উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রপ্তানি, শ্লথ বেসরকারি বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত এডিবির সর্বশেষ ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) জুলাই ২০২৬’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। তবে আগামী ২০২৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে মূল্যস্ফীতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম সমন্বয়, পরিবহন খরচ এবং মুদ্রার বিনিময় হারের প্রভাবে ২০২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশেই অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এছাড়া ২০২৭ অর্থবছরে এটি সামান্য কমে ৮ দশমিক ৮ শতাংশে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা তাদের আগের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত ভোগ কমে যাচ্ছে। দুর্বল রপ্তানি ও শ্লথ আমদানির কারণে বেসরকারি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, উৎপাদন ও কৃষি খাতও উচ্চ জ্বালানি মূল্য এবং সার সংকটের মতো কাঠামোগত সমস্যার কারণে চাপের মুখে রয়েছে।
প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং স্থিতিশীল সেবা খাত বাংলাদেশের অর্থনীতিকে কিছুটা টিকিয়ে রেখেছে বলে জানিয়েছে এডিবি। সংস্থার বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের অফিসার-ইন-চার্জ আকিরা মাতসুনাগা জানান, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, আর্থিক খাতের সুশাসন এবং জ্বালানি ও অবকাঠামো সংকট দূরীকরণে ধারাবাহিক সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। তবে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও জ্বালানি সংকট না কাটলে প্রবৃদ্ধির এই গতি খুব বেশি শক্তিশালী হবে না বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বেশ কিছু বড় ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তীব্র হলে জ্বালানি ও শিপিং খরচ বৃদ্ধি, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে সরকারের ভর্তুকির চাপ বৃদ্ধি এবং বড় অর্থনীতির দেশগুলোতে বাণিজ্য বিধিনিষেধের ফলে রপ্তানি চাহিদা কমার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি মুদ্রার বিনিময় হারের ওপর ক্রমাগত চাপ, বৈশ্বিক অর্থায়নের কঠিন শর্তাবলি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগও বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
তিন বছর আগের তীব্র অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির এই ধারাবাহিক অগ্রগতির স্বীকৃতিস্বরূপ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের তালিকা থেকে উন্নত করে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
গত ১ জুলাই বিশ্বব্যাংক তাদের সর্বশেষ আয়ভিত্তিক দেশগুলোর শ্রেণিবিন্যাস প্রকাশ করে, যেখানে শ্রীলঙ্কার এই উত্তরণের ঘোষণা দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক এই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কার প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটিকে এই নতুন আয়ের তালিকায় উন্নীত করা হয়েছে। মূলত শিল্প খাতের পুনরুত্থান, পর্যটন শিল্পের অভাবনীয় বিকাশ এবং আর্থিক সেবা খাতের গতিশীলতা এই অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
শ্রীলঙ্কার এই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়াকে বিশ্বব্যাংক ‘পুনরুদ্ধারের এক অনন্য গল্প’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ২০২২ সালে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে দেশটি যখন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল, সেখান থেকে মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তারা প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে এসেছে। এই অর্জন সম্ভব হয়েছে সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক সংস্কার, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, পর্যটন খাতের পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক সেবার প্রসারের মাধ্যমে। যদিও উচ্চ মধ্যম আয়ের নির্ধারিত সীমাটি শ্রীলঙ্কা অত্যন্ত অল্প ব্যবধানে পার হতে পেরেছে, তবুও এই অর্জন দেশটির অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা ও ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতার একটি বড় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
বিশ্বের দেশগুলোকে বিশ্বব্যাংক মূলত চারটি আয়ভিত্তিক ভাগে বিন্যস্ত করে থাকে—উচ্চ আয়, উচ্চ মধ্যম আয়, নিম্ন মধ্যম আয় এবং নিম্ন আয়। এই তালিকায় শ্রীলঙ্কার নতুন অবস্থান দেশটির সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের যাত্রায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের এই নতুন তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে আগের ক্যালেন্ডার বছরের মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় (জিএনআই) হিসাব করে। বিশ্বের মোট ২১৮টি দেশ ও অর্থনীতিকে অন্তর্ভুক্ত করে তৈরি করা এই নতুন তালিকাটি ২০২৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত বহাল থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ইস্টার সানডেতে আত্মঘাতী বোমা হামলা, পরবর্তী সময়ে করোনা মহামারি এবং এর জের ধরে তৈরি হওয়া বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যহীনতার সংকটের কারণে ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কা তাদের সার্বভৌম ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ (সোভরেন ডিফল্ট) হয়েছিল। এর ফলে দেশটির অর্থনীতি বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ মন্দার মুখে পড়ে।
বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আর্থিক সহায়তায় গৃহীত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা কর্মসূচি, রাজস্ব ও মুদ্রানীতিতে আনা সময়োপযোগী সংস্কার, বৈদেশিক ঋণ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া, পর্যটন খাতের দ্রুত পুনরুজ্জীবন, প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) বৃদ্ধি এবং সামগ্রিকভাবে বৈদেশিক খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নতিই শ্রীলঙ্কার দেউলিয়া দশা থেকে এই অভাবনীয় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের ব্যাংকগুলোর ট্রেড ফাইন্যান্স বা বাণিজ্য অর্থায়ন খাতে সম্পদের গুণগত মানের ওপর ক্রমান্বয়ে চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেসব ব্যাংকের ট্রেড ফাইন্যান্সে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে, সেগুলোর বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট ঋণ পোর্টফোলিওতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। কিছু ব্যাংকে এই খেলার হার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে থাকলেও যেসব প্রতিষ্ঠানে সামগ্রিক খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেশি এবং একই সঙ্গে বাণিজ্য অর্থায়নে বড় এক্সপোজার রয়েছে, সেখানে এই হার ৮০ শতাংশেরও বেশি। বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত ‘ট্রেড সার্ভিসেস অপারেশনস অব ব্যাংক’ শীর্ষক এক রিভিউ কর্মশালায় উপস্থাপিত গবেষণাপত্রে এই চিত্র উঠে আসে। ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত বিআইবিএম ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় দেশের জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি প্রফেসর ও এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুর রহমান, প্রাইম ব্যাংক পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সাজ্জাদ হায়দার চৌধুরী এবং সিটি ব্যাংক পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ।
গবেষক দলের পক্ষ থেকে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিআইবিএমের প্রফেসর (সিলেকশন গ্রেড) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব। তিনি উল্লেখ করেন, বাণিজ্য অর্থায়নের ক্ষেত্রে নন-ফান্ডেড দায়গুলো জোরপূর্বক ঋণে (ফোর্সড লোন) রূপান্তরিত হওয়াই খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির প্রধানতম কারণ। বিশেষ করে মূলধনি যন্ত্রপাতি, তুলা ও বিভিন্ন কাঁচামাল, চিনি, সার, জ্বালানি এবং স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানির বিপরীতে দেওয়া ট্রেড ফাইন্যান্সে এ ধরনের ফোর্সড লোন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান নষ্ট করছে।
এই গবেষণায় রপ্তানি অর্থায়ন কাঠামোর একটি বড় দুর্বলতাও চিহ্নিত করা হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সব ব্যাংকিং কর্মকর্তা জানান, আইনগতভাবে কার্যকর কোনো ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি ছাড়াই ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ব্যবহারের কারণে রপ্তানি অর্থায়নে খেলাপির সৃষ্টি হচ্ছে। নিশ্চিত রপ্তানি আদেশের বিপরীতে পণ্য উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ব্যবহার করার কথা থাকলেও, এর ভিত্তি যদি দুর্বল বা আইনগতভাবে অকার্যকর হয়, তবে পুরো অর্থায়ন প্রক্রিয়াটি ঝুঁকির মুখে পড়ে। এর ফলে রপ্তানি আয় যথাসময়ে না এলে বাণিজ্য অর্থায়নের স্বয়ং-পরিশোধযোগ্য বৈশিষ্ট্যটি নষ্ট হয়ে যায় এবং তা দ্রুত ফোর্সড লোনে পরিণত হয়ে ব্যাংকের ঋণঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। কর্মশালায় বক্তারা বাণিজ্য অর্থায়ন কার্যক্রমের আধুনিকায়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদের মান উন্নয়নে বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে আরও গতিশীল, নিরাপদ ও কাগজবিহীন করার লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক ট্রেড ডকুমেন্টের জন্য আধুনিক আইনি ও ডিজিটাল অবকাঠামো প্রস্তুত করা জরুরি। এর পাশাপাশি গ্রাহকসেবার মান ঠিক রেখে অর্থ পাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও ট্রেড-বেইজড মানি লন্ডারিং রুখতে আরও জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বাণিজ্য অর্থায়নের পরিধি বাড়াতে নতুন ধরনের আর্থিক পণ্য ও ঝুঁকি ভাগাভাগির কার্যকর ব্যবস্থা চালুর ওপর জোর দেন মহাপরিচালক। সেই সঙ্গে পণ্যভিত্তিক তথ্যসংগ্রহ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সম্পদের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। একটি স্বচ্ছ, শক্তিশালী ও কার্যকর বাণিজ্য অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক, কাস্টমস কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।
ছবি: সংগৃহীত
নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিক করতে রংপুরের ৯টি ৩৩/১১ কেভি এআইএস উপকেন্দ্রের উন্নয়ন ঘটাবে। এ সংক্রান্ত ১৪১ কোটি ৩৩ লাখ ১৩ হাজার ৭৬ টাকার একটি ক্রয় প্রস্তাব সায় দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বুধবার (৮ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
‘নেসকো এলাকায় নেটওয়ার্ক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীন প্যাকেজ-জিডি-৬ (পি-০৬)-এর মাধ্যমে রংপুর অঞ্চলের ওই উপকেন্দ্রগুলোর নকশা তৈরি, যন্ত্রপাতি সরবরাহ, স্থাপন, পরীক্ষা এবং তা সচল করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। অ্যাডেক্স করপোরেশন লিমিটেড (এসিএল) ও অ্যাডেক্স ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের (এইইএল) যৌথ উদ্যোগ এই কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এই প্রস্তাবটি অনুমোদন করার সুপারিশ প্রদান করে।
একই সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার একটি ভেরিয়েশন প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। এটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পরিচালিত ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর সিআইবি-২-প্যান-ডব্লিউ-৩০-এর অংশ।
সেতু নির্মাণ সংক্রান্ত এই কাজের মূল চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছিল ১১০ কোটি টাকা। পরবর্তীতে ভেরিয়েশন বাবদ আরও ৬ কোটি ৯ লাখ ৩০ হাজার ৬১৯ টাকা অনুমোদন করা হয়, যা আদি চুক্তিমূল্যের চেয়ে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি। এর ফলে পুরো প্রকল্পের সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়িয়েছে ১১৬ কোটি ৯ লাখ ৩০ হাজার ৬১৯ টাকা। এই নির্মাণকাজটি সম্পাদনের দায়িত্বে রয়েছে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের বাজারে আবারও সোনা ও রুপার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩২৩ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে দাম কমানোর এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে আজ সকাল ১০টা থেকেই দেশের বাজারে সোনা ও রুপার এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।
বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। গতকাল পর্যন্ত এই মানের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এর পাশাপাশি ২১ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা। এই নতুন দামের ফলে ক্রেতারা আগের চেয়ে কিছুটা কমে স্বর্ণালঙ্কার ক্রয় করতে পারবেন।
উচ্চ মানের সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মানের সোনার দামও কমানো হয়েছে। বাজুসের নির্ধারিত নতুন দাম অনুযায়ী, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে দেশের বাজারে ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকায় বিক্রি হবে। অন্যদিকে, সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা।
সোনার দাম কমানোর পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামও কমিয়েছে সংগঠনটি। নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হবে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকায়। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে গ্রামীণফোন।
ঢাকার খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির সদর দপ্তরে পাঁচ বছরের জন্য এ চুক্তি সই হয়েছে।
আনসার ও ভিডিপির ডিরেক্টর (অপারেশনস) মুহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী ও গ্রামীণফোনের হেড অব গভর্মেন্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক বিজনেস নুরুল ফেরদৌস মুসান্না সমঝোতা স্মারকে সই করেন।
গ্রামীনফোনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই অংশীদারত্ব প্রযুক্তি ও সংযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার, পরিচালনগত দক্ষতা বাড়ানো এবং আনসার ও ভিডিপির চলমান ডিজিটাল রূপান্তরের অগ্রগতিতে অবদান রাখতে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান বলেন, “যৌথভাবে আমাদের লক্ষ্য পরিচালনগত সক্ষমতা জোরদার করা, দক্ষতা বাড়ানো এবং আরো স্মার্ট ও প্রযুক্তি নির্ভর সেবা চালু করা, যা বাংলাদেশের মানুষের জন্য টেকসই সুবিধা নিশ্চিত করবে।”
আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, “যেহেতু বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি ক্রমাগত আধুনিকায়ন ও পরিচালনগত দক্ষতার দিকে মনযোগ দিয়েছে, তাই ভবিষ্যতের পথচলার অন্যতম চালিকাশক্তি হচ্ছে প্রযুক্তি। ডিজিটাল সক্ষমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বাড়াতে গ্রামীণফোনের সঙ্গে এই পার্টনারশিপ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের চিফ বিজনেস অফিসার (সিবিও) আসিফ নাইমুর রশীদ, হেড অব ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিস বিজনেস হেলাল উদ্দিন আহমেদ, গভর্নমেন্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক বিজনেসের কি অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার কাজী নুসরাত, গভর্নমেন্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক বিজনেসের স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার আরমান সিকদার, আনসার ও ভিডিপির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ, উপমহাপরিচালক (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) কর্নেল বায়জিদ মোহাম্মদ তারেক জুনায়েদ, উপ মহাপরিচালক (ট্রেনিং) মো. রফিকুল ইসলাম, উপপরিচালক (কমিউনিকেশন) কাউসার জাহান উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
পাবনায় উদ্যোক্তাদের জন্য মাসব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
পাবনায় ব্র্যাক লারনিং সেন্টারে সম্প্রতি এ বিশেষ কর্মসূচি যৌথভাবে আয়োজন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), বাংলাদেশ ব্যাংক ও যমুনা ব্যাংক।
যমুনা ব্যাংক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি আয়োজনের খবর দিয়ে বলেছে, প্রকল্পটির লক্ষ্য হল নতুন ও বিদ্যমান উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধার মাধ্যমে তাদের ব্যবসায়িক সক্ষমতা বাড়ানো।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবির অর্থায়নে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনাধীন ‘শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ও উদ্ভাবনের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি’ প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রাম ডিপার্টমেন্টের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
যমুনা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নুর মোহাম্মদের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশনের অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমইএসপিডি বিভাগের যুগ্ম পরিচালক আইয়ুব আলী, যমুনা ব্যাংকের রাজশাহী অঞ্চলের প্রধান ফজলুল হক ও হেড অব এসএমই (মার্কেটিং) এন এইচ এম নুসরাত বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য