20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
স্কুলে টিউশন ছাড়া আর কোনো ফি নয়

করোনায় বন্ধ থাকলেও ফি আদায়ের প্রতিবাদে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি বিক্ষোভ করে। ছবি: নিউজবাংলা

স্কুলে টিউশন ছাড়া আর কোনো ফি নয়

অ্যাসাইনমেন্ট, টিফিন, পুনঃভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগাজিন ও উন্নয়ন ফি নেয়া যাবে না। ১৮ মার্চের পর আদায় করা ফি সমন্বয় করতে হবে।

করোনাকালে বন্ধ থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টিউশন ফির বাইরে অন্য কোনো ফি আদায় করা যাবে না বলে জানিয়েছে সরকার। করোনার কারণে যাদের আয় কমে গেছে, তাদের বিষয়টি বিবেচনারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্য কোনো ফি আদায় করা হলে তা সমন্বয় করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বুধবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর মাউশির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

করোনা মহামারিতে গত ১৭ মার্চ থেকে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকা অবস্থায় ক্লাস চলছে অনলাইনে। মাউশি বলছে, এ কন্য কেবল টিউশন ফি নেয়া যাবে। টিফিন, পুনঃভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগাজিন ও উন্নয়ন ফি নেয়া যাবে না।

বার্ষিক পরীক্ষা বাতিলের পর শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে যে অ্যাসাইনমেন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে, তার নামেও কোনো টাকা আদায় করা যাবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

সরকার অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে অর্থ আদায়ের কোনো সিদ্ধান্ত না জানালেও দেশের প্রতিটি জেলা থেকেই এই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

করোনা মহামারিতে মানুষের আয় কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ব্যয় মেটানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে বহুজনের জন্য।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকা অবস্থায় লাইব্রেরি ও অন্যান্য ফি আদায় করার প্রতিবাদে সম্প্রতি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে আন্দোলন করেছে।

আবার উল্টো চিত্রও আছে। বেতন আদায় করতে না পেরে বহু কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধের পথে আরও অনেক স্কুল। এই অবস্থায় আগামী শিক্ষা বর্ষে শহর এলাকায় শিশুদের স্কুলে ভর্তি নিয়েই তৈরি হয়েছে শঙ্কা। কারণ, উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরা এখন সরকারি স্কুলের বদলে বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনেই সন্তানদেরকে পড়িয়ে থাকেন।

মাউশি বলছে অভিভাবকদের স্বার্থও যেমন দেখতে হবে, তেমনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়টিও দেখতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে টিউশন ফি আদায়ের বিষয়ে বলা হয়, ‘এ অবস্থায় আমাদেরকে যেমন অভিভাবকদের অসুবিধার কথা ভাবতে হবে, অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বন্ধ বা অকার্যকর হয়ে না যায় কিংবা বেতন না পেয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবন যেন চরম সংকটে পতিত না হয়, সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।’

যারা চাকরি হারিয়েছেন, ব্যবসায় লোকসান খেয়েছেন, তাদের টিউশন ফি আদায়ের ক্ষেত্রে ‘বিশেষ বিবেচনার’ও আহ্বান জানিয়েছে মাউশি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘যদি কোনো অভিভাবক চরম আর্থিক সংকটে পতিত হন, তাহলে তার সন্তানের টিউশন ফির বিষয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বিশেষ বিবেচনায় নেবেন। কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন যেন কোনো কারণে ব্যাহত না হয় সে বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সকলকে যত্নশীল হতে হবে।’

আগামী বছরের শুরুতে যদি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে একই নিয়মে ফি নেয়া যাবে বলেও জানিয়েছে মাউশি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগের নিয়মে সব ফি নিতে পারবে বলেও জানানো হয়েছে।

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

করোনার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিবেচনায় এবার বাতিল হয়েছে এইচএসসি, অষ্টম শ্রেণি সমাপনী জেএসসি, প্রাথমিক সমাপনী পিইসি পরীক্ষা।

স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা না নিয়ে সবাইকে পরের শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করার সিদ্ধান্তও এসেছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য