20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
সেফটিপিন দিয়ে দীর্ঘতম চেইন

সেফটিপিন দিয়ে দীর্ঘতম চেইন

সেফটিপিন দিয়ে পৃথিবীর দীর্ঘতম চেইন তৈরি করে গিনেস বুকে নাম লেখালেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক গ্রামের পার্থ চন্দ্র দেব।

২৫ বছর বয়সী এই তরুণের হাতে ১৭ সেপ্টেম্বর পৌঁছায় বিশ্বরেকর্ড গড়ার সার্টিফিকেট। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি শেষ বর্ষে পড়ূয়া পার্থ ৭ হাজার ৮৭৭ ফুট দৈর্ঘ্যের সেফটিপিনের চেইন তৈরি করেছেন। তার তৈরি এই চেইনে ব্যবহার করা হয়েছে সোনালি রঙের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮২৩টি সেফটিপিন।

এই রেকর্ড গড়তে পার্থের ব্যয় হয় ৪৫ দিন। সময় লেগেছে ২৪১ ঘণ্টা ৪২ মিনিট। সময়ের এই হিসাব তিনি করেছেন সিসি ক্যামেরায়।

পশ্চিম ফান্দাউক যশোদাময়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে ফান্দাউক পণ্ডিত রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৩ সালে এসএসসি ও ২০১৭ সালে নাসিরনগর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন পার্থ। বর্তমানে ডিগ্রি শেষ বর্ষে পড়ছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে।


নিজের ঘরে সেফটিপিন দিয়ে বানান চেইনের সঙ্গে পার্থ। ছবি: নিউজবাংলা

ফেসবুকের মাধ্যমে পার্থ জানতে পারেন ভারতের শ্রী হার্শা নান এবং শ্রী নাভা নানের রেকর্ডের কথা। তারা ২০১৮ সালের ২৩ এপ্রিল ১ হাজার ৭৩৩ দশমিক ১ মিটার দৈর্ঘ্যের দীর্ঘ চেইন তৈরি করে গিনেস বুকে নাম লিখিয়েছিলেন। তাদের রেকর্ড দেখে পার্থ ঠিক করেন, এই রেকর্ড ভাঙবেন তিনি। যেই ভাবা সেই কাজ।

২০১৯ সালের ২৮ মার্চ নিজের জীবনবৃত্তান্ত দিয়ে গিনেস কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করেন তিনি। ২০ এপ্রিল গিনেস কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ওয়েবসাইটে গিয়ে 'দ্য লংগেস্ট চেইন অব সেফটিপিন' এই ক্যাটাগরিতে আবেদন করেন। ১৯ জুলাই তা গ্রহণ করে গিনেস কর্তৃপক্ষ।

আবেদন গ্রহণের সঙ্গে তারা চেইন তৈরির প্রায় ১৪টি নিয়মও জুড়ে দেন। একে একে গিনেস কর্তৃপক্ষের দেওয়া সব নিয়ম মেনেই প্রতিযোগিতায় নামেন পার্থ।

আট মাস পর পার্থের প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেয় গিনেস।

এই অর্জন সম্পর্কে জানতে চাইলে পার্থ বলেন, 'ধন্যবাদ দিতে চাই প্রযুক্তিকে। এই প্রযুক্তির কল্যাণে এবং নিজের পরিশ্রমে বিশ্বরেকর্ড গড়েছি আমি। আমার এই দীর্ঘ সোনালি চেইনের মতোই দেশের সবার বন্ধন দীর্ঘ হোক।'

পার্থ নারী উন্নয়নে কাজ করতে চান। আর ভাঙতে চান নিজের গড়া রেকর্ড।

শেয়ার করুন