ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’

ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাচ্ছেন শিক্ষকদের একাংশ। ছবি: নিউজবাংলা

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমরা লজ্জিত। আমরা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার শ্বেতপত্র প্রকাশ করছি। এতে ১১১টি দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে।’

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর ১১১ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগসহ ৭৫৮ পৃষ্ঠার ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ।

‘অধিকার সুরক্ষা পরিষদ’ নামের সংগঠনের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় শনিবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে এই শ্বেতপত্র প্রকাশ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মতিউর রহমান।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমরা লজ্জিত। আমরা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার শ্বেতপত্র প্রকাশ করছি। এতে ১১১টি দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে।’

ড. মতিউর জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে কলিমউল্লাহ ২০১৭ সালের ১৪ জুন যোগ দেন। এরপর থেকেই ব্যাপক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, জালিয়াতিসহ নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা চালাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি ১৮ জন ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে রেখে সময়ের আগেই তড়িঘড়ি করে দুর্নীতির অন্যতম সহযোগী ও জাতীয় পতাকার অবমাননার এজাহারভুক্ত আসামি আমিনুর রহমানকে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে তিনি (কলিমউল্লাহ) পদোন্নতি দিয়েছেন। কারণ, তিনি উপাচার্যের একান্ত সচিব।’

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ ও দক্ষ অধ্যাপক থাকার পরেও ড. নাজমুল হককে একই সঙ্গে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, জনসংযোগ প্রশাসক, বহিরাঙ্গন কার্যক্রম পরিচালক এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল-এর পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

ড. মতিউর দাবি করেন, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেলে আগের উপাচার্যের সই জাল করে আগের তারিখে নিয়োগ দেখিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন উপাচার্য কলিমুল্লাহ।

ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালের উপ-উপাচার্য ড. আবুল কাশেম মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং জানিপপের সদস্য ড. সাবের হোসেন চৌধুরী, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ড. শুচিতা শরমিন এবং উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ তানভীর আবির প্রশিক্ষণ ও মিটিংয়ের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

‘সদ্য নিযুক্ত ট্রেজারার প্রফেসর ড. হাসিবুর রশিদকে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন এবং ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান করা হয়েছে। অথচ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৯ এর ধারা ১৩ অনুযায়ী ট্রেজারার বিশ্ববিদ্যালয়ের অবৈতনিক আর্থিক কর্মকর্তা মাত্র। তিনি অ্যাকাডেমিক পদ গ্রহণ করতে পারেন না।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ এবং উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে আছেন উপাচার্য কলিমউল্লাহ ও তার মা। দুইজন মিলেই শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান উপাচার্য নিজেই, ওই অনুষদের ডিন পদেও রয়েছেন উপাচার্য। উপাচার্য হিসেবে তিনি নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি আবার অনুষদের ডিন হিসেবে তিনি নিয়োগ বোর্ডের সদস্য, বিভাগীয় প্রধান হিসেবে তিনিই সদস্য। অপরদিকে তার মা বিষয় বিশেষজ্ঞ সদস্য।’

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ৩৮তম প্লানিং কমিটির সভায় প্রভাষক পদে ২০১৯ সালের ৩ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির অনুকূলে প্রার্থিতা বাছাই করা হয়। বাছাই রেজল্যুশনে ড. কলিমউল্লাহ ডিন হিসেবে একটি এবং বিভাগীয় প্রধান হিসেবে আরেকটি স্বাক্ষর করেন।

২০১৯ সালের ৫ নভেম্বর এর বিজ্ঞপ্তি অনুসারে ওই বিভাগে প্রভাষক (অস্থায়ী) নিয়োগের জন্যও প্ল্যানিং কমিটির রেজল্যুশন ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ একইভাবে তিনটি সইয়ের মধ্যে একাই দুটি স্বাক্ষর করেন।

ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম মজুমদারকে (বিইউপির বর্তমান উপ-উপাচার্য) অন্তত ১০টি নিয়োগ বোডের্র সদস্য করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিষয় সংশ্লিষ্টতা দেখা হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. শুচিতা শারমিনকে করা হয়েছে চারটি বিভাগের নিয়োগ বোর্ডের সদস্য।

উপাচার্যের একান্ত সচিব (পিএস) আমিনুর রহমানের ভায়রা ভাই একেএম মাহমুদুল হককে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগও তোলা হয় সংবাদ সম্মেলনে। এতে বলা হয়, ‘নিয়োগের এক বছর পার হতে না হতেই তাকে (মাহমুদুল হক) সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পুনর্নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দুইজন সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের বিপরীতে দুইজনের লিখিত পরীক্ষা নিয়ে একজনকে প্রথম এবং আরেকজনকে দ্বিতীয় করা হয় এবং আমিনুর রহমানের ভায়রা ভাইসহ দুজনকে নিয়োগ দেয়া হয়।’

এ ছাড়া, মার্কেটিং বিভাগে সহকারী অধ্যাপক নিয়োগ বোর্ডে একজন প্রার্থীর উপস্থিতিতে একজনকেই নিয়োগ দেয়া হয়। অর্থনীতি বিভাগে নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে পছন্দের শিক্ষককে পদোন্নতি দিতে উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ নিজেই প্ল্যানিং কমিটির সদস্য হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সিন্ডিকেট সভায় সেকশন অফিসার (গ্রেড-১), রিসার্চ অফিসারসহ বিজ্ঞাপ্তিতে সব কটি পদে অনুষ্ঠিত নিয়োগ বোর্ড বাতিল করলেও অতিগোপনে পরে রিসার্চ অফিসার পদে একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর পদে বিজ্ঞপ্তির শর্তে প্রার্থীর বয়স ৩০ বছর রাখা হলেও ৩৮ বছর বয়সী সোহেল রানাকে নিয়োগ দেয়া হয়।

শ্বেতপত্রে আরও অভিযোগ করা হয়, উপাচার্য দপ্তরে সেকশন অফিসার (গ্রেড-২) হিসেবে সুমাইয়া খানমকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তির তিনটি শর্ত লঙ্ঘন করে। বিজ্ঞপ্তির চারটি শর্ত ভঙ্গ করে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেলের অ্যাকাউন্টস অফিসার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ এক শিক্ষকের ছোট ভাই নুরুজ্জামানকে।

ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’

ড. মতিউর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘উপাচার্যের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়ার জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত একেক সময় একেক রকমের করা হয়ে থাকে। পঞ্চম গ্রেডভুক্ত উপ-পরিচালক (অর্থ ও হিসাব), উপ-রেজিস্ট্রার এবং উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির শর্তাবলিতে বয়স ৪০ বছর চাওয়া হলেও একই গ্রেডভুক্ত উপ-প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগের জন্য বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ৫৮ বছর। এই উপ-প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে।

‘জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে এবং একজন শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের আরেকজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ভাইভা বোর্ডে উপাচার্য এবং তার জানিপপের সদস্য শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের শিক্ষক ড. সাবের হোসেন চৌধুরী নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে পছন্দের দুইজনকে নিয়োগ দিয়েছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, উপাচার্য তার ব্যক্তিগত সহকারীর (ভর্তি জালিয়াতির অপরাধে সিন্ডিকেটে সাজাপ্রাপ্ত) চার আত্মীয় মোছা. নুর নাহার বেগমকে (স্ত্রী) সেমিনার সহকারী পদে, মামাতো ভাই মো. গোলাপ মিয়া ও বন্ধুর ছোট ভাই হযরত আলীকে এমএলএসএস পদে এবং ফুফাতো ভাই কাওসার হোসেনকে সেমিনার সহকারী পদে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছেন।

এ ছাড়া, উপাচার্য আইন লঙ্ঘন করে পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) পদে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের একজন অধ্যাপককে। পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক পদেও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকতা মো. মনোয়ারুল ইসলামকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আইন লঙ্ঘন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রারসহ এমন উচ্চতর চারটি পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়নীতি অনুসরণ না করে অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়েছে। ২০১৮ সালে যে প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা, তা এখনও ৩৫ শতাংশ কাজের মধ্যেই রয়েছে। এই প্রকল্পে উপাচার্যসহ কয়েকজন কর্মকর্তার দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে ইউজিসির তদন্ত কমিটি।

দুর্নীতির উদাহরণ দিয়ে শ্বেতপত্রে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবহন পুলের সঙ্গে সংযোগ সড়ক নামে ছোট একটি ইট বিছানো রাস্তা নির্মাণ দেখিয়ে অন্তত ৫০ লাখ টাকার দুর্নীতি হয়েছে। ইউজিসির বরাদ্দ করা ৩৫ লাখ টাকার কাজে ৮৫ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, উপাচার্য ক্যাম্পাসে না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে আপ্যায়ন ব্যয় দেখানো হয়েছে অন্তত ২১ লাখ টাকা। ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরেই আপ্যায়ন বাবদ ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ছয় লাখ টাকা। ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর চালের কেজি ধরা হয়েছে ২৯০ টাকা করে। এর আগে বা পরে সব ভাউচারে প্রতি কেজি চালের দাম দেখানো হয়েছে ১১০ টাকা।

ভিসি কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ উপাচার্য হিসেবে যোগ দেয়ার পর থেকে প্রায় তিন বছর পর্যন্ত বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও পরিচালকসহ একাই ১৬টি প্রশাসনিক পদে থেকে নানা ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম করেছেন। আইন লঙ্ঘন করে ছয়টি অনুষদের মধ্যে চারটি অনুষদের ডিন দায়িত্ব নিয়েছিলেন। সমাজবিজ্ঞান বিভাগে বিভাগীয় প্রধান পদ দখল করে অন্তত ১০ লাখ টাকার কোনো হিসাব দিচ্ছেন না উপাচার্য।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ‘ড. ওয়াজেদ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধীনে এমফিল এবং পিএইচডি কোর্সের অর্ধশতাধিক গবেষকের সুপারভাইজার উপাচার্য ড. কলিমউল্লাহ নিজেই। তিনি একাই একইসঙ্গে বিভিন্ন বিভাগের ২৬টি কোর্সে পাঠদানের দায়িত্বও নিয়েছিলেন। তিনি এসব কোর্স নেয়ার নামে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ উপার্জন করেছেন। খাতা মূল্যায়ন করেন তার পিএ আবুল কালাম আজাদ। বিভিন্ন বিভাগের ২৬টি কোর্স নিলেও কোনো কোনো কোর্সে একটি ক্লাস নিয়ে কোর্স শেষ করেছেন।’

শ্বেতপত্রে বলা হয়, ‘উপাচার্য আইন লঙ্ঘন করে ইউজিসির অনুমোদন ছাড়াই ঢাকায় ২০১৭ সাল থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি লিয়াজোঁ অফিস চালু করেন। জরুরি কার্যাদি সম্পন্ন করার নামে স্থাপিত ওই লিয়াজোঁ অফিস এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল অফিসে পরিণত হয়েছে।

‘২০১৭ সালের ১৪ জুন উপাচার্য হিসেবে যোগ দেয়ার পর থেকে চলচি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ১৩৫২ দিনের মধ্যে ১১১৫ দিনই তিনি ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থেকেছেন। অর্থাৎ উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২৩৭ দিন।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. গাজি মাজহারুল আনোয়ার, ড. তুহিন ওয়াদুদ, সহযোগী অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম, মাহমদুল হাসান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ ফিরোজুল ইসলাম প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ
কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট: মন্ত্রণালয়
ভিসি কলিমউল্লাহর অনিয়মের প্রমাণ ইউজিসির তদন্তে
ভিসি কলিমুল্লাহকে ক্যাম্পাসে ‘আসতে হবে’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চার খুনের নেপথ্যে গ্রামে ‘প্রভাব বিস্তার, চাঁদা’

চার খুনের নেপথ্যে গ্রামে ‘প্রভাব বিস্তার, চাঁদা’

মাগুরায় ‘রাজনৈতিক প্রভাবকে’ কেন্দ্র করে হতাহতদের নেয়া হয় সদর হাসপাতালে। ছবি: নিউজবাংলা

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান জানান, জগদল ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ায় বিবাদমান দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি ৩ নম্বর ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলামের অপরটি গ্রাম্য মাতবর সবুর মোল্লা ও তার দুই ভাইয়ের। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে পাল্টাপাল্টি প্রার্থী দেয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে শুক্রবার বিকেলে সংঘর্ষ হয় বলে তাদের ধারণা।

মাগুরা সদরের জগদল ইউনিয়নে সংঘর্ষে চার খুনের কারণ হিসেবে পুলিশ ও স্থানীয়দের কথায় উঠে এসেছে গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদা দাবি।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিবাদমান দুপক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। আর নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কথায় উঠে এসেছে নির্বাচনের খরচ যোগাতে চাঁদা দাবির তথ্য। দোষ প্রতিপক্ষের উপর চাপাতে নিজ পক্ষের লোকজনকে হত্যার অভিযোগও উঠেছে।

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান জানান, ওই গ্রামে বিবাদমান দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি ৩ নম্বর ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলামের অপরটি গ্রাম্য মাতবর সবুর মোল্লা ও তার দুই ভাইয়ের।

জগদল ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নিবার্চনে ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নজরুল ফের প্রার্থী হয়েছেন। এই ওয়ার্ডে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছেন সৈয়দ হাসান নামে একজন। নজরুলের বিরোধী পক্ষ হওয়ায় হাসানকে সমর্থন দেয় সবুর মোল্লা ও তার পক্ষ। এ নিয়ে নজরুল ও সবুর মোল্লার পক্ষে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়।

সেই বিরোধের জের ধরেই এ নজরুল ও সবুরের পক্ষের মধ্যে শুক্রবার বিকেলে সংঘর্ষ হয় বলে তাদের ধারণা। এতে দুই ভাই সবুর মোল্লা ও কবির মোল্লা, তাদের চাচাত ভাই রহমান মোল্লা এবং মো. ইমরান নামে একজন নিহত হন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, ওই ঘটনার পর গ্রামের সবাইকে পুলিশের নজরদারিতে আনা হয়েছে। নিহতের পরিবার থেকে এখনও কেউ মামলা করেনি। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে মামলা না হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

নিহত তিন ভাইয়ের পরিবারের সদস্যদের কথায়ও উঠে এসেছে আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি। এ ছাড়া সবুর মোল্লার স্বজনরা জানিয়েছেন, নির্বাচনের জন্য চাওয়া চাঁদা না দেয়ায় নজরুলের পক্ষ তাদের উপর হামলা চালায়।

আর নিহত ইমরানের পরিবার জানিয়েছে, ইমরান নিজের পক্ষের হওয়ার পরও নজরুল তাকে হত্যা করে দোষ প্রতিপক্ষের উপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন বলে ধারণা তাদের।

শনিবার জগদলের দক্ষিণপাড়ায় নিহত সবুরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শতাধিক মানুষ স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।

চার খুনের নেপথ্যে গ্রামে ‘প্রভাব বিস্তার, চাঁদা’
মাগুরায় সংঘর্ষে নিহত সবুরের পরিবারে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা ও শোকের ছায়া

কবির মোল্লার মেয়ে চাদনি বলেন, ‘বাবার মৃত্যুতে আমরা দিশেহারা হয়ে গেছি। আমরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমার বাবা আর এই বাড়িতে নেই।’

ঘটনার দিনের বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন বাবা পাশের বাড়িতে একটা দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরেন। এরপর আমরা সেখানে খেতে যাই। তখন বাড়ির পাশে রাস্তার উপরে বাবাকে খুব চিন্তিত মনে হয়। হঠাৎ শুনলাম আমাদের বাড়ির কাইকে সামনের হাকিমের মোড়ে কারা যেন মারধর করছে।

‘তখন বাবার ফোনে একটা কল আসে। বাবা সেই ফোন পেয়ে চলে যায়। এরপর আমার বাবা আর জীবিত ফেরেননি। গলা কাটা অবস্থায় আমার বাবাকে এলাকাবাসী হাকিমের মোড় থেকে উদ্ধার করে।’

সবুর মোল্লার ভাইয়ের ছেলে মাহফুজ ইয়াসিন অভিযোগ করেন, বেশ কয়েকবার ইউপি সদস্য হওয়ায় নজরুলের স্বেচ্ছাচারিতা বেড়ে গিয়েছিল। তারা এর প্রতিবাদ করায় বিষয়টি ভালোভাবে নেননি নজরুল।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নজরুল মেম্বার আগে বিএনপি করত। ২০১২ সালেও তিনি জগদল ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে নিজের দল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মিশে যান। স্থানীয় চেয়ারম্যান রফিকুল হাসানের অন্যতম শক্তি এই নজরুল। নজরুল ছাড়া চেয়ারম্যানের কোনো ক্ষমতা নেই।’

তিনি বলেন, ‘এবার পরিষদ নির্বাচনে আমাদের এলাকার ভোটার টানতে আমার চাচা সবুর মোল্লাকে বলা হয়। আমার চাচা শান্তি চান, তাই তাদের অন্যায় সহ্য করেও কিছু বলেননি।

‘এ ছাড়া নির্বাচনের খরচ যোগাতে আমার দুই চাচা নিহত সবুর ও কবির মোল্লার কাছে চার লাখ টাকা চাদা দাবি করেন নজরুল মেম্বার। তা দিতে না পারায় তারা আরও ক্ষেপে যায়। এই নিয়ে এলাকায় কয়েক দফা সালিশ বৈঠকও হয়। তবে চেয়ারম্যান তাদের পক্ষ নেয়।’

সবুর মোল্লার আরেক ভাইয়ের মেয়ে মোছা. মুরশিদা বলেন, ‘২০০৩ সালে আমার বাবা জরিপ মোল্লাকে বাড়ির সামনে ভোরবেলা ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করে এই নজরুল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। সেই ঘটনায় নজরুল মেম্বারকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়।

‘তবে সেই মামলার সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল এবং নজরুল তখন মেম্বারসহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক থাকায় মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করে। তাই বাবার হত্যার বিচার আমরা আপসের মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলি।’

সবুর মোল্লার স্ত্রী মিলিনা খাতুন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমার স্বামী এলাকায় সুনামের সাথে বিভিন্ন সালিশ বিচার করত। সবাই সম্মান করত। এটাতে তার জনপ্রিয়তা ছিল। এ জন্য বহু মানুষ আমাদের কথা মতো চলত। তাই ভোটের সময় আসলি নজরুল মেম্বার আমাদের তাদেরকে সমর্থন দিতে বলত। কিন্তু এবার তারা চাঁদাও চায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদা না দেয়ার জন্য তারা এই খুন করল। এই খুনের সাথে জড়িত এই নজরুল মেম্বার। সে ১৮ বছর আগেও আমার স্বামীর ভাই জরিপ মোল্লাকে কুপিয়ে খুন করে। একই ঘটনায় এবার আমার স্বামীসহ তার আপন ভাই ও চাচাত ভাইকে আমরা হারালাম।

‘ওদের সবার আমি ফাঁসি চাই। সেই সাথে এই চেয়ারম্যান ওই নজরুল মেম্বারকে সব রকম সুযোগ দিয়ে আসছে তারেও আইনের আওতায় আনা হোক।’

তিন ভাই ছাড়া নিহত আরেকজন ইমরান। মাত্র পাঁচ মাস বিয়ে করেছিলেন ইমরান। এইচএসসি শেষ করে ইমরান স্কেভেটর মেশিন চালাতেন। ঘটনার দিন চিৎকার শুনতে পেয়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নজরুল মেম্বারের বাড়ির পাশে হাকিম মোড়ে যান ইমরান। পরে বাড়ির লোকজন জানতে পারেন তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ইমরানের পরিবার জানায়, ইমরানসহ তারা সবাই নজরুলের দল করতেন। তাদের পাশেই নজরুল মেম্বারের বাড়ি।

ইমরানকে কারা হত্যা করেছে এমন প্রশ্নে তারা জানান, নজরুল মেম্বারের লোকেরাই তাকে ধরে আমাদের রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায়।

ইমরানের ভাবি জানান, ‘নজরুল মেম্বার নিজের দোষ আড়াল করতে নিজের পক্ষের ইমরানকে খুন করিয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, নজরুল সুবিধাবাদী। তিনি যে দল ক্ষমতায় সেই দল করেন। বিএনপি দিয়ে তার রাজনীতি শুরু। এরপর আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তার বিপরীতে কেউ প্রার্থী হলে তিনি মেনে নিতে পারেন না।

তারা আরও অভিযোগ করেন, এবার নজরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছেন সৈয়দ হাসান নামে একজন। তিনিও আওয়ামী লীগ করেন। একই গ্রামের পাশের ওয়ার্ডের সবুর মোল্লা ও তার পরিবার হাসানকে সমর্থন দেয়ায় নজরুল মেম্বার হত্যার ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

শনিবার সকালে নজরুল মেম্বারের বাড়িতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে তার বাড়ি থেকে ফ্রিজ, টিভিসহ আসবাবপত্র ভ্যানে করে সরাতে দেখা যায়। পরে পুলিশ বাধা দিলে ভ্যানচালক চলে যান।

জগদল ইউনিয়ন পরিষদ বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। তাই নিজেদের আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এটা হতে পারে। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থী দেওয়া নিয়ে সেটা চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, আমরা এই খুনের ঘটনাটি খুবই গুরুত্বসহকারে দেখছি। গতকালের পর থেকে এই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ রয়েছে। এলাকায় মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। মামলা হলে সে মোতাবেক আমরা ব্যবস্থা নেব।

আরও পড়ুন:
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ
কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট: মন্ত্রণালয়
ভিসি কলিমউল্লাহর অনিয়মের প্রমাণ ইউজিসির তদন্তে
ভিসি কলিমুল্লাহকে ক্যাম্পাসে ‘আসতে হবে’

শেয়ার করুন

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির নতুন ট্রেজারার সিরাজুল হক

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির নতুন ট্রেজারার সিরাজুল হক

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের নতুন ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক এএসএম সিরাজুল হক। ছবি: সংগৃহীত

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেয়ার আগে সিরাজুল হক বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপক, উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষ সরকারি ধামরাই কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর নেন। প্রায় ৩৬ বছরের শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা আছে তার।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে অধ্যাপক এএসএম সিরাজুল হককে।

রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য মো. আব্দুল হামিদ এ নিয়োগ দেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়য়ের ২১ সেপ্টেম্বরের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সিরাজুল হক ২৫ সেপ্টেম্বর কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেন।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার আগে সিরাজুল হক বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপক, উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষ সরকারি ধামরাই কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর নেন। প্রায় ৩৬ বছরের শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা আছে তার।

২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিরাজুল। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সদস্য ছিলেন তিনি।

বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি পরিচালিত এনসাইক্লোপিডিয়া অফ বাংলাদেশের লিবারেশন ওয়ার অংশে ধামরাই উপজেলার ওপর গবেষণা করেন সিরাজুল হক।

১৯৮৪ সালে গোপালগঞ্জের সরকারি এস কে কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এ শিক্ষক। ১৯৯৪ সালে সহকারী অধ্যাপক ও ২০০২ সালে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি।

২০০৮ সালে সিরাজুল সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে ফরিদপুর সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজে যোগ দেন। পরে একই কলেজে উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১০ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে উপাধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন সিরাজুল। পরে তিনি সরকারি ধামরাই কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়ে অতিরিক্ত ২ বছর সরকারি ধামরাই কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিরাজুল।

১৯৮০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৮১ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ
কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট: মন্ত্রণালয়
ভিসি কলিমউল্লাহর অনিয়মের প্রমাণ ইউজিসির তদন্তে
ভিসি কলিমুল্লাহকে ক্যাম্পাসে ‘আসতে হবে’

শেয়ার করুন

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ চায় ইসলামী আন্দোলন

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ চায় ইসলামী আন্দোলন

তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের পদত্যাগ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে বায়তুল মোকাররমে সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বক্তব্যে বলেন, ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে, এটা মিমাংসিত বিষয়। এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না।’

ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম নয় এবং অচিরেই সংসদে বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার বিল উত্থাপন করা হবে বলে বক্তব্য দেয়ায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের পদত্যাগ ও শাস্তি দাবি করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

কুমিল্লায় কুরআন অবমাননাকারীদের বিচার এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে শনিবার বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে সমাবেশ থেকে এ দাবি জানান দলটির নেতারা।

পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও পদত্যাগ দাবি করা হয় সমাবেশ থেকে।

ঢাকা মহানগর ইসলামী আন্দোলন আয়োজিত সমাবেশে কুমিল্লার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি এবং দেশের অন্য জায়গায় সহিংসতার জন্য সরকারের বিভিন্ন মহলকে দায়ী করেন নেতারা।

ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বক্তব্যে বলেন, ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে, এটা মিমাংসিত বিষয়। এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না।’

সম্প্রতি দেয়া তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও তার পদত্যাগ দাবি করেন দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি মাওলানা আরিফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি আরও কতটা ভয়াবহ হবে তা সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। সরকার যেভাবে বক্তব্য দিচ্ছে, তাতে সরকার আরেকটা দাঙ্গা করতে চায়। আমরা মনে করছি, সরকারের বিভিন্ন মহলের উসকানিতে কুমিল্লায় এ ঘটনা ঘটেছে।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে দপ্তর সম্পাদক লোকমান বলেন, ‘আপনি সংবিধান মানেন না, আপনাকে মন্ত্রী হিসেবে মানি না। উনার বিচার করতে হবে।’

সংগঠনের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা নেছার উদ্দিন বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে না পারলে পদত্যাগ করুন। এই সরকারকে পুতুল সরকার মনে করি।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ।

তিনি বলেন, ‘বাজার করে খাওয়ার সক্ষমতা হারাচ্ছে মানুষ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বাজারে গিয়ে খোঁজ নেন।’

কুমিল্লার ঘটনা ও পরের পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায়ি করেন ফজলে বারী মাসউদ। তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনা ও পরের ঘটনার জন্য সরকার দায়ী।’

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী।

তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা ষড়যন্ত্র করবে। ইসলামের শত্রুরা এটা করেছে। সরকার ঘোলা পানিতে মাছ শিকার না করে তদন্ত করে বের করেন এই ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে।

‘ইসলামের অবমাননা করলে প্রতিবাদ করা ঈমানি দায়িত্ব। একটা মহল আমাদের দেশে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বাধায়া দিতে এটা করেছে। হিন্দুরাও এটা করতে পারে না। হাজীগঞ্জে ৫-৬ জন মারা গেছেন। কেন গুলি করলেন।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে বয়কট করার আহ্বান জানান আল-মাদানী। তিনি বলেন, ‘মুরাদকে বয়কট করেন। ওর জানাজা হবে না, পানিতে ভাসায়া দাও। ওরা কাফেরদের থেকেও ভয়ঙ্কর।’

তিনি বলেন, ‘সব জিনিস ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। না কমাতে পারলে গদি থেকে নেমে যান।’

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি পল্টন মোড় হয়ে নাইটেঙ্গেল মোড়ে গিয়ে মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।

আরও পড়ুন:
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ
কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট: মন্ত্রণালয়
ভিসি কলিমউল্লাহর অনিয়মের প্রমাণ ইউজিসির তদন্তে
ভিসি কলিমুল্লাহকে ক্যাম্পাসে ‘আসতে হবে’

শেয়ার করুন

শনাক্তের হার ২ এর নিচে নামল

শনাক্তের হার ২ এর নিচে নামল

দেশে টানা ২৫ দিন করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে। ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮২১টি ল্যাবে করোনার ১৫ হাজার ৫৮৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ২৯৩ জনের শরীরে। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ১ দশমিক ৮২ শতাংশ।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার নেমে এসেছে ২ শতাংশের নিচে। এ নিয়ে টানা ২৫ দিন সারা দেশে করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮২১টি ল্যাবে করোনার ১৫ হাজার ৫৮৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ২৯৩ জনের শরীরে। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ১ দশমিক ৮২ শতাংশ। দেশে এ নিয়ে টানা ২৫ দিন করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

গত এক দিনে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ২৯৩ জনের শরীরে। যা গত পাঁচ মাসে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ১৫ মে এর চেয়ে কম রোগী শনাক্তের খবর এসেছিল। সেদিন ২৪ ঘণ্টায় ২৬১ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ার খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২৪-ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ৪৮২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৩ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

গত এক দিনে মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৪ জন, নারী ২ জন। এর মধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব ২, পঞ্চাশোর্ধ্ব ২ ষাটোর্ধ্ব ২ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর পরই চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেটে মৃত্যু হয়েছে একজন করে।

আরও পড়ুন:
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ
কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট: মন্ত্রণালয়
ভিসি কলিমউল্লাহর অনিয়মের প্রমাণ ইউজিসির তদন্তে
ভিসি কলিমুল্লাহকে ক্যাম্পাসে ‘আসতে হবে’

শেয়ার করুন

শুরু হচ্ছে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা

শুরু হচ্ছে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা

ফাইল ছবি

গুচ্ছ পদ্ধতিতে দেশের মোট ২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে এ ইউনিটে আবেদন করেছেন এক লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন শিক্ষার্থী। ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা হবে বেলা ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত।

দেশের গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে রোববার। এ ইউনিটে ভর্তি হতে আবেদন করেছেন এক লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন শিক্ষার্থী।

গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মুনাজ আহমেদ নূর বলেন, ‘রোববার এ ইউনিটের পরীক্ষা হবে। বি ইউনিট ২৪ অক্টোবর, আর সি ইউনিটের পরীক্ষা হবে ১ নভেম্বর।

‘দেশের মোট ২৬টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা হবে। পরীক্ষার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষা হবে বেলা ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত।

কোন ইউনিটে আবেদন কত
দেশের ২০টি সাধারণ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবারই প্রথম গুচ্ছভুক্ত হয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে। এতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ মিলিয়ে আসন রয়েছে ২২ হাজার ১৩টি। এর বিপরীতে আবেদন করেছেন দুই লাখ ৩২ হাজার ৪৫৫ জন শিক্ষার্থী।
এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে এক লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন, ‘বি’ ইউনিটে ৬৭ হাজার ১১৭ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে ৩৩ হাজার ৪৩৭ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।

যেসব কেন্দ্রে পরীক্ষা
দেশের মোট ২৬টি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা হবে। কেন্দ্রগুলো হলো- শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

পরীক্ষার মানবণ্টন
গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটি জানিয়েছে, সব বিভাগেই ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হবে। মানবিক বিভাগের ক্ষেত্রে বাংলায় ৪০, ইংরেজিতে ৩৫ ও আইসিটিতে ২৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে।

বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে বাংলায় ১০, ইংরেজিতে ১০, রসায়নে ২০ ও পদার্থবিজ্ঞানে থাকবে ২০ নম্বর। বাকি ৪০ নম্বর আইসিটিতে।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের হিসাববিজ্ঞানে ২৫, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনায় ২৫, বাংলায় ১৩, ইংরেজিতে ১২ ও আইসিটিতে ২৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে।

সকল ইউনিটে ভুল উত্তরের জন্য কাটা হবে নম্বর। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ কাটা যাবে।

বিভাগ পরিবর্তন যেভাবে
বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আলাদাভাবে কোনো পরীক্ষা নেয়া হবে না। একজন শিক্ষার্থী কেবল একটি পরীক্ষায়ই অংশ নেবেন। বিভাগ পরিবর্তন করতে চাইলে সেই পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুসারে মাইগ্রেশন করে ভর্তি হতে পারবেন।
এসএসসি ও এইচএসসির ফল

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলও হিসাবে আনা হয়। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এসএসসি, এইচএসসিতে পাওয়া জিপিএর ভিত্তিতে তাদের নিজস্ব শর্তে ভর্তির সুযোগ দেবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শর্ত ভিন্ন ভিন্নও হতে পারে।

২০১৯ ও ২০২০ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ফার্স্ট টাইম ও সেকেন্ড টাইম নির্ধারণ করে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নেবে স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও পড়ুন:
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ
কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট: মন্ত্রণালয়
ভিসি কলিমউল্লাহর অনিয়মের প্রমাণ ইউজিসির তদন্তে
ভিসি কলিমুল্লাহকে ক্যাম্পাসে ‘আসতে হবে’

শেয়ার করুন

বেনাপোল বন্দরে ফের শুরু আমদানি-রপ্তানি

বেনাপোল বন্দরে ফের শুরু আমদানি-রপ্তানি

চার দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার সকাল থেকে বেনাপোল বন্দরে শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি

দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় ১২ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চার দিন বন্ধ থাকার পর বেনাপোল ও পেট্রোপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে।

শনিবার সকাল থেকেই পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে দুই বন্দর এলাকাতেই।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান।

তিনি জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় ১২ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।

ভারতের পেট্রাপোল স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

তবে এই চার দিন বেনাপোল কাস্টমস ও বন্দরে পণ্য খালাস এবং চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচলও স্বাভাবিক ছিল বলে জানান বেনপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সুজন।

বেনাপোল বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর। বেনাপোল থেকে কলকাতার দূরত্ব ৮৪ কিলোমিটার। ভারত থেকে বেনাপোল বন্দর হয়ে পণ্য বাংলাদেশে আসতে সময় কম লাগায় আমদানিকারকরা এই বন্দর দিয়েই অধিকাংশ পণ্য আমদানি করেন।

গার্মেন্টস শিল্পের কাঁচামাল, ওষুধের কাঁচামাল, কেমিক্যাল, মোটর পার্টসসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়।

বাংলাদেশ থেকেও পাট ও পাটজাত পণ্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, সয়াবিনজাতীয় পণ্য, ভুসিসহ বিভিন্ন পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়।

চার দিন আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকায় দুই পাশের বন্দর এলাকায় সৃষ্টি হয় পণ্যজট। শনিবার সকাল থেকে ধীরে ধীরে এটি কমতে শুরু করে।

বেনাপোল কাস্টমস কার্গো কর্মকর্তা সাইফুর রহমান মামুন জানান, সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৮৫টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বেনাপোল হয়ে দেশে এসেছে। এ সময়ে ৩৫টি ট্রাক রপ্তানি পণ্য নিয়ে পেট্রপোল বন্দর হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে।

আরও পড়ুন:
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ
কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট: মন্ত্রণালয়
ভিসি কলিমউল্লাহর অনিয়মের প্রমাণ ইউজিসির তদন্তে
ভিসি কলিমুল্লাহকে ক্যাম্পাসে ‘আসতে হবে’

শেয়ার করুন

ছাত্রলীগের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, আহত ৪

ছাত্রলীগের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, আহত ৪

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্রলীগের আহত নেতা-কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

হাবলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সৌমিকের অভিযোগ, ‘হাবলা ইউনিয়ন বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে। আজকে আমরা মোটরসাইকেলে আসার সময় ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর মিয়ার নেতৃত্বে ছাত্রদলের নাজমুল, কাউসার, আলী আকবর, সিয়াম হামলা চালায়।’

টাঙ্গাইলের বাসাইলে আধিপত্য বিস্তারের জেরে ছাত্রলীগের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ উঠেছে।

বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের বাজারের পাশে শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন হাবলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ইশরাক আল হোসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সৌমিক এবং সদস্য মো. ছাব্বির ও মো. সানী।

বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনূর রশিদ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আহত সৌমিকের অভিযোগ, ‘হাবলা ইউনিয়ন বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে। আজকে আমরা মোটরসাইকেলে আসার সময় ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর মিয়ার নেতৃত্বে ছাত্রদলের নাজমুল, কাউসার, আলী আকবর, সিয়াম আমাদের ওপর হামলা চালায়।’

স্থানীয়রা আহত চারজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম সজিব জানান, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মাথা ও হাতে দায়ের কোপের চিহ্ন আছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য হাবলা ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর মিয়াকে ফোন দেয়া হলে তিনি ধরেননি।

ওসি হারুনূর রশিদ বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
কলিমুল্লাহর কুশপুত্তলিকা পোড়াল ছাত্রলীগ
কলিমুল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট: মন্ত্রণালয়
ভিসি কলিমউল্লাহর অনিয়মের প্রমাণ ইউজিসির তদন্তে
ভিসি কলিমুল্লাহকে ক্যাম্পাসে ‘আসতে হবে’

শেয়ার করুন