কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ২৯ অভিযোগের তদন্তে রংপুরে ইউজিসি

কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ২৯ অভিযোগের তদন্তে রংপুরে ইউজিসি

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের সংগঠন অধিকার সুরক্ষা পরিষদ শনিবার অধ্যাপক কলিমউল্লাহর ১১১ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগসহ ৭৫৮ পৃষ্ঠার ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করে। এর আগে তাদের করা ২৯ অভিযোগের তদন্তে ইউজিসির তিন সদস্যের কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যায়।

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ’র বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম-দুর্নীতির ২৯ অভিযোগের তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি দল।

তিন সদস্যের এই কমিটি রোববার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যায়।

তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট কক্ষে অভিযোগকারী সাত শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেন। সে সময় উপাচার্য কলিমুল্লাহ ক্যাম্পাসে ছিলেন না।

ইউজিসির সদস্য বিশ্বজিৎ চন্দের নেতৃত্বে এই তদন্ত কমিটিতে আছেন ইউজিসির আরেক সদস্য আবু তাহের ও ইউজিসির প্রশাসন বিভাগের সদস্য জামাল উদ্দিন।

কমিটির প্রধান বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, ‘আমরা সাত শিক্ষক ও কয়েকজন কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে এসেছি। আমরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের দালিলিক প্রমাণাদিসহ সাক্ষী এবং অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের সংগঠন অধিকার সুরক্ষা পরিষদ শনিবার অধ্যাপক কলিমউল্লাহর ১১১ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগসহ ৭৫৮ পৃষ্ঠার ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করেছে।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অভিযোগে আমরা কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে ধারাবাহিক অনুপস্থিতি, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা ধামাচাপা দেয়া, ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে জনবল নিয়োগ, শিক্ষক ও জনবল নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়ম, নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ভিসি হয়েও অনুপস্থিতি থাকা, নিরাপত্তাহীন ক্যাম্পাস, ইচ্ছেমতো পদোন্নতি, আইন লঙ্ঘন করে অ্যাকাডেমিক প্রশাসনিক পদ দখল ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আজ ইউজিসির তদন্ত কমিটি ওই অভিযোগগুলোর তদন্ত করতে এসেছেন। আমরা কমিটির কাছে অভিযোগ প্রমাণের কাগজপত্র নিয়ে কথা বলেছি।’

উপাচার্যের একান্ত সচিব আমিনুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভিসি স্যার ক্যাম্পাসে আসেননি। আমরা তদন্ত কমিটিকে সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতা করব।’

এর আগে চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি উপাচার্য কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগে তদন্তে আসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কমিটি।

ওই কমিটি অনিয়মের সত্যতা পান এবং উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি সুপারিশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

আরও পড়ুন:
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ
কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট: মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কর্মবিরতি: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, বেনাপোলে পণ্যজট

কর্মবিরতি: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, বেনাপোলে পণ্যজট

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহন না হওয়ায় দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। ছবি: নিউজবাংলা

১৫ দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান-ট্রাক-প্রাইম মুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে মঙ্গলবার থেকে চলছে কর্মবিরতি। অন্য জেলায় এর বড় কোনো প্রভাব না পড়লেও চট্টগ্রাম ও বেনাপোল বন্দরের কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।

পণ্যবাহী পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনে প্রায় থমকে গেছে চট্টগ্রাম ও বেনাপোল বন্দরের কার্যক্রম। তবে অন্য বন্দরগুলো স্বাভাবিক আছে।

মোটরযান মালিকদের ওপর আরোপিত অগ্রিম আয়কর (এআইটি) প্রত্যাহারসহ ১৫ দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান-ট্রাক-প্রাইম মুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হয় এ কর্মবিরতি।

চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পণ্য ও কনটেইনার বহনকারী যানবাহনের চালক ও শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বুধবার সকালেও মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

আমদানি করা পণ্য ডেলিভারি নিতে কোনো ট্রাক-কার্ভাড ভ্যান এবং লরি বন্দরে ঢুকতে পারেনি। তেমনি বন্দরে ঢোকা গাড়িগুলোও সকালে বন্দর থেকে বের হতে পারেনি। এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।

বন্দরের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘জাহাজে কন্টেইনার ওঠানামা সচল রয়েছে। তবে লুজ কার্গো বা খোলা পণ্য পরিবহন, কন্টেইনার থেকে ট্রাক বা ভ্যানে এবং বন্দরের কন্টেইনার অফ ডকে যাওয়া বন্ধ আছে।’

কন্টেইনার পরিবহনকারী গাড়িতে চট্টগ্রামের ১৮টি ডিপো থেকে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি ও খালি কনটেইনার আনা-নেয়া হয়, কর্মবিরতির কারণে যা এখন বন্ধ।

কর্মবিরতি: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, বেনাপোলে পণ্যজট

কন্টেইনার ডিপো সমিতির সচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, ‘প্রতিদিন রপ্তানি পণ্যবাহী দেড় হাজার কন্টেইনার বন্দরে পাঠানো হয়। কর্মবিরতির কারণে রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনার বন্দরে পাঠানো যাচ্ছে না। আবার আমদানি পণ্যবাহী যেসব কন্টেইনার ডিপোতে খুলে খালাস করা হয়, তাও বন্দর থেকে আনা যাচ্ছে না।’

কর্মবিরতির বিষয়ে আন্দোলনকারী সংগঠন প্রাইম মুভার ট্রেইলর মালিক সমিতির সদস্য হাসান মুরাদ বাদশা বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি। আমাদের কর্মবিরতি চলমান।’

বেনাপোল

যশোরের বেনাপোল বন্দর থেকেও সব ধরনের পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ আছে। এতে দেখা দিয়েছে পণ্যজট। তবে ভারত বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে।

বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ডভ্যান, প্রাইমমুভার পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বেনাপোলে এ কর্মবিরতি পালন করছে যশোর জেলা ট্রাক মালিক সমিতি।

বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এ কে এম আতিকুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দীন গাজী জানান, কর্মবিরতি সফল করতে বন্দর এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা হয়েছে।

তারা বলেন, বন্দরে মঙ্গলবার সকাল থেকে কোনো ট্রাক পণ্য লোড করেনি বা বেনাপোল ছেড়ে যায়নি। বুধবারও এ পরিস্থিতি আছে।

কর্মবিরতি: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, বেনাপোলে পণ্যজট

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, পণ্য লোড না হওয়ায় একদিকে রপ্তানির পণ্যবাহী ট্রাক জায়গা না থাকায় রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। অন্যদিকে আমদানির পণ্য ঢুকছে। সব মিলিয়ে যানজট দেখা দিয়েছে।

তিনি জানান, যানজটে সাধারণ মানুষের চলাচলেও ভোগান্তি হচ্ছে।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক মামুন তরফদার জানান, বন্দর থেকে পণ্য লোড না হওয়ার কারণে বন্দরে জায়গা সংকট দেখা ও পণ্যজটের সৃষ্টি হয়েছে। কর্মবিরতি শেষ হলে এ জট কেটে যাবে।

অন্য জেলাগুলোর কী অবস্থা

দুই দিন ধরে চুয়াডাঙ্গার ভেতর-বাইরে সব রুটে বন্ধ রয়েছে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানসহ পণ্যবাহী পরিবহন। এর প্রভাব পড়েছে কৃষিপণ্যের ওপর। জেলার বাইরে ফসল পাঠাতে পারছেন না কৃষকরা।

জেলা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি হাবিবুর রহমান লাভলু বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। তা এখনও হয়নি। তাই আমাদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে।’

কর্মবিরতিতে নেই লালমনিরহাটের বুড়িমারী, চ্যাংড়াবান্ধা ও সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দরের পরিবহন মালিক-চালকরা।

বুড়িমারী স্থলবন্দরের আমদানি রপ্তানিকারক সমিতির (সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট) সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাদ নিউজবাংলাকে জানান, বন্দর স্বাভাবিক।

লালমনিরহাট জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি পুলিন চন্দ্র রায় জানান, জেলায় কেন্দ্রের কর্মবিরতির প্রভাব পড়েনি।

কর্মবিরতি: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, বেনাপোলে পণ্যজট

সাতক্ষীরায়ও স্বাভাবিকভাবেই চলছে পণ্যবাহী পরিবহন। ভোমরা স্থলবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে কর্মবিরতি অংশ না নেয়ার কথা জানিয়েছেন পরিবহন নেতারা।

জেলা ভিআইপি ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহিন আলম জানান, কেন্দ্রীয় নেতাদের দাবির সঙ্গে একমত তারা। তাদের আন্দোলনেও পাশে আছেন। তবে কর্মবিরতি পালন করছেন না।

কর্মবিরতির ডাক দেয়া হলেও উত্তরের প্রবেশদ্বার বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কে ট্রাক চলাচল করতে দেখা যায় দুই দিনই।

সিরাজগঞ্জ কাভার্ডভ্যান-ট্রাক পণ্যপরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মুন্সি বলেন, ‘১৫ দফা দাবি না মানায় সারা দেশে আমাদের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। কর্মবিরতির কারণে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ আছে, তবে মহাসড়কে রীতিমতো ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল করছে। আমাদের এখানেও কিছু কিছু ট্রাক চলছে। এগুলোও বন্ধ করার আহ্বান করা হয়েছে।’

সাভারের বিভিন্ন পাইকারি বাজারের সামনে ট্রাকে মালামাল উঠানামা করতে দেখা যায় বুধবার সকালে। উত্তরাঞ্চল থেকে ট্রাকভর্তি পণ্য নিয়ে রাজধানীতে আসার কথা জানিয়েছেন অনেকেই।

ঢাকার প্রবেশপথের সড়কগুলোতে মঙ্গলবার রাতেও স্বাভাবিকভাবে পণ্যবাহী ট্রাক চলতে দেখা যায়।

কর্মবিরতি: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, বেনাপোলে পণ্যজট

পরিবহন মালিক সমিতির সাভারের আশুলিয়া শাখার সদস্য আমির আলী নিউজবাংলাকে বলেন, দক্ষিণবঙ্গের সড়কে পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল করতে গিয়ে যে ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, তা সাভার ও আশুলিয়ায় নেই। এ কারণে এখানে কর্মবিরতির প্রভাব পড়েনি।

কর্মবিরতিতে নেই রংপুর বিভাগের পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। আগামী ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর সারা দেশে ট্রাক, ট্যাংকলরি, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে কর্মবিরতিতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন রংপুরের নেতারা।

সংগঠনটির জেলা সভাপতি হাফিজার রহমান হাফিজ বলেন, ‘ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকায় যে কর্মবিরতি দেয়া হয়েছে, তা ঢাকার তেজগাঁওকেন্দ্রিক। আমাদের কাছে কোনো চিঠি নেই। কেউ কর্মবিরতি পালন করছেন না।’

সিলেট জেলায় কিছু ট্রাক চলাচল করতে দেখা গেলেও অন্য জেলা থেকে পণ্যবাহী পরিবহন প্রবেশ করেনি।

তবে সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো থেকে পাথর পরিবহন বন্ধ আছে মঙ্গলবার থেকে।

কর্মবিরতি: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, বেনাপোলে পণ্যজট

বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক, প্রাইম মুভার পণ্যপরিবহন মালিক সমিতির সিলেটের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক বলেন, স্বতস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। বিশেষত বন্দর এলাকা থেকে কোনো পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে না।

বরিশালে মঙ্গলবার দুপুরে কর্মবিরতি পালন করতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রহমতপুর বিমানবন্দর মোড়ে সমাবেশ করে জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন। এতে ঘণ্টাখানেক পণ্যবাহী পরিবহন বন্ধ থাকলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। বিভাগের সব জেলাতেই বুধবার পণ্যবাহী ট্রাক ও ছোট যান চলতে দেখা যায়।

রাজশাহী জেলায় মঙ্গলবারের মতো বুধবারও বন্ধ রাখা হয়েছে ট্রাক চলাচল। তবে ছোট ছোট যানে পণ্য পরিবহন চলছে।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন চট্টগ্রামের সিফায়াত উল্লাহ, বরিশালের তন্ময় তপু, সিলেটের দেবাশীষ দেবু, রাজশাহীর আহসান হাবিব অপু, রংপুরের রফিকুল ইসলাম, সাভারের ইমতিয়াজ উল ইসলাম, সাতক্ষীরার রফিকুল ইসলাম শাওন, লালমনিরহাটের শাহজাহান সাজু, সিরাজগঞ্জের গোলাম মোস্তফা রুবেল ও চুয়াডাঙ্গার জহির রায়হান সোহাগ।

আরও পড়ুন:
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ
কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট: মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

রাজারবাগ পির দিল্লুরের কীভাবে উত্থান

রাজারবাগ পির দিল্লুরের কীভাবে উত্থান

পির মো. দিল্লুর রহমান থাকেন রাজারবাগের এই দরবার শরিফে। ছবি: নিউজবাংলা

প্রকৌশলীর সন্তান দিল্লুর রহমান বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পত্তি দখলের জন্য ‘মামলাবাজ সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলেন ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে। এই সিন্ডিকেটের মামলা থেকে আপন ভাইও রেহাই পাননি। পির দিল্লুরের বিরুদ্ধে ধর্মীয় উগ্রপন্থায় মদদ দেয়ার অভিযোগও পুরোনো। 

রাজারবাগ দরবার শরিফের পির মো. দিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলে উচ্চ আদালতে গেছেন ভুক্তভোগীরা। এই পিরের বিরুদ্ধে অন্যের সম্পত্তি দখলে গায়েবি মামলা দিয়ে হেনস্তা করার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রাজারবাগ দরবার শরিফের সব সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে তাদের কোনো জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা তদন্ত করতে বলা হয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে।

প্রশ্ন উঠেছে, রাজধানীর বুকে প্রশাসনের অগোচরে কীভাবে এত ক্ষমতাধর হয়ে উঠলেন দিল্লুর রহমান? তিন দশক ধরে মুরিদ-ভক্তদের নিয়ে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরিফ নামের দরবার শরিফ কীভাবে এত প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে?

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকৌশলীর সন্তান দিল্লুর রহমান বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পত্তি দখলের জন্য ‘মামলাবাজ সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলেন ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে। এই সিন্ডিকেটের মামলা থেকে আপন ভাইও রেহাই পাননি। পির দিল্লুরের বিরুদ্ধে ধর্মীয় উগ্রপন্থায় মদদ দেয়ার অভিযোগও পুরোনো।

যেভাবে পির হলেন দিল্লুর রহমান

মো. দিল্লুর রহমান ১৯৮৬ সালে রাজারবাগে তার পৈত্রিক বাড়িতে ‘দরবার শরিফ’ প্রতিষ্ঠা করেন। তার বাবার নাম মো. মোখলেসুর রহমান।

পারিবারিক কয়েকটি সূত্র জানায়, দিল্লুর রহমানের দুই মেয়ে ও এক ছেলে। তরুণ বয়সে ইসলাম সম্পর্কে ভালো জ্ঞান, সেই সঙ্গে আরবি ও ফারসি ভাষায় দক্ষতার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অনুসারীদের মাঝে জনপ্রিয়তা পান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে তার ভক্ত-মুরিদের সংখ্যা। একপর্যায়ে তিনি ঢাকার বুকে বড় মাপের একজন পির হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

পিরের পরিবারের এক সদস্য পরিচয় গোপন রাখার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের পরিবারে তার (দিল্লুর রহমান) আগে কোনো পির নেই। তার বাবা ছিলেন একজন প্রকৌশলী ও ব্যবসায়ী। গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজারের প্রভাকরদীতে। নয় ভাইবোনের মধ্যে দিল্লুর রহমান তৃতীয়।’

তিনি বলেন, ‘দিল্লুরের বাবা মুক্তিযুদ্ধের আগেই রাজারবাগে বাড়ি করেন। সেখানেই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে থাকতেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় দিল্লুর রহমান ছিলেন উচ্চ মাধ্যমিক ছাত্র। পড়তেন লক্ষ্মীবাজারের তৎকালিন কায়েদ ই আজম কলেজে (বর্তমান সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ)। পরে এই কলেজ থেকেই তিনি ডিগ্রি পাস করেন।’

পরিবারের ওই সদস্য জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় এপ্রিল মাসে পিরের বাবা সপরিবারে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। সেখানে দিল্লুরের মেজ ভাই হাফিজুর রহমান হারুন ও চাচাত ভাইয়েরা যুদ্ধে যোগ দেন। কয়েক দিন পর একটি চিরকূট লিখে দিল্লুর রহমানও বাসা ছেড়ে চলে যান। চিরকূটে তিনি যুদ্ধে যাওয়ার কথা জানান। তবে একমাস পরেই বাড়ি ফিরে আসেন দিল্লুর। এরপর থেকেই তার চলাফেরায় পরিবর্তন দেখা যায়। তিনি ধর্মকর্মে মনোনিবেশ করেন।

মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী সময়ে ঢাকায় ফিরে কলেজে যেতে শুরু করেন দিল্লুর। সেই সঙ্গে ধর্মকর্মে বাড়তে থাকে মনোযোগ। শার্ট-প্যান্ট ছেড়ে পায়জামা-পাঞ্জাবি-টুপি পড়া শুরু করেন। সাধারণ পড়ালেখার পাশাপাশি ইসলামিক বই পড়া শুরু করেন তিনি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ডিগ্রি পড়ার সময় যাত্রাবাড়ীর পির আবুল খায়ের ওয়াজিউল্লাহর মুরিদ হন দিল্লুর রহমান। সেই সঙ্গে আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক রোকন উদ্দীনের কাছে তিনি আরবি ও ফারসি ভাষার তালিম নেন। পরে রোকন উদ্দীনের মেয়েকেই বিয়ে করেন দিল্লুর রহমান।

পির পরিবারের কয়েক সদস্যের দাবি, ইসলামি ডিগ্রি না থাকলেও অসংখ্য ধর্মীয় বই পড়ে ও আলেমদের কাছাকাছি থেকে ব্যাপক ইসলামিক জ্ঞান অর্জন করেন দিল্লুর রহমান। এজন্য অনেক সুপরিচিত আলেমও তরুণ দিল্লুরের সঙ্গে যুক্তিতর্কে পেরে উঠতেন না। খুব অল্প সময়ে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা তৈরি হয়। আর সেই জনপ্রিয়তাকে ভিত্তি করে ১৯৮৬ সালে ঢাকার পৈত্রিক বাড়িতে দরবার শরিফ স্থাপন করে তিনি পুরোদস্তুর পির বনে যান। বাড়তে থাকে তার ভক্ত-মুরিদের সংখ্যা।

পিরের এক আত্মীয় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইসলামজ্ঞানে তার দখলের কারণে একটা সময় পর্যন্ত তাকে নিয়ে আমরা খুব গর্ব করতাম। সম্মান দিয়ে পরিবারের সদস্যরাও তাকে হুজুর বলে সম্বোধন করত। তবে ১৯৯৮ সালে দিল্লুর রহমানের বাবা মারা যাবার পর তার কাছে ধর্মব্যবসায়ীরা ভিড়তে থাকে। তার বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। এরপর সে তার পৈত্রিক বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে নিজের ভাইদের বিরুদ্ধেই মামলা করে। সেই থেকে শুরু হয় তার মামলাবাজ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য।’

রাজারবাগ পির দিল্লুরের কীভাবে উত্থান
পির মো. দিল্লুর রহমানেরর বাড়ি

পিরের মামলায় ভাইয়েরাও জেলে

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা যায়, এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি পিরের মামলাবাজ সিন্ডিকেটের হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে পিরের আপন তিন ভাইও আছেন।

রাজারবাগের পৈত্রিক সম্পদ দখলের জন্য পির তার মুরিদদের দিয়ে তিন ভাই আনিসুর রহমান ফিরোজ, হাফিজুর রহমান হারুন ও জিল্লুর রহমান তরুণের বিরুদ্ধে মামলা করান। এসব মামলায় তারা জেলও খেটেছেন। এদের মধ্যে জিল্লুর রহমান তরুণের বিরুদ্ধে ৩০টি মামলা করেন পিরের মুরিদরা। অন্য ভাইয়েরা পরে আপসের মাধ্যমে দিল্লুরের রোষানল থেকে এখন মুক্ত হলেও সমঝোতা না করায় বাবার বাড়ি ছেড়ে ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে জিল্লুর রহমান তরুণকে।

তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন, মানব পাচার, মাদক, হত্যাসহ গুরুতর বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করেন দিল্লুরে মুরিদরা। এর মধ্যে ২৩টি মামলায় তরুণ খালাস পেলেও সাতটি এখনও বিচারাধীন।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে জিল্লুর রহমান তরুণ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার আপন ভাই আমার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে, এই লজ্জার কথা আমি কাউকে বলতে চাই না। আমি আমার মতো আছি, তার (দিল্লুর রহমান) সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের বংশে কোনো পির ছিল না। আমরা এক সময় তাকে নিয়ে খুব গর্ব করতাম। কিন্তু কিছু খারাপ মুরিদ আর স্ত্রীর প্ররোচনায় সে অধঃপতনে গেছে।’

ভাস্কর্য ভাংচুর ও উগ্রবাদে জড়ানোর অভিযোগ

রাজারবাগ পির দিল্লুর রহমানের প্রতিষ্ঠা করা ধর্মীয় সংগঠন আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত। ২০০০ সাল থেকে এই সংগঠনের বিরুদ্ধে উগ্রবাদি তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে।

জঙ্গিবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০০৯ সালে ১২টি ধর্মভিত্তিক সংগঠনকে কালো তালিকাভুক্ত করে সরকার। এগুলোর মধ্যে অন্যতম আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত। এছাড়া, পির দিল্লুর রহমানের নিজস্ব পত্রিকা দৈনিক আল ইহসান ও মাসিক পত্রিকা আল বাইয়্যিনাতে গণতন্ত্র, নির্বাচন, জাতীয় সংগীত, বৈশাখী উৎসব, খেলাধুলা ইত্যাদি বিষয়ে নেতিবাচক মতামত প্রকাশের অভিযোগ রয়েছে।

২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর আল বাইয়্যিনাতের অনুসারীরা মতিঝিলের বলাকা ভাস্কর্য ভাংচুর করেন। এ ঘটনায় পুলিশ আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাতের আট সশস্ত্র কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছিল। তারা জিজ্ঞাসাবাদে জানান, ভাস্কর্য ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিলেন দিল্লুর রহমান।

ওই ঘটনার কয়েক মাস পর আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাতের অনুসারীরা বিমানবন্দর গোলচত্বরে বাউলের ভাস্কর্যটিও ভেঙে ফেলেন। এছাড়া, ২০১৭ সালে হাইকোর্ট চত্বরে লেডি জাস্টিসের ভাস্কর্য স্থাপনের পরপরই আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত সেটি সরিয়ে ফেলতে উড়ো চিঠিতে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পিরের পরিবারের এক সদস্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসব ঘটনার পরিকল্পনা পিরের দরবার শরিফে বসেই হতো। মতিঝিলের বক (বলাকা ভাস্কর্য) ভাঙার মিটিংয়ের আলোচনার কিছুটা আমি নিজ কানে শুনেছিলাম। তার এসব অপকর্মের জন্য অন্য ভাইদেরও পুলিশ-গোয়েন্দাদের চাপে পড়তে হয়েছে। তবে তার ভাইয়েরা জড়িত ছিল না। এরপর বাধ্য হয়ে পিরের তিন ভাই মিলে সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, ঘটনার সব দায় আল বাইয়্যিনাতের।’

গ্রামের বাড়িতে যান না দিল্লুর রহমান

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার প্রভাকরদী গ্রামের মৃত মোখলেসুর রহমানের ছেলে দিল্লুর রহমান। এক সময়ের গ্রাম্য মাতবর মোখলেসুর রহমানকে গ্রামের সবাই এক নামে এখনও চেনেন। তবে তার ছেলে দিল্লুর রহমান সম্পর্কে তারা খুব একটা তথ্য দিতে পারেননি।

প্রভাকরদী গ্রামে দিল্লুরদের পৈত্রিক বাড়ির নাম ‘মিয়া বাড়ি’। সেখানে ‘মিয়া মসজিদ’ নামে একটি মসজিদও রয়েছে। ভিটায় রয়েছে তিন তলা একটি ভবন, তবে সেখানে কেউ থাকেন না।

রাজারবাগ পির দিল্লুরের কীভাবে উত্থান
গ্রামের বাড়িতে পির মো. দিল্লুর রহমানেরর নির্মিত মাদ্রাসা

গ্রামবাসী জানান, দিল্লুর রহমান গ্রামে না গেলেও তার অনুসারীরা সেখানে যাতায়াত করেন। প্রতিবেশী এক নারী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই বাড়িতে কেউ থাকে না। হুজুর (দিল্লুর রহমান) এখানে আসে না, কিন্তু তার লোকজন আসে। তারা এসে কয়েক ঘণ্টা থেকে আবার চলে যায়। মাঝে মধ্যে তার বড় ভাই আসত, তবে তিনিও এখন আসেন না। তাই বাড়িটা ফাঁকাই থাকে।’

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, কয়েক দশক আগে তারা হঠাৎ শুনতে পান, মোখলেস মাতবরের ছেলে দিল্লুর পির হয়ে গেছেন। এরপর সাদা কাপড় পরে বিশাল ভক্তদল নিয়ে তিনি প্রতি বছর একবার গ্রামে মাহফিল করতে আসতেন। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে সেই মাহফিলও বন্ধ।

পিরের অনুসারীদের কয়েক জন দাবি করেন, প্রভাকরদী গ্রামের পাশে সরাবদী গ্রামে দিল্লুর রহমানের একটি মাদ্রাসা আছে। তবে সেই ঠিকানা অনুযায়ী গিয়ে একটি টিনশেড ঘর দেখা গেছে।

ঘরের বাইরে মাটি কাটছিলেন একজন। নিজেকে মাদ্রাসার শিক্ষক পরিচয় দিয়ে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার জন্য মাদ্রাসা বন্ধ। এখানে বাংলা ও আরবি পড়ানো হয়। এটি পীর সাহেবের তৈরি কামিল মাদ্রাসা।’

মাদ্রাসায় কত জন শিক্ষার্থী শিক্ষক রয়েছে, এমন প্রশ্নের কোনো জবাব তিনি দিতে পারেননি।

গ্রামবাসীর দাবি, টিনশেড ঘরটি কোনো মাদ্রাসা নয়। আগে সেখানে এক ব্যক্তি পরিবার নিয়ে থাকতেন। তিনি চলে যাওয়ার পর এখন আরেকটি পরিবার আছে।

সরাবদী গ্রামে দিল্লুর রহমানের জমি দখলের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার ভয়ে এ বিষয়ে মুখ খুলতে চান না কেউ। গ্রামের এক জন জানান, ‘বিভিন্ন মানুষের খেতে খুঁটি গেঁথে রেখেছেন পিরের অনুসারীরা। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। এক মামলা শেষ না হতেই আরেক মামলার মুখে পড়তে হয়।

আরও পড়ুন:
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ
কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট: মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

প্রাথমিকের শিক্ষকদের ১১ দফা নির্দেশনা

প্রাথমিকের শিক্ষকদের ১১ দফা নির্দেশনা

নতুন নির্দেশনা ঠিকমতো বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা দেখভাল করতেও আলাদা নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সব বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশ পালন করতে বলা হয়েছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ উন্নয়নে কী করতে হবে সে বিষয়ে ১১টি নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার রাতে অধিদপ্তরের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন নির্দেশনা ঠিকমতো বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা দেখভাল করতেও আলাদা নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর। সব বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশ পালন করতে বলা হয়েছে।

যা যা করতে হবে

. নির্দেশনায় বলা হয়, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের তথ্য রেজিস্ট্রারে সংরক্ষণ করতে হবে। তাতে শিক্ষার্থীর নাম, শ্রেণি, রোল, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, কী কারণে অনুপস্থিত, গৃহীত পদক্ষেপসহ অন্যান্য বিষয় উল্লেখ থাকবে।

. অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে শিক্ষকরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করবেন। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনে হোম ভিজিট করতে হবে।

. প্রতিটি বিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির (শ্রেণিভিত্তিক) হার নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। উপস্থিতি কম হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

. কোভিড-১৯-এর প্রভাবে শিক্ষার ঘাটতি পূরণে শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থীদের পারঙ্গমতা যাচাই করে বিভিন্ন দলে ভাগ করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড নির্দেশিত পাঠ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

. অনলাইনে ক্লাস চলবে। সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে সম্প্রচারিত ‘ঘরে বসে শিখি’তে শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে।

. বিদ্যালয়ের বিষয় শিক্ষক ও শ্রেণি শিক্ষকরা শ্রেণিভিত্তিক প্রতিটি শিশুর শিখন যোগ্যতার প্রোফাইল (শিখন ঘাটতি পরিস্থিতি) প্রণয়ন করে এ সম্পর্কে তাদের উন্নতির তথ্য সংরক্ষণ করবেন।

. শিক্ষার্থীর ধারাবাহিক মূল্যায়নে ক্লাসের কাজ, বাড়ির কাজ যাচাই করে তাদের ঘাটতির বিষয়গুলো পূরণ করতে শিক্ষকরা সমন্বিত উদ্যোগ নেবেন।

. প্রধান শিক্ষক, শ্রেণি শিক্ষক, বিষয় শিক্ষক ও কর্মচারীদের শিক্ষার্থীদের মনো-সামাজিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে সহনশীল ও মানবিক আচরণ করতে হবে।

. প্রতিদিন ২টি করে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। রুটিন অনুযায়ী যে শিক্ষকের ক্লাস থাকবে না তারা বিদ্যালয়ে বসে গুগল মিট-এ (যেখানে সম্ভব) অন্য ৩টি শ্রেণির ক্লাস নেবেন।

. মাঠপর্যায়ের প্রত্যেক মেন্টরকে পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ থেকে পাঠানো মেন্টরিং গাইডলাইন (মেন্টরদের দায়িত্ব ও কর্তব্যসংক্রান্ত) ও মেন্টরিং টুলস অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

. সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেয়া হয় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। পরের দিন মেডিক্যাল কলেজ, ডেন্টাল ও নার্সিংসংক্রান্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ
কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট: মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

সবার সরকার না হলে আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ: ইমরান

সবার সরকার না হলে আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ: ইমরান

কাবুলের রাস্তায় তালেবান যোদ্ধাদের প্রহরা। ফাইল ছবি

ইমরান খান বলেন, ‘তারা (তালেবান) যদি সব গোত্রকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত না করে তাহলে আগে বা পরে তাদেরকে গৃহযুদ্ধে পড়তে হবে। যার অর্থ, অস্থিতিশীল, বিশৃঙ্খল আফগানিস্তান সন্ত্রাসীদের জন্য উত্তম জায়গায় পরিণত হবে। আর এটা দুশ্চিন্তার বিষয়।’

আফগানিস্তানে তালেবান সরকারে সবার প্রতিনিধিত্ব না থাকলে দেশটি গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

বিবিসির সাংবাদিক জন সিম্পসনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইমরান খান বলেন, ‘তারা (তালেবান) যদি সব গোত্রকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত না করে তাহলে আগে বা পরে তাদেরকে গৃহযুদ্ধে পড়তে হবে। যার অর্থ, অস্থিতিশীল, বিশৃঙ্খল আফগানিস্তান সন্ত্রাসীদের জন্য উত্তম জায়গায় পরিণত হবে। আর এটাই দুশ্চিন্তার বিষয়।’

একের পর এক প্রদেশ জয়ের পর গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল দখলের মধ্য দিয়ে পুরো আফগানিস্তান দখলের ষোলকলা পূর্ণ করে তালেবান।

দুই দশক পর আবার আফগানিস্তান দখল করে তালেবান জানায়, তারা ২০ বছর আগের অবস্থানে নেই। সহনশীলতার কথা বলেছিল কট্টর ইসলামি গোষ্ঠীটি। শত্রুদের সবাইকে ক্ষমা করে দেয়ার কথা জানায় তারা। সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের আশ্বাস দেয়। সরকারে নারী প্রতিনিধিত্ব রাখারও ইঙ্গিত দেয়।

তালেবানের এসব আশ্বাসের বাস্তবের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে তালেবান যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করেছে, সেখানে বেশির ভাগ সদস্যই পশতু জাতিগোষ্ঠীর; মন্ত্রিসভায় নেই কোনো নারী সদস্য। এমনকি নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও মানা করে দিয়েছে তারা।

সবার অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠন করতে এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে তালেবান নেতৃত্বের প্রতি ফের আহ্বান জানান ইমরান খান। তিনি এটাও বলেছেন যে, পাকিস্তানের নিরাপত্তার হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে এমন কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্য আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে দেয়া উচিত হবে না।

ইমরান খান জানান, যেসব শর্ত রাখা হয়েছে তা পূরণ করতে পারলেই কেবল তালেবান নেতৃত্বাধীন আফগান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেবে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের দেয়া শর্ত তালেবান পূরণ করতে পেরেছে কি না, এমন প্রশ্নে ইমরান খান জানান, এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করাটা খুব দ্রুত হয়ে যাবে। তালেবানকে আরও সময় দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান পাকিস্তানের সরকার প্রধানের।

তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়া বা না দেয়ার বিষয়টি প্রতিবেশী দেশগুলোকে নিয়ে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানান ইমরান খান।

তালেবান যে আফগানিস্তানের নারীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে মানা করেছে সে বিষয়টিও ওঠে আসে বিবিসিকে দেয়া ইমরান খানের সাক্ষাৎকারে। তিনি বলেন, শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ করতে না দেয়া ইসলামবিরোধী ধারণা।

গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের মাধ্যমিক স্কুলগুলো খুলে দেয়া হয়। তবে ক্লাসে রাখা হচ্ছে না কোনো মেয়ে শিক্ষার্থী। কেবল ছেলে শিক্ষার্থী এবং পুরুষ শিক্ষকদের স্কুলে আসতে অনুমতি দেয়া হয়েছে।

অবশ্য ইমরান খানের বিশ্বাস আফগান মেয়ে শিক্ষার্থীরা দ্রুতই স্কুলে ফিরবে এবং নারীরা তাদের অধিকার ফিরে পাবে।

তিনি বলেন, ‘তারা (তালেবান) ক্ষমতায় আসার পর যেসব বিবৃতি দিয়েছে তা খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। আমি মনে করি, তারা নারী শিক্ষার্থীদেরও স্কুলে যেতে অনুমতি দেবে। নারীদের শিক্ষিত করার দরকার নেই, এই ধারণা ইসলামসম্মত নয়। এমন ধারণার সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই।’

আরও পড়ুন:
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ
কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট: মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

প্রাইভেট কার-ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ২

প্রাইভেট কার-ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ২

এসআই বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার বৈলর কালির বাজার এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। এতে ভ্যানের যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। আর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান ভ্যানচালক সৈয়দ আলী।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রাইভেট কারের সঙ্গে সংঘর্ষে ভ্যানের চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার বৈলর কালির বাজার এলাকায় মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ভ্যানচালক ৪৮ বছর বয়সী সৈয়দ আলীর বাড়ি উপজেলার কাঠাল ইউনিয়নের সাংরাইল গ্রামে। আরেকজনের পরিচয় এখনও জানাতে পারেনি পুলিশ।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল হোসেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, সৈয়দ আলী ভ্যান নিয়ে মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন তার ভ্যানে এক যাত্রী ছিলেন। পথে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার বৈলর কালির বাজার এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। এতে ভ্যানের যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ সময় স্থানীয়রা গুরুতর আহত ভ্যানচালক সৈয়দ আলীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তিনিও মারা যান।

এসআই বিল্লাল হোসেন আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে নিহত সৈয়দ আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, এর আগেই ঘটনাস্থল থেকে নিহত আরেকজনের মরদেহ নিয়ে গেছে পরিবার। তার বাড়ি আশপাশের ইউনিয়নে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

ত্রিশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন চন্দ্র দে বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে প্রাইভেট কারটি জব্দ করা গেলেও চালক পালিয়েছেন। নিহতের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

আরও পড়ুন:
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ
কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট: মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

ঘর থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার

ঘর থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি সাব্বিরুল ইসলাম জানান, পারিবারিক কলহের জেরে প্রথমে ছেলেকে হত্যার পর আকলিমা আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার থানাপাড়া পুরাতন বাঁধ এলাকার নিজ বাড়ি থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার সকালে ঘরের মধ্যে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত মা ও বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃতরা হলেন, ৩৫ বছর বয়সী আকলিমা খাতুন ও তার ২ বছর বয়সী ছেলে জিম। আকলিমা ওই এলাকার মো. রতনের স্ত্রী। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল ইসলাম জানান, বুধবার সকালে রতনের দেয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আকলিমা ও জিমের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে প্রথমে ছেলেকে হত্যার পর আকলিমা আত্মহত্যা করেছেন বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ
কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট: মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

সাত কলেজে ভর্তি পরীক্ষা: প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু

সাত কলেজে ভর্তি পরীক্ষা: প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু

বুধবার সকাল থেকে ছাড়া হয়েছে প্রবেশপত্র। আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা ঢাবির ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র উত্তোলন করতে পারবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষ ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র উত্তোলন শুরু হয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে ছাড়া হয় প্রবেশপত্র। আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা ঢাবির ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট https://bit.ly/3lqzGPo থেকে প্রবেশপত্র উত্তোলন করতে পারবেন।

কবে পরীক্ষা

আগামী ৩০ অক্টোবর কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হবে সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষা। এরপর ৫ নভেম্বর বাণিজ্য ইউনিট ও ৬ নভেম্বর বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

যেভাবে মূল্যায়ন হবে

মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে প্রার্থীদের অর্জিত মেধা স্কোরের ক্রমানুসারে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। এ জন্য মাধ্যমিক/ও লেভেল বা সমমানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত/হিসাবকৃত জিপিএকে ২ দিয়ে গুণ; উচ্চ মাধ্যমিক/এ লেভেল বা সমমানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত/হিসাবকৃত জিপিএকে ২ দিয়ে গুণ করে এই দুইয়ের যোগফল ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ তে প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে যোগ দিয়ে ১২০ নম্বরের মধ্যে মেধাস্কোর নির্ণয় করা হবে। সে অনুযায়ী তৈরি করা হবে মেধাতালিকা।

মেধাস্কোরের ভিত্তিতে নির্ণয় করা মেধাক্রম অনুযায়ী উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মেধাতালিকা ও ফলাফল ভর্তি পরীক্ষার পর সাত দিনের মধ্যে ঢাবির ভর্তি ওয়েবসাইটে (http://collegeadmission.eis.du.ac.bd) প্রকাশ করা হবে। প্রার্থী এসএমএসের মাধ্যমেও ফলাফল জানতে পারবেন।

মেধাতালিকা প্রকাশের পর নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে অনলাইনে কলেজ ও বিষয় পছন্দকরণ ফরম পূরণ করতে হবে। পরে শিক্ষার্থীর পছন্দ এবং ভর্তি পরীক্ষার মেধাক্রম ও ভর্তির যোগ্যতা অনুসারে বিভাগ বণ্টনের তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (https://collegeadmission.eis.du.ac.bd) প্রকাশ করা হবে।

চূড়ান্তভাবে ভর্তির জন্য মনোনীত প্রার্থীর ক্ষেত্রে এসএসসি এবং এইচএসসির মূল নম্বরপত্র সংশ্লিষ্ট কলেজে জমা রাখা হবে।

সাত কলেজ হলো: ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজ।

আরও পড়ুন:
ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ
কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট: মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন