স্কুল-কলেজ খুললে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার

স্কুল-কলেজ খুললে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ক্লাসে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। ফাইল ছবি

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা ৬০ দিন এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ৮৪ দিন ক্লাসের পর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। ক্লাস শেষ হওয়ার পর দুই সপ্তাহ সময় দিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।’

স্কুল-কলেজ খোলার পর চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্লাসে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে দুপুরে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি বাড়িয়ে ১২ জুন পযর্ন্ত করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী ১৩ জুন থেকেই স্কুল-কলেজ খুলে দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, ‘স্কুল-কলেজ খোলার পর ক্লাসে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তারা সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস করবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের বাকি ক্লাসের শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে এক দিন ক্লাস করবে।

দেশে করোনা শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দফায় দফায় বন্ধ বাড়িয়ে এ মাসের ২৯ তারিখ পর্যন্ত করা হয়েছিল।

স্কুল-কলেজ খুললে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার
ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ফাইল ছবি

চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে কয়েক দফা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি।

গত বছর এইচএসসি পরীক্ষা হয়নি, সবাইকে পাস করানো হয়েছে। তবে এবার এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এ বছর অটোপাস দেয়ার ইচ্ছা সরকারের নেই। গত বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা কিন্তু ক্লাস করেছিল। এ বছরের শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ পায়নি। পরিস্থিতি খুব খারাপ না হলে পরীক্ষা নিয়েই ফল প্রকাশ করা হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা ৬০ দিন এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ৮৪ দিন ক্লাসের পর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। ক্লাস শেষ হওয়ার পর দুই সপ্তাহ সময় দিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।’

২০২২ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা যথাক্রমে ১৫০ দিন ও ১৮০ দিন ক্লাস করবে। এর পর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।

মন্ত্রী আরও জানান, আগামী ২০২২ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মে মাসেই খোলার কথা ছিল। তবে মার্চের শেষে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ দেখা দিলে আবার পিছিয়ে যায়। সরকার বলছে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সব শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সবাইকে টিকা দিয়ে পরে চালু করা হবে শিক্ষাঙ্গন। তবে সিরাম থেকে টিকা আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই পরিকল্পনায় ছেদ পরে।

এখন চীন ও রাশিয়া থেকে টিকা আনার চেষ্টা চলছে। জুনেই ৫০ লাখ টিকা পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী সরকার। আর সে ক্ষেত্রে শিক্ষাঙ্গনে সবাইকে টিকা দেয়া কঠিন হবে না।

আর সরকার করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কিছু আসেনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম মো. জি এম হাসিবুল আলম ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. সাজ্জাদুল হাসান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক গোলাম ফারুক চৌধুরি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহাম্মদ মনসুরুল আলম, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর নেহাল আহমেদ।

আরও পড়ুন:
‘অটো পাসে একদমই খুশি না’
সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ে জিপিএ-৫ হারালেন ৫০ শিক্ষার্থী
জিপিএ-৫ বৃদ্ধির হারে শীর্ষে বরিশাল
এইচএসসি: সিলেটে জিপিএ-৫ বেড়েছে তিন গুণ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কৌতুক লিখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আসামি ঢাবি শিক্ষক

কৌতুক লিখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আসামি ঢাবি শিক্ষক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন। ছবি: সংগৃহীত

মামলার বিষয়ে অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, ‘ফেসবুক পোস্টটা আমার নিজের না। অন্য জায়গা থেকে শেয়ার করেছি৷ এটি আমার অনিচ্ছাকৃত ভুল। এটির জন্য ইতোমধ্যে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করেছি। সেখানেই বিষয়টা থেমে যাওয়া উচিত ছিল। এরপরও মামলা করা এটি আমাকে হয়রানি এবং অসৎ উদ্দেশ্যের জন্য।’

মদ ও দুধ সম্পর্কিত বহুল প্রচলিত একটি কৌতুক ফেসবুকে শেয়ার করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু যুব পরিষদের এক নেতা।

রোববার শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অমিত ভৌমিক। বিষয়টি তিনি নিজেই নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন। মামলাটি তদন্ত করবেন শাহবাগ থানার এসআই (নিরস্ত্র) আরিফুল ইসলাম অপু।

নিউজবাংলাকে অমিত ভৌমিক বলেন, ‘কার্জন সাহেবের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৮ এবং ৩১ ধারায় মামলা করেছি। শনিবার রাতেই মামলাটি আমরা করি। তবে শাহবাগ থানার ওসি অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে থাকায় মামলাটি রোববার হয়েছে। বিকেলে আমরা মামলার কপি গ্রহণ করি।’

এ বিষয়ে জানতে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুত হালদারকে ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

২৩ জুলাই অধ্যাপক কার্জন নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক টাইমলাইনে মদ ও দুধ-সম্পর্কিত বহুল প্রচলিত একটি কৌতুক শেয়ার করেন। এই পোস্টকেই কেন্দ্র করে মূলত তার বিরুদ্ধে সনাতন ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ আনা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, হাফিজুর রহমান কার্জন সনাতন ধর্মের ভগবানকে হেয়প্রতিপন্ন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন, যা সারা বিশ্বে কোটি কোটি সনাতন ধর্মীয়দের অনুভূতিতে ব্যাপক আঘাতের শামিল।

এতে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট, ধর্মীয় উগ্রবাদ সৃষ্টি, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল এবং সরকারকে বিব্রত করার মানসে স্বজ্ঞানে এবং স্বেচ্ছায় হাফিজুর রহমান কার্জন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতমূলক কুরুচিপূর্ণ এ পোস্ট করেছেন।

এজাহরে কার্জনের শেয়ার করা সেই ফেসবুক পোস্টটিও যুক্ত করা হয়েছে।

মামলার বিষয়ে অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, ‘ফেসবুক পোস্টটা আমার নিজের না। অন্য জায়গা থেকে শেয়ার করেছি৷ এটি আমার অনিচ্ছাকৃত ভুল। এটির জন্য ইতোমধ্যে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করেছি। সেখানেই বিষয়টা থেমে যাওয়া উচিত ছিল। এরপরও মামলা করা এটি আমাকে হয়রানি এবং অসৎ উদ্দেশ্যের জন্য।’

এই অধ্যাপক বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কারও ধর্মে আঘাত দেয়া আমার ব্যক্তিগত নৈতিকতা বিরোধী। তবে আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এখন যেহেতু মামলা হয়েছে, আইন যেভাবে বলবে সেভাবে আমি নির্দেশনা মেনে চলব।’

কার্জন বলেন, ‘তবে আমার একটি মানবিক আবেদন, আমি করোনায় আক্রান্ত। বর্তমানে বাসায় বসে চিকিৎসা নিচ্ছি৷ এ বিবেচনায় আমাকে যেন কোনো হয়রানি না করা হয়।’

হাফিজুর রহমান কার্জনের পোস্টটির পর পরদিন দুপুরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তার পদত্যাগ চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেয় বাংলাদেশ হিন্দু আইনজীবী পরিষদ।

পরে ওই দিন বিকেলেই একই অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন হিন্দু যুব পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অমিত ভৌমিক। তবে পুলিশ এটিকে সাধারণ ডায়েরি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ডিবির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে পাঠিয়েছিল।

আরও পড়ুন:
‘অটো পাসে একদমই খুশি না’
সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ে জিপিএ-৫ হারালেন ৫০ শিক্ষার্থী
জিপিএ-৫ বৃদ্ধির হারে শীর্ষে বরিশাল
এইচএসসি: সিলেটে জিপিএ-৫ বেড়েছে তিন গুণ

শেয়ার করুন

ডিপ্লোমার ক্লাস অনলাইনে শুরু ৭ আগস্ট থেকে

ডিপ্লোমার ক্লাস অনলাইনে শুরু ৭ আগস্ট থেকে

অনলাইন ক্লাস শুরুর বাড়তি প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ডিপ্লোমা স্তরের সকল শিক্ষাক্রমের ১ম, ৩য়, ৫ম ও ৭ম পর্বের ১ম ও ২য় শিফটের তত্ত্বীয় ক্লাস ১ আগস্টের পরিবর্তে ৭ আগস্ট থেকে অনলাইনে এবং ব্যবহারিক ক্লাস ও পরীক্ষা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় থাকা ডিপ্লোমা স্তরের সকল শিক্ষাক্রমের ১ম, ৩য়, ৫ম ও ৭ম পর্বের ১ম ও ২য় শিফটের তত্ত্বীয় ক্লাস ৭ আগস্ট থেকে অনলাইনে শুরু হবে। এছাড়া অনলাইনে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে ব্যবহারিক ক্লাস ও পরীক্ষাও গ্রহণ নেয়া হবে।

সোমবার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিচালিক (কারিকুলাম) প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বদলি শিক্ষার্থীদের অনলাইন বদলি কার্যক্রম সুচারুরূপে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া অনলাইন ক্লাস শুরুর বাড়তি প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ডিপ্লোমা স্তরের সকল শিক্ষাক্রমের ১ম, ৩য়, ৫ম ও ৭ম পর্বের ১ম ও ২য় শিফটের তত্ত্বীয় ক্লাস ১ আগস্টের পরিবর্তে ৭ আগস্ট থেকে অনলাইনে এবং ব্যবহারিক ক্লাস ও পরীক্ষা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘অটো পাসে একদমই খুশি না’
সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ে জিপিএ-৫ হারালেন ৫০ শিক্ষার্থী
জিপিএ-৫ বৃদ্ধির হারে শীর্ষে বরিশাল
এইচএসসি: সিলেটে জিপিএ-৫ বেড়েছে তিন গুণ

শেয়ার করুন

এবার অনলাইনে পরীক্ষা নিল ঢাবির ইংরেজি ভাষা বিভাগ

এবার অনলাইনে পরীক্ষা নিল ঢাবির ইংরেজি ভাষা বিভাগ

ঢাবির অনলাইন পরীক্ষার নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি পরীক্ষার সময় চার ঘন্টা থেকে কমিয়ে করা হয় দুই ঘন্টা। এই সম্পূর্ণ সময়ই শিক্ষার্থীদের সচল রাখতে হয়েছে ভিডিও। ছবি: নিউজবাংলা

ভিডিও সচল রেখে শতভাগ উপস্থিতিতে চূড়ান্ত পরীক্ষা নেয়া সম্পন্ন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ইংরেজি ভাষা বিভাগ। দীর্ঘদিন পর পরীক্ষা দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা। ঈদের পরে ইংরেজি ভাষা বিভাগ প্রথম হলেও ঈদের আগে কম্পিউটার সাইন্স বিভাগ ও উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ অনলাইনে তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়া সম্পন্ন করেছে।

অনলাইনে ভিডিও সচল রেখে শতভাগ উপস্থিতিতে চূড়ান্ত পরীক্ষা নেয়া সম্পন্ন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ইংরেজি ভাষা বিভাগ। স্নাতকোত্তর প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের তিন কোর্সের সবশেষ পরীক্ষাটি রোববার বিকাল চারটায় শেষ হয়।

এর আগে গত ২৬ জুলাই সোমবার অনুষ্ঠিত হয় তাদের প্রথম পরীক্ষা। দ্বিতীয় কোর্সের পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয় গত ২৯ জুলাই বৃহস্পতিবার। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন পরীক্ষার নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি পরীক্ষার সময় চার ঘন্টা থেকে কমিয়ে করা হয় দুই ঘন্টা। এই সম্পূর্ণ সময়ই শিক্ষার্থীদের সচল রাখতে হয়েছে ভিডিও।

পরীক্ষা শেষে উত্তররপত্র জমা দেওয়ার জন্য সময় দেয়া হয় ত্রিশ মিনিট। তবে টেকনিক্যাল ইস্যুতে কেউ এর মধ্যে জমা দিতে না পারলে তাকে দেয়া হয়েছে অতিরিক্ত সময়।

প্রতিটি কোর্সের পরীক্ষায় ৩২ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সবাই। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থান করা সত্ত্বেও পরীক্ষায় অংশ নিতে তেমন কোনো সমস্যায় পড়েনি বলে জানিয়েছেন কোর্স কোঅর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান।

এবার অনলাইনে পরীক্ষা নিল ঢাবির ইংরেজি ভাষা বিভাগ

শতভাগ উপস্থিতিতে চূড়ান্ত পরীক্ষা নেয়া সম্পন্ন করেছেন ঢাবির ভাষা ইনস্টিটিউটের ইংরেজি ভাষা বিভাগের শিক্ষকরা। ছবি: নিউজবাংলা

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সবাই ক্যামেরা চালু রাখতে পেরেছেন। দু’একজনের মাঝে একটু সমস্যা হলেও তারা টেকনিক্যাল সমস্যা কাটিয়ে আবার যুক্ত হয়েছে। আমরাও তাদেরকে সহযোগিতা করেছি। অতিরিক্ত সময় দিয়েছি যেই সময়টা শিক্ষার্থীর সিস্টেম লসে নষ্ট হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য সব ধরনের অপশন রেখেছি। কোনোভাবেই ছিটকে যাওয়ার সুযোগ নেই।

পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে সাইদুর রহমান বলেন, গত জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের সশরীরে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শাটডাউন শুরু হওয়ায় সেটি আর সম্ভব হয়নি। তখন শিক্ষার্থীরাই আমাদের বলেছে তারা অনলাইনে পরীক্ষা দিতে চায়। এরপর আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুসারে পরীক্ষার আয়োজন করি।

সাইদুর রহমান আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা দুই পরীক্ষার মাঝে সময় চেয়েছে আমরা সেভাবেই রুটিন তৈরি করেছি, যাতে শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা না হয়। পরীক্ষার আগে আমরা শিক্ষার্থীদের গুগল ক্লাসরুম ব্যবহার করে কিভাবে পরীক্ষা দিবে সেটি শিখিয়েছি, যাতে হুট করে পরীক্ষার সময়ে কোনো সমস্যায় তারা না পড়ে।

দীর্ঘদিন পর পরীক্ষা দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরাও। ইংরেজি ভাষা বিভাগের শিক্ষার্থী আহমেদ সিয়াম বলেন, অনলাইনে পরীক্ষার বিষয়ে শুরুতে ভীতি কাজ করলেও পরীক্ষা দেয়ার পর বুঝতে পারলাম ব্যাপারটা খুব সহজ। আমরা বেশিরভাগ শিক্ষার্থী গ্রামাঞ্চলের হওয়ায় ভিডিও চালু রাখার ক্ষেত্রে সামান্য সমস্যা হলেও শিক্ষকরা সেটিরও সমাধান করে দিয়েছেন। এই পর্যায়ে এসে সময় নষ্ট করা কারোই কাম্য না বলেও মনে করেন এই শিক্ষার্থী।

করোনা মহামারির কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ বন্ধ হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। গেলো জুন মাস থেকে কিছু বিভাগ সশরীরে পরীক্ষা নেয়া শুরু করে। তবে জুনের শেষের দিকে করোনার প্রকোপ বাড়ায় দেশে শাটডাউন শুরু হলে স্থগিত করে দেয়া হয় এসব পরীক্ষা।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জানানো হয়, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে অনলাইনে পরীক্ষা নিতে পারবে। অনলাইন পরীক্ষার নীতিমালাও প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়। এসব নীতিমালার মেনেই পরীক্ষার আয়োজন করে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ইংরেজি ভাষা বিভাগ।

কোরবানির ঈদের পরে ইংরেজি ভাষা বিভাগ প্রথম হলেও ঈদের আগে কম্পিউটার সাইন্স বিভাগ ও উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ অনলাইনে তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়া সম্পন্ন করেছে। এর আগে জুন মাসে শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান করে সশরীরে পরীক্ষা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ।

আরও পড়ুন:
‘অটো পাসে একদমই খুশি না’
সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ে জিপিএ-৫ হারালেন ৫০ শিক্ষার্থী
জিপিএ-৫ বৃদ্ধির হারে শীর্ষে বরিশাল
এইচএসসি: সিলেটে জিপিএ-৫ বেড়েছে তিন গুণ

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার নির্দেশ

শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার নির্দেশ

ফাইল ছবি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, করোনার বিস্তার রোধে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন গ্রহণ এবং অন্যদের ভ্যাকসিন নিতে উদ্বুদ্ধ করার অনুরোধ করা হলো।

আঠারো বছর এবং এর বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নজরুল ইসলামের সই করা আদেশে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

আদেশে বলা হয়, করোনার বিস্তার রোধে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন গ্রহণ এবং অন্যদের ভ্যাকসিন নিতে উদ্বুদ্ধ করার অনুরোধ করা হলো।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ করা হয়েছে।

নির্দেশনা:

সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ১৮ বছরের বেশি বয়সের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ভ্যাকসিন গ্রহণের বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান উদ্বুদ্ধ করবেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতাধীন বিভাগ, জেলা, উপজেলা পর্যায়ের দপ্তর, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান প্রধানরা নিজ নিজ দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করবেন।

শিক্ষকরা অনলাইনে বা ভার্চুয়াল ক্লাসে শিক্ষার্থীদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণসহ ভ্যাকসিন নিতে উদ্বুদ্ধ করবেন।

সব দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভ্যাকসিন গ্রহণে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন।

আরও পড়ুন:
‘অটো পাসে একদমই খুশি না’
সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ে জিপিএ-৫ হারালেন ৫০ শিক্ষার্থী
জিপিএ-৫ বৃদ্ধির হারে শীর্ষে বরিশাল
এইচএসসি: সিলেটে জিপিএ-৫ বেড়েছে তিন গুণ

শেয়ার করুন

স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের উদ্যোগ

স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের উদ্যোগ

‘স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের জন্য আইনি কাঠামো তৈরি সংক্রান্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এ কমিশন প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক বিষয়াদি দেখভাল করবে।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক, প্রাথমিক, কারিগরি ও মাদরাসা স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ জন্য এরই মধ্যে শুরু হয়েছে কমিশনের আইনি কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ। আইনি কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার পরই শুরু হবে স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া।

রোববার শিক্ষা কমিশনের আইনগত কাঠামো তৈরির প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির আহ্বায়ক ও মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নিরীক্ষা ও আইন শাখার অতিরিক্ত সচিব খালেদা আক্তার বলেন, ‘স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের জন্য আইনি কাঠামো তৈরি সংক্রান্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এ কমিশন প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক বিষয়াদি দেখভাল করবে।’

কমিশন শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্ত হবে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কমিশনের কাজের পরিধির বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা সম্ভব না। আইনগত কাঠামো চূড়ান্ত হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের আদলে স্থায়ী জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করা হবে। এ কমিশনের কাজের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকবে সব ধরনের শিক্ষক নিয়োগ। এটি প্রতিষ্ঠিত হলে ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ’ (এনটিআরসিএ) বিলুপ্ত হতে পারে।

জানা গেছে, জাতীয় শিক্ষানীতির-২০১০ এর আলোকে এই শিক্ষা কমিশন গঠনের আইনগত কাঠামো তৈরির জন্য ৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি কমিশন গঠনের আইনি কাঠামো তৈরি করছে। এ নিয়ে কমিটি বেশ কয়েক দফা সভাও করেছে।

গঠিত কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে আছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নিরীক্ষা ও আইন শাখার অতিরিক্ত সচিব খালেদা আক্তার। আর সদস্য হিসেবে আছেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (অডিট ও আইন) মাহমুদুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিব, পরিচালক (মনিটরিং ও মূল্যায়ন) ড. উত্তম কুমার দাশ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. জাহাঙ্গীর আলম, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন) মো. জিয়াউল আহসান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের যুগ্ন সচিব (প্রশাসন) জাফর আহম্মদ জাহাঙ্গীর, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সচিব অধ্যাপক এ. কে. এম. মনিরুল ইসলাম।

এর আগে গত ২৮ জুলাই রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ওয়েবিনারে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা, ইউজিসি সক্ষমতা আইন, শিক্ষা কমিশন নিয়ে আরও বেশি কাজ করা হচ্ছে, যেন শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে কোনো প্রশ্ন না থাকে।

এর আগে ২০১৯ সালে স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের আইনের খসড়া তৈরি করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ এনটিআরসিএকে। তারা খসড়া তৈরি করে গত বছরের সেপ্টেম্বরে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।

আরও পড়ুন:
‘অটো পাসে একদমই খুশি না’
সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ে জিপিএ-৫ হারালেন ৫০ শিক্ষার্থী
জিপিএ-৫ বৃদ্ধির হারে শীর্ষে বরিশাল
এইচএসসি: সিলেটে জিপিএ-৫ বেড়েছে তিন গুণ

শেয়ার করুন

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট সংশোধন

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট সংশোধন

শিরোনাম সংশোধন করা হয়েছে চারটি অ্যাসাইনমেন্টের আর দুটি বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্টে কিছু অংশ নতুন করে যুক্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ের প্রথম অধ্যায়ের অ্যাসাইনমেন্টে আংশিক পরিবর্তন হয়েছে।

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সাতটি বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্ট সংশোধন করা হয়েছে।

শিরোনাম সংশোধন করা হয়েছে চারটি অ্যাসাইনমেন্টের আর দুটি বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্টে কিছু অংশ নতুন করে যুক্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ের প্রথম অধ্যায়ের অ্যাসাইনমেন্টে আংশিক পরিবর্তন হয়েছে।

রোববার মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়, গত ১৮ জুলাই প্রথম পর্যায়ে তিন সপ্তাহের ছয়টি অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। তবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড থেকে অ্যাসাইনমেন্টের সংশোধন করা হয়েছে।

জানা যায়, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম অধ্যায়ের অ্যাসাইনমেন্টের শিরোনাম সংশোধন করে করা হয়েছে ‘সরল যন্ত্র ও তার ব্যবহার’। পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় অধ্যায়ের অ্যাসাইনমেন্টের শিরোনাম পরিবর্তন করে করা হয়েছে ‘গতি ও এর রাশিমালা’। হিসাববিজ্ঞান ষষ্ঠ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্টের শিরোনাম পরিবর্তন করে করা হয়েছে ‘সাধারণ জাবেদার ধারণা ও গুরুত্ব’। আর উচ্চতর গণিতের একাদশ অধ্যায়ের অ্যাসাইনমেন্টর শিরোনাম বদলে করা হয়েছে ‘স্থানাঙ্ক জ্যামিতির মাধ্যমে বহুভুজ সংক্রান্ত সমস্য সমাধান’।

আর রসায়ন তৃতীয় অধ্যায়ের অ্যাসাইনমেন্ট কলামের শুরুতে ‘বিভিন্ন (চারটি) মৌলের নিউট্রন সংখ্যা, বোর মডেল অনুসারে পরমানুর গঠনের চিত্র, শক্তি স্তরে ইলেক্ট্রন বিন্যাস এবং উপ শক্তি স্তরে (অরবিটালসমূহে) ইলেক্ট্রন বিন্যাস’ অংশটি যুক্ত হয়েছে।

রসায়ন চতুর্থ অধ্যায়ের অ্যাসাইনমেন্টর শুরুর ‘মৌলের ইলেক্ট্রন বিন্যাসের আলোকে পর্যায় সরণিতে অবস্থান, তুলনামূলক আয়নিকরণ এবং মৌল সংশ্লিষ্ট গ্রুপ বা শ্রেণি বৈশিষ্ট্য’ অংশটি যুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ের প্রথম অধ্যায়ের অ্যাসাইনমেন্ট সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা হয়েছে।

সরকার থেকে জানানো হয়েছে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে আসছে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে শুরু হতে পারে এসএসসি পরীক্ষা। আর এইচএসসি শুরুর পরিকল্পনা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। পরীক্ষা নেয়া হবে শুধু নৈর্বাচনিক তিন বিষয়ে।

এরপরও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত রাখতে দেয়া হচ্ছে অ্যাসাইনমেন্ট।

গত ১৫ জুলাই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার সময়ের ঘোষণা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানান, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট ১৮ জুলাই থেকে দেয়া শুরু হবে।

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ১২ সপ্তাহে ২৪টি অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হবে। তারা প্রতি সপ্তাহে দুটি করে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেবে। এসএসসির ক্ষেত্রে প্রতিটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে মোট আটটি করে অ্যাসাইনমেন্ট করতে হবে। এর মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করা হবে।

দেশে করোনা শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দফায় দফায় তা ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘অটো পাসে একদমই খুশি না’
সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ে জিপিএ-৫ হারালেন ৫০ শিক্ষার্থী
জিপিএ-৫ বৃদ্ধির হারে শীর্ষে বরিশাল
এইচএসসি: সিলেটে জিপিএ-৫ বেড়েছে তিন গুণ

শেয়ার করুন

এইচএসসির ফরম পূরণ শুরু ১২ আগস্ট

এইচএসসির ফরম পূরণ শুরু ১২ আগস্ট

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১১ আগস্ট সম্ভাব্য পরীক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১২ আগস্ট থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত ফরম পূরণ কার্যক্রম চলবে। আর ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ফরম পূরণের জন্য শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক এসএমএম পাওয়া শিক্ষার্থীরা ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ ১২ আগস্ট থেকে শুরু হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

শনিবার রাতে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর আমিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১১ আগস্ট সম্ভাব্য পরীক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১২ আগস্ট থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত ফরম পূরণ কার্যক্রম চলবে। আর ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ফরম পূরণের জন্য শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক এসএমএম পাওয়া শিক্ষার্থীরা ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

করোনার কারণে এবার কোনো নির্বাচনী পরীক্ষা হবে না। ফরম পূরণের কার্যক্রম সম্পূর্ণ অনলাইনে হবে। কোনো অবস্থায় শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের স্বশরীরে প্রতিষ্ঠানে যেতে পারবেন না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এবার কোনো নির্বাচনী পরীক্ষা হবে না। তাই এ সংক্রান্ত কোনো ফি নেয়া যাবে না। কোনো প্রতিষ্ঠান এসব আইন অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেবল বৈধ রেজিস্ট্রেশনধারী শিক্ষার্থীরা ফরম পূরণ করতে পারবেন। অনুমোদনহীন রেজিস্ট্রেশনধারী শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণ করালে কোনো ধরনের যোগাযোগ ছাড়াই সেটি বাতিল করা হবে।

কোন বিভাগে কত ফি

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে ১১৬০ টাকা, মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে ১০৭০ টাকা ফি ধরা হয়েছে হয়েছে। নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না। এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য দৃষ্টিগোচর হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ফরম পূরণ প্যানেল বন্ধ করাসহ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কন্ট্রোল রুম

এইচএসসির ফরম সংক্রান্ত কোনো সমস্যা বা অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে দেয়া ফোন নম্বরগুলো হলো ০২-৯৬৬৯৮১৫, ০২-৫৬৬১১০১৮১, ০২-৫৮৬১০২৪৮, ০১৬১০৭১১৩০৭, ০১৬২৫৬৩৮৫০৮ এবং ০১৭২২৭৯৭৯৬৩।

এর আগে ১৫ জুলাই এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি কমে এলে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসএসসি এবং ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এইচএসসি নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’

দীপু মনি জানান, এসএসসি ও এইচএসসিতে মূল্যায়ন হবে গ্রুপভিত্তিক। বাংলা, ইংরেজির মতো আবশ্যিক বিষয়ের মূল্যায়ন হবে না। অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শেষ করা হবে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস।

তিনি বলেন, ‘যদি পরীক্ষা না নিতে পারি তাহলে অ্যাসাইনমেন্ট এবং সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে ফল প্রকাশ করা হবে।’

কমানো হবে পরীক্ষার সময়

ওই সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ২৪-৩০টি অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে তিন ঘণ্টার পরীক্ষা দেড় ঘণ্টায় হবে। আর ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে ৫০ নম্বরে।

তিনি আরও বলেন, ‘তিন ঘণ্টার পরীক্ষা দেড় ঘণ্টায় নেয়া হবে। তাই কোনো শিক্ষার্থী যদি অ্যাসাইনমেন্টগুলো ভালোভাবে করে তবে পরীক্ষায় কোনো সমস্যা হবে না।

‘আগে পরীক্ষায় যেমন ১০টি প্রশ্নের মধ্যে ৮টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হতো, এখন সেই ১০টি প্রশ্নই থাকবে। কিন্তু উত্তর দিতে হবে তিনটি প্রশ্নের। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অপশন বেড়ে যাবে। তাই পরীক্ষা দিতে সুবিধা হবে। মানবণ্টনও ১০০ নম্বরের জায়গায় ৫০ নম্বর করে দেয়া হবে। মূল্যায়নের সময় সেটিকে ১০০ নম্বরে কনভার্ট করে নেয়া হবে।’

প্রশ্নের ধরন কেমন হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. দীপু মনি বলেন, ‘প্রত্যেকবার যেমন প্রশ্ন হয় তেমনি থাকবে। কিন্তু চয়েজ অনেক বেশি থাকবে। এসএসসির সাবজেক্ট ম্যাপিং জেএসসির বিষয়গুলোর ওপর নির্ভর করে মূল্যায়ন হবে।’

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথমবারের মতো করোনা শনাক্ত হয়। ভাইরাসের বিস্তার রোধে ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দফায় দফায় এই ছুটি বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘অটো পাসে একদমই খুশি না’
সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ে জিপিএ-৫ হারালেন ৫০ শিক্ষার্থী
জিপিএ-৫ বৃদ্ধির হারে শীর্ষে বরিশাল
এইচএসসি: সিলেটে জিপিএ-৫ বেড়েছে তিন গুণ

শেয়ার করুন