দ্বিতীয় দিনে চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন 

player
দ্বিতীয় দিনে চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন 

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ আয়োজিত একবিংশ শতাব্দীর ফিল্ম ও ডিজিটাল মিডিয়া সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৮টায় দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়; দুই ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয় সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে।

‘একবিংশ শতাব্দীর ফিল্ম অ্যান্ড ডিজিটাল মিডিয়া’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক অনলাইন সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের আয়োজনেও ছিলেন এ খাতের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিরা।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৮টায় দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়; দুই ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয় সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের ‘একবিংশ শতাব্দীর ফিল্ম অ্যান্ড ডিজিটাল মিডিয়া’ শীর্ষক এই আয়োজনের সঙ্গে রয়েছে কানাডার বিসিআই মিডিয়া।

দ্বিতীয় দিনে প্যানেল মেম্বার হিসেবে নিজ নিজ ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বিটুবি গ্রোথ গ্রিসের ফাউন্ডার জন আসলানিস, গ্রিসের নিউরোসায়েন্স রিসার্চার ও এডুকেটর রানিয়া লামপু, ইউরোপিয়ান জার্নালিস্ট ইউনিয়ন মেম্বার দিমিত্রিওস কানাভোস এবং গ্রিসের রেডিও প্রডিউসার অ্যান্ড সিনেমাটোগ্রাফার গ্রিগোরিস ভেরিওতিস এবং সাবেক ক্যামব্রিজ সিটি কাউন্সিলর ও মেয়র জর্জ পিপাস।

আরও পড়ুন: চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন

তারা মিডিয়া ও নেটওয়ার্কিং বিজনেস নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনা করেন শিক্ষা ক্ষেত্রে অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো কী ভূমিকা রাখছে তা নিয়েও।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধনী বক্তা ছিলেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম, পিইঞ্জ।

এরপর ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির সাবেক এক চীনা শিক্ষার্থীর কবিতা আবৃত্তি করে শোনান মেয়র জর্জ পিপাস।

সম্মেলনটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের প্রধান ড. জহির বিশ্বাস এবং গ্রিসের কবি ও সাংবাদিক মিসেস লেনা কায়রোপোওলিস।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের প্রধান ড. জহির বিশ্বাসের আহ্বানে একটি আন্তর্জাতিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম শিগগিরই চালু করা হচ্ছে, যেখানে আটটি দেশের রিসোর্স পার্সন অংশগ্রহণ করবেন।

এ আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম

জুম প্লাটফর্মের মাধ্যমে যে কেউ এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

শেষ দিনের সম্মেলন হবে ২৫ ফ্রেব্রুয়ারি।

জুম আইডি :

আইডি : 669 7678 3394

পাসওয়ার্ড: 778899

২৫ ফেব্রুয়ারি: https://eu01web.zoom.us/j/66976783394…

সময় : রাত ৮: ০০ (বাংলাদেশ সময়)

এ ছাড়া এই সম্মেলন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে https://www.facebook.com/cubbd সরাসরি সম্প্রচার হবে।

আরও পড়ুন:
চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শাবির ঘটনা তদন্তে কমিটি, ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

শাবির ঘটনা তদন্তে কমিটি, ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালের শিক্ষার্থী ও থিয়েটার কর্মী শাহীন আলম নিউজবাংলাকে, ‘আমরা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। তাকে ক্যাম্পাস থেকে চলে যেতে হবে। আমরা রাষ্ট্রপতি বরারব আজ চিঠি দেব। তিনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমরা ক্যাম্পাস ছাড়ব না।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির প্রধান করা হয়েছে গণিত বিভাগের অধ্যাপক ডা. রাশেদ তালুকদারকে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘রোববারের ঘটনা খতিয়ে দেখতে এই কমিটি করা হয়েছে। দ্রুত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য জহির বিন আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রোববারের ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে, কারা দোষী এটা আমরা খুঁজে বের করব। বিশ্ববিদ্যালয় শান্ত ছিল, হঠাৎ কেন এমন অশান্ত হলো তা বের করা হবে।’

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সোমবার সকালে মুক্তমঞ্চের সমাবেশ থেকে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালের শিক্ষার্থী ও থিয়েটার কর্মী শাহীন আলম নিউজবাংলাকে, ‘আমরা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। তাকে ক্যাম্পাস থেকে চলে যেতে হবে। আমরা রাষ্ট্রপতি বরারব আজ চিঠি দেব। তিনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমরা ক্যাম্পাস ছাড়ব না।’

শিক্ষার্থীরা হল ছাড়তে চাচ্ছেন না এই প্রসঙ্গে সিন্ডিকেট সদস্য জহির বিন আলম বলেন, ‘যদি তারা হল না ছাড়ে তবে কর্তৃপক্ষ নিশ্চই সেটা গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।’

এর আগে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। নানা স্লোগানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিন দফা দাবির আন্দোলনে ভিসির নির্দেশেই রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ হামলা চালিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। এ কারণেই প্রক্টরিয়াল বডিরও পদত্যাগের দাবি আনা হয়েছে।

শাবির ঘটনা তদন্তে কমিটি, ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা


বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। রোববার আন্দোলনের চতুর্থ দিনে এসে তা সহিংসতায় রূপ নেয়।

রোববার বিকেলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে ধাওয়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে। এর জেরে সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ হামলা চালায়। এতে রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ক্যাম্পাস।

রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেন উপাচার্য। সেই সঙ্গে সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের কাছে সম্প্রতি শিক্ষার্থীরা কিছু সমস্যার কথা জানান। অভিযোগ, এ বিষয়ে তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন। এর প্রতিবাদে জাফরিনের পদত্যাগসহ শুরু হয় তিন দফা দাবিতে আন্দোলন।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ


রোববার বিকেল ৪টার দিকে সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম ও অন্য শিক্ষকরা গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেন।

উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।


শাবির ঘটনা তদন্তে কমিটি, ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা


শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলমগীর কবীর জানান, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় শিক্ষক, পুলিশ, শিক্ষার্থীসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন। তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

শেয়ার করুন

থমথমে শাবি, হল না ছাড়ার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

থমথমে শাবি, হল না ছাড়ার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবিতে সোমবার সকালে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের তিন দফা দাবির আন্দোলনে ভিসির নির্দেশেই রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ হামলা চালিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। এ কারণেই প্রক্টরিয়াল বডিরও পদত্যাগের দাবি আনা হয়েছে।

ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পাশাপাশি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রক্টরিয়াল বডিরও পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা। বলছেন, কোনো অবস্থায়ই হল ছাড়বেন না।

এসব দাবিতে সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে অবস্থান নিয়েছেন কয়েক শ শিক্ষার্থী। নানা স্লোগানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের তিন দফা দাবির আন্দোলনে ভিসির নির্দেশেই রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ হামলা চালিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। এ কারণেই প্রক্টরিয়াল বডিরও পদত্যাগের দাবি আনা হয়েছে।

বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। রোববার আন্দোলনের চতুর্থ দিনে এসে তা সহিংসতায় রূপ নেয়।

থমথমে শাবি, হল না ছাড়ার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

রোববার বিকেলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে ধাওয়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে। এর জেরে সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ হামলা চালায়। এতে রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ক্যাম্পাস।

রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেন উপাচার্য। সেই সঙ্গে সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

থমথমে শাবি, হল না ছাড়ার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
অনেক শিক্ষার্থীকে এরই মধ্যে হল ছাড়তে দেখা গেছে। ছবি: নিউজবাংলা

প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের কাছে সম্প্রতি শিক্ষার্থীরা কিছু সমস্যার কথা জানান। অভিযোগ, এ বিষয়ে তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন। এর প্রতিবাদে জাফরিনের পদত্যাগসহ শুরু হয় তিন দফা দাবিতে আন্দোলন।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ


রোববার বিকেল ৪টার দিকে সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম ও অন্য শিক্ষকরা গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেন।

উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।

থমথমে শাবি, হল না ছাড়ার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলমগীর কবীর জানান, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় শিক্ষক, পুলিশ, শিক্ষার্থীসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন। তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

শেয়ার করুন

এবার ভিসির পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল শাবি

এবার ভিসির পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল শাবি

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে রোববার রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

রোববার রাত ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। রাত সাড়ে ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলছিল। এতে পাঁচশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

পুলিশের হামলা ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার পর উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, ভাইস-চ্যান্সেলরের (ভিসি) নির্দেশেই পুলিশ হামলা ও গুলি চালিয়েছে।

রোববার রাত ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা ভিসির পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। রাত সাড়ে ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলছে। এতে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

এর আগে রাত ৮টার দিকে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেন ভিসি। সোমবার বেলা ১২টার মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ারও নির্দেশ দেন তিনি।

তিন দফা দাবিতে রোববার বিকালে আন্দোলনকারীরা ভিসিকে অবরুদ্ধ করলে সন্ধ্যায় অ্যাকশনে যায় পুলিশ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছুড়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সন্ধ্যার পর থেকে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে একদল শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে অবস্থা নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের অভিযোগ ভিসির নির্দেশেই পুলিশ হামলা ও গুলি চালিয়েছে।

এবার ভিসির পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল শাবি

এই বিক্ষোভের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও হল ছাড়ার নির্দেশনা আসে। এমন নির্দেশনার পরপরই বিক্ষোভ শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। এ সময় তারা ‘পরীক্ষা কেন বন্ধ, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘হল কেন বন্ধ, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কেন বন্ধ, প্রশাসন জবাব চাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে শাহপরান হল ও সৈয়দ মুজতবা আলী হলের কিছু আবাসিক শিক্ষার্থীও এ কর্মসূচিতে যোগ দেন। পরে তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের দিকে চলে যান।

রাত ৯টার পর বিক্ষোভকারীরা প্রধান ফটক ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত মঞ্চের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরাও এসে যোগ দেন এই বিক্ষোভে। তারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

রাত ১২টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সায়েম আহমদ বলেন, ‘উপাচার্যের নির্দেশেই আজ শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। এতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা ও হল ছাড়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। আচমকা হল ছাড়ার নির্দেশে শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছে। এমনিতেই করোনার কারণে শিক্ষাজীবন বিপর্যস্ত, তার ওপর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে। আমরা এসব অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত মানি না।’

এবার ভিসির পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল শাবি

শিক্ষার্থী মেহরাব হােসেন কায়েস বলেন, ‘আজকের ঘটনাগুলোই প্রমাণ করে যে এই উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় অযোগ্য। যিনি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশনা দিতে পারেন, তিনি কোনোভাবেই উপাচার্য পদে থাকতে পারেন না। আমরা তার পদত্যাগ চাই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবির বলেন, ‘‘উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে শিক্ষার্থীরাই সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা ও শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সবাইকে সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়তে হবে।’

প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন

প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে আন্দোলনে নামে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা হলের ছাত্রীরা। রোববার আন্দোলনের চতুর্থ দিনে এসে তা সহিংস রূপ নেয়।

উপচার্যকে ধাওয়া ও অবরুদ্ধ, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের হামলার পর পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এর জের ধরে রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেন ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। একইসঙ্গে সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

এবার ভিসির পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল শাবি

যার পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রীরা আন্দোলন শুরু করেন সিরাজুন্নেসা হলের সেই প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজা পদত্যাগ করেছেন বলেও জানান উপাচার্য। তার স্থলে বিশ্বদ্যিালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজিয়া চৌধুরীকে নতুন প্রাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ

শাবি ছাত্রীদের আন্দোলনের তৃতীয় দিনে শনিবার সন্ধ্যায় হামলার অভিযোগ ওঠে। আন্দোলনকারী ছাত্রীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে তাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। যদিও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

এই হামলার প্রতিবাদ ও তিন দফা দাবি আদায়ে রোববার সকাল থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাসের গোল চত্বর ও প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। কিছু ছাত্রও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে যান চলাচল বন্ধ করে দেন তারা।

এবার ভিসির পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল শাবি

দুপুরের দিকে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের নিয়ে নিজ কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন ভিসি। বৈঠক থেকে বেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম, প্রক্টর আলমগীর কবীরসহ কয়েকজন শিক্ষক আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।

শিক্ষকরা জানান, উপাচার্য তাদের সব দাবি মেনে নিতে সম্মত হয়েছেন। তবে এ জন্য এক সপ্তাহের সময় চেয়েছেন তিনি।

তবে ছাত্রীরা এমন আশ্বাস না মেনে স্লোগান শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর তারা ক্যাম্পাসে মিছিল বের করেন।

অবরুদ্ধ উপাচার্য

ছাত্রীরা যখন মিছিল করছিলেন তখন বাসভবনে যাওয়ার জন্য নিজ কার্যালয় থেকে বের হন ভিসি। তিনি বের হয়ে যাচ্ছেন এমন খবর আন্দোলনকারীদের কাছে পৌঁছার পর তারা সেখানে ছুটে যান। আন্দোলনকারীদের কয়েকজন উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা ভিসিকে ঘিরে ধরে ড. ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনের ভেতরে নিয়ে যান।

শিক্ষকদের অভিযোগ, আন্দোলনকারীরা ভিসিকে ধাওয়া করলে তিনি আইআইসিটি ভবনে আশ্রয় নেন।

তবে ছাত্রীদের দাবি, ধাওয়া নয় বরং ভিসির সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু উপাচার্য তাদের কথা না শুনে দৌড়ে আইআইসিটি ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন।

ভিসি আইআইসিটি ভবনের ভেতরে প্রবেশের পর ওই ভবনের ফটকের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বেলা ৩টার দিকে তারা ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন ভিসি। শিক্ষার্থীরা ওই ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে দাবি আদায়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

আন্দোলনস্থলে পুলিশের অবস্থান, উত্তেজনা

বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনস্থলে যায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ। সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার আজবাহার আলী শেখের নেতৃত্বে দুই শতাধিক পুলিশ সদস্য আইআইসিটি ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলা এড়াতে এ সময় আন্দোলনকারীরা হাতে ফুল নিয়ে পুলিশকে স্বাগত জানায়।
দীর্ঘক্ষণ পুলিশ নীরব অবস্থানেই ছিল।

এবার ভিসির পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল শাবি

শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ

শিক্ষকরা আলোচনার মাধ্যমে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে ভিসিকে মুক্ত করতে ব্যর্থ হলে অ্যাকশনে নামে পুলিশ। সন্ধ্যার ঠিক আগ মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে অবরুদ্ধ উপাচার্যকে মুক্ত করতে এগিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় দুই পক্ষে ধাক্কাধাক্কি লেগে যায়। পরে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

পুলিশের লাঠিচার্জে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক পিছু হটলেও পরে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এ পর্যায়ে পিছু হটে পুলিশ। পরে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ। এ সময় ক্যাম্পাসজুড়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। তখন গুলির ঘটনাও ঘটে।

গুলিতে আহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ। মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আজবাহর আলী শেখসহ ১০ পুলিশ সদস্যও আহত হন। আহত হন শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্তত ৫০ জন। শিক্ষার্থীদের কয়েকজন রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন।

এবার ভিসির পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল শাবি

সংঘর্ষ চলাকালে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদেরও লাঠিপেটা করে পুলিশ। তাদেরও কয়েকজন আহত হন।

আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ, রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করার পর ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমদকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করে নিজ বাসভবনে নিয়ে যান পুলিশ ও শিক্ষকরা।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আজবাহর আলী শেখ বলেন, ‘আমরা হামলা করিনি। আমরা উপাচার্যকে মুক্ত করে আনতে গিয়েছিলাম। শিক্ষার্থীরাই আমাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

‘সংঘাত থামাতে পুলিশ ২১টি সাউন্ড গ্রেনেড ও ৩০ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে।’

এই অবস্থার জন্য শিক্ষার্থীদেরই দায়ী করেছেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাকে ধাওয়া করে অবরুদ্ধ করার মাধ্যমে সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তারা শান্তিপূর্ণ আলোচনার সব প্রস্তাব নাকচ করেছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা

সংঘর্ষের পর অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে ক্যাম্পাসে নিজ বাসভবনে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডাকেন উপাচার্য।

সিন্ডিকেট বৈঠক শেষে রাত ৮টার দিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শাবিপ্রবি বন্ধ ঘোষণা করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেন উপাচার্য।

এবার ভিসির পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল শাবি

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যার পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছিল সেই প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজা পদত্যাগ করেছেন। তার পরিবর্তে বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নাজিয়া চৌধুরীকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা হলেও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম চলবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণায় বিপাকে শিক্ষার্থীরা

সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান খান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করায় আমরা বিপাকে পড়েছি। হুট করে ১২টার মধ্যে কোথায় যাব? করোনার কারণে এমনিতেই আমাদের শিক্ষাজীবন সংকটে। এখন হল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের কারণে আরও সমস্যায় পড়ব।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ সামিউল ইসলাম জানান, এটা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত; তাদের কিছু করার নেই।

সিদ্ধান্ত না মেনে কোনো শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

শেয়ার করুন

আমার করোনা হলেও সম্মেলন পেছাবে না: লেখক

আমার করোনা হলেও সম্মেলন পেছাবে না: লেখক

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমার কোভিড পজিটিভ এলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হল সম্মেলন পেছানো হবে না। প্রয়োজনে ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে সম্মেলনে উপস্থিত থাকবো। তারপরও সম্মেলন পেছানোর সুযোগ নেই।’

পরিবারের চার সদস্য করোনা আক্রান্ত হওয়ায় রোববার সন্ধ্যা থেকে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

রোববার রাতে নিউজবাংলাকে লেখক জানান, বর্তমানে তিনি কোয়ারেন্টাইনে থাকলেও তার কোনো উপসর্গ নেই। আগামীকাল সোমবার তিনি কোভিড টেস্ট করাবেন।

ওদিকে ৩০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের হল সম্মেলন। এ অবস্থায় সাধারণ সম্পাদক কোয়ারান্টাইনে থাকায় সম্মেলন নিয়ে অনিশ্চয়তায় হল সম্মেলনে শীর্ষ পদ প্রত্যাশীরা।

তাদের শঙ্কা, সাধারণ সম্পাদকের কোভিড টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ এলে পেছাতে পারে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর হতে যাওয়া হল সম্মেলন।

তবে লেখক বলছেন, ‘আমার কোভিড পজিটিভ এলেও হল সম্মেলন পেছানো হবে না। প্রয়োজনে ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে সম্মেলনে উপস্থিত থাকবো। তারপরও সম্মেলন পেছানোর সুযোগ নেই।’

লেখক ভট্টাচার্যের করোনা পজিটিভ এলে সম্মেলনে কোনো প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘অনিবার্য যেকোনো ঘটনা ঘটতেই পারে। তবে আমরা প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেও অনেক কিছু করতে পারি।’

এদিকে সমন্বিত হল সম্মেলন সুন্দরভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে আগামী ১৮ তারিখ বর্ধিত সভা আহ্বান করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৮ জানুয়ারি বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটরিয়ামে এই বর্ধিত সভা হবে। সভায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বর্ধিত সভার বিষয়ে জানতে চাইলে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘হল সম্মেলন কিভাবে সুন্দর, সৃজনশীল ও নান্দনিক করা যায় এবং আমাদের কর্মপন্থা ও কর্মপরিকল্পনা সুন্দরভাবে নির্ধারণ করতে পারি সেজন্যই এ বর্ধিত সভা।’

আরও পড়ুন:
চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

শেয়ার করুন

শাবিতে হামলার প্রতিবাদে ঢাবি-জাবিতে বিক্ষোভ

শাবিতে হামলার প্রতিবাদে ঢাবি-জাবিতে বিক্ষোভ

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও তাদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে মশাল মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ (বাঁয়ে), হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ছবি: কোলাজ

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট ও ছাত্র অধিকার পরিষদ। হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও মিছিল হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট ও ছাত্র অধিকার পরিষদ।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ করেন প্রগতিশীল ছাত্র জোট আর সাড়ে ৭টায় ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করেন ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।

শাবিতে হামলার প্রতিবাদে ঢাবি-জাবিতে বিক্ষোভ

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র থেকে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়।

এ সময় তারা ‘পুলিশের হামলা, রুখে দাও বাংলা’, ‘লাঠি, পুলিশ, টিয়ারগ্যাস, জবাব দিবে বাংলাদেশ’, ‘সাস্টে হামলা কেন, শেখ হাসিনা জবাব চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন প্রিন্স বলেন, ‘গতকাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা করেছে।

আর আজ বিকেলে ক্যাম্পাসের মধ্যে পুলিশ ঢুকে নির্মমভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে। রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে।

‘প্রশাসনের এত কিসের ভয় যে একটি হলের নারী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সহ্য করতে পারছে না। এই সরকারের পতনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের শেষ হবে।’

প্রিন্স বলেন, ‘সরকারের কানে আমরা পৌঁছে দিতে চাই, যতই লাফালাফি করেন বা উন্মত্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের দমন-পীড়ন করেন না কেন, আপনাদের শেষ রক্ষা হবে না। অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে দমন-পীড়নের পথ পরিহার করুন। অন্যথায় বাংলার ছাত্র সমাজ আপনাদের গদি থেকে উৎখাত করে ছাড়বে।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায়, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সহসভাপতি সাইদুল হক নিশান, ছাত্র ইউনিয়নের সহসভাপতি অনিক রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্র অধিকার পরিষদের মশাল মিছিল

শাবিপ্রবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও তাদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মশাল মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

মিছিলের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে আয়োজিত এক সমাবেশে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ছাত্রদের গায়ে টিয়ারশেল মারলে ফল খুব ভালো হয় না। কোনো শিক্ষার্থীর গায়ে গুলির ছড়া লাগলে তার ফলাফল আপনাদের গদি পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিতে পারে। ছাত্রদের এই আন্দোলন জোর করে বন্ধ করার চেষ্টা করবেন না।

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে দুঃখ প্রকাশ করার আহ্বান জানান বিন ইয়ামিন। তিনি বলেন, আপনি যদি দুঃখ প্রকাশ না করেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা আপনার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করবে।

বিন ইয়ামিন বলেন, আমরা বিশ্বাস করি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক হবে আন্তরিক। কিন্তু সেই শিক্ষক নিজের আত্মরক্ষার জন্য ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। ধিক্কার জানায় এ রকম শিক্ষকের প্রতি। আমরা এই উপাচার্যের পদত্যাগ চাই।

সমাবেশ শেষে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘আমার বোন আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘ভাইয়ের বুকে গুলি কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘শাবিপ্রবিতে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

হামলার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রোববার রাত সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে একটি মিছিল শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।

সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক সংগঠন জুডোর সহসভাপতি তাপসী দে প্রাপ্তি বলেন, ‘এটি এখন আর শাহজালালের বিষয় নয়, এটি প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়। আমার, প্রত্যেকের যার যার পক্ষ থেকে এটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

শাবিতে হামলার প্রতিবাদে ঢাবি-জাবিতে বিক্ষোভ

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার আহ্বায়ক শোভন রহমান বলেন, ‘একসময় প্রক্টররা বলতেন ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর আগে আমাদের ওপর গুলি চালাতে হবে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমাদের অর্জন, ভিসিরা পুলিশ ডাকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করার জন্য। শাহজালালের শিক্ষার্থীদের ওপর ভিসির মদদে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। এই হামলা শুধু শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা নয়, এটি সারা দেশের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা। আমরা এ হামলার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সংসদের দপ্তর সম্পাদক ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলি। এ সময় প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

কী হয়েছিল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে

প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা হলের ছাত্রীরা বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে তারা সরে যান। দাবি পূরণ না হওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক আটকে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন।

মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সরে গেলেও রোববার সকাল থেকে ফের শুরু হয় তাদের বিক্ষোভ। তাতে যোগ দেন সহপাঠীরাও।

বেলা ৩টার দিকে নিজ কার্যালয় থেকে বের হয়ে বাসভবনের দিকে যাওয়ার পথে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান আন্দোলনকারী ছাত্রীরা। এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উপাচার্যকে ঘেরাও করে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় আইআইসিটি ভবনে গিয়ে অবস্থান নেন উপাচার্য ফরিদ।

শাবিতে হামলার প্রতিবাদে ঢাবি-জাবিতে বিক্ষোভ

বিকেল ৪টার দিকে সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম ও অন্য শিক্ষকরা গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেন।

উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন।

এর মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের আইআইসিটি ভবন থেকে হটিয়ে উপাচার্যকে বের করে তার বাসভবনে নিয়ে যায় পুলিশ।

মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ জানান, পুলিশের গুলিতে অধ্যাপক জহির গুলিবিদ্ধ হননি। ওই গুলি কারা ছুড়েছে তা তিনি জানেন না। তাকে মাউন্ড এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক নারী কনস্টেবলও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ইটের আঘাতে তিনিও আহত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলমগীর কবীর জানান, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় শিক্ষক, পুলিশ ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন। তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শাবিতে হামলার প্রতিবাদে ঢাবি-জাবিতে বিক্ষোভ

প্রক্টর আরও জানান, গুলিবিদ্ধ অধ্যাপক জহিরকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি শঙ্কামুক্ত।

এদিকে, তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও এর জেরে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের পর রোববার সন্ধ্যায় সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শাবিতে হামলার প্রতিবাদে ঢাবি-জাবিতে বিক্ষোভ

জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে রোববার রাতে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এ কথা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

শেয়ার করুন

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

আন্দোলনরত শাবি শিক্ষার্থীদের হটিয়ে দিতে ক্যাম্পাসে পুলিশের অ্যাকশন। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এ কথা জানিয়েছেন।

তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও এর জেরে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের পর সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে রোববার রাতে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, যার পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছিলেন সেই প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজা পদত্যাগ করেছেন। তার পরিবর্তে বেগম সিরাজুন্নেসা হলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নাজিয়া চৌধুরীকে।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা হলেও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম চলবে বলে জানান উপাচার্য।

এদিকে, উপাচার্যের এই ঘোষণার পর ফের বিক্ষোভ শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। হল ছাড়বে না বলে ঘোষণা দিয়ে বঙ্গবন্ধু, শাহপরান ও সৈয়দ মুজতবা আলী হলের ছাত্ররা মিছিল করেছে।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্র শাকিল আহমদ জানান, হঠাৎ করে উপাচার্যের এই সিদ্ধান্ত এসেছে। এটা মেনে নেয়া সম্ভব না। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিতে হবে। শিক্ষার্থীরা হল খালি করবে না।

সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান খান বলেন, ‘অনির্দিষ্টকালের বন্ধের কারণে আমরা বিপাকে পড়েছি। হুট করে ১২টার মধ্যে কোথায় যাব? করোনার কারণে এমনিতেই আমাদের শিক্ষাজীবন সংকটে। এখন হল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের কারণে আরও সমস্যায় পড়ব।’

ওই হলের প্রভোস্ট সামিউল ইসলাম জানান, এটা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত; তাদের কিছু করার নেই।

সিদ্ধান্ত না মেনে কোনো শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা হলের ছাত্রীরা বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে তারা সরে যান। দাবি পূরণ না হওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক আটকে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন।

মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সরে গেলেও রোববার সকাল থেকে ফের শুরু হয় তাদের বিক্ষোভ। তাতে যোগ দেন সহপাঠীরাও।

বেলা ৩টার দিকে নিজ কার্যালয় থেকে বের হয়ে বাসভবনের দিকে যাওয়ার পথে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান আন্দোলনকারী ছাত্রীরা। এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উপাচার্যকে ঘেরাও করে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় আইআইসিটি ভবনে গিয়ে অবস্থান নেন উপাচার্য ফরিদ।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

বিকেল ৪টার দিকে সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম ও অন্য শিক্ষকরা গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেন।

উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন।

এর মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের আইআইসিটি ভবন থেকে হটিয়ে উপাচার্যকে বের করে তার বাসভবনে নিয়ে যায় পুলিশ।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ জানান, পুলিশের গুলিতে অধ্যাপক জহির গুলিবিদ্ধ হননি। ওই গুলি কারা ছুড়েছে তা তিনি জানেন না। তাকে মাউন্ড এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক নারী কনস্টেবলও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ইটের আঘাতে তিনিও আহত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলমগীর কবীর জানান, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় শিক্ষক, পুলিশ ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন। তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রক্টর আরও জানান, গুলিবিদ্ধ অধ্যাপক জহিরকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি শঙ্কামুক্ত।

আরও পড়ুন:
চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

শেয়ার করুন

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ‘ভিসির নির্দেশে’

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ‘ভিসির নির্দেশে’

ক্যাম্পাসের ফটক তালাবদ্ধ করে বাইরে শাবি শিক্ষার্থীদের অবস্থান। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনকারী ছাত্র সাত্তার আহমদ বলেন, ‘পুলিশ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা করেছে। ছাত্রীদের মারধর করেছে। গুলি ছুড়েছে। ভিসির নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এর বিচার চাই আমরা।’

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর উপাচার্যের নির্দেশে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পাসে পুলিশ-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলা প্রায় ৩০ মিনিটের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গুলির ঘটনার পর রোববার সন্ধ্যায় ফটকে তালা ঝুলিয়ে বাইরে অবস্থান নিয়ে রেখেছেন তারা। উপাচার্য ও পুলিশের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিচ্ছেন।

ক্ষুদ্ধ ছাত্র সাত্তার আহমদ বলেন, ‘পুলিশ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা করেছে। ছাত্রীদের মারধর করেছে। গুলি ছুড়েছে।
ভিসির নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এর বিচার চাই আমরা।’

তিনি জানান, তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

শিক্ষার্থীরা ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিলেও ভেতরে অবস্থান নিয়ে রেখেছে পুলিশ; আছেন সংবাদমাধ্যম কর্মীরাও।

এই বিষয়ে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সন্ধ্যায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ জানান, উপাচার্যের বাসভবনে চলছে জরুরি সিন্ডিকেট সভা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করতে গিয়েছিলাম। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরা আলোচনার চেষ্টা করি, কিন্তু তারা আমাদের উপর ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করে। এ কারণে পুলিশ বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করে এবং সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে।’

এর আগে সন্ধ্যায় গুলি ছোড়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করলেও রাতে জানান, পুলিশ ২১টি সাউন্ড গ্রেনেড ও ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়েছে।

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ‘ভিসির নির্দেশে’

প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা হলের ছাত্রীরা বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে তারা সরে যান। দাবি পূরণ না হওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন।

মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সরে গেলেও রোববার সকাল থেকে ফের শুরু হয় তাদের বিক্ষোভ। তাতে যোগ দেয় সহপাঠীরাও।

বেলা ৩টার দিকে নিজ কার্যালয় থেকে বের হয়ে বাসভবনের দিকে যাওয়ার পথে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান আন্দোলনকারী ছাত্রীরা। এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উপাচার্যকে ঘেরাও করে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় আইআইসিটি ভবনে গিয়ে অবস্থান নেন উপাচার্য ফরিদ।

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ‘ভিসির নির্দেশে’

ভবনের বাইরে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি।

বিকেল ৪টার দিকে সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম ও অন্য শিক্ষকরা গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেন।

উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন।

এর মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের আইআইসিটি ভবন থেকে হটিয়ে উপাচার্যকে বের করে তার বাসভবনে নিয়ে যায় পুলিশ।

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ‘ভিসির নির্দেশে’

মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ সে সময় জানান, পুলিশের গুলিতে অধ্যাপক জহির গুলিবিদ্ধ হননি। ওই গুলি কারা ছুড়েছে তা তিনি জানেন না। তাকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক নারী কনস্টেবলও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ইটের আঘাতে তিনিও আহত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলমগীর কবীর জানান, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় শিক্ষক, পুলিশ ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছে। তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রক্টর আরও জানান, গুলিবিদ্ধ অধ্যাপক জহিরকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি শঙ্কামুক্ত।

আরও পড়ুন:
চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

শেয়ার করুন