20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
খুলনার মুহতাসিমের চলো স্বপ্ন ছুঁই...

বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করছেন মুহতাসিম

খুলনার মুহতাসিমের চলো স্বপ্ন ছুঁই...

গভীর রাত। অচেনা একটা মেসেজ এলো মোবাইলে। অমনি রংপুর ভাইয়া সুপার মার্কেটে ছুটে গেলেন মুহতাসিম। দেখেন, প্রতিবন্ধী এক নারী বিপদে পড়েছেন। তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ গন্তব্যে দিয়ে আসলেন মুহতাসিম।

পরদিনই বন্ধুদের ডেকে 'চলো স্বপ্ন ছুঁই' নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তোলেন। ৩০ সদস্য নিয়ে তাদের স্বপ্ন ছোঁয়ার যাত্রা শুরু।

২০১৯ সালে বৈশাখের প্রথম দিনে তারা ৬৭ জন ছিন্নমূল শিশুকে শিক্ষা উপকরণ, নতুন পোশাক, দুপুরের খাবার বিতরণ করেন। এরপর ডিসেম্বরে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন কয়েকটি এতিমখানায়।

এই করোনা দিনে তারা প্রায় ছয় হাজার মানুষের ঘরে ১০ থেকে ১৫ দিনের খাবার পৌঁছে দেন। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা আকস্মিক এই পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে কারও কাছে হাত পাততে পারেন নি। কিন্তু 'চলো স্বপ্ন ছুঁই' তথ্য গোপন রেখে সেসব পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

youth
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে এভাবে ছক এঁকে দিয়েছেন

কখনও টাকা দিয়ে, কখনও খাবার দিয়ে। কখনও অসহায় রোগীর প্রাণ বাঁচাতে শরীরের রক্ত জোগাড়ে।

তা ছাড়া জন সচেতনতা তৈরি করতে তারা নগরীর প্রায় ১২টি এলাকায় নিয়মিত জীবাণুনাশক স্প্রে করেছেন।

বিভিন্ন যায়গায় সচেতনতামূলক পোস্টার লাগানো, দেয়াল লিখন, নিরাপদ দূরুত্ব বজায় রাখতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে ছক এঁকে দিয়েছেন।

গত রমজানে শহরের চলমান রিকশা-ভ্যান চালকসহ ছিন্নমূল এক হাজার ৫০০ মানুষের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ইফতার সামগ্রী।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময় ত্রাণ বিতরণ, বিনামূল্যে মাস্ক, হ্যান্ডওয়াস, স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণসহ অসহায় মানুষকে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্য সেলাই মেশিন, হাঁস-মুরগি, কবুতর বিতরণ করেছে- চলো স্বপ্ন ছুঁই।

youthnewsbangla
নগরীতে নিয়মিত জীবাণুনাশক স্প্রে করেছেন

প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সে প্রথম বর্সে পড়ুয়া মুহতাসিম আবশাদ জিসান বলেন,

'সংগঠনের মাধ্যমে আমরা মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সবসময় কাজ করতে চাই। আমার এবং আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে আগামীর দিনগুলোতে এগিয়ে যেতে চাই। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে তরুণরা এমন করে দাঁড়ালে এক দিন আমরা ঠিকই আমাদের স্বপ্ন ছুঁতে পারব।'

চলো স্বপ্ন ছুঁই-এর সভাপতি মুহতাসিমের মতো আমরাও বিশ্বাস করি, তরুণরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে একদিন ঠিকই বদলে দেবে দেশ।

শেয়ার করুন