ভারতের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআই এখন কেবল দেশের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সম্প্রসারিত হয়ে বিশ্বের ১২টি দেশে পৌঁছে গেছে। লোকসভার চলতি অধিবেশনে এক সদস্যের প্রশ্নের লিখিত জবাবে দেশটির কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গত মাস পর্যন্ত এই ডিজিটাল প্লাটফর্মে ৫৫ কোটি ৪৯ লাখ ব্যবহারকারী সফলভাবে নিবন্ধিত হয়েছেন। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে ন্যাশনাল পেমেন্টস করপোরেশন অব ইন্ডিয়া (এনপিসিআই) ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইন, ২০০৭-এর আওতায় এই ব্যবস্থাটি চালু করেছিল, যা বর্তমানে দেশটির ডিজিটাল লেনদেনের প্রধানতম অবকাঠামো হিসেবে কাজ করছে।
গত পাঁচ বছরে ইউপিআই প্লাটফর্মে লেনদেনের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এক অভূতপূর্ব রেকর্ড তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউপিআইয়ে মোট ৪ হাজার ৫৯৬ কোটি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছিল। এরপরের তিন অর্থবছরে এই লেনদেনের সংখ্যা ধাপে ধাপে বেড়ে যথাক্রমে ৮ হাজার ৩৭১ কোটি, ১৩ হাজার ১১৩ কোটি এবং ১৮ হাজার ৫৮৭ কোটিতে গিয়ে পৌঁছায়। সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে মোট ২৪ হাজার ১৬২ কোটি ডিজিটাল লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, যার সার্বিক আর্থিক মূল্য অবিশ্বাস্য ৩১৪ দশমিক ২৩ লাখ কোটি রুপি বলে লোকসভায় জানানো হয়েছে।
ডিজিটাল এই প্লাটফর্মে বিপুল পরিমাণ ব্যবহারকারী ও লেনদেনের কারণে সম্ভাব্য জালিয়াতি ঠেকাতে এবং গ্রাহকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বেশ কিছু আধুনিক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অর্থ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাইবার জালিয়াতি রোধ করতে এরই মধ্যে ঝুঁকিভিত্তিক লেনদেনসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং অননুমোদিত মোবাইল নম্বর পরিবর্তন ও এসএমএসভিত্তিক যাচাইয়ের অপব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইউপিআই অ্যাপের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি গত ২০২৫ সালে একটি অত্যাধুনিক সমন্বিত ইউপিআই তথ্য নিরাপত্তা কাঠামো এবং মোবাইল অ্যাপ নিরাপত্তা কাঠামো সফলভাবে চালু করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের আস্থাকে আরও মজবুত করেছে।
দেশের অভ্যন্তরে বিপুল সাফল্যের পর আন্তর্জাতিক পরিসরে ইউপিআইয়ের এই সম্প্রসারণ ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এনপিসিআই ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্টস লিমিটেডের মাধ্যমে ইউপিআই এবং রুপে কার্ড নেটওয়ার্ক বিশ্বের যে ১২টি দেশে সম্প্রসারণ করা হয়েছে, তার ফলে মূলত বিদেশে ভ্রমণরত ভারতীয় পর্যটক ও প্রবাসীদের সীমান্তপারের লেনদেন প্রক্রিয়া অনেক বেশি সহজ, নিরাপদ ও দ্রুত হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের এই সফল মডেল অনুসরণ করে অংশীদার দেশগুলোও এখন ইউপিআইয়ের আদলে তাদের নিজস্ব তাৎক্ষণিক ডিজিটাল অর্থপ্রদান ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ পাচ্ছে, যা বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনৈতিক কাঠামোতে একটি ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলছে।
ছবি: সংগৃহীত
স্টীল শিল্পে নতুন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড স্থাপন করল AKS। এক মিনিটে সর্বাধিক স্টীল রিবার উৎপাদনের স্বীকৃতি অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি GUINNESS WORLD RECORDS™-এর "Most Steel Rebars Produced in One Minute" রেকর্ডের অধিকারী হয়েছে।
এই অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্টীল শিল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, উৎপাদন দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন ব্যবস্থাপনা বিশ্বপরিসরে নতুন স্বীকৃতি লাভ করেছে।
Guinness World Records™-এর নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়া অনুযায়ী, AKS মাত্র ১ মিনিট-এ ৫২টি স্টীল রিবার উৎপাদন করে, যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য ছিল ১০৮ মিটার। বিশ্বের দ্রুততম রিবার রোলিং মিলের সক্ষমতা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ প্রকৌশল ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে এই রেকর্ড অর্জিত হয়েছে। AKS-এর উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হলো Electric Arc Furnace (EAF) প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে ১০০% রিফাইন্ড স্টীল উৎপাদন করা হয়।
এ বিষয়ে আবুল খায়ের স্টীল মেল্টিং লিমিটেড এর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, জনাব ইমরান মোমিন বলেন, "এই বিশ্বরেকর্ড অর্জন শুধু AKS-এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক নয়, এটি বাংলাদেশের উৎপাদন শিল্পের সক্ষমতা ও সম্ভাবনারও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। বিশ্বমানের প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং উৎকর্ষের প্রতি আমাদের অবিচল প্রতিশ্রুতির ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সর্বোচ্চ মানের স্টীল উৎপাদনে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
উৎপাদন উৎকর্ষের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পায়নের প্রতিও প্রতিষ্ঠানটি সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশে একমাত্র আবুল খায়ের স্টীল-ই তাদের উৎপাদন ব্যবস্থায় Zero Water Discharge প্রযুক্তির মাধ্যমে শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত পানি সম্পূর্ণভাবে পরিশোধন ও পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করছে। একই সঙ্গে সৌরশক্তির ব্যবহার, অত্যাধুনিক Fume Treatment System-এর মাধ্যমে নির্গমন নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত উপকরণের পুনর্ব্যবহার এবং নিজস্ব Power Plant-এর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন ও দক্ষ জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ, সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার সমন্বয়ে AKS শিল্পোন্নয়ন ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে।
দেশের আবাসন, শিল্প ও বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণে নির্ভরযোগ্য স্টীল সরবরাহের মাধ্যমে AKS দীর্ঘদিন ধরে আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের সুযোগ আরও সম্প্রসারণ এবং ঋণপ্রবাহ সহজতর করার লক্ষ্যে এনসিসি ব্যাংক পিএলসি এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ক্রেডিট এনহ্যান্সমেন্ট স্কিম (সিইএস)-এর আওতায় একটি চুক্তি সম্প্রতি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তির আওতায় পিকেএসএফ-এর গ্যারান্টি সহায়তায় এনসিসি ব্যাংক পিকেএসএফ-এর তালিকাভুক্ত অংশীদার সংস্থাগুলোকে ঋণসুবিধা প্রদান করবে। পরবর্তীতে এসব অংশীদার সংস্থা দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মধ্যে এই অর্থ বিতরণ করবে। এর ফলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজে অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে, নতুন উদ্যোক্তা গড়ে উঠবে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।
এনসিসি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান এবং পিকেএসএফ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিপত্র হস্তান্তর করেন। এসময় এনসিসি ব্যাংকের এসভিপি ও হেড অব এসএমই শরীফ মোহাম্মদ মহসীনসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
ছবি: সংগৃহীত
এনআরবিসি ব্যাংকের চট্টগ্রাম অঞ্চলের শাখা ও উপশাখাগুলোর ব্যবসায়িক কৌশল ও প্রবৃদ্ধি বিষয়ক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি হোটেলে আয়োজিত সভায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. মো. তৌহিদুল আলম খান, এফসিএমএ, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভায় ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ বিজনেস অফিসার মো. শাহীন হাওলাদার, চট্টগ্রাম জোনের প্রধান কাজী মো. সাফায়েত কবীরসহ শাখা ও উপশাখার ব্যবস্থাপকবৃন্দ এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. তৌহিদুল আলম খান খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এমএসএমই) খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী খেলাপি ঋণের হার একটি গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং গ্রাহকসেবার মান আরও উন্নত করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।” এছাড়াও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, বিশেষ করে বাংলা কিউআর সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি ক্যাশলেস চট্টগ্রাম গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাংকারদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ বিজনেস অফিসার মো. শাহীন হাওলাদার বলেন, দেশের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রামে ব্যবসা বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। তিনি নতুন গ্রাহক সংযুক্তি, ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে সকলকে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের সার্বিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয় এবং খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা সম্প্রসারণ, ডিজিটাল উদ্ভাবনের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’বিনির্মাণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি-এর আয়োজনে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদ মার্কেট এবং আশেপাশের এলাকায় বাংলা কিউআর সম্পর্কিত একটি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ২৫ জুলাই ২০২৬, শনিবার এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মসজিদ মার্কেট এলাকায় বেলুন উড্ডয়নের মধ্যদিয়ে আইএফআইসি ব্যাংক বাংলা কিউআর বুথ উদ্বোধন করা হয়। এরপর বায়তুল মোকাররম মার্কেট প্রদক্ষিণ করে একটি র্যালি অনুষ্ঠিত হয় এবং লাইভ কিউআর পেমেন্টের মাধ্যমে ক্যাশলেস লেনদেনের সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকদের অবহিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব সৈয়দ মনসুর মোস্তফা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ডিএমডি ও চিফ ইনফরমেশন অফিসার জনাব মোঃ মনিতুর রহমান এবং চিফ অব ব্রাঞ্চ বিজনেস ও হেড অব অপারেশনস জনাব হেলাল আহমেদ। অনুষ্ঠানে বায়তুল মোকাররম ব্যবসায়ী গ্রুপের সহ-সভাপতি জনাব মোঃ নাসিরউদ্দিন গাজী, বায়তুল মোকাররম লেদার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ চৌধুরী মিজানসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও গ্রাহকগণ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব সৈয়দ মনসুর মোস্তফা বলেন, “ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বিস্তার দেশের অর্থনীতিকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও গতিশীল করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনকে আরও সহজ ও নির্বিঘ্ন করে তুলবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকদের জন্য কিউআরভিত্তিক লেনদেন একটি সহজ, সাশ্রয়ী ও সময়োপযোগী সমাধান। বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকনির্দেশনায় আইএফআইসি ব্যাংক সারাদেশে ক্যাশলেস লেনদেনের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ১৪ হাজার মার্চেন্টকে আমাদের ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্কের আওতায় এনেছি এবং এই কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”
আইএফআইসি ব্যাংক দেশের সর্বস্তরের মানুষকে আধুনিক, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে ১৪০০+ শাখা-উপশাখার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে মিতশুবিশি গাড়ির একমাত্র অনুমোদিত পরিবেশক র্যাংগস্ লিমিটেড-এর সাথে একটি অংশীদারিত্বমূলক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ব্যাংক এশিয়া পিএলসি। এ চুক্তির আওতায় ব্যাংক এশিয়া মিতশুবিশি ব্রান্ডের গাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আকর্ষণীয় ও সহজলভ্য অটো লোন সুবিধা প্রদান করবে, যা গ্রাহকদের জন্য সহজপ্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করবে।
২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ব্যাংক এশিয়ার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং জনাব সৈয়দ জুলকার নাইন ও র্যাংগস লিমিটেড- এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জনাব মোহাম্মদ হামদুর রহমান সায়মন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
এই অংশীদারিত্ব রিটেইল ব্যাংকিং খাতে অগ্রাধিকারভিত্তিক ও উন্নত সেবা প্রদানে ব্যাংক এশিয়ার অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
ছবি: সংগৃহীত
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ১,৩৮৪ কোটি টাকার বীমা দাবি নিষ্পত্তি করেছে মেটলাইফ বাংলাদেশ। গ্রাহকদেরকে বীমা সুবিধা হিসেবে পরিশোধ করা অর্থের পাশাপাশি চিকিৎসা ও মৃত্যু দাবি হিসেবে পরিশোধ করা অর্থ এর অন্তর্ভুক্ত।
এ বিষয়ে মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ বলেন, ‘বছরের প্রথম ছয় মাসে নিষ্পত্তি হওয়া বীমা দাবির এই পরিমাণই প্রমাণ করে, গ্রাহক ও তাঁদের পরিবারের প্রয়োজনে পাশে থাকার ব্যাপারে আমরা কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দাবি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ করার মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে এবং দেশের বীমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে চাই।’
মেটলাইফ ধারাবাহিকভাবে সময়মতো বীমা দাবির অর্থ পরিশোধের রেকর্ড বজায় রেখে আসছে। ২০২৫ সালের পুরো বছরে মেটলাইফ ২,৮৯৫ কোটি টাকার দাবি নিষ্পত্তি করেছে যা বাংলাদেশের সকল জীবনবীমা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ । একই বছরে প্রতিষ্ঠানটি ৯৮% দাবি নিষ্পত্তির হার বজায় রেখেছে, যা জীবনবীমা খাতের অন্যতম সর্বোচ্চ দাবি নিষ্পত্তির হার।
মেটলাইফের সহজ ও ঝামেলামুক্ত ডিজিটাল দাবি নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন গ্রাহকেরা। এ ব্যবস্থায় অনলাইনে বীমা দাবি জমা দেওয়ার পর সাধারণত তিন থেকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যেই দাবি করা অর্থ শোধ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির দ্রুত ও কার্যকর দাবি নিষ্পত্তি ব্যবস্থা গ্রাহকের সন্তুষ্টি বাড়ানোর পাশাপাশি বীমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখ ব্যক্তি গ্রাহক এবং ৯০০টির বেশি করপোরেট গ্রাহককে বীমা সেবা দিচ্ছে মেটলাইফ বাংলাদেশ।
ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ ২টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতে নিয়েছে বিকাশ। বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভের উদ্যোগে আয়োজিত এই অ্যাওয়ার্ডের চতুর্থ সংস্করণে ‘মোস্ট সাসটেইনেবল ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন অফ দ্য ইয়ার ইন এমএফএস’ এবং ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন ইন সাসটেইনেবল কমিউনিটি’ ক্যাটাগরিতে ‘বিজয়ী’ হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে দেশের বৃহত্তম মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটি।
সম্প্রতি, রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সম্মাননা দেয়া হয়। বিকাশ-এর পক্ষ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠানটির হেড অব ডিজিটাল অ্যাসেটস অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ইশতিয়াক শাহরিয়ার।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে টেকসই সামগ্রিক কৌশল, পরিচালনা পদ্ধতি ও অংশীজনদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেয়ায় ‘মোস্ট সাসটেইনেবল ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন অফ দ্য ইয়ার ইন এমএফএস’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার অর্জন করে বিকাশ।
পাশাপাশি, সুন্দরবনের মৌয়ালদের জন্য বিকাশ ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ তৈরি করায় নদীপথে টাকা বহনের ঝুঁকি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ দূর হয়েছে। তাদের জীবনধারা সুরক্ষায় ভূমিকা রাখার এই অনন্য গল্প নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘সাহসেই বিকাশ’ ‘সাসটেইনেবল কমিউনিটি’ ক্যাটাগরিতে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ পুরস্কার এনে দিয়েছে বিকাশকে।
মন্তব্য