হল ছাড়তে রাজি জাবি ছাত্রলীগ

হল ছাড়তে রাজি জাবি ছাত্রলীগ

জাবি শাখা ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক নীলাদ্রি শেখর বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী বলার পর কালকে রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে নির্দেশনা আসছে যে, হলে থাকা যাবে না। সেই জায়গা থেকে আমরা যারা ছাত্রলীগ করি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অমান্য করার সুযোগ নেই আমাদের।’

কেন্দ্র থেকে নির্দেশনার পর হল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ। সেই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও হল ছাড়তে আহ্বান জানিয়েছে তারা।

জাবি শাখা ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক নীলাদ্রি শেখর মঙ্গলবার দুপুরে নিউজবাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘প্রায় ৫০০-৬০০ ছেলেপেলে গেরুয়ায় থাকে মেস ভাড়া করে। ওইখানে তাদের থাকার অবস্থা ছিল না। ওই পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা হলের তালা ভেঙে হলে ঢোকে। তখন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সব সময় একটা স্ট্যান্ড পয়েন্ট এমন থাকে যে, সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেন কোনভাবে বিপদে না পরে এটা দেখার। আমাদের জায়গায়ও এটাই ছিল।

‘শিক্ষামন্ত্রী বলার পর কালকে রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে নির্দেশনা আসছে যে, হলে থাকা যাবে না। সেই জায়গা থেকে আমরা যারা ছাত্রলীগ করি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অমান্য করার সুযোগ নেই আমাদের। ওই নির্দেশনায় হয়ত কিছু সময়ের মধ্যে আমরা জাবি শাখা ছাত্রলীগ হল ছেড়ে দেব।’

সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘কবে হল খুলবে, কবে বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে এতদিন এ ধরনের কোনো গাইডলাইন ছিল না। এখন কালকে যেহেতু একটা গাইডলাইন আসছে সেহেতু আমরা মনে হয় সরকারি এই সিদ্ধান্তটাকে সবার সাধুবাদ জানানো উচিত।’

তবে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত হল ছাড়তে দেখা যায়নি কোনো শিক্ষার্থীকে। ক্যাম্পাসে দেখা যায়নি যান চলাচলও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক আল বেরুনী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মীর মোশাররফ হোসেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, নওয়াব ফয়জুন্নেছা ও প্রীতিলতাসহ অন্যান্য হলগুলোতে আছেন শিক্ষার্থীরা।

এর মধ্যে আল বেরুনী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে আছেন তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থীরা।

পরিচয় জানাতে অনিচ্ছুক আল বিরুনী হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী নিউজবাংলাকে জানান, সেখানে দেড়শ থেকে দুইশ জন থাকছেন। গেরুয়া, আমবাগান ও ইসলামনগরসহ ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নেই বলে তারা এখানে থাকছেন বলে জানান।

সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তারা জানান, আশপাশের এলাকায় গ্রামবাসীর মার খাওয়ার চেয়ে হলে থাকার দাবিতে পুলিশের মার খাওয়া ভালো, তারপরও হল ছাড়বেন না।

তারা বলছেন, হলে বিদ্যুৎ ও পানির সমস্যা নেই। তবে ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় ঝুঁকি নিয়ে বাইরে গিয়ে খেতে হচ্ছে।

গত শুক্রবার ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী গেরুয়া গ্রামে স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। শনিবার তালা ভেঙে হলের ভিতরে প্রবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে তারা অবস্থানও শুরু করেন।

রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজের সই করা এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই নির্দেশ যারা মানবেন না, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে প্রশাসন।

এর পর সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানান, আগামী ১৭ মে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হল খুলে দেয়া হবে। ক্লাস শুরু হবে ২৪ মে থেকে।

সেই নির্দেশ না মেনে সোমবার হলেই ছিলেন শিক্ষার্থীরা। বরং সোমবার সকালে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের তালা ভেঙে মেয়েরা হলে প্রবেশ করেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সামিয়া জামান সোমবার জানান, তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেই হলে থাকতে চাইছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য স্পষ্ট। আমরা সেই বক্তব্যগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে বলব। যদি তারপরেও না শোনে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত যে শৃঙ্খলা বিধি আছে সেই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তারপরেও যদি বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় রাষ্ট্রীয় প্রচলিত আইনের প্রয়োগের কথাও তিনি বলেছেন।

ফিরোজ বলেন, ‘আমরা চাই না আমাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এরকম কিছুতে যাই। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা সরকারি নির্দেশনা মেনেই দায়িত্বশীল আচরণ করবে। আমাদের বিশ্বাস তারা সরকারি নির্দেশনা মানবে।’

আরও পড়ুন:
‘নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, হলেই থাকতে চাই’
আরও এক ছাত্রী হলের তালা ভাঙলেন জাবি শিক্ষার্থীরা
হল ছাড়ছে না জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরা
জাবি শিক্ষার্থীদের সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ
মামলা করতে থানায় লিখিত অভিযোগ জাবির

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার দাবিতে জাবি শিক্ষার্থীদের অনশন

তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার দাবিতে জাবি শিক্ষার্থীদের অনশন

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে অনশনরত শিক্ষার্থীরা

‘তিন-চার বছর ধরে যদি এখানেই বসে থাকি তাহলে আমার ফ্যামিলিকে কবে সাপোর্ট দেব, নিজে কখন বাঁচব। যদি আমরা আন্দোলনে না নামি, ঈদের আগে না হলে পরীক্ষা আরও পিছিয়ে যাবে।…২০২২ সালে গিয়ে আমাদের ফোর্থ (শেষ বর্ষ) ইয়ার শেষ হবে কি না তাও সন্দেহ।’  

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা তাদের তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে আমরণ অনশন করছেন ।

রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন রেজিস্ট্রার ভবনের কলাপসিবল গেইটে অবস্থান নেয় ৪৬তম আবর্তনের বিভিন্ন বিভাগের ১৫ থেকে ২০জন শিক্ষার্থী।

এ সময় ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম শেখ ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নূর হোসেন আমরণ অনশন কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাণিতিক ও পদার্থ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অজিত কুমার মজুমদার, বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান শিক্ষার্থীদের কাছে যান। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললেও তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরাতে পারেননি।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অনশনরত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও অবস্থান করতে দেখা যায়।

নাঈম শেখ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ২৬ মাস ধরে থার্ড ইয়ারেই (তৃতীয় বর্ষে) রয়েছি। এর মধ্যে করোনা গেল। তারপরেও পরীক্ষা আরও আগে হওয়ার কথা ছিল। অনেকবার বলা হয়েছে, ক্যাম্পাস খুলে দেবে, পরীক্ষা হবে। মানসিকভাবে আমাদের অবস্থা বিপর্যস্ত।

‘তিন-চার বছর ধরে যদি এখানেই বসে থাকি তাহলে আমার ফ্যামিলিকে কবে সাপোর্ট দিব, নিজে কখন বাঁচব। যদি আমরা আন্দোলনে না নামি, ঈদের আগে না হলে পরীক্ষা আরও পিছিয়ে যাবে।…২০২২ সালে গিয়ে আমাদের ফোর্থ (শেষ বর্ষ) ইয়ার শেষ হবে কি না তাও সন্দেহ।’

প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী নূর হোসেন বলেন, ‘গত ২ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা নেয়ার জন্য ভিসি (উপাচার্য) ম্যামকে স্মারকলিপি দিয়েছি, মানববন্ধন করেছি। তিন কার্যদিবসের মধ্যে আমাদের জানানোর কথা ছিল। কিন্তু তিনি আজও (রোববার) আমাদের কোনো রকম ইনফরমেশন (তথ্য) দেননি।

‘সকালে আমরা ভিসি ম্যামের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, ২৪ মার্চের আগে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন না। এ জন্য বাধ্য হয়েই আমরা অনশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
‘নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, হলেই থাকতে চাই’
আরও এক ছাত্রী হলের তালা ভাঙলেন জাবি শিক্ষার্থীরা
হল ছাড়ছে না জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরা
জাবি শিক্ষার্থীদের সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ
মামলা করতে থানায় লিখিত অভিযোগ জাবির

শেয়ার করুন

কামিলের ফল প্রকাশ

কামিলের ফল প্রকাশ

সংগৃহীত ছবি

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সারা দেশের কামিল স্নাতকোত্তর ১ম পর্বে ৪৭ হাজার ৪০৮ জন ও ২য় পর্বে ২৩ হাজার ৪২১ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেন। ১ম পর্বে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৫ হাজার ৩৮৯ জন, পাশের হার ৯৫.৭৪ শতাংশ। ২য় পর্বে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২২ হাজার ৮৩০ জন, পাশের হার ৯৭.৪৮ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭০ হাজার ৮২৯ জন।

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কামিল স্নাতকোত্তর ১ম ও ২য় পর্ব পরীক্ষা-২০১৯ এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

রোববার ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ দুপুর একটার কামিল স্নাতকোত্তর ১ম ও ২য় পর্ব পরীক্ষা-২০১৯ এর ফলাফল ঘোষণা করেন। এসময় তিনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে সকলকে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করার জন্য আহ্বান জানান।

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সারা দেশের কামিল স্নাতকোত্তর ১ম পর্বে ৪৭ হাজার ৪০৮ জন ও ২য় পর্বে ২৩ হাজার ৪২১ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেন। ১ম পর্বে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৫ হাজার ৩৮৯ জন, পাশের হার ৯৫.৭৪ শতাংশ। ২য় পর্বে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২২ হাজার ৮৩০ জন, পাশের হার ৯৭.৪৮ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭০ হাজার ৮২৯ জন।

পরীক্ষার ফলাফল সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট www.iau.edu.bd এ পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন:
‘নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, হলেই থাকতে চাই’
আরও এক ছাত্রী হলের তালা ভাঙলেন জাবি শিক্ষার্থীরা
হল ছাড়ছে না জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরা
জাবি শিক্ষার্থীদের সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ
মামলা করতে থানায় লিখিত অভিযোগ জাবির

শেয়ার করুন

গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি সহপাঠীদের

গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি সহপাঠীদের

কারাগারে থাকা আট শিক্ষার্থীর মুক্তি চেয়ে মানববন্ধন করেছেন তাদের সহপাঠীরা। ছবি: নিউজবাংলা

‘জেলের তালা ভাঙব, বন্দিদের আনব’ ব্যানারে এ মানববন্ধন করেন গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের সহপাঠীরা।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের মশাল মিছিল থেকে গ্রেপ্তার সাত শিক্ষার্থীর মুক্তি দাবি করেছেন তাদের সহপাঠীরা।

রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানান সহপাঠীরা। এ সময় তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার শ্রমিকনেতা রুহুল আমিনেরও মুক্তি দাবি করেন।

‘জেলের তালা ভাঙব, বন্দিদের আনব’ ব্যানারে এ মানববন্ধন করেন গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের সহপাঠীরা।

শাহবাগে মশাল মিছিল থেকে শুক্রবার গ্রেপ্তার সাত শিক্ষার্থীকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করলে তা নাকচ করে বিচারক আট শিক্ষার্থীকে তিন দিনের মধ্যে যেকোনো এক দিন জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

পুলিশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে শিক্ষার্থীদের কীভাবে আটক করে সে প্রশ্ন তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তায় নিয়োজিত প্রক্টরিয়াল টিমের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদ জানানো হয় মানববন্ধন থেকে।

ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী কাজী রাকিব বলেন, ‘জামিন একটি আইনি অধিকার। প্রত্যেক আসামিই জামিন পাওয়ার অধিকার রাখেন। শিকদার-হারিসদের জামিন দেয়া হলেও আমাদের বন্ধুদের, লেখক মুশতাকদের জামিন হয় না। আমরা লেখক মুশতাকের হত্যার বিচার জনগণের কাছে দাবি করছি।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কর্মী রবিউল ইসলাম মীম বলেন, ‘সারা দেশে একের পর এক ব্যাংক লুট করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয় না, বিচার হয় না। যারা এর বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লেখেন তাদের কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের লড়তে হবে, আমাদের ভাইদের মুক্ত করব। এ জন্য আমাদের সংগ্রাম জোরদার করতে হবে।’

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কর্মী জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, ‘যাদের সঙ্গে আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি তারা আজ কারাগারে বন্দি। আমাদের বন্ধুদের ওপর যখন পুলিশ হামলা করে, তখন ক্যাম্পাসের প্রক্টরিয়াল টিম কোনো ভূমিকা পালন করেনি। প্রক্টরিয়াল টিম আমাদের কোনো রকম নিরাপত্তা দেয়নি। পুলিশ আমাদের বন্ধুদের আটকে রাখতে পারবে না। আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখব।’

অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র মোনায়েম আল আজাদ বলেন, ‘সংবিধানে চারটি মূলমন্ত্রের একটি হলো গণতন্ত্র। আর এই গণতন্ত্রের মূল বিষয় মত প্রকাশের স্বাধীনতা। সেই স্বাধীনতা আজ বাংলাদেশে নিশ্চিত না। পুলিশ ক্যাম্পাসে ঢুকে আমার ভাইদের মারল। আর প্রক্টরিয়াল টিম ছাত্রদের নিরাপত্তা দেয়নি, শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাঁড়ানোর প্রয়োজনও তারা বোধ করেনি। আমরা এই অথর্ব প্রশাসনের নিন্দা জানাই।’

মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড এ কে এম গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকালে প্রক্টরিয়াল টিমের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ জানান।

প্রক্টর গোলাম রাব্বানী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ক্যাম্পাসে বিভিন্ন প্রতিবাদ আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কখনও শিক্ষার্থীদের বাধা দেয়নি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদারতাকে যেন কেউ অন্যভাবে ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়কে সবকিছুতে জড়ানোর চিন্তাভাবনা কারও জন্য কল্যাণকর নয়। সুতরাং যে পক্ষই এখানে জড়িত থাকুক, উভয় পক্ষের কাছে সংযত আচরণ এবং শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আমরা অনুরোধ করব।’

আরও পড়ুন:
‘নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, হলেই থাকতে চাই’
আরও এক ছাত্রী হলের তালা ভাঙলেন জাবি শিক্ষার্থীরা
হল ছাড়ছে না জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরা
জাবি শিক্ষার্থীদের সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ
মামলা করতে থানায় লিখিত অভিযোগ জাবির

শেয়ার করুন

‘গরিব শিক্ষার্থীদের বিষ দিন, খেয়ে মরে যাই’

‘গরিব শিক্ষার্থীদের বিষ দিন, খেয়ে মরে যাই’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবিতে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মার্কেটিং বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মো. জহির উদ্দীন (ব্যানার হাতে মাঝে চেক শার্ট পরা)। ছবি: নিউজবাংলা

জগন্নাথের মার্কেটিং বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মো. জহির উদ্দীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত চালু হলে পড়াশোনা শেষ করে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারবেন তিনি।

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্নবিত্ত, গরিব শিক্ষার্থীদের বিষ দিন। আমরা বিষ খেয়ে মরে যাই। আমাদের পরিবার আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা যত দ্রুত শেষ করব তত তাড়াতাড়ি বের হয়ে কিছু না কিছু একটা করে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারব।’

মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার দাবিতে এক মানববন্ধনে আক্ষেপ করে কথাগুলো বলেন মার্কেটিং বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মো. জহির উদ্দীন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই মানববন্ধন হয়। এতে শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মো. রাকিব বলেন, ‘সকল দাবিদাওয়া আদায়ে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামতে হয়েছে। দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব দেন। সকল ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা ভুগতেছে।

‘জবির শিক্ষার্থীদের সকল কিছুতে আন্দোলনে নামতে হয়। আজ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার কার্যক্রম শুরুর দাবিতে মাঠে নামতে হয়েছে।’

এ সময় শিক্ষকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকেরা তো ঘরে বসে তাদের বেতন পাচ্ছেন। তাই শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাদের টেনশন নেই।’

করোনাভাইরাস সংকটের কারণে প্রায় এক বছর বন্ধ থাকা দেশের সব স্কুল-কলেজ আগামী ৩০ মার্চ খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

শনিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে ২২ ফেব্রুয়ারি এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান শুরু হবে ২৪ মে। এর আগে হলগুলো খোলা হবে ১৭ মে।

আরও পড়ুন:
‘নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, হলেই থাকতে চাই’
আরও এক ছাত্রী হলের তালা ভাঙলেন জাবি শিক্ষার্থীরা
হল ছাড়ছে না জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরা
জাবি শিক্ষার্থীদের সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ
মামলা করতে থানায় লিখিত অভিযোগ জাবির

শেয়ার করুন

স্কুলেছাত্র কমছে কেন, জানতে চান প্রধানমন্ত্রী

স্কুলেছাত্র কমছে কেন, জানতে চান প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকসহ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষায় সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়াতে ছাত্র-ছাত্রী উভয়ের জন্য বর্ধিত হারে উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। কিন্তু এ দুই পর্যায়ে মেয়েদের সংখ্যা বেশি, ছেলেদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রের সংখ্যা কেন কমে যাচ্ছে, তার কারণ জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তি, টিউশন ফি, ভর্তিসহায়তা ও চিকিৎসা অনুদান বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করে রোববার সকালে এমন জবাব চান তিনি।

অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন সরকারপ্রধান।

এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকসহ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষায় সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়াতে ছাত্র-ছাত্রী উভয়ের জন্য বর্ধিত হারে উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। ফলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জেন্ডার সমতা অর্জন করায় বাংলাদেশ বিশ্বে প্রশংসা অর্জন করেছে।

‘এখানে মেয়েদের সংখ্যা বেশি, ছেলেদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এটা যেন না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। আমাদের জেন্ডার সমতাটা একটু অন্য রকম হয়ে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অনেক স্কুলে দেখা যায়, মেয়ে শিক্ষার্থী বেশি হয়ে যাচ্ছে, ছেলেরা কমে যাচ্ছে। তবে ছেলেরা কেন কমে যাচ্ছে, এটা আমাদের দেখা দরকার।

‘এ বিষয়টা অবশ্যই একটু নজরে দেবেন সকলে। আমরা মনে করি, অভিভাবক, শিক্ষক সকলকেই এটা দেখতে হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের মাধ্যমে স্নাতক পর্যায়ের ২০২০-২১ অর্থবছরে ১ কোটি ৬৩ লাখ ৮৮২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপবৃত্তি ও টিউশন ফি বাবদ ৮৭ কোটি ৪৩ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ টাকা এবং ভর্তি সহায়তা বাবদ ১২৩ শিক্ষার্থীকে ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের আর্থিক অনুদান বাবদ ৪ শিক্ষার্থীকে ২ লাখ টাকাসহ ৮৭ কোটি ৫২ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ টাকা বিতরণ করা হয়।

শিক্ষক-কর্মচারীদের টিকা দিতে নির্দেশ

স্কুল-কলেজের কার্যক্রম শুরু করতে দ্রুত শিক্ষক-কর্মচারীদের করোনাভাইরাসের টিকা দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘কোভিডের জন্য এখন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। এটা একটা কষ্টকর ব্যাপার। তবে আমরা আশা করছি যে, আগামী ৩০ মার্চ আমরা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে সক্ষম হব।

‘ইতিমধ্যে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর যত শিক্ষক-কর্মচারী যারা আছে সকলকেই টিকা নিতে হবে। এর জন্য ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি। টিকা সবাইকে দেয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া হবে বলেও জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘আর ইউনিভার্সিটি বা কলেজে ডব্লিউএইচও এর নির্দেশ মোতাবেক যে বয়স পর্যন্ত টিকা নেয়া যাবে না তার উপরের বয়সের যারা, সেসব শিক্ষার্থীকেও টিকা দেয়া হবে। কাজেই সকলেই সুরক্ষিত থাকুক এটাই আমরা চাই।’

শিক্ষা খরচ নয়, বিনিয়োগ

দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে শিক্ষার কোনো বিকল্প দেখছেন না প্রধানমন্ত্রী। আর এ কারণেই শিক্ষাকে খরচের পরিবর্তে বিনিয়োগ হিসেবে দেখেন বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ করতে হলে অবশ্যই শিক্ষা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

‘জাতির পিতার চিন্তা আদর্শ নিয়েই আমরা চলি। শিক্ষার খরচকে আমরা খরচ মনে করি না, বিনিয়োগ মনে করি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিনিয়োগ।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা যে স্বীকৃতি পেয়েছি এটা আমাদের ধরে রাখতে হবে।

‘ধরে রাখার জন্যই দরকার শিক্ষার প্রসার এবং উপযুক্ত দক্ষ নাগরিক। আমরা সেই দক্ষ ও উপযুক্ত নাগরিক গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।’

শিক্ষার উন্নয়নে সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘আমাদের যারা বিত্তশালী তারাও এগিয়ে আসবেন। নিজ নিজ এলাকা বা নিজ স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যে যেখানে পড়াশোনা করেছেন, সে সেখানে উন্নয়নে মনোযোগী হবেন।

‘যেখান থেকে লেখাপড়া শিখে আজ বিত্তশালী হয়েছে সেই জায়গাগুলির প্রতি যদি সবাই যত্নশীল হয়, তাহলে মনে হয় আর সমস্যা হয় না।’

এ সময় আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শিক্ষার প্রসারে নেয়া নানা উদ্যোগ তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। সমালোচনা করেন বিএনপি-জামায়াত সরকারের।

তিনি বলেন, ‘২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। আমরা সরকার গঠন করে সবচেয়ে বেশি উদ্যোগ নিয়েছিলাম যে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে। এ জন্য নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে একটি প্রকল্প আমরা হাতে নিই। সেখানে আমরা আনুষ্ঠানিক কিংবা অনানুষ্ঠানিক বা মসজিদ- ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষার ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এমনকি বিভিন্ন এনজিওকেও আমরা কাজে লাগাই, বয়স্কদের শিক্ষা দেয়ার জন্য।

‘আমাদের এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল একেকটা জেলাকে নিরক্ষরমুক্ত ঘোষণা করা হবে। সেখানে ৪৫ বছরের নিচে বয়স যাদের কেউ যদি নিরক্ষর থাকে, তাকে সাক্ষরজ্ঞান দেয়া হবে। সে প্রকল্প আমরা বাস্তবায়ন করতে শুরু করি এবং শুভ ফলও আমরা পেতে শুরু করি। অনেক জেলায় তখন অল্প সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতামুক্ত ঘোষণা করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘এর কারণে ইউনেসকোর পক্ষ থেকে আমরা একটা পুরস্কারও পাই। আবার সেই পুরস্কারের টাকা দিয়ে আমরা বৃত্তি দেয়ার ব্যবস্থা করি। আমরা যখন সরকার গঠন করি মাত্র ৪৫ ভাগ ছিল সাক্ষরতার হার। খুব অল্প সময়ের মধ্যে সেটা ৬৫ দশমিক ৫ ভাগে উন্নীত করতে সক্ষম হই।

‘আমাদের দুর্ভাগ্য হলো ২০০১-এ আমরা ক্ষমতায় আসতে পারিনি। বিএনপি-জামায়াত জোট আসল। আমাদের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দিল।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দ্বিতীয়বার যখন আমরা সরকার গঠন করি, আমরা পুনরায় উদ্যোগ নেই। সেই সময়েই এই ট্রাস্ট ফান্ড করবার একটি পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। সেখানে এই কথাটা আমি লিখেছিলাম সরকার বদল হলেও যেন কেউ এটা বন্ধ করতে না পারে।

‘কারণ আমার তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল। অনেকগুলো গণমুখী কাজ আমরা নিয়েছিলাম হাতে। বিএনপি সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল। এ জন্য এখন থেকে যাই করি, চেষ্টা করি যে সরকার বদল হলেও যেন এগুলো বন্ধ না হয়, সে প্রচেষ্টা আমাদের সবসময় রয়েছে।’

প্রথম মেয়াদে সরকারে এসে সারা দেশে ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কথা জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা সেই সাথে সাথে সারা দেশে শিক্ষার প্রসার ঘটানোর ব্যবস্থাও নেই। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় ছিল, বিজ্ঞান শিক্ষায় মানুষের তেমন একটা আগ্রহ ছিল না। আমরা ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের জন্য আইন পাস করি, কাজও শুরু করি।

‘এর মধ্যে গোপালগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ বিএনপি বন্ধ করে দেয়। ১২টার মধ্যে দুটো আমরা শেষ করেছিলাম। একটি দিনাজপুরের হাজী দানেশ এবং পটুয়াখালীর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এ দুটিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার আমার নির্দেশনা ছিল, যেটা কৃষির ওপর সবচেয়ে বেশি শিক্ষা দেবে এবং গবেষণা হবে।’

শিক্ষায় বিনিয়োগের মাধ্যমে দক্ষ মানবশক্তি সৃষ্টিই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষা প্রসারে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কারিগরি স্কুল স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় করা হচ্ছে।

‘অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আমরা প্রত্যেক জেলায় করে দিচ্ছি যাতে ছেলেমেয়েরা বাবা-মায়ের চোখের সামনে থেকে পড়াশোনা করতে পারে। আর এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আমরা বহুমুখী করে দিচ্ছি। যেমন টেক্সটাইল করছি, ডিজিটাল করছি, আমাদের প্রত্যেক বিভাগে একটি করে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ও আমরা করে দিচ্ছি। ফ্যাশন ডিজাইন থেকে শুরু করে অর্থাৎ আধুনিক যুগে কী কী ধরনের বিষয় লাগে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কিন্তু আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিজ্ঞান-প্রযুক্তি শিক্ষা বা কারিগরি শিক্ষা এটাই হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে, শুধু দেশে না বিদেশেও।

‘আমাদের এ জন্য আরও বেশি প্রয়োজন, আমরা ১০০টা অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি, সেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে। সেখানে অনেক টেকনিক্যাল লোক লাগবে। দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন হবে। সেই জনশক্তিই আমরা সৃষ্টি করতে চাই।’

আরও পড়ুন:
‘নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, হলেই থাকতে চাই’
আরও এক ছাত্রী হলের তালা ভাঙলেন জাবি শিক্ষার্থীরা
হল ছাড়ছে না জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরা
জাবি শিক্ষার্থীদের সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ
মামলা করতে থানায় লিখিত অভিযোগ জাবির

শেয়ার করুন

সংবাদ সম্মেলনে আসছেন সামিয়া

সংবাদ সম্মেলনে আসছেন সামিয়া

চৌর্যবৃত্তির দায়ে পদাবনতি হয়েছে ঢাবি শিক্ষক সামিয়া রহমানসহ তিন জনের।

ক্ষুদে বার্তায় বলা হয়েছে, সামিয়া রহমানের বিরুদ্ধে একটি মহল নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।  এতে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মর্যাদা নষ্ট হচ্ছে। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অন্যায়ভাবে তার বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেছে। এর প্রতিবাদ ও সঠিক বক্তব্য তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আসার ঘোষণা দিয়েছেন অ্যাকাডেমিক গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির দায়ে শাস্তি পাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমান।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক ক্ষুদে বার্তায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সোমবার দুপুরে এই সংবাদ সম্মেলন হবে।

ক্ষুদে বার্তায় বলা হয়েছে, সামিয়া রহমানের বিরুদ্ধে একটি মহল নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। এতে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মর্যাদা নষ্ট হচ্ছে। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অন্যায়ভাবে তার বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেছে। এর প্রতিবাদ ও সঠিক বক্তব্য তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

২৯ জানুয়ারি অ্যাকাডেমিক গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির দায়ে সামিয়া রহমানসহ তিন শিক্ষককে পদাবনতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

আরও পড়ুন: সামিয়াসহ ঢাবির তিন শিক্ষকের পদাবনতি

বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সামিয়া রহমানকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে নামিয়ে সহকারী অধ্যাপক করেছে। এছাড়া সামিয়ার গবেষণা প্রবন্ধের সহলেখক অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানকে শিক্ষা ছুটি শেষে চাকরিতে যোগদানের পর দুই বছর একই পদে থাকতে হবে।

শাস্তির সিদ্ধান্তে বলা হয়, ২০১৬ সালে সামিয়া ও মারজানের যৌথভাবে লেখা ‘এ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার : এ কেস স্টাডি অব দ্য কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ শিরোনামের আট পৃষ্ঠার একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। প্রবন্ধের প্রায় পাঁচ পৃষ্ঠা ছিল ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর ‘দ্য সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ নামের একটি নিবন্ধের হুবহু নকল।

এছাড়া একই সিন্ডিকেট সভায় পিএইচডি থিসিসে জালিয়াতির আরেক ঘটনায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক ওমর ফারুকের ডিগ্রি বাতিলের পাশাপাশি তাকে সহকারী অধ্যাপক থেকে প্রভাষক পদে নামিয়ে দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, হলেই থাকতে চাই’
আরও এক ছাত্রী হলের তালা ভাঙলেন জাবি শিক্ষার্থীরা
হল ছাড়ছে না জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরা
জাবি শিক্ষার্থীদের সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ
মামলা করতে থানায় লিখিত অভিযোগ জাবির

শেয়ার করুন

রমজানেও খোলা স্কুল-কলেজ

রমজানেও খোলা স্কুল-কলেজ

দীর্ঘ সময় ধরে স্কুল বন্ধ থাকায় স্কুল প্রাঙ্গণে শিশুদের এমন উচ্ছ্বাস স্মৃতিতে যেন পরিণত হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

৩০ মার্চ স্কুল-কলেজ খোলার পর শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে এবার রমজান মাসের ছুটিও সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এবার রমজান মাস জুড়ে ছুটি থাকবে না। শুধু ঈদের ছুটি থাকবে।’

করোনাভাইরাসে দীর্ঘদিন বন্ধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবারের রমজানে স্কুল-কলেজ খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

শনিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘৩০ মার্চ তারিখে খুলে দেব।’

শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে এবার রমজান মাসে স্কুল-কলেজ খোলা রাখার সিদ্ধান্ত এসেছে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এবার রমজান মাস জুড়ে ছুটি থাকবে না। শুধু ঈদের ছুটি থাকবে।’

মন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে পঞ্চম শ্রেণিতে প্রতিদিন, দশম ও দ্বাদশ শ্রেণিতে প্রতিদিন এবং অন্য ক্লাসগুলো হয়তো সপ্তাহে একদিন নেয়া হবে। আর প্রাক প্রাথমিকের ক্লাস এখন শুরু হবে না।

স্কুল খোলার আগে সব শিক্ষক-কর্মকর্তাকে করোনা প্রতিরোধী টিকা দেয়া হবে জানিয়ে দীপু মনি বলেন, ‘প্রাথমিকের দেড় লাখ শিক্ষক টিকা নিয়েছেন। বাকি ৫০ হাজার শিক্ষকের জন্য টিকার নিবন্ধনের ব্যবস্থা হচ্ছে। ক্লাস শুরুর আগেই সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করা হবে।’

গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ধাপে ধাপে সাত দফা ছুটি বাড়ানো হয়েছে। সব শেষ সিদ্ধান্ত ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও টিকা

শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২২০টা আবাসিক হল আছে। আবাসিক হলগুলোতে ছাত্র সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার। এসব শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়ার ব্যাপারে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগও হয়েছে।

‘আমরা প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসির মাধ্যমে গত বুধবার চিঠি পাঠিয়েছি। তারা সকল আবাসিক ছাত্রের নাম ঠিকানাসহ ন্যাশনাল আইডি নম্বরসহ আমাদের কাছে তালিকা পাঠাবেন এটা শুধুমাত্র টিকার জন্য। সে তালিকা আমরা স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের কাছে পাঠাব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।

‘শিক্ষার্থীরা যেখানেই থাকুক সেখান থেকেই তারা নিবন্ধন করতে পারবে এবং নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে পারবে। আমরা আশা করছি ১৭ মে এর আগেই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের এক লাখ ৩০ হাজার আবাসিক শিক্ষার্থীকে টিকা দিতে পারব।’

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ইঙ্গিত ছিল আগেই

গত ২২ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে স্কুল কলেজগুলোকে ক্লাস শুরুর প্রস্তুতি নিতে বলা হয়।

এরপর ৩০ জানুয়ারি এইচএসসি ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি মাসের করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আগামী মার্চ বা এপ্রিলের দিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা এবং ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত হতে পারে।

‘করোনাভাইরাস আমরা যেভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখছি, সবাই যদি আরেকটু মেনে চলেন আমরা এটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব এবং খুব দ্রুতই আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিতে পারব। আমরা আশা করছি যে, হয়তো আগামী মার্চ-এপ্রিল, আমরা মার্চ মাসটা দেখব।’

আরও পড়ুন:
‘নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, হলেই থাকতে চাই’
আরও এক ছাত্রী হলের তালা ভাঙলেন জাবি শিক্ষার্থীরা
হল ছাড়ছে না জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরা
জাবি শিক্ষার্থীদের সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ
মামলা করতে থানায় লিখিত অভিযোগ জাবির

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg