চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

player
চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

আলোচকরা মিডিয়া এবং নেটওয়ার্কিং, মিউজিক, থিয়েটার থেকে চলচিত্র, গোয়েন্দা কাহিনীসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর খোলামেলা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে স্টেফানিয়া পাসামন্টের পিয়ানোর সুরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কবিতা শোনান আরেক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তারকা অভিনেতা স্ট্র্যাটিস প্যানওরিওস।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগ ও কানাডার বিসিআই মিডিয়ার উদ্যোগে ‘একবিংশ শতাব্দীর ফিল্ম অ্যান্ড ডিজিটাল মিডিয়া’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক অনলাইন সম্মেলন উদ্বোধন হয়েছে।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত ৮টায় এ সম্মেলন উদ্বোধনের পর ঘণ্টা দুয়েক ধরে আলোচনা হয় সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে।

বিসিআই মিডিয়া কানাডার সভাপতি আনাস্তাসিও চ্যাটজিওফোনস, গ্র্যামি আওয়ার্ডের জুরি বোর্ড সদস্য লন্ডন মিউজিক পারফরম্যান্স একাডেমির পরিচালক স্টেফানিয়া পাসামন্টে, ফিল্ম ডিরেক্টর লেখক ও অভিনেতা স্ট্র্যাটিস প্যানওরিওস এবং বিসিআই মিডিয়া কানাডার সাংবাদিক ও কবি লেনা কায়রোপোওলিস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজ নিজ ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

তারা মিডিয়া এবং নেটওয়ার্কিং, মিউজিক, থিয়েটার থেকে চলচিত্র, গোয়েন্দা কাহিনীসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর খোলামেলা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে স্টেফানিয়া পাসামন্টের পিয়ানোর সুরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কবিতা শোনান আরেক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তারকা অভিনেতা স্ট্র্যাটিস প্যানওরিওস।

স্তেফানিয়া পাসামোন্টে জানান, লন্ডন থেকে তিনি ইন্টারন্যাশনাল মিউজিক কনসার্ট শুরু করতে যাচ্ছেন, যেখানে বিশ্বব্যাপী একবিংশ শতকের ক্লাসিক্যাল মিউজিকের আদান-প্রদান হবে।

সেখানে বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে থাকা কোনো শিক্ষার্থী বিভিন্ন মাধ্যমের ক্লাসিক্যাল সংগীতের শিক্ষা নিতে পারবে। সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের সুযোগও রয়েছে।

চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

অনুষ্ঠানের অন্যতম সঞ্চালক কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. জহির বিশ্বাস তাদেরকে এই বিভাগের ইন্টারন্যাশনাল রিসোর্স পারসন হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্টেফানিয়া পাসামন্টে ও স্ট্র্যাটিস প্যানওরিওস দুইজনই সানন্দে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধনী বক্তা ছিলেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম, পিইঞ্জ।

চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

সম্মেলনটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের প্রধান ড. জহির বিশ্বাস এবং গ্রিসের কবি ও সাংবাদিক মিসেস লেনা কাইরোপ্লোস।

এ আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম

জুম প্লাটফর্মের মাধ্যমে যে কেউ এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। দ্বিতীয় ও শেষ দিনের অনুষ্ঠান হবে যথাক্রমে ২৪ ও ২৫ ফ্রেব্রুয়ারি।

জুম আইডি :

আইডি : 669 7678 3394

পাসওয়ার্ড: 778899

২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি: https://eu01web.zoom.us/j/66976783394…

সময় : রাত ৮: ০০ (বাংলাদেশ সময়)

এ ছাড়া এই সম্মেলন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে https://www.facebook.com/cubbd সরাসরি সম্প্রচার হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

সোমবার রাতে শাবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: নিউজবাংলা

ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিসি ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় ঢাবি, চবি ও রাবিতে ফুঁসে ওঠা শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সৃষ্ট বিক্ষোভ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে। শাবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ঢাকা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সোমবার নিজ নিজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।

ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে শাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বর্তমান প্রক্টরিয়াল বডিরও অপসারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতেও বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন। বলছেন, কোনো অবস্থায়ই হল ছাড়বেন না তারা।

সোমবার সকাল থেকে শাবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভের পর বিকেলের দিকে আন্দোলনকারীরা ভিসির বাসভবনের দিকে এগোতে থাকেন। ভবনের ফটকে বিপুলসংখ্যক পুলিশের বাধার মুখে তারা সেখানেই অবস্থান নেন।

রাত পৌনে ১টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় শত শত শিক্ষার্থী একই স্থানে বিক্ষোভ করছিলেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

ভিসির বাংলো ঘিরে রেখেছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ।

রাতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ মুহিবুল আলম নিউজবাংলাকে জানান, শিক্ষক সমিতি পুরো পরিস্থিতি এখনও পর্যবেক্ষণ করছে। ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ক্যাম্পাসে নিজ বাসভবনেই আছেন।

তিনি সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্টদের আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভিসিসহ প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন চলছে সোমবার সকালে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও জোরালো হয়ে ওঠে। দলে দলে এসে আন্দোলনে একাত্মতা জানান সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

তাদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এখানে পুলিশ থাকবে কেন। তাদের এই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যেতে হবে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বহিরাগতরা নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে দুপুরে অভিযোগ করেন ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘বহিরাগতদের ইন্ধনে এখন আন্দোলন চলছে। রোববার রাত থেকেই ক্যাম্পাসে বহিরাগতরা প্রবেশ করেছে বলে আমার কাছে তথ্য আছে।’

তবে ভিসির এমন দাবি নাকচ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, ঘটনা ধামাচাপা দিতে মিথ্যাচার করছেন উপাচার্য। ক্যাম্পাসে পুলিশ ছাড়া বহিরাগত কেউ নেই।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় আট সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে গণিত বিভাগের অধ্যাপক ডা. রাশেদ তালুকদারকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য জহির বিন আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রোববারের ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে, কারা দোষী- এটা আমরা খুঁজে বের করব। বিশ্ববিদ্যালয় শান্ত ছিল, হঠাৎ কেন এমন অশান্ত হয়ে উঠল তা বের করা হবে।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের তিন দফা দাবির আন্দোলনে ভিসির নির্দেশেই রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ হামলা চালিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। এ কারণে প্রক্টরিয়াল বডিরও পদত্যাগের দাবি আনা হয়েছে।

শাবির উত্তাপ ঢাবিতে

শাবি ভিসি ফরিদ উদ্দিনের অপসারণ দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছে বামপন্থি বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন।

তারা শাবি বন্ধের ঘোষণাকে অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনগুলো ঢাবি ক্যাম্পাসে সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করে। পরে সব সংগঠন এক সঙ্গে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল শেষে ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া ভবনে সমাবেশ করে তারা।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের (গণসংহতি) সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘শাবি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলন ধামাচাপা দিতে হল ও ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ভিসির অপসারণের দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ
শাবি ভিসির অপসারণ দাবিতে ঢাবিতে সোমবার বিক্ষোভ করেছে বামপন্থি বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। ছবি: নিউজবাংলা

ছাত্র ফেডারেশনের (একাংশের) সভাপতি মিতু সরকার বলেন, ‘শাবি প্রশাসন ছাত্রদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর জন্য পুলিশ ডেকে এনেছে। হামলার পরও শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের মাঠ ছেড়ে যায়নি। আমরা শাবি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানাই।’

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সহ-সভাপতি সাইদুল হক নিশান,পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা দীপন চাকমা ও ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি জহর লাল রায়।

এর আগে একই দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের ব্যানারে আলাদা মানববন্ধন করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

সেখানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স বলেন, ‘শাবি উপাচার্যকে উদ্ধারের নামে অ্যাকাডেমিক ভবনে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর শত শত রাউন্ড টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে। ৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে একটি ন্যক্কারজনক উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে।’

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন করেছে ছাত্র ইউনিয়ন।

ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল বলেন, ‘শাবিতে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির আন্দোলনে ছাত্রলীগ হামলা করেছে। পুলিশ ডেকে যেভাবে বেপোয়ারা লাঠিচার্জ করা হয়েছে তা অত্যন্ত লজ্জার। আমরা অবিলম্বে এর বিচার দাবি করছি।

‘সব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চিত্র এটি। যেখানেই সুষ্ঠু আন্দোলন হয়েছে, সেখানেই সরকারের পেটোয়া বাহিনী ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার চেষ্টা হয়েছে। এই সিস্টেম ভেঙে দিতে হবে।’

ছাত্র অধিকারের আলটিমেটাম

শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সোমবার সন্ধ্যায় তারা ভিসি ফরিদ উদ্দিনের কুশপুতুল দাহ শেষে এ ঘোষণা দেন।

এ সময় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিসি ফরিদ উদ্দিনকে পদত্যাগ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় ঢাবি, চবি ও রাবিতে ফুঁসে ওঠা শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।’

ইয়ামিন বলেন, ‘যে ভিসি শিক্ষার্থীদের ওপর এ ধরনের হামলা ঘটাতে পারেন সেই ভিসি কখনো শিক্ষার্থীবান্ধব নন। আমরা এই ভিসির পদত্যাগ দাবি করছি। তার যদি ন্যূনতম আত্মসম্মানবোধ থেকে থাকে তাহলে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।’

ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি আসিফ মাহমুদ বলেন, শাবিতে হামলায় আজ সারাদেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠছে, সে আগুনের উত্তাপ থেকে কোনোভাবেই সাস্টের ভিসিকে রক্ষা করা যাবে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব সাস্টের ভিসি ফরিদ উদ্দিনকে অব্যাহতি দিন। অন্যথায় সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চুপ করে বসে থাকবে না।’

ঢাবির ঘৃণাস্তম্ভে শাবি ভিসির কুশপুতুল

রাজাকারদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শনের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) নির্মিত ঘৃণাস্তম্ভে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের কুশপুতুল টানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল)।

সোমবার সংগঠনটির সভাপতি গৌতম চন্দ্র শীলের নেতৃত্বে ডাকসু ভবনের পাশে ঘৃণাস্তম্ভে এই কুশপুতুল রাখা হয়।

কুশপুতুলে শাবি উপাচার্যের কোনো অবয়ব না থাকলেও সেখানে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ লেখা আছে। বিসিএল নেতারা সেখানে এক জোড়া জুতাও ঝুলিয়ে দেন।

কুশপুতুলটিতে লেখা হয়, ‘শাবিতে যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে নির্মম হামলার হোতা ভিসি ফরিদের পদত্যাগ দাবি করছি ও এহেন জঘন্য আচরণে তার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করছি।’

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ
ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সোমবার সন্ধ্যায় শাবি ভিসি ফরিদ উদ্দিনের কুশপুতুল দাহ করেন ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

কুশপুতুল স্থাপন শেষে বিসিএল সভাপতি গৌতম চন্দ্র শীল বলেন, ‘শাবিতে যৌক্তিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে নির্মম ও পৈশাচিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা দুঃখজনক। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অযোগ্যতা ও শিক্ষার্থীবিমুখ আচরণের পরিচায়ক।’

কুশপুতল স্থাপনের সময় বিসিএল সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নাঈম হাসান হৃদয়, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

শাবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভিসি ফরিদ উদ্দিনের নির্দেশে এই হামলা হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে তারা এ ঘটনায় বিচার দাবি করেছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে এই কর্মসূচি হয়।

সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, ‘শাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলা ন্যক্কারজনক। দ্রুত হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’

ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. রিফাত বলেন, ‘ভিসির মদদে যখন পুলিশ বাহিনী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়, তখনই বোঝা যায় সেখানকার অবস্থা।’

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে সোমবার দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই মানববন্ধন হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সামশাদ নওশীন ব‌লেন, ‘শা‌বিতে শিক্ষার্থীরা যৌ‌ক্তিক দাবিতে আন্দোলন কর‌ছেন। উপাচা‌র্যের নি‌র্দেশে তা‌দের ওপর পু‌লি‌শের হামলা ও গু‌লিবর্ষণ বর্বরো‌চিত কাণ্ড। এই ঘটনার বিচার চাই আমরা, তা না হ‌লে ব‌রিশাল বিশ্ব‌বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ক‌ঠোর আন্দোলনে নাম‌বেন।’

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে মানববন্ধনে তারা শাবির শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার নিন্দা জানান।

তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ভিসির পদত্যাগের দাবি করেন।

শাবিতে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের ঘটনার পর রোববার রাতেই বিক্ষোভ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদ চলে সোমবারও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ৪৯তম ব্যাচের আয়োজনে মানববন্ধন হয়।

ওই ব্যাচের ছাত্র ইমরান হোসেন শুভ বলেন, ‘বাংলাদেশে যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় আছে তার কোনোটাই ছাত্রবান্ধব নয়। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় যেন ছাত্রবান্ধব হয়। নিজের অধিকার আদায় করতে শিক্ষার্থীদের যেন আর রক্ত ঝরাতে না হয়।’

মানববন্ধনে একাত্মতা জানায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ ও সাংস্কৃতিক জোট।

শাবিতে আন্দোলনের সূত্রপাত

শাবির বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন লিজার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। রোববার আন্দোলনের চতুর্থ দিনে তা সহিংসতায় রূপ নেয়।

রোববার বিকেলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে ধাওয়া দিয়ে অবরুদ্ধ করেন। এর জেরে সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ হামলা চালায়। এতে রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ক্যাম্পাস।

রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেন উপাচার্য। সেই সঙ্গে সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের কাছে সম্প্রতি শিক্ষার্থীরা কিছু সমস্যার কথা জানান। অভিযোগ, এ বিষয়ে তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন। এর প্রতিবাদে জাফরিনের পদত্যাগসহ শুরু হয় তিন দফা দাবিতে আন্দোলন।

শেয়ার করুন

ভেরিফিকেশনে বিলম্ব, শিক্ষক নিয়োগ হবে সুপারিশেও

ভেরিফিকেশনে বিলম্ব, শিক্ষক নিয়োগ হবে সুপারিশেও

অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) ফৌজিয়া জাফরীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ ভেরিফিকেশনের পাশাপাশি প্রাথমিক সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগের সুপারিশ দেয়া হবে। এক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগের পর তার বিরুদ্ধে পুলিশ ভেরিফিকেশনে আপত্তিকর কিছু এলে নিয়োগ বাতিল হবে।’

প্রাথমিক সুপারিশপ্রাপ্ত ৩২ হাজার শিক্ষকের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুলিশ ভেরিফিকেশন চলমান রেখেই বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) ফৌজিয়া জাফরীন সোমবার নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এখন থেকে পুলিশ ভেরিফিকেশনের পাশাপাশি প্রাথমিক সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগের সুপারিশ দেয়া হবে। এক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগের পর তার বিরুদ্ধে পুলিশ ভেরিফিকেশনে আপত্তিকর কিছু এলে নিয়োগ বাতিল হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষকে (এনটিআরসিএ) বলা হয়েছে।

এনটিআরসিএ’র নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষক সংখ্যা বেশি হওয়ায় ভেরিফিকেশনে সময় লাগছে। এ কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ভেরিফিকেশন কার্যক্রম চলমান থাকবে। একইসঙ্গে সুপারিশপত্র দেবে এনটিআরসিএ। শিগগির এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হবে।

গত বছরের ৩০ মার্চ তৃতীয় ধাপে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫৪ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষক নিয়োগে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ।

গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৫৪ হাজার ৩০৪টি শূন্যপদের মধ্যে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ৩১ হাজার ১০১টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত পদ ২৬ হাজার ৮৩৮টি। মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদ ২০ হাজার ৯৯৬টি। এর মধ্যে ১৯ হাজার ১৫৪টি এমপিওভুক্ত। আর ২ হাজার ২০৭টি এমপিও পদ রিট মামলায় অংশ নেয়াদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়।

তবে ৫১ হাজার ৭৬১টি পদে সুপারিশ করার কথা থাকলেও গত বছরের ১৫ জুলাই সুপারিশ করা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৮৬ জন প্রার্থীকে। তাদের মধ্যে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩৪ হাজার ৬১০ জন এবং ননএমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৬৭৬ জন।

আর ৮ হাজার ৪৪৮টি পদে কোনো আবেদন না পাওয়ায় এবং ৬ হাজার ৭৭৭টি নারী কোটায় প্রার্থী না পাওয়ায় ১৫ হাজার ৩২৫টি পদে ফল দেয়নি এনটিআরসি।

এনটিআরসিএ থেকে জানা যায়, ৩৮ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হলেও ভেরিফিকেশন ফরম জমা না দেয়ায় ৩২ হাজার ২৮৩ জন শিক্ষক নিয়োগের পুলিশ ভেরিফিকেশন কার্যক্রম শুরু হয়।

শেয়ার করুন

শাবি ভিসির পদত্যাগ দাবিতে ছাত্র অধিকারের আলটিমেটাম

শাবি ভিসির পদত্যাগ দাবিতে ছাত্র অধিকারের আলটিমেটাম

ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সোমবার সন্ধ্যায় শাবি ভিসি ফরিদ উদ্দিনের কুশপুতুল দাহ করেন ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিসি ফরিদ উদ্দিনকে পদত্যাগ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় ঢাবি, চবি ও রাবিতে ফুঁসে ওঠা শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সোমবার সন্ধ্যায় তারা ভিসি ফরিদ উদ্দিনের কুশপুতুল দাহ শেষে এ ঘোষণা দেন।

এ সময় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিসি ফরিদ উদ্দিনকে পদত্যাগ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় ঢাবি, চবি ও রাবিতে ফুঁসে ওঠা শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।’

ইয়ামিন বলেন, ‘যে ভিসি শিক্ষার্থীদের ওপর এ ধরনের হামলা ঘটাতে পারেন সেই ভিসি কখনও শিক্ষার্থীবান্ধব নন। আমরা সেই ভিসির পদত্যাগ দাবি করছি। তার যদি ন্যূনতম আত্মসম্মান থেকে থাকে, তাহলে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।’

ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি আসিফ মাহমুদ বলেন, শাবিতে হামলায় আজ সারা দেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠছে, সে আগুনের উত্তাপ থেকে কোনোভাবেই সাস্টের ভিসিকে রক্ষা করা যাবে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব সাস্টের ভিসি ফরিদ উদ্দিনকে অব্যাহতি দিন। অন্যথায় সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চুপ করে বসে থাকবে না।’

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) বারবার হামলা করেও শেষ পর্যন্ত সেখানকার ভিসিকে রক্ষা করা যায়নি। সেই ঘটনা থেকে নীতিনির্ধারকদের শিক্ষা নিয়ে শাবি শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

শেয়ার করুন

ঢাবির ঘৃণাস্তম্ভে শাবি ভিসির কুশপুতুল

ঢাবির ঘৃণাস্তম্ভে শাবি ভিসির কুশপুতুল

ডাকসু ভবনের পাশে ঘৃণাস্তম্ভে শাবি ভিসির কুশপুতুল টানিয়েছেন বিসিএল নামের সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

কুশপুতুল স্থাপন শেষে বিসিএল সভাপতি গৌতম চন্দ্র শীল বলেন, ‘শাবিতে যৌক্তিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে নির্মম ও পৈশাচিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা দুঃখজনক। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অযোগ্যতা ও শিক্ষার্থীবিমুখ আচরণের পরিচায়ক।’

রাজাকারদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শনের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) নির্মিত ঘৃণাস্তম্ভে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের কুশপুতুল টানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল)।

সোমবার সংগঠনটির সভাপতি গৌতম চন্দ্র শীলের নেতৃত্বে ডাকসু ভবনের পাশে ঘৃণাস্তম্ভে এই কুশপুতুল রাখা হয়।

কুশপুতুলে শাবি উপাচার্যের কোনো অবয়ব না থাকলেও সেখানে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ লেখা আছে। বিসিএল নেতারা সেখানে এক জোড়া জুতাও ঝুলিয়ে দেন।

কুশপুতুলটিতে লেখা হয়, ‘শাবিতে যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে নির্মম হামলার হোতা ভিসি ফরিদের পদত্যাগ দাবি করছি ও এহেন জঘন্য আচরণে তার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করছি।’

কুশপুতুল স্থাপন শেষে বিসিএল সভাপতি গৌতম চন্দ্র শীল বলেন, ‘শাবিতে যৌক্তিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে নির্মম ও পৈশাচিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা দুঃখজনক। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অযোগ্যতা ও শিক্ষার্থীবিমুখ আচরণের পরিচায়ক।’

শাবি ভিসি ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করে এই নেতা বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, বিশেষ করে ছাত্রীবিমুখ আচরণে অভিযুক্ত রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষের প্রতি হুঁশিয়ারি জানাচ্ছি। তিনিসহ সব প্রাধ্যক্ষ সাবধান হয়ে যান।’

কুশপুতল স্থাপনের সময় বিসিএল সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নাঈম হাসান হৃদয়, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

ইউনিক আইডির ডাটা এন্ট্রি শুরু

ইউনিক আইডির ডাটা এন্ট্রি শুরু

ইউনিক আইডিতে থাকবে শিক্ষার্থীদের সব তথ্য। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

করোনা মহামারিতে দীর্ঘদিন স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় ইউনিক আইডির তৈরি কাজ কিছুটা পিছিয়ে গেলেও এখন তা আবার পুরোদমে চলছে। সোমবার থেকে ইউনিক আইডির সফটওয়্যারে শুরু হয়েছে ডাটা এন্ট্রির কাজ।

দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর জন্য একটি ‘ইউনিক আইডি’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত সব তথ্য থাকবে।

করোনা মহামারিতে দীর্ঘদিন স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় ইউনিক আইডির তৈরি কাজ কিছুটা পিছিয়ে গেলেও এখন তা আবার পুরোদমে চলছে। সোমবার থেকে ইউনিক আইডির সফটওয়্যারে শুরু হয়েছে ডাটা এন্ট্রির কাজ।

রোববার রাতে ইউনিক আইডির প্রকল্প পরিচালক শামসুল আলমের সই করা এক অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

জানতে চাইলে শামসুল আলম বলেন, সফটওয়্যারে এন্ট্রি দেয়ার মাধ্যমে আজ থেকে ইউনিক আইডির তৈরির সর্বশেষ ধাপের কাজ শুরু হলো। যেসব শিক্ষার্থীর তথ্য এন্ট্রি দেয়া শেষ হবে তারা পর্যায়ক্রমে ইউনিক আইডি পেতে থাকবে।

অফিস আদেশে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যানবেইস কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন IEIMS প্রকল্পের আওতায় CRVS ব্যবস্থার আলোকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের (ষষ্ঠ-দ্বাদশ শ্রেণি) শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল ডাটাবেজ তৈরি ও ইউআইডি প্রদানের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে তথ্যছক পূরণের কার্যক্রম চলমান আছে। আজ থেকে সফটওয়্যারে ডাটা এন্ট্রি ও আপলোড শুরু হবে, যা আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার অনুরোধ করা হলো।

আরও বলা হয়, সফটওয়্যারে শিক্ষার্থীর পিতা-মাতা বা অভিভাবকের জন্মনিবন্ধন ১৭ ডিজিটে দিতে হবে। অর্থাৎ এই জন্মসনদ নম্বর ১৩ ডিজিটবিশিষ্ট হলে এন্ট্রি দেয়ার সময় জন্মসাল যুক্ত করতে হবে।

যেভাবে ডাটা এন্ট্রি দিতে হবে

ব্যানবেইসের ওয়েবসাইট থেকে (www.banbeis.gov.bd) থেকে IEIMS মেন্যুতে গিয়ে ইউনিক আইডির লাইভ সার্ভারে ক্লিক করে CRVS Institution Login page-এ যেতে হবে। অথবা http://crvs-institute.banbeis.gov.bd/ তে ক্লিক করে CRVS Institution Login page-এ যেতে হবে।

সফটওয়্যারে এন্ট্রি ও আপলোড করার কাজে দায়িত্বপালকারী শিক্ষকদের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধান পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে পারবেন। অ্যাডমিন হিসেবে প্রতিষ্ঠানপ্রধান সর্বোচ্চ পাঁচটি ইউজার আইডি তৈরি করতে পারবেন। তবে ইউজার আইডি ও পাসওর্য়াড দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ছাড়া হস্তান্তরযোগ্য নয়।

ইউনিক আইডির ডাটা এন্ট্রি শুরু

‘ইউনিক আইডি’র তথ্য পূরণের ক্ষেত্রে কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে ব্যানবেইস। ছবি: নিউজবাংলা

ইউনিক আইডি কেন

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এক জায়গায় রাখার জন্য তৈরি করা হচ্ছে ইউনিক আইডি। শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে এই আইডি জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) রূপান্তরিত হবে।

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরির দায়িত্বে আছে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)। আর প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরি করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

কেন শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিক আইডি তৈরি করা হচ্ছে, এমন প্রশ্নে প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘কোনো শিশু জন্মগ্রহণ করলেই স্থানীয় সরকার বিভাগের অফিস অফ রেজিস্ট্রার জেনারেলের আওতায় তার জন্ম নিবন্ধন হয়। আর ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া সবার জন্য আছে জাতীয় পরিচয়পত্র। কিন্তু যারা প্রাইমারি, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী, অর্থাৎ যাদের বয়স ১৮-এর নিচে তারা এই সিস্টেমের বাইরে। এ জন্য তাদের সিস্টেমের মধ্যে আনতেই ইউনিক আইডি তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

ফরমে যেসব তথ্য দিতে হয়

স্ট্যাবলিশমেন্ট অফ ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইইআইএমএস) প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা চার পৃষ্ঠার ফরমে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ফরমে শিক্ষার্থীর নাম, জন্মনিবন্ধন নম্বর, জন্মস্থান, জেন্ডার, জাতীয়তা, ধর্ম, অধ্যয়নরত শ্রেণি, রোল নম্বর, বৈবাহিক অবস্থা, প্রতিবন্ধিতা (ডিজ-অ্যাবিলিটি), রক্তের গ্রুপ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কি না, মা-বাবার নামসহ বেশ কিছু তথ্যের ঘর রয়েছে।

বৈবাহিক অবস্থার অপশন হিসেবে অবিবাহিত, বিবাহিত, বিধবা, বিপত্নীক ছাড়াও স্বামী-স্ত্রী পৃথক বসবাস, তালাকপ্রাপ্ত, বিয়েবিচ্ছেদের ঘরও রয়েছে ফরমে।

শেয়ার করুন

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, উপাচার্যের মদদে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। শাবি উপাচার্যের নির্দেশে এই হামলা হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে তারা এ ঘটনায় বিচার দাবি করেছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে এই কর্মসূচি হয়।

সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো যৌক্তিক দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করতে পারেন। ক্যাম্পাস গণতন্ত্র ও মুক্তচিন্তা চর্চার জায়গা। এমন একটি স্থানে যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলা ন্যক্কারজনক।

‘এতে আমাদের অনেক শিক্ষার্থী ভাই ও বোনেরা গুরুতর আহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। দ্রুত হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাচ্ছি।’

ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. রিফাত বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন একটি ক্যাম্পাসের সর্বোচ্চ অভিভাবক। সেই অভিভাবকের মদদে যখন পুলিশ বাহিনী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়, তখনই বোঝা যায় সেখানকার অবস্থা।

‘ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধে শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি আন্দোলনে হামলা চালানো হচ্ছে। এটি একটি দেশের জন্য মোটেও ভালো কিছু নয়।’

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে সোমবার দুপু‌রে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই মানববন্ধন হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সামশাদ নওশীন ব‌লেন, ‘শা‌বিপ্রবি‌তে শিক্ষার্থীরা যৌ‌ক্তিক দাবিতে আন্দোলন কর‌ছেন। উপাচা‌র্যের নি‌র্দেশে তা‌দের উপর পু‌লি‌শের হামলা ও গু‌লিবর্ষণ বর্বরো‌চিত কাণ্ড। পু‌লিশ শা‌বিপ্রবি ক‌্যাম্পা‌সে একটা তুলকালাম কাণ্ড সৃ‌ষ্টি ক‌রে‌ছে। এতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হ‌য়ে‌ছেন।

‘এই ঘটনার বিচার চাই আমরা, তা না হ‌লে ব‌রিশাল বিশ্ব‌বিদ‌্যালয় শিক্ষার্থীরাও ক‌ঠোর আন্দোলনে নাম‌বেন।’

মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করেন। ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের ভোলা সড়কের মোড় হয়ে ফের ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয় মিছিলটি।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে মানববন্ধনে তারা শাবির শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার নিন্দা জানান।

বক্তারা জানান, পুলিশ দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে উপাচার্য তার পদে থাকার নীতিগত অধিকার হারিয়েছেন।

তারা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সব দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান এবং অবিলম্বে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ভিসির পদত্যাগের দাবি করেন।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের ঘটনার পর রোববার রাতেই বিক্ষোভ করেন সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদ চলে সোমবারও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ৪৯তম ব্যাচের আয়োজনে মানববন্ধন হয়।

ওই ব্যাচের ছাত্র ইমরান হোসেন শুভ বলেন, ‘বাংলাদেশে যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় আছে তার কোনোটাই ছাত্রবান্ধব না। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় যেন ছাত্রবান্ধব হয়। নিজের অধিকার আদায় করতে শিক্ষার্থীদের যেন আর রক্ত ঝরাতে না হয়।’

মানববন্ধনে একাত্মতা জানান বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ ও সাংস্কৃতিক জোট।

শেয়ার করুন

‘শিক্ষার্থীরা নয়, উপাচার্যকেই শাবি ছাড়তে হবে’

‘শিক্ষার্থীরা নয়, উপাচার্যকেই শাবি ছাড়তে হবে’

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন শাবি শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব বলেন, ‘প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে রাতে ক্যাম্পাসে থাকলে আমাদের নিরাপত্তার দায় তারা নেবেন না। তারা তো দিনেই আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারেননি। বরং পুলিশ দিয়ে আমাদের পিটিয়ে আহত করেছেন। ফলে তাদের কাছে আমরা নিরাপত্তা চাই না। বরং তাদের পদত্যাগ চাই।’

উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর বোমা মেরেছে এমন অভিযোগ করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘যারা বোমা মারে ও বোমা মারার নির্দেশ দেয় তাদের কাছে এই ক্যাম্পাস নিরাপদ না। আমরা এই লোকদের হাতে ক্যাম্পাস রেখে চলে যেতে পারি না।’

তাদের বক্তব্য, ‘শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ছাড়বে না বরং উপাচার্যকে এই বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যেতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও হল ছাড়তে প্রশাসনের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এমন কথা বলেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের পর রাতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা দেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন। সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশনা দেন তিনি।

তবে এদিন সকাল থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বিকেলে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন তারা।

উপচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের হল ছেড়ে যেতে প্রশাসন চাপ দিচ্ছে।

সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে অবস্থান করলে তাদের নিরাপত্তা দেয়া হবে না বলেও হল প্রভোস্টের পক্ষ বলা হয়েছে এমন অভিযোগ করে লোকপ্রশাসন বিভাগের ছাত্র মোসাদ্দেক মিম বলেন, ‘এই উপাচার্যের নির্দেশে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। প্রক্টর, ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টার সামনেই আমাদের মারধর করেছে।’

‘শিক্ষার্থীরা নয়, উপাচার্যকেই শাবি ছাড়তে হবে’


তিনি বলেন, ‘যারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন, ক্যাম্পাসে বোমা মারার নির্দেশ দেন তাদের হাতে আমাদের ক্যাম্পাস নিরাপদ নয়। তাদের কাছে ক্যাম্পাস ফেলে রেখে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যেতে পারি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থেই আমরা ক্যাম্পাস ছাড়ব না। বরং উপাচার্যসহ তার সঙ্গীদের ক্যাম্পাস ছাড়তে হবে।’

অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব বলেন, ‘প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে রাতে ক্যাম্পাসে থাকলে আমাদের নিরাপত্তার দায় তারা নেবেন না। তারা তো দিনেই আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারেননি। বরং পুলিশ দিয়ে আমাদের পিটিয়ে আহত করেছেন। ফলে তাদের কাছে আমরা নিরাপত্তা চাই না। বরং তাদের পদত্যাগ চাই।’

উপাচার্যের পদত্যাগের আগ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও জানান তিনি।

উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে সোমবার বিকেলে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ৭টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন তারা। উপচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশকেও ওই এলাকায় অবস্থান নিতে দেখা যায়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন বলেন, ‘ছাত্রদের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আট সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্টে কারও গাফিলতি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

‘শিক্ষার্থীরা নয়, উপাচার্যকেই শাবি ছাড়তে হবে’


তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থিতিশীলতার স্বার্থে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত।’

রোববার পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে যারা আহত হয়েছেন তাদের চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করবে বলেও জানান রেজিস্ট্রার।

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। উপচার্যের পদত্যাগ দাবিতে গণস্বাক্ষরও সংগ্রহ করছেন তারা। এই গণস্বাক্ষর রাষ্ট্রপতি বরাবর পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

এর আগে আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। তবে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদ সংবাদকর্মীদের বলেন, ‘ক্যাম্পাসে বহিরাগতরা ঢুকে পড়েছে। আন্দোলনে তারাই ইন্ধন দিচ্ছে।’

শেয়ার করুন