কৃষকদের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে হবিগঞ্জের মাধবপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে 'উপজেলা ভিত্তিক কৃষি ঋণ প্রচারণা, আলোচনা সভা ও প্রকাশ্যে ঋণ বিতরণ কর্মসূচি'। বাংলাদেশ ব্যাংক, সিলেট-এর নির্দেশনায় এবং মাধবপুর উপজেলার ১৫ টি তফসিলি ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবারের কর্মসূচিতে লিড ব্যাংক হিসেবে মূল ভূমিকা পালন করে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক জনাব মো. জাবেদ আহমদ। মাধবপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব মো. মেহেদী হাসান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসি-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব সৈয়দ সাজ্জাদ হায়দার চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে প্রান্তিক ও প্রকৃত কৃষকদের মাঝে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার অংশ হিসেবে মোট ৫০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। প্রকাশ্যে এই ঋণ বিতরণ কার্যক্রমের ফলে ঋণ প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অতিথিবৃন্দ। এছাড়া, অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষক ও স্থানীয় জনগণের মাঝে কৃষি একটি বিশেষ সচেতনতামূলক ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাধবপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, প্রাইম ব্যাংকের সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান জনাব মো. হুমায়ুন কবির; প্রাইম ব্যাংকের হেড অফ এগ্রো বিজনেস শাহানা পারভীন এবং স্থানীয় তফসিলি ব্যাংক সমূহের শাখা প্রধান ও কর্মকর্তাবৃন্দ। বক্তারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষি ঋণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।
ছবি: সংগৃহীত
এশীয় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে গত দুই দশকের মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম সবচেয়ে বেশি কমিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব। আগস্ট মাসের জন্য তাদের ফ্ল্যাগশিপ 'আরব লাইট' ক্রুডের দাম গত মাসের তুলনায় ব্যারেল প্রতি রেকর্ড ১১ ডলার কমানো হয়েছে। তবে এত বড় ছাড়ের পরও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় সৌদি তেলের দাম বেশি হওয়ায় এশিয়ায় বাজার হারানোর শঙ্কায় রয়েছে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সোমবার সৌদি আরব আগস্টের জন্য এশীয় বাজারের দাপ্তরিক বিক্রয় মূল্য (OSP) ওমান-দুবাই গড় মূল্যের চেয়ে ১.৫০ ডলার কমে নির্ধারণ করেছে। মে মাসে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় এই দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। কিন্তু গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় এবং ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ বেড়েছে, যা তেলের দাম কমিয়ে দিয়েছে।
তেল ব্যবসায়ীদের মতে, সৌদি আরব বড় ছাড় দিলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের এডিএনওসি (ADNOC), ইরাকের সোমো (SOMO) এবং কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন তাদের তেলের দামে আরও অনেক বেশি ছাড় দিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, যেখানে সৌদি তেল ১.৫০ ডলার ছাড়ে পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে আরব আমিরাতের 'আপার জাকুম' বা 'দাস' ক্রুড দুবাই কোটের চেয়ে ৭ ডলার পর্যন্ত কম দামে মিলছে। ফলে ভারত ও চীনের শোধনাগারগুলো সৌদি তেলের চেয়ে এই বিকল্পগুলোর দিকেই বেশি ঝুঁকছে।
দামের পাশাপাশি জাহাজ ভাড়া বা চার্টারিং কস্টও সৌদি আরবের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পারস্য উপসাগরের ভেতর অবস্থিত সৌদি আরবের রাস তানুকা বন্দর থেকে তেল লোড করার খরচ বাইরের বন্দরগুলোর (যেমন ওমানের সোহোর) তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরের ভেতর থেকে তেল সংগ্রহ করা বাইরের তুলনায় ব্যারেল প্রতি প্রায় ১৫ ডলার বেশি ব্যয়বহুল।
বাজার বিশ্লেষক এমা লি জানান, চীনের দুর্বল চাহিদা এবং ইরানের তেলের বাজারে প্রত্যাবর্তন বিক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র করে তুলেছে। সৌদি আরব সরাসরি ‘প্রাইস ওয়ার’ বা দামের লড়াইয়ে নামতে চাইছে না বলে এখনো তাদের তেলের দাম তুলনামূলক বেশি। তবে এশীয় ক্রেতারা সাশ্রয়ী বিকল্প খুঁজে পাওয়ায় চীনের মতো বড় বাজারে আরামকোর আধিপত্য কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মূলত জ্বালানি বাজারের এই অস্থিতিশীলতা এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণেই সৌদি আরবকে এমন কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
মেটলাইফের নতুন একটি বহুজাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে “আত্মবিশ্বাস ঘাটতির” এক চমকপ্রদ চিত্র। গবেষণায় দেখা যায়, অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিজেদেরকে যেকোনো পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার মত সহনশীল বলে মনে করলেও বাস্তব জীবনে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলে তাদের আত্মবিশ্বাস ৭২ শতাংশ কমে যায়।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান এবং মেক্সিকোতে পরিচালিত “দ্য কনফিডেন্ট পাথওয়েজ রিপোর্ট”–এর লক্ষ্য ছিল মানুষের আত্মবিশ্বাস কীভাবে গড়ে ওঠে এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে কীভাবে তা টিকে থাকে, তা বোঝা। গবেষণার ফলাফল দেখায় যে সুযোগ, প্রস্তুতি এবং সহায়ক পরিবেশ আত্মবিশ্বাস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব উপাদান মানুষকে অনিশ্চয়তা মোকাবিলা, বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়ানো এবং নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।
প্রতিবেদনটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে আলা আহমদ, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, মেটলাইফ বাংলাদেশ বলেন, “চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে যখন বিশ্বের মানুষ একত্রিত হয়েছে, তখন এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব কতটা গভীর। দলগত কাজ, শৃঙ্খলা এবং দৃঢ়তা শেখায় খেলাধুলা, যা জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে, জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ, তাই খেলাধুলা, শিক্ষা এবং মেন্টরশিপের সঙ্গে কম বয়সেই পরিচয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেটলাইফ বাংলাদেশে আমরা আরও ভালো আর্থিক প্রস্তুতি এবং সুরক্ষার সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে ব্যক্তি ও পরিবারকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যাতে মানুষ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে পারে এবং নিজেদের পূর্ণ সম্ভাবনার বিকাশ করতে সক্ষম হয়।”
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই গবেষণার ফলাফল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৮ শতাংশ তরুণ, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ জনমিতিক সম্ভাবনার প্রতিনিধিত্ব করে। পাশাপাশি, ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় ৫ কোটি তরুণ-তরুণী দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই তাদের সম্ভাবনাকে পূর্ণ বিকশিত করতে কম বয়স থেকেই আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তা গড়ে তোলা জরুরি।
যখন ফুটবল বিশ্বব্যাপী মানুষ ও সম্প্রদায়কে একত্রিত করছে, তখন এই গবেষণা আরও দেখায় যে কম বয়স থেকে খেলাধুলা, শিক্ষা এবং মেন্টরশিপের সঙ্গে সম্পৃক্ততা মানুষের দৃঢ়তা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং জীবনের প্রতি সন্তুষ্টি বাড়ায়, যা আরও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গঠনে সহায়ক।
গবেষণার প্রধান ফলাফল
অনেকেই নিজেদেরকে দৃঢ়চেতা বলে মনে করলেও আর্থিক, মানসিক বা ব্যক্তিগত বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতা সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে কম মানুষ আত্মবিশ্বাসী বোধ করেন।
শৈশবে খেলাধুলায় অংশগ্রহণকারী অর্ধেকেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, এটি তাদের আত্মবিশ্বাস (৫৬%) এবং অধ্যবসায় (৫২%) বৃদ্ধি করেছে। একই সঙ্গে অভিভাবকেরাও খেলাধুলা ও মেন্টরশিপ কর্মসূচির প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছেন।
যেসব প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সঞ্চয় বা জীবনবিমা গ্রহণের মতো সক্রিয় আর্থিক পদক্ষেপ নেন, তারা বিপর্যয় মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাসী হওয়ার ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় ২০ গুণ বেশি সম্ভাবনাময়।
অর্ধেকেরও কম মানুষ বন্ধুদের (৪১%) অথবা নিজেদের কমিউনিটির (৩১%) কাছ থেকে সমর্থন পান বলে মনে করেন। এটি আরও শক্তিশালী সামাজিক সংযোগ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে চাঙ্গান অটোমোবাইলের একমাত্র অনুমোদিত পরিবেশক ডিএইচএস অটোস লিমিটেড দেশের বাজারে নিয়ে এসেছে নতুন চাঙ্গান সিএস৭৫ প্রো (Changan CS75 Pro). সাত সিটের এই প্রিমিয়াম এসইউভিটি পারফরম্যান্স, আধুনিক প্রযুক্তি, কমফোর্ট ও লাক্সারির দারুণ এক প্যাকেজ। দেশের ক্রমবর্ধমান মিড-সাইজ এসইউভি বাজারে এটি গ্রাহকদের এক্সপেরিয়েন্স পুরোপুরি বদলে দেবে, যার আকর্ষণীয় প্রাইস নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ লাখ টাকা।
বাংলাদেশে অ্যাসেম্বল করা হলেও সিএস৭৫ প্রো-তে চাঙ্গানের গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড এবং কোয়ালিটি বজায় রাখা হয়েছে। ফ্যামিলি ট্রিপ কিংবা বিজনেস মুভমেন্ট—উভয় ধরনের লাইফস্টাইলের কথা মাথায় রেখে গাড়িটি ডিজাইন করা হয়েছে। এর লাক্সারিয়াস কেবিন, অ্যাডভান্সড টেকনোলজি এবং প্রিমিয়াম সেফটি ফিচারের কারণে ড্রাইভার ও প্যাসেঞ্জার সবার জন্যই রাইড হবে অত্যন্ত স্মুথ ও কনফিডেন্ট।
গাড়িটি বাজারে নিয়ে আসা প্রসঙ্গে ডিএইচএস অটোস লিমিটেড বলছে, “বাংলাদেশের বাজারে চাঙ্গান সিএস৭৫ প্রো ইন্ট্রোডিউস করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা বিশ্বাস করি, এদেশের গ্রাহকরা এমন একটি গাড়ি চান যা একাধারে শক্তিশালী, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এবং ফ্যামিলির জন্য কমফোর্টেবল। এই প্রিমিয়াম এসইউভিটি কমপিটিটিভ প্রাইসে ওয়ার্ল্ড-ক্লাস পারফরম্যান্স ও সেলস-পরবর্তী সেবার নিশ্চয়তা দেবে, যা দেশের অটোমোটিভ বাজারে একটি নতুন স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করবে।“
চাঙ্গান সিএস৭৫ প্রো-এর মূল আকর্ষণ ও স্পেসিফিকেশন:
গাড়িটিতে রয়েছে ১.৫ লিটার টার্বোচার্জড ইঞ্জিন, যা ১৮৫ হর্সপাওয়ার পাওয়ার এবং ৩০০ নিউটন মিটার টর্ক জেনারেট করতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত ৭-স্পিড ডুয়াল ক্লাচ ট্রান্সমিশন (DCT) ড্রাইভিংকে করে তোলে অত্যন্ত স্মুথ ও রেসপন্সিভ। ফলে শহরের ডেইলি যাতায়াত থেকে শুরু করে লং হাইওয়ে ড্রাইভ—সবখানেই এটি পাওয়ারফুল পারফরম্যান্স দেয়। ইন্টেরিয়রের ক্ষেত্রে, সিএস৭৫ প্রো-তে রয়েছে তিন সারির প্রশস্ত কেবিন, যেখানে সাতজন প্যাসেঞ্জার বেশ আরামদায়কভাবে ট্রাভেল করতে পারবেন। এর প্রিমিয়াম ম্যাটেরিয়ালে তৈরি লাক্সারি ইন্টেরিয়র ডিজাইন ভেতরকার পরিবেশকে করে তুলেছে এলিগ্যান্ট, আর প্রয়োজন অনুযায়ী সিট ফোল্ডিং ও রি-অ্যারেঞ্জ করার সুবিধা গাড়িটির স্পেস ইউটিলিটিকে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
একই সাথে লাইফস্টাইল ও টেক-প্রেমীদের জন্য গাড়িটিতে দেওয়া হয়েছে ৩৬০ ডিগ্রি প্যানোরামিক ক্যামেরা, ইলেকট্রিক প্যানোরামিক সানরুফ এবং ১৯ ইঞ্চির স্টাইলিশ টাইটানিয়াম ব্ল্যাক অ্যালয় হুইলস। এসব প্রিমিয়াম ফিচার এসইউভিটির বোল্ড লুক ও ওভারঅল ড্রাইভিং এক্সপেরিয়েন্সকে আরও ইউনিক করে তোলে। এছাড়া সেফটির দিক থেকেও সিএস৭৫ প্রো সম্পূর্ণ আপ-টু-ডেট, কারণ এতে যুক্ত করা হয়েছে বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি এবং ড্রাইভার-সহায়ক ফিচার (ADAS)। যার ফলে ড্রাইভার যেমন ফুল কনফিডেন্সের সাথে ড্রাইভ করতে পারবেন, ঠিক তেমনি যাত্রীরাও চমৎকার ও নিরাপদ একটি জার্নি উপভোগ করতে পারবেন।
বুকিং ও টেস্ট ড্রাইভের তথ্য:
চাঙ্গান সিএস৭৫ প্রো এসইউভিটি এখন ডিএইচএস অটোস লিমিটেড-এর ফ্ল্যাগশিপ শোরুমসমূহে ডিসপ্লে, টেস্ট ড্রাইভ এবং প্রি-বুকিংয়ের জন্য অ্যাভেইলেবল রয়েছে। বিস্তারিত জানতে বা টেস্ট ড্রাইভ বুক করতে ভিজিট করুন changan.com.bd অথবা যোগাযোগ করুন 16697-এ।
ছবি: সংগৃহীত
মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের জন্য টেকসই জীবিকা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগ সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে দেশের শীর্ষ ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক। সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহায়তায় পরিচালিত উইনরকের ‘আশ্বাস’ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগের মাধ্যমে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিরা ‘বাংলালিংক পাওয়ার’ অ্যাপ ব্যবহার করে ডিজিটাল রিচার্জসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করে আয় করার সুযোগ পাবেন।
এ অংশীদারিত্বের আওতায় অংশগ্রহণকারীরা মোবাইল রিচার্জসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে উপার্জনের পাশাপাশি নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করবেন।
উদ্যোগটি বাস্তবায়নে সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় বাংলালিংকের প্রধান কার্যালয় টাইগার্স ডেনে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। বাংলালিংকের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন ডিরেক্টর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনালের পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ‘আশ্বাস’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক দীপ্তা রক্ষিত।
চুক্তি স্বাক্ষর প্রসঙ্গে মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, “উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ‘বাংলালিংক পাওয়ার’ মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের জন্য ডিজিটাল ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে টেকসই আয়ের সুযোগ তৈরি করবে।”
বাংলালিংক পাওয়ার ডিজিটাল অপারেটরটির একটি সামাজিক পরিবেশনা (সোশ্যাল ডিস্ট্রিবিউশন) প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে স্মার্টফোন ব্যবহার করে মোবাইল রিচার্জ বিক্রি করে আয় করা যায়। কোনো প্রাথমিক বিনিয়োগ ছাড়াই তরুণ, নারী, মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে আয় করতে পারেন।
উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে এ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে ক্ষমতায়নের পাশাপাশি বাংলালিংক পাওয়ারের নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাঁরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারবেন এবং নিজ নিজ কমিউনিটির অন্যদেরও এর আওতায় নিয়ে আসতে পারবেন।
প্ল্যাটফর্মটিতে সহজ নিবন্ধন প্রক্রিয়া, ডিজিটাল কেওয়াইসি যাচাই, তাৎক্ষণিক কমিশনের হিসাব দেখার সুবিধা এবং স্বচ্ছ পুরস্কার ব্যবস্থাপনা রয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের সহজেই এতে যুক্ত হয়ে তাঁদের আয়ের হিসাব পরিচালনায় সহায়তা করবে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মাসনুন হক।
এ উদ্যোগ সম্পর্কে তাইমুর রহমান বলেন, “মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সহায়তা করছে উইনরক। তাদের এ মহতী উদ্যোগের অংশ হতে পেরে বাংলালিংক গর্বিত। একই সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব সমাজের সব নারীর ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে জিএসএমএ (গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশনস অ্যাসোসিয়েশন)-এর ‘কানেক্টেড উইমেন’ উদ্যোগের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
উইনরক ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ‘আশ্বাস’ প্রকল্পের পরিচালক দীপ্তা রক্ষিত বলেন, “টেকসই জীবিকার সুযোগ তৈরিতে ডিজিটাল দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য। বাংলালিংকের সঙ্গে এ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আশ্বাস প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের মানব পাচারপ্রবণ ১০টি জেলার নারী ও পুরুষকে প্রায়োগিক ডিজিটাল দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ধরনের হাতে-কলমে শেখানো দক্ষতা তাঁদের প্রযুক্তি ব্যবহারে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে এবং অর্থনৈতিকভাবে আরও সক্ষম হতে সহায়তা করবে।”
প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং এ ধরনের অংশীদারিত্বকে কাজে লাগিয়ে সবার জন্য উপার্জন ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে কাজ করছে বাংলালিংক। ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতিরই অংশ এই উদ্যোগ।
ছবি: সংগৃহীত
সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরপতনের ফলে মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণ—উভয়ই হ্রাস পেয়েছে। মূলত বড় মূলধনী ও ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় সূচকের এই নিম্নমুখিতা তৈরি হয়েছে। তবে ডিএসইতে মন্দা ভাব থাকলেও অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক ও লেনদেন বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
দিনের শুরুতে ডিএসইতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার মাধ্যমে লেনদেন শুরু হলেও শেষ সময়ের বিক্রয় চাপে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর হারালে সূচক কমে দিনের কার্যক্রম শেষ হয়। ডিএসইতে এদিন ১৬০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়লেও বিপরীতে ১৮০টির দাম কমেছে এবং ৫০টি প্রতিষ্ঠানের দর অপরিবর্তিত ছিল। বিশেষ করে বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানির মধ্যে ২১টিরই শেয়ারের দাম কমেছে, যা বাজারকে নিম্নমুখী করতে বড় ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী ৯৫টি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৮১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে ডিএসই-৩০ সূচকটিও ১০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৮১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৮৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। লেনদেনের দিক থেকে ডিএসইতে এদিন ১ হাজার ৩৮৮ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ২৮ কোটি টাকা কম। লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, মালেক স্পিনিং ও ব্র্যাক ব্যাংক।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চিত্র ছিল ডিএসইর ঠিক বিপরীত। সেখানে সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৪২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৯টির দাম বেড়েছে এবং ১০০টির দাম কমেছে। লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে ৩০ কোটি ৭৯ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ডিএসইতে বড় খাতের দরপতন হলেও সিএসইতে ছোট ও মাঝারি মানের প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দরে ইতিবাচক গতি থাকায় সেখানকার বাজার পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো ছিল।
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিন ধরে অচল কিংবা আংশিক সচল থাকা শিল্প ও সেবা খাতকে পুনরায় উৎপাদনমুখী ধারায় ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে তফসিলি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে অংশগ্রহণমূলক চুক্তি সম্পাদনের বিস্তারিত নীতিমালা, দায়দায়িত্ব ও প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট-৩ (বিআরপিডি-৩) থেকে এই সংক্রান্ত নির্দেশনাটি প্রকাশ করা হয়। এর সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির খসড়া, অনুমোদনপত্র, ডেবিট অথরিটি, লেটার অব কন্টিনিউটি এবং প্রমিসরি নোটের নমুনাও সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, গত ৪ জুন বিআরপিডির জারি করা সার্কুলার অনুযায়ী গঠিত ২০ হাজার কোটি টাকার "বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়তা বিষয়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম" বাস্তবায়নে এই চুক্তি স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক। এই স্কিম থেকে তহবিল সংগ্রহ করতে আগ্রহী যেকোনো তফসিলি ব্যাংককে অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এই অংশগ্রহণ চুক্তিতে সই করতে হবে। পর্যাপ্ত চলতি মূলধনের অভাবে যেসব বৃহৎ শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে অথবা সক্ষমতার তুলনায় সীমিত আকারে উৎপাদন কার্যক্রম চালাচ্ছে, তাদের পুনরায় সচল করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্প এবং সেবা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাতে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান রক্ষা এবং রপ্তানি আয় বাড়ানো সম্ভব হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, কেবল সেই সকল বড় শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা পাবে, যারা প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পেলে পুনরায় পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনে সক্ষম হবে। তবে ঋণখেলাপি কোনো গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠান এই স্কিমের আওতায় অর্থায়নের সুযোগ পাবে না। ঋণ অনুমোদনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে ওই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং ইউটিলিটি সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা বিশ্লেষণ করে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যয়নপত্রও যুক্ত করা আবশ্যক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, অর্থ পাচার, জালিয়াতি কিংবা তহবিল অপব্যবহারের সাথে জড়িত কোনো প্রতিষ্ঠানকে এই স্কিমের আওতায় আনা যাবে না এবং এ সংক্রান্ত যথাযথ যাচাইয়ের পূর্ণ দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর ন্যস্ত থাকবে।
এই স্কিমের অর্থ নির্দিষ্ট কিছু খাতেই কেবল ব্যয় করা যাবে, যার মধ্যে রয়েছে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, গ্যাস-বিদ্যুতের বিল, কাঁচামাল ক্রয় এবং রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন। এই তহবিল থেকে সর্বোচ্চ চার মাসের বেতন-ভাতা প্রদান করা যাবে, যা অবশ্যই ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে এবং কোনোভাবেই নগদ টাকা প্রদান করা যাবে না। চুক্তিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই তহবিল ব্যবহার করে কোনো প্রতিষ্ঠানের পুরোনো ঋণ সমন্বয় বা পরিশোধ করা যাবে না; এটি শুধুমাত্র নতুন কার্যকরী মূলধনের চাহিদা মেটাতে ব্যবহৃত হবে। প্রয়োজনে অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে নিজস্ব প্রতিনিধি বা বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে পারবে।
একজন ঋণগ্রহীতা বা একটি করপোরেট গ্রুপ এই স্কিমের আওতায় সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। এই ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর, তবে গ্রাহকের লেনদেন সন্তোষজনক হলে এবং তহবিলের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে তা নবায়ন করার সুযোগ থাকবে। সুদের হারের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে, যেখানে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক গ্রাহকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদ বা মুনাফা গ্রহণ করতে পারবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ওই ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ হারে সুদ আদায় করবে। প্রাক-অর্থায়ন সুবিধা পেতে ব্যাংকগুলোকে তাদের পর্ষদ সভায় ঋণ অনুমোদনের সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিআরপিডি-৩ বিভাগে আবেদন করতে হবে। ঋণ বিতরণ ও আদায়ের অগ্রগতি বিষয়েও কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে এবং ব্যাংকগুলোকে প্রতি প্রান্তিক শেষে পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোও নিজস্ব বিনিয়োগ নীতিমালা অনুসরণ করে এই স্কিমের আওতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মন্তব্য