লকডাউনে খোলা রাখায় কওমি মাদ্রাসাকে জরিমানা

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। ছবি: নিউজবাংলা

লকডাউনে খোলা রাখায় কওমি মাদ্রাসাকে জরিমানা

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণ ধরা পরলে ২৬ মার্চ সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হলেও পরে বিশেষ বিবেচনায় কওমি মাদ্রাসা চালু রাখার সুযোগ করে দেয় সরকার। তবে দ্বিতীয় ঢেউয়ে করোনা আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ার পর সরকার এবার কওমি মাদ্রাসাও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। তবে এর পরেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় কওমি মাদ্রাসা চালু রাখার খবর আসতে থাকে। এরপর গত ৬ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়।

নেত্রকোণায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ছাত্র রেখে জরিমানা গুনল একটি কওমি মাদ্রাসা। মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দিয়ে ছাত্রীদের নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

জেলার আটপাড়া উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের নাজিরগঞ্জ বাজার বায়তুল কোরআন মাদ্রাসাকে এই জরিমানা করা হয়।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চালু রেখে এই প্রথম কোনো কওমি মাদ্রাসা শাস্তির মুখে পড়েছে।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাফর আরিফ চৌধুরী জানান, করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মানতে জনগণকে বাধ্য করতে শনিবার জেলার প্রায় সব উপজেলায় অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আটপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা রাজিয়ার নেতৃত্বে এই অভিযান চলাকালে ওই মাদ্রাসায় ২০ জনের মতো ছাত্রীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে মাদ্রাসা চালু রাখার বিষয়ে শিক্ষকরা কোনো জবাব দিতে পারেননি। পরে মাদ্রাসার শিক্ষকসহ ছয় জনকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদের মধ্যে সরকারি বিধিনিষেধ না মেনে কার্যক্রম চালানো ও সংক্রমণে ঝুঁকি বাড়ানোয় মাদ্রাসাটির দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক মাওলানা মাহবুবকে জরিমানা করা হয় দুই হাজার টাকা।

সুলতানা রাজিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আদালতের কাছে তিনি (মাওলানা মাহবুব) অঙ্গীকার করেছেন সরকারি নির্দেশ অমান্য করে তিনি আর মাদ্রাসা কাজ চালাবেন না।’

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২৯ মার্চ সরকার এক প্রজ্ঞাপনে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণ ধরা পরলে ২৬ মার্চ সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হলেও পরে বিশেষ বিবেচনায় কওমি মাদ্রাসা চালু রাখার সুযোগ করে দেয় সরকার।

তবে দ্বিতীয় ঢেউয়ে করোনা আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ার পর সরকার এবার কওমি মাদ্রাসাও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।

তবে এর পরেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় কওমি মাদ্রাসা চালু রাখার খবর আসতে থাকে। এরপর গত ৬ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়।

এতে বলা হয়, ‘সরকারি নির্দেশ সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু আবাসিক ও অনাবাসিক মাদ্রাসা এখনও খোলা রয়েছে মর্মে জানা যায় যা বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে অত্যন্ত স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ।… বর্ণিত অবস্থায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কওসি মাদ্রাসাসহ (এতিমখানা ব্যতীত) সব মাদ্রাসা (আবাসিক ও অনাবাসিক) বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো। এ নির্দেশ পালনে কোনোরূপ শৈথিল্য প্রদর্শন করা যাবে না।’

আরও জরিমানা

নাজিরগঞ্জ বাজার বায়তুল কোরআন মাদ্রাসা ছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় আরও ২৯ জনকে জনকে সাত হাজার ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রের জাফর আরিফ চৌধুরী জানান, জেলা সদর, আটপাড়া, কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, পূর্বধলা, মদন উপজেলার বিভিন্নস্থানে এই আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।

লকডাউনের মধ্যে অকারণে বাইরে ঘোরাঘুরি ও মাস্ক না পরায় জেলা সদরের সাতপাইয়ে পাঁচ জনকে ৮০০ টাকা, রাজুর বাজার এলাকায় তিন জনকে ৪০০ টাকা, মদন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একজনকে ২০০ টাকা, ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চার জনকে ৩০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

সরকারের নির্দেশনার পরও করোনাকালে সব কওমি মাদ্রাসা বন্ধ হয়নি। ফাইল ছবি

দুর্গাপুর উপজেলা চার জনকে ৪০০ টাকা জরিমানা করা হয় একই কারণে।

কলমাকান্দা উপজেলায় ১২ জনকে জরিমানা করা হয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা।

শুক্রবারও এই জেলায় অভিযান চালিয়েছে ১৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেদিন ৬৩ জনকে ২৫ হাজার ৫০০টাকা জরিমানা করা হয়।

জরিমানার পাশাপাশি করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক লিফলেট ও নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাফর আরিফ চৌধুরী।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে চলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের লকডাউন শুরু হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জনগণকে ঘরের বাইরে না যেতে বলা হয়েছে। তবে প্রথম দিন থেকেই লডকাউন শিথিল হয়ে পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এই অবস্থায় আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউন দেয়ার ঘোষণা এসেছে। সেদিন থেকে জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব অফিস ও যানবাহন বন্ধ করে দেয়ার কথা জানানো হয়েছে। রোববার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
নির্দেশ না মানা কওমি মাদ্রাসা অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ
মাদ্রাসা ছাত্রকে মারধর, প্রিন্সিপালসহ গ্রেপ্তার ২
মাদ্রাসায় পিটুনি: অভ্যাস বদলাবে কীভাবে
ফ্যানে ঝুলিয়ে ছাত্র নির্যাতন: মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে
পিটুনি: মাদ্রাসায় আর পড়বে না গংগাচড়ার সেই দুই শিশু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খুলছে না বিশ্ববিদ্যালয়-কওমি

খুলছে না বিশ্ববিদ্যালয়-কওমি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে চলমান কোভিড-১৯ অতিমারিতে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী ও অভিভাবকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তার বিবেচনায় এবং কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে পরামর্শক্রমে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান ছুটি আগামী ২৯ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, কিন্ডারগার্টেন ও প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পর এবার ছুটি বাড়ানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ও কওমি মাদ্রাসারও। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ২৯ মে পর্যন্ত।

রোববার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে চলমান কোভিড-১৯ অতিমারিতে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী ও অভিভাবকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তার বিবেচনায় এবং কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে পরামর্শক্রমে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান ছুটি আগামী ২৯ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তবে এ সময় অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে গত বছরের মার্চ থেকে ছুটি ঘোষণা করা হয় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এর মধ্যে দফায় দফায় বেড়েছে ছুটির মেয়াদ।

এর আগে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন, আগামী ১৭ মে থেকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হল খুলে দেয়া হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে ২৪ মে।

তবে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য টিকা নিশ্চিত করতে না পারায় গত ২৯ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায় আবাসিক হল ১৭ মে খোলা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন:
নির্দেশ না মানা কওমি মাদ্রাসা অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ
মাদ্রাসা ছাত্রকে মারধর, প্রিন্সিপালসহ গ্রেপ্তার ২
মাদ্রাসায় পিটুনি: অভ্যাস বদলাবে কীভাবে
ফ্যানে ঝুলিয়ে ছাত্র নির্যাতন: মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে
পিটুনি: মাদ্রাসায় আর পড়বে না গংগাচড়ার সেই দুই শিশু

শেয়ার করুন

কিন্ডারগার্টেন-প্রাথমিকেও বাড়ল ছুটি

কিন্ডারগার্টেন-প্রাথমিকেও বাড়ল ছুটি

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, ছুটির সময়টাতে নিজেদের ও অন্যদের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করবে। পাশাপাশি অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পর কিন্ডারগার্টেন ও সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ছুটি বাড়িয়েছে সরকার।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে রোববার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ছুটির সময়টাতে নিজেদের ও অন্যদের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করবে। পাশাপাশি অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আরও বলা হয়েছে, প্রাধনমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনা ও অনুশাসন শিক্ষার্থীদের মেনে চলতে হবে।

শিক্ষার্থীদের নিজ ঘরে থাকার বিষয়টি অভিভাবকদের নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। তা নিশ্চিত হয়েছে কি না, স্থানীয় প্রশাসন তা নিবিড়ভাবে পরিবীক্ষণ করবে।

শিক্ষার্থীরা ঘরে থেকে নিজ পাঠ্যবই অধ্যয়ন করছে কি না সে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নিশ্চিত করতেও মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এর আগে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আরও এক দফা বাড়িয়েছে সরকার। শনিবার রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৯ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

সরকারের আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২৩ মে থেকে স্কুল-কলেজ খোলার কথা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কথা ২৪ মে। কিন্তু দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হলো সরকারকে।

দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে দফায় দফায় বাড়ানো হয় ছুটির মেয়াদ। তবে সবশেষ ঘোষণায় বলা হয়েছিল, ২৩ মে থেকে শুরু হতে পারে পাঠদান। তা আর হলো না। ছুটির মেয়াদ বাড়ল আরও এক দফা।

আরও পড়ুন:
নির্দেশ না মানা কওমি মাদ্রাসা অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ
মাদ্রাসা ছাত্রকে মারধর, প্রিন্সিপালসহ গ্রেপ্তার ২
মাদ্রাসায় পিটুনি: অভ্যাস বদলাবে কীভাবে
ফ্যানে ঝুলিয়ে ছাত্র নির্যাতন: মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে
পিটুনি: মাদ্রাসায় আর পড়বে না গংগাচড়ার সেই দুই শিশু

শেয়ার করুন

র‌্যাংকিংয়ে দেশসেরা চবির কম্পিউটার বিজ্ঞান

র‌্যাংকিংয়ে দেশসেরা চবির কম্পিউটার বিজ্ঞান

তালিকাতে বিজনেস, ম্যানেজমেন্ট ও একাউন্টিং বিভাগে তৃতীয়, ইঞ্জিনিয়ারিং এ চতুর্থ, এগ্রিকালচার অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল সায়েন্সে ষষ্ঠ, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সে সপ্তম, ফিজিক্স অ্যান্ড এস্ট্রোনমিতে ১২তম অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপাশি এনার্জি গবেষণাতেও প্রথম স্থানে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

স্পেনভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিমাগো ইনস্টিটিউশনস এর র‌্যাংকিংয়ে চলতি বছরের বিষয়ভিত্তিক তালিকায় কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে (সিএসই) শীর্ষস্থান অর্জন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)।

এ তালিকায় কম্পিউটার বিজ্ঞানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং তৃতীয় স্থানে আছে চট্টগ্রামে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)।

সিমাগোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চতুর্থ এবং বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা ও গবেষণা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৬৬তম অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

কলা ও মানবিকী, রসায়ন, গণিত, অর্থনীতি, কৃষি ও জৈবিক বিজ্ঞান, প্রকৌশলসহ ১৬টি বিষয়ভিত্তিক শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছে সিমাগো ইনস্টিটিউশনস।

তালিকাতে বিজনেস, ম্যানেজমেন্ট ও একাউন্টিং বিভাগে তৃতীয়, ইঞ্জিনিয়ারিং এ চতুর্থ, এগ্রিকালচার অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল সায়েন্সে ষষ্ঠ, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সে সপ্তম, ফিজিক্স অ্যান্ড এস্ট্রোনমিতে ১২তম অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপাশি এনার্জি গবেষণাতেও প্রথম স্থানে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও আইসিটি সেলের পরিচালক খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘এই র‌্যাংকিংগুলো করা হয় গবেষণা পাবলিকেশনের ওপর। আমাদের বিভাগের শিক্ষকরা অনেক গবেষণা করছেন। আমাদের পাবলিকেশনের সংখ্যাও অনেক। আমার নিজেরও গত ছয় মাসে আটটার মতো পাবলিকেশন হয়েছে।’

স্পেনভিত্তিক সিমাগো ইনস্টিটিউশন থেকে প্রতিবছর শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের র‌্যাংকিং প্রকাশ করা হয়ে থাকে। ২০০৯ সাল থেকে এই র‌্যাংকিং প্রকাশ হয়ে আসছে।

আরও পড়ুন:
নির্দেশ না মানা কওমি মাদ্রাসা অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ
মাদ্রাসা ছাত্রকে মারধর, প্রিন্সিপালসহ গ্রেপ্তার ২
মাদ্রাসায় পিটুনি: অভ্যাস বদলাবে কীভাবে
ফ্যানে ঝুলিয়ে ছাত্র নির্যাতন: মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে
পিটুনি: মাদ্রাসায় আর পড়বে না গংগাচড়ার সেই দুই শিশু

শেয়ার করুন

খুলছে না স্কুল-কলেজ, বাড়ল ছুটি

খুলছে না স্কুল-কলেজ, বাড়ল ছুটি

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ পেছানোয় আবারও অনিশ্চয়তায় পড়ল এসএসসি ও এএইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। করোনা পরিস্থিতির জন্য গত বছর এইচএসসি পরীক্ষা নিতে পারেনি সরকার। পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হয় এসএসসি ও জেএসসির ফলের ভিত্তিতে। তবে এ বছর এ পদ্ধতিতে পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করতে চায় না সরকার।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আরও এক দফা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৯ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

শনিবার রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২৩ মে থেকে স্কুল-কলেজে খোলার কথা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কথা ২৪ মে। কিন্তু দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হলো সরকারকে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে অতি সম্প্রতি চলমান কোভিড-১৯ মহামারি সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী ও অভিভাবকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তার বিবেচনায় এবং কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে পরামর্শক্রমে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ২৯ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তবে এই সময়ে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে দফায় দফায় বাড়ানো হয় ছুটির মেয়াদ। তবে সবশেষ ঘোষণায় বলা হয়েছিল, ২৩ মে থেকে শুরু হতে পারে পাঠদান। তা আর হলো না। ছুটির মেয়াদ বাড়ল আরও এক দফা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ পেছানোয় আবারও অনিশ্চয়তায় পড়ল এসএসসি ও এএইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। করোনা পরিস্থিতির জন্য গত বছর এইচএসসি পরীক্ষা নিতে পারেনি সরকার। পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হয় এসএসসি ও জেএসসির ফলের ভিত্তিতে। তবে এ বছর এ পদ্ধতিতে পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করতে চায় না সরকার।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, স্কুল-কলেজ খোলার পর সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাদের পাঠ্যক্রম শেষ করার কথা রয়েছে।

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ৬০ দিন এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ৮৪ দিনের সংক্ষিপ্ত পাঠ্যক্রম প্রস্তুত করার কথা জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এরই মধ্যে শিক্ষা বোর্ডগুলো পরীক্ষা কেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করেছে। পরীক্ষা সংক্রান্ত সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। তবে স্থগিত রয়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ।

গত ৭ এপ্রিল শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনা সংক্রমণের কারণে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বর্ধিত করে নতুন সময়সূচি জানিয়ে দেয়া হবে।

শিক্ষা বোর্ডের সূচি অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার কথা এসএসসি পরীক্ষা। তবে করোনার কারণে আবারও মতো ব্যাহত হলো এ উদ্যোগ।

আরও পড়ুন:
নির্দেশ না মানা কওমি মাদ্রাসা অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ
মাদ্রাসা ছাত্রকে মারধর, প্রিন্সিপালসহ গ্রেপ্তার ২
মাদ্রাসায় পিটুনি: অভ্যাস বদলাবে কীভাবে
ফ্যানে ঝুলিয়ে ছাত্র নির্যাতন: মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে
পিটুনি: মাদ্রাসায় আর পড়বে না গংগাচড়ার সেই দুই শিশু

শেয়ার করুন

ছাত্রদের টাকায় শিক্ষকদের গাড়ি, গাছ গেল বাড়ি

ছাত্রদের টাকায় শিক্ষকদের গাড়ি, গাছ গেল বাড়ি

সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের এমন একটি সেগুন কাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ছবি: নিউজবাংলা

সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে সেগুন গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে অর্থনীতি বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ছাত্রদের পরিবহন ফির টাকায় গাড়ি কিনে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ ও অন্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।

সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সেগুন কাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে কলেজের সহকারী অধ্যাপক মুস্তানসার বিল্লাহ মুরাদের বিরুদ্ধে।

ছাত্রদের পরিবহন ফির টাকায় শিক্ষকদের জন্য মাইক্রোবাস কেনার অভিযোগও উঠেছে।

মন্ত্রীর কাছে কলেজের জন্য একটি ভবন দাবি করায় এক কর্মচারীকে সাত দিনের জন্য বরখাস্ত করারও অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।

কলেজের অনেকগুলো গাছ নানা সময় কাটা হয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষক মুস্তানসার রাত ১২টার দিকে বড় আকারের একটি সেগুন গাছ নিজের ভাই, স্বজন ও কর্মচারীদের সহযোগিতায় কেটে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক কর্মচারী।

কলেজের রাস্তা সংস্কারের সময় রড, পাথরও শিক্ষকের বাসায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আছে।

কলেজের নৈশ প্রহরী আব্দুর বাছির বলেন, ‘১২-১৩ দিন আগেই রাইত পৌনে ১২ টায় হবে বিল্লাহ স্যার আমাকে ফোন করে বলেন কলেজের গেইট খুলে দেওয়ার জন্য। গেইট খুলিয়া দেওয়ার পরে ইকান থাকি সেগুন গাছ নেওয়া অইছে। ওই সময় কলেজের কর্মচারী ছামেদ, স্যারের ভাতিজা উজ্জ্বল এবং তাইনের বোন জামাইয়া গাছ নিয়া যায়।

‘আমি তাইনরে জিগাইছি রাইত ১২ টার সময় গাছ নিলে সমস্যা অইত না নি। তাইন কইল, অধ্যক্ষ মেডামের অনুমতি নিয়া তারা গাছ নিছে।’

কলেজের সিনিয়র কম্পিউটার অপারেটর ওমর ফারুক বলেন, ‘রাতের আঁধারে এই স্যার কলেজের সম্পত্তি বাড়িতে নিয়ে গেছেন। বিগত সময়েও তিনি কলেজের পুরনো রড নিয়ে গেছেন। এসব অধ্যক্ষ দেখেও না দেখার ভান করেন।’

ছাত্রদের টাকায় শিক্ষকদের গাড়ি, গাছ গেল বাড়ি
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুস্তানসার বিল্লাহ মুরাদ

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক মোস্তানসার বিল্লাহ বলেন, ‘আমি কোনো গাছ নেইনি। আমি গাছ নিব কেন? এসব বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

কলেজটি অধ্যক্ষ নীলিমা চন্দ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সহকারী অধ্যাপক রাতে গাছ নিয়েছেন, সেটা আমি জানি না। তবে যে কেউ আমার নাম করে গাছ নিয়ে যাওয়ার আগে নৈশ প্রহরীর উচিত ছিল আমাকে জানানো। তবে যেহেতু বিষয়টা আমি জানলাম, তদন্ত করে দেখব। বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা যায় না। তার মধ্যে সেগুন গাছ।’

শিক্ষার্থীদের টাকায় শিক্ষকদের মাইক্রো

শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা জানান, অধ্যক্ষ নীলিমা চন্দ আড়াই বছর আগে কলেজে আসার পর অনেকগুলা গাছ কাটা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত খাতের টাকায় কিনেছেন নিজেদের জন্য ২০ লাখ টাকায় একটি গাড়িও কিনেছেন তিনি।

কর্মচারী ওমর ফারুক বলেন, ‘তিনি (অধ্যক্ষ) শিক্ষার্থীদের টাকায় শিক্ষকদের জন্য গাড়ি কিনেছেন। সেই গাড়ি অধ্যক্ষের বাপের বাড়ি, আত্মীয় বাড়ি কিংবা শিক্ষকদের সিলেট নামিয়ে আসা সবই করে। তবে শিক্ষার্থীরা জাতীয় কোনো প্রোগ্রামে যেতে চাইলে গাড়ি পায় না।

‘একবার আমি আমাদের পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান স্যারের কাছে কলেজের জন্য বিল্ডিং দাবি করেছিলাম। এ জন্য তিনি (অধ্যক্ষ) আমাকে সাত দিনের জন্য বরখাস্ত করেন, কেন আমি এসব কথা বলতে গেলাম।’

ছাত্রদের টাকায় শিক্ষকদের গাড়ি, গাছ গেল বাড়ি
ছাত্রদের জমা দেয়া পরিবহন ফির টাকায় শিক্ষকদের জন্য কেনা হয়েছে গাড়িটি। এটি ব্যক্তিগত কাজেও ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে

কলেজের শিক্ষার্থী ফয়সল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের টাকায় তিনি গাড়ি কিনেছেন দর্জির কাপড় আনাতে? এই গাড়ি শহরের সব জায়গায় যায়। তবে কলেজের কাজে না, ব্যক্তিগত কাজে৷

‘ম্যাডাম বাপের বাড়ি, শ্বশুর বাড়ি- সব জায়গায় এই গাড়ি নিয়ে যান। অন্য শিক্ষকরা গাড়ি নিয়ে সিলেট যান আসেন। আমাদের টাকায় আমাদের জন্য বাস কিনলে ভালো হতো। তাহলে দূরের ছেলেমেয়েরা কলেজে আসতে পারত।’

গাড়ির চালক মহিম আহমেদ বলেন, ‘এই গাড়ি নিয়া ভাই বহুত জায়গাত গেছি। মেডামের বাপের বাড়ি গেছি, ঘরের বাজারটাও গাড়ি দিয়া করিয়া দেয়া লাগছে। এরপরে স্যারেরা গাড়ি নিয়া বিয়াবাড়ির মার্কেট করা থাকি শুরু করি তারা বাড়িত গেলে সিলেট নামাইয়া দিয়া আই। আবার তারা সুনামগঞ্জ আইলে ভোরে গিয়া লইয়া আই। আসলে এইটায় কিন্তু শিক্ষার্থীরার উন্নয়ন অইব না। আরাম পাইব শিক্ষকরা।’

ছাত্রদের টাকায় শিক্ষকদের গাড়ি, গাছ গেল বাড়ি
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যক্ষ নীলিমা চন্দ

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ নিলীমা বলেন, ‘আমি গাড়ি নিয়ে বাবার বাড়ি গিয়েছি। কারণ, আমার মা অসুস্থ ছিলেন। আসা যাওয়ায় যে সরকারি নিয়ম আছে তা মেনেই গিয়েছি এবং চালান দিয়েছি। এছাড়া কিছু টুকটাক জরুরি কাজ করানো হয়েছে।

‘আর গাড়িটা তো আমার একার জন্য কেনা না। শিক্ষকদের সবার জন্যও। তবে তারা সিলেটে নিয়ে যান সেটা জানা নেই।’

অধ্যক্ষের অভিযোগ, কলেজের কর্মচারীরা বেতন ভাতা বাড়ানোর দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছিল। তিনি দাবি না মানায় তারা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এসব কথা বলছেন।

পরে অবশ্য অধ্যক্ষ কর্মচারীদের দাবি মেনে নেন।

আরও পড়ুন:
নির্দেশ না মানা কওমি মাদ্রাসা অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ
মাদ্রাসা ছাত্রকে মারধর, প্রিন্সিপালসহ গ্রেপ্তার ২
মাদ্রাসায় পিটুনি: অভ্যাস বদলাবে কীভাবে
ফ্যানে ঝুলিয়ে ছাত্র নির্যাতন: মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে
পিটুনি: মাদ্রাসায় আর পড়বে না গংগাচড়ার সেই দুই শিশু

শেয়ার করুন

রসায়নে দেশসেরা জাহাঙ্গীরনগর

রসায়নে দেশসেরা জাহাঙ্গীরনগর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার। ছবি: ফেসবুক

রসায়ন বিষয়ে দেশে শীর্ষস্থান অর্জনের পাশাপাশি এ বিষয়ে বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়ে ৬৫৪ তম অবস্থানে রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

স্পেনভিত্তিক শিক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিমাগো ইনস্টিটিউশনসের র‍্যাঙ্কিংয়ে ২০২১ সালে বাংলাদেশে রসায়ন বিষয়ে সেরা স্থান অর্জন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

সম্প্রতি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গবেষণা, উদ্ভাবন ও সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সিমাগো ইনস্টিটিউশনস ২০০৯ সাল থেকে শিক্ষা ও গবেষণা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করে আসছে।

প্রতিষ্ঠানটির তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৮ম এবং বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা ও গবেষণা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৮২তম অবস্থানে রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

এ ছাড়া রসায়ন বিষয়ে দেশে শীর্ষস্থান অর্জনের পাশাপাশি এ বিষয়ে বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়ে ৬৫৪ তম অবস্থানে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

এ বছর মানবিক, রসায়ন, গণিত, অর্থনীতি, কৃষি ও জৈবিক বিজ্ঞান, প্রকৌশলসহ ১৬টি বিষয়ভিত্তিক শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছে সিমাগো ইনস্টিটিউশনস।

দেশের শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মেডিসিন বিষয়ে দ্বিতীয়, ফার্মাকোলজি, টক্সিকোলজি অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্স বিষয়ে তৃতীয়, বায়োকেমিস্ট্রি, জেনেটিক্স অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি ও আর্থ অ্যান্ড প্লানেটারি সায়েন্সেসে পঞ্চম, সামাজিক বিজ্ঞান, পরিবেশ বিজ্ঞান ও কম্পিউটার সায়েন্সে ষষ্ঠ, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফিজিক্স অ্যান্ড এস্ট্রোনমিতে দশম এবং গণিতে ১২তম অবস্থানে রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

গবেষণা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান স্কোপাস ডাটাবেইজে কমপক্ষে ১০০টি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে এমন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্কিং করে সিমাগো ইনস্টিটিউশনস।

আরও পড়ুন:
নির্দেশ না মানা কওমি মাদ্রাসা অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ
মাদ্রাসা ছাত্রকে মারধর, প্রিন্সিপালসহ গ্রেপ্তার ২
মাদ্রাসায় পিটুনি: অভ্যাস বদলাবে কীভাবে
ফ্যানে ঝুলিয়ে ছাত্র নির্যাতন: মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে
পিটুনি: মাদ্রাসায় আর পড়বে না গংগাচড়ার সেই দুই শিশু

শেয়ার করুন

ননএমপিও শিক্ষকের ঈদ উপহার ৫ হাজার টাকা

ননএমপিও শিক্ষকের ঈদ উপহার ৫ হাজার টাকা

ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রীর এই অনুদানের আওতায় ননএপিও প্রত্যেক শিক্ষক ছাড়াও অনুদান পাবেন কর্মচারীরা। তাদের দেয়া হবে আড়াই হাজার টাকা করে। সব মিলিয়ে অনুদান দেয়া হচ্ছে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে আর্থিক সংকটে পড়া নন এমপিও শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য ৭৪ কোটি ৮১ লাখ ৭০ হাজার টাকা অনুদান ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং অনুদানের এ তথ্য নিশ্চিত করে।

অনুদানের আওতায় নন এমপিও মোট এক লাখ ৬৭ হাজার ২২৫ শিক্ষক-কর্মচারি এককালীন আর্থিক সহায়তা পাবেন।

সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক লাখ পাঁচ হাজার ৭৮৫ জন ও কারিগরি, মাদ্রাসা ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার ৬১ হাজার ৪৪০ জন শিক্ষক কর্মচারিকে দেয়া হবে এ অনুদান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, এই অনুদানের আওতায় প্রত্যেক শিক্ষককে দেয়া হবে ৫ হাজার টাকা; আর প্রত্যেক কর্মচারি পাবেন আড়াই হাজার টাকা।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব ইমরুল কায়েস রানা সাংবাদিকদের জানান, এরই মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অনুকূলে ৪৬ দশমিক ৬৩৩ কোটি এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অনুকুলে ২৮ দশমিক ১৮৪ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে গত বছরের মার্চ থেকে ছুটি ঘোষণা করা হয় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এর মধ্যে কয়েক দফা বেড়েছে ছুটির মেয়াদ।

সরকারের সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২১ মে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার কথা। তবে করোনার দ্বিতীয় সংক্রমণ চলতে থাকায় তাও এখন অনিশ্চিত।

আরও পড়ুন:
নির্দেশ না মানা কওমি মাদ্রাসা অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ
মাদ্রাসা ছাত্রকে মারধর, প্রিন্সিপালসহ গ্রেপ্তার ২
মাদ্রাসায় পিটুনি: অভ্যাস বদলাবে কীভাবে
ফ্যানে ঝুলিয়ে ছাত্র নির্যাতন: মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে
পিটুনি: মাদ্রাসায় আর পড়বে না গংগাচড়ার সেই দুই শিশু

শেয়ার করুন