পরীক্ষা নিচ্ছিলাম। পরে পরীক্ষাগুলো না নিতে সরকারি বিধিনিষেধ আসায় পরীক্ষা নেয়া বন্ধ করে দিই। গত পরশু অনুষ্ঠিত ডিনস কমিটিতে আমাদের ডিনবৃন্দ স্বশরীরে পরীক্ষাগুলো নেয়া দরকার বলে মত দিয়েছেন। মিটিংয়ের কথাগুলো আমি ইউজিসি এবং মন্ত্রণালয়কে বলেছি। এরপরই ইউজিসি স্বশরীরে পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দিয়ে আজকে চিঠি পাঠিয়েছেন।’

তিনি জানান, এই পরিস্থিতিতে বিভাগ এবং ইনিস্টিউটগুলোর ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তারা স্ব শরীরে পরীক্ষা নেয়ার নতুন তারিখ নির্ধারণ করবে। আর সেটি না হলে আগামী এক জুলাই থেকে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত তো আছেই।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সশরীরে ও অনলাইনে নেয়ার অনুমতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়ে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের রেজিস্ট্রারদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের টিকার দুটি ডোজ সব শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের দেয়া সম্পন্ন হলেই আবাসিক হলযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেয়া হবে।

‘আবাসিক শিক্ষার্থীদের করোনা টিকার আওতায় আনার পর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতোমধ্যে কতজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী টিকা পেয়েছে সে তথ্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে চেয়েছি। তবে যাদের বয়স ৪০ এর বেশি, বেশির ভাগই টিকা নিয়েছেন বলে আমরা তথ্য পেয়েছি।’

এর আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২৩ মে থেকে স্কুল-কলেজে খোলার কথা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কথা ছিল ২৪ মে। কিন্তু দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার। আরও এক দফা বাড়ায় ছুটি।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের যাদের বয়স যাদের ৪০ এর কম তাদের বিশেষ বিচেবচনায় টিকা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। নতুন টিকা এলেই তারা অগ্রাধিকার পাবেন। এ ক্ষেত্রে আবাসিক শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন। এ সংখ্যাটা যেহেতু বিশাল নয়, তাই দ্রুত তাদের টিকার আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশে করোনা শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। বন্ধ দফায় দফায় বাড়িয়ে আগামী ১২ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘মুরব্বি’ ভিসির বক্তব্যে ঢাবিতে ক্ষোভ
‘সমস্যার সমাধান হতে পারে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা’
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা পেছাল: শুরু ৩১ জুলাই
গল্প করতে করতে ঢলে পড়লেন ঢাবি শিক্ষক
হিজবুত তাহরীর সন্দেহে আটক ঢাবির দুই শিক্ষার্থী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জবির ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের দায়িত্বে ফের জুনায়েদ হালিম

জবির ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের দায়িত্বে ফের জুনায়েদ হালিম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জুনায়েদ আহমদ হালিম। ছবি: সংগৃহীত

অধ্যাপক জুনায়েদ হালিম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একমাত্র শিক্ষক যিনি তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৯ এ শ্রেষ্ঠ চিত্রসম্পাদক ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এর আগে ২০০৪ সালে ‘শঙ্খনাদ’ এবং ২০০৯ সালে ‘বৃত্তের বাইরে’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ চিত্রসম্পাদক হিসেবে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে বিভাগের অধ্যাপক জুনায়েদ আহমদ হালিমকে পুনরায় নিযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্যের অনুমোদনক্রমে রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামানের সই করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, ‘ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান জুনায়েদ আহমদ হালিমের নিয়োগের মেয়াদ ১৪ জুন পূর্ণ হবে। তাকে আবারও তিন বছরের জন্য ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলো।

আদেশে আরও বলা হয়, নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বিধি মোতাবেক ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। এ আদেশ ১৬ জুন থেকে কার্যকর হবে।

ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগে আর কোনো অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপক না থাকায় তিনি পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেলেন বলে বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়।

অধ্যাপক জুনায়েদ হালিম বলেন, দেশে চলচ্চিত্রের ওপর উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্র কম। মাত্র তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্রের বিভাগ রয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগ অনেক নবীন। অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝেও এগিয়ে চলছে।

অধ্যাপক জুনায়েদ হালিম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একমাত্র শিক্ষক যিনি তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৯ এ শ্রেষ্ঠ চিত্রসম্পাদক ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এর আগে ২০০৪ সালে ‘শঙ্খনাদ’ এবং ২০০৯ সালে ‘বৃত্তের বাইরে’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ চিত্রসম্পাদক হিসেবে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি।

জুনায়েদ হালিম ১৯৮৬ সালে ‘ঢাকা টোকাই’-এর মাধ্যমে প্রথম চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। তিনবার জাতীয় পুরস্কার পাওয়াসহ তার সম্পাদনায় ১৯৯৭ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের অনেক সিনেমা দেশে-বিদেশে নানা ধরনের স্বীকৃতি ও পুরস্কার লাভ করে। পেয়েছেন ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও।

এছাড়া ২০০৭ সালে ‘স্বপ্নডানায়’ চলচ্চিত্র সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব এবং ২০০৮ সালে ‘রূপান্তর’ চলচ্চিত্র ভারতে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কার লাভ করে।

অধ্যাপক জুনায়েদ হালিম আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির (২০১৯-২২) সদস্য।

আরও পড়ুন:
‘মুরব্বি’ ভিসির বক্তব্যে ঢাবিতে ক্ষোভ
‘সমস্যার সমাধান হতে পারে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা’
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা পেছাল: শুরু ৩১ জুলাই
গল্প করতে করতে ঢলে পড়লেন ঢাবি শিক্ষক
হিজবুত তাহরীর সন্দেহে আটক ঢাবির দুই শিক্ষার্থী

শেয়ার করুন

মিড-রিভিউ ক্লাসের সময় নিয়ে দ্বিধায় জবির শিক্ষার্থীরা

মিড-রিভিউ ক্লাসের সময় নিয়ে দ্বিধায় জবির শিক্ষার্থীরা

কোনো কোনো ডিন ও চেয়ারম্যান বলছেন, ১৮ জুলাইয়ের পূর্বেই রিভিউ ক্লাসের পাশাপাশি দুটি সেমিস্টারের মিড টার্ম নেয়া হবে। আবার কেউ কেউ বলছেন প্রথম সেমিস্টারের মিড নিতেই হবে, চাইলে দ্বিতীয় সেমিস্টার নেয়া যাবে। আবার কেউ বলছেন প্রথম সেমিস্টারের মিড টার্ম ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করা হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিভিন্ন বর্ষের আটকে থাকা সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১০ আগস্ট থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে অনলাইনে শেষ রিভিউ ক্লাস শেষ করতে হবে।

অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোর্স শিক্ষক নিজ বিবেচনায় সর্বোত্তম পদ্ধতিতে (অ্যাসাইনমেন্ট, গুগল ফরমে, ভাইভা, এমসিকিউ, কুইজ, ইত্যাদি) আগামী ১৮ জুলাইয়ে পূর্বে মিড টার্ম পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন। তবে প্রথম না দ্বিতীয় সেমিস্টারের মিড টার্ম পরীক্ষা তা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়নি।

কোনো কোনো ডিন ও চেয়ারম্যান বলছেন, ১৮ জুলাইয়ের পূর্বেই রিভিউ ক্লাসের পাশাপাশি দুটি সেমিস্টারের মিড টার্ম নেয়া হবে। আবার কেউ কেউ বলছেন প্রথম সেমিস্টারের মিড নিতেই হবে, চাইলে দ্বিতীয় সেমিস্টার নেয়া যাবে। আবার কেউ বলছেন প্রথম সেমিস্টারের মিড টার্ম ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করা হবে। আর ১০ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া সেমিস্টার ফাইনাল শেষে দ্বিতীয় সেমিস্টার মিড, রিভিউ ক্লাস হবে।

এতে দ্বিধা দ্বন্দ্ব এ পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। তবে সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন এটি সম্পূর্ণ কোর্স টিচারের ওপর নির্ভর করছে। কোর্স টিচার শিক্ষার্থী বান্ধব উপায়ে মিড পরীক্ষা নিতে পারবেন বলে জানান তারা।

তবে প্রথম সেমিস্টারের পর ৭-২১ দিনের একটি সময় থাকবে রিভিউ ক্লাসের জন্য এমনটি নিশ্চিত করেছেন বেশ কয়েকজন ডিন। ১৮ জুলাইয়ের আগেই দুটি সেমিস্টারের মিড ও রিভিউ ক্লাস নাকি সেমিস্টার মোতাবেক সময়সীমা দেয়া হবে- এ ব্যাপারে প্রশাসনের সুস্পষ্ট বক্তব্য চাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

মিড এবং রিভিউ ক্লাসের ব্যাপারে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ কে এম আক্তারুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার মনে হয়না শিক্ষকরা দুইটা সেমিস্টারের মিড একসঙ্গে ১৮ জুলাইয়ের আগে নিতে পারবেন। আমি যা বুঝি, প্রথম সেমিস্টারের মিড নিয়ে ফাইনাল শেষ হওয়ার পরে কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় সেমিস্টারের মিড এবং ফাইনাল নেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড এ কে এম মনিরুজ্জামান বলেন, দুই সেমিস্টারের অ্যাসেসমেন্ট ঈদের আগে হবে। যেমন এ মাসের ৩০ তারিখ এর ভেতর ১ম সেমিস্টারের অ্যাসেসমেন্ট নেয়া হলে এরপর ১৮ জুলাইয়ের ভেতর দ্বিতীয় সেমিস্টারের অ্যাসেসমেন্ট নেবে।

মিড টার্ম পরীক্ষার ব্যাপারে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার গোস্বামী বলেন, যেহেতু ২৭ জুন থেকে ফরম ফিলাপ এসব শুরু হয়ে যাবে তাহলে তো প্রথম সেমিস্টারের অ্যাসেসমেন্টগুলো আগেই নিতে হবে। অ্যাসেসমেন্ট নিয়ে তারপর ফরম ফিলাপ শুরু করতে হবে, আর ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে দুই সেমিস্টারের অ্যাসেসমেন্ট নিতে পারবে।

আইন অনুষদের ডিন ড. সরকার আলী আক্কাস বলেন, দুই সেমিস্টারের অ্যাসেসমেন্ট ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে নিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মন্ডল নিউজবাংলাকে জানান, প্রথম সেমিস্টারের মিড তো নিতেই হবে। সেক্ষেত্রে অপশন আছে। কেউ দ্বিতীয় সেমিস্টারের মিড পরে চাইলেও নিতে পারে, সমস্যা নাই। আর নির্দিষ্ট সময়ের আগে সশরীরে কোনো পরীক্ষা নেয়া যাবেনা, যা হবে সব অনলাইনে।

এ ব্যাপারে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. চঞ্চল কুমার বোস নিউজবাংলাকে জানান, যাদের দুটো সেমিস্টারের ক্লাস হয়ে গেছে তারা একসাথে দুটো নিতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, দুইটা সেমিস্টারের মিড একসঙ্গে নেয়া হবে। সেক্ষেত্রে প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা নেয়ার ৭ থেকে ১০ দিন পর দ্বিতীয় সেমিস্টারের রিভিউ ক্লাস নেয়া হবে। সেক্ষেত্রে মিড পরীক্ষাগুলো অনলাইনে নেয়া হবে আর সেমিস্টার ফাইনাল হবে সশরীরে।

এ ব্যাপারে কোনো নোটিশ দেয়া হবে কি না জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামানের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও যুক্ত হওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে জানান, অনেকের মিডটার্ম আগেই শেষ হয়েছে। যেগুলো হয়নি সেই মিডটার্ম গুলো নেয়া হবে। সেকেন্ড সেমিস্টারের ক্লাসতো অনেকের শেষ হয়ে গেছে, সেখানে বসে থেকে লাভ নাই। প্রথম সেমিস্টার আর দ্বিতীয় সেমিস্টারের মিড যেগুলো বাকি আছে সেগুলো নিজ নিজ ডিপার্টমেন্ট ১৮ জুলাইয়ের আগে তাদের সুবিধামতো নিতে পারবে।

এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪ তম (জরুরি) অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ইনস্টিটিউট ও বিভাগের পরীক্ষাসমূহ সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী ১০ আগস্ট, ২০২১ তারিখ থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

তবে দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি হলে অথবা সরকারি অন্য কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা থাকলে উক্ত তারিখ সমন্বয় করা হতে পারে।

এ ছাড়া, ডিনরা তাদের অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোর চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনা ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় করে পরীক্ষার রুটিনসহ পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করবেন এবং প্রয়োজনে সকল ইনস্টিটিউট ও বিভাগের কোর্স শিক্ষকেরা ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে রিভিউ ক্লাস সম্পন্ন করবেন।

যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারে নাই তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া আগামী ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে এবং সকল সেমিস্টারের ফরম পূরণ আগামী ২৯ জুলাইয়ে মধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

আরও পড়ুন:
‘মুরব্বি’ ভিসির বক্তব্যে ঢাবিতে ক্ষোভ
‘সমস্যার সমাধান হতে পারে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা’
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা পেছাল: শুরু ৩১ জুলাই
গল্প করতে করতে ঢলে পড়লেন ঢাবি শিক্ষক
হিজবুত তাহরীর সন্দেহে আটক ঢাবির দুই শিক্ষার্থী

শেয়ার করুন

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মারধর: গণপদযাত্রায় পুলিশের বাধা

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মারধর: গণপদযাত্রায় পুলিশের বাধা

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল অভিমুখে গণপদযাত্রায় পুলিশের বাধা। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, ‘আমরা হাসপাতাল দালালমুক্ত দেখতে চাই। হাসপাতালে সিন্ডিকেট চলবে না। এই হাসপাতাল কসাইখানায় পরিণত হয়েছে। একে রক্ষা করতে হবে।’

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মায়ের চিকিৎসা করাতে এসে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মারধরের শিকার হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ ও হাসপাতালকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিতে আয়োজিত গণপদযাত্রায় বাধা দিয়েছে পুলিশ।

সোমবার ‘প্রতিবাদী রংপুর’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ ও অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষক ওমর ফারুক। এতে অংশ নেন রংপুরের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বিকেলে রংপুর প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে গণপদযাত্রাটি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেয়। নগরীর টাউন হল এলাকায় পুলিশি বাধার মুখে পড়েন অংশগ্রহণকারীরা। এরপর তারা ওই বাধা পেরিয়ে নগরীর ডিসির মোড়ের বঙ্গবন্ধু ম্যুরালের পাদদেশে সমাবেশ করেন।

সমাবেশে ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাশেদ গরিব পরিবারের সন্তান। মায়ের চিকিৎসার জন্য ৫০০ টাকা ধার করে এনেছিল। সেই টাকার ১০০ দিতে হয়েছে হাসপাতালের কর্মচারীদের। ওই টাকার জন্য প্রতিবাদ করলে তাকে মেরে গুরুতর আহত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তার সুচিকিৎসা করা হচ্ছে না। সে একটি কানে শুনতে পায় না। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’

তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘আমরা ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছি। যদি এই সময়ের মধ্যে আহত ছাত্রদের উন্নত চিকিৎসা করা না হয় এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া না হয় তাহলে কঠোর আন্দোলন দেয়া হবে।’

শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, ‘আমরা হাসপাতাল দালালমুক্ত দেখতে চাই। হাসপাতালে সিন্ডিকেট চলবে না। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের আহত ছেলেদের চিকিৎসা নিশ্চিত এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এই হাসপাতাল কসাইখানায় পরিণত হয়েছে। এই হাসপাতালকে রক্ষা করতে হবে। সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে হবে।’

রাকিবুল হাসান নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘রংপুর অঞ্চলের দুই কোটি মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা এই হাসপাতাল। কিন্তু সেখানে দালাল দিয়ে ভর্তি। পদে পদে দুর্নীতি। সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এটা বন্ধ করতে হবে। দালালমুক্ত করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।’

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদ বলেন, ‘পদযাত্রার বিষয়টি আমরা সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানাব।’

ওসি বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।’

আহত দুই শিক্ষার্থীর উন্নত চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়ার কথাও জানান ওসি।

অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করাতে শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল করিম রিয়াদ ও তার ছোট ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাশেদ করিম । এ সময় ৩০ টাকা ভর্তি ফির বদলে ১০০ টাকা নেয় হাসপাতালের কর্মচারীরা। এর প্রতিবাদ করায় পিটিয়ে আহত করা হয় রিয়াদ ও রাশেদকে।

এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শনিবার চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তাদের পাঁচ কর্মদিবসে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘মুরব্বি’ ভিসির বক্তব্যে ঢাবিতে ক্ষোভ
‘সমস্যার সমাধান হতে পারে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা’
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা পেছাল: শুরু ৩১ জুলাই
গল্প করতে করতে ঢলে পড়লেন ঢাবি শিক্ষক
হিজবুত তাহরীর সন্দেহে আটক ঢাবির দুই শিক্ষার্থী

শেয়ার করুন

টাইম স্কেল ধরে রাখতে ৪৮ হাজার শিক্ষকের আপিল

টাইম স্কেল ধরে রাখতে ৪৮ হাজার শিক্ষকের আপিল

মোকছেদুল জানান, শিক্ষকদের টাইম স্কেল ফেরত নিতে অর্থ মন্ত্রণালয় যে পরিপত্র জারি করে, সেটি একটি বড় অন্যায়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাজ হচ্ছে অর্থ বরাদ্দ করা। এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেটি কোন খাতে ব্যয় করছে সেটি তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।

জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৮ হাজার ৭২০ শিক্ষকের টাইম স্কেল ফেরত নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের বৈধতা প্রশ্নে রিট খারিজ করে হাইকোর্ট। এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন শিক্ষকেরা।

আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় সোমবার আপিল করা হয়েছে বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন আবেদনকারী শিক্ষকদের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোকছেদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘টাইম স্কেল ফেরত নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রের বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্ট রুলটি খারিজ করে দেয়। আমরা ওই খারিজাদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেছি।’

মোকছেদুল জানান, শিক্ষকদের টাইম স্কেল ফেরত নিতে অর্থ মন্ত্রণালয় যে পরিপত্র জারি করে, সেটি একটি বড় অন্যায়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাজ হচ্ছে অর্থ বরাদ্দ করা। এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেটি কোন খাতে ব্যয় করছে সেটি তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।

‘কিন্তু দেখা যায়, সেখানেও অর্থ মন্ত্রণালয় নাগ গলায়। এমন কোনো বিধান নেই। বরং আইনে বলা আছে, বরাদ্দকৃত অর্থ কোন খাতে ব্যয় করবে সেটি প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। আমরা আপিল দায়ের করেছি, আশা করি সেখান থেকে আমাদের পক্ষে রায় পাব।’

সারা দেশে জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৮ হাজার ৭২০ শিক্ষকের টাইম স্কেল ফেরত দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র নিয়ে জারি করা রুলটি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি খারিজ করে রায় দেয় হাইকোর্ট। রায়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে রিটকারীরা চাইলে মামলা করতে পারবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

আদালতে ওই দিন রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মোকছেদুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে প্রাথমিক শিক্ষক সমাবেশে দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত এক লাখ ৪ হাজার ৭৭২ জন শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে রাষ্ট্রপতির আদেশে পরিপত্র ও গেজেট প্রকাশ করা হয়।

সেই পরিপত্র ও গেজেটের পর জাতীয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সরকারের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে আসছিলেন। কিন্তু গত বছর ১২ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয় ৪৮ হাজার ৭২০ জন শিক্ষকের টাইম স্কেল ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়ে পরিপত্র জারি করে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সংক্ষুব্ধ শিক্ষকরা হাইকোর্টে রিট করেন।

রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট পরিপত্র স্থগিত করে রুল জারি করে। রুলে শিক্ষকের টাইম স্কেল ফেরত দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ তখন আপিল করে। ওই আপিল গ্রহণ করে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়। পরে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শুনানি শেষে দ্রুত হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় হাইকোর্ট শুনানি শেষ করে রুলটি খারিজ করে দেয়।

আরও পড়ুন:
‘মুরব্বি’ ভিসির বক্তব্যে ঢাবিতে ক্ষোভ
‘সমস্যার সমাধান হতে পারে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা’
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা পেছাল: শুরু ৩১ জুলাই
গল্প করতে করতে ঢলে পড়লেন ঢাবি শিক্ষক
হিজবুত তাহরীর সন্দেহে আটক ঢাবির দুই শিক্ষার্থী

শেয়ার করুন

সাত কলেজের ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু জুলাই থেকে

সাত কলেজের ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু জুলাই থেকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের মধ্যে অন্যতম ঢাকা কলেজ। ছবি: সংগৃহীত

সাত কলেজের সমন্বয়ক ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিমউল্লাহ খন্দকার নিউজবাংলাকে বলেন, আজকের বৈঠকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তির আবেদন নেয়া হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কৃর্তপক্ষ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের স্নাতক (২০২০-২১) প্রথম বর্ষের ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী জুলাই মাস থেকে।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ও সাত কলেজের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামালের সঙ্গে সাত কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে সাত কলেজের সমন্বয়ক ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিমউল্লাহ খন্দকার নিউজবাংলাকে বলেন, আজকের বৈঠকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তির আবেদন নেয়া হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কৃর্তপক্ষ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেবে।

কলেজগুলো হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ।

আরও পড়ুন:
‘মুরব্বি’ ভিসির বক্তব্যে ঢাবিতে ক্ষোভ
‘সমস্যার সমাধান হতে পারে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা’
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা পেছাল: শুরু ৩১ জুলাই
গল্প করতে করতে ঢলে পড়লেন ঢাবি শিক্ষক
হিজবুত তাহরীর সন্দেহে আটক ঢাবির দুই শিক্ষার্থী

শেয়ার করুন

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর, সংসদে সমালোচনা

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর, সংসদে সমালোচনা

‘বাজেটে ন্যাক্কারজনকভাবে বেসরকারি শিক্ষার ওপর ১৫ শতাংশ করারোপ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে একজন শিক্ষার্থী বলেছেন, অন্যদেশের সরকার শিক্ষায় ভর্তুকি দেয়, আর আমরা করারোপ করি। বেসরকারিতে পড়া স্টুডেন্টরা আম নাকি যে দেখলেই পাড়তে মন চাইবে?’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল শিক্ষার ওপর ১৫ শতাংশ করারোপ প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা।

সোমবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার ও জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী এই প্রস্তাবের সমালোচনা করেন।

রাশেদ খান মেনন বলেন, শিক্ষা খাতের ১৫.৭ ভাগ বরাদ্দের ৪ ভাগই প্রযুক্তি খাতের।

‘বিপর্যস্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় ছুটিই বাড়ছে, লেখাপড়ার বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে না। এদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেখানে ৫ লাখ ছেলেমেয়ে লেখাপড়া করছে, তাদের ওপর ১৫ ভাগ কর চাপানো হয়েছে, যা শেষ বিচারে শিক্ষার্থীদের ওপর পড়বে।’

জাসদের শিরীন আখতার কর নির্ভরশীলতাকে গরিববিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল বৈষম্যমূলক রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষার ক্ষেত্রে করের প্রস্তাব জাসদ বিরোধিতা করছে।’

বাজেটে বেসরকারি শিক্ষা সব থেকে বেশি উপেক্ষিত বলে মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘বাজেটে ন্যাক্কারজনকভাবে বেসরকারি শিক্ষার ওপর ১৫ শতাংশ করারোপ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে একজন শিক্ষার্থী বলেছেন, অন্যদেশের সরকার শিক্ষায় ভর্তুকি দেয়, আর আমরা করারোপ করি। বেসরকারিতে পড়া স্টুডেন্টরা আম নাকি যে দেখলেই পাড়তে মন চাইবে?’

প্রসঙ্গত অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত ৩ জুন তার বাজেট বক্তব্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১৫ শতাংশ করারোপের কথা বলেন।

বাজেট প্রস্তাবে তিনি বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রযোজ্য সাধারণ করহার হ্রাস করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ, বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ, বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বা কেবল তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষাদানে নিয়োজিত বেসরকারি কলেজ থেকে উদ্ভূত আয়ের ১৫ শতাংশ হারে কর নির্ধারণ করা হয়েছিল। মহান এ সংসদে আমি এ করহার অর্থ আইনের মাধ্যমে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।’

বাজেট প্রস্তাবের পর থেকেই বেসরকারি শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা এ প্রস্তাবের প্রতিবাদ করে আসছে। বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ট্রাস্টের অধীন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় ট্যাক্স-ভ্যাট প্রযোজ্য নয়।

সরকার এর আগে ২০১৫ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ ভ‌্যাট আরোপ করলে টানা কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তা প্রত্যাহার করে নেয়।

আরও পড়ুন:
‘মুরব্বি’ ভিসির বক্তব্যে ঢাবিতে ক্ষোভ
‘সমস্যার সমাধান হতে পারে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা’
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা পেছাল: শুরু ৩১ জুলাই
গল্প করতে করতে ঢলে পড়লেন ঢাবি শিক্ষক
হিজবুত তাহরীর সন্দেহে আটক ঢাবির দুই শিক্ষার্থী

শেয়ার করুন

এসআই পদে জগন্নাথের ১০৬ জন

এসআই পদে জগন্নাথের ১০৬ জন

পুলিশের ৩৮তম বহিরাগত ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদে নিয়োগ পেয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাবেক ১০৬ জন শিক্ষার্থী। ছবি: সংগৃহীত

২০২০ সালের ১৪ জুন থেকে রাজশাহীর সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমিতে বহিরাগত ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টরদের (এসআই) প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এতে অংশ নেন ১ হাজার ২৩১ জন। ২০২১ সালের ১৪ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে বছরব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষ হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে সদ্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাব-ইন্সপেক্টরদের পোস্টিং দেয়া হয়।

পুলিশের ৩৮তম বহিরাগত ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) নিরস্ত্র পদে নিয়োগ পেয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাবেক ১০৬ জন শিক্ষার্থী।

প্রশিক্ষণ শেষে পুলিশের এসআইদের বার্ষিক স্মরণিকা ‘বন্ধন’ থেকে এই তথ্য জানা যায়।

এসআই পদে নিয়োগ পাওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থীও নিউজবাংলার প্রতিবেদককে এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তবে ১০৬ জন নিয়োগ পেলেও ৯৪ বা ৯৬ জনের মতো প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

প্রশিক্ষণ শেষে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, পুলিশের চাকরিতে প্রচুর কাজ করতে হয়।

‘এটা চ্যালেঞ্জিং পেশা। তবে কোনো পেশাই কষ্ট ছাড়া সুখ নেই। এ পেশাটা কখনও কখনও উপভোগ্য হয়ে ওঠে।’

২০২০ সালের ১৪ জুন থেকে রাজশাহীর সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমিতে বহিরাগত ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টরদের (এসআই) প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এতে অংশ নেন ১ হাজার ২৩১ জন। ২০২১ সালের ১৪ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে বছরব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষ হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে সদ্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাব-ইন্সপেক্টরদের পোস্টিং দেয়া হয়। এদের মধ্যে প্রায় এক হাজারজনকে জেলা পুলিশ, বাকিদের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট, সিআইডিসহ অন্যান্য জায়গায় পোস্টিং দেয়া হয়।

এদের মধ্যে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট ঢাকা অব বাংলাদেশ পুলিশের জন্য মনোনীত হয়েছেন জগন্নাথের নবম ব্যাচের মো. মামুন মিয়া। এ পদে সারা বাংলাদেশ থেকে ১২ জনের একজন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি।

বললেন, সবার দোয়ায় সেই বহু কাঙ্ক্ষিত প্রথম চয়েজটা পেয়ে গেলাম। আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

প্রশিক্ষণ শেষে সাব-ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগ পাওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শামীম রেজা বলেন, পুলিশের চাকরি খুবই চ্যালেঞ্জিং। প্রচুর কাজ করতে হয়। তবে পেশাটা উপভোগ্য। প্রশিক্ষণে অনেক কৌশল ও দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা রক্ষার নানান বিষয় জানতে পেরেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ থেকে প্রায় সমানসংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছেন।

এর আগে পুলিশের ৩৭তম ক্যাডেটে এসআই ১ হাজার ৭৫৯ জনের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪৮ জন সাবেক শিক্ষার্থী এবং ৩৬তম এসআই পদে ১১১ জন শিক্ষার্থী নিয়োগ পেয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:
‘মুরব্বি’ ভিসির বক্তব্যে ঢাবিতে ক্ষোভ
‘সমস্যার সমাধান হতে পারে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা’
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা পেছাল: শুরু ৩১ জুলাই
গল্প করতে করতে ঢলে পড়লেন ঢাবি শিক্ষক
হিজবুত তাহরীর সন্দেহে আটক ঢাবির দুই শিক্ষার্থী

শেয়ার করুন