আট দিন ধরে নিখোঁজ ঢাবি শিক্ষার্থী হাফিজ

হাফিজুর রহমান

আট দিন ধরে নিখোঁজ ঢাবি শিক্ষার্থী হাফিজ

হাফিজুর রহমান মাঝেমধ্যে খামখেয়ালি কিছু কাজ করতেন। মোবাইল ফোন রেখে কয়েক দিনের জন্য কোথাও চলে যেতেন। তাই বলে এত দিন সময় তিনি কখনোই নেননি।

আট দিন ধরে নিখোঁজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান। সর্বশেষ ১৫ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে বন্ধুদের সঙ্গে তাকে দেখা যায়।

হাফিজুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১৫-১৬ বর্ষের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন মাইম অ্যাকশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।

হাফিজুরের সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৫ মে দুপরে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা শেষে রাত ৮-৯টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠেন তিনি।

এরপর থেকে হাফিজের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশনের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মীর লোকমান নিউজবাংলাকে বলেন, ১৫ মে তিনি (হাফিজুর) কার্জন হলে বসে তার মায়ের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন৷ এরপর তিনি বাড়ি যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠেন। বন্ধুদের কাছ থেকে বিদায় নেয়ার পর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ।

সর্বশেষ তার পরনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোযুক্ত ডাকসুর টি-শার্ট ছিল।

তিনি বলেন, হাফিজুর রহমান মাঝেমধ্যে খামখেয়ালি কিছু কাজ করতেন। মোবাইল ফোন রেখে কয়েক দিনের জন্য কোথাও চলে যেতেন। তাই বলে এত দিন সময় তিনি কখনোই নেননি। আমরা তার পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। তার মা দুশ্চিন্তায় কথাও বলতে পারছেন না।

হাফিজুরের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানায়। এ ঘটনায় তার মা সামছুন নাহার গত শুক্রবার কসবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘হাফিজুরের বিষয়টি আমরা অবগত আছি। এ বিষয়ে আমরা সবার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। শাহবাগ থানাকেও এ ব্যাপারে জানানো হয়েছে । আশা করি দ্রুতই হাফিজের সন্ধান পাওয়া যাবে।’ কেউ হাফিজুরের সন্ধান পেলে এই নাম্বারগুলোতে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেছেন হাফিজুরের সহপাঠীরা, 01681571977 (মীর লোকমান), 01827949378 (লিজাইনুল ইসলাম রিপন) ও 01737644931(সানোয়ারুল হক সনি)

আরও পড়ুন:
১৭ মে খুলছে না ঢাবির আবাসিক হল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ছাত্রলীগকর্মীর ‘মাথা গরম’, গার্ডকে থাপ্পড়

ছাত্রলীগকর্মীর ‘মাথা গরম’, গার্ডকে থাপ্পড়

ছাত্রলীগকর্মী মনোয়ার হোসেন হিমেল। ছবি: সংগৃহীত

হিমেল বলেন, ‘আমি ক্যাম্পাসে ঢুকতে চেয়েছিলাম, তখন গেটের একটি অংশ খোলা ছিল। গার্ডকে গেটের দুই অংশ খুলে দিতে বলেছিলাম। কিন্তু সে খোলেনি, এতে আমার মাথা গরম হয়ে যায়। তখন গার্ডকে থাপ্পড় দিয়ে ফেলি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের দুই অংশ খুলে না দেয়ায় নিরাপত্তাকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত মনোয়ার হোসেন হিমেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্রলীগকর্মী।

শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আমবাগানসংলগ্ন ফটকে হিমেল নিরাপত্তাকর্মী ফয়সাল কবিরকে মারধর করেন বলে রেজিস্ট্রারকে লিখিতভাবে জানান হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা নিউজবাংলাকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আমবাগান গেট দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন হিমেল। এ সময় ফটকের দুটো অংশ খুলে দিতে নিরাপত্তাকর্মীকে নির্দেশ দিলে গেটের দুই অংশ খোলা যাবে না বলে জানান ফয়সাল কবির। তখন গেট খুলতে বাধ্য করতে নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর শুরু করেন হিমেল। পরে গেট খুলে দেয়া হলেও লোকজন নিয়ে নিরাপত্তাকর্মী ফয়সালকে আবারও মারধর করতে আসেন তিনি। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য ও একাধিক শিক্ষকের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান করে দেয়া হয়।

মারধরের শিকার নিরাপত্তাকর্মী ফয়সাল বলেন, ‘গেটের দুই অংশ খুলে দিতে বলার পর আমি তাকে একটি অংশ খোলা যাবে বলে জানাই। কিন্তু হঠাৎ তিনি গালাগালি দিয়ে মারধর শুরু করেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। এ ছাড়া রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হিমেল বলেন, ‘আমি ক্যাম্পাসে ঢুকতে চেয়েছিলাম, তখন গেটের একটি অংশ খোলা ছিল। গার্ডকে গেটের দুই অংশ খুলে দিতে বলেছিলাম। কিন্তু সে খোলেনি, এতে আমার মাথা গরম হয়ে যায়। তখন গার্ডকে থাপ্পড় দিয়ে ফেলি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার অভিভাবক ছাত্রলীগের মুরাদ ভাই, সবুজ ভাই, সৈকত ভাই এসে সমাধান করে দেন।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (নিরাপত্তা) জেফরুল হাসান চৌধুরী সজল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমবাগানের গেটটা বন্ধ রাখার নির্দেশ আছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে। ওই শিক্ষার্থী এসে গেটের পুরো অংশ খুলে দিতে বললে গার্ড একটা অংশ খুলে দিলে হঠাৎ করেই সে গার্ডের ওপর চড়াও হয়, মারধর করে। আমরা রেজিস্ট্রার, প্রক্টরকে জানিয়েছি। তার যথাযথ শাস্তি দাবি করছি।’

আরও পড়ুন:
১৭ মে খুলছে না ঢাবির আবাসিক হল

শেয়ার করুন

ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘ভাই’ বলায় জবি ছাত্রকে হয়রানির অভিযোগ

ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘ভাই’ বলায় জবি ছাত্রকে হয়রানির অভিযোগ

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদ হাসান ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্লাবন। ছবি: সংগৃহীত

‘আমি বললাম, ভাই, আমি লেখাপড়া করি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তখন সঙ্গে সঙ্গে গাড়িতে তুললেন। ওনার সঙ্গে একজন সহকারী ছিলেন। উনি বলতেছেন, ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবরে ভাই বল?’ 

নড়াইলে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে গাড়িতে তুলে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম তওসীবুল আলম প্লাবন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ সেশনের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।

প্লাবন জানান, শনিবার সন্ধ্যার আগে তার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির বাইরে বের হন। এ সময় নড়াইলের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদ হাসান তাদের পরিচয় জানতে চান। প্লাবন ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করে নিজেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিলে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিটে গাড়িতে তোলা হয়। পরবর্তীতে রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে মুচলেকা দিয়ে তিনি ছাড়া পান।

প্লাবন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক বন্ধুর সঙ্গে আমি বাসা থেকে বের হয়েছিলাম। তখন তিনি (জাহিদ হাসান) এসে জানতে চান, আপনারা কী করেন?

‘আমি বললাম, ভাই, আমি লেখাপড়া করি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তখন সঙ্গে সঙ্গে গাড়িতে তুললেন। ওনার সঙ্গে একজন সহকারী ছিলেন। উনি বলতেছেন, ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবরে ভাই বল?’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদ হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ রকম কোনো ঘটনা ঘ‌টে‌নি। এটি সম্পূর্ণ অসত্য।

‘আমাদের নড়াইল শহরে লকডাউন দেয়া হয়েছে। এখানে যদি মাস্ক ছাড়া কাউ‌কে পাওয়া যায়, তাহলে আমরা তাকে ধরছি। এখানে শুধু একজনকে নয়, অনেককেই ধরে গাড়িতে তোলা হইছে।’

তবে প্লাবনের দাবি ঘটনার সময় তিনি মাস্ক পরেছিলেন।

একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে ভাই বলা যায় কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হাসান বলেন, ‘এটা আপনি বলতে পারেন, এটাতে কোনো সমস্যা নেই।’

আরও পড়ুন:
১৭ মে খুলছে না ঢাবির আবাসিক হল

শেয়ার করুন

জগন্নাথে শিক্ষক রাজনীতিতে উত্তেজনা

জগন্নাথে শিক্ষক রাজনীতিতে উত্তেজনা

নীলদলের একাংশ নতুন কমিটি ঘোষণার পর তার প্রত্যাখ্যান করে অন্যপক্ষ। এর মধ্যেই সদ্য সাবেক কমিটির সভাপতি দুই পক্ষের মুখোমুখী অবস্থানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতির পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।  

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নীলদলের এক অংশের নতুন কমিটি দেয়ার পর নতুন করে নীলদলের দুটি অংশের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

একাংশ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে। অন্যদিকে অপরাংশের সদ্য সাবেক সভাপতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে ওই অংশের সমালোচনা করছেন।

গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগ সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কমিটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন সভাপতি ও ইসলামের ইতিহাস এবং সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. কামাল হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার নীলদলের এই কমিটিকে প্রত্যাখান করে বক্তব্য দিয়েছে অধ্যাপক ড. জাকারিয়া মিয়া ও ড. মোস্তফা কামালের নেতৃত্বাধীন নীলদল।

এই প্রত্যাখানের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে এর সমালোচনা করেন নীলদলের (অপরাংশ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দিন।

অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, ‘বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের নীল দল নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যে মিথ্যাচার চলছে আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ৩০ লক্ষ শহীদের এবং বঙ্গবন্ধু রক্তের নাম করে এহেন মিথ্যাচার এবং ভণ্ডামি করার অধিকার কারো নাই। এই চিহ্নিত মহলটি ইতোপূর্বে সবসময় মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।’

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দল করে, করতেই পারে আমিও দল করি। কিন্তু এটা নিয়ে তারা দলাদলি করে, গ্রুপিং করে। সারাদিন ভিসির রুমে দলে দলে শিক্ষকরা ঢুকে আর বের হয়। কারণটা কি? উপাচার্যের তো বলা উচিত আপনারা ক্লাসে যান, গবেষণা করেন, বই লিখেন, পিএইচডির জন্য বাইরে যান। এই দলাদলি করে তারা একটু সুবিধা নেয়, প্রক্টর হয়, মাসে কিছু পায়, দুটা প্যাকেট ফ্রি খায়। এটা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে পড়েই না।’

নিউজবাংলাকে তিনি আরও বলেন, আমার কথা হলো উপাচার্যকে কেনো শিক্ষকরা ঘিরে থাকবেন। বিশেষ করে জুনিয়র শিক্ষকরা। এরা যে ভবিষ্যতে কী হবে আল্লাহই জানে।

‘এত তেলবাজ এরা, এরা ঢুকছেও ওইভাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যা আছে এরা সিনিয়র হলে তাও থাকতে দিবে না। সিনিয়র শিক্ষকরা উপাচার্যের কাছে যেতে পারেন। মাঝেমধ্যে বুদ্ধিসু্দ্ধি লাগে। ভিসি এক-দুইজনকে ডাকতে পারেন। অনেকসময় একা পারা যায় না। কিন্তু এ কি অবস্থা? জগন্নাথ একটা রঙ্গমঞ্চ। আগের উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়কে রঙ্গমঞ্চ বানাই গেছে এখন ওইভাবে তারা নাচতেছে।’

এ বিষয়ে নীলদলের (একাংশ) সভাপতি অধ্যাপক ড. জাকারিয়া মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিপক্ষে কে কী করছে এটা নিয়ে বিতর্ক করে তো লাভ নেই। সবাই জানে, আর তারা বলুক মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে কে কী করছে। আর একজন অধ্যাপকের তো উচিত শালীনতার সঙ্গে কথা বলা। আমরা উনি কিংবা অন্য কাউকে কটাক্ষ করে কিছু বলতে চাই না।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির বর্তমান কমিটির মেয়াদ গত বছরের নভেম্বরে শেষ হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে নভেম্বরে অনলাইনে একটি সাধারণ সভা করে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্তেরও তীব্র নিন্দা জানায় নীলদের একাংশ। এরপর থেকেই উত্তপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক রাজনীতি।

আরও পড়ুন:
১৭ মে খুলছে না ঢাবির আবাসিক হল

শেয়ার করুন

কানে শুনছেন না মারধরের শিকার সেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র

কানে শুনছেন না মারধরের শিকার সেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র

হাসপাতাল কর্মচারীদের মারধরের শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রেজওয়ানুল রিয়াদ। ছবি: নিউজবাংলা

রেজওয়ানুল রিয়াদ বলেন, ‘আমি বাম কানে কিছুই শুনতে পাচ্ছি না। এটা নিয়ে ডাক্তারকে প্রশ্ন করলে তারা বলেছেন, তার কানের পর্দা ফেটে গেছে। এজন্য চারটা পরীক্ষা দিয়েছে, পরীক্ষাগুলো ঢাকায় করাতে বলেছেন তারা।’

অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্মচারীদের মারধরে

গুরুতর আহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল করিম বাম কানে শুনতে পাচ্ছেন না।

শনিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রেজওয়ানুল রিয়াদ বলেন, ‘আমি বাম কানে কিছুই শুনতে পাচ্ছি না। এটা নিয়ে ডাক্তারকে প্রশ্ন করলে তারা বলেছেন, তার কানের পর্দা ফেটে গেছে। এজন্য চারটা পরীক্ষা দিয়েছে, পরীক্ষাগুলো ঢাকায় করাতে বলেছেন তারা।’

তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ভাইয়ের ডান হাতটা ভেঙেছে। তাকেও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল করিম রিয়াদ ও তার ছোটভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাশেদ করিম।

এ সময় ভর্তির ৩০ টাকার বদলে ১০০ টাকা নেন হাসপাতালের কর্মচারীরা। রিয়াদ এই টাকার রশিদ চাইলে তাকে মারধর করেন তারা। রিয়াদকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে হামলার শিকার হন তার ছোট ভাই রাশেদও।

রিয়াদ ও রাশেদ বর্তমানে ওই হাসপাতালেরই সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাসপাতালের কর্মচারী উদয় ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার বিকালে ক্যাম্পাস সংলগ্ন পার্কের মোড়ে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শনিবার রাত পৌনে ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ হয়নি বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদ।

তিনি বলেন, ‘এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

রেজওয়ানের বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। মামলা করব কিনা এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। আগে ছেলেরা সুস্থ্ হোক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত এই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসি। মামলা করলে তো তারা আমাদের ছাড়বে না। আমরা এখনও সিদ্ধান্ত নিইনি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানী বলেন, ‘ইতোমধ্যে যে অভিযুক্ত উদয়ের বাবা কয়েক দফা মাফ চেয়েছেন। আমরা বলেছি, বিষয়টি আমরা পরে দেখব। এখন ভিকটিম যদি মামলা করে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ওই ছাত্রদের যাতে চিকিৎসার কোনো ধরনের ত্রুটি না হয় সেটি আমরা নিশ্চিত করেছি।’

রংপুর মেডিক্যালের পরিচালক ডা. রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করব। আমাদের কোনো স্টাফ অপরাধী হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
১৭ মে খুলছে না ঢাবির আবাসিক হল

শেয়ার করুন

জবিতে ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত রোববার

জবিতে ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত রোববার

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘আগামী রোববার চেয়ারম্যান ও ডিনদের সঙ্গে সার্বিক বিষয়ে সভা হবে। সেখানে ক্লাস-পরীক্ষার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আটকে থাকা ক্লাস-পরীক্ষাগুলো কবে কীভাবে হবে এ বিষয়ে রোববার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শনিবার নিউজবাংলার প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক।

তিনি বলেন, ‘আগামী রোববার চেয়ারম্যান ও ডিনদের সঙ্গে সার্বিক বিষয়ে সভা হবে। সেখানে ক্লাস-পরীক্ষার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. অরণ কুমার গোস্বামী বলেন, ‘পরীক্ষা সশরীরে নেয়া হবে। রিভিউ ক্লাস নেয়া হবে অনলাইনে। তবে ক্লাস-পরীক্ষা কবে থেকে নেয়া হবে এ বিষয়ে রোববার অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সার্বিক বিষয় আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে আমাদের পরীক্ষা হবে। গত মিটিংয়ে আমরা এমন একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিক্ষার আগে প্রত্যেক বিভাগ তাদের প্রস্ততিমূলক ক্লাস শেষ করবে।’

করোনা পরিস্থিতিতে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা সশরীরে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। এর আগে অনলাইনে হবে প্রস্তুতিমূলক রিভিউ ক্লাস।

৮ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাধারণ সভায় জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে পরীক্ষা নেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে করোনা মহামারিতে আটকে থাকা অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষা নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
১৭ মে খুলছে না ঢাবির আবাসিক হল

শেয়ার করুন

জবির বেঁচে যাওয়া অর্থে শিক্ষাবৃত্তি দেয়ার দাবি

জবির বেঁচে যাওয়া অর্থে শিক্ষাবৃত্তি দেয়ার দাবি

পরিবহন খাতে প্রতি মাসে ভাড়ায় চালিত বিআরটিসির বাস এবং নিজস্ব বাসের তেল, গ্যাস বাবদ প্রায় ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়। তবে করোনা মহামারির কারণে দেড় বছর ধরে এই ব্যয় সংকোচন হয়েছে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন খাত নয়, এমন অনেক সেবা বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ বিল থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় সংকোচন হয়েছে। এসব খাতে বেঁচে যাওয়া অর্থ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয়ের দাবি উঠেছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের পরিবহনসহ নানা খাতে বেঁচে যাওয়া অর্থে শিক্ষাবৃত্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রসংগঠনের নেতাসহ অনেকেই।

পরিবহন খাতে প্রতি মাসে ভাড়ায় চালিত বিআরটিসির বাস এবং নিজস্ব বাসের তেল, গ্যাস বাবদ প্রায় ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়।

তবে করোনা মহামারির কারণে দেড় বছর ধরে এই ব্যয় সংকোচন হয়েছে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন খাত নয়, এমন অনেক সেবা বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ বিল থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় সংকোচন হয়েছে। এসব খাতে বেঁচে যাওয়া অর্থ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয়ের দাবি উঠেছে।

গত ৮ মার্চ দেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর সংক্রমণ রোধে ১৮ মার্চ থেকে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ রয়েছে। চলছে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজকর্ম। তবে জুলাইয়ে বিভিন্ন বর্ষের আটকে থাকা পরীক্ষা সশরীরে হতে পারে। আগামী ১৩ জুন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

জগন্নাথের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী মেসে কিংবা ভাড়া বাসায় থাকেন। করোনাকালে অনেক শিক্ষার্থীই আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা শুরু হলে নতুন করে ঢাকায় এসে মেস ভাড়া নেয়া, পরীক্ষা ফি, সেশন ফি দেয়াসহ নানা ধরনের খরচের মুখে পড়বেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৫-এর ২৭(৫) ধারায় বলা হয়েছে, ‘সরকার বা অন্যান্য বৈধ উৎস হইতে প্রাপ্ত অনুদান বা আয় হইতে প্রয়োজনের নিরিখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি বা ক্ষেত্রমতে উপবৃত্তি প্রদান করিতে পারিবে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ছাত্রনেতারা জানান, বিভিন্ন খাতের বেঁচে যাওয়া অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের কাজে ব্যবহার করলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন।

রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জামির হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতের বেঁচে যাওয়া অর্থ শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও গবেষণা খাতে ব্যয় করা যেতে পারে। করোনার সময়ে শিক্ষার্থীরা গ্রামে চলে যাওয়ায় টিউশনি হারিয়েছে, আর্থিক সংকটে আছে। এখন যতজন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়া হয়, বৃত্তির সংখ্যাটা তার থেকে যদি আরও বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (জবিশিস) সভাপতি অধ্যাপক ড. নূরে আলম আবদুল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ফি মওকুফের জন্য বলা হবে।’

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে ইউজিসি থেকে অনুমোদন নিয়ে এক খাতের অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করতে পারে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ রায় বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সংগঠন যৌথভাবে করোনার শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সম্পূরক বৃত্তির ব্যবস্থা করতে দাবি জানিয়েছিলাম। যা-ই হোক, এখন যেহেতু ক্যাম্পাস খুলবে শিক্ষার্থীরা ঢাকায় আসবে মেস নেবে, আরও খরচ আছে। বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন খাতের বেঁচে যাওয়া অর্থ সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয় করতে পারে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্র অধিকার পরিষদের আবু বকর বলেন, ‘প্রশাসন চাইলেই বিভিন্ন খাতে খরচ না হওয়া অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করতে পারে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো ইমদাদুল হক বলেন, ‘এসব ফান্ড করতে একা কোনো সিদ্ধান্ত তো নেয়া যায় না, সিন্ডিকেট মিটিং কিংবা কাউন্সিল মিটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আর আমি যোগদান করলাম তো বেশি দিন হয়নি। ফান্ডে কত টাকা আছে তাও জানি না।’

আরও পড়ুন:
১৭ মে খুলছে না ঢাবির আবাসিক হল

শেয়ার করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ল ৩০ জুন পর্যন্ত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ল ৩০ জুন পর্যন্ত

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় এবং দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে আংশিকভাবে কঠোর লকডাউন কার্যকর থাকায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী ও অভিভাবকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তার বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান ছুটি আরও একদফা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় এবং দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে আংশিকভাবে কঠোর লকডাউন কার্যকর থাকায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী ও অভিভাবকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তার বিবেচনায় এবং কোভিড-১৯-সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে পরামর্শক্রমে দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এবতেদায়ি ও কওমি মাদ্রাসাসমূহের চলমান ছুটি আগামী ৩০ জুন ২০২১ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে ১৩ জুন ২০২১ তারিখে দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার কথা জানিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে না আসায় তা সম্ভব হচ্ছে না।

দেশে করোনা শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দফায় দফায় তা বাড়ানো হয়।

চলতি বছরের শুরুর দিকে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে কয়েক দফা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে উঠছে না।

প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে মাধ্যমিক (এসএসসি) ও এপ্রিলে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা শুরু হলেও এ বছর করোনার কারণে এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা এখনও নেয়া সম্ভব হয়নি। গত বছর এসএসসি পরীক্ষা নেয়া গেলেও এইচএসসিতে শিক্ষার্থীদের অটোপাস দেয় সরকার।

এর আগে সময় পিছিয়ে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এসএসসি পরীক্ষা জুনে ও এইচএসসি পরীক্ষা আগস্টে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সে জন্য এসএসসির ৬০ দিন ও এইচএসসির ৮৪ দিন ক্লাস ধরে পরিমার্জিত সংক্ষিপ্ত সিলেবাসও প্রকাশ করেছিল শিক্ষা বোর্ড। হঠাৎ করে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এ ঘোষণার বাস্তবায়নও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

৩০ জুন পর্যন্ত বন্ধ প্রাইমারি-কিন্ডারগার্টেনও

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির কিছুক্ষণ পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও সব ধরনের সরকারি, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের চলমান ছুটি ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ছুটির এই সময়টায় প্রাধনমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কর্তৃক সময়ে সময়ে জারিকৃত নির্দেশনা ও অনুশাসনসমূহ শিক্ষার্থীদের মেনে চলতে হবে। শিক্ষার্থীদের বাসস্থানে অবস্থানের বিষয়টি অভিভাবকরা নিশ্চিত করবেন এবং স্থানীয় প্রশাসন তা নিবিড়ভাবে পরিবীক্ষণ করবে।

সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা তাদের নিজ নিজ শিক্ষার্থীরা যাতে বাসস্থানে অবস্থান করে নিজ নিজ পাঠ্যবই অধ্যয়ন করে, সে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের মাধ্যমে নিশ্চিত করার জন্যও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
১৭ মে খুলছে না ঢাবির আবাসিক হল

শেয়ার করুন