মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি: সেই ৮ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি: সেই ৮ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রমাণিত হলেও গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা। এরপর তৎপর হয় স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা অফিস।

মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি করে নিয়োগ পাওয়া গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আট স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে এক বছর পর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

ওই শিক্ষকদের বেতন-ভাতা এ বছরের জানুয়ারি থেকে স্থগিত করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসেন আলী।

ওই শিক্ষকরা হলেন গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জের নূরে হাবিব ও তার বোন রাফিয়া মোর্শেদা, মাস্টারপাড়ার নুরনাহার বেগম, তার বোন গুল বাহার ও সুলতানা পারভিন, সোনাতলা গ্রামের মুন্নি খাতুন, গাড়ামারা গ্রামের আম্বিয়া খাতুন এবং ঘোষপাড়ার জেসমিন ওরফে কবিতা।

তাদের মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জেলা দায়রা জজ আদালতে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আট শিক্ষকই উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রমাণিত হলেও গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

এরপর তৎপর হয় স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা অফিস। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের (রংপুর) এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, গোবিন্দগঞ্জের মাস্টারপাড়ার নুরনাহার বেগম, তার দুই বোন গুল বাহার ও সুলতানা পারভিন এবং ঘোষপাড়ার জেসমিন ওরফে কবিতা ভুয়া সনদে চাকরি নেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছিলেন। যা আইন পরিপন্থি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।

মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি: সেই ৮ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

দুদক এই চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছে। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে তাদের নামে অর্থ আত্মসাতের চারটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলো বিচারাধীন।

তিনি জানান, অন্য চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও তদন্তাধীন। প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিক্ষা কর্মকর্তা হোসেন আলী বলেন, ‘গণমাধ্যমের বদৌলতে আবারও তদন্ত কার্যক্রম হয়েছে। তদন্তে জালিয়াতির সত্যতা পেয়ে অভিযুক্তদের বেতন-ভাতা স্থগিত করাসহ তাদের শাস্তি চেয়ে বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছি। তাছাড়া তদন্ত প্রতিবেদন আবারও অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি।’

মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি: সেই ৮ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

তিনি আরও জানান, ওই আট শিক্ষকের মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাইয়ের জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখন অধিদপ্তরের নির্দেশনা পেলেই তাদের চাকরিচ্যুত করাসহ পরবর্তী সময়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গোবিন্দগঞ্জের আজেদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। তাতে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে বাবা-নানাকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে ভুয়া সনদ দেখিয়ে তারা চাকরি নেন। তাদের জালিয়াতির কারণে বঞ্চিত হয়েছেন প্রকৃত মেধাবীরা।

অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ২৫ নভেম্বর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রামকৃষ্ণ বর্মনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন।

ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠান ইউএনও। তারপরও দীর্ঘ সময় ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি: সেই ৮ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

নিউজবাংলার প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর কর্মকর্তাদের তৎপরতায় বিষয়টি রাজধানীতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পর্যন্ত যায়।

এর পর তাদের সেখানে তলব করেন কর্মকর্তারা।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অভিযুক্তরা লিখিত জবাব ও মুক্তিযোদ্ধা সনদের কাগজপত্র নিয়ে হাজির হন। সেগুলো এখন যাচাই-বাছাই হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসেন আলী।

আরও পড়ুন:
রায় জালিয়াতদের খুঁজে বের করা জরুরি: হাইকোর্ট
বগুড়ার যুবলীগ নেতা আমিনুল রিমান্ডে
জামিন জালিয়াতি: যুবলীগ নেতাসহ আরও ১৬ জন শ্রীঘরে
জামিন জালিয়াতি: ২৪ ঘণ্টায়ও গ্রেপ্তার হননি যুবলীগ নেতা
জালিয়াতের ‘রাজা’ ফারুক কোথায়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সাড়ে ১৪ লাখ টাকার ভাতা পরিশোধের দাবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন

সাড়ে ১৪ লাখ টাকার ভাতা পরিশোধের দাবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন

বকেয়া পরিশোধের দাবিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষক রাহুল দাশ বলেন, ‘আমরা সবাই নতুন চাকরি পেয়েছি। আমাদের বেতন মাত্র সাড়ে ১৮ হাজার টাকা। এই বেতনে পরিবার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে ডিপিএড প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে আমাদের প্রচুর টাকা খরচ করতে হয়েছে।’

প্রশিক্ষণের মেয়াদ শেষ হলেও ভাতার টাকা না পাওয়ায় মানববন্ধন করেছেন হবিগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকরা।

বুধবার দুপুরে হবিগঞ্জ পিটিআইয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে কয়েকশ শিক্ষক অংশ নেন।

তাদের দাবি, প্রশিক্ষণ চলার সময় প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেয়ার নিয়ম রয়েছে। প্রথম ছয় মাসের ভাতা বাবদ প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে ১৮ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও দেয়া হয়নি পরের এক বছরের কোনো টাকা।

এতে ছয় মাসের মোট বকেয়া পড়েছে প্রায় ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এক বছরের ভাতা বাবদ প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর বকেয়া পড়েছে ৩৬ হাজার টাকা।

হবিগঞ্জ পিটিআই জানা জানিয়েছে, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এর তত্ত্বাবধানে রয়েছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)।

প্রশিক্ষণে জেলার নয়টি উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৪০০ শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। প্রথম অবস্থায় ক্লাসে প্রশিক্ষণ দেয়া হলেও করোনা মহামারি শুরু হলে অনলাইনে ক্লাস নেয়ার উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। এ প্রশিক্ষণ চলে জুন মাস পর্যন্ত। ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণার্থীদের লিখিত পরীক্ষাও শেষ হয়েছে। ২৪ জুন থেকে তাদের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হবে।

ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থী চুনারুঘাট উপজেলার কালিশিরি সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অপূর্ব পাল বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারির প্রকোপ শুরু হলে অনলাইনে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় অনেক প্রশিক্ষণার্থীর হাতে ভালো মোবাইল-ল্যাপটপ না থাকায় বিপাকে পড়েন। অনেকে ধারদেনা ও ঋণ করে এসব উপকরণ কিনেছেন।’

ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থী শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মঞ্জুর আহমেদ বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। করোনার কারণে সবকিছু বন্ধ থাকলেও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে আমরা হলে বসে পরীক্ষা দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘২৫ জুন থেকে আমাদের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হবে। এরপর আমরা আর ডিপিএডের কেউ না। অথচ আমাদের এক বছরের ভাতার টাকা এখনও দেয়া হয়নি। আমাদের আগের প্রশিক্ষণার্থীরা যদি এ টাকা পান তাহলে আমরা কেন পাব না?’

নবীগঞ্জ উপজেলার বাংলাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সাদিক মিয়া বলেন, ‘আমাদেরকে ভাতা থেকে বঞ্চিত করার চক্রান্ত চলছে। কিন্তু আমরা সেটা বুঝতে পেরেও কোনো ধরনের আন্দোলন করছি না। আমাদের প্রাপ্য ভাতাটুকু বুঝিয়ে দেয়া হোক। অন্যথায় বাধ্য হয়ে আন্দোলনের ডাক দিতে হবে।’

সদর উপজেলার গদাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক খন্দকার সোহেল আহমেদ বলেন, ‘অনলাইনে প্রশিক্ষণ নেয়া কতটা কষ্ট আর ব্যয়বহুল সেটা কেবল আমরাই জানি। একটি ক্লাস করতে এক গিগাবাইট ডাটা খরচ হয়েছে। প্রতিদিন চারটি করে ক্লাস করতে হয়েছে। এছাড়া মোবাইল কম্পিউটারের সামনে সারাদিন বসে থাকতে গিয়ে চোখের কতটা ক্ষতি হয়েছে সেটা কেবল আমরাই জানি। কিন্তু এরপরও যদি আমাদের ন্যায্য টাকাটা না পাই তাহলে কষ্টের কথা কাকে বলব?’

শিক্ষক রাহুল দাশ বলেন, ‘আমরা সবাই নতুন চাকরি পেয়েছি। আমাদের বেতন মাত্র সাড়ে ১৮ হাজার টাকা। এই বেতনে পরিবার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে ডিপিএড প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে আমাদের প্রচুর টাকা খরচ করতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মোবাইল ল্যাপটপ কিনতে হয়েছে। অনেকের গ্রামের ভালো নেটওয়ার্ক না থাকার কারণে শহরে বাসা ভাড়া করে প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। যে কারণে অনেক শিক্ষক এখনও ঋণগ্রস্থ।’

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) সুপারিনটেনডেন্ট রওশনারা খাতুন বলেন, ‘ডিপিএডের প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ চলার সময় একটা ভাতা পান। এ বছর মন্ত্রণালয় থেকে ভাতা দেয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে তারা আমার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি সম্পর্কে আমার কিছু করার নেই।

তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বলেছিলাম সরাসরি মন্ত্রণালয়ে অথবা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়ার জন্য। কারণ এ বিষয়ে আমার কোনো ক্ষমতা নেই।’

আরও পড়ুন:
রায় জালিয়াতদের খুঁজে বের করা জরুরি: হাইকোর্ট
বগুড়ার যুবলীগ নেতা আমিনুল রিমান্ডে
জামিন জালিয়াতি: যুবলীগ নেতাসহ আরও ১৬ জন শ্রীঘরে
জামিন জালিয়াতি: ২৪ ঘণ্টায়ও গ্রেপ্তার হননি যুবলীগ নেতা
জালিয়াতের ‘রাজা’ ফারুক কোথায়

শেয়ার করুন

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশের উপবৃত্তির অর্থ ছাড়

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশের উপবৃত্তির অর্থ ছাড়

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক নিউজবাংলাকে বলেন, নিয়মমাফিক ভাবেই এই অর্থ ছাড় করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

এ উপবৃত্তির আওতায় ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের কিস্তিতে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাবে ১ হাজার ২০০ টাকা। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাবে দেড় হাজার টাকা। নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাবে ১ হাজার ৮০০ টাকা। দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাবে ৩ হাজার ৯০০ টাকা। অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাবে ৩ হাজার ৬০০ টাকা।

সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় ষষ্ঠ থেকে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কিস্তি এবং ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জুলাই থেকে ডিসেম্বর কিস্তির টাকা ছাড় করা হয়েছে।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় এ অর্থ ছাড় করা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক নিউজবাংলাকে বলেন, নিয়মমাফিকভাবেই এই অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

জানা যায়, এ উপবৃত্তির আওতায় ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের কিস্তিতে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাবে ১ হাজার ২০০ টাকা। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাবে দেড় হাজার টাকা। নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাবে ১ হাজার ৮০০ টাকা। দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাবে ৩ হাজার ৯০০ টাকা। অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাবে ৩ হাজার ৬০০ টাকা।

২০২০ সালের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাবে ৩ হাজার ৯০০ টাকা। অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাবে ৩ হাজার ৪০০ টাকা।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের অ্যাকাউন্টে উপবৃত্তির অর্থ দেয়া হয়েছে। উপবৃত্তির অর্থ তোলার জন্য শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের আলাদা কোনো ফি দিতে হবে না। এ ক্ষেত্রে কেউ ফি দাবি করলে [email protected]এ মেইলে লিখিত অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
রায় জালিয়াতদের খুঁজে বের করা জরুরি: হাইকোর্ট
বগুড়ার যুবলীগ নেতা আমিনুল রিমান্ডে
জামিন জালিয়াতি: যুবলীগ নেতাসহ আরও ১৬ জন শ্রীঘরে
জামিন জালিয়াতি: ২৪ ঘণ্টায়ও গ্রেপ্তার হননি যুবলীগ নেতা
জালিয়াতের ‘রাজা’ ফারুক কোথায়

শেয়ার করুন

উপাচার্যের বাসার সামনে রাবির ‘অবৈধ’ নিয়োগপ্রাপ্তদের অবস্থান

উপাচার্যের বাসার সামনে রাবির ‘অবৈধ’ নিয়োগপ্রাপ্তদের অবস্থান

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলেন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক তারেক নূর ও প্রক্টর লিয়াকত আলী। ছবি: নিউজবাংলা

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনে সিন্ডিকেট হওয়ার কথা থাকলেও আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে সভা স্থগিত করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপরও তারা সারারাত জেগে সেখানেই অবস্থান করেন। ঘোষণা দেন, পদায়ন না করা পর্যন্ত তারা এখানেই অবস্থান করবেন।

চাকরিতে যোগ দেয়ার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে অবস্থান নিয়েছেন বিতর্কিত নিয়োগপ্রাপ্তরা। উপাচার্যের বাসভবনের সামনেই তারা রাত কাটান। বুধবার বেলা ১২টার সময়ও তাদের সেখানে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

সদ্য বিদায়ী উপাচার্য আবদুস সোবহানের মেয়াদের শেষ দিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩৭ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেন তিনি। সে দিনই নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন- ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য আবদুস সোবহানের নিয়োগ ও দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করে সত্যতা পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের নিয়োগ বন্ধ রাখার আদেশ দেয়। সে আদেশকেও তোয়াক্কা না করেই শেষ দিনে নিয়োগ দেন আবদুস সোবহান।

নিয়োগ পেলেও তাদের কাউকে যোগদান করতে দেয়া হয়নি। এরপর থেকেই বিভিন্ন সময় যোগদানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন, উপাচার্য বাসবভবন, প্রশাসন ভবনে তালাসহ নানা কর্মসূচি করছেন তারা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনে সিন্ডিকেট হওয়ার কথা ছিল। সে জন্য সেখানে অবস্থান নেন বিতর্কিত নিয়োগপ্রাপ্তরা।

আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে সভা স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে নিয়োগপ্রাপ্তরা সারারাত জেগে সেখানেই অবস্থান করেন। তারা ঘোষণা দেন, পদায়ন না করা পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থান করবেন।

এর আগে কর্মস্থলে পদায়নের দাবিতে গত শনিবার থেকে প্রশাসন ভবন ও উপচার্যের বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করে আসছিলেন তারা। ফলে শনিবার ফাইনান্স কমিটির সভা স্থগিত হয়ে যায়।

গত রোববার রাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের হস্তক্ষেপে তালা খুলে দেন। তবে সিন্ডিকেট ঠেকাতে নিয়োগ পাওয়া ৩০-৩৫ জন মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন।

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলেন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক তারেক নূর ও প্রক্টর লিয়াকত আলী। তবে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিতে অনড় থাকে।

পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সাংবাদিকদের জানান, নিয়োগপ্রাপ্তদের বাধার মুখে তিনি সিন্ডিকেট স্থগিত করেছেন।

ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘চাকরিপ্রাপ্তদের সঙ্গে সোমবার আমাদের একটি মিটিং হয়েছে। ওই মিটিং এ তারা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা সিন্ডিকেট সভাতে বাধা দেবে না, তবে এফসি করতে দিবে না।

‘তাদের আশ্বাসে আজকে সন্ধ্যা ৭টার পর সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়। কিন্তু সিন্ডিকেট করতে গেলে তারা বাধা দেয়। আর প্রক্টরসহ সিন্ডিকেট সদস্যদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিও হয়। তাই সিন্ডিকেট সভা স্থগিত করেছি।’

ভিসি আরও বলেন, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ত্রুতি আছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয় দেখছে। এ অবস্থায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছাড়া তাদের যোগদান করানোর ক্ষমতা আমার নেই।

নিয়োগ পাওয়া রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, গত ৬ মে আমাদেরকে সদ্য বিদায়ী উপাচার্য এম আবদুস সোবহান নিয়োগ দিয়ে গেছেন। এখনও আমাদেরকে কর্মস্থলে যোগদান করানো হয়নি। এ বিষয়ে একটা সমাধানের জন্য তখন থেকে আমরা দাবি জানিয়ে আসছি, আন্দোলন করছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের বিষয়ে চারভাগের একভাগ কাজও করিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।'

তিনি আরও বলেন, ‘সোমবার আমাদের সঙ্গে প্রশাসনের মিটিং হয়েছে। মিটিং এ আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছে যে আমাদের বিষয়ে শিগগির সমাধান হবে। কিন্তু এরপরেই প্রশাসন থেকে আমাদের পদায়নের বিরোধিতা করা হয়েছে।

‘আমরা জানতে পারি যে, এই সিন্ডিকেটে আমাদের নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে বাতিলের বিষয়ে কথা বলা হবে। তাই আমরা ভিসি ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
রায় জালিয়াতদের খুঁজে বের করা জরুরি: হাইকোর্ট
বগুড়ার যুবলীগ নেতা আমিনুল রিমান্ডে
জামিন জালিয়াতি: যুবলীগ নেতাসহ আরও ১৬ জন শ্রীঘরে
জামিন জালিয়াতি: ২৪ ঘণ্টায়ও গ্রেপ্তার হননি যুবলীগ নেতা
জালিয়াতের ‘রাজা’ ফারুক কোথায়

শেয়ার করুন

জবি শিক্ষার্থীদের জন্যে শিওরক্যাশ ও নগদের সুবিধা

জবি শিক্ষার্থীদের জন্যে শিওরক্যাশ ও নগদের সুবিধা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

নিউজবাংলাকে জবির নেটওয়ার্ক অ্যান্ড আইটি দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার আচার্য্য বলেন, ‘শিওরক্যাশের যেসব সমস্যা হচ্ছিলো সেগুলো মঙ্গলবারের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে। আর নগদের যেসব কাজ বাকি ছিল তারা শেষ করেছে। মঙ্গলবার আমাদের ম্যানুয়াল পাঠাচ্ছে। ম্যানুয়াল আমরা আজ ওয়েবসাইটে অ্যাড করে দিবো। বুধবার থেকেই শিক্ষার্থীরা নগদেও ফি দিতে পারবে।’  

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের বেতন, ভর্তি ও পরীক্ষার ফিসহ অন্যান্য ফি জমা দেয়ার সুবিধার্থে বুধবার থেকে চালু হবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা শিওরক্যাশ ও নগদ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউজবাংলার প্রতিবেদককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেটওয়ার্ক অ্যান্ড আইটি দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার আচার্য্য।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘শিওরক্যাশের যেসব সমস্যা হচ্ছিলো সেগুলো মঙ্গলবারের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে। আর নগদের যেসব কাজ বাকি ছিল তারা শেষ করেছে। মঙ্গলবার আমাদের ম্যানুয়াল পাঠাচ্ছে। ম্যানুয়াল আমরা আজ ওয়েবসাইটে অ্যাড করে দিবো। বুধবার থেকেই শিক্ষার্থীরা নগদেও ফি দিতে পারবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোনো শিক্ষার্থী যদি মেইল ([email protected]) করে আমাকে সমস্যার কথা জানায় সেটা আমি পজিটিভলি নিবো।’

সময় বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা মেইল করে সমস্যা জানালে হয়তো সেটার ওপর নির্ভর করে সময় বাড়ানো হতে পারে।

চলতি বছরের পহেলা এপ্রিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেতন, ভর্তি ও পরীক্ষার ফিসহ অন্যান্য ফি জমা দেয়ার সুবিধার্থে ডাক বিভাগের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নগদের সাথে চুক্তি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চুক্তির দেড়মাস পেরিয়ে গেলেও নগদের বিল পেমেন্ট অপশনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম যুক্ত না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি পরিশোধে ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থীরা।

এর আগে, ২০১৭ সালের শেষের দিকে ভর্তি ও পরীক্ষার ফিসহ সকল ফি পরিশোধের জন্য রূপালি ব্যাংকের অনলাইন ব্যাংকিং সেবা শিওরক্যাশের মাধ্যমে টাকা জমা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ঢাকার বাইরে অবস্থান করায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিওরক্যাশ এজেন্ট না পাওয়া যাওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই বেতন ও ফি পরিশোধে ভোগান্তিসহ নানা জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন।

আরও পড়ুন:
রায় জালিয়াতদের খুঁজে বের করা জরুরি: হাইকোর্ট
বগুড়ার যুবলীগ নেতা আমিনুল রিমান্ডে
জামিন জালিয়াতি: যুবলীগ নেতাসহ আরও ১৬ জন শ্রীঘরে
জামিন জালিয়াতি: ২৪ ঘণ্টায়ও গ্রেপ্তার হননি যুবলীগ নেতা
জালিয়াতের ‘রাজা’ ফারুক কোথায়

শেয়ার করুন

ফের স্থগিত বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা

ফের স্থগিত বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা

এর আগে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ১১ মে ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর সিদ্ধান্ত জানায় কতৃপক্ষ। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন ও ১ জুলায় প্রাথমিক বাছাই ও ১০ জুলাই চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল বুয়েটে।

করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে আবারও স্থগিত করে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা।

মঙ্গলবার ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সত্য প্রসাদ মজুমদার।

সত্য প্রসাদ মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লকডাউনের কারণে আমরা ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরীক্ষার নতুন তারিখ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরে জানানো হবে।’

এর আগে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ১১ মে ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর সিদ্ধান্ত জানায় কতৃপক্ষ। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন ও ১ জুলায় প্রাথমিক বাছাই ও ১০ জুলাই চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল বুয়েটে।

আরও পড়ুন:
রায় জালিয়াতদের খুঁজে বের করা জরুরি: হাইকোর্ট
বগুড়ার যুবলীগ নেতা আমিনুল রিমান্ডে
জামিন জালিয়াতি: যুবলীগ নেতাসহ আরও ১৬ জন শ্রীঘরে
জামিন জালিয়াতি: ২৪ ঘণ্টায়ও গ্রেপ্তার হননি যুবলীগ নেতা
জালিয়াতের ‘রাজা’ ফারুক কোথায়

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের ক্ষতি কমাতে ইউজিসির গাইডলাইন

শিক্ষার্থীদের ক্ষতি কমাতে ইউজিসির গাইডলাইন

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি ও উপাচার্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা ও বাস্তবতা অনুযায়ী একটি রিকভারি গাইডলাইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়।

করোনার সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে একটি ‘রিকভারি গাইডলাইন’ তৈরি করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। গাইডলাইনে শিক্ষাবর্ষের সময় কমানো, বিভিন্ন ধরনের ছুটি বাতিল, পুরো সিলেবাসে পাঠদান সম্পন্নসহ ছয়টি বিষয় যুক্ত করা হয়েছে।

ইউজিসি সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামানের স্বাক্ষরিত গাইডলাইনটি মঙ্গলবার সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে পাঠানো হয়েছে।

রিকভারি গাইডলাইনে বলা হয়েছে, প্রথমত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত/বিদ্যমান অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের সময়কাল উল্লেখযোগ্য ও গ্রহণযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে হবে।

দ্বিতীয়ত, সেমিস্টার/ টার্ম বা বার্ষিক পদ্ধতির ক্ষেত্রে ব্যবহারিক বিষয়সহ সকল বিষয়ের ক্লাস/ ক্লাস টেস্ট/ অ্যাসাইনমেন্ট/ কুইজ/ সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা প্রচলিত সময়ের চেয়ে কম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য বিভিন্ন ছুটি কমানো যেতে পারে বা ছুটি পরিহার করা যেতে পারে।

তৃতীয়ত, প্রতিটি ক্লাসের (তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক) সময় বর্তমানের মতোই থাকবে অর্থাৎ লেকচারের সময় কমানো যাবে না। তবে লেকচারের সংখ্যা কমানোর প্রয়োজন হলেও পুরো সিলেবাসের পাঠদান সম্পন্ন করতে হবে।

চতুর্থত, অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের সময় কমানোর স্বার্থে ক্লাস টেস্ট/ কুইজ/ মিডটার্ম পরীক্ষা/ অ্যাসাইনমেন্ট/ টার্ম পেপারের ন্যায় বিষয়গুলো নিয়ে নতুনভাবে চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে।

পঞ্চমত, চূড়ান্ত পরীক্ষার ক্ষেত্রে পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক ছুটি, দুটি বিষয়ের পরীক্ষার মাঝের গ্যাপ ও বর্ষ/সেমিস্টারের/টার্মের মাঝের গ্যাপ কমানো যেতে পারে।

ইউজিসি বলেছে, রিকভারি পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদন নিতে হবে। এরপর শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই অনুমোদিত অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার শিক্ষার্থীদের অবহিত করে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার বাস্তবায়নে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ মে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি ও উপাচার্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা ও বাস্তবতা অনুযায়ী একটি রিকভারি গাইডলাইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল সভায় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ যুক্ত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
রায় জালিয়াতদের খুঁজে বের করা জরুরি: হাইকোর্ট
বগুড়ার যুবলীগ নেতা আমিনুল রিমান্ডে
জামিন জালিয়াতি: যুবলীগ নেতাসহ আরও ১৬ জন শ্রীঘরে
জামিন জালিয়াতি: ২৪ ঘণ্টায়ও গ্রেপ্তার হননি যুবলীগ নেতা
জালিয়াতের ‘রাজা’ ফারুক কোথায়

শেয়ার করুন

অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ফরম পূরণ শুরু করছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ফরম পূরণ শুরু করছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী এবং পূর্ববর্তী তিনটি শিক্ষাবর্ষের অনিয়মিত শিক্ষার্থীরা গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা শুধু এফ গ্রেড পাওয়া কোর্সে ২০২০ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু করছে। ২৪ জুন শুরু হয়ে ফরম পূরণ চলবে আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত। মঙ্গলবার এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী এবং পূর্ববর্তী তিনটি শিক্ষাবর্ষের অনিয়মিত শিক্ষার্থীরা গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা শুধু এফ গ্রেড পাওয়া কোর্সে ২০২০ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

পরীক্ষায় অংশ নেয়ার শর্ত: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে রেজিস্ট্রেশন করা অনার্স কোর্সের যারা ২০১৮ সালের অনার্স প্রথম বর্ষ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তারা ২০২০ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নেবেন। তাদের ক্ষেত্রে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের সিলেবাস ও সংশোধিত রেগুলেশন কার্যকর হবে।

অনিয়মিত পরীক্ষার্থী: ২০১৫-১৬, ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে যেসব শিক্ষার্থী অনার্স প্রথম বর্ষে উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হননি অথবা পরীক্ষায় অংশ নেননি, সেসব শিক্ষার্থী অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে ২০২০ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন। আর অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে পূর্ববতী বছরের পাস করা কোর্সের তত্ত্বীয় পরীক্ষা দিতে হবে না।

এ ছাড়া যারা ২০১৯ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে প্রথমবারের মতো পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সি বা ডি গ্রেড পেয়েছেন শুধু তারাই ২০২০ সালের পরীক্ষায় উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত করার জন্য পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পাবেন এবং এফ গ্রেড পাওয়া শিক্ষার্থীদের সব কোর্সে পরীক্ষা দিতে হবে।

গ্রেড উন্নয়ন: ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের যেসব শিক্ষার্থী ২০১৯ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তৃতীয় বর্ষে প্রমোশন পেয়েছেন, সেসব শিক্ষার্থী শুধু সি বা ডি গ্রেড কোর্স বা কোর্সগুলোর গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

যেসব শিক্ষার্থী ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তৃতীয় বর্ষে প্রমোশন পেয়েছেন কিন্তু একাধিক কোর্সে ‘এফ গ্রেড’ রয়েছে, তারা ২০২০ সালের পরীক্ষার ‘এফ গ্রেড’ পাওয়া কোর্স বা কোর্সগুলোয় অংশ নিতে পারবেন।

সব এফ গ্রেড পাওয়া কোর্সে পরীক্ষা দিয়ে (রেজিস্ট্রেশনের মাসে) অবশ্যই ন্যূনতম ডি গ্রেডে উন্নীত হতে হবে। এফ গ্রেডকে উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত করলে পরবর্তী সময়ে গ্রেড উন্নয়নের কোনো সুযোগ থাকবে না। ফলাফল যেটাই হোক না কেন তারা ‘বি+’ গ্রেডের বেশি পাবেন না।

এ ছাড়া ২০১৯ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সি গ্রেড পাওয়া শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিত একটি কোর্সে ২০২০ সালের পরীক্ষায় অবশ্যই অংশ নিতে হবে। অন্যথায় তার কোর্স বাতিল হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন:
রায় জালিয়াতদের খুঁজে বের করা জরুরি: হাইকোর্ট
বগুড়ার যুবলীগ নেতা আমিনুল রিমান্ডে
জামিন জালিয়াতি: যুবলীগ নেতাসহ আরও ১৬ জন শ্রীঘরে
জামিন জালিয়াতি: ২৪ ঘণ্টায়ও গ্রেপ্তার হননি যুবলীগ নেতা
জালিয়াতের ‘রাজা’ ফারুক কোথায়

শেয়ার করুন