আবরারের ‘খুনি’র সঙ্গে ক্লাস নয়: বুয়েটে মানববন্ধন

আবরারের ‘খুনি’র সঙ্গে ক্লাস নয়: বুয়েটে মানববন্ধন

শিক্ষার্থীরা আশিকুল ইসলাম বিটুর কোর্স রেজিষ্ট্রেশন বাতিল এবং আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার দায়ে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কেউ যাতে আর একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। শনিবারের মধ্যে তাদের এ দাবি কার্যকর না হলে পরদিন থেকে সব একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন তারা। 

আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে আজীবন বহিষ্কৃত আশিকুল ইসলাম বিটু সম্প্রতি আদালতের স্টে অর্ডার নিয়ে অনলাইন ক্লাসে অংশ নিয়েছেন।

আবরারের ‘খুনি’ অভিযোগে তার সঙ্গে কোনো শর্তেই ক্লাস করবেন না বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার বুয়েট ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ কথা জানানো হয়। বিটুর ক্লাসে ফেরত আসার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয় ।

গত ২২ মে বিটু কেমিকৌশল লেভেল-৩ টার্ম-১-এর একটি কোর্সের অনলাইন ক্লাসে অংশ নেন। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

এরপর শিক্ষার্থীরা আশিকুল ইসলাম বিটুর কোর্স রেজিষ্ট্রেশন বাতিল এবং আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার দায়ে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কেউ যাতে আর একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।

শনিবারের মধ্যে তাদের এ দাবি কার্যকর না হলে পরদিন থেকে সব একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পড়েন ১৭ ব্যাচের মেকানিক্যাল বিভাগের শিক্ষার্থী আলী আহমেদ মোয়াজ। বলেন, ‘আশিকুল ইসলাম বিটুর সাথে একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে কোনো শর্তেই ইচ্ছুক নই, এই মর্মে বুয়েট প্রশাসনের কাছে দাবি উত্থাপন করি। প্রশাসন দ্রুততম সময়ে আমাদের সাথে যোগাযোগ করে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে আশিকুল ইসলাম বিটুর কোর্স রেজিস্ট্রেশন এখনও সম্পন্ন হয়নি বিধায় সে ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারবে না এবং কোর্সগুলোতে তার অন্তর্ভুক্তি বাতিল করা হয়েছে। বুয়েট প্রশাসন আমাদের এই মর্মে আশ্বাস প্রদান করেছে যে অবিলম্বে আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।’

মোয়াজ বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ২৯ মে’র মধ্যে বুয়েট প্রশাসন আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবে। কোনো কারণে এই সময়ের মধ্যে আপিল করতে না পারলে, আপিল করার প্রতিশ্রুতি একটি গ্রহণযোগ্য সময়সীমাসহ অফিশিয়াল বিবৃতি/নোটিশে অন্তর্ভুক্ত করবে।

‘এ দুটির যেকোনো একটি কার্যকরের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আমাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি পুনর্বিবেচনা করে একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসব।’

গত ২২ মে কেমিকৌশল ১৭ ব্যাচের একটি কোর্সের ক্লাসে আশিকুলকে অংশ নিতে দেখা যায়। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি আশিকুল তার বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে আদালত থেকে স্থগিতাদেশ পান এবং বুয়েটে তার একাডেমিক কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করেন।

পরে ৪ এপ্রিল বুয়েটে প্রশাসন আবেদনের সাপেক্ষে আশিকুলকে ক্লাস করার অনুমতি দেয়। পরিপ্রেক্ষিতে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল দেয়া ও বুয়েটের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার প্ল্যাটফর্ম মাইক্রোসফট টিমসের সংশ্লিষ্ট কোর্সগুলোতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে তাকে কেমিকৌশল ’১৭ ব্যাচের সঙ্গে লেভেল-৩ টার্ম-১-এর অন্তত ৪টি কোর্সে একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
আবরার হত্যা: আরেক জনের সাক্ষ্য ও জেরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কওমি মাদ্রাসাকে নিবন্ধন দিতে চায় সরকার

কওমি মাদ্রাসাকে নিবন্ধন দিতে চায় সরকার

কওমি মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে একটি সমন্বিত নীতিমালা করা হবে। এর আওতায় কওমি মাদ্রাসাগুলোকে নিবন্ধন দেয়া হবে। এ ছাড়া কওমির ছয় বোর্ডকে সমন্বয় করে একটি কওমি শিক্ষা বোর্ড গঠনের কথাও ভাবা হচ্ছে।

দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে চায় সরকার। এরই মধ্যে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। এ লক্ষ্যে একটি নীতিমালা তৈরিতে কমিটিও করা হয়েছে।

সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষাবিদরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। এ জন্য একটি সমন্বিত নীতিমালা করা হবে।

‘এর আওতায় কওমি মাদ্রাসাগুলোকে নিবন্ধন দেয়া হবে। এ ছাড়াও কওমির ছয় বোর্ডকে সমন্বয় করে একটি কওমি শিক্ষা বোর্ড গঠনের কথাও ভাবা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগ আরও আগেই নেয়া উচিত ছিল। মাদ্রাসা শিক্ষা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ জন্য সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যুগোপযোগী নীতিমালা করতে হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মাদ্রাসা জেনারেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। বাংলাদেশের সকল কওমি মাদ্রাসাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে তদারকি করা উচিত।

‘এ উদ্যোগটি আগেই নেয়া দরকার ছিল। এতে যেমন শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে, তেমনি শিক্ষার্থীদের কেউ ভুল পথে পরিচালিত করতে পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, এ উদ্যোগের ফলে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারি চাকরিতে তারা সুযোগ পাবে।

গত ২১ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এক অফিস আদেশে এ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমানকে আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক মো. আব্দুস সেলিমকে করা হয়েছে সদস্য সচিব।

১৫ সদস্যের ওই কমিটিতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, জননিরাপত্তাবিষয়ক বিভাগের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আছেন।

এ ছাড়া কওমি মাদ্রাসার ছয় বোর্ডের চেয়ারম্যানদেরও পদাধিকার বলে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন বেফাক সভাপতি আল্লামা মাহমুদুল হাসান, গওহরডাঙ্গা বোর্ডের মুফতি রুহুল আমীন, আঞ্জুমানে ইত্তিহাদ বোর্ডের মাওলানা আবদুল হালিম বোখারি, সিলেটের আযাদ দ্বীনি বোর্ডের মাওলানা জিয়াউদ্দিন, তানযীমুল মাদারিসের মুফতি আরশাদ রহমানী ও জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ।

আরও পড়ুন:
আবরার হত্যা: আরেক জনের সাক্ষ্য ও জেরা

শেয়ার করুন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতিতে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সব পরীক্ষা, নিয়োগ ও সান্ধ্যকালীন এমবিএ ১ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হল।

ময়মনসিংহের ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ১১টি এলাকায় শুক্রবার থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় এ স্থগিতাদেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতিতে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সব পরীক্ষা, নিয়োগ ও সান্ধ্যকালীন এমবিএ ১ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হল।

তবে এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সার্ভিস চলমান থাকবে। জরুরি সার্ভিসে জড়িতদের জন্য চাহিদা অনুযায়ী গাড়ি চলাচল করবে।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. হুমায়ুন বলেন, আপাতত ১ জুলাই পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাসহ অন্য কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক জানান, ময়মনসিংহে আশঙ্কাজনক হারে করোনা সংক্রমণ বাড়ায় শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ১ জুলাই মধ্যেরাত পর্যন্ত কয়েকটি এলাকায় লকডাউন দেয়া হয়েছে।

লকডাউনের আওতাভুক্ত এলাকাগুলো হলো চরপাড়া, মাসকান্দা, নয়াপাড়া, কৃষ্টপুর, আলিয়া মাদ্রাসা এলাকা, নওমহল, আর.কে. মিশন রোড, বাউন্ডারি রোড, পাটগুদাম, কাঁচিঝুলি ও গাঙ্গিনারপাড়।

এদিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে গত ২৪ ঘন্টায় ৩৭৪ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৮ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। জেলায় আক্রান্তের হার ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
আবরার হত্যা: আরেক জনের সাক্ষ্য ও জেরা

শেয়ার করুন

ঢাবির বাজেটের ৭৪ শতাংশ দিয়ে বেতন-পেনশন

ঢাবির বাজেটের ৭৪ শতাংশ দিয়ে বেতন-পেনশন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন। ছবি: নিউজবাংলা

এ বছর শিক্ষার্থীদের থেকে ফি বাবদ আয়ের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ভর্তি ফর্ম বিক্রি থেকে আয়ের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৭ লাখ টাকা, বেতন ভাতাদি থেকে কর্তনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা, সম্পত্তি থেকে আয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা, এবং বিবিধ থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ অর্থ বছরের বাজেট সিনেট অধিবেশনে উত্থাপন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দীন আহমেদ।

উত্থাপিত বাজেটে দেখা যায়, ৮৩১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বাজেট থেকে ৬১১ কোটি ৮৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয় হবে শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও পেনশন খাতে। যা মোট ব্যায়ের ৭৩.৫৭ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী সিনেট ভবনে বার্ষিক অধিবেশন শুরু হয়। শেষ হয় সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টায়। অধিবেশনে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট পাশ হয়। উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।

কোষাধ্যক্ষ উত্থাপিত বাজেটে দেখা যায়, এবারের মূল বাজেট ৮৩১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে বেতন-ভাতা এবং পেনশন বাবদ ব্যায় হবে ৬১১ কোটি ৮৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, গবেষণা মঞ্জুরী খাতে ১১ কোটি টাকা, অন্যান্য অনুদান বাবদ ১৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা, পণ্য ও সেবা খাতে ১৬৮ কোটি ৮ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং মূলধন খাতে ব্যায় হবে ২১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

৮৩১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন দিবে ৬৯৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা আর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৬৫ কোটি টাকা। যা শিক্ষার্থীদের থেকে ফি, ভর্তি ফর্ম বিক্রি, বেতন ভাতাদি থেকে কর্তন, সম্পত্তি এবং বিবিধ থেকে আয় হবে। সে হিসেবে বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৭০ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

এ বছর শিক্ষার্থীদের থেকে ফি বাবদ আয়ের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ভর্তি ফর্ম বিক্রি থেকে আয়ের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৭ লাখ টাকা, বেতন ভাতাদি থেকে কর্তনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা, সম্পত্তি থেকে আয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা, এবং বিবিধ থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

বাজেটে ঘাটতির বিষয়ে কোষাধ্যক্ষ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠান নয়। কাজেই নিজস্ব তহবিল থেকে ঘাটতি মেটানো সম্ভব হবে না। প্রতি বছর এভাবে তহবিলের ঘাটতি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন কষ্টসাধ্য হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয়ের নতুন নতুন খাত খুঁজে বের করতে হবে অথবা সরকারের কাছ থেকে বিশেষ অনুদান চাওয়া যেতে পারে।

ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও একাডেমিক ভবন মেরামত ও সংস্কারের জন্য বিমককে একটি বিশেষ তহবিল প্রদান করেছেন যেখান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। কোষাধ্যক্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।

অধিবেশনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, সহ উপাচার্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ সামাদ, ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নুরুল হক নুর, সাদ্দাম হোসেন, সনজিত চন্দ্র দাশ এবং তিলোত্তমা শিকদার। এছাড়া পাঁচজন সংসদ সদস্যও অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন, ওবায়দুল মোকতাদির, দীপঙ্কর তালুকদার, গোলাম আবদুস সোবহান, মেহের আফরোজ চুমকি ও মঞ্জুরুল হাসান।

অধিবেশনের শুরুতে করোনাকালে মারা যাওয়া স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ, ফিলিস্তিনের ওপর ইজরায়েলের হামলার নিন্দা এবং নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর উপাচার্যের অভিভাষণের মাধ্যমে শুরু হয় বার্ষিক অধিবেশনের মূল কর্মসূচি। উপাচার্যের অভিভাষণের পর কোষাধ্যক্ষ বাজেট উপস্থাপন করেন।

আরও পড়ুন:
আবরার হত্যা: আরেক জনের সাক্ষ্য ও জেরা

শেয়ার করুন

অ্যাসাইনমেন্টের বিস্তারিত তথ্য চায় মাউশি

অ্যাসাইনমেন্টের বিস্তারিত তথ্য চায় মাউশি

অফিস আদেশে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি এবং ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রমে কতজন শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্ট গ্রহণ করেছে, কতজন জমা দিয়েছে এবং কতজন দেয়নি তা সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে বলা হয়েছে আঞ্চলিক পরিচালক, উপপরিচালক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের।

করোনা মহামারির সময়ে শুরু হওয়া অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

অফিস আদেশে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি এবং ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রমে কতজন শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্ট গ্রহণ করেছে, কতজন জমা দিয়েছে এবং কতজন দেয়নি তা সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে বলা হয়েছে আঞ্চলিক পরিচালক, উপপরিচালক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের।

আগামী ২৮ জুনের মধ্যে এসব তথ্য সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে পাঠাতে বলা হয়েছে।

সেই আদেশে নির্দিষ্ট ছকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন, ঠিকানা, ইমেইল, টেলিফোন নম্বর উল্লেখ করে, ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা, প্রতি সপ্তাহে কতজন শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্ট গ্রহণ করছে, কতজন জমা দিচ্ছে এবং কতজন জমা দিচ্ছে না—তা উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।

গত বছর করোনা মহামারি দেখা দেয়ার পর ষষ্ঠ থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রমে যুক্ত থাকতে দেয়া হচ্ছে অ্যাসাইনমেন্ট। করোনাকালে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মধ্যে রাখাই এই অ্যাসাইনমেন্টের উদ্দেশ্য। এর ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নও করা হবে। তবে ২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা এ অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রমের বাইরে থাকবে। এ কার্যক্রম চলছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে।

অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করার পর মোট চার ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করবেন শিক্ষকরা। ক্যাটাগরিগুলো হলো ‘অতি উত্তম’, ‘উত্তম’, ‘ভালো’ ও ‘অগ্রগতি প্রয়োজন’। যে সব শিক্ষার্থী ২০ নম্বরের মধ্যে ১৬ পাবে, তাদের অতিউত্তম, ১১-১৫ পেলে উত্তম, ৬-১০ পেলে ভালো এবং ৫ বা ৫-এর কম পেলে অগ্রগতি প্রয়োজন বলে মূল্যায়ন করবেন শিক্ষকরা।

চলতি বছরের ২০ মার্চ থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হয়। এরপর লকডাউনের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে গত ২৩ মে অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম আবার শুরু করে মাউশি। ইতিমধ্যে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ষষ্ঠ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে। আর ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রথম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্টও দেয়া হয়েছে।

দেশে করোনা শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ভাইরাসের বিস্তার রোধে ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দফায় দফায় তা ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আবরার হত্যা: আরেক জনের সাক্ষ্য ও জেরা

শেয়ার করুন

হল ও পরিবহন ফি মওকুফের দাবি ঢাবি সিনেটে

হল ও পরিবহন ফি মওকুফের দাবি ঢাবি সিনেটে

করোনায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের আনা নেয়ার বাসগুলো চলছে না। কিন্তু পরিবহন ফি দিতেই হচ্ছে।

‘ভর্তি হতে এসে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের পরিবহন ফি এবং আবাসিক ফি নেয়া হচ্ছে ৷ এটি নিয়ে কিন্তু আমাদের চিন্তা করতে হবে ৷ শিক্ষার্থীরা দেড় বছর হলে থাকেনি এই অবস্থায় অনেক কিছু খরচ হয়নি। হয়ত কিছুটা খরচ হয়েছে। সে হিসেবে আমরা যদি এক বছরের ফি মওকুফ করে দিতে পারি সেটি বিবেচনায় আনা উচিত।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে শিক্ষার্থীদের পরিবহণ ফি এবং আবাসিক ফি মওকুফের বিষয়টি বিবেচনার দাবি উঠেছে।

ছাত্রদের পক্ষ থেকে ডাকসুর সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনও এই দাবি জানান। আর এর আগে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম এ বিষয়ে জোরাল বক্তব্য রাখেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে বিষয়টি উঠে আসে। অধিবেশনের সভাপতিত্ব করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। এই অধিবেশনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দীন আহমেদ।

দেড় বছর ধরে বন্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল। সচল হয়নি পরিবহন ব্যবস্থা। তবুও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে পরিবহন ফি। এমনকি বন্ধ হলের ‘সিট ভাড়া’ হিসেবে দুই বছরের ফি জমা দিতেও বলা হয়েছে। আবাসিক হলে না থেকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনে না চড়লেও হল এবং পরিবহন ফি নেয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

এক জন শিক্ষার্থী বলছেন, ‘আমাদের সঙ্গে অন্যায্য ও বৈষম্যমূলক আচরণ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসব দেখার কেউ নেই। শিক্ষার্থীরা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জিম্মি।’

অধিবেশনে সাদেকা হালিম বলেন, ‘ভর্তি হতে এসে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের পরিবহন ফি এবং আবাসিক ফি নেয়া হচ্ছে ৷ এটি নিয়ে কিন্তু আমাদের চিন্তা করতে হবে ৷ শিক্ষার্থীরা দেড় বছর হলে থাকেনি এই অবস্থায় অনেক কিছু খরচ হয়নি। হয়ত কিছুটা খরচ হয়েছে। সে হিসেবে আমরা যদি এক বছরের ফি মওকুফ করে দিতে পারি সেটি বিবেচনায় আনা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘এই কোভিড সময়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্ত্বশাসনের একটা বিষয় খুব প্রকটভাবে ধরা পড়েছে। যেটি গণমাধ্যম বারবার তুলে ধরেছে। সেটি হলো, আমরা কীভাবে পরীক্ষা নেব, অনলাইনে নাকি অফলাইনে। এ জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বারবার নির্দেশনা দিয়ে আমাদের কনফিউজড করে দিচ্ছে। এই বছরের মে মাসে যখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি অনলাইনে পরীক্ষা নেব, তখন বলা হচ্ছে আপনারা অফলাইনে পরীক্ষা নেবেন।

‘কিন্তু এখন আমাদের ঠিকই অনলাইনে ফিরে যেতে হচ্ছে। কারণ, করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। ৪১টি জেলা ঝুঁকির মধ্যে আছে৷ অফলাইনে নিলে এই শিক্ষার্থীরা কীভাবে আসবে? সুতরাং আবারও আমরা অনলাইনে চলে গিয়েছি। শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে এই দুই মাস নষ্ট হয়ে গেছে।’

সিনেট অধিবেশনে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ডাকসুর সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনও শিক্ষার্থীদের হল এবং পরিবহন ফি প্রত্যাহারের দাবি জানান।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা হলে না থেকেও তাদের কাছ থেকে আবাসিক এবং পরিবহন ফি গ্রহণ করা হচ্ছে। আমাদের উপাচার্য সবসময় অন্তভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বলেন। সে হিসেবে দুই বছরের জন্য যেন এসব ফি প্রত্যাহার করা হয় সে বিষয়ে মাননীয় উপাচার্যের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি৷’

এর আগে এই দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে সমাবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। সেখানেও ছাত্রলীগ নেতারা এসব ফি প্রত্যাহারের দাবি জানান।

আরও পড়ুন:
আবরার হত্যা: আরেক জনের সাক্ষ্য ও জেরা

শেয়ার করুন

প্রাথমিকের শিক্ষকরা চান ‘সুপার নিউমারারি’ পদোন্নতি

প্রাথমিকের শিক্ষকরা চান ‘সুপার নিউমারারি’ পদোন্নতি

সহকারী শিক্ষকদের যুক্তি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটিমাত্র প্রধান শিক্ষকের পদ, পদোন্নতির যোগ্যতা থাকলেও পদসংকটের কারণে সহকারী শিক্ষকরা পদোন্নতি না পেয়েই কর্মজীবন শেষ করছেন। তাই সহকারী শিক্ষকদের বিকল্প উপায়ে পদোন্নতি দেয়া হোক।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা সাত বছর চাকরির পর চান ‘সুপার নিউমারারি পদোন্নতি’।

তাদের যুক্তি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটিমাত্র প্রধান শিক্ষকের পদ, পদোন্নতির যোগ্যতা থাকলেও পদসংকটের কারণে সহকারী শিক্ষকরা পদোন্নতি না পেয়েই কর্মজীবন শেষ করছেন। তাই সহকারী শিক্ষকদের বিকল্প উপায়ে পদোন্নতি দেয়া হোক।

বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি রাজেশ মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদে পদোন্নতি দেয়া হয়। পদসংকট ও বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ২০০৯ সাল থেকে পদোন্নতি দেয়া বন্ধ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কলেজে অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য শূন্যপদ কোনো বিষয় নয়। তাই শূন্যপদের বিপরীতে নয়, নিয়োগবিধিতে উল্লিখিত যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে সাত বছর পর সুপার নিউমারারি পদোন্নতি দেয়া উচিত।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, সারা দেশে ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজারের অধিক সহকারী শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। যেহেতু প্রতিটি বিদ্যালয়ে একটিমাত্র প্রধান শিক্ষক পদ, তাই পদোন্নতির যোগ্যতা থাকলেও পদস্বল্পতার কারণে সহকারী শিক্ষকরা পদোন্নতি না পেয়ে সারা কর্মজীবন একই পদে কর্মরত থাকেন।

আরও বলা হয়, তা ছাড়া প্রধান শিক্ষক পদেও পদোন্নতি নেই। তাই সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি সমস্যার সমাধানে সুপার নিউমারারি পদোন্নতি কার্যকর সমাধান।

আরও পড়ুন:
আবরার হত্যা: আরেক জনের সাক্ষ্য ও জেরা

শেয়ার করুন

ইসলামের ইতিহাসে এমএ, পরের ডিগ্রি প্রযুক্তির

ইসলামের ইতিহাসে এমএ, পরের ডিগ্রি প্রযুক্তির

ইসলামের ইতিহাসে মাস্টার্স করার পর সুইডেনে প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা করা ড. আব্দুল বাতেন মিয়াজী।

ব্যতিক্রমী শিক্ষা জীবনের এই মানুষটির নাম আব্দুল বাতেন মিয়াজী। তিনি প্রথমে পড়াশোনা করেছেন স্কুলে, এরপর মাদ্রাসায়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে। বিভাগে পাল্টে যান ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে। মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে পিএইচডি করতে যান সুইডেনে। সেখানে আগ্রহ জন্মে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে পড়ার। কীভাবে তিনি মানবিক বিভাগ থেকে পাস করেও তথ্য প্রযুক্তিবিদ হয়েছেন, সেই গল্পই তিনি শুনিয়েছেন নিউজবাংলাকে।

তিনি পড়তে ভালোবাসেন। ভীষণ মেধাবী, যাই পড়েছেন, আদ্যোপান্ত জানার চেষ্টা করেছেন। আর জ্ঞানের ক্ষুধা তাকে বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রহী করে তুলেছে।

বিচিত্র তার শিক্ষা জীবন। প্রথমে পড়েছেন স্কুলে, পরে মাদ্রাসায়, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ভর্তি প্রথমে ইংরেজি সাহিত্যে, সেখান থেকে পরে বিষয় পাল্টে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে।

মাস্টার্স পাসের পর ইউরোপের দেশ সুইডেনে ইসলামে নারীর ক্ষমতায়নের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেই থেমে যাননি। এর মধ্যে আগ্রহ জন্মে কম্পিউটার প্রযুক্তি নিয়ে পড়বেন। সেভাবে নিলেন প্রস্তুতিও।

আর সেখানেও সফল। ডিগ্রি অর্জন করে এখন কাজ করছেন দেশটির একটি নামকরা বিখ্যাত আইটি ফার্মে। সেই সঙ্গে আগের বিষয়, ইসলাম নিয়ে লেখালেখি ও গবেষণাও চালিয়ে যাচ্ছেন।

ব্যতিক্রমী শিক্ষা জীবনের এই মানুষটির নাম আব্দুল বাতেন মিয়াজী। কীভাবে তিনি মানবিক বিভাগ থেকে পাস করেও প্রযুক্তিবিদ হয়েছেন, সেই গল্পই তিনি শুনিয়েছেন নিউজবাংলাকে।

গল্পের শুরু চাঁদপুর মতলব উত্তরের আমিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। এই এলাকাতেই বাড়ি তার। সেই স্কুলে পড়াশোনা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত।

এরপর বাবার ইচ্ছায় ভর্তি হন একই এলাকার বদরপুর আদমিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায়। সেখানে তিনি আবার ভর্তি হন প্রথম শ্রেণিতে।

মাদ্রাসায় মিয়াজীর শিক্ষা জীবন শেষ হয়েছে তুলনামূলক দ্রুত। কারণ, তাকে সব শ্রেণিতে পড়তে হয়নি। তিনি এক বছরে দুই প্রমোশন নিয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে ওঠেন। পরের বছরও একইভাবে আবার অটো প্রমোশন পেয়ে ওঠেন পঞ্চম শ্রেণিতে। এরপর মাদ্রাসাশিক্ষার বিশেষ অর্ডিন্যান্স এবং অটো প্রমোশনের কারণে ওঠেন অষ্টম শ্রেণিতে। আর তখনই তার বন্ধুদের সঙ্গে তার পড়াশোনার গ্যাপ কমে যায়।

নবম শ্রেণিতে উঠেই তিনি চলে আসেন ঢাকায়। ভর্তি হন মোহাম্মদপুরের আলিয়া মাদ্রাসা জামেয়া কাদেরারিয়া তৈয়্যবিয়াতে। ১৯৮৬ সালে দাখিল এবং ১৯৮৮ সালে দেন আলিম পরীক্ষা।

এরপর ভর্তি পরীক্ষা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। যথারীতি সেখানেও পাস করেন মিয়াজী। মেধাতালিকায় তার অবস্থান ছিল প্রথম দিকেই।

ইচ্ছা ছিল বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়ার। কারণ, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে জড়িত থাকার সুবাদে সাহিত্য ছিল তার প্রিয় বিষয়।

কিন্তু বাংলায় ভর্তি হতে পারেননি। কারণ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ভর্তি হতে এইচএসসি/আলিমে ২০০ নম্বর থাকতে হয়। কিন্তু আলিম পরীক্ষায় তখন বাংলায় ছিল ১০০ নম্বর। এরপর তিনি সুযোগ পান ইংরেজি সাহিত্যে।

ইংরেজি সাহিত্য বিভাগে ভর্তি হয়ে তিনি তিন মাস পর বিভাগ পরির্বতন করে যান ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে। স্নাতক শেষ করে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৫ সালে মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ করে সুইডেনের লুন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে যান।

সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শর্ত ছিল প্রথমে এক বছর সুইডিশ ভাষা এবং এরপর আরেকবার মাস্টার্স করতে হবে। তার মাস্টার্সের বিষয় ছিল কম্পারেটিভ রিলিজিয়ন বা তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে।

এরপর তিনি পিএইচডি শুরু করেন ইসলামে নারীর অবস্থান নিয়ে, বিশেষ করে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন, এনজিওর সঙ্গে ইসলামপন্থি দলগুলোর সংঘর্ষ এবং দেশের প্রচলিত আইনে নারীর মর্যাদা নিয়ে।

সুইডেনে এলেও মিয়াজীর মন সব সময় পড়ে থাকত বাংলাদেশে। তাই প্রতিবছরই তিনি চলে আসতেন বাংলাদেশে, থাকতেন অন্তত তিন মাস। এভাবে চলতে থাকায় পিএইচডি ডিগ্রি শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আর এ সময়ই পিএইচডির প্রতি তার আগ্রহ হারিয়ে যায় এবং ইচ্ছা জাগে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার।

ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ক্ষেত্রেও বাংলা সাহিত্যে ভর্তির মতো সমস্যা এসে দাঁড়ায়। কারণ, সেখানে পড়তে লাগে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনার ইতিহাস। কিন্তু তিনি ছিলেন মানবিকে।

তারপরও তিনি ইউনিভার্সিটির মেনটরদের পরামর্শে ভর্তি হন অ্যাডাল্ট এডুকেশনে (বাংলাদেশের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো)।

এরপর শুরু হয় তার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার যাত্রা। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে হলে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ পড়া ছিল বাধ্যতামূলক। তাই তিনি তিন বিষয়েই ভর্তির চেষ্টা করেন।

কিন্তু এখানেও একই সমস্যা সৃষ্টি হয়। ম্যাথ আর ফিজিক্সে সহজে ভর্তি হলেও কেমিস্ট্রিতে ভর্তি হতে পারছিলেন না। কারণ সেই আর্টস ব্যাকগ্রাউন্ড। পরে অবশ্য অনেক অনুরোধের পর ভর্তি হন। এখানেও ফলাফলে বাজিমাত করলেন আব্দুল বাতেন মিয়াজী।

এরপর তিনি ভর্তি হন লুন্দ বিশ্ববিদ্যালয়েই লুন্দ টেকনিক্যাল স্কুলে। বিষয় নেন ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি। ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি হওয়ার পর তার শুরু হয় নতুন যুদ্ধ। দিন-রাত ক্লাস আর পড়াশোনা।

ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার মাঝেই তিনি ছুটি নিয়ে পিএইচডি করেন। এরপর যোগ দেন একটি প্রজেক্টে রিসার্চ সহযোগী হিসেবে। এরপর চেষ্টা করেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট ডক্টরেট ডিগ্রির জন্য। কিন্তু নানা জটিলতায় সেই সুযোগ না পেয়ে আবার শুরু করেন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া। কঠোর অধ্যবসায় আর ঐকান্তিক চেষ্টায় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স শেষ করেন। এরপর যোগ দেন একটি আইটি ফার্মে। সেই থেকে এখনও আছেন আইটি পেশায়।

পেশায় আইটি বিশেষজ্ঞ হলেও মিয়াজী ইসলাম নিয়ে গবেষণাও করছেন। দুই বছরের পর গত রমজানের ঠিক আগেই প্রকাশিত হয় তার পবিত্র কুরআনের বিজ্ঞানময় অনুবাদ ‘ইরফান-উল-কুরআন’ গ্রন্থ। এটি প্রকাশ করে মিনহাজ পাবলিকেশন বাংলাদেশ।

ইরফান-উল-কুরআনের মূল উর্দু অনুবাদক বর্তমান কানাডিয়ান অধ্যাপক ড. তাহির-উল-কাদরী।

ড. মিয়াজীর আরও কিছু ইসলামি বই প্রকাশের অপেক্ষায়। তিনি নিয়মিত লেখালেখি করেন তার নিজস্ব ব্লগ drmiaji.com-এ।

আরও পড়ুন:
আবরার হত্যা: আরেক জনের সাক্ষ্য ও জেরা

শেয়ার করুন