20201002104319.jpg
বহিরাগতদের জন্য নিষিদ্ধ ঢাবি

বহিরাগতদের জন্য নিষিদ্ধ ঢাবি

এখন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ আছে, শিক্ষার্থী নেই। সেখানে বহিরাগতরাই এসে জটলা পাকাচ্ছে। তাছাড়া করোনা রোধে আমরা দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলাম। ইদানীং দেখছি তারা নিয়ম না মেনে দোকান খুলছে: প্রক্টর গোলাম রাব্বানী

ছাত্র-শিক্ষক বা কর্মকর্তা-কর্মচারী অথবা তাদের পোষ্য নন- এমন ব্যক্তিদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢোকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে ক্যাম্পাস এলাকা দিয়ে গাড়িতে করে যাতায়াতে বাধা থাকবে না।

সোমবার বহিরাগতদের ঢোকা নিষিদ্ধ করে প্রক্টরিয়াল টিম। ঘোষণা দেয় হয়েছে, বহিরাগতদের পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিকেল থেকে ক্যাম্পাসে মাইকিং করে সতর্ক করে দেন প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা। তারা অস্থায়ী দোকানগুলো বন্ধের নির্দেশ দেন।

ঘোষণার পরেও কোনো বহিরাগতকে পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয় মাইকে।

প্রক্টোরিয়াল টিমের একজন সদস্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের ওপর নির্দেশ আছে যেন বহিরাগত ঢুকতে না পারে। চায়ের দোকানসহ সমস্ত স্থায়ী-অস্থায়ী দোকান বন্ধ করার নির্দেশও আছে। আমরা সেই নির্দেশই পালন করছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চায়ের পাশাপাশি, ফুচকা-ভেলপুরি, হাতের চুড়িসহ নানা পণ্যের অস্থায়ী দোকান বসে প্রতিদিন। এই ঘোষণার পর দোকানিরা মালপত্র গুটিয়ে নেন।

তাদের অনেকেই বলছিলেন, তারা গরিব মানুষ, এই দোকান দিয়েই তাদের সংসার চলে।

চুড়ি ব্যবসায়ী জান্নাত আরা বলেন, ‘আমার দাদিও এখানে চুড়ি বেচত। পরে আমার খালা বেচছে। এখন আমি আর আমার মাইয়া বেচি। এই চুড়ি বেইচাই আমার ঘর চলে। দোকান উডায় দিলে আমি কী করুম?’

প্রক্টর গোলাম রাব্বানী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা আমাদের ধারাবাহিক কর্মসূচির মধ্যে পড়ে। তাছাড়া দ্বিতীয় পর্যায়ে করোনার প্রকোপ সম্পর্কে জানতে পারছি। তাই জটলা করার ক্ষেত্রে আমরা বিধি-নিষেধ দিয়েছি।

‘এখন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ আছে, শিক্ষার্থী নেই। বহিরাগতরাই জটলা পাকাচ্ছে। তাছাড়া করোনা রোধে আমরা দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলাম। ইদানি‌ং দেখছি তারা নিয়ম না মেনে দোকান খুলছে।’

বহিরাগত বলতে কী বুঝিয়েছেন জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তাদের বাইরে সবাই বহিরাগত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা বহিরাগত কিনা এমন প্রশ্নে রাব্বানী বলেন, ‘তারা ঠিক বহিরাগত না, কিন্তু প্রয়োজনের বাইরে আসতে পারবে না।’

করোনার কথা বলে বের করে দেয়ার সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না চা দোকানি বিল্লাল হোসেন। বলেন, ‘বড় বড় সব শপিংমল খোলা। এখন তো লকডাউনও না। সবাই সব করে। আমগোর দোকানে কী দোষ করল বুঝলাম না। কপাল খালি আমগরি খারাপ।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করে। তাদের কী হবে- এমন প্রশ্নে প্রক্টর বলেন, ‘আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ বিষয়ে ছাড় দিয়েছি। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে তিনটি বড় হাসপাতাল আছে, আবার যানজটের কারণেও অনেক মানুষ ক্যাম্পাসের সড়ক ব্যবহার করে, তাই যানবাহনকে বাধা দেয়া হবে না।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য