20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
করোনায় সংকটে সৌদি আরবের বাংলা স্কুল

করোনায় সংকটে সৌদি আরবের বাংলা স্কুল

সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সন্তানদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে দেশটিতে রয়েছে লাল সবুজের পতাকাবাহী নয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে কিছু চলছে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে জাতীয় পাঠ্যক্রমে, আবার কিছু ব্রিটিশ পাঠ্যক্রমে।

করোনা মহামারিতে আর্থিক সংকটে সৌদি আরবে বাংলা স্কুলগুলোর টিকে থাকা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে পড়াশোনা করা ১০ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে

এর আগে স্কুলগুলোর নানা সংকটে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিল সরকার। আবারও প্রণোদনা দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সন্তানদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে দেশটিতে রয়েছে লাল সবুজের পতাকাবাহী নয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে কিছু চলছে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে জাতীয় পাঠ্যক্রমে, আবার কিছু ব্রিটিশ পাঠ্যক্রমে।

মহামারিকালে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বা ভবন ভাড়া পরিশোধ করতে পারছেন না স্কুল মালিকরা। অভিভাবকরা বেকার হয়ে পড়ায় মাসিক টিউশন ফি পরিশোধ করতে পারছেন না।

জাতীয় পাঠ্যক্রমে চলে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোসতাক আহমেদ বলেন, ‘আমরা গভীর সংকটে আছি। সব কিছু বন্ধ থাকলেও আমরা শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছি। বিশেষ ফান্ড থেকে শিক্ষকদেরকে ফেব্রুয়ারি এবং মার্চের অর্ধেক বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। অভিভাবকদের অবস্থাও ভালো না। এই অবস্থায় সরকারের বিশেষ বরাদ্দ ছাড়া পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।’

একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক মোহসীন আহমেদ নিউজবাংলাকে জানান, অনেকের নিজের সংসারের খরচ চালানো দায় হয়ে পড়েছে, তখন স্কুলের বেতন পরিশোধের জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের চাপে অসহায় হয়ে পড়েছেন।

আবুল বশির নামে একজন অভিভাবক বলেন, ‘এই আপৎকালীন সময়ে যদি সরকারের পক্ষ থেকে স্কুলগুলোকে বিশেষ প্রণোদনা দিত, তা হলে কোমলমতি সন্তানদের পড়ালেখা নিশ্চিত হতো।’

শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন, প্রতিষ্ঠানটির ভবন ভাড়া বাবদ প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা খরচ হয় জানিয়ে অভিভাবকদেরকে বেতন পরিশোধের অনুরোধ জানিয়েছেন রিয়াদের বাংলা স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এহসানুল হক।

এহসানুল বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে অনেক প্রবাসী বেকার হয়ে পড়েছেন। তারা ইতিমধ্যে জানিয়েছেন তাদের পক্ষে কোনো ধরনের ফি দেয়া সম্ভব নয়। কিন্তু একাডেমিক কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষকরা পরিচালনা করে আসছেন। প্রতি মাসে এসব শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতন দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারি অব্যাহত থাকলে একদিকে যেমন প্রবাসীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে, তেমনি সরকারি সহায়তা না পেলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশি এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই অভিভাবক এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রবাসী এসব স্কুলগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করছে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য