ঢাবির হল না খুললে লাগাতার কর্মসূচির ঘোষণা

সংবাদ সম্মেলনে ঢাবির আবাসিক হল খোলার বিষয়ে সুষ্পষ্ট ঘোষণা চান ক্যাম্পাস খুলে দেয়ার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ছবি:নিউজবাংলা

ঢাবির হল না খুললে লাগাতার কর্মসূচির ঘোষণা

‘আজকে অনলাইন প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় শিক্ষামন্ত্রী নিজেই কয়েকবার ডিসকানেকটেড হয়ে গিয়েছেন। গতকাল বিবিসি বাংলায় সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিজেও টানা তিনবার ডিসকানেকটেড হন। সর্বোচ্চ সুবিধাজনক অবস্থায় থেকে তাদের ইন্টারনেটের যদি এমন বেহাল দশা হয়, সে ক্ষেত্রে কোন বিবেচনায় তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনলাইন ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন?’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খোলার বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা চান ক্যাম্পাস খুলে দেয়ার দাবিতে আন্দোলনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেবে। তিনি ক্যাম্পাস খোলার ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য না দিলে রোববার থেকে লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণার কথা জানিয়েছেন তারা।

বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানানো হয়।

করোনা সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৭ মে হল ও ২৩ মে ক্লাস শুরুর কথা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে মার্চের শেষে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসার পর পরিকল্পনা পাল্টে যায়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি আরও বাড়িয়ে ১২ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে ১৩ জুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী চলমান ছুটি ১২ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করেছেন। এই ছুটি বর্ধিত করার পেছনে তিনি করোনা পরিস্থিতি ও ভ্যাকসিনের অপর্যাপ্ততাকে দায়ী করেছেন। অথচ করোনা পরিস্থিতিতে কল-কারখানা, অফিস, শিল্পপ্রতিষ্ঠান; এমনকি গণপরিবহন কোনো কিছুই থেমে থাকেনি।’

তিনি বলেন, ‘এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ আছে কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আর ভ্যাকসিন নিয়ে যে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য সরকারি নীতিনির্ধারক ও তাদের করপোরেট প্রতিষ্ঠানই দায়ী।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহত্যাসহ নানা পথ বেছে নিচ্ছেন দাবি করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় সেশনজটে পড়ে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থীর চাকরি ও টিউশনও নেই।

গত ৫ মাসে প্রায় ৩৯ জন ঢাবি শিক্ষার্থী নিজ এলাকায় হামলার শিকার হয়েছেন। ৮০ জন শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার হয়েছেন। সর্বশেষ, ঢাবি ক্যাম্পাসেই ঢাবি ছাত্র হাফিজুর রহমানের অস্বাভাবিক ও নির্মম মৃত্যু আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। আমরা বলতে চাই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাই এসবের জন্য দায়ী।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ক্লাস চলছে অনলাইনে। পরীক্ষাও এভাবেই নেয়ার আলোচনা চলছে।

তবে ইন্টারনেটের গতি ও মানের কারণে এটা সম্ভব নয় বলে দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘আজকে অনলাইন প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় শিক্ষামন্ত্রী নিজেই কয়েকবার ডিসকানেকটেড হয়ে গিয়েছেন। গতকাল বিবিসি বাংলায় সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিজেও টানা তিনবার ডিসকানেকটেড হন। সর্বোচ্চ সুবিধাজনক অবস্থায় থেকে তাদের ইন্টারনেটের যদি এমন বেহাল দশা হয়, সে ক্ষেত্রে কোন বিবেচনায় তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনলাইন ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন?’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিবেদন ‘পুলস ওয়ান’ এর এক গবেষণা নিবন্ধ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৬ শতাংশ শিক্ষার্থী হতাশায় রয়েছেন, ৭১ শতাংশ উদ্বেগ এবং ৭০ শতাংশ মানসিক চাপে।

মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ও হল খোলার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য পাদদেশে মানববন্ধন করেন। তখন তারা শিক্ষামন্ত্রীর বুধবারের সংবাদ সম্মেলনের পর কর্মসূচি ঘোষণার কথা জানান।

আরও পড়ুন:
ঢাবি ক্যাম্পাস, হল খোলার দাবিতে মানববন্ধন
জুনের মধ্যে শিক্ষাঙ্গন খুলতে চায় সরকার
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন
স্কুল খোলার নতুন তারিখ দিল সরকার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মারধর: গণপদযাত্রায় পুলিশের বাধা

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মারধর: গণপদযাত্রায় পুলিশের বাধা

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল অভিমুখে গণপদযাত্রায় পুলিশের বাধা। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, ‘আমরা হাসপাতাল দালালমুক্ত দেখতে চাই। হাসপাতালে সিন্ডিকেট চলবে না। এই হাসপাতাল কসাইখানায় পরিণত হয়েছে। একে রক্ষা করতে হবে।’

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মায়ের চিকিৎসা করাতে এসে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মারধরের শিকার হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ ও হাপাতালকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিতে আয়োজিত গণপদযাত্রায় বাধা দিয়েছে পুলিশ।

সোমবার ‘প্রতিবাদী রংপুর’ এর ব্যানারে আয়োজিত এই পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ ও অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষক ওমর ফারুক। এতে অংশ নেন রংপুরের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বিকেলে রংপুর প্রেসক্লাব চত্বর থেকে গণপদযাত্রাটি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। নগরীর টাউল হল এলাকা পুলিশি বাধার মুখে পড়েন অংশগ্রহণকারীরা। এরপর তারা ওই বাধা পেরিয়ে নগরীর ডিসির মোড়ের বঙ্গবন্ধু ম্যুরালের পাদদেশে সমাবেশ করেন।

সমাবেশে ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাশেদ গরিব পরিবারের সন্তান। মায়ের চিকিৎসার জন্য ৫০০ টাকা ধার করে এনেছিল। সেই টাকার ১০০ দিতে হয়েছে হাসপাতালের কর্মচারীদের। ওই টাকার জন্য প্রতিবাদ করলে তাকে মেরে গুরুতর আহত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তার সুচিকিৎসা করা হচ্ছে না। সে একটি কানে শুনতে পায় না। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’

তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘আমরা ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছি। যদি এই সময়ের মধ্যে আহত ছাত্রদের উন্নত চিকিৎসা করা না হয় এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া না হয় তাহলে কঠোর আন্দোলন দেয়া হবে।’

শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, ‘আমরা হাসপাতাল দালালমুক্ত দেখতে চাই। হাসপাতালে সিন্ডিকেট চলবে না। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের আহত ছেলেদের চিকিৎসা নিশ্চিত এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এই হাসপাতাল কসাইখানায় পরিণত হয়েছে। এই হাসপালকে রক্ষা করতে হবে। সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে হবে।’

রাকিবুল হাসান নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘রংপুর অঞ্চলের দুই কোটি মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা এই হাসপাতাল। কিন্তু সেখানে দালাল দিয়ে ভর্তি। পদে পদে দুর্নীতি। সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। এটা বন্ধ করতে হবে। দালালমুক্ত করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।’

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদ বলেন, ‘পদযাত্রার বিষয়টি আমরা সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানাব।’

ওসি বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।’

আহত দুই শিক্ষার্থীর উন্নত চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়ার কথাও জানান ওসি।

অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করাতে শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল করিম রিয়াদ ও তার ছোট ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাশেদ করিম । এসময় ৩০ টাকা ভর্তি ফির বদলে ১০০ টাকা নেয় হাসপাতালের কর্মচারীরা। এর প্রতিবাদ করায় পিটিয়ে আহত করা হয় রিয়াদ ও রাশেদকে।

এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শনিবার চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তাদের পাঁচ কর্মদিবসে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঢাবি ক্যাম্পাস, হল খোলার দাবিতে মানববন্ধন
জুনের মধ্যে শিক্ষাঙ্গন খুলতে চায় সরকার
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন
স্কুল খোলার নতুন তারিখ দিল সরকার

শেয়ার করুন

টাইম স্কেল ধরে রাখতে ৪৮ হাজার শিক্ষকের আপিল

টাইম স্কেল ধরে রাখতে ৪৮ হাজার শিক্ষকের আপিল

মোকছেদুল জানান, শিক্ষকদের টাইম স্কেল ফেরত নিতে অর্থ মন্ত্রণালয় যে পরিপত্র জারি করে, সেটি একটি বড় অন্যায়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাজ হচ্ছে অর্থ বরাদ্দ করা। এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেটি কোন খাতে ব্যয় করছে সেটি তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।

জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৮ হাজার ৭২০ শিক্ষকের টাইম স্কেল ফেরত নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের বৈধতা প্রশ্নে রিট খারিজ করে হাইকোর্ট। এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন শিক্ষকেরা।

আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় সোমবার আপিল করা হয়েছে বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন আবেদনকারী শিক্ষকদের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোকছেদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘টাইম স্কেল ফেরত নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রের বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্ট রুলটি খারিজ করে দেয়। আমরা ওই খারিজাদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেছি।’

মোকছেদুল জানান, শিক্ষকদের টাইম স্কেল ফেরত নিতে অর্থ মন্ত্রণালয় যে পরিপত্র জারি করে, সেটি একটি বড় অন্যায়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাজ হচ্ছে অর্থ বরাদ্দ করা। এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেটি কোন খাতে ব্যয় করছে সেটি তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।

‘কিন্তু দেখা যায়, সেখানেও অর্থ মন্ত্রণালয় নাগ গলায়। এমন কোনো বিধান নেই। বরং আইনে বলা আছে, বরাদ্দকৃত অর্থ কোন খাতে ব্যয় করবে সেটি প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। আমরা আপিল দায়ের করেছি, আশা করি সেখান থেকে আমাদের পক্ষে রায় পাব।’

সারা দেশে জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৮ হাজার ৭২০ শিক্ষকের টাইম স্কেল ফেরত দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র নিয়ে জারি করা রুলটি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি খারিজ করে রায় দেয় হাইকোর্ট। রায়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে রিটকারীরা চাইলে মামলা করতে পারবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

আদালতে ওই দিন রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মোকছেদুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে প্রাথমিক শিক্ষক সমাবেশে দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত এক লাখ ৪ হাজার ৭৭২ জন শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে রাষ্ট্রপতির আদেশে পরিপত্র ও গেজেট প্রকাশ করা হয়।

সেই পরিপত্র ও গেজেটের পর জাতীয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সরকারের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে আসছিলেন। কিন্তু গত বছর ১২ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয় ৪৮ হাজার ৭২০ জন শিক্ষকের টাইম স্কেল ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়ে পরিপত্র জারি করে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সংক্ষুব্ধ শিক্ষকরা হাইকোর্টে রিট করেন।

রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট পরিপত্র স্থগিত করে রুল জারি করে। রুলে শিক্ষকের টাইম স্কেল ফেরত দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ তখন আপিল করে। ওই আপিল গ্রহণ করে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়। পরে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শুনানি শেষে দ্রুত হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় হাইকোর্ট শুনানি শেষ করে রুলটি খারিজ করে দেয়।

আরও পড়ুন:
ঢাবি ক্যাম্পাস, হল খোলার দাবিতে মানববন্ধন
জুনের মধ্যে শিক্ষাঙ্গন খুলতে চায় সরকার
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন
স্কুল খোলার নতুন তারিখ দিল সরকার

শেয়ার করুন

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর, সংসদে সমালোচনা

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর, সংসদে সমালোচনা

‘বাজেটে ন্যাক্কারজনকভাবে বেসরকারি শিক্ষার ওপর ১৫ শতাংশ করারোপ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে একজন শিক্ষার্থী বলেছেন, অন্যদেশের সরকার শিক্ষায় ভর্তুকি দেয়, আর আমরা করারোপ করি। বেসরকারিতে পড়া স্টুডেন্টরা আম নাকি যে দেখলেই পাড়তে মন চাইবে?’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল শিক্ষার ওপর ১৫ শতাংশ করারোপ প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা।

সোমবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার ও জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী এই প্রস্তাবের সমালোচনা করেন।

রাশেদ খান মেনন বলেন, শিক্ষা খাতের ১৫.৭ ভাগ বরাদ্দের ৪ ভাগই প্রযুক্তি খাতের।

‘বিপর্যস্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় ছুটিই বাড়ছে, লেখাপড়ার বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে না। এদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেখানে ৫ লাখ ছেলেমেয়ে লেখাপড়া করছে, তাদের ওপর ১৫ ভাগ কর চাপানো হয়েছে, যা শেষ বিচারে শিক্ষার্থীদের ওপর পড়বে।’

জাসদের শিরীন আখতার কর নির্ভরশীলতাকে গরিববিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল বৈষম্যমূলক রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষার ক্ষেত্রে করের প্রস্তাব জাসদ বিরোধিতা করছে।’

বাজেটে বেসরকারি শিক্ষা সব থেকে বেশি উপেক্ষিত বলে মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘বাজেটে ন্যাক্কারজনকভাবে বেসরকারি শিক্ষার ওপর ১৫ শতাংশ করারোপ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে একজন শিক্ষার্থী বলেছেন, অন্যদেশের সরকার শিক্ষায় ভর্তুকি দেয়, আর আমরা করারোপ করি। বেসরকারিতে পড়া স্টুডেন্টরা আম নাকি যে দেখলেই পাড়তে মন চাইবে?’

প্রসঙ্গত অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত ৩ জুন তার বাজেট বক্তব্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১৫ শতাংশ করারোপের কথা বলেন।

বাজেট প্রস্তাবে তিনি বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রযোজ্য সাধারণ করহার হ্রাস করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ, বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ, বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বা কেবল তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষাদানে নিয়োজিত বেসরকারি কলেজ থেকে উদ্ভূত আয়ের ১৫ শতাংশ হারে কর নির্ধারণ করা হয়েছিল। মহান এ সংসদে আমি এ করহার অর্থ আইনের মাধ্যমে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।’

বাজেট প্রস্তাবের পর থেকেই বেসরকারি শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা এ প্রস্তাবের প্রতিবাদ করে আসছে। বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ট্রাস্টের অধীন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় ট্যাক্স-ভ্যাট প্রযোজ্য নয়।

সরকার এর আগে ২০১৫ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ ভ‌্যাট আরোপ করলে টানা কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তা প্রত্যাহার করে নেয়।

আরও পড়ুন:
ঢাবি ক্যাম্পাস, হল খোলার দাবিতে মানববন্ধন
জুনের মধ্যে শিক্ষাঙ্গন খুলতে চায় সরকার
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন
স্কুল খোলার নতুন তারিখ দিল সরকার

শেয়ার করুন

কলিমুল্লাহর বিদায়ে আগরবাতি

কলিমুল্লাহর বিদায়ে আগরবাতি

কলিমুল্লাহর মেয়াদের শেষ দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল মিডিয়া চত্বরে আগরবাতি জ্বালিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্টে কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা ঝুলিয়ে রাখা হয় উল্টো করে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় মাঠে আতশবাজি ও মিষ্টি বিতরণ করেন শিক্ষার্থীরা। সবশেষে স্বাধীনতা স্মারক প্রাঙ্গণে কলিমুল্লাহর বিদায়ে ‘গণক্রন্দন’ কর্মসূচি পালন করা হয়।

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবির) আলোচিত উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর মেয়াদের শেষ দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল মিডিয়া চত্বরে আগরবাতি জ্বালিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্টে কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা ঝুলিয়ে রাখা হয় উল্টো করে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় মাঠে আতশবাজি ও মিষ্টি বিতরণ করেন শিক্ষার্থীরা। সবশেষে স্বাধীনতা স্মারক প্রাঙ্গণে কলিমুল্লাহর বিদায়ে ‘গণক্রন্দন’ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর মেয়াদ শেষ হয় রোববার। ওই দিনও তিনি ক্যাম্পাসে যাননি। ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসে রোববার রাত ১০টার দিকে অধ্যাপক কলিমুল্লাহ নতুন উপাচার্য অধ্যাপক হাসিবুর রশীদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার বলেন, ‘কলিমুল্লাহ স্যার থাকাকালীন আমরা শুধু রংপুরেই নয়, সারা দেশে সমালোচিত হয়েছি। তার আমলে আমরা ভয়াবহ সেশনজটে পড়েছিলাম। এক ইয়ারে মাত্র একটি ক্লাসেই পরীক্ষা দিয়েছি। সে কারণে আমরা এসব কর্মসূচি পালন করেছি।’

শরিফুল ইসলাম পিয়াস নামে এক শিক্ষার্থী জানান, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপাচার্য থাকবেন, তিনি ক্যাম্পাসে থাকবেন। কিন্তু এই আশা যখন আমাদের পূর্ণ হলো না, তখন তো প্রতিবাদের ভাষা ভিন্ন হতে পারে। সেই জায়গা থেকে আমরা এটা করেছি।

‘সবাই যেন বুঝতে পারে একজন উপাচার্য যখন নিজের কাজে ব্যর্থ হন তখন শিক্ষার্থীদের জায়গাটা কেমন হতে পারে। শিক্ষার্থীরা কখনো খুশিতে এটা করে না বরং সার্কাজমের মাধ্যমে প্রতিবাদ করা যায় সেটা করেছি।’

বর্তমান উপাচার্য যেন তাদের মনের ভাষা বোঝেন, তাদের জন্য কাজ করেন সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

কলিমুল্লাহর বিদায়ে আগরবাতি
কেন্দ্রীয় মাঠে আতশবাজি ও মিষ্টি বিতরণ করেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী বায়েজীদ আহমেদ বলেন, ‘সাবেক ভিসি যে সমস্ত অন্যায়, দুর্নীতি, অনিয়ম, নৈরাজ্য করেছেন,তা থেকে আমরা কিছুটা হলেও মুক্ত। তাই, আতশবাজি, আগরবাতি জ্বালিয়ে এই উৎসব করেছি।’

শিক্ষার্থী হিসেবে কেন এটা করতে গেলেন, জানতে চাইলে এই শিক্ষার্থী জানান, ‘একজন উপাচার্যের কাছে আমাদের অনেক শেখার আছে। শিক্ষার্থীর মঙ্গল হয় এমন কাজ তিনি করেননি। তাই তো এই অভিনব প্রতিবাদ।’

কলিমুল্লাহকে নিয়ে যত অভিযোগ

কলিমুল্লাহকে বেরোবির ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয় ২০১৭ সালের ১ জুন। সে হিসাবে চলতি বছরের ৩১ মে তার চার বছর মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু তিনি ২০১৭ সালের ১৪ জুন ক্যাম্পাসে যোগ দেয়ায় ২০২১ সালের ১৩ জুন ক্যাম্পাস থেকে বিদায় নেন।

উপাচার্য কলিমুল্লাহর মেয়াদের চার বছর দায়িত্ব থাকা সময়ে কর্মচারী দিয়ে পরীক্ষা নেয়া, একটি ক্লাস নিয়েই কোর্স শেষ করা, রাত ৩টায় ক্লাস নেয়া, শিক্ষক ও জনবল নিয়োগে অনিয়ম, তার আমলে বিভিন্ন বিভাগে সেশনজট বৃদ্ধি, ভর্তি পরীক্ষার জালিয়াতি ধামাচাপা দেয়াসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে মেয়াদের পুরো সময় সমালোচিত ছিলেন তিনি।

নতুন উপাচার্য

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম উপাচার্য হিসেবে সোমবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক ট্রেজারার অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশীদ।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। ২০২০ সালের এপ্রিলে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে যোগ দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সোমবার সকাল ৮টার দিকে তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আসেন। সেখান থেকে সরাসরি ক্যাম্পাসে আসেন উপাচার্য অধ্যাপক হাসিবুর রশীদ। তাকে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

কলিমুল্লাহর বিদায়ে আগরবাতি
নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশীদ। ছবি: নিউজবাংলা

পরে হাসিবুর রশীদ ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধু ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পীরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রয়াত স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার কবর জিয়ারত ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের সংগঠন অধিকার সুরক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মতিউর রহমান বলেন, ‘আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই। এই মহুর্তে আমাদের দাবি, ভিসি কলিমুল্লাহ যে চক্র রেখে গেছেন তা ভাঙতে হবে। আইন এবং নিয়ম অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় চালাতে।

‘আমরা চাই সুন্দর সুষ্ঠুভাবে বিশ্ববিদ্যালয় চলুক। শিক্ষার্থী সেশনজট মুক্ত থাকুক। একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় হোক।’

উপাচার্য অধ্যাপক হাসিবুর রশীদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। আমি এরই মধ্যে ঢাকার লিয়াজোঁ অফিস বন্ধ ঘোষণা করেছি। এখন সব মিটিং ক্যাম্পাসে হবে। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেব।’

এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।

আরও পড়ুন:
ঢাবি ক্যাম্পাস, হল খোলার দাবিতে মানববন্ধন
জুনের মধ্যে শিক্ষাঙ্গন খুলতে চায় সরকার
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন
স্কুল খোলার নতুন তারিখ দিল সরকার

শেয়ার করুন

উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

করোনার সময়টাতেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মধ্যে রাখতেই এই অ্যাসাইনমেন্টের উদ্দেশ্য। এর ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নও করা হবে।

২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রথম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

মাউশির ওয়েবসাইটে সোমবার এই অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ করা হয়।

এর আগে রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে ২০২২ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম শুরু করার কথা জানায় মাউশি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অ্যাসাইনমেন্ট বিতরণ, মূল্যায়ন-সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা, গ্রিড, রুবিক্স এবং সপ্তাহভিত্তিক নির্ধারিত কাজ অচিরেই অবহিত করা হবে।

আরও বলা হয়, কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে যেসব এলাকা লকডাউনের আওতায় রয়েছে, সেসব এলাকায় স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা মোতাবেক বাস্তবভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোনোক্রমেই স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা উপেক্ষা করা যাবে না।

দেশে করোনা শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দফায় দফায় তা ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

করোনার সময়টাতেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মধ্যে রাখতেই এই অ্যাসাইনমেন্টের উদ্দেশ্য। এর ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নও করা হবে।

আরও পড়ুন:
ঢাবি ক্যাম্পাস, হল খোলার দাবিতে মানববন্ধন
জুনের মধ্যে শিক্ষাঙ্গন খুলতে চায় সরকার
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন
স্কুল খোলার নতুন তারিখ দিল সরকার

শেয়ার করুন

৭ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি পরীক্ষা ১৭ জুলাই

৭ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি পরীক্ষা ১৭ জুলাই

সাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ দিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

কিংবা বিদেশি শিক্ষা বোর্ড থেকে সমমানের পরীক্ষায় এবং ২০১৯ বা ২০২০ সালে এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষা পাস করতে হবে। এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫ থাকতে হবে। এইচএসসি পরীক্ষায় গণিত, পদার্থ, রসায়ন ও ইংরেজিতে মোট গ্রেড পয়েন্ট কমপক্ষে ১৫ থাকতে হবে এবং প্রতিটিতে আলাদাভাবে ৩ পয়েন্ট থাকতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ৪ বছর মেয়াদি বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষা হবে আগামী ১৭ জুলাই।

ভর্তি পরীক্ষার জন্য এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে ৮ জুলাই পর্যন্ত।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবেদন করতে প্রার্থীকে দেশের যেকোনো শিক্ষা বোর্ড থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ২০১৭ বা ২০১৮ সালে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষা কিংবা বিদেশি শিক্ষা বোর্ড থেকে সমমানের পরীক্ষায় এবং ২০১৯ বা ২০২০ সালে এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষা পাস করতে হবে।

এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫ থাকতে হবে। এইচএসসি পরীক্ষায় গণিত, পদার্থ, রসায়ন ও ইংরেজিতে মোট গ্রেড পয়েন্ট কমপক্ষে ১৫ থাকতে হবে এবং প্রতিটিতে আলাদাভাবে ৩ পয়েন্ট থাকতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে ১৯ জুলাই।

সাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হলো চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বরিশালের শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ঝিনাইদহের শেখ কামাল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, রংপুরের পীরগঞ্জের ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং গোপালগঞ্জের শেখ রেহানা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ।

আরও পড়ুন:
ঢাবি ক্যাম্পাস, হল খোলার দাবিতে মানববন্ধন
জুনের মধ্যে শিক্ষাঙ্গন খুলতে চায় সরকার
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন
স্কুল খোলার নতুন তারিখ দিল সরকার

শেয়ার করুন

‘ছাত্রলীগের বাধায়’ ফিরে গেলেন নতুন উপাধ্যক্ষ

‘ছাত্রলীগের বাধায়’ ফিরে গেলেন নতুন উপাধ্যক্ষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজে রোববার নতুন উপাধ্যক্ষ মো. ইব্রাহিম যোগদান করতে গেলে ছাত্রলীগ নেতারা অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকে পড়েন। ছবি: নিউজবাংলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন বলেন, ‘নতুন শিক্ষকের যোগদানের বিষয়ে সাধারণ ছাত্রীদের অভিযোগ বা আপত্তি রয়েছে। তবে ছাত্রলীগ উপাধ্যক্ষের যোগদানে কোনো বাধা প্রদান করেনি। এটি ছাত্রীদের বিষয়।’

ছাত্রলীগের বাধার মুখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজে নতুন উপাধ্যক্ষ মো. ইব্রাহিম যোগদান করতে পারেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার সকালে নরসিংদী সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইব্রাহিম নতুন কর্মস্থলে যোগদানে ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেছেন।

৭ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজে উপাধ্যক্ষ হিসেবে বদলি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সকাল ১০টা ১০মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজে পৌঁছেন মো. ইব্রাহিম। তিনি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ এস এম শফিকুল্লাহর কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে ছাত্রলীগের ব্যানারে ২০ থেকে ২২ জন সাধারণ ছাত্রী আগে থেকেই অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রবিউল হোসেন কয়েকজন নেতাকে নিয়ে অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা উপাধ্যক্ষ পদে ইব্রাহিমের যোগদানে আপত্তি তুলে বাধা দেন। এক পর্যায়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভনও ঘটনাস্থলে পৌঁছেন।

উপাধ্যক্ষ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাতে লেখা যোগদানের দরখাস্ত অধ্যক্ষের কাছে জমা দিয়ে কলেজ ত্যাগ করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, ছাত্রলীগ নেতারা সাধারণ ছাত্রীদের নিয়ে মো. ইব্রাহিমকে যোগদানে নিষেধ করেন। তিনি যোগদান করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিবেশ নষ্ট হবে বলেও জানান তারা।

মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘স্থানীয় ছাত্রলীগ যোগদানে আপত্তি তুলে বাধা দিয়েছে। আমি দরখাস্ত জমা দিয়ে এসেছি। তবে আমার যোগদান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী এনি আক্তার, মহিমা আক্তার ও আমেনা আক্তার বলেন, ‘আমাদের আপত্তি আছে, আমরা ওনাকে চাই না। তিনি নিয়ম কানুন ভঙ্গ করেছেন।’

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন বলেন, ‘নতুন শিক্ষকের যোগদানের বিষয়ে সাধারণ ছাত্রীদের অভিযোগ বা আপত্তি রয়েছে। তবে ছাত্রলীগ উপাধ্যক্ষের যোগদানে কোনো বাধা প্রদান করেনি। এটি ছাত্রীদের বিষয়।’

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ এ এস এম শফিকুল্লাহ বলেন, ‘নতুন উপাধ্যক্ষ যোগদানের দরখাস্ত জমা দিয়েছেন। তার যোগদানের বিষয়ে আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।’

আরও পড়ুন:
ঢাবি ক্যাম্পাস, হল খোলার দাবিতে মানববন্ধন
জুনের মধ্যে শিক্ষাঙ্গন খুলতে চায় সরকার
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন
স্কুল খোলার নতুন তারিখ দিল সরকার

শেয়ার করুন