সব বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষার আশা শিক্ষামন্ত্রীর

সব বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষার আশা শিক্ষামন্ত্রীর

মন্ত্রী বলেন, ‘কোনো কোনো সদস্য সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন, অটো পাসের পর শিক্ষার্থীরা পরবর্তী পর্যায়ে কী করে যাবে? পরবর্তী পর্যায়ে ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। সেটি আশা করছি গুচ্ছ পদ্ধতিতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে রোববার সংসদ অধিবেশনে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সংশোধন বিল-২০২১-নিয়ে জনমত যাচাই-বাছাইয়ের প্রস্তাবের ওপর সাংসদদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

‘কোনো কোনো সদস্য সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন, অটো পাসের পর শিক্ষার্থীরা পরবর্তী পর্যায়ে কী করে যাবে? পরবর্তী পর্যায়ে ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। সেটি আশা করছি গুচ্ছ পদ্ধতিতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মাত্র চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকি সকল বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেবার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। এখন ইউজিসির সহায়তায় আমাদের মুডালিটিটা কী হবে সেটি পুরো নির্ধারিত হবে। খুব শিগগিরই এই পরীক্ষায় যেতে পারব। আশা করছি অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই হবে।’

গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষাকে সুবিধাজনক উল্লেখ করে দীপু মনি বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে গুচ্ছ পদ্ধতিতে যাবার যে শুভ দিকগুলো, যে সুফলগুলো…শিক্ষার্থীদের হয়রানি একেবারেই কমে যাবে। অভিভাবকদের আর্থিক বিরাট সাশ্রয় হবে। তাদের অনেক রকমের হয়রানি কমে যাবে।

‘দেশে এই মহামারির সময়ে এই লাখ লাখ শিক্ষার্থী সারা দেশে ছুটে বেড়াবে এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরেক বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা দেবার জন্য। তার মধ্যে দিয়ে আরও সংক্রমণ বাড়বে। সেই অবস্থাটিকেও এড়াতে পারব।’

আরও পড়ুন:
গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিয়ে দ্বিমত বুয়েটের
বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট রাখার দাবি শিক্ষার্থীদের
বিভাগীয় শহরেই হচ্ছে ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় থাকছে না ‘ঘ’ও ‘চ’ ইউনিট
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে গুচ্ছ পরীক্ষা চায় সরকার

শেয়ার করুন

ভেঙে ফেলা হলো যুদ্ধবিমানটি

ভেঙে ফেলা হলো যুদ্ধবিমানটি

পটুয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দিক নির্দেশক স্মারক যুদ্ধ বিমানটি ভেঙে ফেলেছে পায়রা সেতু প্রকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ছবি: নিউজবাংলা

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। ঘটনায় জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করছেন বিশ্ববিদ্যালয় ও পায়রা সেতু প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের ‘ইউনিভার্সিটি’ চত্বরে স্থাপিত পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) দিকনির্দেশক স্মারক যুদ্ধবিমানটি ভেঙে ফেলেছে পায়রা সেতু প্রকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

শনিবার সন্ধ্যায় লেবুখালী নদীর ওপরে পায়রা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে নিয়োজিত মাটি কাটার যন্ত্র (এক্সক্যাভেটর) দিয়ে এটি ভেঙে ফেলা হয়।

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।

ঘটনায় জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করছেন পবিপ্রবি ও পায়রা সেতু প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

পবিপ্রবি সূত্র জানিয়েছে, ২০০৩ সালের দিকে অকেজো এফ-৬ বিমানটি বিশ্ববিদ্যালয়কে উপহার দেয় বিমান বাহিনী। পরে সেটি বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাগলার মোড় এলাকায় দিকনির্দেশক হিসেবে স্থাপন করা হয়।

পবিপ্রবির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় স্কয়ারে স্থাপিত যুদ্ধবিমানটি সরানোর জন্য আমাদের একাধিক চিঠি দেয়া হয়েছিল। সেটি অপসারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা না থাকায় আমরা বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু তাতে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই হঠাৎ মনুমেন্টটি ভেঙে ফেলায় তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়া যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত মনুমেন্টটি মেরামত করে আবার স্থাপন করা যায় কিনা সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

লেবুখালী সেতুর প্রকল্প পরিচালক আব্দুল হালিম জানান, পায়রা সেতুর পটুয়াখালী প্রান্তের এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় স্কয়ারের স্মারক যুদ্ধবিমানটি অপসারণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে একাধিক চিঠি দেয়া হয়। পটুয়াখালী সড়ক জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় এটি সরানোর কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় সড়কের এপ্রোচ নির্মাণ কাজ করার সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় মনুমেন্ট ভাঙা নিয়ে প্রতিবাদ চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

two
ভেঙে ফেলার আগে স্মারক যুদ্ধবিমান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানান, নির্দেশক স্তম্ভটিতে থাকা স্মারক যুদ্ধ বিমানটি ভেঙে না ফেলে যদি সুরক্ষিত অবস্থায় অপসারণ করা হতো, তাহলে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে ব্যবহার করা যেত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সেতু কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালি এবং অব্যবস্থাপনার কারণে যুদ্ধবিমানটিকে ভেঙে ফেলা হয়েছে।

আরেফিন মহীদ নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘দেশের অধিকাংশ মানুষ এ ধরনের স্থাপনা চোখে দেখে বিমান ভ্রমণের স্বাদ মেটান। বিশেষ করে এই যুদ্ধবিমানটি দেখে শিশু মনে বৈমানিক হওয়ার স্বপ্ন তৈরি হয়। দৃষ্টিনন্দন পটুয়াখালী ইউনিভার্সিটি নির্দেশকের উপরে থাকা যুদ্ধবিমানটি ভেঙে ফেলার নিন্দা প্রকাশের ভাষা নেই।’

রিয়াজুল কবির নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘এটি এখন শুধু স্মৃতি। আমার ব্যক্তিগত মতামত। দৃষ্টিনন্দন পটুয়াখালী-বরিশাল সড়কে (পাগলা মোড়) ইউনিভার্সিটি স্কয়ারের ওপর যুদ্ধবিমানটি এভাবে না ভেঙে অন্যত্র স্থাপন করলে সাধারণ মানুষ খুশি হতো।’

ভেঙে ফেলার পরে স্মারক যুদ্ধবিমান।

রোববার দুপুরে পবিপ্রবির ভারপ্রাপ্ত ভিসি ড. স্বদেশ সামন্ত, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী, শেখ হাসিনা সেনানিবাসের জিওসি, বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন জিএম আলী হায়দার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক জানান, এটি সংস্কার করে আবার স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে বিমান বাহিনীর তিন সদস্যের একটি দল কাজ শুরু করেছে।

আরও পড়ুন:
গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিয়ে দ্বিমত বুয়েটের
বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট রাখার দাবি শিক্ষার্থীদের
বিভাগীয় শহরেই হচ্ছে ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় থাকছে না ‘ঘ’ও ‘চ’ ইউনিট
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে গুচ্ছ পরীক্ষা চায় সরকার

শেয়ার করুন

পোশাক নিয়ে হেনস্তা: আইনি প্রক্রিয়ায় যাবেন না রাবি ছাত্রীরা

পোশাক নিয়ে হেনস্তা: আইনি প্রক্রিয়ায় যাবেন না রাবি ছাত্রীরা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

দুই ছাত্রীর একজন বলেন, ‘প্রক্টর স্যার আমাদের ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে সমাধান করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ওই তিনজনের (অভিযোগ ওঠা) সঙ্গে বসে ঘটনাটি সমাধান করবেন। তাই আমরা আইনি কোনো প্রক্রিয়ায় আপাতত যাচ্ছি না।

পোশাক নিয়ে হেনস্তার ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। তারা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তারা আইনি কোনো প্রক্রিয়ায় যাবেন না।

এক ছাত্রী বলেন, ‌‘প্রশাসনের ওপর আমাদের আস্থা আছে। বিষয়টি আমরা প্রশাসনের কাছে ছেড়ে দিয়েছি। আশা করি সুষ্ঠু সমাধানের।’

গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কাজলা গেটের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও তাদের মানসিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ উঠে তিনজনের বিরুদ্ধে। তাদের একজন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক, আরেকজন অন্য এক শিক্ষকের স্ত্রী ও একজন কাজলা গেটের প্রহরী।

দুই ছাত্রীর একজন এ নিয়ে ওই দিন রাতে ফেসবুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামের একটি গ্রুপে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পোস্ট দেন। এরপর পোস্টটি নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা।

ঘটনাটির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানের সঙ্গে বসেন ভুক্তভোগী দুই ছাত্রীসহ বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং ফোরাম। তারা সমাধানের জন্য ঘটনাটি প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন বলে বৈঠক শেষে জানিয়েছেন।

দুই ছাত্রীর একজন বলেন, ‘প্রক্টর স্যার আমাদের ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে সমাধান করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ওই তিনজনের (অভিযোগ ওঠা) সঙ্গে বসে ঘটনাটি সমাধান করবেন। তাই আমরা আইনি কোনো প্রক্রিয়ায় আপাতত যাচ্ছি না।

‘তিনি এটাও বলেছেন, এই ধরনের পোশাক নিয়ে অন্তত ক্যাম্পাসে আর কোনো কথা উঠবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘তারা আমাকে লিখিত কোনো অভিযোগ দেয়নি। তারা ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে সমাধান করার জন্য বলেছে। আমি ওই তিনজনের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করব।’

দুই ছাত্রীর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে নৈতিকভাবে তা সমর্থনযোগ্য নয় বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।

ওই দুই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদের একটি বিভাগের প্রথম বর্ষে পড়েন। তারা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং ফোরামেরও সদস্য।

সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ নির্বাহী সদস্য ইব্রাহিম খলিল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা প্রক্টর স্যারকে বলেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হোক, আর প্রহরী হোক, কেউই এই ধরনের সহিংসতা করতে পারে না। তিনি (প্রক্টর) আমাদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন। তিনি ওই তিনজনের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’

আরও পড়ুন:
গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিয়ে দ্বিমত বুয়েটের
বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট রাখার দাবি শিক্ষার্থীদের
বিভাগীয় শহরেই হচ্ছে ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় থাকছে না ‘ঘ’ও ‘চ’ ইউনিট
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে গুচ্ছ পরীক্ষা চায় সরকার

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের ১০ হাজার টাকা দেয়ার গুজবে তোলপাড়

শিক্ষার্থীদের ১০ হাজার টাকা দেয়ার গুজবে তোলপাড়

প্রত্যয়নপত্রের ফরম কিনতে শিক্ষার্থীদের ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা

এক ছাত্রীর বাবা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সারাদিন বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকি। সকালে বাচ্চার মা বলতেছে, আজকে কাজে যাওয়ার দরকার নাই। স্কুলে গিয়ে একটা ফরম পূরণ করে জমা দিয়ে আসো। শুনেছি সরকার ছাত্রীদেরকে ১০ হাজার টাকা করে দিবে। এই কথা শুনেই ফরম কিনতে এসেছি।’ তিনি জানান, দুই টাকার এই ফরম তিনি ১০ টাকায় কিনেছেন।

সরকার মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও অনার্সের ছাত্রছাত্রীদের ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেবে- এমন গুজবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যয়নপত্রের ফরম কিনতে ভিড় করছেন শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যয়নপত্র স্কুল থেকে দেয়ার নিয়ম থাকলেও এসব ফরম বিক্রি হচ্ছে শহরের ফটোকপির দোকানে দোকানে। কোনো কোনো দোকানি ২ টাকার ফরম বিক্রি করছেন ১০ টাকায়। আর তা কিনতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ভিড় করছেন অভিভাবকরাও। সেসব ফরম পূরণে করে স্কুলে স্কুলে জমাও দেয়া হচ্ছে।

রোববার কিশোরগঞ্জের একটি ফটোকপির দোকানে স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের জটলার কারণে শহরের মূল সড়কে দেখা দেয় তীব্র যানজট। প্রায় এক ঘণ্টা ব্যাহত হয় যান চলাচল।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ১৮ জানুয়ারি এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের অনুদান দেয়ার কথা জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে অসুস্থ, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বা শিক্ষার কাজে ব্যয়ের জন্য ছাত্রছাত্রীদের এই অনুদান দেয়ার কথা জানানো হলেও কী পরিমাণ অর্থ দেয়া হবে তা উল্লেখ ছিল না।

এর পর গত ৪ মার্চ আরেক বিজ্ঞপ্তিতে এই অনুদান দেয়ার কথা বলে একটি চক্র শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, বিকাশ নম্বর ও গোপন পিন নিচ্ছে বলে সতর্ক করে।

এই ফর্ম কিনতে ভিড় করেন শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা

এর মধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খবর আসতে থাকে শিক্ষার্থীদের অনুদান পাইয়ে দেয়ার গুজব ছড়িয়ে বিভিন্ন স্কুলের প্রত্যয়নপত্রের ফরম বিক্রি হচ্ছে।

সবশেষ রোববার কিশোরগঞ্জের পাশাপাশি গাইবান্ধা থেকেও এমন খবর পাওয়া গেছে।

রোববার সকাল ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের আখড়াবাজার এলাকায় কিশোরগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের পাশে ওয়াই টু কে জোন নামের ফটোকপির দোকানের সামনে দেখা যায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড়।

স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী মাহিরা আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল (শনিবার) আমার এক বান্ধবী ফোনে জানিয়েছে, সরকার নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষার্থীকে অনুদান বাবদ ১০ হাজার টাকা করে দিবে। সে জন্য স্কুল থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র নিতে হবে। পরে লটারির মাধ্যমে বাছাই করে অনুদান দেয়া হবে। স্কুলে সেই ফরম নাই। তাই ফরম নিতেই রতন মামার দোকানে এসেছি।’

তার সহপাঠী অহনা আক্তার বলেন, ‘প্রথমে শুনেছি সরকার শুধু অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের অনুদান দিবে। এখন অনুদান গ্রহণ করতে সবাই নিজেকে গরিব দাবি করে ফরম পূরণ করে জমা দিচ্ছে। পরে লটারির মাধ্যমে কারা টাকা পাবে তা নির্ধারণ করা হবে। অনুদানের টাকা গ্রহণ করতেই এখান থেকে ফরম কিনে স্কুলে জমা দিয়েছি।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি

দোকান থেকে ফরম নিতে আসা এক ছাত্রীর বাবা নূরুল হুদা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সারাদিন বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকি। সকালে বাচ্চার মা বলতেছে, আজকে কাজে যাওয়ার দরকার নাই। স্কুলে গিয়ে একটা ফরম পূরণ করে জমা দিয়ে আসো। শুনেছি সরকার ছাত্রীদেরকে ১০ হাজার টাকা করে দিবে। এই কথা শুনেই ফরম কিনতে এসেছি।’

তিনি জানান, দুই টাকার এই ফরম তিনি ১০ টাকায় কিনেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফটোকপি দোকানের মালিক রতন মিয়া বলেন, ‘আমাকে কিছু না জিজ্ঞেস করে স্কুলের শিক্ষকদের জিজ্ঞেস করেন। তারা বলেছে ফরম বিক্রি করতে। তাই আমি বিক্রি করতেছি। আমি প্রতিটি ফরম পাঁচ টাকা করে বিক্রি করতেছি। এইটুকুই জানি।’

এই গুজব কীভাবে ছড়াল এবং প্রত্যয়নপত্রের ফরম শিক্ষার্থীরা কেন কিনছে তা জানতে কিশোরগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় যায় নিউজবাংলার প্রতিবেদক।

এ সময় সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে স্কুলের প্রধান ফটক থেকে দৌঁড়ে ভেতরে চলে যান স্কুলের এক কর্মচারী। ভেতরে গিয়ে দেখা গেল, সেখানেও ফরম কিনতে ছাত্রী ও অভিভাবকরা ভিড় করেছেন। সহকারী প্রধান শিক্ষক বিপদ ভঞ্চন বনিকের কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, তিনি বেশ কিছু ফরমে সই করায় ব্যস্ত।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছাত্রীরা আসছে প্রত্যয়নপত্র নিতে, তাই সই করে দিতেছি। আমি আর কিছু জানি না। ডিস্টার্ব না করে চলে যান, আমার কাজ করতে দিন।’

স্কুলের প্রধান শিক্ষক লুৎফুন্নাহারের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, ‘ম্যাডাম স্কুলে নাই। উনার স্বামী অসুস্থ। তাই স্কুলে আসেন নাই।’

এ প্রসঙ্গে সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, অনুদান নিয়ে গুজবের ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সতর্ক করে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। সেটি পাওয়ার পর সব স্কুলে জানানোও হয়েছে। তবে ফরম বিক্রির বিষয়টি তিনি জানেন না। এ ধরনের প্রত্যয়নপত্র স্কুল থেকেই দেয়ার কথা। এটি শিক্ষার্থীদের কেনার কথা না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ১৮ জানুয়ারি এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের অনুদান দেয়া হবে বলে জানায়। এই অনুদান পেতে শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে বলা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অসুস্থ, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিংবা শিক্ষার কাজে ব্যয়ের জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা আবেদন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে দরিদ্র বা অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। সেই আবেদনের জন্য নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে জমা দিতে হবে। কিন্তু বিজ্ঞপ্তির কোথাও কী পরিমাণ অর্থ দেয়া হবে তা উল্লেখ ছিল না।

এর পর ৪ মার্চ আরেক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফজলুর রহমান সতর্ক করে জানান, এই অনুদান দেয়ার কথা বলে একটি চক্র শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, বিকাশ নম্বর ও গোপন পিন নিচ্ছে বলে অভিযোগ আসছে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে জেলায় জেলায় শিক্ষা কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সতর্ক করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

তবে নিউজবাংলার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের অনুদান পাইয়ে দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন স্কুলের প্রত্যয়নপত্র বিক্রি হচ্ছে।

শনিবার থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত গাইবান্ধা জেলা শহরের বিভিন্ন কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকানে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করতে দেখা গেছে।

সাদুল্লাপুর শহরে দুই দিনই বিভিন্ন দোকানে ফরমের জন্য ভিড় করতে দেখা গেছে ছাত্রছাত্রীদের। তবে তাদের ফিরিয়ে দেন দোকানিরা।

জেলা শহরের মুক্তি আকতার নামে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার কারণে সরকার নাকি ১০ হাজার টাকার দেবে। এ জন্য ফরম পূরণ করতে এসেছি। এখানে এসে শুনছি; এ সব নাকি গুজব। এখন বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিয়ে দ্বিমত বুয়েটের
বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট রাখার দাবি শিক্ষার্থীদের
বিভাগীয় শহরেই হচ্ছে ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় থাকছে না ‘ঘ’ও ‘চ’ ইউনিট
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে গুচ্ছ পরীক্ষা চায় সরকার

শেয়ার করুন

জবিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা

জবিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানায় জবির শিক্ষক সমিতি, নীল দল ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল কর্তৃপক্ষ।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানায় জবির শিক্ষক সমিতি, নীল দল ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল কর্তৃপক্ষ।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষকরা।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানায় জবির শিক্ষক সমিতি, নীল দল ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল কর্তৃপক্ষ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা।

স্বাধীনতা-সংগ্রামে বাঙালিকে ঝাঁপিয়ে পড়তে ৭ মার্চের সেই বজ্র ঘোষণার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে তারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।

৫০ বছর আগে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বাঙালির ইতিহাসের সেই অবিস্মরণীয় দিনটির সূচনা হয়েছিল। এই দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে উত্তাল জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ তুলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

এই ভাষণের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়নের বিরুদ্ধে নিরস্ত্র বাঙালিকে মুক্তির মন্ত্রে উজ্জীবিত করেন বঙ্গবন্ধু। বাঙালির স্বাধীনতা-সংগ্রাম জনযুদ্ধে পরিণত হয়। ওই ভাষণে উদ্দীপ্ত হয়ে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আর ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় মহান স্বাধীনতা। বিশ্ব মানচিত্রে নিজস্ব স্থান করে নেয় লাল-সবুজের বাংলাদেশ।

এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নূরে আলম আব্দুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. শামীমা বেগম। নীল দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. জাকারিয়া মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ড. মোস্তফা কামাল, বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামীমা বেগম, আবাসিক শিক্ষক প্রতিভা রানী কর্মকারসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামীমা বেগম বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ সব স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। সবার মাঝে এ অমর ভাষণের চেতনা ছড়িয়ে পড়ুক। যুগ যুগ ধরে বাংলার মানুষ বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণ স্মরণে রাখবে।’

নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের এই ভাষণই বাঙ্গালির মুক্তির পথকে প্রশস্ত করেছিল। কালজয়ী এই ভাষণ ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে আজীবন। বঙ্গবন্ধুর চেতনা বুকে ধারণ করে দেশকে ভালোবেসে এগিয়ে যেতে হবে।’

আরও পড়ুন:
গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিয়ে দ্বিমত বুয়েটের
বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট রাখার দাবি শিক্ষার্থীদের
বিভাগীয় শহরেই হচ্ছে ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় থাকছে না ‘ঘ’ও ‘চ’ ইউনিট
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে গুচ্ছ পরীক্ষা চায় সরকার

শেয়ার করুন

রাবির দুই ছাত্রীকে পোশাক নিয়ে হেনস্তা

রাবির দুই ছাত্রীকে পোশাক নিয়ে হেনস্তা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

এক ছাত্রী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ভার্সিটিতে বলে দেয়া হোক কোন ড্রেসআপে গেলে এভাবে শিক্ষার্থীদের হ্যারাজ হতে হবে না কাজলা গেটের পুলিশ দ্বারা। তাদের কী নির্ধারিত করা হয়েছে মেয়েদের ড্রেস দেখার জন্যে?’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুই ছাত্রীর পোশাক নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও তাদের মানসিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা বলছেন, হেনস্তাকারীদের তিনজনের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষক। অন্য দুজন হলেন আরেক শিক্ষকের স্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেটের প্রহরী।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেটের পাশে মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

ওই দুই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদ বিভাগের প্রথম বর্ষে পড়েন। তারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং ফোরামের সদস্যও। এ ঘটনায় সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে। হয়রানি ও হেনস্তার বিষয়টি এক ছাত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরার পর এ নিয়ে আলোচনা চলছে।

দুই ছাত্রীর একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় এক বান্ধবীর সঙ্গে ক্যাম্পাসে ঢুকি কাজলা গেট দিয়ে। তার ব্যাক পেইনের কারণে সে মসজিদের সামনে দাঁড়ালে হঠাৎ একজন শিক্ষক চিৎকার ও ঝাড়ি দেন। বলেন, এই মেয়ে এখান থেকে যাও।

‘লজ্জাশরম নেই? মসজিদের সামনে দাঁড়িয়েছ কেন? আমরা সেখান থেকে চলে যাচ্ছিলাম। তখন সিভিল ড্রেসে যে পুলিশ ছিলেন, তিনি গালাগালি শুরু করে দেন। আপনাদের ড্রেসআপের ঠিক নেই, আপনাদের ওড়না ঠিক নেই, বেয়াদব মেয়ে মানুষ।’

তিনি বলেন, ‘‌ওই সময় এক নারী এসে বলেন, বেয়াদব মেয়ে ওড়না দিয়ে শরীর ঢাকনি, তর্ক করছ? আর সেই শিক্ষক নামাজ পড়তে না গিয়ে হুকুম দিলেন, আমাদের আইডি কার্ড রেখে দেয়ার।

‘…..আমরা হাঁটছিলাম। তখন উনি (শিক্ষক) আমাদের ধরে আনার জন্য বলেন এবং আমাদের আইডি কার্ড রেখে দেয়ার নির্দেশ দেন। সেই পুলিশও সুযোগ পেল এবং আরও কিছু কথা শুনিয়ে বলল, আইডি কার্ড দেন আপনাদের শিক্ষক বলছেন। আইডি কার্ড দেন না হলে বের হোন এক্ষণি ক্যাম্পাস থেকে। মানসম্মানের ভয়ে নিজেরা ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে যাই।

রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং ফোরামের বিজ্ঞপ্তি

‘ঘটনার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ আমরা দুজন কাজলা গেটে গেলে পুলিশ সদস্য বিষয়টি স্বীকার করেন। আমরা জানতে পেরেছি ওই শিক্ষকের নাম। ওই নারী আরেক শিক্ষকের স্ত্রী। আমরা রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর ও যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলে লিখিত অভিযোগ করব।

দুই ছাত্রীর একজন বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামের একটি গ্রুপে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পোস্ট দেন। এরপর পোস্টটি নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা। ছাত্র-ছাত্রীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এক ছাত্রী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ভার্সিটিতে বলে দেয়া হোক কোন ড্রেসআপে গেলে এভাবে শিক্ষার্থীদের হ্যারাজ হতে হবে না কাজলা গেটের পুলিশ দ্বারা। তাদের কী নির্ধারিত করা হয়েছে মেয়েদের ড্রেস দেখার জন্যে?’

রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং ফোরামের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। ফোরামের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী সদস্য ইব্রাহিম খলিলের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‌‘একবিংশ শতকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের নারীরা যখন আকাশ জয় করার চিন্তায় মগ্ন, তখন আমার দেশের বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী কী পোশাক পরবে তা নিয়ে শংকিত।’

কাজলা গেটের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও জানানো হয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেটের ঘটনাটি আমি জেনেছি। শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখব।’

আরও পড়ুন:
গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিয়ে দ্বিমত বুয়েটের
বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট রাখার দাবি শিক্ষার্থীদের
বিভাগীয় শহরেই হচ্ছে ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় থাকছে না ‘ঘ’ও ‘চ’ ইউনিট
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে গুচ্ছ পরীক্ষা চায় সরকার

শেয়ার করুন

‘শিক্ষামন্ত্রীকে কলিমউল্লাহর বিষোদগার অনভিপ্রেত’

‘শিক্ষামন্ত্রীকে কলিমউল্লাহর বিষোদগার অনভিপ্রেত’

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। ছবি: নিউজবাংলা

ইউজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ শিক্ষামন্ত্রী ও তদন্ত কমিটি নিয়ে ব্যক্তিগত বিষোদগার করেছেন, তা অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। উপাচার্যের মতো দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত একজন ব্যক্তির কাছ থেকে কোনোভাবেই এটি প্রত্যাশিত নয়।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রত্যাখ্যান করে উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিকে যেভাবে বিষোদগার করেছেন তা অনভিপ্রেত বলছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

শিক্ষামন্ত্রী ও ইউজিসি নিয়ে কলিমউল্লাহর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে শনিবার বিবৃতি দিয়েছে ইউজিসির জনসংযোগ ও তথ্য অধিকার বিভাগ।

ড. শামসুল আরেফিন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউজিসির তদন্ত কমিটি পেশাদার মনোভাব নিয়ে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, সরেজমিনে পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত হয়ে একটি বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে।

‘তবে গত ৪ মার্চ ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) নিয়ে যেসব মন্তব্য করেছেন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তা কমিশনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এমন মন্তব্য খুবই দুঃখজনক।’

২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে একনেকের এক বৈঠকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের একটি হল ও ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউট ভবন নির্মাণের জন্য ‘বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের’ অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ৯৭ দশমিক ৫০ কোটি টাকা।

নকশা পরিবর্তনসহ এসব প্রকল্পে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে ২০১৭ সালের ১৪ জুন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে যোগ দেয়া কলিমউল্লাহ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ইউজিসির তদন্ত কমিটিও অনিয়মের সত্যতা পায়। এ প্রতিবেদন গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কলিমউল্লাহ গত বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন। তার দাবি, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির পরামর্শে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ‘মিথ্যা প্রতিবেদনটি’ করেছে ইউজিসি।

কলিমউল্লাহর এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে ওই দিন বিকেলেই বিবৃতি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এবার বিবৃতি দিল ইউজিসি। এতে বলা হয়, তদন্তটি দীর্ঘ সময় ধরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনো পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী বা অন্য কেউ প্রভাব বিস্তার করার কোনো ধরনের সুযোগ নেই।

‘কমিশন দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চায় যে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত সম্পূর্ণ স্বাধীন ও প্রভাবমুক্তভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ এবং বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

‘সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ শিক্ষামন্ত্রী ও তদন্ত কমিটি নিয়ে ব্যক্তিগত বিষোদগার করেছেন তা অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। উপাচার্যের মতো দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত একজন ব্যক্তির কাছ থেকে কোনোভাবেই এটি প্রত্যাশিত নয়।’

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির ব্যাপারে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তিনি কখনও কোনো বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের বিন্দুমাত্র চেষ্টা করেননি। কোনো উপাচার্য বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে এমন কোনো ধরনের পরামর্শ বা নির্দেশনা তিনি কখনই দেননি।

আরও পড়ুন:
গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিয়ে দ্বিমত বুয়েটের
বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট রাখার দাবি শিক্ষার্থীদের
বিভাগীয় শহরেই হচ্ছে ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় থাকছে না ‘ঘ’ও ‘চ’ ইউনিট
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে গুচ্ছ পরীক্ষা চায় সরকার

শেয়ার করুন

গবেষণা চৌর্যবৃত্তি: সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে তদন্ত চান দুই শিক্ষক

গবেষণা চৌর্যবৃত্তি: সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে তদন্ত চান দুই শিক্ষক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম। ছবি: ফেসবুক

বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে আনা গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামানের কাছে বুধবার ই-মেইলে অভিযোগ তদন্তের দাবি করেছেন তারা। ওই ই-মেইলের সঙ্গে সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে যেসব প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর কয়েকটি কপিও সংযুক্ত করেছেন।

তদন্তের দাবি জানানো দুই শিক্ষকদের একজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক মোস্তাক আহমেদ। তিনি বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

অপরজন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তবে তার নাম জানা যায়নি। এ বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে কোন শিক্ষক, তিনি নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহেযাগী অধ্যাপক সামিয়া রহমান এবং অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের বিরুদ্ধেও গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ আসে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সামিয়া রহমানকে পদাবনতি করে সহকারী অধ্যাপক করা হয়। আর মারজানকে আগামী দু্ই বছর কোনো পদোন্নতি না দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

তবে তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ সামিয়া। সংবাদ সম্মেলনে এসে তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন তিনি। সামিয়া বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির সদস্য ছিলেন অধ্যাপক সাদেকা হালিম।

সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে মোস্তাক আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ই-মেইলে জানিয়েছি, সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মহলে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য উপাচার্যকে অনুরোধ জানিয়েছি।’

সাদেকা হালিমের তিনটি নিবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ তুলে সম্প্রতি দুটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২ সালে ওয়ার্ল্ড জার্নাল অফ এগ্রিকালচার সার্ভিসেস (আইএসএসএন নম্বর: ১৮১৭, ৩০৪৭)-এ প্রকাশিত হয় মো. কাউসার আহমেদ, ড. সাদেকা হালিম এবং শামিমা সুলতানার সম্মিলিত একটি গবেষণা। প্রকাশিত গবেষণাটির বিষয়বস্তু ছিল পার্টিসিপেশন অফ উইমেন অ্যাকুয়াকালচার ইন থ্রি কোস্টাল ডিস্ট্রিক্টস অফ বাংলাদেশ: অ্যাপ্রোচেস টুওয়ারর্ডস সাসটেইনেবল লাইভলিহুড।

অভিযোগ করা হয়েছে, ওই গবেষণাপত্রে ৮৮ শতাংশ তথ্য ও লেখা হুবহু মিল পাওয়া গেছে অন্যান্য গবেষণাপত্র এবং বিভিন্ন বইয়ের সঙ্গে।

এছাড়া মোস্তফা আসিফের নাইদার সাস্টেনেন্স নর সিকিউরিটি: উইমেন অ্যান্ড ফরেস্ট্রি ইন বাংলাদেশ পিএইচডি গবেষণার সুপারভাইজার ছিলেন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। গবেষণাপত্রটি ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর জমা দেয়া হয়। ৮ হাজার ৫১ শব্দের এই গবেষণা পত্রটির নম্বর: ১২৩৮৮০১২৭৫। উল্লেখিত গবেষণাটিতেও ২৬ শতাংশ তথ্য ও উপাত্ত অন্যান্য গবেষণা ও বই থেকে হুবহু তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ মিলেছে।

ভারতের নয়াদিল্লি থেকে ২০১১ সালে সেইজ বুকস থেকে প্রকাশিত মাইনরিটিস অ্যান্ড দ্যা স্টেট: চেঞ্জিং সোশ্যাল অ্যান্ড পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ অফ বেঙ্গল শিরোনামে গবেষণাধর্মী পুস্তকে প্রদায়ক হিসেবে কাজ করেছেন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। অভিযোগ রয়েছে, সাদেকা হালিম স্ট্যাটাস অব হিন্দু ইউমেন: স্পেয়ারস অব হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ভায়োলেশনস অধ্যায়ের ১২ নং পৃষ্ঠায় ৪৪ শতাংশ তথ্য ও উপাত্ত হুবহু কপি করেছেন।

অভিযোগ এবং তার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি নিয়ে কথা হয় অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের সঙ্গে। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘উপাচার্য মহোদয় এখনও আমাকে কিছু জানান নি। যে কেউ অভিযোগ দিতে পারে। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ অসত্য, বিভ্রান্তিকর। আমি বুঝতে পারছি না, তারা চিঠিতে কী লিখেছেন। চিঠিটা আমি দেখি, এরপর উত্তর দেয়া হবে।’

বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ ছাপানো হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি সেসব পত্রিকায় প্রতিবাদলিপি দিয়েছি। এগুলোই এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে আমার উত্তর। এখন এসব পত্রিকায় আমি লিগ্যাল নোটিশ পাঠাব। আমি যেহেতু লিগ্যাল ওয়েতে চলে গেছি, এখন থেকে আমি যা করব, সব লিগ্যালি করব। আমার আইনজীবী সেটি দেখবেন।’

তদন্তের দাবিতে ই-মেইল পাঠানো অধ্যাপক মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে কিছু গবেষণা প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে, যা বিভিন্ন পরিসরে সমালোচনা হচ্ছে। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করছে। আমরা খতিয়ে দেখতে বলেছি, বিষয়টি সত্য কি মিথ্যা। কারণ, মিথ্যা হলে বিশ্ববিদ্যালয় বা ম্যাডামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে, এটি আমরা চাই না।’

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘অফিসে একটা চিঠি এসেছে। অনেকগুলো মিটিং ছিল, তাই এটি এখনও আমি দেখতে পারিনি।’

চিঠি পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদক্ষেপ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগাম মন্তব্য করা আসলে আমার সঙ্গে যায় না।’

সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। বৃহস্পতিবার টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি রক্ষায় তদন্ত কমিটি গঠন, সাদেকা হালিমকে ডিনের পদ থেকে অব্যাহতি এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানায় তারা।

আরও পড়ুন:
গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিয়ে দ্বিমত বুয়েটের
বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট রাখার দাবি শিক্ষার্থীদের
বিভাগীয় শহরেই হচ্ছে ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় থাকছে না ‘ঘ’ও ‘চ’ ইউনিট
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে গুচ্ছ পরীক্ষা চায় সরকার

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg