20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না

স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না

বুধবার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

করোনা মহামারিতে এইচএসসি পরীক্ষা বাতিলের পর এবার স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষাও বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে।

বুধবার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

মন্ত্রী বলেন, এটা এক ধরনের অটো পাস। তবে শিক্ষার্থীদের কাছে তার অনুরোধ, তারা যেন শ্রেণি অনুযায়ী পাঠ্যক্রম সম্পন্ন করে। এ বিষয়ে তাদের অভিভাবকরা যেন আরও সচেতন থেকে বিষয়টি তদারকি করে।

দীপু মনি জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ৩০ দিনের একটি সিলেবাস প্রণয়ন করেছে। সেই সিলেবাস অনুযায়ী তাদের প্রতি সপ্তাহে একটি করে অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হবে।

তিনি জানান, ওই সিলেবাসে শিক্ষার্থীদের শ্রেণি অনুযায়ী পাঠ্যক্রম নির্ধারণ করা হয়েছে। সিলেবাসটি দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো হবে।

সিলেবাসটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও থাকবে বলে জানান দীপুমনি। তিনি বলেন, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিলেবাস অনুযায়ী পাঠের বিষয়গুলো পৌঁছে দেবে। সেটা অনলাইনে কিংবা সামাজিক দূরত্ব মেনে হবে।

মন্ত্রী জানান, পাঠানো বিষয়গুলোর ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের প্রতি সপ্তাহে একটি করে অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হবে। অ্যাসাইনমেন্টটিও এনসিটিবি প্রস্তুত করে রেখেছে। শিক্ষার্থীরা অ্যাসাইনমেন্ট পাওয়ার পর সম্পন্ন করে পরের সপ্তাহে সেটি জমা দেবে।

দীপু মনি জোর দিয়ে বলেন, এই ৩০ দিনের মধ্যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার শিক্ষার্থীদের অন্য কোনো পরীক্ষা নিতে পারবে না।

তিনি জানান, ৩০ দিনের সিলেবাসে পুরো বছরের পাঠ্যক্রমের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ পদ্ধতি অনুযায়ী পাঠ্য কার্যক্রম চলতে থাকবে।

করোনার ভয়াবহতা গত দুই মাসে কিছুটা কমে এলেও আগামী শীত মৌসুমে দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিষয়ে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। কয়েক দফা বাড়িয়ে ছুটির মেয়াদ করা হয়েছে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

এ মুহূর্তে অনলাইন ও টেলিভিশনে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। তবে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি শিশু-কিশোর অনলাইনের ক্লাসে যোগ দিতে পারছে না।

আর্থিক বা প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় পরীক্ষা নিলে একটি বড় অংশের শিক্ষার্থীদের ফলাফল খারাপ হতে পারে।

এরই মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিশুদের কোনো পরীক্ষা ছাড়া পাস করানোর সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তারাও বিকল্প উপায়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের কথা বলছে।

এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা না নেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার গড় ফলের ভিত্তিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফল নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

শেয়ার করুন