20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
পরীক্ষা বাতিল, ২১৫ কোটি টাকার কী হবে

পরীক্ষা বাতিল, ২১৫ কোটি টাকার কী হবে

রেজিস্ট্রেশন বাবদ ১৪ লাখ পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে সরকার আদায় করেছে প্রায় ২১৫ কোটি টাকা। এই টাকা ফেরত দেয়ার সম্ভাবনা কম বলছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান

এইচএসসি পরীক্ষা দিতে হচ্ছে না। রাজধানীর সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র সুজন মোহাম্মদের প্রশ্ন তার ফরম ফিলাপের টাকার কী হবে?

বিজ্ঞানের ছাত্র সুজনকে এইচএসসিতে অংশ নিতে বোর্ডকে দেয়ার কথা ছিল এক হাজার ৬৯৫ টাকা। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ আদায় করেছে ১০ হাজার ৪০০ টাকা।

করোনাকালে আয় কমে যাওয়ার যে সমস্যা, তার বাইরে নয় সুজনের পরিবারও। ভাবছিলেন, টাকাটা ফেরত পাওয়া গেলে বাবা-মায়ের উপকার হতো।

টাকা কি ফেরত দেয়া হবে?

কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মোল্লার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও জবাব মেলেনি। তিনি ফোন ধরেননি।

রাজধানীর একটি কলেজের অধ্যক্ষ নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেছেন, তিনিও মনে করেন কিছু টাকা হলেও ফেরত দেয়া উচিত। তবে শেষ পর্যন্ত হয়ত টাকা দেয়া হবে না।

এবার এইচএসসি পরীক্ষার জন্য ২১৫ কোটি টাকার মতো আদায় করেছে সরকার। এর মধ্যে প্রশ্ন তৈরিসহ কিছু খাতে একটি অংশ ব্যয় হয়েছে। তবে এখনও অনেক টাকা রয়ে গেছে।

করোনার কারণে এইচএসসি পরীক্ষা না নিয়ে সবাইকে পাস করানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। জানান, জেএসসি ও এসএসসির ফলাফলের গড় করে উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল দেয়া হবে।

বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে এই সিদ্ধান্ত জানালেও রেজিস্ট্রেশনের টাকা নিয়ে সরকারের চিন্তার কথা জানাননি মন্ত্রী।

পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে শিক্ষাবোর্ডের নির্ধারিত টাকা কয়েকমাস আগেই জমা দিতে হয়। এবার এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে সর্বোচ্চ এক হাজার ৬৯৫, বাণিজ্য ও এক হাজার ৪৯৫ টাকা করে ফি ঠিক করা হয়।

কিন্তু প্রতিবারের মতোই কলেজগুলো অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছে। বাড়তি অর্থ নিলে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার কোনো সুফল পায়নি অভিভাবকরা।

পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণার পর পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের পক্ষ থেকে কেন টাকা ফেরত দেয়া হবে না, সে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

সামসুল হক খান কলেজের পরীক্ষার্থী সুজনের বাবা রফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষা বোর্ড টাকা ফেরত দিলে প্রতিষ্ঠান যে বাড়তি টাকা নিয়েছে, সেটা ফেরত দিত। তাহলে ভালো হতো।’

আরও পড়ুন: পরীক্ষা বাতিলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, চিন্তা ভবিষ্যৎ নিয়ে

তবে শিক্ষাবোর্ডের কর্তারা যা বলছেন, তাতে অভিভাবকদের এই আশা পূরণ হওয়ার নয়।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণ বাবদ যে টাকা নেয়া হয়েছে তার ৭০ শতাংশ খরচ হয়ে গেছে। এই টাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে প্রশ্নপত্র তৈরিতে। করোনা মধ্যেই আমাদের এই কাজ শেষ করা হয়। এছাড়া এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। সব কাজ শেষ করে যদি টাকা থাকে এই বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে বকেয়া টাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের সম্ভাবনা নেই।’

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এসএম আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব পক্রিয়ার মাধ্যেমে পরীক্ষা নেয়া হয় এসব প্রক্রিয়ার অধিকাংশ কাজ শেষ করা হয়েছে। যেমন ধরুন কেন্দ্র ফি। এই অর্থ এরই মধ্যে কেন্দ্রে চলে গেছে। রেজিস্ট্রেশনের কাজ করেছি, ফরম ফিলাপের কাজ করেছি। আগামীতে ফলাফল তৈরিতে কাজ করব। করোনার মধ্যে প্রশ্নপত্রের কাজ শেষ করেছি। টাকা ফেরত দেওয়ার সুযোগ নেই।’

তবে এই যুক্তি মানছেন না রাজধানীর একটি কলেজের পরীক্ষার্থীর ভাই অন্তু মুজাহিদ। তিনি বলেছেন, ‘প্রশ্ন তৈরি ও পাঠানো বাবদ খরচ ছাড়া বাকি টাকা শিক্ষা বোর্ডের তহবিলে থাকার কথা। পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় কেন্দ্র ফি কেন লাগবে। একইভাবে পরিদর্শক ফি, খাতা মূল্যায়ন খরচও লাগবে না। পরীক্ষার জন্য ছাপানো খাতার পরে যে কোনো পরীক্ষায় ব্যবহার করতে পারবে। তাহলে সেই টাকা ফেরত দিতে সমস্যা কোথায়?’

আরও পড়ুন: এইচএসসি নিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন চেয়ে পরীক্ষার্থীর আইনি নোটিস

এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে শিক্ষা সচিব মাহবুব হোসেন, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির বক্তব্য পায়নি নিউজবাংলা। তাদের কেউ ফোন ধরেননি। মোবাইলে বিষয় জানিয়ে এসএমএস পাঠানো হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সারা দেশে এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ জন।

এর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৭৯ হাজার ১৭১ জন আর অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল দুই লাখ ৬৬ হাজার ৫০১ জন। অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদেরকে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত জমা দিতে হয়েছে ১০০ টাকা।

নিয়মিত শিক্ষার্থীরা বোর্ড ফি জমা দিয়েছে কমপক্ষে ১৬২ কোটি টাকা। আর অনিয়মিত শিক্ষার্থীরা জমা দিয়েছে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা।

এক বিষয়ে অনুত্তীর্ণ, দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ, মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে পরীক্ষার্থীরা জমা দিয়েছে আরও কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা।

সব মিলিয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার জন্য শিক্ষা বোর্ডগুলো পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রায় ২১৫ কোটি টাকা নিয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কলেজগুলো আসলে কত আদায় করেছে সেই হিসাব পাওয়া কঠিন। নিবন্ধন চলাকালে তিন থেকে ছয় গুণ টাকা আদায়ের অভিযোগ এসেছ গণমাধ্যমে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য