বরিশালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নেপথ্যে কারা

শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে চিকিৎসা নেন হামলার শিকার শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

বরিশালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নেপথ্যে কারা

প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনকারীরা প্রকাশ্যে কারও নাম না বললেও স্থানীয় ছাত্রলীগের দুই নেতার সম্পৃক্ত থাকার কথা মুখে মুখে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ‘দুর্ব্যবহারের’ প্রতিক্রিয়ায় এ হামলা হয়েছে। 

নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকার মেসে ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটে, তার নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রলীগের প্রভাবশালী দুই নেতার বিরুদ্ধে।

তবে প্রকাশ্যে কেউ তাদের নাম উল্লেখ না করে শুধু পরিবহন শ্রমিক ও মালিক নেতাদের নাম সামনে আনছেন।

আন্দোলনকারী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করলেও সেখানে কেউই ওই দুই ছাত্রলীগ নেতার নাম বলেননি। এ কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অসন্তুষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ কর্মীরাও।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা ভয়ে জড়িতদের নাম না বললেও ইঙ্গিতে জানিয়ে দিচ্ছেন কারা ছিলেন সেই রাতে হামলার নেতৃত্বে।

১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নগরীর রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে বিআরটিসি বাস কাউন্টারের এক কর্মীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জেরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ছুরিকাহত ও এক ছাত্রী লাঞ্ছিত হন।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। তবে ওইদিন রাতে হামলা হয় রূপাতলী হাউজিং এলাকায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেসে।

মহাসড়কে বাসে আগুন দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা



কী কারণে শিক্ষার্থীদের মেসে হামলা হয়েছিল?

অনুসন্ধানে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক‌য়েকজন উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থীর ‘খারাপ আচরণ আর বেয়াদবির’ কারণে মেসে হামলা হয় শিক্ষার্থীদের ওপর।

মঙ্গলবার দুপুরে সড়ক অবরোধের পরপর সেই রাতেই হামলার ঘটনা নিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যক্ষদর্শী পাঁচ শিক্ষার্থীর সঙ্গে এ প্রতিবেদক আলাদাভাবে কথা বলেন। তাদের সবার ভাষ্যে মিল পাওয়া গেছে।

তারা জানিয়েছেন, বিআরটিসি বাস কাউন্টারের কর্মীদের সঙ্গে ঝামেলার পর শিক্ষার্থীরা ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করলে সেখানে যান বাসমালিক, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা।

শিক্ষার্থী‌দের শান্ত কর‌তে সেখানে যারা গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন মহানগর আওয়ামী লী‌গের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জা‌হিদুর রহমান ম‌নির মোল্লা, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও ব‌রিশাল পটুয়াখালী মি‌নিবাস মা‌লিক স‌মি‌তির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন, সা‌বেক ছাত্রলীগ নেতা জিয়াউ‌দ্দিন জিয়া, ব‌রিশাল জেলা ছাত্রলী‌গের সহসভাপ‌তি সাজ্জাদ সের‌নিয়াবাত, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব হো‌সেন খান ও ২৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লী‌গের সাধারণ সম্পাদক ইমরান মোল্লা।

নেতারা বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস ও দোষীদের বিচারের নিশ্চয়তা দিলেও উচ্ছৃঙ্খল কিছু শিক্ষার্থী ওই নেতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তারা নেতাদের গালিগালাজ করেন এবং তাদের ওপর হামলা করতে উদ্যত হন।

‘অপমানিত’ নেতারা কিছু না বলে চলে যান। তবে উচ্ছৃঙ্খল আচরণকারী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করতে রূপাতলী হাউজিং এলাকার মেসে ঢুকে হামলা চালায় একদল লোক। এদের মধ্যে দুপুরে মধ্যস্থতাকারী জেলা ছাত্রলীগের অন্তত দুজন প্রভাবশালী নেতাকেও দেখা যায়।

দুই পরিবহন শ্রমিককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বাস মালিক ও শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

অভিযোগ পাওয়া গেছে, এ হামলার পেছনে মহানগর আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার ইন্ধন ছিল। কিন্তু রহস্যজনকভাবে আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা জেনেও এদের নাম প্রকাশ করছেন না। তারা শুধু পরিবহন শ্রমিকদের কথা বলছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা এ প্রতিবেদককে জানান, গভীর রাতে মেসে হামলার কারণ বিআরটিসি কর্মীদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব নয়। হামলার কারণ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে অশোভন আচরণ। শুধু আন্দোলন চাঙা রাখতে পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের নাম আনা হচ্ছে সামনে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্র বলেন, ‘আন্দোলন করতে চায় আন্দোলনকারীরা। তবে সেটা নিজেদের বাঁচিয়ে। আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ নেতাদের নাম সামনে আসছে না শুধু নিজেদের বাঁচানোর জন্য। তা না হলে আন্দোলনকারীরা নিজেরাই চাপে আলু ভর্তা হয়ে যাবে। মূল হামলাকারী কারা সেটা সবাই জানে। কেউ বলছে না মিডিয়ায়। এই ভয়ে তারা ভারসাম্য রেখে আন্দোলন করছেন।’

আন্দোলন শুরুর পরই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একটি ফেসবুক গ্রুপে এক ছাত্রলীগকর্মী স্ট্যাটাস দেন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয় নিয়ে। ওই স্ট্যাটাসে বলা হয়, মহানগর আওয়ামী লীগ থেকে পুলিশকে হাত করা হয়েছে এবং মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতার উসকানি এবং ইন্ধনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয়েছে।

হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই জন

এ বিষয়ে কথা হয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়-কেন্দ্রিক ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত একজনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মেসে হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগকর্মী আলীম সালেহীও গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে তাকে ভুলবশত মারা হয়েছিল। একজনকে মারতে গিয়ে আলীম সালেহীর ওপর ভুলে হামলা হয়। যারা আলীম সালেহীকে পিটিয়েছেন, তারাই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। হামলার পুরো বিষয়টাই পরিকল্পিত ছিল।’

প্রত্যক্ষদর্শী আরও এক শিক্ষার্থী ব‌লেন, ‘মহানগর আওয়ামী লী‌গের প্রভাবশালী এক নেতার ঘ‌নিষ্ঠ হামলায় নেতৃত্ব দানকারী ছাত্রলীগ নেতারা। হামলার আগেই রূপাতলী হাউজিং এলাকার সব রাস্তার মু‌খে ব্যা‌রি‌কেড দেয়া হয়। পু‌রোটাই পরিকল্পিত ছি‌ল।’

এ বিষ‌য়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি মাহামুদুল হাসান তমাল বলেন, ‘মে‌সে হামলার ঘটনা যে ভব‌নের সি‌সি ক্যামেরায় রেকর্ড করা হ‌য়ে‌ছি‌ল, সেটা ডি‌বি প‌রিচ‌য়ে লোকজন এসে শুক্রবার রা‌তে ডি‌লিট ক‌রে ফে‌লে। ওই ক্যামেরার ফু‌টেজ দেখা গে‌লে হামলাকারী‌দের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হ‌তো।’

আন্দোলনকারী ছাত্রী আলিসা মুনতাজ ব‌লেন, ‘আহত ১১ ভিক‌টিম আলোচনা ক‌রে যে নামগু‌লো সা‌জেস্ট ক‌রে‌ছে, সেগু‌লোই মি‌ডিয়ায় বলা হ‌য়ে‌ছে।’

আন্দোলনকারী ছাত্র অমিত হাসান র‌ক্তিম ব‌লেন, ‘হামলায় বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতার জড়িত থাকার কথা নিশ্চিত করেছেন আহতরা। তবে তাদের অতীত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আমাদেরকে ভীত করেছে। এদিকে যাদের নাম উন্মোচিত হয়েছে, তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনও গ্রেপ্তার করেনি। ফলে নিরাপত্তাহীনতার কারণেই ছাত্রলীগ নেতাদের নাম সামনে আসছে না।’

বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা কেন করব? আমার নিজের সন্তানও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। দুর্বৃত্ত ও দুষ্কৃতকারীরা এই হামলা চালিয়েছে। মামলায় যে দুই শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা নির্দোষ। এটা শুধু আমরা নই, শিক্ষার্থীরাও বলছে। আমরাও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সুব্রত কুমার দাস বলেন, ‘১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা এখন দাবি তুলেছেন মামলায় কয়েকটি নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য। আমরা আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাব।’

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মোকতার হোসেন বলেন, ‘হামলা কারা করেছে সেটা আমরা অধিকতর গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ৩১ জুন, আবেদন ২ মে থেকে

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ৩১ জুন, আবেদন ২ মে থেকে

ভর্তির আবেদনের তারিখসহ ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ওয়েবসাইটে http://www.bsmrau.edu.bd পাওয়া যাবে।

সাতটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ পদ্ধতিতে প্রথম বর্ষ স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার সব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে।

আগামী ২ মে থেকে ভর্তির আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হবে ১০ জুন।

এমসিকিউ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হবে আগামী ৩১ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। ফলাফল প্রকাশ হবে ৫ আগস্ট।

সোমবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য ও কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির আহবায়ক গিয়াসউদ্দীন মিয়ার সভাপতিত্বে ভর্তি কমিটির অনলাইন সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়।

ভর্তির আবেদনের তারিখসহ ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ওয়েবসাইটে http://www.bsmrau.edu.bd পাওয়া যাবে।

সভায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. লুৎফুল হাসান, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. মতিয়ার রহমান হাওলাদার, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. শহীদুর রহমান খান ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত যুক্ত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ তোফায়েল আহমেদ, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান, বরিশাল শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম তালুকদার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি বিশেষজ্ঞ, ড. মো. আলী আশরাফ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক মো. মুস্তাগিজ বিল্লাহ, শেরো বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচারাল বোটানি বিভাগের অধ্যাপক এ. এম. এম শামসুজ্জামান ও বশেমুরকৃবির আইটি বিশেষজ্ঞ মুহাম্মদ আকরামও এতে যুক্ত ছিলেন।

শেয়ার করুন

পিসিআর মেশিনসহ গবেষণা সরঞ্জাম পেল জগন্নাথ

পিসিআর মেশিনসহ গবেষণা সরঞ্জাম পেল জগন্নাথ

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টোন থেকে জবিতে পাঠানো ল্যাবসামগ্রী। ছবি: নিউজবাংলা

‘যে গবেষণা সরঞ্জাম আমরা পেয়েছি, এতে করে একটি উচ্চ মানসম্পন্ন ল্যাব তৈরি করতে পারব। যা বায়োটেকনোলজিক্যাল গবেষণার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যেটা হাতে কলমে শিক্ষার্থীদের শেখাতে পারছিলাম না সেটা সম্ভব হবে৷ এ ছাড়াও আমাদের গবেষণার পরিবেশটা সম্প্রসারণ হবে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি পিসিআর মেশিনসহ প্রায় তিন কোটি টাকার গবেষণা সরঞ্জাম এসে পৌঁছেছে।

অন্য সরঞ্জামের মধ্যে আছে ল্যামিনার ফ্লো, মাইনাস ২০ ডিগ্রি ফ্রিজসহ প্রায় ৯৪টি উচ্চতর গবেষণা সরঞ্জাম।

যুক্তরাষ্ট্রের সিডিং ল্যাব ইনস্ট্রুমেন্টাল একসেস অ্যাওয়ার্ড-২০২০ পাওয়ায় শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নের জন্য এসব সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ এই পুরস্কার পেয়েছে।

রোববার এসব যন্ত্রপাতি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোস্তফা কামাল।

অ্যাওয়ার্ড ঘোষণার প্রায় ১১ মাস পর আজ সকালে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টোন থেকে এসব ল্যাবসামগ্রী ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছায়।

গত বছর ২৭ মে সিডিং ল্যাবের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা করা হয়। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ বিজ্ঞানীদের শিক্ষা ও গবেষণার জন্য স্বল্প খরচে উন্নতমানের বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রধান দিলারা ইসলাম শরীফ বলেন, ‘গত বছর বিশ্বের ১০টি দেশের মোট ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয় এই অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে। বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অ্যাওয়ার্ডটা পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘যে গবেষণা সরঞ্জাম আমরা পেয়েছি, এতে করে একটি উচ্চ মানসম্পন্ন ল্যাব তৈরি করতে পারব। যা বায়োটেকনোলজিক্যাল গবেষণার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের জন্য এই সামগ্রীগুলো কতটা মাত্রা যোগ করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা যেটা হাতে কলমে শিক্ষার্থীদের শেখাতে পারছিলাম না সেটা সম্ভব হবে৷ এ ছাড়াও আমাদের গবেষণার পরিবেশটা সম্প্রসারণ হবে। ইউজিসি ও দেশের বাইরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে গবেষণার বিভিন্ন খাত থাকে, আমরা সেই গবেষণাগুলো নিয়মিতভাবে করতে পারব।’

পিসিআর মেশিনে করোনা টেস্ট করা যাবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘করোনা টেস্ট এর জন্য যে ধরনের ইকুয়েপমেন্ট দরকার তার কিছু বাকি আছে। তবে করোনা টেস্ট এর জন্য যে ধরণের জীবানুমুক্তকরণ পরিবেশের ল্যাব পরিবেশ দরকার তা আমাদের নেই। সেই পরিবেশ সৃষ্টি করা গেলে আমরা করতে পারব।

‘দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত করোনা পরীক্ষা কেন্দ্র আছে। আমাদের ইচ্ছা করোনার ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে গবেষণা করা, পাশাপাশি সেগুলো প্রতিরোধে কিভাবে ভ্যাকসিন তৈরি করা যাবে সেটা নিয়ে কাজ করা।’

আমেরিকার সিডিং ল্যাব নামের একটি বেসরকারি সংগঠন এই অ্যাওয়ার্ড দিয়ে থাকে। যার উদ্দেশ্য নিম্ন মধ্যবিত্ত দেশের তরুণ বিজ্ঞানীদের নতুন কিছু আবিষ্কার ও গবেষণায় উৎসাহিত করা।

এই অ্যাওয়ার্ডের মাধ্যমে গবেষণার যন্ত্রপাতি বিশ্বের ১০টি দেশের ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি বিভাগে সরবরাহ করবে। এ ছাড়া যারা মনোনীত হয় তাদেরকে বিশ্বব্যাপী সিডিং ল্যাবের অন্য বিজ্ঞানীদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ থাকবে।

শেয়ার করুন

দরিদ্রদের খাবার দিচ্ছে জবি ছাত্র ইউনিয়ন

দরিদ্রদের খাবার দিচ্ছে জবি ছাত্র ইউনিয়ন

শনিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ আশপাশের বাহাদুর শাহ পার্ক, সদরঘাট, ইসলামপুর, লক্ষ্মীবাজার, কোর্ট-কাচারি এলাকায় এক বেলার খাবার বিতরণ করেছে ছাত্র ইউনিয়নের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

বাংলাদেশে চলছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে চলছে লকডাউন। এতে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা। নিম্ন আয়ের মানুষদের পাশে দাঁড়াতেই এক বেলার খাবার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়ন।

শনিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ আশপাশের বাহাদুর শাহ পার্ক, সদরঘাট, ইসলামপুর, লক্ষ্মীবাজার, কোর্ট-কাচারি এলাকায় এক বেলার খাবার বিতরণ করেছে ছাত্র ইউনিয়নের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

জানা গেছে, লকডাউনের শুরু থেকেই প্রতিদিন ৫০-৮০ জন মানুষকে এক বেলার খাবার দিচ্ছে জবি ছাত্র ইউনিয়ন শাখা। ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপ ‘চাল, ডাল, আলু বাঁচার জন্য ৪৫০ টাকায় এক সপ্তাহ’ এর সহযোগিতায় চলছে খাবার বিতরণ কর্মসূচি। এ সময় শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে ছাত্র ইউনিয়ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি কে এম মুত্তাকী বলেন, ‘লকডাউনে অনেক শ্রমিক ও দিনমজুরের কাজ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আশপাশের অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও মানুষ আছে, যারা ঠিকমতো খাবার খেতে পারছে না। তাদের কথা চিন্তা করেই আমরা এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। তাদের কাছে এক বেলা খাবার পৌঁছে দিচ্ছি।’

শেয়ার করুন

জগন্নাথের শিক্ষার্থীদের বৃত্তির আবেদন আহ্বান

জগন্নাথের শিক্ষার্থীদের বৃত্তির আবেদন আহ্বান

প্রতি বিভাগে তিন জনকে মাসে চার শ টাকা হারে মেধা বৃত্তি এবং এক শিক্ষাবর্ষের জন্য বিনা বেতনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ দেয়া হবে। মেধা বৃত্তি ছাড়াও প্রতি বিভাগে শতকরা ১০ জন অস্বচ্ছল ছাত্রছাত্রীকে বিনা বেতনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে দেয়া হবে। বিভাগে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী থাকলে তাদেরকে আবেদন করার জন্য উৎসাহিত করতে বলা হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মেধা ও অবৈতনিক এই দুই শাখায় বৃত্তি জন্য অনলাইনে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ওহিদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ ব্যাপারে একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

রেজিস্ট্রার বলেন, student.erp.jnu.ac.bd অর্থাৎ student login প্যানেলে login করার পর ডানদিকে “Apply for scholarship” লিংকে ক্লিক করে আবেদন করা যাবে।

এরপর সংশ্লিষ্ট বিভাগ নির্ধারিত লিংকে ঢুকে শিক্ষার্থীদের আবেদনপত্র ডাউনলোড করতে হবে। বিধি মোতাবেক দ্বিতীয় অংশে সুপারিশসহ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এর দপ্তরে ২৪ মে’র মধ্যে পাঠাবেন।

আবেদনপত্রের তৃতীয় অংশ সঠিকভাবে যাচাই করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর ৩ জুন এর মধ্যে রেজিস্ট্রার দপ্তরে পাঠাবে।

মেধা বৃত্তি ক্যাটাগরিতে প্রতি বিভাগে তিন জনকে মাসে চার শ টাকা হারে মেধা বৃত্তি এবং এক শিক্ষাবর্ষের জন্য বিনা বেতনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ দেয়া হবে।

প্রতি বিভাগে শতকরা ১০ জন অস্বচ্ছল ছাত্র-ছাত্রীকে বিনা বেতনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে দেয়া হবে।

বিভাগে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী থাকলে তাদেরকে আবেদন করার জন্য উৎসাহিত করতে বলা হয়েছে। একজন শিক্ষার্থী যে কোনো একটি ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারবে।

২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে এক হাজার ১১৬ জনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মেধা ও অবৈতনিক বৃত্তি দেয়া হয়। এদের মধ্যে স্নাতক পর্যায়ে ৩০৭ জনকে মেধাবৃত্তি ও ৭১০ জনকে অবৈতনিক বৃত্তি এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৪০ জনকে মেধাবৃত্তি ও ৫৯ জনকে অবৈতনিক বৃত্তি দেয়া হয়েছিল।

শেয়ার করুন

সময় বাড়ল গুচ্ছ ভর্তির আবেদনের

সময় বাড়ল গুচ্ছ ভর্তির আবেদনের

লকডাউন যেদিন শেষ হবে, তার থেকে ১০ দিন পর পর্যন্ত আবেদনের সময় থাকবে। একই সাথে মানবিক ও বাণিজ্যে ১ করে গ্রেড কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।  

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদনের শেষদিনে বাড়ানো হলো আবেদনের সময়। একই সঙ্গে কমানো হয়েছে আবেদনের গ্রেডিংও।

বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয় কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক সদস্য।

এর আগে গত ১০ এপ্রিল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, বাড়ানো হবে না আবেদনের সময়।

বৈঠকে উপস্থিত বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর বলেন, ‘আজকে (বৃহস্পতিবার) আমাদের মিটিং ছিল। যেহেতু লকডাউন, তাই অনেকেই আবেদন করতে পারেনি। আবেদনের সংখ্যাও অনেক কম। আমরা আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। লকডাউন যেদিন শেষ হবে, তার থেকে ১০ দিন পর পর্যন্ত আবেদনের সময় থাকবে। একই সাথে মানবিক ও বাণিজ্যে ১ করে গ্রেড কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কত আবেদন পড়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবেদন পড়েছে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৮০৪। যার মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩৮ জন। ‘বি’ ইউনিটে ৯১ হাজার ৫৩৫ জন ও ‘সি’ ইউনিটে ৪৬ হাজার ৭৩৩ জন আবেদন করেছেন।

গত ১ এপ্রিল থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদন শুরু হয়। পরীক্ষা শুরু হবে ১৯ জুন থেকে। গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার বিস্তারিত তথ্য ভর্তি সংশ্লিষ্ট ওয়েব সাইট (www.gstadmission.org এবং www.gstadmission.ac.bd) এ পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুন

জবিতে ভার্চুয়াল বর্ষবরণ

জবিতে ভার্চুয়াল বর্ষবরণ

বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি সম্প্রচারিত হয় অনুষ্ঠান। শিক্ষকরা শুভেচ্ছা জানান শিক্ষার্থীদের। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয় নাচ, গান ও কবিতা।

করোনা নববর্ষ উদযাপন বিঘ্নিত করলেও সবকিছু থামিয়ে দিতে পারেনি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ভার্চুয়ালি উদযাপন করেছে বাংলা নববর্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে সম্প্রচারিত হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে তা ছিল অনেকটাই প্রাণবন্ত।

বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, ‘বাঙালির প্রাণের উৎসব হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। ধর্মীয় ক্ষেত্রে উৎসব পালনে একটি ভেদাভেদ থাকে কিন্তু এই উৎসব পালনে কোন ভেদাভেদ নেই।’

অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (জবিশিস) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. শামীমা বেগম বলেন, ‘কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হচ্ছে বাংলা নববর্ষ। দিনটি উদযাপন করোনার কারণে বিঘ্নিত হয়েছে। কিন্তু আমাদের এভাবে থমকে গেলে চলবে না। হতাশা ও দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে হবে।’

জবিশিসের সভাপতি অধ্যাপক ড. নূরে আলম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এ দিনটি আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রকাশের দিন। বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পুরান ঢাকার অন্যতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।’

শুভেচ্ছা বক্তব্য শেষে সংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নাচ, গান ও কবিতা পরিবেশন করেন।

শেয়ার করুন

লকডাউনে বন্ধ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

লকডাউনে বন্ধ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, লকডাউন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি পরিষেবা (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, টেলিফোন ও ইন্টারনেট এবং নিরাপত্তা) চালু থাকবে এবং সরকারের জারিকৃত অন্যান্য নির্দেশনাও পালন করা হবে।

সরকারের দেয়া লকডাউনের কারণে ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সব বিভাগ/দপ্তর বন্ধ থাকবে।

মঙ্গলবার উপাচার্যের (ভারপ্রাপ্ত) আদেশক্রমে রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি অবনতির কারণে ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগ/দপ্তর বন্ধ থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, লকডাউন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি পরিষেবা (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, টেলিফোন ও ইন্টারনেট এবং নিরাপত্তা) চালু থাকবে এবং সরকারের জারি করা অন্যান্য নির্দেশনাও পালন করা হবে।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার ছুটি বাড়ালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বাড়াবে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত ৩১ মার্চ প্রথম ধাপের লকডাউনের আগেই সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ/দাপ্তরিক কার্যক্রম সীমিত আকারে পরিচালনা ও বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা বন্ধ করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শেয়ার করুন