× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

শিক্ষা
শিক্ষাঙ্গন বন্ধ মানসিক চাপে এলোমেলো জীবন
google_news print-icon

শিক্ষাঙ্গন বন্ধ: মানসিক চাপে এলোমেলো জীবন

শিক্ষাঙ্গন-বন্ধ-মানসিক-চাপে-এলোমেলো-জীবন
ঢাকার একটি বয়েজ হোস্টেলে অলস বসে তরুণ। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস
শিশু-কিশোররা মেজাজ হারাচ্ছে, বড়রাও হয়ে উঠছে খিটখিটে। অনলাইনে পড়াশোনা বিরক্ত লাগছে শিশুদের কাছে। বাইরে গিয়ে খেলাধূলা করতে চায় তারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বজনদের এই সময়ে সাহায্যের হাত বাড়াতে হবে। আর বেশি সমস্যা হলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নানা রকম ক্ষতিকর প্রভাব দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

যারা শিক্ষা জীবন শেষ করে চাকরির প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছিলেন, জীবন থমকে যাওয়ায় উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে তাদের মধ্যে।

শিশু-কিশোররা স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা করতে না পারায় মনের কথা খুলে বলতে না পারায় হয়ে যাচ্ছে বিষন্ন; মেজাজ হচ্ছে খিটখিটে।

করোনা পরিস্থিতি অন্য সব সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষা জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে। ক্লাস বন্ধ থাকায় অনলাইনে চলছে লেখাপড়া। কিন্তু এটা ভালো লাগছে না শিক্ষার্থীদের কাছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে কলেজ বন্ধ। রাজধানী একটি সরকারি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফা (ছদ্মনাম) ঢাকা ছেড়ে গ্রামে। শুরুতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোই লাগত। কিন্তু কিছুদিন পর লাগে একঘেয়েমি।

আরিফার আচরণ পাল্টাতে থাকে। শুরুতে দিনের বেশিরভাগ সময় একা থাকতেন। কারও সঙ্গে কথা বলতেন না। পরে শুরু হয় মধ্যরাতে ঘুমের মধ্যেই উচ্চস্বরে চিৎকার। এক পর্যায়ে পরিবারের কাউকেই সহ্য করতে পারতেন না।

এমন অস্বাভাবিক আচরণ কেন, চিন্তিত হয়ে পড়েন স্বজনরা। গ্রামে ভালো ডাক্তার নেই। যার কাছে তাকে নেয়া হয়, তিনি কোনো ব্যাখ্যাই দিতে পারলেন না।

পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে থাকে। পরে পরামর্শ করে আরিফাকে গত আগস্টে রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। এখানে এসে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও পুরোপুরি সুস্থ হননি আরিফা।

শিক্ষাঙ্গন বন্ধ: মানসিক চাপে এলোমেলো জীবন
করোনাকালে জাতীয় মানসিক রোগ ইনস্টিটিউটে রোগীর চাপ বেড়েছে

প্রাপ্তবয়স্ক এই তরুণী যখন নিজেকে সামলাতে পারেননি, তখন ক্ষুদে শিক্ষার্থীরাও যে বিপাকে, সেটা সহজেই বোঝা যায়।

রাজধানীর একটি বেসরকারি স্কুলের অষ্ঠম শ্রেণি ছাত্রী শ্রেয়সী বোসকে অনলাইনে চার ঘণ্টা ক্লাস করতে হয়। তার ভালো লাগে না এভাবে পড়তে। মাঝে মাঝে মাকে বলে গ্রামের বাড়ি যাবে, যেখানে অনলাইনে ক্লাস করা লাগবে না। সবার সঙ্গে কথা বলতে পারবে, মিশতে পারবে, খেলতে পারবে।

রাজধানীর আইডিয়াল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মোমিনের মা বৃষ্টি আক্তার বলেন, ‘ছেলে অনেক সময় পড়ানো বিষয়ও ভুলে যায়। বার বার পড়ানোর পরেও মনে রাখতে পারেন না। এটা নিয়ে অনেক সমস্যায় রয়েছি।’

করোনা সংক্রমণ ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে গত ১৮ মার্চ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। পাঁচ দফা বাড়িয়ে ছুটি করা হয়েছে আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ফলে প্রায় চার কোটি সাড়ে ৪৪ লাখ শিক্ষার্থীর বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, স্কুলে পড়াশোনা সব বন্ধ।

প্রথম কিছুদিন অ্যাকাডেমিক চাপের বাইরে বাড়িতে আত্মীয় পরিজনের কাছাকাছি থাকায় ভালো লাগলেও এখন ভালো সময় কাটছে না।

ক্যাম্পাস কবে খুলবে, লেখাপড়া শেষ কবে, পড়াশোনা শেষ হলে চাকরির কী হবে, বিকল্প আয়ের কী সংস্থান হবে, এসব চিন্তায় নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে বহু জন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন কাউসার বিপ্লব নিউজবাংলাকে জানান, মহামারিকালে তারা মানসিক রোগী পাচ্ছেন আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি। অন্যান্য রোগও বেড়েছে। করোনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে এ সময়ে টিভি, স্মার্টফোন বা ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্ত হয়ে পয়েছে। যে কারণে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, এই পরিস্থিতিতে মেদস্থুলতা বেড়ে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বেড়েছে হতাশা, উদ্বেগ, আত্মহত্যা ও বখে যাওয়ার প্রবণতা। বাল্যবিয়ে, শিশুশ্রমে, শিশু নির্যাতন ও শিশু-কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনৈতিক যত সমস্যাই থাকুক না কেন, আতঙ্কগ্রস্ত না হওয়া যাবে না। আতঙ্কিত হলেই মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে আসে।

করোনাকালে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে রোগীর চাপ বেড়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এখানকার বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসেন চার হাজার ৭৪৭ জন রোগী। অক্টোবরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৩৭০ এ। একই অবস্থা পাবনা মানসিক হাসপাতালে।

মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের এক হিসাব বলছে, ২০১৮ সালে দেশে ১৮.৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং প্রায় ১৩ শতাংশ শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে। তবে এদের মধ্যে ৯২ শতাংশ মানুষই চিকিৎসার বাইরে থাকে।

ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রায় ৯ মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠা বন্ধ যে কারণে শিক্ষার্থীদের বিসন্নতা ও মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। এসব রোগীকে আগে শুধু পরামর্শ দিলেই হতো এখন ভর্তি রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।’

এই চিকিৎসক জানান, প্রতিদিন তিনশর মতো রোগী আসেন। এদের বেশিরভাগ বিষন্নতা ও মানসিক চাপ, উদ্বেগ্ন, খিটখিটে মেজাজ, অস্বাভাবিক আচরণের সমস্যা নিয়ে আসেন।

যারা শিক্ষার্থী তাদের মধ্যে শিক্ষা জীবন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানান এই মনরোগ বিশেষজ্ঞ।

শিক্ষাঙ্গন বন্ধ: মানসিক চাপে এলোমেলো জীবন
শিশুদেরকে খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশন অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মেহজাবীন হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিশুরা আটকা পড়ে গেছে। প্রতিটা শিক্ষার্থীদের আলাদা আলাদা পরিকল্পনা ছিল। অনেক ইচ্ছা ছিল ভালো চাকরি, বা বিদেশে পড়তে যাওয়া, অনেকেই পরিকল্পনা ছিল বিয়ে করবে। এসব পকিল্পনা বাধাগ্রস্ত হল করোনা কারণে তারা বিষন্নতাবোধ করবে এটা খুবই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, ‘যারা টিউশন করে চলত, তাদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে আসছে। ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষতি হয়েছে। শুধু শিক্ষার্থী নয় পরিবার প্রতিটা সদস্য কিছু না কিছু মানসিক সমস্যার মধ্যে রয়েছে। এটা কাটিয়ে উঠা কিন্তু সহজ নয়।’

সমাধান কী?- জানতে চাইলে এই মনরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘এসব সমস্যা থেকে বের হয় আসতে পরিবারকে সচেতন হতে হবে। শিক্ষার্থীদের বলতে হবে এই মহামারি সারাজীবন থাকবে না। কোনো না কোনো দিন এটি বিদায় নিবে। পৃথিবীতে এমন মহামারি অনেক বার এসেছে। একটু ধৈর্য ধারণ করতে হবে।’

এই সময়ে নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক। বলেন, পাখি বা বিড়াল পালা যেতে পারে।

‘প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটান, তাহলে আমাদের হতাশ ও মানসিক সমস্যা অনেক অংশ কমে যায়। এছাড় নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম করা যায়, খেলাধূলা করা যায়। এসব কর্মকাণ্ড আমাদের সুস্থ থাকতে সহযোগিতা করবে।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

শিক্ষা
The British Council has published a new position paper on developing a language sensitive education system

ভাষা সংবেদনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নতুন অবস্থানপত্র প্রকাশ করল ব্রিটিশ কাউন্সিল

ভাষা সংবেদনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নতুন অবস্থানপত্র প্রকাশ করল ব্রিটিশ কাউন্সিল

শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক ভাষাগত বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে ভাষা সংবেদনশীল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে নতুন একটি বৈশ্বিক অবস্থানপত্র প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায্য ও কার্যকর শিক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে অবস্থানপত্রে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এই অবস্থানপত্রে শিক্ষায় ভাষানীতি ও ভাষা ব্যবহারের বিষয়ে সংস্থাটির দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে ইংরেজি ভাষার পরিবর্তিত ও বহুমাত্রিক ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়া হলেও ভাষাগত বৈচিত্র্য এবং স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বের অনেক দেশেই শিক্ষার্থীরা বহুভাষিক পরিবেশে বেড়ে ওঠে। অনেক সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে ভাষায় পাঠদান করা হয়, তা তাদের বাসার কথ্য ভাষা থেকে ভিন্ন হয়। শিক্ষা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ইংরেজির বিশেষ গুরুত্ব থাকলেও সব দেশের জন্য একই ভাষানীতি কার্যকর হবে না বলে উল্লেখ করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।

বরং প্রতিটি দেশের ইতিহাস, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রমাণভিত্তিক ও প্রেক্ষাপটনির্ভর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। ব্রিটিশ কাউন্সিলের মতে, শিক্ষাদান ও শিক্ষাগ্রহণের ভাষা কী হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত স্থানীয় নীতিনির্ধারক ও শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের।

অবস্থানপত্রটির কেন্দ্রীয় ধারণা হলো ‘ভাষা সংবেদনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা’। এ ধরনের ব্যবস্থায় ভাষাকে শেখার একটি মৌলিক উপাদান হিসেবে দেখা হয় এবং সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থার সাথে সমন্বিত করা হয় । নীতিনির্ধারণ, পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষাসামগ্রী, মূল্যায়ন এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ—শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে ভাষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

এই অবস্থাপত্রে তুলে ধরা হয়েছে যে, কোন ভাষায় পাঠদান করা হবে, সেটিই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের শেখার জন্য সহায়ক পরিবেশ কতটা নিশ্চিত করতে পারছে। অর্থাৎ, শিক্ষা ব্যবস্থা শেখার উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে কতটা সক্ষম, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

যেসব দেশে পাঠদান ও শিক্ষাগ্রহণে ইংরেজি ভাষা ব্যবহৃত হয়, সেখানে ইংরেজি বিষয়ে শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলা, পাঠ্যক্রম অনুধাবনের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় ভাষাগত দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা এবং একই সঙ্গে তাদের পরিচিত ভাষার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ভাষা সংবেদনশীল শিক্ষণপদ্ধতিতে প্রশিক্ষিত শিক্ষক, সহজলভ্য শিক্ষাসামগ্রী এবং শিক্ষার্থীদের ভাষা বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।

এই অবস্থানপত্র তৈরিতে বিস্তৃত পরিসরে একটি বৈশ্বিক লিটারেচার রিভিউ পরিচালনা করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। এতে বিভিন্ন দেশে ইংরেজি শেখানো এবং ইংরেজির মাধ্যমে পাঠদানের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের শেখার ফল অনেকাংশে নির্ভর করে শিক্ষকদের ভাষাগত দক্ষতা, শিক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা এবং স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে ভাষানীতির সামঞ্জস্যের ওপর। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া ইংরেজিমাধ্যমে পাঠদান শুরু করলে তা শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তাই ইতিবাচক শিক্ষণ ফলাফল নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগের ওপর জোর দিয়েছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।

অবস্থানপত্র প্রকাশ উপলক্ষে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ইংরেজি ও স্কুল শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মাইকেল কনোলি বলেন, “শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভাষা। শিক্ষা ব্যবস্থা যখন শিক্ষার্থীদের ভাষাগত বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেয় এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়, তখন শ্রেণিকক্ষ আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় এবং শেখার পরিবেশ উন্নত হয়। আমাদের এই অবস্থানপত্রে প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত ও সমন্বিত পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে, যেন ভাষানীতি শিক্ষার্থীদের অগ্রগতিতে বাধা হয়ে না দাঁড়িয়ে বরং সহায়ক ভূমিকা পালন করে।”

নীতিনির্ধারক ও শিক্ষা খাতের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের ভাষা সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণে উৎসাহিত করার মাধ্যমে নতুন নীতি ও কার্যপদ্ধতি প্রণয়নে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সহায়তা করাই ব্রিটিশ কাউন্সিলের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখার ফল আরও সমৃদ্ধ হবে এবং সবার জন্য আরও বিস্তৃত সুযোগ তৈরি হবে। নতুন এই অবস্থানপত্র ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা পর্যালোচনা শিক্ষা ব্যবস্থায় ভাষা বিষয়ক আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দক্ষতানির্ভর পন্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষক, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক দলিল হিসেবে কাজ করবে।

মন্তব্য

শিক্ষা
Stamford Universitys Civil Engineering Department held freshmen

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নিতে ‘ফ্রেশম্যান ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার (১৮ মে ২০২৬) রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মিলনায়তনে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকবৃন্দ এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নবীনদের উচ্চশিক্ষার যাত্রাকে স্বাগত জানানো হয়।

এই নবীনবরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্প্রিং ২০২৫, সামার ২০২৫ এবং স্প্রিং ২০২৬ সেমিস্টারের সিইএন-৮৪-এ, সিইএন-৮৫-এ এবং সিইএন-৮৬-এ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিভাগীয় পরিবারের অংশ হয়ে ওঠেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ নাফে আস-সাবের। তিনি নবীনদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান এবং তাদের শিক্ষা জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরুর এই মুহূর্তকে উদযাপন করেন।

নবীনদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ নাফে আস-সাবের তাঁর বক্তব্যে বিশেষ কিছু দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষতা অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তার অধিকারী হতে হবে। একই সাথে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের প্রস্তুতি হিসেবে নিজেকে পেশাগত সততা ও নিষ্ঠার সাথে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, নৈতিকতা ও কারিগরি জ্ঞানের সমন্বয়ই একজন প্রকৌশলীকে প্রকৃত অর্থে সফল করে তোলে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ফারহানা চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক বি সি বসাক এবং এমিরেটাস অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মৃত্যুঞ্জয় আচার্য্যও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা সম্পর্কে ধারণা দেন। বক্তারা তাঁদের আলোচনায় গবেষণা ও কারিগরি জ্ঞানের পাশাপাশি নিয়মিত সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে নবীন শিক্ষার্থীরা বিভাগের নিয়ম-শৃঙ্খলা ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন। তাত্ত্বিক আলোচনার পর আয়োজিত এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে এক সুন্দর সেতুবন্ধন তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন পরিকল্পিত উদ্যোগে নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও লক্ষ্য স্থির করার প্রেরণা লক্ষ্য করা গেছে। শেষে বিভাগের পক্ষ থেকে সকল অংশগ্রহণকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

মন্তব্য

শিক্ষা
Professor Dr Mohammad Iqbal took over as the Vice Chancellor of Duet

ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালের দায়িত্ব গ্রহণ

ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালের দায়িত্ব গ্রহণ

গত বৃহস্পতিবার (১৪ই মে) মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলের অনুমোদনক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব কর্তৃক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন মোতাবেক তিনি যোগদান করেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তিনি চার বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন।

রোববার (১৭ মে) দৈনন্দিন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদগুলোর ডীন, বিভাগীয় প্রধান, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালকসহ রেজিস্ট্রারের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সাথে মিটিংয়ে তিনি সকলের সহযোগিতায় প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা, গবেষণা, ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশনের মাধ্যমে ডুয়েটকে সামগ্রিকভাবে সামনে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ডুয়েট উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তিনি নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি, সিলেট-এর উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। দীর্ঘ ৩৪ বছরের পেশাগত জীবনে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট-এর সিন্ডিকেট সদস্য, অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডীন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, প্রভোস্ট, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরি ও’কনর প্রসেস সেফটি সেন্টারে ভিজিটিং রিসার্চ স্কলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর ইউনিভার্সিটি কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্নের পর তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশি বিদেশি পিয়ার রিভিউড জার্নালে তাঁর ৩৫টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে তিনি ৯০টিরও বেশি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল আরগোনোমিক্স অ্যান্ড হিউম্যান ফ্যাক্টরস ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল, প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও এনভায়রনমেন্ট সংশ্ল্ষ্টি বিষয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণায় সমৃদ্ধ। গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস ম্যানেজমেন্ট (আইইওএম) সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল থেকে ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর অ্যান্ড লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডসহ শ্রেষ্ঠ গবেষণা প্রবন্ধের জন্য একাধিক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে সম্মাননা অর্জন করেন।

তিনি আইইওএম সোসাইটি ইন্টারন্যাশনালের জীবন সদস্য, ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) জীবন সদস্য, অ্যাশরেই বাংলাদেশ শাখা, বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটি এবং এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পেশাজীবী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং স্ত্রী অধ্যাপক ড. সালমা আখতার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় নিয়োজিত আছেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই কন্যার জনক।

মন্তব্য

শিক্ষা
Dr Matinur took charge of the newly appointed EB vice chancellor

ইবি নবনিযুক্ত উপাচার্যের দায়িত্ব নিলেন ড. মতিনুর

ইবি নবনিযুক্ত উপাচার্যের দায়িত্ব নিলেন ড. মতিনুর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম উপাচার্য হিসেবে আগামী চার বছরের জন্য এ দায়িত্ব পালন করবেন।

শুক্রবার (১৫) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের উপাচার্য কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম, ইউট্যাব সভাপতি ড. তোজাম্মেল হোসেনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, যা ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি সুস্পষ্ট আদর্শ ও লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও সময়ের পরিক্রমায় বিভিন্ন কারণে সেই মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে। আমি চেষ্টা করব বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে নিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’

মন্তব্য

শিক্ষা
 16 students of Kubir are receiving Prime Minister Gold Medal

 ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ পাচ্ছেন কুবির ১৬ শিক্ষার্থী

 ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ পাচ্ছেন কুবির ১৬ শিক্ষার্থী

শিক্ষাজীবনে একাডেমিক ফলাফলে সর্বোচ্চ মেধার স্বাক্ষর রাখায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ পাচ্ছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ১৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ২০১৯ সালে পাঁচজন, ২০২০ সালে পাঁচজন এবং ২০২১ সালে ছয়জন শিক্ষার্থী এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর (একাডেমিক শাখা) থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের মনোনীত শিক্ষার্থীরা হলেন—পরিসংখ্যান বিভাগের সোনিয়া আক্তার, ইংরেজি বিভাগের নূর-ই-জাহান তাহিন, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মোছা. তাসলিমা আক্তার, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের তাশফিয়া সালাম এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের রিপা আক্তার।

২০২০ সালের মনোনীত শিক্ষার্থীরা হলেন—রসায়ন বিভাগের মাহিমা সুলতানা সরকার, বাংলা বিভাগের তাইয়াবুন নাহার, অর্থনীতি বিভাগের হেলাল উদ্দীন, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের মোছা. মুক্তা আক্তার এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ফারজানা আক্তার।

এছাড়া ২০২১ সালের মনোনীত শিক্ষার্থীরা হলেন—পরিসংখ্যান বিভাগের তানজিনা আক্তার, বাংলা বিভাগের নাজনীন সুলতানা, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সাবিকুন্নাহার, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের নাহিদা আক্তার, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের আমেনা আক্তার এবং আইন বিভাগের নিশি আক্তার।

এ বিষয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মোশাররফ হোসাইন বলেন, ‘পূর্বেই আবেদন করা ছিল, এতদিনে ফাইনাল হয়েছে। এখন তিন বছর দেওয়া হচ্ছে। আরো তিনটি বছরের ফলাফল তৈরি রয়েছে। সেগুলোও পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ স্বর্ণপদক ও সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য

শিক্ষা
Dr Matinur Rahman has been appointed as the new vice chancellor of EB

ইবির নতুন উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন ড. মতিনুর রহমান

ইবির নতুন উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন ড. মতিনুর রহমান

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৮০ (সংশোধিত-২০১০) এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে আগামী চার বছরের জন্য উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি ইচ্ছা করলে এর আগেও দায়িত্ব ছাড়তে পারবেন।

এতে আরও বলা হয়, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাসহ বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ইউট্যাব) কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োজিত আছেন।

মন্তব্য

শিক্ষা
International Nurses Day was celebrated at IUBAT in a grand manner

আইইউবিএটিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস পালিত

আইইউবিএটিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস পালিত

আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) কলেজ অব নার্সিং এক বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) উত্তরার আইইউবিএটি অডিটোরিয়ামে এই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নার্সিং পেশার গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং জনস্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগ গ্রহণ করে। ‘আমাদের নার্স, আমাদের ভবিষ্যৎ, ক্ষমতায়িত নার্সরাই জীবন বাঁচায়’—এই সময়োপযোগী প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের আয়োজনটি সাজানো হয়।

দিবসটি উদযাপনের লক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়, যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। র‍্যালি পরবর্তী মূল অধিবেশনে ছিল আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তবে আয়োজনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল অডিটোরিয়ামে পরিচালিত সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচি। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয়। এই উদ্যোগটি একদিকে যেমন ভবিষ্যৎ নার্সদের বাস্তব অভিজ্ঞতার সুযোগ করে দিয়েছে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভূমিকা রেখেছে।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার নিলুফার ইয়াসমিন। তিনি তাঁর বক্তব্যে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় নার্সদের অপরিহার্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নার্সরা কেবল সেবাই দেন না, বরং একটি জাতির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে কাজ করেন। বিশেষ করে নার্সদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা গেলে দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আইইউবিএটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুর রব। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার হালিমা আক্তার এবং কলেজ অব নার্সিং-এর সহযোগী অধ্যাপক সান্দ্রা রুমি মধু। বক্তারা নার্সিং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার বিষয়ে আলোকপাত করেন। তাঁরা মনে করেন, মানসম্মত নার্সিং শিক্ষার মাধ্যমে আইইউবিএটি দেশের স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ জনবল জোগান দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নার্সিং পেশার মানবিক দিকগুলো নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ধরনের কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের পেশাদারিত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে অত্যন্ত কার্যকর। উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে, যা নার্সিং শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে আইইউবিএটি আরও একবার প্রমাণ করল যে, তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিতে তারা বদ্ধপরিকর।

মন্তব্য

p
উপরে